Home Blog Page 166

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে অফিস করলেন

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সোমবার সকালে (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) প্রথমবারের মতো ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে অফিস করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টায় তাঁর অফিসে পৌঁছেন। এসময় সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তিন বাহিনীর প্রধানগণ স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী প্রধানগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান এবং মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ চৌধুরীকে ‘র‌্যাঙ্ক ব্যাজ’ পরিয়ে দেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন– প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলাম, পিএসসি, জি (অব.), সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, প্রতিরক্ষা সচিব মোঃ আশরাফ উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মোঃ মেহেদুল ইসলাম প্রমুখ।

সাকিবকে ফেরাতে সক্রিয় বিসিবি

কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে দেশে ফেরাতে সক্রিয় হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ খেলবে টাইগাররা। আসন্ন সিরিজে তাকে দেখার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর বলেন, ‘সাকিবের সঙ্গে আমার নিয়মিত কথা হয়। সবশেষ যখন আমি আমেরিকায় গিয়েছিলাম সেখানেও কথা হয়েছে। সাকিব বলেছে সে খেলতে চায়। এরপর বোর্ড পরিচালকদের সবার সম্মতিক্রমে আমরা সাকিবকে বাংলাদেশ দলে চেয়েছি।’
সাকিবের বিরুদ্ধে পুরোনো মামলা ও আইনি বিষয় নিয়ে আসিফ বলেন, ‘পরে সাকিবের মামলা বা অন্যান্য যা রয়েছে সেগুলো নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছি। সেগুলো নিয়ে তার আইনজীবী যোগাযোগ করেছে বিসিবির সঙ্গে। আমরা খুব দ্রুততম সময়ে খুব সম্ভবত রবিবার-সোমবারে কেসের ফাইলগুলো পৌঁছে দেব এবং পরবর্তী দায়িত্ব সরকারের। আশা করছি সোমবারের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর মাধ্যমে সরকারের কাছে পৌঁছে দেব সাকিবের কেসের ফাইলগুলো।’
বিসিবির সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ বলেন, ‘সাকিব ক্রিকেটার কি না এটা নতুন করে বলার কিছু নেই। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটগুলোতে খেলছে সে, সেখানে কিছু কিছু পারফরম্যান্স অত্যন্ত চমৎকার।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সকাল ১১টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই পক্ষ দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জনশক্তি রপ্তানি এবং জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে।

সৌদি রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের নতুন সরকারের সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এর আগে সকাল ৯টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে আসেন, যেখানে মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার তাকে স্বাগত জানান।

অচিরেই শুটিংয়ে ফিরছেন না তানিয়া

অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি ডাক্তারদের ৭২ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরতে পেরেছেন। ৫দিন আগে প্রায় চার ঘণ্টার সফল অপারেশনে ব্রেন টিউমার অপসারণ করা হয় তার। গণমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্মাতা সকাল আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর চিকিৎসকরা তানিয়াকে পর্যবেক্ষণে রাখেন। এখন তিনি আগের চেয়ে অনেকটা স্থিতিশীল এবং ধীরে ধীরে সুস্থতার দিকে এগোচ্ছেন।’

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সফল অস্ত্রোপচারের পর ৭২ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে ধীরে ধীরে অভিনেত্রীর শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে এগোতে থাকে।

গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) চিকিৎসকরা তাকে ছাড়পত্র দেন। বর্তমানে বাড়িতে অবস্থান করছেন তানিয়া বৃষ্টি। আরও জানা যায়, বাড়ি ফিরলেও কিছু দিন বিশ্রামে থাকতে হবে তানিয়াকে।

পাশাপাশি মেনে চলতে হবে চিকিৎসকের দেওয়া প্রয়োজনীয় পরামর্শ। অভিনেত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো ধরনের শুটিং বা নতুন কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন না। এই সময়ে পেশাগত কোনো প্রয়োজনে তার সঙ্গে যোগাযোগ না করার জন্য নির্মাতা ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এবং শারীরিক সক্ষমতা ফিরে পেলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম শেষে আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়াবেন এই দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী।

ব্রেন টিউমার অপারেশনের জন্য গেল শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি হন তানিয়া বৃষ্টি। সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পোস্টে অসুস্থতার বিষয়টি জানান। ১৫ ফেব্রুয়ারি তার মাথায় চিকিৎসকরা সফল অস্ত্রোপচার করেন।

ছোট পর্দায় নিয়মিত অভিনয় করে দর্শকের পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তানিয়া বৃষ্টি। ২০১৫ সালে ‘ঘাসফুল’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখেন। ২০১৯ সালে ‘গোয়েন্দাগিরি’ সিনেমায় তাকে দেখা যায়। এরপর আর অভিনেত্রীকে বড়পর্দায় দেখা যায়নি। তবে দীর্ঘ বিরতি ভেঙে রায়হান খানের পরিচালনায় ‘ট্রাইব্যুনাল’ সিনেমার মাধ্যমে আবারও বড় পর্দার অভিনয়ে ফিরছেন তানিয়া বৃষ্টি।

স্যালাইন, ইনজেকশন নিলে কি রোজা নষ্ট হবে?

আত্মসংযম ও তাকওয়া অর্জনের মাস রমজান। সুবহে সাদিক থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকার এ সাধনায় কখনও কখনও অসুস্থতা বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়। হঠাৎ শারীরিক দুর্বলতা, ডিহাইড্রেশন বা অন্যান্য জটিলতায় চিকিৎসকের পরামর্শে স্যালাইন, ভিটামিন ইনজেকশন কিংবা শিরায় ওষুধ নিতে হতে পারে অনেকের।

এক্ষেত্রে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে এ ধরনের চিকিৎসা গ্রহণ করলে কি রোজা ভেঙে যাবে? শরিয়তের দৃষ্টিতে এর সঠিক বিধান কী?

রোজা ভঙ্গের মূলনীতি
ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, সাধারণত মুখ বা নাক দিয়ে খাদ্য, পানীয় বা পুষ্টিদায়ক কোনো বস্তু পাকস্থলীতে প্রবেশ করলে রোজা ভঙ্গ হয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে নতুন নতুন পদ্ধতি চালু হওয়ায় এ বিষয়ে ফিকহবিদদের বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।

ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির আলেমদের মতে, রোজা ভঙ্গের অন্তর্ভুক্ত হলো ইচ্ছাকৃত পানাহার এবং যা কিছু পানাহারের বিকল্প। অর্থাৎ যে কোনো খাদ্য বা পানীয় পেটে প্রবেশ করলে রোজা ভেঙে যায় তা মুখ দিয়ে হোক বা নাকের নল (টিউব) মাধ্যমে হোক। একইভাবে খাদ্যের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত পুষ্টিদায়ক ইনজেকশনও রোজা ভঙ্গকারী। (ফাতওয়াল লাজনা আদ-দায়িমা, ৯/১৭৮)

শাইখ উছাইমীন (রহঃ) বলেন, রোজা ভঙ্গকারী বিষয়গুলোর মধ্যে খাওয়া ও পান করা অন্তর্ভুক্ত খাদ্য বা পানীয় যে ধরনেরই হোক না কেন। তাঁর মতে, যে ইনজেকশন শরীরে পুষ্টি যোগায় বা খাবারের মাধ্যমে যে শক্তি পাওয়া যায় তার বিকল্প হিসেবে কাজ করে, সেগুলোও খাওয়া-পান করার অন্তর্ভুক্ত; তাই এ ধরনের ইনজেকশন রোজা ভঙ্গ করবে। (মাজমুউ ফাতাওয়া ও রাসায়িলিল উছাইমীন, ১৯/২১)

তিনি আরও বলেন, আলেমগণ রোজা ভঙ্গকারী বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত করেছেন কেবল সেসব বিষয়কে, যা পানাহারের বিকল্প হিসেবে কাজ করে যেমন পুষ্টিদায়ক ইনজেকশন। তবে যে ইনজেকশন শুধু শরীর চাঙ্গা করা বা রোগ নিরাময়ের জন্য দেওয়া হয় এবং খাদ্য–পানীয়ের বিকল্প নয়, তা রোজা ভঙ্গ করবে না। ইনজেকশন রগে, পেশীতে বা শরীরের অন্য যেকোনো স্থানে দেওয়া হোক যদি তা পানাহারের স্থলাভিষিক্ত না হয়, তাহলে রোজা নষ্ট হবে না। (মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসায়িলিল উছাইমীন, ১৯/১৯৯)।

কিছু কিছু রোগীকে রগ দিয়ে যে স্যালাইন পুশ করা হয় এটি রোজা ভঙ্গ করবে। কেননা এটি খাদ্য দ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত। (কারণ এর মধ্যে লবণ ও তরল রয়েছে), যা পেটে প্রবেশ করবে এবং এর দ্বারা শরীর উপকৃত হবে।

ভিটামিন ইনজেকশন ও রগে পুশ করা ইনজেকশন
যদি এ সব ইনজেকশন শরীরকে চাঙ্গা করার জন্য, ব্যথ্যা দূর করার জন্য, কিংবা লাঘব করার জন্য, জ্বর কমানোর জন্য গ্রহণ করা হয় এবং এটি পুষ্টিগুণ সম্পন্ন না হয় তাহলে এসব ইনজেকশনের কারণে রোজা ভঙ্গ হবে না। পক্ষান্তরে, যদি পুষ্টিগুণ সম্পন্ন হয় তাহলে এটি রোজা নষ্ট করবে। কারণ এটি খাবার ও পানীয়ের স্থলাভিষিক্ত; তাই এটাকে খাবার ও পানীয়ের হুকুম দেয়া হবে।

ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির মতে, রমজানে রোযাদার ব্যক্তি চিকিৎসার প্রয়োজনে দিনের বেলায় পেশীতে (আইএম) ইনজেকশন নিতে পারেন; এতে রোজা নষ্ট হয় না। তবে খাদ্য বা পুষ্টিদায়ক ইনজেকশন গ্রহণ করা বৈধ নয়, কারণ তা খাবার-দাবারের বিকল্প হিসেবে কাজ করে এবং রোজা ভঙ্গের শামিল। সম্ভব হলে পেশী বা রগে ইনজেকশন রাতের বেলায় নেওয়াই উত্তম। (ফতোয়াসমগ্র, ১০/২৫২)

সাপোজিটরিতে রোযা ভাঙে কী?
সাপোজিটরিতে রোজা ভাঙে না। কারণ এটি চিকিৎসার জন্য গ্রহণ করা হয়। এটি খাবার ও পানীয় এর মধ্যে পড়ে না। শাইখ উছাইমীন (রহঃ) বলেন, রোযাদার ব্যক্তি অসুস্থ হলে গুহ্যদ্বার দিয়ে প্রবেশকৃত সাপোজিটরি ব্যবহারে কোন গুনাহ্‌ নেই। কেননা এটি পানাহার নয় এবং পানাহারের স্থলাভিষিক্তও নয়। শরিয়ত প্রণেতা আমাদের ওপর শুধু পানাহার করা হারাম করেছেন। অতএব, যা কিছু পানাহারের স্থলাভিষিক্ত সেটাকে পানাহারের হুকুম দেয়া হবে। আর যা কিছু এরকম নয় সেগুলো শব্দগত কিংবা অর্থগতভাবে পানাহারের অধীনে পড়বে না। (ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব)

মাতৃভাষা দিবসের স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিনি এই ডাকটিকিট উন্মোচন করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এদিনই প্রথমবারের মতো তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে অফিস শুরু করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মদিবসের শুরুতে তিনি একটি স্বর্ণচাঁপা গাছের চারা রোপণ করেন। এর আগে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে তিনি তেজগাঁও কার্যালয়ে পৌঁছান। সেখানে তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

কার্যালয়ের মূল ভবনে প্রবেশের আগে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন। অনেককে নাম ধরে ডেকে কাছে টেনে নেন তিনি। দেশের প্রধানমন্ত্রীকে এত কাছ থেকে পেয়ে উপস্থিত অনেক কর্মচারীই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি ক্রমেই বাড়ছে

দেশের অর্থনীতিতে পণ্য বাণিজ্যের ঘাটতি ক্রমেই গভীর হচ্ছে। একদিকে রপ্তানি আয় প্রত্যাশিত হারে না বাড়লেও অন্যদিকে আমদানির ব্যয় দ্রুতগতিতে ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় এই চাপ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে বাড়তি ব্যয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বৃদ্ধি-সব মিলিয়ে অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগের ছায়া ফেলেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য (বিওপি) সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৫৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ৯৭৬ কোটি (৯.৭৬ বিলিয়ন) ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ১৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রমজান মাস সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি বাড়ায় সাময়িকভাবে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই ধারাবাহিক ঘাটতি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বিনিময় হার এবং সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ৩ হাজার ৩৬৮ কোটি (৩৩.৬৮ বিলিয়ন) ডলারের বিভিন্ন পণ্য আমদানি করা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আমদানির পরিমাণ ছিল ৩২ বিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে, আলোচ্য সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ২ হাজার ২১২ কোটি (২২.১২ বিলিয়ন) ডলার, যা গত অর্থবছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কম। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ২ হাজার ২৩২ কোটি (২২.৩২ বিলিয়ন) ডলার। আমদানি ও রপ্তানির এই ব্যবধানই মূলত বাণিজ্য ঘাটতিকে উসকে দিয়েছে।
বর্তমানে দেশের চলতি হিসাবের ভারসাম্য (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স) সামান্য ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে। ডিসেম্বর শেষে এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৫২ কোটি ডলার। সাধারণত চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকলে দেশকে নিয়মিত লেনদেনের জন্য ঋণ করতে হয় না।
সামগ্রিক লেনদেনে (ওভারঅল ব্যালেন্স) বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ডিসেম্বর শেষে সামগ্রিক লেনদেনের উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ১৯৪ কোটি ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এই সূচকে ৪৬ কোটি ডলারের ঘাটতি ছিল। অর্থনীতির অন্যতম স্বস্তির জায়গা হলো রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে প্রবাসীরা ১ হাজার ৬২৬ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি।
একই সময়ে দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বেড়েছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে এফডিআই ছিল ৫৫ কোটি ডলার, যা চলতি অর্থবছরের একই সময়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ কোটি ডলারে। তবে পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ (পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট) নেতিবাচক ধারায় রয়েছে। অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ১০ কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ চলে গেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ঋণাত্মক ৫ কোটি ডলার।

কোথায় আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস?

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাতেই অবস্থান করছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী আরও তিন মাস যমুনায় থাকার সুযোগ থাকলেও সেটি ছেড়ে দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) যমুনা পরিদর্শন করেছে।

অধ্যাপক ইউনূসের ঘনিষ্ঠজনরা গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, যমুনায় তিনি পরিবারকে সময় দিচ্ছেন এবং সাজাচ্ছেন ভবিষ্যতের পরিকল্পনাও। মাস খানেক বা ঈদের পর তিনি গুলশানের নিজ বাসভবনে ফিরে  যাবেন, তবে এখনও দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি।

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথের পর থেকেই তিনি যমুনায় বসবাস করছেন।

ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠ এক সহযোগী গণমাধ্যমে জানান, ইউনূস সেন্টারে ফেরার প্রস্তুতি হিসেবে নথিপত্র ও সাংগঠনিক কাজ করছেন। পাশাপাশি তিনি পরিবারের সদস্যদের বিশেষ করে অসুস্থ স্ত্রীকে সময় দিচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অধ্যাপক ইউনূসের দীর্ঘদিনের ‘থ্রি জিরো’ ভিশন বা শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণের ধারণার ওপর ভিত্তি করেই নতুন উদ্যোগগুলো নেওয়া হতে পারে, তবে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি ঠিক হয়নি।

বিদেশ থেকেও সফরের জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে তাকে সহায়তা করছেন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সাবেক প্রধান সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ। কোথায় তিনি সশরীরে যাবেন আর কোথায় ভার্চুয়ালি বক্তৃতা দেবেন সে ব্যাপারেও কাজ করছেন তিনি।

আগামী মাসে পাঁচ দিনের সফরে জাপানে যাওয়ার কথা রয়েছে ড. ইউনূসের। সফরের বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তার এক সহযোগী।

জামায়াতের নারী এমপি কারা হচ্ছেন?

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সংসদ নির্বাচনে ৬৮টি আসনে জয়লাভের পর এবার সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী নির্বাচনে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে ।

বর্তমান সংসদীয় কাঠামো অনুযায়ী ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে জামায়াত ১১ থেকে ১২টি আসন পেতে যাচ্ছে। এই আসনগুলোতে কাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ইতিমধ্যে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

দলীয় সূত্র অনুযায়ী, সংরক্ষিত আসনে শীর্ষ অগ্রাধিকার পেতে পারেন আমিরের স্ত্রী আমেনা বেগম, যিনি আগেও সংসদে জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সম্ভাব্য তালিকায় আরও রয়েছেন নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের স্ত্রী হাবিবা রহমান এবং কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দের স্ত্রী। শীর্ষ নেতাদের স্ত্রীদের পাশাপাশি দলের দক্ষ নারী নেত্রীদের নামও আলোচনায় রয়েছে।

সাংগঠনিক নেত্রীদের মধ্যে মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দীকা, কেন্দ্রীয় নেত্রী ফাতেমা আক্তার হ্যাপি এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি আয়েশা সিদ্দিকা পারভীনের নাম শোনা যাচ্ছে। তালিকায় আরও রয়েছেন সাবেকুন্নাহার এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক মারদিয়া মমতাজ। জামায়াতের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, যোগ্য নারী নেত্রীদের পাশাপাশি যেসব এলাকা থেকে দলটির কোনো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হননি, সেসব অঞ্চলের নেতৃত্বদানে সক্ষম নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।

মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি প্রাথমিক তালিকা ইতিমধ্যে দলের আমিরের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি এটি কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে উপস্থাপন করবেন এবং সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে যোগ্যতার পাশাপাশি ভৌগোলিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এদিকে সংরক্ষিত আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার পরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করার একটি প্রস্তাব রয়েছে। যদি আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তবে জামায়াত ২৪টি আসন পেতে পারে, যা দলটির প্রার্থী নির্বাচনের পরিকল্পনাকে আরও বিস্তৃত করবে। তবে বর্তমান কাঠামো বজায় থাকলে প্রাপ্ত ১১-১২টি আসনের ভিত্তিতেই তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

এবার জামায়াত আমিরের স্ট্যাটাস ভাইরাল

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে দেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনায় চলে এসেছে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানটি। এবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও একই সুরেই একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনিও বলেছেন ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’।

রোববার ভোর ৬টা নাগাদ নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ডা. শফিকুর রহমান একটি পোস্ট দেন। নাতিদীর্ঘ সেই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আগামীর বাংলাদেশ ইনসাফের বাংলাদেশ। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।’

পোস্টটি কিছুক্ষণের মধ্যেই ভাইরাল হয়। ৪ ঘণ্টায় রিঅ্যাকশন পড়েছে ২.২৫ লাখ। মন্তব্য পড়েছে প্রায় ২৬ হাজারেরও বেশি। পোস্টটি শেয়ার হয়েছে অন্তত ৩.২ হাজার বার।

গতকাল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর এক বক্তব্যের জেরেই এমন পোস্টটি দিয়েছেন জামায়াত আমির। বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘বাংলাকে যদি ধারণ করতে হয়, বাংলা ভাষাকে যদি মায়ের ভাষা বলতে হয়, তাহলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না। ইনকিলাব জিন্দাবাদ, ইনকিলাব মঞ্চ—এগুলোর সঙ্গে বাংলার কোনো সম্পর্ক নেই।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘এগুলো বললে আমাকে ভারতের দালাল বানিয়ে ফেলবে, তারপরও আমি বলব। কারণ, আমার জীবন আছে বলেই আমি মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছি এবং আমি মন্ত্রী হয়েছি।’

মন্ত্রীর সে বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা সৃষ্টি হয়। একই সুরে এর আগে পোস্ট করেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম। এরপর এবার জামায়াত আমিরও এই মর্মে স্ট্যাটাস দিলেন।