জ্বালানি তেলের সরবরাহ ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের প্রধান প্রধান ডিপোর নিরাপত্তা জোরদারে সেনাবাহিনী মোতায়েনের অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে মনিটরিং ও কন্ট্রোল সেল গঠন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন।
বিপিসি এক চিঠিতে জানায়, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ডিপো থেকে ডিলারদের আকস্মিক বাড়তি চাহিদার কারণে অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে কিছু স্থানে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জ্বালানি তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গায় অবস্থিত প্রধান স্থাপনাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ডিপোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে খুলনার দৌলতপুর, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি, নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ও ফতুল্লা, দিনাজপুরের পার্বতীপুর এবং বরিশালের ডিপো।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশের জ্বালানি তেলের এসব ডিপো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা কেপিআইভুক্ত হওয়ায় এগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তাই সম্ভাব্য যে কোনো অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এসব স্থাপনায় জরুরি ভিত্তিতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে উল্লিখিত ডিপোগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছে বিপিসি।
মনিটরিং ও কন্ট্রোল সেল গঠন
জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে মনিটরিং ও কন্ট্রোল সেল গঠন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন। এসব সেলে অভিযোগ বা তথ্য জানাতে একাধিক যোগাযোগ নম্বরও নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি হয়েছে।
এতে বলা হয়, জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকি এবং ভোক্তাদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এই কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক মনিটরিং সেল চালু করা হয়েছে। এতে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল ছাড়াও বিপিসির বিভিন্ন আঞ্চলিক কার্যালয়ে কন্ট্রোল সেল গঠন করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল হিসেবে কাজ করবে চট্টগ্রামের বিপিসির বিজনেস সাপোর্ট সেন্টার। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন ডিপো, শোর ট্যাংক, ফ্লোটিং, ডিসপাচ ও বিক্রয় কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের মজুত, সরবরাহ ও বিপণন কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোথাও জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মজুত বা সরবরাহে কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কন্ট্রোল সেলে তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে হবে। এসব সেলে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তেলের ডিপোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের অনুরোধ বিপিসির
ভারত থেকে দেশে আসছে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল
ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এই জ্বালানি তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে এই ডিজেল পাঠানোর পাম্পিং কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। জ্বালানি তেলের মজুত স্বাভাবিক রাখা এবং দেশজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার জরুরিভিত্তিতে এই উদ্যোগ নিয়েছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে এই আমদানির ফলে পরিবহন খরচ ও সময় সাশ্রয় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ট্রাম্প-পুতিনের ঘণ্টাব্যাপী ফোনালাপ, যুদ্ধ বন্ধের ইঙ্গিত
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধ এবং ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এক ঘণ্টার মতো টেলিফোনে আলাপ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্রেমলিন জানিয়েছে, এই আলোচনা ছিল ‘খোলামেলা ও গঠনমূলক।’
সোমবার (৯ মার্চ) হওয়া ওই ফোনালাপটি গত ডিসেম্বরের পর দুই নেতার প্রথম কথোপকথন। রুশ প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা ইউরি উশাকফ দেশটির গণমাধ্যমকে জানান, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকেই আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
উশাকভ বলেন, আলোচনায় মূল গুরুত্ব দেওয়া হয় ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ইউক্রেন সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ওপর।
তিনি জানান, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধে দ্রুত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন পুতিন। ইরান দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচিত।
এছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কেও ট্রাম্পকে অবহিত করেন পুতিন। তিনি বলেন, ফ্রন্টলাইনে রুশ সেনারা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করছে।
ইউক্রেন সংঘাতে মধ্যস্থতার জন্য ট্রাম্পের উদ্যোগকেও ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। যদিও রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক বৈঠক হলেও এখনও যুদ্ধবিরতির কোনো বড় অগ্রগতি হয়নি।
উশাকভ জানান, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেই এই ফোনালাপ চেয়েছিল ওয়াশিংটন। ক্রেমলিনের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনাটি ছিল গঠনমূলক।
এর আগে গত বছরের আগস্টে আলাস্কায় মুখোমুখি বৈঠক করেছিলেন ট্রাম্প ও পুতিন।
সোমবার (৯ মার্চ) হওয়া ওই ফোনালাপটি গত ডিসেম্বরের পর দুই নেতার প্রথম কথোপকথন। রুশ প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা ইউরি উশাকফ দেশটির গণমাধ্যমকে জানান, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকেই আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
উশাকভ বলেন, আলোচনায় মূল গুরুত্ব দেওয়া হয় ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ইউক্রেন সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ওপর।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
রাজধানীর কড়াইল বস্তির নারী ও শিশুদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়ার মাধ্যমে নতুন এক মানবিক কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সরাসরি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে অর্থ সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
কড়াইল, সাততলা বস্তি ও ভাষানটেকের ১৫ জন নারীর হাতে কার্ড হস্তান্তরের মাধ্যমে আজ এই সেবার সূচনা হয়। প্রাথমিকভাবে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডের প্রায় ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসছেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে পাইলটিং শেষে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এই কার্যক্রম বিস্তৃত করা হবে।
কড়াইল, সাততলা বস্তি ও ভাষানটেকের ১৫ জন নারীর হাতে কার্ড হস্তান্তরের মাধ্যমে আজ এই সেবার সূচনা হয়। প্রাথমিকভাবে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডের প্রায় ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসছেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে পাইলটিং শেষে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এই কার্যক্রম বিস্তৃত করা হবে।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানানো হয়, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নয় বরং কেবল হতদরিদ্র পরিবারগুলোই এই সুবিধা পাবে। ভবিষ্যতে দেশের ৯৫টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
সব রেকর্ড ভেঙ্গে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা হতে যাচ্ছেন তারেক রহমান!
কড়াইল বস্তিতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার ১০ মার্চ রাজধানীর কড়াইল বস্তি, সাততলা ও ভাষানটেকে নারী ও শিশুদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়ে নতুন মানবিক উদ্যোগের সূচনা করেন তিনি। এসময় প্রটোকল ভেঙে সরাসরি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের খোঁজখবর নেন, যা সমসাময়িক বিশ্বনেতাদের মধ্যে বিরল নজির হিসেবে ধরা হচ্ছে।
কড়াইল বস্তিতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার ১০ মার্চ রাজধানীর কড়াইল বস্তি, সাততলা ও ভাষানটেকে নারী ও শিশুদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়ে নতুন মানবিক উদ্যোগের সূচনা করেন তিনি। এসময় প্রটোকল ভেঙে সরাসরি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের খোঁজখবর নেন, যা সমসাময়িক বিশ্বনেতাদের মধ্যে বিরল নজির হিসেবে ধরা হচ্ছে।
এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সরাসরি অর্থ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। প্রাথমিকভাবে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে প্রায় ৩৭,৫৬৭ জন মানুষ এই সুবিধা পাবেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পাইলট প্রকল্পের সফলতার পর জুনের মধ্যে এটি ধাপে ধাপে সারাদেশে সম্প্রসারিত হবে।
সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে সুবিধা পাবেন শুধুমাত্র হতদরিদ্র পরিবাররা, রাজনৈতিক পরিচয় নয়, এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে। ভবিষ্যতে দেশের ৯৫টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে এক সমন্বিত ডিজিটাল কাঠামোর মধ্যে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৭ বছরের আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর দেশ ফেরেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার দেশে ফেরার দিনই সাধারণ মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির এই বিজয়কে অনেকেই দেখছেন স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপ হিসেবে। নতুন সরকারের নেতৃত্বে দেশের মানুষের জন্য নতুন ধারা, নতুন সম্ভাবনা এবং প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে নতুন উদাহরণ স্থাপন করা শুরু হয়েছে।
নিরীক্ষকরা বলছেন, এই উদ্যোগগুলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে আরও সুদৃঢ় অবস্থানে নিয়ে যাবে এবং দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক দৃশ্যপটে এক নতুন অধ্যায় সূচনা করবে।
টয়লেট করতে টিম থেকে বিচ্ছিন্ন পুলিশ, অতঃপর…
নারায়ণগঞ্জে দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশের একজন সহকারী উপপরিদর্শক ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। সোমবার (৯ মার্চ) সকালে পৌনে ৬টার দিকে নগর ভবনের সামনে, নিতাইগঞ্জ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশের অতিরিক্ত সুপার তাসমিন আক্তার জানিয়েছেন, অন-ডিউটিতে থাকা লুৎফর রহমান টয়লেট ব্যবহারের জন্য টিম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। পথে তিনজন ছিনতাইকারী তাঁর মোটরসাইকেল আটকিয়ে সরকারি পিস্তলটি ছিনিয়ে নেন। ঘটনার সময় তিনি পুলিশের পোশাকে ছিলেন।
এ বিষয়ে তাসমিন আক্তার জানান, পুলিশ ইতোমধ্যেই ছিনতাই ও অস্ত্র লুটের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে এবং আইনের আওতায় আনার জন্য একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
সৌদি থেকে আনা হবে ২ বাংলাদেশির মরদেহ
সৌদি আরবে নিহত দুইজনের মরদেহ দেশটির কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে দেশে আনা হবে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। সোমবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এক ক্ষুদে বার্তায় এই তথ্য জানিয়েছে।
রবিবার বার্তাসংস্থা রয়টার্স সৌদির সিভিল ডিফেন্সের বরাতে জানিয়েছে, সৌদি আরবে ইরানের ছোড়া মিসাইলের আঘাতে এক বাংলাদেশি ও এক ভারতীয়সহ দুজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১২ জন। আহতদের সবাই বাংলাদেশি।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, সৌদির আল-কারজ শহরে রোববার এ হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি আবাসিক এলাকায় মিসাইল আছড়ে পড়ে।
৪৯ বছরেও আকর্ষণীয় থাকার রহস্য ফাঁস করলেন মৌ
নব্বই দশক থেকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে সাদিয়া ইসলাম মৌ। মডেলিং জগতে নিজেকে অনন্যা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। ১৯৮৯ সালে প্রথম মডেলিংয়ে পা রাখেন মৌ। একটি শ্যাম্পুর বিজ্ঞাপনের জন্য সে সময় তার সঙ্গে রেকর্ড ১ লাখ টাকা পারিশ্রমিকের চুক্তি করা হয়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত তিনিই বাংলাদেশের সর্বাধিক পারিশ্রমিক পাওয়া নারী মডেল। জনপ্রিয়তার দিক থেকেও এখন পর্যন্ত নারী মডেলদের মধ্যে তাকে কেউ ছাড়িয়ে যেতে পারেননি।
সেই সঙ্গে এদেশের অন্যতম জনপ্রিয় একজন নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী মৌ। অনেক বছর ধরে তার রূপ-লাবণ্যে মুগ্ধ হয়েছে টিভি পর্দার দর্শকেরা। তাকে অনুসরণ করে মডেলিংয়ে এসেছেন অনেক নায়িকা-অভিনেত্রী।
১৯৭৬ সালের ২১ জুন জন্মগ্রহণ করা এই তারকার বর্তমানে ৪৯ বছর ১১ মাস চলছে বয়স। তবু নিজেকে তিনি ধরে রেখেছেন ফিট, সুস্থ, প্রাণোচ্ছ্বাসে ভরপুর আকর্ষণীয় এক নারী হিসেবে। তার এই ফিট থাকার আসল রহস্য কী? সেই তথ্য ফাঁস করলেন নিজেই।
সাদিয়া ইসলাম মৌ বলেন, ‘আমার ছেলে হওয়ার পরে প্রচন্ড মোটা হয়ে গেছিলাম। তারপর আমি একজন নিউট্রিশনিস্টের তত্ত্বাবধানে ছিলাম। তার পরামর্শ মেনে নিজেকে সুস্থ রেখেছি, ওজন নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। তিনি ডক্টর শম্পা। উনি শমরিতা হাসপাতালে বসেন। উনার আন্ডারে আমি নয় মাস একটা ডায়েট করেছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ অনেক কথা বলে যে আমি ওষুধ খেয়েছি। পেট কেটেছি। এই সেই। আসলে এসব কিছুই করিনি। একটা নিউট্রিশনিস্টের আন্ডারে আমি ডায়েট করেছি নয় মাস। এবং ওই নয় মাসে আরেকটা জিনিস আমার কমন ছিল। সেটা হলো ৪০ মিনিট থেকে এক ঘন্টা হাঁটা। হাঁটার উপরে কোন এক্সারসাইজ নাই। হ্যাঁ, হাঁটলে মনটাও ভালো থাকবে দেখবেন। এক ঘন্টা হেঁটে বাড়ি ফিরে দেখবেন আপনার মনটা আসলে অন্যরকম হয়ে যাবে। অনেক ভালো লাগবে।’
এখন আর সেভাবে মডেলিং করেন না মৌ। তবে নৃত্যে এখনো সরব তিনি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্টেজে নৃত্য পরিবেশন করেন মৌ। তিনি কাজ করেন নাটকেও। তার অভিনীত নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘চিত্রাঙ্গদা’, ‘শ্যামা’, ‘মায়ার খেলা’, ‘চণ্ডালিকা’ ও ‘নকশীকাঁথার মাঠ’ ইত্যাদি। এছাড়াও তিনি অভিনয় করেছেন ‘অল দ্য বেস্ট’, ‘বদনাম’, ‘মনে পড়ে রুবি রায়’, ‘নীল আকাশ প্রেম বিষ’ ইত্যাদি টিভি নাটকে।
পেশাগতভাবে বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস (বাফা)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ব্যক্তি জীবনে নন্দিত অভিনেতা জাহিদ হাসানের স্ত্রী মৌ। পুষ্পিতা ও পূর্ণ নামে তাদের দুই সন্তান রয়েছে।
ইতিহাস গড়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারত
রীতিমতো ইতিহাস গড়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরল ভারত। একতরফা ফাইনালে ৯৬ রানের বিশাল জয়ের পথে নিউজিল্যান্ডকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছে সূর্যকুমার যাদবের দল। টি২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা দুটিসহ সর্বাধিক তিনটি শিরোপা জিতল মোড়ল দেশটি। রবিবার আহমেদাবাদের নরেদ্র মোদি স্টেডিয়াম ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। সাঞ্জু স্যামসন, অভিশেক শর্মা, ইশান কিষানদের ব্যাটিং তাণ্ডব গ্যালারিতে ঢেউ তোলেন। টানা তিন ম্যাচে অবিশ্বাস্য স্যামসন ৪৬ বলে করেছেন ৮৯ রান। ৫ চারের বিপরীতে ছক্কা হাঁকিয়েছেন ৮টি! ব্যাডপ্যাঁচ কাটিয়ে মোক্ষম সময়ে জ্বলে উঠেছেন অভিশেক। ২১ বলে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় ২৪৭.৬১ স্ট্রাইক রেটে খেলেছেন ৫২ রানের টর্নেডো ইনিংস! সঙ্গে ওয়ানডাউনে ইশান কিষানেরর ২৫ বলে ৪ চার ও ৪ ছক্কায় ৫৪। ২০ ওভারে ৫ উইকেটে সূর্যদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৫৫ রান। ফাইনালে যা সর্বোচ্চ দলীয় রানের নতুন রেকর্ড। জবাবে ১৯ ওভারে ১৫৯ রানে অলআউট মিচেল স্যান্টনারের নিউজিল্যান্ড যেন হারার আগে হেরে গেল। অসম্ভব লক্ষ্য তাড়ায় ন্যূনতম প্রতিরোধটুকু গড়তে পারেনি নিউজিল্যান্ড। টিম সেইফার্টের ফিফটি বাদ দিলে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে কিউই ব্যাটিং। ২৬ বলে ২ চার ও ৫ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৫২ রান করা ওপেনারকে ফিরিয়েছেন বরুন চক্রবর্তী। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অতিমানবীয় সেঞ্চরিতে দলকে ফাইনালে তোলা ফিন অ্যালেন আউট হন ৯ রান করে। রাঁচীন রবীন্দ্র ১, গ্লেন ফিলিপস ৫, মার্ক চাপম্যান ৩! অষ্টম ওভারে দলীয় ৭২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে হারের প্রহর গুনতে থাকে কিউইরা! শেষদিকে অধিনায়ক স্যান্টনারের ৩৫ বলে ৪৩ রানের ইনিংসটা কেবল হারের ব্যবধানই কিছুটা কমিয়েছে। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ। অক্ষর প্যাটেলের শিকার ৩টি। হার্দিক পান্ডিয়া ও বরুন চক্রবর্তী ১টি করে। এর আগেসেমিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যেখানে শেষ করেছিল টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ঠিক সেখান থেকেই এদিন শুরু করেন ভারতীয় ব্যাটাররা। রানের খাতা খেলে ছক্কা দিয়ে। ম্যাট হেনরির করা প্রথম ওভারের পঞ্চম বলটাকে উড়িয়ে সীমানা ছাড়া করেন স্যামসন। তাঁর ছক্কাটাই পুরো ইনিংসে ভারতের প্রতিচ্ছবি হয়ে থাকল। সেই শুরুর পর ইনিংসজুড়ে প্রতিপক্ষ বোলারদের শাসন করেছে ভারতীয় ব্যাটাররা। নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের লক্ষাধিক দর্শককে আনন্দে মাতিয়ে এদিন ইনিংসজুড়ে সমানতালে প্রতিপক্ষকের ওপর তাণ্ডব চালিয়ে গেছে ভারতীয়রা। স্যামসন, অভিষেকের শুরুর ঝড়ের পর নিউজিল্যান্ডের বোলারদের বেধড়ক পিটিয়েছেন ইশান কিষান; তিনজনই পেয়েছেন ফিফটির দেখা। ফিফটি না করলেও কম যাননি শিবম দুবে। সব মিলিয়ে ফাইনালে নিজেদের ইনিংসে স্বাগতিক দর্শকদের শতভাগ ক্রিকেটীয় বিনোদন দিয়েছে ভারতীয় ব্যাটাররা। ৭.১ ওভারে উদ্বোধনী জুটিতে ভারতকে ৯৮ রান এনে দেন দুই ওপেনার অভিষেক ও স্যামসন। ২১ বলে ৫২ রান করে অভিষেক টিম শেইফার্টের হাতে ধরা পড়লে এই জুটি ভাঙে। তাতে অবশ্য তাণ্ডব থামেনি ভারতের।
দ্বিতীয় উইকেটে কিষানকে নিয়ে ১০৫ রান যোগ করেন স্যামসন। ৪৬ বলে ৫ চার ও ৮ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৮৯ রানের ইনিংস উপহার দেন তিনি। সুপার এইটের শেষ ম্যাচে এবং সেমিফাইনালেও সেঞ্চুরির খুব কাছ থেকে ফিরেছেন স্যামসন। এবারও সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া হলো না তার। তবে দলের স্কোর বোর্ডে বিশাল রান এনে দেওয়ার পথে সবচেয়ে বড় অবদান রাখতে পারায় সেঞ্চুরির না পাওয়ার হতাশা ভুলে যাওয়ার কথা স্যামসনের। মাত্র ৪৩ বলে ৯৮ রান করেন দুই ভারতীয় ওপেনার। যে পথে স্যামসন-অভিশেক ঝড়ে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারেই আসে ৯২ রান। টি২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে পাওয়ার প্লেতে এটিই কোনো দলের সর্বোচ্চ রান। গত আসরে ব্রিজটাউনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এক উইকেট হারিয়ে ঠিক ৯২ রান করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একই সঙ্গে নকআউট ম্যাচে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডও গড়েছেন অভিষেক। মাত্র ১৯ বলেই তুলে নিয়েছেন অর্ধশতক, যা সেমিফাইনালে ফিন অ্যালেন ও জ্যাকব বেথেলের করা ১৯ বলের ফিফটির রেকর্ডের সঙ্গে সমান। স্যামসনের পিছুপিছু প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন কিষান। পান্ডিয়া (১৩ বলে ১৮ রান) ক্রিজে টিকলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল সূর্যকুমার (১ বলে ০)। শেষ দিকে সে প্রভাব টের পেতে দেননি দুবে। ৮ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৩ উইকেট নেন জেমস নিশাম। রান খরচে ঠিকই উদার ছিলেন; ৪ ওভারে ৪৬ রান দেন এই পেসার। রবীন্দ্র এবং হেনরির শিকার একটি করে উইকেট। এদিন বল হাতে সবচেয়ে বেশি রান বিলিয়েছেন হেনরি; ৪ ওভারে দেন ৪৯ রান। ৩ ওভার বল করা জ্যাকব ডাফির খরচ ৪২ রান।
২০০৭ সালে প্রথম বিশ্বকাপেই বাজিমাত করেছিল ভারত। জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৫ রানে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। ২০১৪ সালেও শিরোপা জয়ের সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু ফাইনালে উঠে শ্রীলঙ্কার কাছে হারতে হয়েছিল ৬ উইকেটে। এরপর টানা দশ বছর পর গেল বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে। কিন্তু এবার আর ভুল করেননি রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলির। ব্রিজটাউনের দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পায় ৭ রানের নাটকীয় জয়। দ্বিতীয় শিরোপায় স্পর্শ করে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেকর্ড। তিন শিরোপায় এবার ইতিহাস গড়ল সূর্যকুমার যাদবের দল। শুধু টানা দ্বিতীয় নয়, এর আগে নিজেদের মাটিতেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেন কোনো দেশ। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড ২০২১ সালে একবারই ফাইনালে উঠে হারে অস্ট্রেলিয়ার কাছে। এবারও হতাশ করল কিউইরা। স্বপ্ন তো পূরণ হলোই না বরং দুঃস্বপ্নের এই ম্যাচটা তারা নিশ্চয়ই ভুলে যেতে চাইবে!
কানে কম শুনছেন? এই ১০ লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হোন
চারপাশে সবাই কথা বলছে, কিন্তু আপনি ঠিকমতো বুঝতে পারছেন না। ভিড়ের মধ্যে বন্ধুর কথা শুনতে কষ্ট হচ্ছে, ফোনের ওপাশে কারও কথা যেন পানির নিচ থেকে ভেসে আসছে; এমন অভিজ্ঞতা কি আপনারও হচ্ছে?
অনেকেই এসব বিষয়কে তেমন গুরুত্ব দেন না। মনে করেন হয়তো সাময়িক সমস্যা, কিছুদিন পর ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কানে কম শোনার সমস্যা কখনোই অবহেলা করার মতো বিষয় নয়।
প্রতি বছর ৩ মার্চ সারা বিশ্বে পালিত হয় ‘বিশ্ব শ্রবণ দিবস’। এই দিনটি আমাদের কানের যত্ন ও শ্রবণশক্তি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার বার্তা দেয়। অনেকের ধারণা, কানে কম শোনা শুধু বয়স বাড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। বাস্তবে বিষয়টি ততটা সহজ নয়। আধুনিক জীবনযাত্রা, দীর্ঘ সময় হেডফোন ব্যবহার, অতিরিক্ত শব্দদূষণ এবং নানা শারীরিক সমস্যাও ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি কমিয়ে দিতে পারে।
সমস্যা হলো, কানে কম শোনার লক্ষণগুলো প্রথমদিকে খুব সূক্ষ্মভাবে ধরা দেয়। ফলে অনেকেই বিষয়টি বুঝতে পারেন না বা গুরুত্ব দেন না। অথচ কিছু সাধারণ লক্ষণ আছে, যেগুলো দেখা দিলেই সতর্ক হওয়া জরুরি।
নিচে এমনই ১০টি লক্ষণের কথা তুলে ধরা হলো—
অস্পষ্ট শব্দ: চারপাশের কথাবার্তা যদি আপনার কাছে ঝাপসা বা ঘষা কাঁচের আড়াল থেকে শোনা যাচ্ছে বলে মনে হয়, তবে বুঝতে হবে কানের পর্দা ঠিকমতো মস্তিষ্কে সিগন্যাল পাঠাতে পারছে না।
ভিড়ের মধ্যে অসুবিধা: রেস্তোরাঁ, অনুষ্ঠান বা উৎসবের ভিড়ে যখন অনেক মানুষ একসঙ্গে কথা বলেন, তখন যদি নির্দিষ্ট কারও কথা আলাদা করে বুঝতে সমস্যা হয়, তবে এটি কানে শোনার সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
বারবার প্রশ্ন করা: কথা বলার সময় যদি আপনাকে প্রায়ই ‘কী বললেন?’ বা ‘আরেকবার বলুন’ বলতে হয়, তাহলে আপনার শ্রবণশক্তি পরীক্ষা করার সময় এসেছে।
টিভির ভলিউম বাড়ানো: বাড়ির অন্যরা যেখানে স্বাভাবিক শব্দে টিভি দেখছেন, সেখানে আপনার যদি আরও বেশি আওয়াজের প্রয়োজন হয়, তাহলে এটিও কানে সমস্যার একটি ইঙ্গিত হতে পারে।
সামাজিক দূরত্ব তৈরি হওয়া: আপনি কি আড্ডা বা পারিবারিক জমায়েত এড়িয়ে চলতে শুরু করেছেন? অনেক সময় কানে কম শোনার সমস্যার কারণেই মানুষ এমনটা করতে শুরু করে।
কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ (টিনিটাস): নিস্তব্ধ পরিবেশেও যদি কানে একটানা বাঁশির মতো শব্দ, ভোঁ ভোঁ আওয়াজ বা ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকের মতো শব্দ শোনা যায়, তবে তা স্নায়ুজনিত সমস্যার সংকেত হতে পারে।
ব্যঞ্জনবর্ণ শুনতে সমস্যা: ‘স’, ‘ফ’ বা ‘ট’ ধরনের ব্যঞ্জনবর্ণ শুনতে যদি বেশি কষ্ট হয়, তাহলে বুঝতে হবে উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ শোনার ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
মানসিক ক্লান্তি: সারাদিন অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করতে গিয়ে কি দিন শেষে মাথা ধরে যায় বা অতিরিক্ত ক্লান্তি লাগে? মস্তিষ্ককে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হলে এমনটা হতে পারে।
অন্যের ওপর বিরক্তি: আপনার কি মনে হয় আশপাশের সবাই ঠিকভাবে কথা বলছে না বা বিড়বিড় করছে? অনেক সময় কানে শোনার সমস্যার কারণে এমন ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়, যা পারিবারিক অশান্তির কারণও হতে পারে।
প্রকৃতির শব্দ হারিয়ে যাওয়া: পাখির ডাক, ঘড়ির টিকটিক শব্দ বা হালকা পরিবেশের শব্দ যদি দীর্ঘদিন ধরে আপনার কানে না আসে, তাহলে বুঝতে হবে শ্রবণশক্তির পরিসর কমে যাচ্ছে।
এই ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে ছোট সমস্যা বড় জটিলতায় রূপ নিতে পারে।


