Home Blog Page 161

ভূমিকম্পে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবী প্রস্তুত করা হ

ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকায় ১ লাখ সেচ্ছাসেবী প্রস্তুত করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

রোববার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আশ্রয়ের জন্য খেলার মাঠ এবং স্কুল চিহ্নিত করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ভূমিকম্পের সময় সচেতনতা তৈরি করতে মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারেক রহমান৷

প্রাথমিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করে ১১ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রী।

ইরানে হামলা ও খামেনি হত্যার প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভের ডাক

আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইরান ও দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে আজ বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

রোববার (১ মার্চ) বিকেল ৩টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হবে।

কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলামসহ দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতারা অংশ নেবেন।

উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। রোববার রাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেনির মৃত্যুর খবর জানান। পরে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য স্বীকার করে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সবচেয়ে বড় বাজিটি খেললেন

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদ যুগের অবসান ঘটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হলো নতুন এক রক্তক্ষয়ী অধ্যায়। কোনো ধরনের প্রত্যক্ষ উসকানি ছাড়াই ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানে ‘শাসন পরিবর্তনের’ লক্ষ্য নিয়ে একতরফা হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন কংগ্রেস বা জনগণের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই শুরু হওয়া এই যুদ্ধের আইনি ভিত্তি নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই প্রশ্ন উঠেছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলাকালীন এই আকস্মিক হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শনিবার প্রথম দফা হামলার পর রেকর্ড করা এক ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, এই অভিযানের লক্ষ্য কেবল তেহরানকে আলোচনার টেবিলে আনা নয়। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী বাহিনী বা আইআরজিসি আত্মসমর্পণ না করলে তাদের সমূলে বিনাশ করা হবে। একই সঙ্গে ধ্বংস করা হবে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও নৌবাহিনীকে। ভাষণে তিনি পার্সিয়ান, কুর্দি, আজেরি ও বালুচসহ ইরানের সব সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার আহ্বান জানান।

ট্রাম্পের সুর মেলাতেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে ‘সন্ত্রাসী শাসনগোষ্ঠী থেকে সৃষ্ট অস্তিত্বের হুমকি দূর করার যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বর্তমান সময়ে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তেহরান তাৎক্ষণিক কোনো বড় হুমকি ছিল না। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প যুদ্ধের পথ বেছে নেওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে। নিজ দেশে জনপ্রিয়তা কমতে থাকায় এবং জনমত জরিপে পিছিয়ে পড়ায় ভোটারদের মনোযোগ ঘোরাতে ট্রাম্প এই যুদ্ধকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি নিজের প্রিয় ‘শুল্ক’ আরোপের ক্ষমতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কাছে বড় ধরনের আইনি ধাক্কা খাওয়াও তাকে ক্ষুব্ধ করেছে।

সাবেক বাণিজ্যসচিব উইলবার রসের মতে, আদালতে এই পরাজয় ট্রাম্পের ইগোতে আঘাত করেছে, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই হামলায়। এছাড়া কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের নথিপত্র প্রকাশ নিয়ে চলা বিতর্ক থেকে দৃষ্টি সরাতেও যুদ্ধের ডামাডোল সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুদ্ধ শুরুর মাত্র ১০ দিন আগে ট্রাম্প ওয়াশিংটনে ‘শান্তি পর্ষদ’-এর উদ্বোধন করেছিলেন, যেখানে টনি ব্লেয়ারের মতো নেতারা ট্রাম্পকে ‘বিশ্ব শান্তির দূত’ হিসেবে প্রশংসা করেছিলেন। অথচ ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের ভয়াবহ স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে ট্রাম্প এখন সেই একই পথে হাঁটছেন। সে সময় ইরাকে যে ধরনের অজুহাত দেওয়া হয়েছিল, ইরানের ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ ছাড়াই প্রায় একই ধরনের ঢালাও মন্তব্য করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদিও গত প্রায় অর্ধশতাব্দীর মধ্যে ইরানকে সম্ভবত এখনই সবচেয়ে কম শক্তিশালী হিসেবে দেখা যায়, কারণ অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় দেশটি এমনিতেই বিপর্যস্ত।

ইতিহাস সাক্ষী, শুধু বিমান হামলার মাধ্যমে কোনো সুপ্রতিষ্ঠিত শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো প্রায় অসম্ভব। এখন তেহরান সরকারের কাছে এটি অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে তারা তাদের হাতে থাকা সবটুকু শক্তি দিয়ে আক্রমণকারীদের সর্বোচ্চ ক্ষতি করার চেষ্টা করবে।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর চাক শুমার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ট্রাম্প যখন ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিপদে পড়েন তখন ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। ইরানের ওপর এই অতর্কিত হামলা সেই হিতাহিত জ্ঞানশূন্যতারই ফল হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

খামেনির মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ ইরান, প্রতিশোধের ঘোষণা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ায় দেশটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা একজন মহান নেতাকে হারিয়েছি এবং আমরা তার শোকে মুহ্যমান।’ বিবৃতিটি প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা ফার্স।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘মানবতার সবচেয়ে নিষ্ঠুর সন্ত্রাসী ও জল্লাদদের হাতে তার শহীদ হওয়া এই মহান নেতার বৈধতার প্রমাণ এবং তার আন্তরিক সেবার প্রতি জনগণের স্বীকৃতির নিদর্শন।’

আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইরানি জাতির প্রতিশোধের হাত তাদের ছাড়বে না।

এর আগে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করে দেশটির বার্তা সংস্থা তাসনিম এবং ফার্স।

আইআরজিসি–সংশ্লিষ্ট বার্তা সংস্থা ফার্স জানায়, শনিবার ভোরে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় নিজের কার্যালয়ে নিহত হন আলী খামেনি।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা এবং নাতনিও নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

এ ঘটনার পর ইরান সরকার ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে সাতদিনের সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে।

গণমাধ্যমকে স্বাধীনতা দিতে হবে: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যমকে স্বাধীনতা দিতে হবে। গণমাধ্যমকে স্বাধীনতা না দিলে তাদের সৃজনশীলতা থাকবে না। তাদের যত বেশি স্বাধীনতা দেওয়া হবে, তারা তত বেশি অনুসন্ধানী ক্ষমতাকে কাজে লাগাতে পারবে।

মন্ত্রী শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বরিশাল প্রেসক্লাব আয়োজিত ‘স্বজন স্মরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, অনুসন্ধানী ক্ষমতা যত বেশি ধারালো হবে, রাষ্ট্র তত জবাবদিহিতার মধ্যে পড়বে, তত বেশি জনগণের কল্যাণমুখী হতে বাধ্য হবে। সাংবাদিক হিসেবে এই উপলব্ধিটা থাকা দরকার।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে তথ্যকে সবচেয়ে শক্তিশালী উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় বিকাশের ফলে তথ্য এখন আর কেবল ব্যক্তিগত উপলব্ধির বিষয় নয়, বরং এটি একটি বস্তুনিষ্ঠ ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ায় রূপান্তরিত হয়েছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোনো তথ্য তৈরির ক্ষেত্রে অবশ্যই একটি সুনির্দিষ্ট ‘ডাটা সিস্টেম’ প্রয়োজন হয়। আর এই ডাটা সিস্টেমে প্রবেশের প্রধান শর্ত হলো একটি শক্তিশালী যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহার করা।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, পারস্পরিক নির্ভরশীলতার ফলে তথ্যের আদান-প্রদান ও ব্যবস্থাপনা এখন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের দেশে এমন উন্নত ও সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমরা এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, তথ্যের সংজ্ঞা পরিবর্তন হয়েছে। তথ্যকে শক্তিশালী মাধ্যম বলা হয়। দেশে অনেক প্রতিভাবান ও জ্ঞানী মানুষ থাকা সত্ত্বেও, আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির এই অবাধ প্রবাহে বিচরণ করার মতো উপযুক্ত পরিবেশ ও অবকাঠামো আমরা এখনো নিশ্চিত করতে সক্ষম হইনি।

তিনি বলেন, সাংবাদিকতা সম্মানজনক পেশা, সাংবাদিকদের সম্মানজনক বেতন-ভাতা দিতে হবে। যে ধরনের বেতন কাঠামোর মধ্যে থাকলে জ্ঞান ভিত্তিক পেশাতে নিজেদের নিয়োজিত রাখার পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহ, গবেষণায় মনোনিবেশ করতে পারেন। সে জন্য পত্রিকা মালিকদের সম্মানজনক ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সাংবাদিক নীতিমালার বিষয় তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নীতিমালার দায়িত্ব সাংবাদিকদের নিতে হবে। গণমাধ্যমকর্মীরা জবাবদিহিতার নীতিমালা নির্ধারণ করবে, সে নীতিমালার মাধ্যমে সরকার সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণ করবে।

বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরুর সভাপতিত্বে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান খান, ডিআরইউ’র সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, ডিআরইউ’র সাংগঠনিক সম্পাদক মীর জসিম, ডিআইজি মঞ্জুর মোর্শেদ আলম, পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন, পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম, বরিশাল পিআইডির উপপ্রধান তথ্য অফিসার মোছাম্মত আফরোজা নাইচ রিমা, বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন, প্রেসক্লাবের সদস্য, সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সিনিয়র সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

খামেনিকে হত্যা করায় ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানালেন রেজা পাহলভী

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুকে স্বাগত জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন দেশটির নির্বাসিত সাবেক যুবরাজ রেজা শাহ পাহলভী। ওয়াশিংটন পোস্টে লেখা এক নিবন্ধে তিনি এই পরিবর্তনকে ইরানের জনগণের জন্য ‘স্বাধীনতার সুযোগ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

পাহলভী তার লেখার শুরুতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান, যিনি সম্প্রতি ইরানিদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘তোমাদের স্বাধীনতার সময় এসে গেছে।’

সাবেক এই রাজপুত্রের মতে, গত প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটি প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে সংঘাত উসকে দিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা নষ্টের চেষ্টা চালিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে পাহলভী মনে করেন, এই শাসনব্যবস্থার সবচেয়ে ‘জঘন্য অপরাধ’ সংঘটিত হয়েছে দেশটির অভ্যন্তরেই; বিশেষ করে গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের সময় হাজারো প্রতিবাদকারীকে হত্যার ঘটনাটি ছিল অমানবিক।

ইরানের ভবিষ্যৎ পথচলা নিয়ে পাহলভী একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশটিতে এখন একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা প্রয়োজন, যা গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত হবে। এরপর আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।

তিনি আরও লিখেছেন, ‘ইতিহাস তার মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত খুব কমই আগাম ঘোষণা করে। কিন্তু এমন সময় আসে, যখন সাহস, নেতৃত্ব এবং সংহতি জাতির গতিপথ বদলে দিতে পারে।’

খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই নির্বাসিত নেতার প্রভাব কতটুকু জোরালো হবে, তা নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক বিশ্লেষণ চলছে। উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে পাহলভী পরিবার দেশের বাইরে অবস্থান করছে।

উত্তরসূরি ঠিক করে গেছেন খামেনি নিজেই, কে তিনি?

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় প্রাণ হারানোর আগেই নিজের উত্তরসূরি নির্ধারণ এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি রূপরেখা তৈরি করে রেখেছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ১৯৮৯ সাল থেকে প্রায় চার দশক ধরে ইরানের ধর্মীয়, সামরিক ও রাজনৈতিক সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী এই নেতা রোববার (১ মার্চ) ভোরে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে হামলার সময় নিহত হন বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরএনএ (IRNA) নিশ্চিত করেছে।

ইরানি সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, যুদ্ধের ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে খামেনি আগেই জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানিকে দেশ পরিচালনার বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলেন।

মূলত বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে কিছুটা পাশ কাটিয়ে এই বিশেষ সামরিক ও রাজনৈতিক মহলের হাতেই জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, তেহরানের ‘পাস্তুর কমপ্লেক্সে’ চালানো নিখুঁত হামলায় খামেনির বাসভবন ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যালয় ধ্বংস হয়েছে।

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব ৮৮ সদস্যের ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’-এর (Assembly of Experts)। তবে গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে এক উত্তেজনার সময় খামেনি সম্ভাব্য তিনজনের একটি নামের তালিকা চূড়ান্ত করেছিলেন বলে জানা গেছে। এই তালিকায় ছিলেন:

বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই

খামেনির দপ্তরপ্রধান আলী আসগর হেজাজি

সংস্কারপন্থি ধর্মীয় নেতা ও খোমেনির নাতি হাসান খোমেনি

এ ছাড়া খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির নাম বিভিন্ন মহলে জোরেশোরে আলোচিত হলেও, খামেনি নিজে নেতৃত্বকে বংশানুক্রমিক করার ঘোর বিরোধী ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

শনিবার রাত পর্যন্ত ইরানের কার্যকর নেতৃত্ব কার হাতে রয়েছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, কিছু নেতা হারালেও ইরানের আত্মরক্ষার লড়াই থামবে না। বর্তমানে একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল গঠিত হতে পারে, যেখানে প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন সদস্য থাকবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষজ্ঞ পরিষদের দ্রুত বৈঠকের মাধ্যমে নতুন নেতার নাম ঘোষণা করা হতে পারে। তবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী আইআরজিসি-র (IRGC) ভূমিকা এই ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বেলিয়া সভাপতি শফিউল আলম উজ্জ্বল; সাধারণ সম্পাদক ইয়াদুল হক

বাংলাদেশের লিফট আমদানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ এলিভেটর এসকেলেটরস এন্ড লিফট ইম্পোর্টার্স এসোসিয়েশন (বেলিয়া) সভাপতি হয়েছেন শফিউল আলম উজ্জ্বল ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ইয়াদুল হক।

বিএনপি কখনো দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়নি, দেবেও না: ঠাকুরগাওয়ে এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল

উপদেষ্টাদের দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “দুর্নীতির  বিষয়গুলোতে সময় নষ্ট না করে আমাদের ভবিষ্যতের দিকে নজর দেওয়া উচিত। সত্যিকার অর্থে দেশকে কিভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া যায় এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে শক্তিশালী করা যায়—সে বিষয়েই গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন, “যার যেটা কাজ, সে সেটা করবে। দুর্নীতির অভিযোগ দেখার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আছে। যারা দুর্নীতি করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব দুদকের। আমরা কখনো দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেইনি এবং ভবিষ্যতেও দেব না।”

আজ মধ্যরাত থেকে পদ্মা-মেঘনায় মাছ ধরা বন্ধ

ইলিশ পোনাসহ জাটকা রক্ষায় আজ (২৮ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত থেকে মার্চ-এপ্রিল এ দুই মাস চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনাসহ দেশের ৬টি নদী অঞ্চলের অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে আমিরাবাদ বাজার পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার ও হাইমচরের চরভেরবী পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার এলাকায় জাল ফেলা, মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই দুই মাস জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবেন।

নিষেধাজ্ঞার এ সময় চাঁদপুরের নিবদ্ধনকৃত ৩৯ হাজার ৪০০ জেলের প্রত্যেককে চার কিস্তিতে ১৬০ কেজি চাল দেবে সরকার। তবে জেলেরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ শিকার করতে গিয়ে ধরা পড়লে কমপক্ষে এক বছর থেকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানাসহ উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম জানান, নদীতে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে নির্ধারিত ভিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জাটকা ইলিশ রক্ষায় অভিযান হবে কঠোর। দুই মাসের এই অভয়াশ্রমে অসাধু জেলেরা যাতে কোনোভাবেই নদীতে নামতে না পারে সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিসুর রহমান বলেন, ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে শুধু প্রশাসনিক তৎপরতা যথেষ্ট নয়। জাটকা রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলেও জেলেদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে এর সুফল দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না।

চাঁদপুর নৌ অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান বলেন, ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল দুই মাস জাটকা নিধন বন্ধে আমরা নৌপুলিশ সচেতন আছি। চাঁদপুর নৌ সীমানার মধ্যে যদি কোনো জেলে আইন অমান্য করে নদীতে নেমে জাটকা নিধন করে তাদের বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নৌপুলিশের কেউ যদি অবৈধ পন্থা অবলম্বনকারীদের সাথে অবৈধভাবে যোগাযোগ রাখে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি মো. নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, ইলিশের স্থায়িত্বশীল উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিবছর বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়, যার মধ্যে জাটকা সংরক্ষণ অন্যতম। জাতীয় স্বার্থে অংশীজনদের আরো তৎপর হতে হবে।

জেলেদের জাটকা ধরা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবেন।

উল্লেখ্য, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ও নদীতে জাটকার নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিতে ২০০৬ সাল থেকে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস নদীতে সব প্রকার মাছ শিকার নিষিদ্ধ করে সরকার।