Home Blog Page 16

তিন দফা বাড়ার পর স্বর্ণের দাম কমলো

দেশের বাজারে গত এক সপ্তাহে তিন দফা বাড়ার পর স্বর্ণের দাম কমেছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) দাম কমেছে সাত হাজার ১১৫ টাকা। এতে ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের গহনার দাম পড়বে দুই লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা। গতকাল শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ২০, ২২ ও ২৫ আগস্ট তিন দফায় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনার দাম বাড়ানো হয় ১০ হাজার ৯৬৪ টাকা। নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের গহনার দাম ছয় হাজার ৮২৩ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ২৯ হাজার ৭৮১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম পাঁচ হাজার ৮৩২ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৯৭ হাজার ৩৫৫ টাকা। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনার দাম চার হাজার ৭২৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৬১ হাজার ১৯৬ টাকা।

মাস্তুল ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর হলেন ইফতেখার-উল-আলম

দেশের বেসরকারি দাতব্য প্রতিষ্ঠান মাস্তুল ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ইফতেখার-উল-আলম। সম্প্রতি এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে তার দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

মাস্তুল ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, প্রশাসন, নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে মেজর জেনারেল ইফতেখার-উল-আলমের। তার অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানটির মানবিক ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে মেজর জেনারেল ইফতেখার-উল-আলম (অব.) বলেন, ‘মানবিক সেবা শুধু দান নয়, এটি সমাজের প্রতি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। মাস্তুল ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত। সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সুশাসন ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে আমরা সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারব বলে আমি বিশ্বাস করি।’

ফাউন্ডেশনের চিফ অপারেটিং অফিসার ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মানবিক মূল্যবোধকে ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতেও বিভিন্ন উদ্ভাবনী ও টেকসই উদ্যোগ নেবে। মেজর জেনারেল ইফতেখার-উল-আলমের অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা এ যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মাস্তুল ফাউন্ডেশন জানায়, এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশু, অসহায় পরিবার, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা, পুনর্বাসন, দক্ষতা উন্নয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। দেশের বাইরে বিভিন্ন মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্যও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে তারা।

প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে করোনাকালে মরদেহ দাফন সেবা, ২০২২, ২০২৪ ও ২০২৬ সালের বন্যায় ত্রাণ বিতরণ, দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ, ‘যাকাত স্বাবলম্বী’ প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, টিউবওয়েল স্থাপন, মসজিদ পুনর্নির্মাণ এবং রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ‘মেহমানখানা’ উদ্যোগে বিনামূল্যে খাবার বিতরণ।

এ ছাড়া তুরস্কের ভূমিকম্প, গাজা ও সুদানের মানবিক সংকটে সহায়তা পাঠানোর কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ঢাকার হাজারীবাগে নিজস্ব মাদ্রাসা, সেল্টার হোম ও এতিমখানাও পরিচালনা করছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন।

প্রতিষ্ঠানটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোতে নিবন্ধিত একটি অলাভজনক, অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী মানবিক সংস্থা বলে জানিয়েছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন।

নতুন ডিরেক্টরের দিকনির্দেশনা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের সেবামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আইন অনুযায়ী, মাস্তুল ফাউন্ডেশনকে প্রদত্ত যেকোনো দান, যাকাত বা সাদাকা আয়করমুক্ত, যা দাতাদের জন্য আয়কর রেয়াত হিসেবে গণ্য হবে।

২০২৮ শিক্ষাবর্ষের কারিকুলামে ব্যাপক সংস্কার আনছে সরকার: মাহদী আমিন

২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের শিক্ষাক্রমে ব্যাপক ও বিস্তৃত সংস্কার আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, মেধা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাহদী আমিন বলেন, ২০২৮ সালের শিক্ষাক্রমে বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি টেকসই ও যুগোপযোগী শিক্ষাক্রমের রূপরেখা তৈরি করা হবে। এর প্রস্তুতি হিসেবে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকে প্রয়োজনীয় পরিমার্জন, সংযোজন ও বিয়োজন করা হচ্ছে।

মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও খেলাধুলাসহ নতুন বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে চারটি নতুন বই ও বিষয় যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা ও শারীরিক শিক্ষাভিত্তিক ‘স্পোর্টস অ্যান্ড কালচার’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘টেকনিক্যাল এডুকেশন’ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের রোবটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে মাহদী আমিন বলেন, আগের সময়ে ফলাফল ভালো দেখাতে কৃত্রিমভাবে জিপিএ-৫ বাড়ানোর প্রবণতা ছিল। এবার কোনো গ্রেস নম্বর দেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীরা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত ফলাফল পেয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া বা এসএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্র বোঝা হিসেবে দেখবে না। তাদের জন্য বিশেষ নীতি তৈরি করা হচ্ছে। এসব তরুণকে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি), স্বল্পমেয়াদি কারিগরি ও ভোকেশনাল প্রশিক্ষণে যুক্ত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনে তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে।

বেকারত্ব কমাতে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ বা কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। এর মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীরা তাদের দক্ষতার তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন। অন্যদিকে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় দক্ষতার কর্মী খুঁজে নিতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বেসরকারি খাতকে যুক্ত করে এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে এ উদ্যোগ প্রথমে বিভাগীয় পর্যায়ে এবং পরে দেশের প্রতিটি জেলায় সম্প্রসারণ করা হবে। এতে পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

শিক্ষকতা পেশাকে আরও আকর্ষণীয় করা এবং শিক্ষকদের ডিজিটাল দক্ষতা বাড়াতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা জানান মাহদী আমিন। এ কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক থেকে সব স্তরের শিক্ষকদের হাতে ডিজিটাল ট্যাব তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর মাধ্যমে শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং তাদের অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার পরিবেশ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিয়ে অবস্থান শক্তিশালী করতে স্থানীয় শিল্পের সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের যৌথ গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষকদের দেশে ফিরিয়ে এনে ‘ব্রেন ড্রেন’কে ‘ব্রেন সার্কুলেশনে’ রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। গবেষণায় সরকারি বরাদ্দও বহুগুণ বাড়ানোর কথা জানান মাহদী আমিন।

গ্রাম ও শহরের বিদ্যালয়ের মধ্যে বৈষম্য কমাতে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজনের কথাও জানান তিনি। এর মধ্যে ‘প্রাইমারি স্কুল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ এবং ‘ইনোভেশন ও স্টার্টআপ কম্পিটিশন’ রয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়; দক্ষতা, কর্মসংস্থান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন একটি প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপদের জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টনের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপদের জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টনের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন দাখিল করেন জাতীয় সংসদের ১১ জন সংসদ সদস্য। রিট আবেদনে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আবেদনকারী সংসদ সদস্যদের আইনজীবী শিশির মনির।

রিট আবেদনকারী সংসদ সদস্যরা হলেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম, মো. গোলাম রব্বানী, নুরুল ইসলাম, মাসুদ পারভেজ, আজিজুর রহমান, শেখ মনজুরুল হক, মো. শফিকুল ইসলাম, মো. রাশেদুল  ইসলাম রাশেদ, সালাউদ্দিন ও মো. জহিরুল ইসলাম।

রিটকারীদের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানান, ২০০১ সালে একইরকমভাবে জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছিল। তখন এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়। সে সময় হাইকোর্ট দায়িত্ব বণ্টন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন। রুলস অব বিজনেস, সংবিধান ও উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী এই ধরনের সিদ্ধান্ত আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত এবং বেআইনি বলে জানান শিশির মনির।

গত ২৭ আগস্ট সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে, দেশের ৬৪ জেলার দায়িত্ব ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপের মধ্যে ভাগ করে দেয়।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিভিন্ন জেলায় উন্নয়নের বরাদ্দ কলমে থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট করা হয়েছে। লুট করা অর্থের একাংশ বিদেশে পাচার এবং অন্য অংশ মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। এ অবস্থায় জেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে সমন্বয় ও তদারকির এ দায়িত্ব দেওয়া হল।

ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে প্রধান শিক্ষিকার মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

রাজধানীর ‎জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে ছিনতাইকারীর ব্যাগ ধরে টান দেওয়ায় রিকশা থেকে পড়ে প্রধান শিক্ষিকার মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। শনিবার রাতে মো. পনি ওরফে প্যারা পনি ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এ সময় পনির ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে।

রোববার বিকেল ৪টায় মোহাম্মদপুরের বসিলায় র‍্যাব-২-এর সদর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

গতকাল শনিবার হাসপাতালে যাওয়ার পথে রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে প্রাণ হারান শিক্ষিকা রনজিনা পারভীন রুলি (৫৫)। তিনি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন।‎

গত শুক্রবার রাতে বগুড়া থেকে স্বামী আব্দুল মতিনের সঙ্গে ঢাকায় আসেন রনজিনা পারভীন। ভোরে গাবতলী বাস টার্মিনালে নেমে রিকশায় করে স্বামীর সঙ্গে তিনি ফার্মগেটের ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চোখের চিকিৎসার জন্য যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে আসতেই একটি মোটরসাইকেলে এসে রিকশার পেছন থেকে ব্যাগ ধরে টান দেয় ছিনতাইকারীরা। এ ঘটনায় তিনি রিকশা থেকে নিচে পড়ে যান। তার মাথা ফেটে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহত শিক্ষিকার স্বামী বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

নেপালে বন্যা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে কয়েক’শ শ্রমিক, উদ্ধারে মরিয়া অভিযান

নেপালের ত্রিশুলি নদীর তীরবর্তী একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে জরুরি অভিযান চলছে। ভেতরে বাতাস প্রবেশ করানো হচ্ছে। জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধারকারী দল পাঠানোর জন্য সেখানে ম্যানহোল খননের পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

দেশটির ‘ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের’ তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত প্রায় ৯০০ শ্রমিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের হিসাবে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৬১ শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে।

জ্বালানি, পানি সম্পদমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ শনিবার গভীর রাতে জানান, বন্যার পর কাদা ও পলিতে চাপা পড়ে ‘ত্রিশুলি-৩ এ’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। এর টানেলে চলমান উদ্ধার অভিযানে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে।

উদ্ধারকর্মীরা খননযন্ত্র দিয়ে টানেলের ভেতরে জমে থাকা কাদা ও পলি সরানোর কাজ করছেন। মন্ত্রী জানান, ওপরের অংশ দিয়ে ৬ ইঞ্চি ব্যাসের একটি গর্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক পরিদর্শনে ভেতরে কোনো ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়নি। এরপর টানেলের ভেতরে বাতাস, আলো ও শব্দ প্রবেশ করানো হয়েছে। তবে ভেতরে থাকা কারও সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি।

বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ জানান, সেখানে যে গর্ত আছে সেটি আরও বড় করে একটি ম্যানহোল তৈরি করা হবে। রোববারের মধ্যে কয়েকটি পথ ব্যবহার করে মূল টানেলে পৌঁছানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

গত শুক্রবার নেপাল সেনাবাহিনী একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেল থেকে কয়েকজনকে উদ্ধারের নাটকীয় ভিডিও প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, ঘন কাদার মধ্য দিয়ে জীবিতরা হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে আসছেন। ওই ভিডিওটি রাসুওয়া জেলায় ধারণ করা হয়েছিল।

টানেলে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে সহায়তার জন্য নেপাল সরকার ভারত ও চীনের কাছে বিশেষজ্ঞ পাঠানোর অনুরোধ করেছে। শনিবার দুই দেশের উদ্ধারকারী দল নেপালে পৌঁছেছে।

বিয়ের গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন প্রভা

কয়েক দিন ধরে সামাজিক মাধ্যমে অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভার বিয়ে নিয়ে আলোচনা। যুক্তরাষ্ট্রে পরিচয় হওয়া এক যুবককে গোপনে বিয়ে করেছেন বলে গুঞ্জন চলছে। এমনকি চুক্তিভিত্তিক বিয়ের কথাও সামনে আসে। এবার এসব গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন প্রভা। জানালেন, তার বিয়ের খবর সম্পূর্ণ গুজব ও ভিত্তিহীন।

সম্প্রতি ফেসবুক পোস্টে প্রভা স্পষ্ট করে জানান, তিনি বিয়ে করেননি। একই সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক বিয়ে বা এ ধরনের কোনো সম্পর্কেও তিনি আবদ্ধ হননি। তার ভাষায়, ‘আমাকে ঘিরে ছড়ানো কথাগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’

হঠাৎ করে ছড়িয়ে পড়া এই গুঞ্জনের উৎস মূলত প্রভার কয়েকটি সামাজিক পোস্ট। গত এপ্রিলে আংটি পরা একটি ছবি প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। এরপর আংটি ও হাতে ফুল থাকা আরেকটি ছবি প্রকাশের পর কৌতূহল বাড়তে থাকে নেটিজেনদের। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে বিয়ের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

সাদিয়া জাহান প্রভা। ছবি: ফেসবুক

সাদিয়া জাহান প্রভা। ছবি: ফেসবুক

গত সপ্তাহে সেই গুঞ্জন আরও জোরালো হয়। দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে পরিচয় হওয়া নিজের চেয়ে কম বয়সী এক যুবকের সঙ্গে গোপনে বিয়ে করেছেন প্রভা। পরে সেই দাবির সঙ্গে যুক্ত হয় চুক্তিভিত্তিক বিয়ের প্রসঙ্গও। তবে এসব তথ্যের কোনোটি সত্য নয় বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

শুধু বিয়ের গুঞ্জন নয়, এ ধরনের খবর প্রকাশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রভা। তার দাবি, এ বিষয়ে কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। নিজেদের মতো করে নানা তথ্য লেখা হচ্ছে।

দায়িত্বশীলতার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রভা বলেন, একজন সাংবাদিকের লেখার শক্তি অনেক বেশি। একই কলম দিয়ে কাউকে ভয়ংকর মানুষ, আবার কাউকে চমৎকার মানুষ হিসেবে তুলে ধরা সম্ভব। এই শক্তির সঙ্গে দায়িত্বশীলতাও থাকা জরুরি।

সাদিয়া জাহান প্রভা। ছবি: ফেসবুক

সাদিয়া জাহান প্রভা। ছবি: ফেসবুক

প্রভার বক্তব্যে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গুজব ছড়ানোর বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে। তারকাদের ব্যক্তিজীবন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা আলোচনা নতুন নয়। বিশেষ করে কোনো ছবি বা পোস্টের সূত্র ধরে অনুমান, জল্পনা কিংবা অসম্পূর্ণ তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।

শেষে নিজের অনুসারীদের উদ্দেশে প্রভা অনুরোধ করেন- গুজব বা অপপ্রচারে কান না দিতে। ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত জীবন কিংবা অন্য কোনো বিষয়ে সঠিক তথ্য জানার জন্য ফেসবুক পেজে দৃষ্টি রাখতে বলেছেন তিনি।

রোমান্টিক গল্পের নাটক-সিনেমা বন্ধের নোটিশে প্রতিবাদ ৭ সংগঠনের

প্রেম ও রোমান্সনির্ভর নাটক-সিনেমা নির্মাণ ও সম্প্রচারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দাবিতে সরকারের কাছে আইনি নোটিশ পাঠানোকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের শোবিজ অঙ্গন। যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক শৃঙ্খলা এবং সৃজনশীল মেধার বিকাশের স্বার্থে কেবল প্রেম ও রোমান্সনির্ভর কনটেন্ট নির্মাণ বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে ওই নোটিশে। অন্যদিকে, একটি নির্দিষ্ট ঘরানার সৃজনশীল কাজ সামগ্রিকভাবে বন্ধের উদ্যোগকে শিল্পের স্বাধীনতা ও কর্মসংস্থানের জন্য উদ্বেগজনক উল্লেখ করে যৌথ প্রতিবাদ জানিয়েছে টেলিভিশন ও অডিওভিজ্যুয়াল অঙ্গনের বিভিন্ন সংগঠন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ আইনি নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যানকে নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, দেশের বর্তমান নাটক ও চলচ্চিত্রে প্রেম ও মাত্রাতিরিক্ত রোমান্টিক কনটেন্টের আধিক্যের কারণে সাংস্কৃতিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা এবং ক্যারিয়ারের প্রতি অমনোযোগী হয়ে পড়ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি নাটক-সিনেমায় পরকীয়া ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে স্বাভাবিক ও মহিমান্বিত করে দেখানোর অভিযোগ তোলা হয়েছে। নোটিশদাতার দাবি, এ ধরনের উপস্থাপন সমাজের প্রচলিত নৈতিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এমনকি মূলধারার গণমাধ্যমে অনৈতিক সম্পর্কের অবাধ প্রদর্শনের সঙ্গে সামাজিক নৈরাজ্য এবং পরকীয়া ও ধর্ষণের মতো অপরাধ বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে বলেও নোটিশে দাবি করা হয়েছে। তবে এই সম্পর্কের পক্ষে নোটিশে কোনো গবেষণা বা পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, তা প্রকাশিত সংবাদগুলো থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত নোটিশদাতার অভিযোগ ও যুক্তি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, কী বানাতে হবে সেটিও বলা হয়েছে

নোটিশে শুধু প্রেম ও রোমান্সনির্ভর নাটক-সিনেমায় বিধিনিষেধের দাবি জানানো হয়নি। এর পরিবর্তে বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ এবং প্রতিরক্ষাভিত্তিক চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণ ও সম্প্রচারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর নির্দেশনা দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।

নোটিশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ১০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া এবং সে বিষয়ে নোটিশদাতাকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ না নিলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়েরের কথা বলা হয়েছে।

সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন এবং সরকারি কর্তৃপক্ষের আইনবহির্ভূত বা এখতিয়ারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আদেশ বা নির্দেশ দিতে পারে।

তবে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—আইনি নোটিশ নিজে কোনো আদালতের নিষেধাজ্ঞা বা সরকারি আদেশ নয়। এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি বা আইনি পদক্ষেপের পূর্বধাপ হিসেবে কাজ করতে পারে। ফলে এই মুহূর্তে প্রেমভিত্তিক নাটক বা সিনেমা নির্মাণ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সৃজনশীলতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়

আইনি নোটিশের পরই এর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে টেলিভিশন ও অডিওভিজ্যুয়াল অঙ্গনের বিভিন্ন সংগঠন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর নিকেতনে যৌথ প্রতিবাদলিপিতে তারা বলেছে, বাংলাদেশের টেলিভিশন ও অডিওভিজ্যুয়াল শিল্প দীর্ঘদিন ধরে দেশের সংস্কৃতি, বিনোদন, সৃজনশীলতা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, কোনো নির্দিষ্ট কনটেন্ট নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে প্রচলিত আইন, বিধিমালা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় তার প্রতিকার করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু একটি সম্পূর্ণ সৃজনশীল মাধ্যমের একটি নির্দিষ্ট ঘরানার নির্মাণ সামগ্রিকভাবে বন্ধের উদ্যোগ সৃজনশীল শিল্পের বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একই সঙ্গে এ ধরনের সিদ্ধান্তের ফলে টেলিভিশন শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান ও সৃজনশীল কার্যক্রমও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

শিল্পী ও কলাকুশলীদের সংগঠনগুলো অবশ্য দায়িত্বশীল ও মানসম্মত কনটেন্ট নির্মাণের প্রয়োজনীয়তাও স্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, সৃজনশীল স্বাধীনতা বজায় রাখার পাশাপাশি নির্মাতা ও শিল্পীদেরও দর্শকের প্রতি দায়িত্বশীল থাকতে হবে।

প্রতিবাদে সাত সংগঠন

যৌথ প্রতিবাদলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন ডিরেক্টরস গিল্ড বাংলাদেশের সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল হাসান, অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের সভাপতি আজাদ আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু, টেলিভিশন নাট্যকার সংঘের সভাপতি শিহাব শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দীন সুমন, ক্যামেরাম্যান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক সাহিল রনি, অডিও-ভিজ্যুয়াল টেকনিক্যাল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাদেক সিদ্দিকী, টেলিভিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরস অর্গানাইজেশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক রাজ্জাক রাজ এবং বাংলাদেশ মেকআপ আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব রহমান মানিক।

তাদের সম্মিলিত বক্তব্য—রোমান্টিক নাটক বা সিনেমা নির্মাণ সামগ্রিকভাবে বন্ধের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে টেলিভিশন শিল্পের সৃজনশীল স্বাধীনতা, শিল্পী ও কলাকুশলীদের কর্মক্ষেত্র এবং দেশের বিনোদন ও সংস্কৃতি অঙ্গনের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ও ইতিবাচক ভূমিকা প্রয়োজন।

বড়ালে পুরোনো স্থাপনা উচ্ছেদ হয়নি, নতুন করে চলছে দখল

অস্তিত্ব সংকটে থাকা বড়াল নদীতে নতুন করে আবার শুরু হয়েছে দখল। গত এক সপ্তাহে নদীর অন্তত পাঁচটি স্থানে আরসিসি ঢালাই দিয়ে ভবন ও দোকানঘর নির্মাণের কাজ চলছে। দিনের আলোয় প্রকাশ্যে নদীর জায়গা দখল করে এসব স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও তা বন্ধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্টদের। ফলে পুরোনো দখল উচ্ছেদ না হতেই নতুন করে দখলের বিস্তার ঘটছে।
পদ্মা ও যমুনার সংযোগ রক্ষাকারী একসময়ের প্রবহমান বড়াল এখন স্থানীয়ভাবে ‘মরা বড়াল’ নামে বেশি পরিচিত। দখল ও দূষণে নদীর অনেক অংশ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। উৎসমুখ পদ্মা-বড়ালের মোহনা এলাকায় নদীর দুই তীর দখল করে গড়ে উঠেছে আবাসিক ভবন, পৌরসভার মার্কেট, গণশৌচাগারসহ নানা স্থাপনা। কোথাও কোথাও নদীর ভেতরে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতি ও শুক্রবার বড়াল নদীর শিমুলিয়া, পুঠিমারি ও বাটিকামারী এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর জায়গায় নতুন করে নির্মাণকাজ চলছে। কয়েকটি স্থানে আরসিসি ঢালাই দিয়ে ভবনের ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে। কোথাও আবার ঢালাইয়ের রড বের করে রাখা হয়েছে, যাতে পরে ভবনের পরিধি আরও বাড়ানো যায়।

শিমুলিয়া এলাকায় নদীর ভেতরে আরসিসি ঢালাই দিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন স্থানীয় মিনারুল ইসলাম। ভবনের বিস্তৃতি বাড়ানোর জন্য ঢালাইয়ের রডও বের করে রাখা হয়েছে। নদী দখল করে নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে মিনারুল ইসলাম বলেন, ‘কত মানুষই তো ঘরবাড়ি করেছে। কতজনকে বাধা দিয়েছেন? পুরোটা নদীর জায়গা নয়।’
পুঠিমারি-বাটিকামারী এলাকায় নদীর জায়গায় চা দোকান করতেন রবিউল ইসলাম। এখন সেখানে তাঁর ছেলে আল আমিন আরসিসি ঢালাই দিয়ে দুই কক্ষের ঘর নির্মাণ করছেন। একটি কক্ষ ভাড়া দেওয়ার এবং অন্যটিতে নিজেদের দোকান করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল ওহাব বলেন, ‘জায়গাটি নদীর। চা বিক্রি করতে করতে এখন ঘর তৈরি করছে। এভাবে দখল হতে থাকলে নদীর তীর বলে কিছুই থাকবে না।’ তবে আল আমিনের দাবি, জায়গাটি তাঁদের নিজস্ব। নদীর জায়গায় নয়, নিজেদের জমিতেই ঘর নির্মাণ করছেন তিনি।
পুঠিমারি এলাকায় কিছুদিন আগে নদীর জায়গা দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করেছেন স্থানীয় ইমদাদুল ইসলাম ও আব্দুর রহমান। তাঁদের ভাষ্য, অনেকেই নদীর পাশে দোকান করেছেন, তাঁরাও করেছেন। সব জায়গা নদীর নয়। সরকারি জায়গা হলে সরকার চাইলে তখন ব্যবস্থা নেবে।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, বড়াল নদীর দখলদার উচ্ছেদে গত দুই দশকে একাধিকবার তালিকা করা হয়েছে। ২০০৫ সালে নদীর দুই তীরের ৬৮ জন অবৈধ দখলদারের তালিকা করা হয়। ২০০৮ সালে হালনাগাদ করে দখলদারের সংখ্যা করা হয় ১১৩ জন। ২০১৯ সালে সরেজমিনে তদন্তে ৫৬ জন এবং ২০২৫ সালে ১০১ জন দখলদারের তালিকা করা হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের মে মাসে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের নির্দেশে হালনাগাদ করা তালিকায় দখলদার হিসেবে ১১০ জনের নাম পাঠানো হয়েছে।
সর্বশেষ তালিকা যাচাই করে দেখা গেছে, চারঘাট স্লুইসগেট এলাকায় ২৯ জন, সরদহে ৩ জন, বাটিকামারীতে ২৫ জন এবং আড়ানী বড়াল সেতুসংলগ্ন রামচন্দ্রপুর এলাকায় ৫৪ জন দখলদার রয়েছেন। তবে সম্প্রতি নতুন করে স্থাপনা নির্মাণকারীদের অনেকের নাম এ তালিকায় নেই।

বড়াল রক্ষা আন্দোলনের নেতাকর্মী ও পরিবেশকর্মীদের দাবি, সরকারি তালিকায় দখলদারের সংখ্যা শতাধিক হলেও বাস্তবে এ সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) চারঘাট উপজেলা সভাপতি মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘নদী দখলকারীদের তালিকা করে উচ্ছেদ করা তো দূরের কথা, নতুন যারা দখল করছে তাদের বাধা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না। তাহলে এসব তালিকা করে লাভ কী? সরকারি হিসাবে দখলদার শতাধিক হলেও বাস্তবে সংখ্যা চার শতাধিক।’
রাজশাহী পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ সরকার বলেন, উচ্ছেদ কার্যক্রম একটি চলমান প্রক্রিয়া। এ বিষয়ে কাজ চলছে এবং খুব দ্রুত আবারও উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হবে।
চারঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মীর মেজবাহীজ্জুলাম চৌধুরী বলেন, ‘দখলকারীদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নদী-সাগরে ইলিশের আকাল শূন্য হাতে ফিরছেন জেলে

ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার সামরাজ ঘাটের মাঝি দেলোয়ার হোসেন গত বছর ছয় লাখ টাকা দাদন নিয়ে একটি ট্রলার সাগরে নামিয়েছিলেন। আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ায় দাদনের টাকা শোধ করতে পারেননি। প্রতি ট্রিপেই লোকসান যোগ হওয়ায় দাদনের পরিমাণ বেড়ে ৯ লাখে দাঁড়িয়েছে। এ বছরও তিন লাখ টাকা দাদন নিয়ে একটি ট্রলার সাগরে নামিয়েছেন। এবারও ইলিশের আকাল যাচ্ছে। আবারও ভারী হচ্ছে দাদনের বোঝা। সুদিন ফেরার আশা নিয়ে প্রতি মৌসুম শুরু হলেও সুদিন আর আসেনি। শুধু দেলোয়ার নন, একই অবস্থা দক্ষিণ উপকূলের লক্ষাধিক জেলের।

নিষেধাজ্ঞা শেষে অনেক আশা নিয়ে জেলেরা নদী ও সাগরে ইলিশ শিকারে যান। কিন্তু তাদের ফিরতে হচ্ছে অনেকটা শূন্য হাতে। জালে উঠছে না কাঙ্ক্ষিত মাছ। সারাদিন জাল ফেলে দু-চারটি ইলিশ পড়লেও সেগুলো ডিমওয়ালা হওয়ায় ধরা যায় না। ফলে সংসারই ঠিকমতো চলে না। দাদনের টাকাও শোধ হয় না। এভাবে দিনের পর দিন লোকসান হওয়ায় মহাজনের জালে আটকে যাচ্ছেন জেলেরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই এলাকার জেলেরা প্রায় ৫০০ কোটি টাকার দাদনের জালে আটকে পড়েছেন।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চরফ্যাসনের উপকূলীয় জেলেপল্লিতে লক্ষাধিক ইলিশ শিকারি রয়েছেন।
তবে বেসরকারি হিসাবে ইলিশ শিকারির সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি।

ঢালচর ঘাটের জেলে আবদুর রব বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে নদী-সাগরে ইলিশের দেখা ছাড়াই শেষ হতে চলেছে একটি মৌসুম। নদীতে ইলিশ সংকট থাকায় ট্রলার মালিক থেকে জেলে পর্যন্ত সবাই দোনার বোঝা ভারী করে শূন্য হাতে ঘরে ফিরেছেন। ভরা মৌসুমে নদীতে নেই ইলিশ, বিকল্প কোনো কাজ না থাকায় শ্রমনির্ভর মানুষগুলোকে চরম অভাবে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হয়। ঘরে ঘরে অভাব বিরাজ করছে। এই অভাবের সময়ে সরকারি কোনো সহায়তা না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন জেলেরা।

ট্রলার মালিক ইদ্রিস মাঝি বলেন, বড় ফিশিং ট্রলার তৈরি করে জালসহ সাগরে যাওয়ার উপযোগী করতে ২০-২৫ লাখ টাকা খরচ হয়ে থাকে। এর পর সাগরে পাঠানোর আগে ২০ জন মাঝি-মাল্লারকে ১৫-২৫ হাজার টাকা করে আগাম দিতে হয়। মালিকপক্ষ এই টাকার জোগান দিতে আড়তদারের কাছ থেকে অগ্রিম নিয়ে থাকে। এই অগ্রিম নেওয়া টাকাকেই জেলেরা দাদন বলেন। দাদনের শর্ত হচ্ছে, দাদনভুক্ত ট্রলারে ধরা মাছ দাদন প্রদানকারী মহাজনের আড়তের মাধ্যমে বিক্রি করতে হবে। বিক্রয়মূল্য থেকে মহাজন শতকরা ৫-৮ টাকা হারে কমিশন কেটে নেবেন।

ঢালচর ঘাটের জেলেরা জানান, মহাজনরা কৌশলে জেলেদের সিন্ডিকেটের সুতায় বেঁধে ফেলেন। সিন্ডিকেটের মতো বুর্জোয়া কৌশলকে ‘ঘাট শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা কমিটি’র আদলে জেলেদের সামনে তুলে ধরা হয়। এই কমিটি মোকামের সঙ্গে মিল রেখে ঘাটে মাছের দাম নির্ধারণ করে দেয়। ফলে জেলেরা ইলিশের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। বছরের পর বছর জেলেরা এই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে আছেন। মৌসুম শেষ হয়ে যায়, কিন্তু মহাজনের কাছ থেকে নেওয়া দাদন আর শেষ হয় না।

সামরাজ ঘাটের জেলে নুরুল ইসলাম মাঝি জানান, জেলেদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে বিপুল পরিমাণ চাল বরাদ্দ দেখানো হলেও এসব চাল প্রকৃত জেলেরা পান না। জেলেদের পাশাপাশি সমাজের নানা পেশার লোকজন নানাভাবে এসব চাল পেয়ে থাকেন।

দাদনের দায় বছরের পর বছর বাড়তে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে ঢালচর ঘাটের মাঝি আব্দুল আলীম জানান, একটি ফিশিং ট্রলার সাগরে যেতে ডিজেলসহ সোয়া লাখ টাকার বাজার নিতে হয়। ১০-১৫ দিন পর ঘাটে ফিরে আসার সময় কখনও কখনও খোরাকির মাছ নিয়ে আসতে পারেন না। ফলে সাগরযাত্রার সোয়া লাখ টাকার খরচের দায় জেলেদের মাথায় বর্তায়। প্রাথমিক দাদনের সঙ্গে খরচটা নতুন দাদন হিসেবে যোগ হয়। এভাবে ট্রিপে লোকসান দাদন হিসেবে গণ্য হতে থাকে। ফলে বাড়তে থাকে দায়।

ঢালচর ঘাটের আড়ত মালিক নুরে আলম জানান, গত মৌসুম শেষে জেলেদের হাতে তাঁর প্রতিষ্ঠানের প্রায় পাঁচ কোটি টাকা দাদন বকেয়া ছিল। এ মৌসুমে আরও সোয়া কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এভাবে নদী-সাগরে ইলিশের সংকটের কারণে দাদনের পরিমাণ আরও ৫০ লাখ টাকা বেড়ে যেতে পারে।
ইলিশ সংকটের কারণ উল্লেখ করে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, এখন ইলিশের ভরা মৌসুম হলেও আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় নদী-সাগরে ইলিশ কম দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি নদী সংযুক্ত বনগুলোর খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের ফলে বিষাক্ত পানিতে ইলিশ প্রজননের ব্যাঘাত ঘটে। এসব কারণে দিন দিন সাগর আর নদনদীতে ইলিশের সংকট দেখা দিচ্ছে।