Home Blog Page 16

ইরাকের ৭ প্রদেশে সৌদি ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা লক্ষ্য ইরানসমর্থিত মিলিশিয়ারা

ইরাকের সাত প্রদেশে ইরান সমর্থিত মিলিশিয়াদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২০ জন, আহত হয়েছেন ৩২ জন। এর মধ্য দিয়ে আরও একবার সামনে চলে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিধি বাড়ার শঙ্কা।

বিবিসির খবর বলছে, ইরাকের পপুলার মবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) ওপর আঘাত হানা হয়েছে। গোষ্ঠীটির ভেতরে ইরান সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়ারা আধিপত্য বিস্তার অবস্থানে রয়েছে। পিএমএফ এক বিবৃতিতে গতকাল বুধবার সকালে হামলা ও হতাহতের তথ্যটি নিশ্চিত করে জানায়, বাগদাদ, ওয়াসিত, নিনেভেহ, বসরা, কিরকুক, কারবালা ও দিয়ালা প্রদেশে হামলা হয়েছে।

এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানায়, উত্তরের নিনেভেহ ও মধ্যাঞ্চলের দিয়ালায় সবচেয়ে মারাত্মক আক্রমণ হয়েছে। পিএমএফ এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসী আক্রমণ’, ‘গুরুতর সীমালঙ্ঘন’ ও ‘ইরাকের সার্বভৌমত্বের প্রতি আঘাত’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

অন্যদিকে ইরান এই হামলার ঘটনাকে ইরাকের বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ও সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ওই মিলিশিয়াদের হামলা চালানোর নির্দেশনা দিয়েছিল। এ কারণেই তাদের ওপর আঘাত হানা হয়েছে।

সেন্টকমের দেওয়া তথ্যানুসারে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান পূর্ব ইরাকে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। মূলত এর আগের ৭২ ঘণ্টায় আইআরজিসির নির্দেশনায় পরিচালিত ড্রোন হামলার জবাব দিতেই ওই অভিযান চালানো হয়। ড্রোন আক্রমণ ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ ছিল এবং তা ব্যর্থ হয়েছে বলেও উল্লেখ করে তারা।

সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, আইআরজিসি ও তাঁর সন্ত্রাসী প্রক্সিরা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রতিক্রিয়া থেকে বাঁচতে চাইলে, তাদের হামলা চালানো বন্ধ করতে হবে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি অভিযোগ করেন, ইরাকের ভূখণ্ড থেকে সৌদির পূর্বাঞ্চল ও রিয়াদে তেল স্থাপনাকে লক্ষ্য করে গত সোমবার ও মঙ্গলবার হামলা চালায় ইরান সমর্থিত সন্ত্রাসী মিলিশিয়ারা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘সৌদি আরব এই সংঘাতের পরিসর বৃদ্ধি হোক, তা চায় না। তবে নিজেদের ওপর কোনো হামলা হলে তার জবাব দেবে।’

জর্ডানে ইরানের হামলা

এদিকে, জর্ডানে নতুন করে আঘাত হেনেছে ইরানও। সেখানে মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার কথা জানিয়েছে তারা। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গতকাল ভোরে ইরানের পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে তারা। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে তিনটি তেলের ট্যাংকারে আঘাত হেনেছে তাদের সামরিক বাহিনী। ওই নৌযানগুলো সতর্কবার্তা আমলে নেয়নি এবং অনিরাপদ ও অবৈধ পথে চলাচল করছিল বলেও উল্লেখ করেছে তারা।

চীনের কাছ থেকে অস্ত্র পাবে ইরান

আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরান চীনের কাছ থেকে বেশকিছু ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার পাবে, যা কাঁধে বসিয়েই চালানো সম্ভব হবে। ইরান মোট চারশটি অর্ডার করেছে। এবার তারা ওই অর্ডার থেকে প্রথম ধাপ পাচ্ছে। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র এ তথ্য জানায়। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জানিয়েছে, এই খবর ভিত্তিহীন।

ইরানের পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

ইরানের পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম। উত্তরপশ্চিম ইরানের পিরানশাহর সীমান্তে এক এলাকার কাছে ওই আক্রমণ হয়েছে বলে খবরে উল্লেখ করা হয়।

স্থানীয় এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ফার্সের খবরে আরও জানানো হয়, ওই প্রদেশের জনবসতিহীন এক এলাকায় আঘাত হেনেছে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানালেন বাংলাদেশ থেকে তিন লাখ রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার

বাংলাদেশ থেকে তিন লাখ ও মালয়েশিয়া থেকে পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এ তথ্য জানিয়েছেন। কূটনৈতিক সম্পর্কের জেরে এই সফলতা এসেছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘এ কারণেই মিয়ানমারের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। তারা (মিয়ানমার) এখন মালয়েশিয়া থেকে পাঁচ হাজার ও বাংলাদেশ থেকে তিন লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে। কেন? কারণ আমরা আলোচনা করেছি। এই ধরনের বিষয়ে সতর্ক কূটনীতি প্রয়োজন।’ মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার এ খবর জানিয়েছে।
একই সময়ে আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, রোহিঙ্গারা জনশৃঙ্খলায় বিঘ্ন ঘটালে তা মেনে নেবে না মালয়েশিয়া। তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের মহাপরিচালককে নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এটি মালয়েশিয়া। তারা আমাদের বিরক্ত করতে পারে না। পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।’

এর আগে মিয়ানমার রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়নি বলে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মানুষ বলে– তাদের ফেরত পাঠান। কোথায় ফেরত পাঠাব? এর আগে মিয়ানমার তাদের ফেরত নিতে রাজি হয়নি। তাই তাদের আমরা নির্দিষ্ট স্থানে আশ্রয় দিয়েছিলাম।’
মালয়েশিয়ার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকেও মিয়ানমারের স্থানীয় আইন মেনে চলার এবং জনজীবনে বিশৃঙ্খলা না তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি বলেন, ‘আমি রোঙ্গিাদের বলেছি: মালয়েশিয়ানদের ব্যবসায় বিঘ্ন ঘটাবেন না। ট্রাফিক বা অন্য যেখানে মানুষ থাকে, সেখানে বিঘ্ন ঘটাবেন না। নাহলে আমাদের জনসাধারণ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি আমাদের রাষ্ট্র। মালয়েশিয়া আমাদের দেশ। অন্যদের এখানে বিঘ্ন ঘটানো উচিত নয়। এ কারণেই আমাদের দৃঢ় হতে হবে।’

বন্ডে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে চায় সরকার করণীয় নির্ধারণে কমিটি গঠন

দেশের বন্ড বাজারকে আরও গতিশীল করা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে পুঁজিবাজার উন্নয়ন ও বন্ড ইস্যু-সংক্রান্ত নীতি, কৌশল এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের জন্য আট সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।

সম্প্রতি জারি করা অর্থ বিভাগের এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) তানভীর শাহরিয়ার গনি কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিতে অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) প্রতিনিধিরা সদস্য হিসেবে থাকবেন। সরকারি ঋণনীতি ও কৌশলগত ব্যবস্থাপনা অধিশাখার একজন যুগ্ম সচিব বা উপসচিব সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

আদেশে বলা হয়, কমিটি দেশের পুঁজিবাজারের সম্প্রসারণ ও গভীরতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বন্ড ও ইকুইটি বাজারের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে সরকারকে সুপারিশ করবে। সরকারি সিকিউরিটিজ, করপোরেট বন্ড, সুকুক, গ্রিন বন্ড এবং অন্যান্য ঋণপত্র ইস্যুর সম্ভাব্যতা, ব্যয়, ঝুঁকি ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মতামত দেবে কমিটি।

এ ছাড়া বন্ড ইস্যুর পরিমাণ, মুদ্রা, মেয়াদ, সুদের কাঠামো, বাজার নির্বাচন, অফারিং সার্কুলার, ক্রেডিট রেটিং, রোডশো, বিনিয়োগকারী সম্পৃক্তকরণসহ বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়ার দায়িত্বও থাকবে তাদের। বন্ড ইস্যুর জন্য লিড ম্যানেজার, আর্থিক ও আইনগত উপদেষ্টা, রেটিং এজেন্সি এবং অন্যান্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশও করবে কমিটি। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারী আকর্ষণের ওপর। এ জন্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, পেনশন তহবিল, বীমা কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সুপারিশ করবে কমিটি।

উত্তরাধিকারীদের আদালতে মামলা দ্য স্পন্দন লিমিটেডের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব

দেশে হৃদরোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্টেন্ট, ভাল্‌ভ, পেসমেকারসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানি ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দ্য স্পন্দন লিমিটেডের মালিকানা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিরোধ আদালতে গড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক কাজী মকবুল হোসেনের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী ও ছেলে কোম্পানির ৪৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক এবং পরিচালক হলেও আট বছর ধরে লভ্যাংশ পাচ্ছেন না। বিষয়টির সুরাহা চেয়ে হাইকোর্টের কোম্পানি কোর্টে মামলা করেছেন তারা।

মামলায় আর্থিক তথ্য গোপন, বাধ্যতামূলক অডিট ও বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) না করা, কোম্পানির অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া এবং ব্যবসা অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত কোম্পানির তহবিল অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের ওপর তিন মাসের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।
১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত দ্য স্পন্দন লিমিটেডের বিনিয়োগ ১০০ কোটি টাকার বেশি। প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক কাজী মকবুল হোসেন ২০১৮ সালে মারা গেলে স্ত্রী শারমিন হোসেন ও ছেলে কাজী আকরাম হোসেন উত্তরাধিকার সূত্রে কোম্পানির পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডার হন। তাদের হাতে প্রায় ৪৫ শতাংশ এবং অপর প্রতিষ্ঠাতা বিনিয়োগকারী আনিসুর রহমান ও তাঁর ছেলে সাদ রহমানের হাতে প্রায় ৫৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

শারমিন হোসেন ও কাজী আকরাম হোসেনের অভিযোগ, ২০১৮ সালের পর থেকে তাদের কার্যত কোম্পানির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে বাইরে রাখা হয়েছে। শুরুতে কিছু সম্মানি দেওয়া হলেও ২০২৫ সালে সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ অভিযোগে তারা গত ১০ মে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের কোম্পানি কোর্টে মামলা করেন। মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানির বাধ্যতামূলক আইনগত নিরীক্ষা (স্ট্যাচুটরি অডিট) সম্পন্ন হয়নি। পরিচালকদের কাছে আর্থিক বিবরণী, ব্যাংক হিসাব, লেনদেনের তথ্য কিংবা লভ্যাংশ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। পরিচালকদের সম্মতি ছাড়াই পরিচালক নিয়োগ এবং কোম্পানির অর্থ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে স্থানান্তরের অভিযোগও করা হয়েছে।
শারমিন হোসেন অভিযোগ করেন, অংশীদারদের সম্মতি ছাড়া শেয়ার হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে আনিসুর রহমান বলেন, কোম্পানি থেকে তারাও লভ্যাংশ নেন না, শুধু কিছু সম্মানি নিতেন। ২০২৫ সালের পর সেটিও বন্ধ রয়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমানে ব্যবসা লোকসানে রয়েছে।

‘রক্তিম’ আন্দোলনে ছাত্র-জনতা, পতনের মুখে সরকার

ফেসবুক প্রোফাইল ছবি লাল করে ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই অসংখ্য মানুষ সরকারের চালানো হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ করেন। বিপরীতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমর্থকরা সরকার ঘোষিত শোক পালনে প্রোফাইল ছবি কালো করেন। সেদিন ইন্টারনেট দুনিয়ায় লালের তুলনায় কালো ছিল সামান্য। এতে স্পষ্ট হয়, ক্ষমতা ধরে রাখার মতো জনসমর্থন আর নেই আওয়ামী লীগ সরকারের। এরপর সরকারের পতন হয় মাত্র ৬ দিনে।

আন্দোলন দমাতে ব্যর্থ হয়ে শেখ হাসিনার সরকার নিহতদের স্মরণে ৩০ জুলাই দেশব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে। তবে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা এটিকে সরকারের ‘প্রহসন’ ও ‘লোক দেখানো কর্মসূচি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের ডিবি কার্যালয়ে জিম্মি করে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে আন্দোলন প্রত্যাহারের বিবৃতি পড়ানোর ন্যক্কারজনক ঘটনার পর সাধারণ মানুষ সরকারের এই শোকের ডাকে সাড়া না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘লাল প্রোফাইল’ বা রক্তিম আন্দোলন শুধু একটি প্রতীকী প্রতিবাদ ছিল না। এটি ছিল ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

ফেসবুকজুড়ে লাল রঙের ঢেউ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, আইনজীবী, সংস্কৃতিকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমের প্রোফাইল ছবি পরিবর্তন করে লাল রঙের ব্যাকগ্রাউন্ড যুক্ত করেন। অনেকেই চোখে ও মুখে লাল কাপড় বাঁধা ছবি পোস্ট করে সরকারের বুলেটের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রদর্শন করেন।

বিক্ষোভে উত্তাল রাজপথ
ভার্চুয়াল প্রতিবাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকের অপেক্ষায় না থেকে ছাত্র-জনতা যে যার অবস্থান থেকে ফের রাজপথে প্রতিবাদ শুরু করে। ৩০ জুলাই দেশের শিক্ষার্থীরা নিপীড়নের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজপথে অবস্থান নেন।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ককে ডিবি অফিসে জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করা এবং আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি না চালানোর নির্দেশনা চেয়ে এক রিট আবেদনের শুনানি হয় এদিন। শুনানিতে আদালত ডিবির ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন। বলেন, ‘ডিবি অফিসে নিয়ে কাকে খাওয়ালেন, তা আবার টেলিভিশনে দেখালেন। জাতিকে নিয়ে এভাবে মশকরা করবেন না।’

আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ প্রকাশ
বাংলাদেশে চলমান সহিংসতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণগ্রেপ্তারের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে নিন্দা উদ্বেগের খবর আসে ৩০ জুলাই। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়ে সব হত্যার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে, দেশের অভ্যন্তরেও ৭৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে যৌথ বিবৃতি দেন।

সান্তোসে অনিশ্চিত নেইমারের ভবিষ্যৎ

সময়টা ভালো যাচ্ছে না নেইমারের। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জার্সিতে সব ম্যাচে খেলার সুযোগ পাননি। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা থেমে যায় শেষ ষোলোতে। জাতীয় দলে ভরাডুবির পর ক্লাব সান্তোসে ফিরেও স্বস্তিতে নেই নেইমার। ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে ব্রাজিলিয়ান এ তারকার। একই সঙ্গে ক্রীড়া, আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়গুলোতে মতপার্থক্য বজায় থাকায় তাঁর চুক্তি নবায়নের বিষয়টি আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

একাধিক ব্রাজিলীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ফরোয়ার্ডের আচরণ, দৈনন্দিন মেলামেশা এবং ক্লাবের ভেতরের পরিবেশ নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে বিগত কয়েক মাসে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তাপ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের পর তাঁর চুক্তির সময় বাড়ার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।

সৌদি ক্লাব আল হিলালের সঙ্গে পাট চুকিয়ে ২০২৫ সালে নেইমার যোগ দেন ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোসে। সেখানে এক বছরের মধ্যেই ঝামেলায় পড়েছেন তিনি। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম জি গ্লোবোর তথ্য মতে, ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের এমন কিছু আচরণ নিয়ে ক্লাবের ভেতরে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে; যা দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং কর্মকর্তাদের ক্ষুব্ধ করেছে। গণমাধ্যমটি জানায়, ‘প্রতিদিনের অনুশীলনে এই খেলোয়াড়কে সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে, কারণ তাঁর কিছু স্বার্থপর মানসিকতা ও আচরণ সতীর্থ, কোচিং স্টাফ ও বোর্ডকে বিরক্ত করছে। মে মাসে অনুশীলনের সময় রবিনহো জুনিয়রের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার পর তাঁর নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।’

উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার পেছনে অন্যতম একটি ঘটনা ঘটে ‘কোপা সুদামেরিকানা’ চলাকালীন। দলটি যখন একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য ভেনেজুয়েলায় সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখন এই তারকাকে সাও পাওলোতে একটি পোকার টুর্নামেন্টে দেখা যায়। পরে তিনি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে এই সমালোচনার জবাব দেন এবং চাপেকোয়েন্সের বিরুদ্ধে গোল করার পর তাস বাটানোর ভঙ্গি করে উদযাপন এবং ভক্তদের উদ্দেশে রসিকতা করে গোলটি উৎসর্গ করেন। বার্সেলোনা ও পিএসজির সাবেক এই খেলোয়াড়ের ভবিষ্যৎ তাঁর ব্যক্তিগত মানসিক চাপের কারণেও অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

জি গ্লোবো তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সূত্রের মতে নেইমার প্রতিদিনের এই বাঁধাধরা রুটিনে ‘বিরক্ত’ এবং তিনি ফুটবল খেলা ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছেন। তবে বাণিজ্যিক বাধ্যবাধকতার কারণে তাঁর বাবা খেলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, উভয় পক্ষই চুক্তি বাড়ানোর বিষয়টিকে অসম্ভব বলে মনে করছে। তবে এই মতপার্থক্য শুধু খেলার মাঠেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘নেইমার ও তাঁর বাবা সান্তোসের বর্তমান পরিকাঠামো এবং দলের সামগ্রিক মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। কারণ দলটি টানা দ্বিতীয় বছরের মতো রেলিগেশন (অবনমন) এড়ানোর লড়াই চালাচ্ছে।’ এই ফরোয়ার্ড নিজে অর্থায়ন করে প্রশিক্ষণ মাঠ ও ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামের কিছু উন্নয়নমূলক কাজও করিয়েছেন। আর্থিক বিষয়গুলোও বিবাদের অন্যতম একটি কারণ।

সূত্র অনুযায়ী, খেলোয়াড় হিসেবে নেইমারের পাওনা ১৭ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি বকেয়া রয়েছে, যেখানে অন্য খেলোয়াড়রাও তিন মাস ধরে ইমেজ রাইটসের পেমেন্ট পাননি।

মোদিকে নিয়ে ‘আপত্তিকর’ পোস্ট, একাধিক অ্যাকাউন্টে দিল্লি পুলিশের নোটিশ

ভারতে ছাত্রদের চলমান বিক্ষোভের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও নিরাপত্তা বাহিনীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা ‘আপত্তিকর’ পোস্টের জেরে এক্স (সাবেক টুইটার)–এর একাধিক অ্যাকাউন্টে নোটিশ দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। নোটিশ পাওয়া অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের অ্যাকাউন্টও রয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নোটিশে সংশ্লিষ্ট পোস্টে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারকারীদের পরিচয় জানতে চেয়েছে পুলিশ। ঠিক কতটি অ্যাকাউন্টে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্ট, ভিডিও ও মন্তব্য পর্যালোচনা করে সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘন এবং জনশৃঙ্খলার ওপর এর প্রভাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর আগে পুলিশ দাবি করেছিল, ছাত্র বিক্ষোভ ঘিরে ভুয়া তথ্য, গুজব ও ডিপফেক ভিডিও ছড়ানোর সঙ্গে জড়িত পাকিস্তান-সংশ্লিষ্ট ৪০০-এর বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা হয়েছে।

দুই দিন আগে দিল্লি পুলিশ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মকে নির্দেশ দেয়, যন্তর মন্তরের ছাত্র বিক্ষোভ এবং ২০ জুলাইয়ের ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে ঘিরে সহিংসতার সময় প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিয়ে করা আপত্তিকর ও অশালীন মন্তব্যসংবলিত পোস্ট ও ভিডিও সরিয়ে ফেলতে।

পুলিশের ভাষ্য, আন্দোলনের সময় বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষায় অসংখ্য পোস্ট প্রকাশিত হয়। এসব শনাক্ত করতে পুলিশের সাইবার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ দল নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে।

দিল্লি পুলিশের দাবি, ইতোমধ্যে নোটিশের পর এমন বেশ কয়েকটি পোস্ট ও ভিডিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আন্দোলনসংক্রান্ত অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে এবং আইন লঙ্ঘনকারী আরও কনটেন্ট শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসের ধাক্কা, ৬ যানবাহনের সংঘর্ষে আহত ২৫

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় দুটি বাস, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ অন্তত ছয়টি যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আজ বুধবার সকাল ১১টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভৈরব বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, হবিগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী দিগন্ত পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সোহাগ পরিবহনের একটি বাসকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এ সময় দুই বাসের মাঝখানে থাকা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, সামনে থাকা আরেকটি অটোরিকশা, একটি ট্রাক ও একটি মাইক্রোবাসও দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

আহতদের মধ্যে দিনেশ (৬৫), ঝর্ণা রাণী (৫০), টিপু (২২) ও রেজিয়া (৭০) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। গুরুতর আহত ঝর্ণা রাণীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী মামুন মিয়া বলেন, নিয়ন্ত্রণ হারানো দিগন্ত পরিবহনের বাসটি একের পর এক কয়েকটি যানবাহনে ধাক্কা দেয়। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

দিগন্ত পরিবহনের যাত্রী নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, ভৈরব টোলপ্লাজার কাছে এসে বাসটির ব্রেক কাজ করছিল না। পরে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা যানবাহনে ধাক্কা দেয়। তিনি নিজেও আহত হয়েছেন।

আরেক যাত্রী সিরাজুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এর চালক গুরুতর আহত হয়েছেন।

ভৈরব হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রোকনুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত দুটি বাস, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ব্যাটারিচালিত যান উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত পাঁচজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্যরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর দুটি বাসের চালকই পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

হবিগঞ্জে নাসীরুদ্দীন-সারজিসের গাড়িতে হামলা, এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় এ হামলা হয়। হামলার জন্য ছাত্রদল নেতাকর্মীদের দায়ী করেছে এনসিপি। হামলার মুখে সারজিস আলম সোনালী ব্যাংকের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন তিনি।

পরে পুলিশ গিয়ে সারজিস আলমকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে আসে। তিনি এখনও সেখানে অবস্থান করছেন। বাইরে বিক্ষোভ করছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তবে নাসীরউদ্দিন পাটওয়ারী দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে সার্কিট হাউসে আসেন। একপর্যায়ে সেখান থেকে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।

এ বিষয়ে এনসিপি নেতারা বলেন, সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হলের সামনে পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের গাড়িতে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় সাংবাদিক ও এনসিপি নেতাকর্মীরা আহত হন। পরে তাদের পুলিশ উদ্ধার করে। আহতদের নাম পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

4 1785251914

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল পাঁচটার দিকে হবিগঞ্জ শহরের টাউনহলের সামনে এনসিপি সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমসহ এনসিপির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। সমাবেশ শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী একটি গাড়িতে করে সার্কিট হাউসের দিকে রওনা হন। গাড়িটি শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় পৌঁছলে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। তখন দ্রুত বেগে গাড়িটি প্রায় এক কিলোমিটার দূরে সার্কিট হাউসে এসে আশ্রয় নেয়।ওই গাড়ির পেছনে থাকা সারজিস আলমের গাড়িতে তখন ইট–পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। হামলা থেকে রক্ষা পেতে গাড়িটি সোনালী ব্যাংকে আশ্রয় নেয়।

সারজিস সোনালী ব্যাংকে অবস্থান করছেন খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এসে ব্যাংকটি ঘেরাও করে রাখেন। পরে পুলিশ এসে রাত আটটার দিকে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সরিয়ে দিয়ে সারজিস আলমকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।

2 1785254962

এরআগে, দুপুরে আজমিরীগঞ্জে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমাবেশে এনসিপি নেতারা বিএনপি নেতাদের নাম উল্লেখ করে ‘গুন্ডাবাহিনী’ বলে বক্তব্য রাখেন। এতে স্থানীয় ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ওই ঘটনার জেরে সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হলে পদযাত্রা শেষে এনসিপি নেতাদের ঘিরে বিক্ষোভ করতে থাকে ছাত্রদল।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি জাহিদ হোসেন বলেন, ‘এনসিপির পদযাত্রা শেষে ছাত্রদলের নেতারা বিক্ষোভ করেন। এতে উত্তেজনা দেখা দিলে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে এনসিপি কয়েকজন নেতাকে সার্কিট হাউজে পৌঁছে দেই।’

২০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি পিছিয়ে গেল মন্ত্রিসভা কমিটিতে অসম্পূর্ণ প্রস্তাব

প্রায় ২০ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ২০টি প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এসব প্রস্তাব নিয়ে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন প্রশ্ন তুললেও জ্বালানি বিভাগ সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। ফলে প্রস্তাবগুলো পুনর্বিবেচনা করে পূর্ণাঙ্গ তথ্যসহ আবার উপস্থাপনের পরামর্শ দেয় কমিটি। এরপর এসব প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়।
সচিবালয়ে গতকাল মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। ডিজেল আমদানির প্রস্তাব প্রত্যাহারের বিষয়ে জানতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি একটি বৈঠকে থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, প্রস্তাবগুলোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বেশ কিছু অসংগতি থাকায় কমিটির সদস্যরা একাধিক প্রশ্ন তুললেও জ্বালানি বিভাগ তার সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি। এজন্য আরও পর্যালোচনা করে ফের উপস্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রস্তাবের বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী সমকালকে বলেন, ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট সংঘাতের সময় সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সরবরাহের প্রস্তাব আসে। বিপিসি সেগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রস্তাব আকারে জ্বালানি বিভাগে পাঠায়। পরে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত সিদ্ধান্তের জন্য উপস্থাপন করা হয়। অনেক প্রস্তাব একসঙ্গে আসায় সদস্যরা বলেছেন, যদি আরও কোনো প্রস্তাব থাকে তাহলে সবগুলো একসঙ্গে পর্যালোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ কারণেই ফের উপস্থাপনের জন্য রাখা হয়েছে।
টানা দুই সপ্তাহ প্রস্তাব অনুমোদন না হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে কোনো সংকট তৈরি হবে কি না– এমন প্রশ্নের জবাবে মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের তাৎক্ষণিক কোনো সমস্যা হবে না। কারণ দেশের জ্বালানি তেলের নিয়মিত আমদানি আগের মতোই চলছে। সরকার দুটি পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল কিনে– ওপেন টেন্ডার মেথড (ওটিএম) এবং সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তি। তাই এগুলো অনুমোদনে কিছুটা সময় লাগলেও সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকট সৃষ্টি হবে না।’

প্রস্তাবে যা ছিল
দেশে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দর প্রস্তাব নিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) যাচাই-বাছাই ও দরকষাকষির মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য বিবেচনা করেছে। প্রস্তাবে ওমান, নাইজেরিয়া, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং, কাজাখস্তান, দুবাই ও চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোট ১৯ লাখ ৭৫ হাজার টন ডিজেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন চাওয়া হয়।

আগের সপ্তাহে ফেরত যায় ১৫ প্রস্তাব
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকেও একই ধরনের অন্তত ১৫টি প্রস্তাব উপস্থাপনের কথা ছিল। শেষ পর্যন্ত সেগুলো প্রত্যাহার করা হয়। প্রস্তাবগুলোর আওতায় প্রায় ১৬ লাখ টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা ছিল, যার ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৭ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা।
ফলে টানা দুই সপ্তাহে প্রায় ২০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ আটকে গেল। জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত নতুন করে অনুমোদন না মিললে ভবিষ্যতে সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

যেসব প্রস্তাব অনুমোদন 
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গুনভর ইউএসএ এলএলসি থেকে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জিটুজি ভিত্তিতে কাতার, ওমান, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মোট সাতটি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ এলএনজি আমদানি করছে। গুনভর ইউএসএ এলএলসির কাছ থেকে ২০২৬ সাল থেকে ২০৩৯ সাল পর্যন্ত ১৩ বছর মেয়াদে প্রতি বছর ছয় কার্গো এলএনজি কেনা হবে। প্রস্তাবটি জিটুজি চুক্তির আওতায় প্রক্রিয়াকরণের জন্য নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মহেশখালীতে এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের প্রস্তাব জিটুজি পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াকরণের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।