Home Blog Page 164

যানজটে স্ত্রী-সন্তানের পৌঁছাতে বিলম্ব, রামেক হিমঘরে শামস সুমনের মরদেহ

অভিনেতা শামস সুমনের মরদেহ রাজশাহী পৌঁছানোর পর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু তাঁর স্ত্রী-সন্তানেরা যানজটের কারণে রাজশাহী পৌঁছাতে পারেননি। তারা রাজশাহী আসার পর মরদেহ নগরের হেতেমখাঁ গোরস্তানে সমাহিত করা হবে। এর আগে বুধবার রাত ১১টায় লন্ডন থেকে ঢাকায় এসে পৌঁছান সুমনের স্ত্রী ফারজানা শামস লিজা, ছেলে জুবায়ের শামস শাহিল, জুবায়েদ শামস সাফিন ও মেয়ে সায়ান শামস। এরপর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের হিমঘর থেকে সুমনের মরদেহ নিয়ে রাজশাহীর পথে রওনা দেয় লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স। সকালে সুমনের লাশ রাজশাহী নগরের ঝাউতলা মিঠুর মোড় এলাকায় বাড়ি এসে পৌঁছে। এ সময় অনেক মানুষ তাঁর মরদেহ দেখতে ভিড় করেন।

পরে জোহরের নামাজের পর ঝাউতলা জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা হয়। এতে শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদুল ইসলাম, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অলীউল আলম, রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নেতা ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, আবুল কালাম আজাদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে শামস সুমনের মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজের হিমঘরে রাখা হয়।

শামস সুমনের ছোট ভাই সাংবাদিক রাশেদ ইবনে ওবায়েদ রিপন জানান, সুমনের স্ত্রী-সন্তানেরা ঢাকা থেকে রাজশাহী আসার পথে যমুনা সেতু এলাকায় যানজটে পড়েছেন। তাই তাদের আসতে বিলম্ব হচ্ছে । এ জন্য দাফনের সময়ের একটু পরিবর্তন করা হয়েছে। এশার নামাজের পর নগরের হেতেমখাঁ গোরস্তানে সুমনের মরদেহ দাফনের সময় ঠিক করেছেন তারা।

রাজশাহীতেই জন্ম তুখোড় অভিনেতা সুমনের। বেড়ে ওঠাও রাজশাহীতে। ভীষণ মেধাবী ছিলেন তিনি। ১৯৮২ সালে তিনি বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে রাজশাহীর গভ. ল্যাবরেটরি হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেন। ওই বছর তিনি মেধাতালিকায় রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে পঞ্চম স্থান অধিকার করেন।

এরপর ১৯৮৪ সালে বাণিজ্য বিভাগ থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন রাজশাহী কলেজ থেকে। পরে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিং বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

ছেলেবেলায় তিনি রাজশাহীতে বাংলাদেশ বেতারের অভিনয়শিল্পী ও আবৃত্তিশিল্পী হিসেবে সুনাম কুড়ান। তিনি রাজশাহী আবৃত্তি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংগঠন স্বননের সদস্যও। পড়াশোনা শেষ করে তিনি ঢাকায় পাড়ি দেন। প্রথম দিকে মঞ্চনাটক করতেন। পরবর্তীতে ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা হিসেবে তিনি আত্মপ্রকাশ করেন।

পরে বেশকিছু চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন। ২০০৮ সালে স্বপ্নপূরণ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ৬১ বছর বয়সে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। বুধবার চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

বলিউডে অভিষেকেই ট্রেন্ডিংয়ে ঢাকার নায়ক আরিফিন শুভ

বলিউডে বাংলাদেশের কোনো অভিনেতার কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাওয়ার নজির নেই—সেই শূন্যস্থানে আজ নিজের নাম লেখালেন আরিফিন শুভ।

সনি লিভের ওয়েব সিরিজ ‘জ্যাজ সিটি’তে লিড চরিত্রে বলিউডে অভিষেক হলো ঢাকার এই চিত্রনায়কের। আজ (১৯ মার্চ) সিরিজটি প্রকাশের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো এই যাত্রা।

সর্বমোট ১০ পর্বের, প্রায় ১১ ঘণ্টার এই সিরিজের পুরো গল্প আবর্তিত হয়েছে জিমি রয়কে কেন্দ্র করে, আর সেই চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ। এই সিরিজে শুভ ৪টি ভাষায় অভিনয় করেছেন—বাংলা, হিন্দি, উর্দু ও ইংরেজি। আজ (১৯ মার্চ) মুক্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সনি লিভে ট্রেডিংয়ে ২ নম্বরে অবস্থান করেছে আরিফিন শুভর এই সিরিজ। হিন্দি ও ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি এবারই প্রথম বাংলা ভাষায় মুক্তি পেয়েছে প্ল্যাটফর্মটির কোনো সিরিজ।

‘জ্যাজ সিটি’ পরিচালনা ছাড়াও গল্প ও চিত্রনাট্য করেছেন সৌমিক সেন, যিনি এর আগে আলোচিত ‘জুবিলি’ সিরিজের সহ-স্রষ্টা হিসেবে বলিউডে খ্যাতি পেয়েছেন। সিরিজে আরিফিন শুভর বিপরীতে দেখা যাবে সৌরসেনী মিত্রকে। এছাড়াও শান্তনু ঘটক, অনিরুদ্ধ গুপ্ত, সায়নদীপ সেন, শ্রেয়া ভট্টাচার্য, শতফ ফিগার, অ্যালেক্সান্দ্রা টেলর এবং অমিত সাহাসহ বলিউড ও টলিউডের আরও কয়েকজন পরিচিত মুখকে দেখা যাবে এই সিরিজে।

‘জ্যাজ সিটি’ নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও সত্তরের দশকের পটভূমিতে। সেই সময়ের সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা, মানুষের টানাপোড়েন এবং পরিবর্তনের গল্পই উঠে এসেছে সিরিজটিতে।

ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু

রাজধানীর উত্তরা দক্ষিণ মেট্রো স্টেশনের নিচে ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে মুক্তা আক্তার (২১) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর অবস্থায় স্বজনরা তাঁকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ জানায়, একটি প্রাইভেটকারে থাকা ছিনতাইকারী হঠাৎ টান দিলে রিকশা থেকে সড়কে পড়ে যান মুক্তা আক্তার, এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনার বিষয়ে তুরাগ থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, হাসপাতালে আনার সময়ই মুক্তা আক্তারের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। তাঁর মাথা ও কপালে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

জাতীয় ঈদগাহে থাকবে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা: ডিএমপি

পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনকে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানকে ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।

বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃক গৃহীত নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, বরাবরের মতো এবারও জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। এখানে একত্রে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি ঈদের জামাত আদায় করতে পারবেন। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মোট ০৫টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তন্মধ্যে প্রথম জামাত শুরু হবে সকাল ৭টায়। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের প্রধান জামাতটি বায়তুল মোকাররম মসজিদে সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া ঢাকা মহানগরীতে মোট ১২১টি ঈদগাহ এবং ১৫৯৯ টি মসজিদে মোট ১৭৭১ টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে আগের দিন রাজধানীতে তিনটি ঈদ জামাত ও শিয়া সম্প্রদায়ের আটটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

নিরাপত্তার ব্যবস্থা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় ঈদগাহ, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ ও ঢাকার অন্যান্য সকল স্থানে অনুষ্ঠিতব্য ঈদ জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সমন্বিত, সুদূঢ়, সুবিন্যস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের ঈদের জামাতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে। প্রবেশ গেইটসমূহে তল্লাশির জন্য আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর থাকবে। পুরো জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ আশপাশের এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত থাকবে। কন্ট্রোলরুম থেকে যা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। ঈদগাহ ময়দানে আসার প্রধান তিনটি রাস্তার প্রবেশ মুখে ব্যারিকেড থাকবে যেখানে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে। ঈদ জামাতের চারদিকে পিকেট ব্যবস্থা ও লাইনিং ব্যবস্থা থাকবে। মূল গেটে আর্চওয়ের মধ্য দিয়ে সকল মুসল্লিগণকে প্রবেশ করতে হবে। নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশ গেইট এবং পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, ঈদগাহ কেন্দ্রিক ঈদ জামাত উপলক্ষে নগরীর কিছু কিছু পয়েন্টে ডাইভারশন থাকবে; সে গুলো হলো-জিরো পয়েন্ট ক্রসিং, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, হাইকোর্ট ক্রসিং, প্রেসক্লাব লিংক রোড, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পিছনের গলি, ইউবিএল ক্রসিং, কন্ট্রোলরুম গ্যাপ ও মৎস্যভবন ক্রসিং।

ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, জাতীয় ঈদগাহে আগত সাধারণ মুসল্লিদের গাড়ি পার্কিং এর জন্য নির্দিষ্ট স্থান থাকবে; সে গুলো হলো- গণপূর্ত ভবনের আঙ্গিনায় বা অভ্যন্তরে সরকারি কর্মকর্তা ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকদের, আইইবি’র ভিতরে, জিরোপয়েন্ট ক্রসিং ও ইউবিএল ক্রসিং (মুক্তাঙ্গন) এর উভয় পার্শ্বে, দোয়েল চত্বরের দক্ষিণ-পশ্চিম-উত্তর পার্শ্বে, ফজলুল হক মুসলিম হল থেকে বঙ্গবাজার হকার্স মার্কেট ক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার উভয় পার্শ্বে, মৎস্যভবন ক্রসিং এর পূর্ব দিকে কার্পেট গলি রোড ক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার উভয় পার্শ্বে, মৎস্যভবন ক্রসিং হতে শাহবাগ ক্রসিং রাস্তার উভয় পার্শ্বে এক লাইনে থাকবে।

জাতীয় ঈদগাহে আগত মুসল্লিদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে তল্লাশিকাজে সহায়তা করুন। ঈদগাহ ময়দানে কোন প্রকার ব্যাগ, ধারাল বস্তু, দাহ্য পদার্থ নিয়ে আসবেন না। ঈদ জামাত শেষে তাড়াহুড়ো না করে সুশৃঙ্খলভাবে বের হবেন। সন্দেহজনক কিছু মনে হলে নিকটস্থ পুলিশ সদস্যকে জানাবেন। প্রয়োজনে ৯৯৯ বা ম্যাসেজ টু কমিশনার (০১৩২০-০১০১০১০, ০১৩২০-০২০২০২০) এ ফোন করবেন। যে কোন প্রয়োজনে পুলিশ কন্ট্রোলরুমে যোগাযোগ করবেন।

ঈদের আনন্দ হারিয়ে গেছে পুরো গ্রামে, অনিশ্চিত জীবনের মুখে পরিবার

মা ও নাবালক তিন বোন বাড়িতে অপেক্ষায় ছিলেন। বাবার সঙ্গে রাজধানী থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন সোহেল ফকির ও তার স্ত্রী। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাড়িতে পৌঁছাতেন। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চানপুরা ইউনিয়নের চরকাটা গ্রামের ফকির বাড়িতে থাকতো ঈদের আনন্দ। বুধবার বিকেলে ঢাকা সদরঘাটের দুর্ঘটনা শুধু ফকির বাড়িতে নয়, পুরো গ্রামেই ঈদের আনন্দ হারিয়ে গেছে। উপার্জনক্ষম দুইজনকে হারিয়ে সোহেলের পরিবার অনিশ্চিত জীবনের মুখে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সোহেলের নিথর দেহ বাড়িতে পৌঁছায়। বাবা মিরাজ ফকির এখনও বুড়িগঙ্গায় নিখোঁজ। রাজধানীর মির্ডফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সোহেলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রেশমা আক্তার। মা ও বোনসহ স্বজদের আহাজারিতে ওই বাড়িতে আসা অনেক গ্রামবাসী চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে সড়কপথে সোহেলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। দুর্ঘটনার খবর জানার পর বুধবার রাত থেকেই মৃধা বাড়িতে গ্রামাবাসীর ভিড় ছিল। মরদেহ পৌঁছার পর মা ও বোনসহ স্বজনদের আর্ত চিৎকারে উপস্থিত সকলে আবেগ আপ্লুত হন। জোহরের নামাজের পর গ্রামের নুর মোহম্মদ মৃধা বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্তানে সোহেলকে দাফন করা হয়।

তার চাচা ফারুক ফকির জানান, ভাই মিরাজ ফকির (সোহেলের বাবা) ১৫ থেকে ২০ বছর আগে ঢাকায় যান। সাভারের হেমায়েতপুরে একটি ট্যানারিতে শ্রমিকের কাজ করতেন। ৫ বছর আগে একমাত্র ছেলে সোহেলকেও নিয়ে যান। সে বাবার পেশায় যুক্ত হয়। বছর দুয়েক আগে সোহেল বিয়ে করে। স্ত্রী ও বাবাকে নিয়ে সাভারে ভাড়া বাসায় থাকতেন। বৃহস্পতিবার বোনাস পেলে ঈদ উদযাপনের জন্য তারা বাড়িতে রওনা হয়েছিলেন।

ফারুক ফকির জানান, সোহেলর মা নাবালক তিন মেয়ে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকেন। মিরাজ ও ভাতিজা সোহেল ছিল পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাদের অনুপস্থিতিতে মা ও তিন বোনের দেখার কেউ রইলো না। পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ফারুক ফকির।

প্রসঙ্গত, মিরাজ, সোহেল ও তার স্ত্রী মেহেন্দিগঞ্জ যাওযার জন্য বুধবার বিকাল ৫টার দিকে একটি ট্রলারে রাজধানীর সদরঘাটে পৌঁছান। ট্রলার থেকে তারা ‘আসা-যাওয়া’ নামক লঞ্চে উঠছিলেন। এ সময়ে জাকির সম্রাট-৩ নামের আরেকটি লঞ্চ চাপা দিলে সোহেল নিহত হন। তার বাবা মিরাজ বুড়িগঙ্গায় পড়ে নিঁখোজ এবং সোহেলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী গুরুতর আহত হন।

টাঙ্গাইলে ২০ কিলোমিটার যানজট-ধীরগতি

যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা এলাকায় উভয় দিকে প্রায় ২০ কিলোমিটারজুড়ে থেমে থেমে যানজট ও যানবাহনের ধীরগতি সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেতুর পশ্চিম প্রান্তে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকামুখী লেন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার পর স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তে যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ এ ব্যবস্থা নেয়। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ঢাকামুখী যানবাহন আটকে রাখা হয়। এ সময় ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলগামী দুটি লেন ব্যবহার করে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।

এদিকে পূর্ব প্রান্তের যানজটের প্রভাব সেতুর পশ্চিম প্রান্তেও পড়েছে। ঢাকামুখী লেন বন্ধ থাকায় পশ্চিম পাড়ের গোলচত্বর থেকে সয়দাবাদ মুলিবাড়ি হয়ে দীর্ঘ যানবাহনের সারি তৈরি হয়েছে। এতে ঢাকাগামী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

কড্ডা ট্রাফিক ফাঁড়ির ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন, “বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার পর থেকে ঢাকামুখী বাস চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে উভয় লেন দিয়ে উত্তরাঞ্চলের যানবাহন চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, “যানজট নিরসনে স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষকে (বিবিএ) অনুরোধ করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অধীনে যমুনা সেতুর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “ঢাকা থেকে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলগামী যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা প্রান্তে প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় যানজট ও ধীরগতি তৈরি হয়েছে। এ কারণে সেতুর পশ্চিম প্রান্তে ঢাকামুখী লেন সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে উভয় লেন দিয়ে উত্তরমুখী যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এটি যানজট নিরসনে সাময়িক ব্যবস্থা।”

এদিকে টাঙ্গাইল প্রতিনিধি আব্দুর রহিম জানান, টাঙ্গাইল অংশে চাপ কমাতে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকামুখী লেনটি প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়। পরে দুপুর দেড়টার পর সেতুর পূর্ব প্রান্তে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী এলাকা দিয়ে বিকল্প পথে দূরপাল্লার বাস ঢাকার দিকে বিকল্পভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয় বলে সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া প্রতিনিধি বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে দুইটার দিকে জানান, “মেয়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে জরুরি ঢাকায় যাচ্ছি। কিন্তু যমুনা সেতুর পশ্চিম প্রান্তে সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ মোড়ে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা হলো আটকে আছি। টাঙ্গাইলের যানবাহনের চাপ কমাতে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকামুখী লেনটি বন্ধ রাখা হয়েছে। উভয় লেন দিয়ে ঢাকা থেকে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলগামী যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত ময়মনসিংহের যুবকের মৃত্যু, নিহত বেড়ে ৩

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত বাংলাদেশি প্রবাসী আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মঙ্গলবার সৌদি আরবের স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টায় আল খারিজ শহরের সোলাইমান আল হাবিব হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

এ নিয়ে একই হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়ালো। নিহত মামুন ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ভরভরা গ্রামের শহীদ সওদাগরের ছেলে। তিনি এক সন্তানের বাবা।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৮ মার্চ ইফতারের আগ মুহূর্তে সৌদি আরবের আল খারিজ শহরের ‘আল তোয়াইক বলদিয়া’ কোম্পানির একটি শ্রমিক ক্যাম্পে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই দুই বাংলাদেশি নিহত হন এবং মামুনসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে মামুনের শরীরের প্রায় ৭২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। ১০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার রাতে তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার মরদেহ ওই হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে নিহতের বাবা শহীদ সওদাগর ছেলের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোক বিরাজ করছে।

মামুনের মামাতো ভাই শাওন মড়ল বলেন, ‘ভাইকে বাঁচাতে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। এখন আমাদের একটাই দাবি, সরকারের সহযোগিতায় যেন দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।’

এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই হামলায় নিহত অপর দুই বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত করেছিল। তারা হলেন— কিশোরগঞ্জের কটিয়াদির বাচ্চু মিয়া এবং টাঙ্গাইলের সখীপুরের মোশাররফ হোসেন। মামুনের মৃত্যুতে এই হামলায় প্রাণ হারানো বাংলাদেশির সংখ্যা এখন তিনজন।

ইসরায়েলে গুচ্ছ বোমা হামলা ইরানের, দুজন নিহত

ইসরায়েলের তেল আবিবে ক্লাস্টার ওয়ারহেড বা গুচ্ছ বোমা যুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটি বলছে, জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে এই হামলা চালানো হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার রাতে চালানো ওই হামলায় তেল আবিবের একটি আবাসিক এলাকায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। এলাকাটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনার কাছাকাছি অবস্থিত। চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলে নিহতের সংখ্যা ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে।

ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হামলায় খোররামশাহর-৪ ও কদর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। দুটি ক্ষেপণাস্ত্রই কয়েক স্তরের ওয়ারহেড (বিস্ফোরক যুক্ত অংশ) বহনে সক্ষম।

এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশে অনেকগুলো ছোট ছোট বিস্ফোরকে বিভক্ত হয়ে বিশাল এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ফলে এগুলো প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন। ইসরায়েলের অভিযোগ, ইরান বারবার ক্লাস্টার ওয়ারহেড ব্যবহার করছে।

এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে একটি প্রজেক্টাইল (ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলা) আঘাত হেনেছে। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) জানিয়েছে ইরান। আইএইএ-এর প্রধান রাফায়েল গ্রোসি পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে সংঘাতের সময় সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।

ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি রুখে দেওয়া। সে অভিযানেই দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতাসহ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

 

বগুড়ায় মাইক্রোবাস উল্টে নিহত ৩, কয়েকজন আশঙ্কাজনক

বগুড়ার শেরপুরে যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাস উল্টে তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ভবানীপুর ইউনিয়নের ছোনকা কলেজ রোড এলাকার ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় চারজনকে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে আরও একজন মারা যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলে

শেরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. বখতিয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। আহত চারজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের অবস্থা গুরুতর ছিল।

শেরপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মর্তুজা নূর বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারে ধাক্কা দেয়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহত ও আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে।

 

হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ঈদের সকাল শুরু হোক নবাবি সেমাই দিয়ে, জানুন রেসিপি

ঈদের সকাল শুরু হয় বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি খাবার মুখে দিয়ে। এবারের ঈদে প্রিয়জনদের জন্য বাসায় নবাবি সেমাই রান্না করুন। রেসিপি দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী সীমা পুষ্প। 

উপকরণ: সেমাই দেড় কাপ, ঘি ২ টেবিল চামচ, দুধ ১ লিটার, কনডেন্সড মিল্ক ১/২ কাপ, চিনি ২-৩ টেবিল চামচ, কাস্টার্ড পাউডার এক টেবিল চামচ, এলাচ গুঁড়া ১/৪ চা চামচ, কিশমিশ ২ টেবিল চামচ, কাজু বাদাম ২ টেবিল চামচ, পেস্তা বাদাম ১ টেবিল চামচ, মালাই বা ক্রিম ১/৪ কাপ।