Home Blog Page 165

১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

বিভিন্ন ভাতা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে লক্ষ্য নির্ধারণে ত্রুটি কমিয়ে সহায়তা কার্যক্রমকে সমন্বিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করছে সরকার। আগামী ১০ মার্চ এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথম ধাপে দেশের ১৩ জেলার একটি করে ওয়ার্ডে বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কর্মসূচির সুষ্ঠু বাস্তবায়নে উপজেলা থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি কমিটির প্রধান হিসেবে প্রথম শ্রেণির একজন সরকারি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে উপকারভোগী নির্বাচন ও তদারকি প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়।

এর আগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ফ্যামিলি কার্ড–সংক্রান্ত কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রাথমিকভাবে দুটি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা থাকলেও তা সম্প্রসারণ করে ১৩টি উপজেলার ১৩টি ওয়ার্ডে বাস্তবায়ন করা হবে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারকে সুসংগঠিতভাবে সহায়তা দিতে এই কার্ড ব্যবহার করা হবে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে, যা সার্বিক নীতিগত দিক তদারকি করবে।

উপকারভোগী নির্বাচনে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করা হলেও আয়সংক্রান্ত তথ্য সরাসরি না থাকায় নির্ধারিত ওয়ার্ডগুলোতে সরেজমিন যাচাই-বাছাই করে তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত—এই চার শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রথম ধাপে যে এলাকাগুলোতে কার্যক্রম শুরু হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বনানীর কড়াইল বস্তি, পাংশা, পতেঙ্গা, বাঞ্ছারামপুর, লামা, খালিশপুর, চরফ্যাশন, দিরাই, ভৈরব, বগুড়া সদর, লালপুর, ঠাকুরগাঁও ও নবাবগঞ্জ।

উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিগুলো পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে উপকারভোগীর তালিকা চূড়ান্ত করবে। অনুদানের অর্থ ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সরাসরি বিতরণ করা হবে। নীতিমালা অনুযায়ী নারীদের পরিবারপ্রধান হিসেবে কার্ড দেওয়া হবে। তিনি আলাদা ভাতা না পেলেও পরিবারের অন্যান্য সদস্য নির্ধারিত সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

অন্যতম চ্যালেঞ্জ সিন্ডিকেট দমন

একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করছে বিএনপি। সরকার গঠনের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে শপথ গ্রহণ করেন জনপ্রতিনিধিরা। এই শপথের মাধ্যমেই শুরু হয়েছে নতুন সরকারের যাত্রা। বিএনপি এমন একটি সময় দায়িত্ব নিয়েছে যখন মুসলিম জাহানের অতি পবিত্র মাস ‘মাহে রমজান’ আসা মাত্র। পবিত্র এই মাসটি এলেই দেখা দেয় নানা ধরনের খাদ্য সংকট। বেড়ে যায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের জন্য পীড়াদায়ক হয়ে দাঁড়ায়। তাই ঊর্ধ্বগতির এই বাজার নিয়ন্ত্রণ যে নতুন সরকারের প্রথম চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
পবিত্র এই মাসে ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনে ইবাদত বন্দেগিতে নিজেদের সমর্পণ করে। রোজা পালনে প্রায় ১২-১৪ ঘণ্টা অনাহারে কাটান। বৈজ্ঞানিক মতে, দীর্ঘ সময় অনাহারে কাটানোর ফলে শরীরে সৃষ্টি হয় পুষ্টিজনিত ঘাটতি। আর এই ঘাটতি মেটাতে প্রয়োজন পুষ্টিকর খাবার। পুষ্টির এই চাহিদা পূরণে মুসলিম বিশ্বের ব্যবসায়ীরা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে নানা রকম মূল্য-ছাড় দিয়ে থাকে। কিন্তু মুসলিম দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট একদমই আলাদা। পবিত্র এই মাসটিকে ঘিরে মুসলিমরা যেমন উৎসবে মুখরিত হয়ে থাকে, তেমনি বেড়ে যায় চাঁদাবাজ ও অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য। বাড়িয়ে দেওয়া হয় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। বিশেষ করে মাছ-মাংস থেকে শুরু করে চাল, ডাল, ডিম, আলু, তেল, চিনিসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ায় সিন্ডিকেট চক্র। রমজানে এমন ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার হারাবে। বঞ্চিত হবে আমিষসহ পুষ্টিজনিত খাবার থেকে। বিশ্লেষকদের মতে, রমজানে বাজার ঊর্ধ্বমুখী হলে বিশাল অঙ্কের একটি গোষ্ঠী পুষ্টিহীনতায় পড়তে পারে। ফলে দেখা দেয় নানা রকম অপুষ্টিজনিত রোগ।
গত রমজানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হস্তক্ষেপে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ফেরেনি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে। কয়েকবছর ধরে প্রতিটি পণ্যের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েই চলছে। লাগামহীন এসব পণ্য এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। যা তাদের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে কয়েকগুণ। এই মূল্য বৃদ্ধি যে ঈদের আগে চরম রূপ ধারণ করবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ, এ দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণ হয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের হাত ধরে। যাদের মূল লক্ষ্যই রমজানে অধিক মুনাফা অর্জন। তাই তারা অসৎ উপায় অবলম্বন করে। রমজান এলেই সকল ধরনের নিত্যপণ্য ও খাদ্যসামগ্রী মজুত করে ফেলে। মজুত কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখে। মানবসৃষ্ট এই কৃত্রিম খাদ্য সংকটের কারণে বাজারে চাহিদার চেয়ে যোগান হয় নিম্নমুখী। অর্থনীতির ভাষায়, ‘যোগানের চেয়ে চাহিদা বেশি হলে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়’। এটাকে পুঁজি করে খুচরা ব্যবসায়ীরা অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রি করে। আর এই খুচরা ব্যবসায়ীদের হাত ধরেই অর্থ যায় সিন্ডিকেটদের পকেটে।
অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের প্রেক্ষাপট একদমই আলাদা। পূর্ববর্তী সরকার রমজানকে ঘিরে নিজেদের পরিকল্পনা ও কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সময় পেলেও পাচ্ছে না নতুন সরকার। তারা এমন একটি সময় সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করতে চলেছে যখন রমজান শুরু। তাই বলা যেতে পারে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও প্রয়োজনের জন্য এখন সুযোগ থাকছে না তাদের হাতে। অন্যদিকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি, অগোছালো প্রশাসন, এবং চাঁদাবাজরা ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এত প্রতিকূলতার পরেও সরকারের থেমে থাকা চলবে না। যেহেতু তারা জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি, তাই জনগণের অসুবিধা লাঘব করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। রমজানে বাজারে স্বস্তি ফেরানোকে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে নিতে হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কয়েকটি টিম গঠন করে মাঠে নেমে পড়তে হবে। বিশেষ করে প্রশাসনকে জোর দিতে হবে সিন্ডিকেট ভাঙতে। বিশেষ ইন্টেলিজেন্স ফোর্সের মাধ্যমে চক্রগুলোকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। শুধু সিন্ডিকেটই নয়। মূল্যবৃদ্ধির পেছনে রয়েছে চাঁদাবাজ চক্র। যাদের কারণে পরিবহন খরচসহ ব্যবসায়ীদের অপ্রয়োজনীয় খরচ বেড়ে যায়, যা সরাসরি মূল্যে প্রভাব ফেলে। তাই শহর কেন্দ্রিক স্বেচ্ছাচারী সংগঠনগুলোকে দায়িত্ব দিতে হবে চাঁদাবাজদের রুখতে। তবেই সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে সফল হতে সক্ষম হবে।
পরিশেষে বলতে চাই, ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যবসা একটি মহৎ পেশা। হাশরের ময়দানে সাধু ব্যবসায়ীদের স্থান হবে শহীদদের সঙ্গে আর অসাধুদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। তাই আসুন, অসৎ উপায়ে অর্থ  উপার্জন না করে একটি ক্রেতা বান্ধব বাজার গড়ে তুলি। এবং নতুন সরকারকে তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করি।

অবশেষে শুরু হচ্ছে সংসদ, অধিবেশন ডাকলেন রাষ্ট্রপতি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আবারও শুরু হতে যাচ্ছে সংসদ অধিবেশন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে আগামী ১২ মার্চ থেকে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই অধিবেশন আহ্বান করেছেন। সংসদ সচিবালয়ের পরিচালক (গণসংযোগ) মো. এমাদুল হক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ আদেশ জারি করা হয়।

এতে বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ১২ মার্চ সকাল ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম (২০২৬ খ্রিস্টাব্দের প্রথম) অধিবেশন আহ্বান করেছেন।

সংসদীয় প্রথা ও আইন অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম দিনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই নির্বাচনের পরপরই নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের শুভ সূচনা হবে। অধিবেশনের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং আগামী দিনের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণ দেবেন।

রাষ্ট্রপতির এই ভাষণের পর সংসদ সদস্যরা আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর দীর্ঘ সাধারণ আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর!

২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা টানা ৫ দিনের ছুটি পেতে যাচ্ছেন। তবে সামান্য কৌশলী হয়ে মাত্র একদিনের বাড়তি ছুটি নিতে পারলেই এই অবকাশ টানা ৭ দিনে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ (শনিবার) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই হিসেবে সরকারিভাবে ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) থেকে ২৩ মার্চ (সোমবার) পর্যন্ত মোট ৫ দিন ঈদের ছুটি নির্ধারিত আছে।

ঈদের ছুটির ঠিক আগেই ১৭ মার্চ রয়েছে শবে কদরের নির্ধারিত ছুটি। মাঝে শুধু ১৮ মার্চ (বুধবার) একটি কর্মদিবস বাকি থাকে। কোনো সরকারি চাকরিজীবী যদি ওই একদিনের নৈমিত্তিক ছুটি ম্যানেজ করতে পারেন, তবে তিনি ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা ৭ দিনের ছুটি ভোগ করতে পারবেন।

ঈদের আমেজ কাটতে না কাটতেই ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) রয়েছে স্বাধীনতা দিবসের সাধারণ ছুটি। এর পরপরই ২৭ ও ২৮ মার্চ (শুক্রবার ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে কেউ যদি ঈদের ছুটির পর ২৪ ও ২৫ মার্চ—এই দুই দিন অতিরিক্ত ছুটি নিতে পারেন, তবে তিনি ১৭ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত টানা ১০ দিনের এক দীর্ঘ অবকাশ যাপন করার সুযোগ পাবেন।

এই সম্ভাব্য দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে এখনই পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে বুকিং এবং ঘরমুখী মানুষের মধ্যে ভ্রমণের পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। এবার ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন (বাজুস)। আজ সকাল ১০টা থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।

রোজায় কম লাভে পণ্য বিক্রির ঘোষণা কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের

রোজায় লেবু-তেল-চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশকিছু পণ্যের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) কারওরান বাজারের কিচেন মার্কেটে ইসলামিয়া শান্তি সমিতির আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলনে দাম কমানোর এ ঘোষণা দেন ব্যবসায়ীরা। রমজান মাস উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এ সময় ঢাকা-১২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সাইফুল আলম মিলন উপস্থিত ছিলেন। ব্যবসায়ীদের সংবাদ সম্মেলনে সম্মতি প্রকাশ করতেই তিনি এসেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতি পিস লেবু ২ টাকা, তেল প্রতি লিটারে ১ টাকা, চিনি প্রতি কেজি ১ টাকা, ছোলা ২ টাকা, ট্যাং ২০০ গ্রামের প্যাকেটে ৫ টাকা, গরুর মাংস প্রতি কেজি ৩০ টাকা ও মিনিকেট চালের দাম প্রতি কেজি ১ টাকা কমিয়ে বিক্রির ঘোষণা দেন ব্যবসায়ীরা।

এ সময় কারওয়ান বাজার পাকা মার্কেট আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সুজন বলেন, আমরা শ্রীমঙ্গল থেকে ১১ থেকে ১২ টাকা পিস লেবু কিনি। সেটা কারওয়ান বাজারে এনে ৫ ক্যাটাগরিতে আলাদা করে বিক্রি হয়। কিছু লেবু ৩-৪ টাকা বিক্রি হয়, আবার ভালো বড় লেবু দাম ১৭ টাকায়ও বিক্রি হয়। আমরা এখন থেকে প্রতি লেবুতে ২ টাকা কমিয়ে দেবো। অর্থাৎ যে লেবুর দাম ১৭ টাকা ছিল, সেটা ১৫ টাকায় বিক্রি হবে।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে সব তেল বিক্রেতার পক্ষে আখি ইন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আমরা ৫ লিটার তেল ৯২০ টাকা বিক্রি করি। গায়ের দাম আরও বেশি, ৯৫০ টাকা। এখন থেকে প্রতি ৫ লিটারে আরও ৫ টাকা ছাড় দেওয়া হবে।

কিচেন মার্কেটের সাংগঠনিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বলেন, চিনি প্রতি কেজি প্যাকেটের গায়ের দাম ১০৫ টাকা, যা ১০২ টাকায় আমরা কারওয়ান বাজারে বিক্রি করতাম, এখন থেকে ১০১ টাকা বিক্রি করবো।

ছোলার দাম প্রসঙ্গে কুমিল্লা স্টোরের কর্ণধার গোফরান বলেন, এতদিন আমরা ছোলা ৮০ টাকা কিনে ৮৫ টাকা কেজি বিক্রি করেছি, এখন লাভ ২ টাকা কমিয়ে ৮৩ টাকা বিক্রি করবো।

রমজানের প্রয়োজনীয় আরেক পণ্য ট্যাংয়ের দাম নিয়ে একজন ব্যবসায়ী বলেন, বাজারে ২ কেজি জার ট্যাং ১ হাজার ৯০০ টাকা এমআরপিতে বিক্রি হয়। আমাদের কারওয়ান বাজারে বিক্রি হতো ১ হাজার ৫৮০ টাকা। এখন ১ হাজার ৫৬০ টাকা বিক্রি হবে। ছোট পেপার বক্স ৩৮০ টাকা বিক্রি হবে, যা আগে ৩৮৫ টাকা ছিল।

মাংস ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এখন থেকে আমরা ৩০ টাকা কমে ৭৫০ টাকায় প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি করবো।

চাল ব্যবসায়ীরা বলেন, আগে মিনিকেট চাল প্রতি কেজি ২ টাকা লাভ করতাম, এখন ১ টাকা লাভে বিক্রি করবো। এখন থেকে মিনিকেট চাল ৮১ টাকা থেকে কমিয়ে ৮০ টাকা বিক্রি হবে।

এ সময় সাইফুল আলম মিলন বলেন, আমরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এ দাম কমিয়েছি। কারও ওপর চাপিয়ে দিতে চাইনি। রমজানের দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতা থেকে লাভের আংশ থেকে তারা এ ছাড় দিয়েছেন। আমি ব্যবসায়ীদের কনভিন্স করে দাম কমাবো। তাদের জোর-জবরদস্তি করে পায়ে ঠেলতে চাই না, বুকে ধরে দাম কমাতে চাই।

রাষ্ট্রপতিকে না জানিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করেছে অন্তর্বর্তী

অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রপতির অগোচরেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। দৈনিক কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকলেও বর্তমান সরকার তা লঙ্ঘন করেছে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সাম্প্রতিক চুক্তি সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। তিনি উল্লেখ করেন, চুক্তি ছোট হোক বা বড়, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাকে জানানো অপরিহার্য। পূর্ববর্তী সরকারপ্রধানরা সবসময় এই নিয়ম মেনে চললেও বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা সেই বাধ্যবাধকতা মানেননি।

সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত থেকে তাকে দূরে রাখা হয়েছে এবং প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তার কোনো সমন্বয় হয়নি। তিনি বলেন, “উনি যে প্রধান উপদেষ্টা হলেন, সেই প্রক্রিয়ার উৎসই ছিলাম আমি। কিন্তু পরে তিনি একবারের জন্যও আমার কাছে আসেননি বা সমন্বয় করেননি।”

রাষ্ট্রপতি আরও অভিযোগ করেন যে, তাকে অনেকটা ‘গৃহবন্দি’ পরিস্থিতির মতো রাখা হয়েছে। তার দুটি নির্ধারিত বিদেশ সফর আটকে দেওয়া হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের মতো রাষ্ট্রীয় প্রথাগত অনুষ্ঠানগুলোতেও তাকে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

প্রশাসনিক অসহযোগিতার চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, এক রাতের মধ্যে বিদেশের সব হাইকমিশন থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে, যা তিনি সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। এছাড়া রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং প্রত্যাহার এবং জাতীয় দিবসের ক্রোড়পত্রে তার ছবি ও বাণী প্রকাশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপতির এই বিস্ফোরক মন্তব্যে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

কেউ পুলিশের কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কেউ পুলিশের কাজে অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি পুলিশের কাজে অবৈধভাবে বাধা বা হস্তক্ষেপ করে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক হোক কিংবা সামাজিক, কেউ পুলিশের বৈধ কাজে বাধা দিতে পারবে না। পুলিশের কার্যক্রমও দেখা হবে যেন জনভোগান্তি না হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‌‘পুলিশ জনগণের বন্ধু— এ কথা আমরা মুখে বলি। তবে বাস্তবে সেই বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠা করতে আমরা কাজ শুরু করেছি। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে নানা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে পুলিশসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পুলিশি ব্যবস্থা ছাড়া সমাজ টিকবে? অতএব আমরা পুলিশকে সংস্কার করতে চাই এবং তাদের মনোবল বৃদ্ধির মাধ্যমেই সেই সংস্কার সম্ভব। আমরা সেই কাজটাই করছি।’

সালাহউদ্দিন বলেন, ফ্যাসিবাদী সময়ে শুধু পুলিশ নয়, এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড়াতে হচ্ছে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তীসময়ে জনগণের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করতে হবে। সেই মোটিভেশনাল ওয়ার্কটা আমরা করছি।

তিনি বলেন, আমি বিভিন্ন বিভাগে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবো, তাদের সাহস জোগাবো এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার দিকনির্দেশনা দেবো। পেছনের দিকে না তাকিয়ে সামনের দিকে লক্ষ্য রেখেই এগিয়ে যেতে চাই।

মানসিক চাপ মুক্তি

১। নেচে-গেয়ে মাতিয়ে দিন মনকে।
২। হাঁটতে বের হন
৩। মনে কোন কষ্ট থাকলে বন্ধুর কাছে প্রকাশ করে ফেলুন
৪। শ্বাস নিন গভীরভাবে
৫। তাড়তাড়ি ঘুমাতে যান।
৬। আপনি যে বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণক্ষম সেগুলোতে জোর দিন।
৭। ভালদিনের স্মৃতি রোমন্থন করুন।
৮। আলিঙ্গনে লিপ্ত হন।
৯। জীবনযুদ্ধ মোকাবিলার সহজ সুযোগ ও উপায়গুলো খুঁজুন।
১০। হাসুন। প্রাণ খুলে হাসুন।

স্পিকার পদে আলোচনায় তিনজন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ বসতে যাচ্ছে। ওই অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ক্ষমতাসীন দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় এই পদগুলোতে কাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে।

নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বিএনপি। নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। পাশাপাশি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০ জন। তবে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও সরকারদলীয় চিফ হুইপ পদ এখনো নির্ধারিত হয়নি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্পিকার পদে বিএনপির প্রবীণ তিন নেতার নাম ঘুরেফিরে আলোচনায় আসছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নাম। নরসিংদী-২ আসন থেকে পাঁচবারের নির্বাচিত এই সংসদ-সদস্যকে ‘ক্লিন ইমেজের’ নেতা হিসেবে দেখা হয়।

এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের নামও আলোচনায় রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি তিনি এবার বরিশাল-৩ আসন থেকে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সাংবিধানিক ও নির্বাচনী আইন বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা স্পিকার পদের জন্য তাকে এগিয়ে রাখছে বলে মত রয়েছে।

আরেক সম্ভাব্য নাম সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও অর্থনীতিবিদ ড. এম ওসমান ফারুক। কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের এই সংসদ-সদস্য দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করেছেন। প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী অভিজ্ঞতার কারণে তাকেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ডেপুটি স্পিকার পদে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ-সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, ভোলা-১ আসনের ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এবং নোয়াখালী-১ আসনের ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনের নাম শোনা যাচ্ছে। তিনজনই দলের ভেতরে সক্রিয় ও পরিচিত মুখ। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি, দলীয় প্রধানের বিবেচনাই এখানে প্রধান ভূমিকা রাখবে বলে জানা গেছে।

সরকারদলীয় চিফ হুইপ পদে নোয়াখালী-২ আসনের জয়নুল আবদিন ফারুক ও নোয়াখালী-৩ আসনের বরকত উল্লাহ বুলুর নাম আলোচনায় রয়েছে। জয়নুল আবদিন ফারুক ছয়বারের সংসদ-সদস্য এবং অতীতে বিরোধী দলের চিফ হুইপ ছিলেন। অন্যদিকে পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ-সদস্য বরকত উল্লাহ বুলুও অতীতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।