Home Blog Page 167

ফেসবুকে কেন ট্রেন্ডিং ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’?

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রাজপথ কাঁপানো স্লোগান ছিল ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’। দীর্ঘ সময় পর আবারও ফেসবুকে এই শব্দবন্ধটি ব্যাপকভাবে ট্রেন্ডিং হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক নেতা, ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ নেটিজেনদের ওয়ালে ওয়ালে এখন ঘুরছে এই স্লোগান। হঠাৎ এই ট্রেন্ডের মূলে রয়েছে ভাষা ও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে তৈরি হওয়া একটি সাম্প্রতিক বিতর্ক।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সিরাজগঞ্জে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এই স্লোগান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাকে যদি ধারণ করতে হয়, বাংলাকে যদি আমার মায়ের ভাষা বলতে হয় তাহলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না। ইনকিলাব আমাদের ভাষা না।’ তার এই বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ ও সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ফেসবুকে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে এবং শুরু হয় নতুন বিতর্ক।

‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানটি মূলত ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের এক কালজয়ী গর্জন। প্রখ্যাত ভারতীয় ইতিহাসবিদ ইরফান হাবিবের মতে, ১৯২১ সালে উর্দু কবি ও কমিউনিস্ট নেতা মাওলানা হাসরাত মোহানি (১৮৭৫-১৯৫১) প্রথম এই স্লোগানটি ব্যবহার করেন। হাসরাত মোহানি ছিলেন একাধারে শ্রমিক নেতা এবং ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তিনি উত্তর প্রদেশের উন্নাও জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এবং কবি হিসেবে ‘হাসরাত’ ছদ্মনামে পরিচিত ছিলেন।

মাওলানা হাসরাত মোহানি স্লোগানটি তৈরি করলেও এটিকে রাজপথে জনপ্রিয় করে তোলেন বিপ্লবী নেতা ভগত সিং। ১৯২৯ সালে দিল্লির কেন্দ্রীয় আইনসভায় বোমা নিক্ষেপের সময় তিনি এই স্লোগান দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আদালতে দেওয়া এক জবানবন্দিতে ভগত সিং বলেছিলেন, ‘ইনকিলাব বা বিপ্লব মানে কেবল বোমা বা পিস্তলের সংস্কৃতি নয়। আমাদের বিপ্লবের অর্থ হলো—অন্যায় ও শোষণের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা বর্তমান পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ বদলে দেওয়া।’

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম এই স্লোগানের অর্থ ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন, ‘ইনকিলাব’ শব্দের অর্থ বিপ্লব এবং ‘জিন্দাবাদ’ অর্থ অভিনন্দন জানানো বা দীর্ঘজীবী হওয়া। অর্থাৎ এর সামগ্রিক অর্থ দাঁড়ায় ‘বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক’ বা ‘বিপ্লবকে অভিনন্দন’। মূলত সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক হিসেবেই এটি ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে।

মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বক্তব্যের পর এক পক্ষ মনে করছে, বাংলা ভাষার বিশুদ্ধতা রক্ষায় বিদেশি শব্দের স্লোগান পরিহার করা উচিত। তবে বড় একটি অংশ দাবি করছে, বিপ্লবের কোনো ভাষা হয় না। তাদের মতে, কোনো শব্দ বা স্লোগান যখন লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাসে মিশে যায়, তখন সেটি ভাষার গণ্ডি ছাড়িয়ে জনগণের সম্পদে পরিণত হয়। এই পাল্টাপাল্টি যুক্তিতেই এখন সরগরম ফেসবুকের নিউজফিড।

ময়মনসিংহ নিখোঁজে দুদিন পর শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার

ময়মনসিংহে ছিনতাইকারীদের ধাওয়া খেয়ে নিখোঁজের দুই দিন পর আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওনের (২৫) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।  শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর জয়নুল আবেদিন পার্কের পূর্ব দিকে ব্রহ্মপুত্র নদের চরে আটকে থাকা অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ  । এই খবর ছড়িয়ে পড়লে আনন্দ মোহন কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা টাউন হল চত্বরে সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসা কর্মকর্তাদের গাড়ি আটক দেয় শিক্ষার্থীরা।

খুঁজ নিয়ে জানা যায় , গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বন্ধু রিফাতের সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র নদের চরে ঘুরতে গিয়ে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন শাওন। ছিনতাইকারীরা তাঁদের মারধর করলে জীবন বাঁচাতে দুই বন্ধু দুই দিকে দৌড় দেন। রিফাত প্রাণে বাঁচে গেলেও  শাওন নিখোঁজ হয় । এর পর থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তল্লাশি চালিয়েও তাঁর সন্ধান পায়নি। অবশেষে শুক্রবার  রাতে স্থানীয় লোকজন ব্রন্মপুত্র নদের চরে তাঁর লাশ দেখতে পেয়ে পুলিকে খবর দেয় ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছিনতাইকারীদের ধাওয়ায় পানিতে ডুবেই শাওনের মৃত্যু হয়েছে।

শাওনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় উত্তেজিত হয়ে রাত ১২টার দিকে আনন্দ মোহন কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩ শতাধিক  শিক্ষার্থী ময়মনসিংহ টাউন হল চত্বর অবরোধ করে রাখেন। একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে আসা বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, রেঞ্জ ডিআইজি এবং জেলা পুলিশ সুপারসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের গাড়ি আটকে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। রাত ১২টা ১ মিনিটে শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে প্রশাসনের সব গাড়ি আটকা পড়ে।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আশপাশের রাস্তা বন্ধ করে স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের দাবি, শাওনের মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিনতাইকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তাঁরা রাস্তা ছাড়বেন না বলে হুঁশিয়ারি দেন।

আনন্দ মোহন কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক হাসান বলেন, ‘ছিনতাইকারীরা শহরে বেপরোয়া হয়ে উঠলেও নির্বিকার প্রশাসন। এমন প্রশাসন আগে কখনো দেখিনি,  আমরা ছিনতাই-মাদকমুক্ত নগরী চাই।’

ঘটনাস্থলে উপস্থিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, অপরাধীদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে এবং দ্রুতই আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে।

রোজায় লাগামহীন নিত্য পণ্যের বাজার

পর্যাপ্ত ভোগ্যপণ্যের মজুত থাকার পরও অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারসাজিতে রমজানে লাগামহীন হয়ে পড়ছে নিত্যপণ্যের বাজার। তদারকি সংস্থাগুলো বাজারে অভিযান পরিচালনা করলেও তারা ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে পড়ছেন। এতে করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না সরকারি সংস্থাগুলো। তবে ভোক্তাদের স্বার্থে নিয়মিত বাজারে অভিযান পরিচালনা করবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজার মনিটরিং টিম। এর পাশাপাশি সরকারি অন্য সংস্থাগুলোও বাজার তদারকি করবে।  এদিকে, রমজানে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ব্যবসায়ী নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। শুক্রবার বিকেলে চকবাজার থানাধীন মৌলভীবাজারে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি খাদ্যপণ্যে কোনো ধরনের ভেজাল মেশানো যাবে না। সবাইকে এ বিষয়ে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ম্যাজিস্ট্রেট যখন বাজারে অভিযান পরিচালনা করবেন, তখন পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। এতে বাজারে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে।  ব্যবসায়ী নেতাদের সহযোগিতা কামনা করেন ডিএমপি কমিশনার। এদিকে রাজধানীর অন্যতম প্রধান পাইকারি ও খুচরা বাজার কাওরান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।

বিশেষত ইফতারের উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন পণ্য ছোলা, চিনি, খেজুর, শসা, লেবু ও ডালের দাম ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, ছোলা কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়, যা কয়েকদিন আগের তুলনায় কিছুটা বেশি। প্যাকেটজাত চিনি ১০০-১০৫ টাকা এবং খোলা চিনি ১১০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে ডালের দাম ১২০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি। এক হালি করে লেবু বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকায়; বড় আকারের লেবুর দাম আরও বেশি। শসা কেজিপ্রতি ১০০-১২০ টাকা এবং বেগুন ৯০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মসলা ও রান্নার উপকরণের দামও বেড়েছে। কাঁচামরিচ কেজিপ্রতি ২০০-২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যদিও পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রয়েছে ৬০-৭০ টাকার মধ্যে।

ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৯০-২০০ টাকা এবং ডিম ডজনপ্রতি ১৩০-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিম বিক্রেতা নজমুল হোসেন বলেন, রমজানের জন্য বেশি দামে ডিম কিনেছি, তবে অতিরিক্ত মুনাফার আশা করছি না। ব্যবসায়ীরা জানান, রমজানের আগে ইফতারসামগ্রীর বাজারে চাহিদা বাড়ে। পাইকারি পর্যায়ে মূল্য সমন্বয়, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মজুত প্রবণতার কারণে খুচরা দামে চাপ তৈরি হয়। পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজারের কাঁচা বাজারে দেখা গেছে, লেবুর হালি ১০০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৬০ টাকা, ধনে পাতা ৮০ টাকা, বেগুন ১০০ টাকা, শসা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, রসুন ১২০ টাকা, আলু ২৫, টমেটো ৬০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়াও কাঁচা পেঁপে ৪০ টাকা, সিম ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা, ফুলকপি ৫০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। আর আদা বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকা কেজিতে। কাঁচা বাজার ও ফুটপাতে লেবুর দামে ভিন্নতা দেখা গেছে। কাঁচা বাজারে যেই লেবুর হালি ১০০ টাকা, ফুটপাতে তা ৪০ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে। ঢাকার সিএমএম কোর্ট সংলগ্ন ফুটপাতে লেবু ৪০ টাকা হালি বিক্রি করছেন এক নারী। তিনি বলেন, কাওরান বাজার থেকে লেবু কিনে আনি। মাঝে-মধ্যে শ্যামবাজারেও যাই। মুনাফা করি কম। নারিন্দা কাঁচা বাজারের সবজি বিক্রেতা সালাম জানান, কয়েকটি সবজি ছাড়া তেমন কিছুর দাম বাড়েনি। তবে আশা করি, যেগুলোর দাম বেড়েছে, সেগুলোও কমে যাবে। রায়সাহেব বাজারে দেখা গেছে, কক মুরগি ৩৪০ টাকা, দেশি মুরগি ৩৮০, ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

মুরগি বিক্রেতা খলিল বলেন, রোজার মাসে মুরগির দাম বেড়ে যায়। যে কক মুরগি ২৮০ টাকা করে বিক্রি করতাম তা এখন ৩৪০-৩৮০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। আমাদের বেশি টাকায় কিনতে হয়, এ জন্য বেশি দামে বিক্রি করি। রায়সাহেব বাজারে মুরগি কিনতে আসা এক শিক্ষার্থী জানান, মুরগির দাম বৃদ্ধি হওয়ায় হিমশিম খেয়ে যাচ্ছি। মেসে থেকে পড়াশোনা করি। হিসাব করে চলতে হয়। এ জন্য দাম বেড়ে গেলে সমস্যায় পড়ি। রায়সাহেব বাজারে গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। রায় সাহেব বাজারের খাসির মাংস বিক্রেতা জানান, দাম নিয়ন্ত্রণেই আছে। রমজানের আগেও ১ হাজার ২০০ করে বিক্রি করতাম।
তবে বিভিন্ন বাজারে খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ করেও বিক্রি করতে দেখা গেছে। একই বাজারের গরুর মাংস বিক্রেতা জানান, রমজানের আগেও গরুর মাংস ৮৫০ করে বিক্রি করছি। এখন ৫০ টাকা কমে ৮০০ টাকায় দিতে পারছি। আমরা চাই কমেই বিক্রি করতে। কিন্তু মাঝেমধ্যে বিভিন্ন কারণে দাম বেড়ে গেলে কিছু করার থাকে না। কয়েকটি মাছের বাজারে দেখা গেছে, ছোট ইলিশ ৬৫০, মাঝারি ৮৫০ এবং বড় ইলিশ ১ হাজার ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ২২০ টাকা, ছোট রুই ২৮০ টাকা, বড় রুই ৩৫০ টাকা, ছোট পাঙাশ ২০০ টাকা, বড়টা ২৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম কমেছে ডিমের। ফার্মের লাল ডিমের হালি ৪০, সাদাটা ৩৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে; যা অন্য সময় ৪৫ থেকে ৫০ টাকা ছিল। রমজানে প্রতিবছরই ডিমের দাম কম থাকে বলে জানান এই ডিম বিক্রেতা। ডিম কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, প্রায়ই রায়সাহেব বাজার থেকে ডিম কিনি। তবে আজকে দেখছি দাম কম।

কয়েকদিন আগেও একই ডিম হালিতে ১০ টাকা বেশি দিয়ে কিনছি। দাম কম থাকলে ভালো লাগে। এদিকে, দেশের বাজারে শুধু রোজায় ছোলার চাহিদা থাকে প্রায় এক লাখ টন। তাই রোজার চাহিদাকে সামনে রেখে প্রায় দুই মাস আগেই ছোলা আমদানি শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। আমদানি, পাইকারি ও খুচরা বাজারের সরবরাহ মিলিয়ে এবার রোজার বাজারে ছোলার সরবরাহ ভালো। সরবরাহ বেশি থাকায় ছোলার দাম কম থাকবে বলেই আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। এবার রোজার বাজার ধরতে গত নভেম্বরে ছোলা আমদানি শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছোলা আমদানি হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার টন। গত বছর রোজার আগে একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার টন। সেই হিসাবে গতবারের তুলনায় ২২ শতাংশ বা ৩৬ হাজার টন বেশি ছোলা আমদানি হয়েছে এবার।
আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার ছোলার আমদানি হয়েছে চাহিদার তুলনায় বেশি। ফলে বাজারে সরবরাহে ঘাটতি নেই। সরবরাহ ভালো থাকায় মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা কম। ডলার সংকট না থাকায় ছোলার আমদানি আগের চেয়ে বেড়েছে। ক্রেতারাও বলছেন, এবার নির্বাচনের প্রভাবে বাজারে ছোলার দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল তাদের। তবে আপাতত সেটি হয়নি। দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে এখন পুরোদমে চলছে রোজার পণ্যের বেচাকেনা। বাজারটি ঘুরে ও সেখানকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের এ সময়ে পাইকারিতে প্রতিকেজি ছোলার দাম ছিল ৯২ থেকে ১০৫ টাকা। এবার সেই দাম ৭৫ থেকে ৮২ টাকার মধ্যে রয়েছে।

রোজার প্রথম সপ্তাহের পর দাম আরও কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন এই বাজারের ব্যবসায়ীরা। এছাড়া রমজানের প্রথমদিন রাজধানীর শাহজাদপুরে ইফতারের জন্য ফল কিনতে আসেন মহিউদ্দিন। দাম শুনে প্রথমে আঁতকে ওঠেন। পরে মাত্র দুটি মাল্টা, চারটি কমলা, চারটি আপেল ও অল্প কিছু আঙুর কিনেছেন তিনি। এতেই তার গুনতে হয়েছে ৭৯০ টাকা। আমদানি করা ফলের দাম গত দুই-তিন সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাশাপাশি বরই, পেঁপে, কলা ও পেয়ারার মতো দেশি ফলের দামও ৩০ থেকে ৬০ টাকা বেড়েছে। মহিউদ্দিন বলেন, ‘ইফতারে বাচ্চারা ফল খেতে চায়। আগে অন্তত এক কেজি বা দুই কেজি করে কেনার সাহস করতাম। কিন্তু এখন যা দাম, তাতে খুচরা কয়েক পিস করে কিনতে হলো। দেশি ফলের দামও অনেক বেশি।

শাহজাদপুর, কাওরান বাজার ও ইস্কাটন ঘুরে দেখা যায়, রমজান উপলক্ষে খেজুর, মাল্টা, আঙুর ও আপেলের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। বর্তমানে প্রতিকেজি মাল্টা ও কমলা বিক্রি হচ্ছে ৩২০-৩৬০ টাকায়। এছাড়া লাল আপেল ৩৬০-৪০০ টাকা, সবুজ আপেল ৪৩০-৪৫০ টাকা, সবুজ আঙ্গুর ৪৩০-৪৫০ টাকা, লাল আঙুর ৫২০-৫৫০ টাকা ও নাশপাতি ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রতিকেজি ডালিম বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইফতারের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর স্বাভাবিক চাহিদা বৃদ্ধির কারণেই দাম এভাবে বাড়ছে। ইস্কাটনের ফল বিক্রেতা রেজাউল করিম টিবিএসকে বলেন, ‘রোজার কারণে ফলের চাহিদা বাড়ায় দাম বেড়েছে। এবার দেশি ফলের দামও আকাশছোঁয়া। ক্রেতারা জানান, পেয়ারা, বরই, তরমুজ ও পেঁপের দাম অনেকটা বেড়েছে। কলার দামও আকাশছোঁয়া। ফলে, অনেক ক্রেতাই বাধ্য হয়ে নিয়মিত কেনাকাটার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। ইফতারের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ খেজুরের দাম আরও বেশি হারে বাড়ছে। নি¤œ-আয়ের মানুষের কাছে জনপ্রিয় তুলনামূলক কম দামের ‘জাহিদি’ খেজুরের দাম মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সেই সঙ্গে দাব্বাস, কালমি এবং মেদজুলের মতো আমদানি করা ও উন্নত মানের খেজুরের দামও ক্রমাগত বাড়ছে।
মূল্যবৃদ্ধির জন্য সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতাকেও দায়ী করছেন অনেক ব্যবসায়ী। তারা বলেন, আমদানি করা ফল, বিশেষ করে দাব্বাস খেজুরের চালান বন্দরে আটকা পড়ে আছে। এই সরবরাহ ঘাটতি ও রমজানের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে দাম ঊর্ধ্বমুখী। কাওরান বাজারের ব্যবসায়ী আরাফাত হোসেন বলেন, ‘চাহিদা অনেক, কিন্তু সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মানুষের চাহিদার তুলনায় পণ্যের জোগান যখন অনেক কমে যায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই দাম বেড়ে যায়।’ বর্তমানে ফলের ওপর সামগ্রিক আমদানি শুল্কের হার প্রায় ৯০ শতাংশ, যা সরাসরি খুচরা বাজারে ফলের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ আমদানি শুল্কের কারণে সাধারণ মানুষের পুষ্টির চাহিদা ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য মাহবুব কবির মিলন এই ৯০ শতাংশ শুল্ককে ‘জনস্বাস্থ্যের অন্তরায়’ বলে অভিহিত করেছেন।
সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ॥ ফলের দাম পকেটে টান ফেললেও রমজানের প্রথম দিনে বেগুন, লেবু ও কাঁচামরিচসহ কিছু সবজির দাম সামান্য কমেছে। তবু মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে এই দাম এখনো বেশ চড়া। বিক্রেতারা বলেন, সরবরাহ বাড়ার কারণে দাম সামান্য কমেছে। কাওরান বাজার, শাহজাদপুর, বাড্ডা ও হাতিরপুল বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০-১০০ টাকায়, যা মাত্র দুদিন আগেও ১২০-১৪০ টাকা ছিল। অন্যান্য সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

বাজারে প্রতিকেজি শসা ১০০ টাকা, আলু ২০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৮০-১২০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ও দেশি টমেটো ৪০-৬০ টাকা, ওলকপি ৫০-৮০ টাকা ও লাউ প্রতি পিস ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া করলা বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৬০ টাকায়, দেশি গাজর ৪০-৬০ টাকায়। ধরনভেদে শিমের দাম কেজিপ্রতি ৪০-৭০ টাকা। প্রতিটি ফুলকপি ৪৫-৫০ টাকা ও বাঁধাকপি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুলা বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৪০-৫০ টাকায়।
লেবু-শশা-বেগুনে সেঞ্চুরি ॥ রোজা শুরুর আগেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিল লেবু, শশা ও বেগুনের দাম। এসব পণ্যের দাম দুই থেকে পাঁচগুণ বেড়েছিল। বাজারে যেসব লেবু সাধারণত ২০ থেকে ৩০ টাকা হালিতে পাওয়া যেত, সেই লেবুর দাম উঠেছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা হালিতে। এখনো সেই দামেই বিক্রি হচ্ছে। এদিকে, রোজার মধ্যে বেগুনের দাম কেজিপ্রতি ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রোজার তিন চারদিন আগে এ পণ্যের দাম ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকা। যা এখন ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সেগুনবাগিচা, শান্তিনগর ও রামপুরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেগুনের মতো শশার কেজিও উঠেছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। যা ৪০ থেকে ৫০ টাকা ছিল।

সাইদুল ইসলাম নামের একজন বিক্রেতা বলেন, রোজায় যে হারে এসব পণ্যের চাহিদা বাড়ে, সেই হারে আমদানি হয় না। যে কারণে প্রত্যন্ত এলাকার মোকামগুলোতেই এসব পণ্যের দাম বেড়ে যায়। তিনি বলেন, গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে রোজার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব সবজির দাম বেড়েছে। আড়ত থেকে আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই লাভ রেখে পাইকারি দাম থেকে কেজিতে ১০-২০ টাকা লাভে বিক্রি করছি।
এদিকে, রোজার মধ্যে পেঁয়াজের দাম প্রায় কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা। তবে এ দুই পণ্যের দাম রোজার আগে নির্বাচনের সময় যানবাহন বন্ধ থাকার সময় থেকেই বেড়েছে। আবু আলী নামের একজন ক্রেতা বলেন, ইফতারের সময় বেগুন, লেবুর প্রয়োজন হয়। এ রকম কিছু কিছু পণ্যের দাম এখনো অনেক বেশি। ক্রেতাদের আশা, তদারকি সংস্থার অভিযান ও সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক থাকলে বাজারে পণ্যের দামে ভোগান্তি আরও কমবে।

লেবুর দাম নিয়ে সুখবর

পবিত্র রমজান শুরুর কয়েক দিন আগে থেকে লেবুর দাম কমতে শুরু করেছে। রাজধানীর বাজারে আজ একটি ছোট লেবু ৬০ টাকায়, মাঝারি আকারের লেবু ৮০ টাকায় এবং বড় আকারের চারটি লেবু ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুক্রবার পর্যন্ত একই ধরনের লেবুর দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা ছিল, অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

বেগুনের দামও কিছুটা কমেছে, তবে এখনও এটি শতক ছাড়িয়ে বিক্রি হচ্ছে। মোটা কালো লম্বা বেগুন কেজিতে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে এবং চিকন লম্বা বেগুন ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বেগুনের চাহিদার কারণে চিকন বেগুনের দাম তুলনামূলক বেশি।

কাঁচামরিচের দামও হঠাৎ কমে দিনে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কমে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য সবজির দামের পরিস্থিতিও সামঞ্জস্যপূর্ণ। আলু সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে, প্রতিকেজি মাত্র ২০ টাকা, আর ভ্যানে ৬ কেজি ১০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। করলা, বরবটি, মুলা, লতি, ধুন্দুল, পেঁপে, গাজর, কচুরমুখী, শিম ও শালগমসহ সবজি বাজারে স্বাভাবিক দামে পাওয়া যাচ্ছে।

ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, ধনেপাতা, পুদিনাপাতা, লালশাক, পুঁইশাক, ডাঁটাশাক, কলমি শাক ও পালংশাকের দামে সামান্য ওঠাপড়ার মধ্যে রয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, শীতকালীন সবজির সরবরাহ পর্যাপ্ত এবং দামও তুলনামূলক স্বাভাবিক। তবে রমজানের প্রভাবে ইফতারের ব্যবহারের জন্য কিছু সবজির দাম সামান্য বেড়েছে। তারা আশা করছেন, দুই-তিন দিনের মধ্যে দাম আবার স্বাভাবিক স্তরে ফিরে আসবে।

রোজা রেখে সারাদিন ক্লান্ত? ইফতারের এই ৫ খাবার বদলে দেবে সব

রমযানে দীর্ঘ সময় রোজা রাখার কারণে অনেকেই ইফতারের আগেই তীব্র ক্লান্তি, মাথা ঘোরা কিংবা শক্তিহীনতা অনুভব করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রধান কারণ হলো শরীরে পানির ঘাটতি ও সঠিক পুষ্টির অভাব। তবে ইফতারে কিছু নির্দিষ্ট খাবার রাখলে খুব দ্রুত শক্তি ফিরে পাওয়া সম্ভব।
পুষ্টিবিদরা বলছেন, ইফতার শুরু করা উচিত খেজুর দিয়ে। খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক চিনি দ্রুত শরীরে শক্তি যোগায় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। এর সঙ্গে এক গ্লাস পানি বা লেবুর শরবত পানিশূন্যতা দূর করে।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ খাবার হলো ফল। তরমুজ, কলা বা পেঁপের মতো ফল শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল সরবরাহ করে এবং ক্লান্তি কমাতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে দই বা দইভিত্তিক পানীয় হজম ভালো রাখে এবং শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞরা ইফতারে ছোলা বা ডালজাতীয় খাবার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। এগুলোতে থাকা প্রোটিন ও ফাইবার দীর্ঘ সময় শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া স্যুপ বা সবজি জাতীয় হালকা খাবার শরীরকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক খাদ্য গ্রহণে অভ্যস্ত করে।
তবে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও কোমল পানীয় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এসব খাবার সাময়িক তৃপ্তি দিলেও পরে আরও বেশি ক্লান্তি ও অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক খাবার নির্বাচন করলে ইফতার শুধু ক্ষুধা মেটায় না, বরং সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে শরীরকে আবারও প্রাণবন্ত করে তুলতে পারে।

রোজায় শরীরে শক্তি ধরে রাখতে যা করবেন

রোজা রাখার অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা থাকলেও শরীর ক্লান্ত হওয়াটা স্বাভাবিক। সারাদিন না খেয়ে থাকার কারণে শরীর কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তবে চিন্তার কিছু নেই। কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখলে পুরো রমজানজুড়ে আপনি সুস্থ ও শক্তিশালী থাকতে পারবেন। দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠলে ক্লান্তিবোধ কমে আসবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, রোজায় শক্তি ধরে রাখতে কী করবেন-

১. সেহরিতে পুষ্টিকর খাবার খান

সুষম সেহরি দিনের বেলায় রোজার জন্য শরীরকে প্রস্তুত করতে সাহায্য করবে, পাশাপাশি হজমকে আরও মসৃণ করে তুলবে। জটিল কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ফল ও শাক-সবজির মিশ্রণ শরীরকে টিকিয়ে রাখবে। লবণাক্ত বা গভীর ভাজা খাবার এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার উপভোগ করুন। হোল গ্রেইন রুটি, বাদামি চাল, ডিম, অ্যাভোকাডো, পনির এবং কলা বেছে নিন। সেইসঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

২. মৃদু ব্যায়াম

শরীর যখন রোজার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়, তখন প্রথম কয়েক দিন শক্তির মাত্রা কমে যেতে পারে। এটিকে সামঞ্জস্য করার জন্য, আপনার দিনের মধ্যে মৃদু কার্যকলাপ অন্তর্ভুক্ত করুন। কয়েক মিনিট স্ট্রেচিং, অল্প হাঁটা, অথবা কিছু সহজ শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম আপনাকে পুনরুজ্জীবিত এবং সতেজ করতে সাহায্য করবে।

৩. ঘুমের সময়সূচী ঠিক রাখুন

ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধুবান্ধব এবং পরিবার একত্রিত হওয়ার সময় হলো রমজান মাস। ইফতার, নামাজ, সেহরি সবকিছু মিলিয়ে রাতে ঘুমের সময়ে পরিবর্তন আসে। যদি সম্ভব হয়, আগে আগে ঘুমাতে যাওয়ার চেষ্টা করুন, অথবা সম্ভব হলে নিয়মিত ঘুমের সময়সূচী বজায় রাখুন।

৪. ঠান্ডা পরিবেশে থাকুন

তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে রোজায় পানিশূন্যতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফ্যান এবং এয়ার কন্ডিশনিং সমৃদ্ধ পরিবেশে থাকার চেষ্টা করুন, সেইসঙ্গে সম্ভব হলে তাপ থেকে দূরে থাকুন। তীব্র পানিশূন্যতা এড়াতে নিজের ও প্রিয়জনদের দিকে খেয়াল রাখুন। পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

অনুভূতি জানতে দুদিন রোজা রেখেছিলেন রোনালদো

সৌদি ক্লাব আল নাসর–এর সাবেক ফুটবলার শায়ে শারাহিলি জানিয়েছেন, প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের সময় রমজানে রোজা রাখা আরব ফুটবলারদের জন্য সাধারণত বড় সমস্যা হয় না, কারণ তারা প্রতিবছরই এ অভ্যাসে অভ্যস্ত। তবে বিদেশি খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে শুরুতে কিছুটা চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়।

থমনিয়াহ (Thmanyah)–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শারাহিলি বলেন, রমজানের দৈনন্দিন রুটিন ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের কারণে অনেক বিদেশি খেলোয়াড় প্রথম অভিজ্ঞতায় মানিয়ে নিতে সময় নেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি রোনালদোর অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে খেলার সময় গত রমজানে রোনালদো কৌতূহলবশত দুই দিন রোজা রেখে দেখেছিলেন। এটি ছিল স্থানীয় সংস্কৃতি বোঝার ব্যক্তিগত চেষ্টা, স্থায়ীভাবে রোজা রাখার সিদ্ধান্ত নয়।

শারাহিলি আরও বলেন, কিছু ক্রীড়াবিদ মনে করেন রোজা শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে, তবে বিষয়টি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন।

ভয়াবহ পরিণতি এড়াতে এখনই ব্যবস্থা নিন— এমপি রুমিন ফারহানার আহ্বান

বিএনপির স্থায়ী নেতাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন,দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে। এখনই যদি স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, ভবিষ্যতে এর ফল ভালো হবে না। স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় না থাকলে তার পরিণতি “ভয়াবহ” হতে পারে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাত পৌনে ২টার দিকে সরাইলের শাহবাজপুরে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, ওয়ারেন্ট অব প্রেসিডেন্স অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে প্রোটোকল মেনে আমিই সবার আগে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবো—এটাই নিয়ম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে কিছু নেতা-কর্মী পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন। আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়।

এর আগে রাত ১২টার দিকে সরাইল উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহান ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গেলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী রুমিন ফারহানাকে উদ্দেশ করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়ে একপর্যায়ে ধস্তাধস্তিতে রূপ নেয়।

অভিযোগ রয়েছে, এ সময় রুমিন ফারহানার পুষ্পস্তবক ছিঁড়ে ফেলা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন না করেই কর্মী-সমর্থকদের নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন।

ঘটনার পরপরই রাত ১টার দিকে শাহবাজপুর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন রুমিন ফারহানার সমর্থকরা। প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক আটকে পড়ে, সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

অন্যদিকে, স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন, প্রোটোকল ও সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুষ্পস্তবক ছেঁড়ার অভিযোগ তারা অস্বীকার করেন।

প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জামায়াত আমিরের শ্রদ্ধা

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি, মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

এই প্রথমবার জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হলো।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) অমর একুশের প্রথম প্রহরে (রাত ১২টা ২৩ মিনিটে) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় উপস্থিত ছিলেন সংসদে বিরোধীদলের হুইপ নাহিদ ইসলাম, সংসদ সদস্য হাসনাত, এটিএম আজহারসহ জোটের অন্যান্য নেতারা।

পুষ্পস্তবক অপর্ণের সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ভাষা শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত করেন ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিরোধী দলীয় নেতার শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিচারপতি, নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন বাহিনী প্রধান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে পুরো শহীদ মিনার এলাকাকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রং তুলিতে শহীদ মিনারের বেদিসহ আশপাশের এলাকায় আলপনা আঁকা হয়েছে। শহীদ মিনার আবাসিক এলাকার দেওয়ালে লেখা হয়েছে বিখ্যাত কবি লেখকদের উক্তি।

নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুরো এলাকাকে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আনার পাশাপাশি ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। সন্ধ্যা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রণীত রুটম্যাপ কার্যকর করা হয়েছে।

ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়ে তিনি ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তিনি ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। পরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে নিয়ে এবং দলীয়ভাবে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী।

পরবর্তীতে তৃতীয় দফায় প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তার সঙ্গে স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।