Home Blog Page 17

গাজা, নেত্তনাহু এবং মামদানী

০

শিতাংশু গুহ।। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন বলেছিলেন, আমি প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন গাজা ও পশ্চিমতীর নিয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র দিয়েছিলাম, কিন্তু তাতেও ফিলিস্তিনীরা রাজি হয়নি, তাঁরা আসলে স্বাধীনতা চায়না, তাঁরা ইসরাইলের ধ্বংস চায়। কথাটা ঠিক হুবহু হয়তো নয়, তবে সমার্থক এবং কথাটি সত্য। আরব মুসলিম দেশগুলো এ লক্ষ্যে ১৯৬৭ সালে একযোগে ইসরাইল আক্রমন চালায়, এবং পরাজিত হয়। একসময় ইসরাইল ‘দুই-রাষ্ট্র’ থিওরী মেনে নিয়েছিল, জেরুজালেমকে জাতিসংঘের হাতে ছেড়ে দিতে সম্মত হয়েছিলো। এসব ইতিহাস বিল ক্লিন্টনের কথার সত্যতা প্রমান করে। এ প্রসঙ্গ আনার কারণ হচ্ছে এ সময়ে (২১-২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনে ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেত্তনাহু তার ভাষণে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি-কে ধুইয়ে দিয়েছেন। তিনি মামদানীকে সন্ত্রাসী হামাস সমর্থক এবং মামদানীর আমলে নিউইয়র্কে ইহুদীদের ওপর আক্রমন বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। দু’টি বক্তব্যই সত্য। মামদানী এক টার্ম মেয়র, যদি তিনি শেষ পর্যন্ত ৪বছর টিকে থাকতে পারেন। পূর্বাহ্নে মামদানী বলেছিলেন যে, ‘ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী নেত্তনাহু নিউইয়র্কে এলে তাকে তিনি গ্রেফতার করবেন’।

মামদানী বাংলাদেশ ষ্টাইলে রাজনীতি করেন, এবং ষ্টান্ট পছন্দ করেন। দুই-একজন বাদে বাংলাদেশী মুসলমানরা শুধুমাত্র মুসলিম হবার কারণে মামদানি’র সমর্থক। কিন্তু মামদানী কে? তিনি একজন শিয়া মুসলমান, এবং কট্টর। কট্টর মুসলমানের ৩টি লক্ষণের সবক’টি তিনি হৃদয়ের গভীরে ধারণ করেন। অর্থাৎ তিনি এন্টি-ইসরাইল (ইহুদি বিরোধী), এন্টি-ভারত (হিন্দু বিরোধী) এবং এন্টি-আমেরিকা (এন্টি-খৃষ্টান বিশ্ব)। মামদানী ইসলামিষ্ট। আপাতত: তিনি সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও কংগ্রেসম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ-র সমাজতন্ত্রী ছায়াতলে আশ্রয়ে আছেন। মামদানীর চেহারা সুন্দর, ভেতরটা ইসলামী মৌলবাদীদের মত কদর্য। বাংলাদেশে বর্তমানে এনসিপি নেতা যাঁরা একদা ছদ্দবেশী ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন, মামদানীর চরিত্র ঠিক একই। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মামদানীর চরিত্র ‘পিউর মুসলিম লীগ’। মামদানী ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রীকে হুমকি দিয়েছেন, ইরানের প্রেসিডেন্টকে হুমকী দেননি, অথচ ইরান নিজদেশে অসংখ্য মুসলিমকে হত্যা করেছে। তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান বা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুঙ্কার ছাড়েননি। ফিলিস্তিন ইস্যুটি মামদানী মুসলিম সেন্টিমেন্ট হিসাবে ব্যবহার করছেন, আবার ট্রাম্পের কাছে ‘গুডবয়’ সেঁজে রিপাবলিকান সেন্টিমেন্ট কিছুটা ‘শান্ত’ রাখার চেষ্টা করছেন।

গাঁজায় ইসরাইলী আক্রমনকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই, কিন্তু মামদানী তো একথা বলছেন না যে, এ যুদ্ধ হামাস ইসরাইলের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। তিনি ৭ই অক্টবর ২০২৩-র ঘটনার নিন্দা করেননি, প্রায় সর্বাংশ মুসলমান তা করেনা। সেদিন হামাস বেসামরিক নিরীহ ইসরাইলীদের প্রতি যে নৃশংস বর্বরতা চালিয়েছিল তাতে যেকোন দেশের পক্ষে যুদ্ধ নামতেই হতো। ভন্ডামী ছাড়েন, এক বর্বরতার নিন্দা করবেন আর এক বর্বরতায় সমর্থন দেবেন তা হয়না। হামাস না থাকলে গাজায় শান্তি আসবে। এবার মক্কা আক্রমণে বুঝতে পারছেন তো যে মুসলমান-মুসলমান ভাইভাই না, ওটা ভাওতাবাজি, ইরানের মুসলমান বাংলাদেশের মুসলমানের ভাই নয়! বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা মুসলিম বিশ্বে থাকলে মামদানী কিছুই হতেন না, উন্নত বিশ্বে গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে মেয়র হবেন এবং তলে তলে ইসলামী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবেন, এ দ্বিচারিতা খুব বেশিদিন চালানো সম্ভব হবেনা, মানুষ বোঝে। পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল একমাত্র গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সেদেশে প্রায় ১৮% মুসলমান, এবং তারা ভালো আছে। আচ্ছা, মুসলিম বিশ্বে ইহুদীরা থাকতে পারেনা কেন? সৌদি আরবে ১০০.০% মুসলমান কেন? পাকিস্তানে অহরহ শিয়া মসজিদে বোমা পড়ে কেন? জানি বলবেন, হিন্দুদের মধ্যেও তো জাতপাত আছে! তা আছে, তবে তারা একজন অন্যজনের মন্দিরে বোমা মারেন! বিশ্বের যেকোন শহরে বোমা ফুটলে প্রথমে আপনার মনে কি ভাবনা উদয় হয়?
২৭শে সেপ্টেম্বর ২০২৬। নিউইয়র্ক।

নিউইয়র্কে মুসলিম ডে প্যারেডে মানুষের ঢল

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নিউইয়র্ক, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬: প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে রোববার ম্যানহাটনে অনুষ্ঠিত মুসলিম ডে প্যারেড ২০২৬-এ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। শিশুদের হাত ধরে অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ইমাম এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা সমবেত হন। বৃষ্টিভেজা ম্যাডিসন অ্যাভিনিউতে তাঁদের উপস্থিতি মুসলিম সম্প্রদায়ের ঐক্য, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও শান্তির বার্তাকে সামনে নিয়ে আসে।

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর উদ্‌যাপনের প্রেক্ষাপটে এবারের প্যারেডের প্রতিপাদ্য ছিল “বিশ্বাসে ঐক্যবদ্ধ, সংস্কৃতিতে বৈচিত্র্যময়।” আয়োজকদের প্রচারপত্রে “এক উম্মাহ, এক জাতি, গর্বিত আমেরিকান” এবং “সবার প্রতি ভালোবাসা, কারও প্রতি ঘৃণা নয়”—এই আহ্বানও তুলে ধরা হয়। নানা ভাষা, দেশ ও সংস্কৃতির মানুষের অংশগ্রহণ সেই বার্তার প্রতিফলন ঘটায়।

প্যারেডে কমিউনিটি ও ধর্মীয় নেতাদের পাশাপাশি যোগ দেন এনওয়াইপিডির মুসলিম অফিসাররা, এফডিএনওয়াই সদস্যরা, ইসলামিক সোসাইটির প্রতিনিধিরা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও তাঁদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে একটি স্মরণীয় কমিউনিটি সমাবেশে পরিণত করে।

প্যারেডের আহ্বায়ক কাউন্সিল অব পিপলস অর্গানাইজেশনস—কোপো’র প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রাজভি অংশগ্রহণকারী সবাইকে ধন্যবাদ জানান। পুরো আয়োজন সফল করতে পর্দার আড়ালে যাঁরা কাজ করেছেন, সেই আয়োজক, স্বেচ্ছাসেবক, সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং স্পনসরদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। রাজভি বলেন, নিউইয়র্কের মুসলমানরা ঐক্য ও শান্তির প্রতীক। বৃষ্টির মধ্যেও মানুষের উপস্থিতি সেই ঐক্যের শক্তিই তুলে ধরেছে।

কুইন্সের এলহাম একাডেমি তাদের শিক্ষার্থী ও স্কুল পরিবার নিয়ে প্যারেডে অংশ নেয়। শিক্ষার্থীদের কাছে দিনটি ছিল নিজেদের বিশ্বাস ও ঐতিহ্য নিয়ে গর্ব করার পাশাপাশি বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার সুযোগ। অভিভাবক ও শিক্ষকেরাও শিশুদের সঙ্গে এই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।

এলহাম একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও সেভ দ্য পিপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমাম মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, “ইসলাম শান্তির ধর্ম। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছরের ইতিহাসে মুসলমানদের অবদান আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। এই দেশের শিক্ষা, সেবা, সংস্কৃতি ও উন্নয়নে মুসলিম আমেরিকানরা যে ভূমিকা রেখেছেন, তা আমেরিকাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছে। আগামী দিনেও আমরা সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের মানুষের সঙ্গে নিয়ে ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরতে এবং আমেরিকাকে আরও সামনে এগিয়ে নিতে চাই।”

প্যারেডের প্রচারপত্রে পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে তাহির মুস্তাফা কুকিগি, রফিক মোহামেদ, ইব্রাহিম আহমেদ, আইনুল হক, জিলফা বকশ, এড পাওয়েল, সাকিবেহ মুস্তাফা, সুলেইমানে কোনাতে, বাজাহ রুহি, কেনান তাসকেন্ট, আহমাদ আলী, হাফিদা টরেস, মনি লুৎফি, ইমাম মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও মোহাম্মদ রাজভির নাম উল্লেখ করা হয়।

প্রচারপত্রে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ছিল কোপো, দারুল উলুম নিউইয়র্ক, সেভ দ্য পিপল, আল-আমিন স্কুল, জালালাবাদ ফাউন্ডেশন ফর চিলড্রেন অ্যান্ড ইয়ুথ, আফ্রিকা কমিউনিটি সার্ভিসেস, আফ্রিকান কালচারস প্রমোশনস, আলবিয়ানা ইসলামিক কালচারাল সেন্টার, আল-ইহসান একাডেমি, আল-ইমান স্কুল, আল-মামুর স্কুল, আমেরিকান কাউন্সিল অব মাইনরিটি উইমেন, বাস্টি, কাউন্সিল অব আফ্রিকান ইমামস, ইসলামিক লিডারশিপ স্কুল, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার এবং জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটি।

এ ছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, স্কুল ও সংগঠনের মধ্যে আল-মেদনি মসজিদ, মসজিদ আল-হিকমাহ, মসজিদ আল-গাফার, মাক্কি মসজিদ, মসজিদ আসরি, মিরাজ ইসলামিক স্কুল, রাজি স্কুল, ইয়ানকাসা অ্যাসোসিয়েশন অব ইউএসএ, মরোক্কান সোসাইটি অব নিউইয়র্ক, ইয়েমেনি আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব নিউইয়র্ক, ইয়ংকার্স ইসলামিক সেন্টার, এলহাম ফর অল, নিউইয়র্ক ইমাম কাউন্সিল, ইসলামিক স্কুলস অ্যাসোসিয়েশন, ক্যারিবিয়ান আমেরিকান মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন এবং স্মাইল অব লাইফের নামও উল্লেখ করা হয়।

দিনশেষে সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে থাকে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি। প্রবল বৃষ্টিও তাঁদের থামাতে পারেনি। আয়োজকদের মতে, এবারের প্যারেড নতুন প্রজন্মের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছে—নিজেদের বিশ্বাস ও পরিচয় নিয়ে গর্বের সঙ্গে, অন্য সব সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়েই শান্তিপূর্ণ ও ঐক্যবদ্ধ আমেরিকা গড়ে তোলা সম্ভব।

“প্রবাহ” সাহিত্য সভা করলো কবি আবদুল মান্নান সৈয়দ এর স্মরণে

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার বিকেল ৬ টা। কবি ও গবেষক আবদুল মান্নান সৈয়দ এর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে “প্রবাহ” আয়োজন করেছিলো এর ২১তম সাহিত্য সভা। সভার স্থান জ্যাকসন হাইটসের গ্রীনটাচ। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট কবি কাজী জহিরুল ইসলাম। সোহেল হামিদ এর উপস্থাপনায় জনাব আবদুল জলিলের কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রধান অতিথি ও অনুষ্ঠানের মূল বক্তা কবি কাজী জহিরুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে  সব্যসাচী কবি ও লেখক আবদুল মান্নান সৈয়দ যে বাংলা সাহিত্যে পরাবাস্তববাদ অনেকাংশে প্রতিষ্ঠা করেছেন , তার ইতিবৃত্ত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফরাসী কবি আঁদ্রে ব্রেতোঁ পরাবাস্তববাদী কবিতার জন্ম দেন আর আবদুল মান্নান সৈয়দ এই ভিনদেশী ধারণাকে বাংলা সাহিত্যের পাঠকদের কাছে উপস্থাপন করেন। বাংলা সাহিত্যে বিচ্ছিন্নভাবে অনেক কবি পরাবাস্তবতা নিয়ে লিখলেও একে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আবদুল মান্নান সৈয়দই প্রশংসার দাবীদার। এ প্রসঙ্গে তিনি কবিতায় পরাবাস্তবতা নিয়ে দর্শক শ্রোতাদের সামনে নাতিদীর্ঘ আলোচনা রাখেন।

কবি কাজী জহিরুল ইসলাম সাহিত্য সমালোচনার ক্ষেত্রে আবদুল মান্নান সৈয়দ এর বিশেষ ভুমিকার উল্লেখ করে বলেন বাংলা সাহিত্য সমালোচনায় তাঁর অবদান অপরিসীম।  তিনি বিশেষ করে জীবনানন্দ দাশ , কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে গবেষণা করেছেন- শক্তিশালী সাহিত্য সমালোচক হিসেবে তিনি ছিলেন অনন্য। জীবনানন্দ দাশকে তিনি উপাধি দিয়েছেন “শুদ্ধতম কবি”।

সাহিত্য সভায় কবি নুরুল মোস্তফা রইসী কবিতা পর্বে কবি আবদুল মান্নান সৈয়দ এর কবিতা ছাড়াও সৈয়দ শামসুল হক এর “পরাণের গহীন ভিতর ” কাব্যগ্রন্থ থেকে একটি সনেট ও সুকুমার রায় এর “বিষম চিন্তা ” ছড়া আবৃত্তি করেন। বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী এম. এ. সাদেক আবৃত্তি করেন আবদুল মান্নান সৈয়দ এর লেখা একটি কবিতা। সাহিত্য সংগঠক সৈয়দ ফজলুর রহমান কবির সাহিত্য কর্ম নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।

বিশিষ্ট টিভি উপস্থাপক ও বাচিক শিল্পী জি. এম. ফারুক খান আবৃত্তি করেন কবির লেখা “চুরুলিয়ার ছোট্ট ছেলে” ও “সুন্দর”। কবি রওশন হক পাঠ করেন কবির লেখা ” কবিতা কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড”। জাকির হাওলাদার  পড়েন কবির “পাঁচটি উজ্জ্বল মাছ”।  সোহেল হামিদ  ” গ্রিণরোড” কবিতাটি পাঠ করেন। জনাব আবদুল জলিল পড়েন স্বরচিত কবিতা “মানুষ”। সেলিম শাহরিয়ার এর কন্ঠে “তুমি কখন এসে দাঁড়িয়ে আছো” গানটি শ্রোতা দর্শকরা উপভোগ করেন। তাছাড়া গ্রীণটাচ এর সিইও লিয়াকত ইলাহি , মুনতাকিম বিল্লাহ শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।  আলোচকগন কবি আবদুল মান্নান সৈয়দ এর রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।

দুই গোলে পিছিয়ে থেকে দুর্দান্ত কামব্যাক ব্রাজিলের

০

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ব্রাজিল। সোমবার ব্রিসবেনে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিকদের ৪-২ গোলে হারিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল।

ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই ভান্ডেরসনের গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। তবে প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় অস্ট্রেলিয়া। সার্কাতি ও মেটকাফের গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। বিরতির আগে ভিএআর পর্যালোচনায় পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান রাফিনিয়া।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে আরও দুই গোল করে ব্রাজিল। দানিলোর পাস থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সহায়তায় গোল করেন ব্রুনো গিমারায়েস। এরপর ভিনিসিয়ুসকে বক্সে ফাউল করা হলে পাওয়া পেনাল্টি থেকে নিজেই গোল করে ব্যবধান ৪-২ করেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত আর গোল না হওয়ায় দুই গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল। আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে আরেকটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

রাজনীতি হেফাজতের পৃথক জোট গঠন বিএনপি-জামায়াতে আটকা

০

হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে কওমি ধারার সাত দলকে নিয়ে আলাদা জোট গড়ার চেষ্টা চলছে। তবে কিছু শর্তের মধ্যে এটি আটকে আছে। হেফাজত ও চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চায়– এ জোটের শরিকরা অন্য কোনো দলের সঙ্গে জোটে থাকতে পারবে না। কিন্তু কয়েকটি দল জামায়াতে ইসলামীর জোট ছাড়ার ব্যাপারে দ্বিধান্বিত। বিএনপির জোট ছাড়া নিয়েও রয়েছে একটি দলের টানাপোড়েন।

বিএনপির নির্বাচনী সঙ্গী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এবং ইসলামী ঐক্যজোট চায় জামায়াতকে ছেড়ে আসুক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও নেজামে ইসলাম পার্টি। কিন্তু জমিয়ত নিজে বিএনপির জোট ছাড়েনি। অন্য দলগুলো মনে করছে, তারা বিএনপির জোট ছাড়বে না।

অন্যদিকে জামায়াত নতুন এ জোট গঠন প্রক্রিয়াকে সন্দেহের চোখে দেখছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, হেফাজতের এই উদ্যোগ মূলত ১১ দলীয় ঐক্য ভাঙার চেষ্টা। এর পেছনে রয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি।

গণভোট ও জুলাই জাতীয় সনদ নিয়েও হেফাজতের জোট গঠন প্রক্রিয়ায় থাকা দলগুলোর মতপার্থক্য রয়েছে। সনদ ও গণভোট ইস্যুতে হেফাজতের নিজস্ব অবস্থান নেই। সনদ ও গণভোট বিষয়ে জমিয়তের অবস্থান বিএনপির অনুরূপ। আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং খেলাফত মজলিস সনদ ও গণভোটের বাস্তবায়ন চায়।
জামায়াতবিরোধী জোটের চেষ্টা

বাংলাদেশের ইসলামপন্থি দলগুলো নানা ধারায় বিভক্ত। এর মধ্যে নিবন্ধিত দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোট, নেজামে ইসলাম পার্টি এবং খেলাফত আন্দোলন দেওবন্দের মতবাদের অনুসারী। এর মধ্যে চরমোনাইর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বাদে অন্য ছয়টি দল আগে থেকেই হেফাজতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। দলগুলোর নেতারা হেফাজতেরও নেতৃত্বে রয়েছেন।

জামায়াত আবুল আলা মওদুদীর মতবাদের অনুসারী। অন্যদিকে, হেফাজত দেওবন্দের অনুসারী। তারা মওদুদীর মতবাদের বিরোধী। গত বছরের এপ্রিলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম এবং জমিয়ত নির্বাচনী মোর্চা গড়তে এক হয়। এতে গত বছরের আগস্টে যুক্ত হয় জামায়াত। জমিয়ত চলে যায় বিএনপির নির্বাচনী জোটে।
দেওবন্দ ও মওদুদীবাদের বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলামসহ সাত দল এক হয়। এতে যুক্ত হয় দেওবন্দি আরেক দল খেলাফত আন্দোলন। তবে আসন বণ্টন নিয়ে বিরোধে চরমোনাইর পীরের দল গত জানুয়ারিতে জামায়াত জোট থেকে বেরিয়ে যায়। থেকে যায় বাংলাদেশ খেলাফত, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম এবং খেলাফত আন্দোলন। তারা জামায়াত জোট থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেয়। হেফাজত পক্ষ নেয় বিএনপির। এমনকি ‘জামায়াতকে ভোট দেওয়া হারাম’ বলে ফতোয়া দেন হেফাজতের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।

আসন ছাড় না পাওয়া খেলাফত আন্দোলন নির্বাচনের পর জামায়াত জোট ছেড়ে যায়। তবে দলটির একাংশ জোটে রয়েছে। খেলাফত মজলিস আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ছাড়ার ঘোষণা না দিলেও জামায়াত জোটের কর্মসূচি থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। ফলে দেওবন্দ ধারার দলগুলোর মধ্যে কার্যত বাংলাদেশ খেলাফত এবং নেজামে ইসলাম এখন পর্যন্ত জামায়াত জোটে আছে।

এ দলগুলোকেও জামায়াত জোট থেকে বের করে আনতে গত এপ্রিলে তৎপরতা শুরু করে হেফাজত। হয় হেফাজত, নয়তো জামায়াত জোট– এই শর্ত দেওয়া হয়। তবে দলগুলো তা মানেনি। এরপর শুরু হয় হেফাজতের উদ্যোগে কওমি ধারার ৭ দলকে নিয়ে বিএনপি এবং জামায়াতের বাইরে পৃথক জোট গড়ার চেষ্টা।

গত ১৬ জুলাই প্রথম বৈঠকের পর দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে প্রস্তাব দিতে বলা হয়। তা তারা হেফাজতকে দেয় গত মাসের শেষ অর্ধে। তা সমন্বয় করে গত রোববার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় ৭ দলের বৈঠকে হেফাজত রূপরেখা তুলে ধরে।

মতবিরোধ
চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১২ দফা প্রস্তাব দেয়। এতে ছিল, দেওবন্দের মতবাদ অনুসরণকারী নিবন্ধিত সাতটি দলের ঐক্য হবে। যেসব দল এই ঐক্যে থাকবে তারা অন্য কোনো দলের সঙ্গে জোটে থাকতে পারবে না। ঐক্যের নেতৃস্থানীয় কেউ অন্য কোনো দলকে সমর্থন দিতে পারবেন না।

খেলাফত আন্দোলন ও ইসলামী ঐক্যজোট দিয়েছিল আকিদার শর্ত। মওদুদীর মতবাদের অনুসরণ করা জামায়াত থেকে ঐক্যের শরিকদের দূরে থাকার প্রস্তাব দিয়েছিল ইসলামী ঐক্যজোট। খেলাফত আন্দোলনের প্রস্তাব ছিল শুধু দেওবন্দের মতবাদ অনুসারী সাতটি দলের ঐক্য হবে।

গত নির্বাচনে বিএনপির ছেড়ে দেওয়া চারটি আসনে নির্বাচন করে পরাজিত হন জমিয়তের প্রার্থীরা। এ নিয়ে নির্বাচনের পর থেকেই ক্ষোভ জানাচ্ছেন জমিয়ত নেতারা। দলটির অপরাংশ বিএনপির ছেড়ে দেওয়া আসনে হেরে গেছে ধানের শীষ প্রতীক পেয়েও। জমিয়তের আট দফা প্রস্তাবের প্রথমটিই ছিল– ৭ দলের কেউ জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে না।

বাংলাদেশ খেলাফত, খেলাফত মজলিস এবং নেজামে ইসলামের প্রস্তাব ছিল, অন্য কোনো দলের সঙ্গে জোট রাখা যাবে না, এমন শর্ত দেওয়া যাবে না। তাদের প্রস্তাবের সারাংশ হলো, ৭ দলের ঐক্য হবে আদর্শিক। রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয়ে দলগুলো স্বাধীন থাকবে। খেলাফত মজলিসের প্রস্তাব ছিল, আদর্শিক ঐক্যে আপত্তি নেই। রাজনৈতিক ঐক্য হতে হলে সব দলকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে থাকতে হবে।

৭ দলের পরস্পরবিরোধী এসব প্রস্তাব সমন্বয় করে হেফাজত নেতারা ঐক্যের রূপরেখা তৈরি করেন। যা তোলা হয় গত রোববারের বৈঠকে। কিন্তু এতে ঐকমত্য হয়নি। প্রত্যেক দল থেকে তিনজন করে এবং হেফাজত থেকে তিনজন নেতাকে নিয়ে ২৪ সদস্যের লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এই কমিটি ঐক্যের রূপরেখা চূড়ান্ত তৈরি করবে। হেফাজতের মহাসচিব সাজিদুর রহমানকে এই লিয়াজোঁ কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। আগামী ২২ অক্টোবর কমিটির প্রথম বৈঠক হবে ঢাকায়।

৭ দলীয় ঐক্য হলে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব কে হবেন, কীভাবে নেতৃত্ব নির্বাচিত এবং পরিবর্তন হবে– এ নিয়ে ঐকমত্য হয়নি। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, জমিয়ত আগে থেকেই শর্ত দিয়ে রেখেছে অন্যরা জামায়াত না ছাড়লে তারা বিএনপির জোট ছাড়বে না।

বৈঠকে অংশ নেওয়া ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান সমকালকে বলেছেন, ৭ দল যদি ঐক্য করে, তাহলে অন্য কোনো দলের সঙ্গে জোটে থাকা সমীচীন হবে না।

সাতদলীয় ঐক্য কি রাজনৈতিক নাকি আদর্শিক হবে– এই প্রশ্নে গাজী আতাউর বলেন, ইসলামপন্থি দলগুলোর শক্তিকে সুসংহত করতে এই ঐক্য করা হচ্ছে, যাতে ইসলামের আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করা যায়। তাই শুধু আদর্শিক নয়; রাজনৈতিক হবে এই জোট। ঐক্যের শরিকরা অন্য জোটে থাকতে পারবেন না। এই ঐক্য হবে একটি বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন সমকালকে বলেন, আগে রূপরেখা ঠিক হোক। তখনই বলা যাবে, ঐক্যের কোনো শরিক অন্য কোনো জোটে থাকতে পারবে কিনা।

নেতৃত্ব ও উদ্দেশ্য নিয়েও বিরোধ
জামায়াত জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইসলামী আন্দোলন গত নির্বাচনে এককভাবে ২৫৭ আসনে অংশ নিয়ে একটিতে জয় পেয়েছে। বৈঠকে অংশ নেওয়া একটি দলের মহাসচিব সমকালকে বলেছেন, ঐক্যের নেতৃত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছে ইসলামী আন্দোলন।

২০১৩ সালেও জামায়াত বাদে অন্যান্য ইসলামী দলকে নিয়ে জোট করতে তৎপর হয়েছিল হেফাজত। তাতে সাড়া দিয়েও পরে আর হেফাজতের সঙ্গে থাকেনি ইসলামী আন্দোলন। বিএনপির সেই সময়কার জোট শরিক ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত মজলিস, জমিয়ত ছিল হেফাজতের সঙ্গেও। ২০১৭ সালে বিএনপি জোট ছাড়ে ইসলামী ঐক্যজোট। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সহযোগিতা চেয়েছিল দলটি। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনেও অংশ নেয়। তবে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর দলটির নেতৃত্বে পরিবর্তন রয়েছে।

২০২১ সালে হেফাজতের ডাকে নরেন্দ্র মোদিবিরোধী আন্দোলনের মামলায় শীর্ষ নেতারা গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিএনপির জোট ছেড়ে দেয় জমিয়ত ও খেলাফত মজলিস। হেফাজতের তৎকালীন নেতৃত্বের সঙ্গে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও নেতাদের প্রায়ই বৈঠক হতো।

গত রোববারের বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন নেতা সমকালকে বলেছেন, অতীতের মতো হেফাজতের ওপর সরকারি প্রভাবের লক্ষণ দেখা গেছে খসড়া রূপরেখায়। শুধু জামায়াত নয়; বিএনপির সঙ্গেও জোট রাখা যাবে না– এমন শর্ত থাকলে ভারসাম্যপূর্ণ হতো।

জমিয়ত সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক সমকালকে বলেছেন, ‘সাতদলীয় ঐক্য হলে কোনো শরিক ঐক্যের বাইরে অন্য কোনো দলের সঙ্গে জোটে থাকতে পারবে না।’ এ ক্ষেত্রে জমিয়ত বিএনপিকে ছাড়বে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অন্যরা জামায়াত ছাড়লে জমিয়তও বিএনপিকে ছাড়বে।’

জানতে চাইলে জমিয়তের মহাসচিব মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী সমকালকে বলেন, অন্যান্য দল যদি জামায়াত জোট ছাড়ে, তবে জমিয়ত বিএনপির জোট ছাড়ার বিষয়টি ভাববে।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেছেন, ‘সাতদলীয় ঐক্য যদি রাজনৈতিক হয়, তাহলে আমাদের প্রস্তাব হলো জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে থাকতে হবে।’
জামায়াতের একাধিক নেতা সমকালকে বলেছেন, তাদের কাছে খবর হলো, হেফাজতের মাধ্যমে ১১ দলীয় ঐক্য ভাঙার চেষ্টা করছে বিএনপি। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সমকালকে বলেছেন, জুলাই সনদ ও গণভোট প্রশ্নে ১১ দল অটুট রয়েছে। যেসব দল জনগণের কাছে গণভোট অনুযায়ী সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে, তারা ১১ দলেই থাকবে।

হেফাজতের মহাসচিব ও লিয়াজোঁ কমিটির প্রধান মাওলানা সাজিদুর রহমান সমকালকে বলেন, বিভক্ত ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে কাজটি করা হচ্ছে।

ঐক্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ‘কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের নীতি-আদর্শ অনুসরণ এবং শরিয়াবিরোধী কোনো রাজনীতি ও জোটে জড়িত না হওয়াই ঐকমত্যের মূল ভিত্তি। দলগুলোর মধ্যে ঐক্য হয়ে গেলে রাজনীতিতে হেফাজতের আরও বড় প্রভাব তৈরি হবে। দাবি-দাওয়া আদায়ও সহজ হবে।’

মাথা ঠাণ্ডা রাখা ও চুল পড়া কমানো, এখন একসাথে

০

সকালে চুল আঁচড়াতে গিয়ে চিরুনিতে একগোছা চুল দেখলে মনটা খারাপ হয়ে যায়। আর বাইরে বের হলেই ফেইস করতে হয় রোদ আর গরম। এই দুই সমস্যার কথা ভেবেই ইমামী বাংলাদেশ নিয়ে এসেছে হিমানী নবরত্ন প্লাস হেয়ারফল কন্ট্রোল কুলিং হেয়ার অয়েল। এই তেল মাথা ঠান্ডা রাখে, সঙ্গে চুল পড়া বন্ধ করতে সাহায্য করে। বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো হেয়ার অয়েলে এই দুইটি বেনেফিট একসঙ্গে দিচ্ছে।

দুই সমস্যা, একই দিনে
চুল পড়া আর গরম; সমস্যা দুটো আলাদা মনে হলেও আমাদের প্রতিদিনের জীবনে এরা একসঙ্গেই আসে। চুল পড়ার দুশ্চিন্তা শুরু হয় সকালেই! ঠিক বের হওয়ার আগে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে। “সিঁথিটা কি আগের চেয়ে চওড়া লাগছে?” “চুল বাঁধতে গিয়ে আগের মতো ঘন মনে হচ্ছে না?” এরপর দিনভর রোদ, ঘাম আর ব্যস্ততা। আমাদের দেশে বছরের বেশির ভাগ সময়ই থাকে গরম আর আর্দ্রতা। বাসে, রিকশায় কিংবা হেলমেট পরে বাইকে যাতায়াতের সময় মাথা ঘেমে যায়। তখন ক্লান্তি বোধ হয়, মেজাজ ও মাথা দুইটিই গরম থাকে। কোন কাজই তখন ঠাণ্ডা মাথায়, ঠিকমতো করা যায় না। ক্লাস, অফিস বা সংসার, এত কিছুর মাঝে, দিনশেষে সবাইই একটু শান্তি খোঁজেন।

তাই দরকার এমন একটি তেল, যা মাথা ঠান্ডা রাখবে, আবার চুল পড়াও রোধ করবে। এত দিন এর জন্য খুঁজতে হতো দুটি আলাদা তেল। ফলে প্রায়ই একটি বাদ পড়ে যায়। হিমানী নবরত্ন প্লাস হেয়ারফল কন্ট্রোল কুলিং হেয়ার অয়েল সেই সমস্যারই সমাধান। এক তেলেই দুই রকম যত্ন; সময়ও বাঁচে, সাথে সাশ্রয়ীও।

২১টিরও বেশি ভেষজ উপাদানের গুণ
২১টিরও বেশি ভেষজ উপাদান এক তেলে থাকার কারণে মাথা ঠান্ডা রাখা ও চুল পড়া বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। অশ্বগন্ধা, রোজমেরি, ভৃঙ্গরাজ, ব্রাহ্মী, কারি পাতা, তুলসী, জটামানসি, আমলা ও জবা। প্রতিটি উপাদানের কাজ আলাদা, কিন্তু সব উপাদান মিলে চুলের পূর্ণাঙ্গ যত্নের একটি মিশ্রণ তৈরি হয়েছে।

কুলিং ফর্মুলা মাথা ঠাণ্ডা রাখে। তেল অ্যাপ্লাই করার সাথে সাথে যে ঠান্ডা অনুভূতিটি পাবেন, তা এই কুলিং ফর্মুলার জন্য। বাকি প্রায় সব উপাদানই চুলের যত্নে কাজ করে। রোজমেরি চুলের গোড়া ও ফলিকলের যত্ন নেয়। কারি পাতা, আমলা আর জবা চুলের গোড়া মজবুত রাখতে সাহায্য করে। ব্রাহ্মী চুলের রুক্ষতা কমিয়ে চুল সফট রাখে। আর ভৃঙ্গরাজ, তুলসী ও জটামানসিসহ এইসব উপাদান একসঙ্গে কাজ করে বলে আলাদা করে আর কোন কিছুর দরকার পড়ে না।

নিয়মিত চুলের যত্ন
উপাদান যত ভালোই হোক, নিয়মিত তেল ব্যবহার না করলে পরিপূর্ণ যত্ন হয় না। আসল সমস্যাটা এখানেই। ব্যস্ততার ভিড়ে আমাদের অনেকেরই নিয়মিত তেল ব্যবহার করা হয়ে ওঠে না। ব্যস্ত দিনে প্রায়ই এটা বাদ পড়ে যায়। কেউ ভাবেন পরে দেবেন, কিন্তু সেই ‘পরে’ অনেক সময়ই আর আসে না।

হিমানী নবরত্ন প্লাস হেয়ারফল কন্ট্রোল কুলিং হেয়ার অয়েল ঠিক এখানেই আলাদা। মাথায় অ্যাপ্লাই করার সাথে সাথে স্ট্রেস দূর করে আপনাকে ঠান্ডা অনুভূতি দিবে আর আপনার নিজেকে ফ্রেশ লাগবে। বিশেষ করে গরমের দিনে বাইরে থেকে ফিরে এই শীতলতা বাড়তি স্বস্তি দেয়। আর যে কাজে আরাম পাওয়া যায়, সেটা নিয়মিত করতেও ইচ্ছা করে। তেল দেওয়া তখন আর ঝামেলা থাকে না, দিনের একটি আরামের মুহূর্ত হয়ে ওঠে।

সহজ ব্যবহার, সময়ও কম লাগে
এই তেল ব্যবহারের নিয়মও সহজ। হাতে পরিমাণমতো তেল নিন। আঙুলের ডগা দিয়ে মাথার ত্বকে আলতো করে গোল গোল করে ম্যাসাজ করুন। পুরো মাথায় সমানভাবে ছড়িয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। তারপর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।

এ জন্য আর আলাদা কোনো সময় বের করতে হবে না। গোসলের আগে হাতে যেটুকু সময় থাকে, সেটুকুই যথেষ্ট। সকালে চা খেতে খেতে তেল ব্যবহার করে নিন, কিংবা রাতে টিভি দেখার ফাঁকে। ছুটির দিনে পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে তেল দেওয়ার পুরোনো আনন্দটাও ফিরিয়ে আনতে পারেন। শুধু খেয়াল রাখুন, যত্নটা যেন নিয়মিত হয়; দু-এক দিন পরে থেমে গেলে চলবে না।

সাথে ছোট কিছু অভ্যাসও চুলের যত্নে বড় ভূমিকা রাখে। ম্যাসাজের সময় জোরে ঘষাঘষি বা টানাটানির দরকার নেই; আলতো ছোঁয়াই যথেষ্ট। ভেজা চুলে জোরে চিরুনি চালাবেন না, তোয়ালে দিয়েও জোরে ঘষবেন না। বার বার হিট দেওয়া এড়িয়ে চলুন। চুল খুব শক্ত করে বাঁধার অভ্যাস থাকলে, সেটাও একটু আলগা করুন। নিয়মিত তেল দেওয়ার পাশাপাশি এই অভ্যাসগুলো মেনে চললে চুলের যত্ন আরও সহজ হবে।

পরিবারের সবার এক তেল ব্যবহার করা 
হিমানী নবরত্ন প্লাস হেয়ারফল কন্ট্রোল কুলিং হেয়ার অয়েল মূলত নারীদের জন্য হলেও, পুরুষরাও এটি ব্যবহার করতে পারবেন। চুল লম্বা হোক বা ছোট হোক, ব্যবহার করতে পারবেন সবাই। কেউ মূলত চুল পড়া নিয়ে ভাবেন, কেউ ভাবেন রুক্ষ চুল নিয়ে, কেউ আবার গরমে শুধু একটু আরাম চান; এই তেল পূরণ করে সবার চাওয়াই। সবারই আছে রোদ আর ব্যস্ততা। তাই পরিবারের সবাই এই তেল ব্যাবহার করে নিজের যত্ন নিতে পারবেন।

নিয়মিত যত্নে চুল ভালো থাকলে সকালে আয়নার সামনে দাঁড়ানোর অনুভূতিও বদলে যায়। চিরুনির দিকে তাকাতে তখন আর ভয় লাগে না। অনুষ্ঠান, বিয়ের দাওয়াত কিংবা অফিসের মিটিং, সাজতেও ভালো লাগে।  আসল কথা, এই তেল ব্যবহারে দিনভর রোদ-গরমের পর আপনি পাচ্ছেন কুলিং রিফ্রেশিং মুড। তাই ব্যস্ত দিনের মাঝে নিজের চুলের যত্নে একটু সময় বের করে চুলের যত্ন নিন এবং চুল পড়া বন্ধ করুন। তাই আপনি আপনার এবং আপনার পরিবারের জন্য বেছে নিন হিমানী নবরত্ন প্লাস হেয়ারফল কন্ট্রোল কুলিং হেয়ার অয়েল।

প্রতিদিন হাততালি দিলে যে ৫ উপকার পাবেন

০

প্রতিদিন হাততালি দিলেই বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি মিলতে পারে। কারণ হাতে রয়েছে অসংখ্য স্নায়ু এবং রক্তনালীর প্রান্ত, যেগুলোকে বলা হয় আকুপ্রেশার পয়েন্ট। হাততালি দিলে সেই অংশগুলোতে ঘষা লাগে, চাপ পড়ে। তার ফলে স্নায়ু সক্রিয় হয়।

যেসব উপকার পাবেন

রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে: ছন্দ মেনে তালি বাজালে সারা শরীরে রক্ত চলাচল বাড়ে। এর ফলে দেহের প্রতিটি অংশ ও কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায়, যা হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ রাখতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

মনমেজাজ ভালো থাকে: এই অনুশীলনে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। তালি বাজালে শরীরে ‘এন্ডরফিন’ হরমোনের ক্ষরণ হয়, যা মন ভালো করে। মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ কমিয়ে মনকে শান্ত রাখতেও হাততালি দিতে পারেন।

শরীরের নমনীয়তা বৃদ্ধি: হাতের তালুর নিয়মিত সঞ্চালন অস্থিসন্ধির জড়তা কাটায় এবং পেশি শিথিল রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে অস্থিসন্ধি সচল থাকে, শরীরের নমনীয়তা বৃদ্ধি পায় এবং পেশির আঘাতের আশঙ্কা কমে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: তালি বাজানোর শারীরচর্চাতে অল্প হলেও ক্যালোরি ক্ষয় হয়। সহজ অভ্যাসটি মেদ ঝরাতে, ওজন নিয়ন্ত্রণে পরোক্ষে সাহায্য করে।

শরীর ঝরঝরে রাখে: তালি দেওয়ার অভ্যাস লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ বা শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় বা দূষিত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। দূষিত পদার্থ বের হলে শরীর তো ভালো থাকবেই।

হাততালি দিতে হবে সঠিক নিয়ম মেনে 
আনন্দবাজার পত্রিকায় বলা হয়েছে, সকালের দিকেই হাততালির অভ্যাস করা ভালো। হাতে নারকেল তেল বা পছন্দের যেকোনো তেল হালকা মালিশ করে নিন। শিরদাঁড়া সোজা করে পদ্মাসন বা বজ্রাসনে বসে হাততালি দেওয়া অভ্যাস করুন। প্রথমে ২-৩ মিনিট। পরের সপ্তাহে ৫ মিনিট। এই ভাবে ১০-১৫ মিনিট হাততালির অভ্যাস করুন।

উপগ্রহ চিত্রে গাজা ধূসর বালুকারাশি ইসরায়েলের গণহত্যার ৩ বছর

০

যেখানে একসময় শৈশবের দুরন্ত কোলাহল আর জীবনের ব্যস্ততা ছিল, আজ সেখানে কেবলই ধূসর বালুকারাশি। গাজার আঁকাবাঁকা গলি, হাজার বছরের প্রাচীন মসজিদ, সবুজ ফসলের ক্ষেত কিংবা ভূমধ্যসাগরের তীরে মাছ ধরার ব্যস্ত চত্বর– সব যেন এখন নিছক ইতিহাসের ধূসর পাতা।

আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, তিন বছর ধরে চলা ইসরায়েলের গণহত্যার পর অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা এখন কেবলই এক বিশাল ধ্বংসস্তূপ। গুগল ম্যাপসের নতুন উপগ্রহ চিত্রে ফুটে উঠেছে এমন এক নিদারুণ দৃশ্য, যেখানে দূর থেকে গাজার এক প্রান্তের সঙ্গে অন্য প্রান্তের পার্থক্য করাও অসম্ভব।

ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, পুরো অঞ্চলের বসতিগুলো মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রধান সড়কগুলোর অস্পষ্ট রেখা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। জাতিসংঘের উপগ্রহ কেন্দ্রের (ইউনোস্যাট) সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, এক বছর আগে নামমাত্র ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার পরও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা থামেনি। বরং তা আরও ৯ শতাংশ বেড়েছে। ফিলিস্তিন শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করা সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার দুই-তৃতীয়াংশই পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

তাল আস-সুলতান ও আল-মাওয়াসির চিত্র
দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফা একসময় লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল ছিল। কিন্তু রাফার পশ্চিমাঞ্চলের জনবহুল তাল আস-সুলতান এলাকাটি আজ বিলুপ্ত। উপগ্রহের ছবিতে ঘরবাড়ির বদলে কেবল বালুর স্তূপ দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে, রাফা ও খান ইউনিসের উপকূলীয় বালুময় অঞ্চল আল-মাওয়াসিকে ইসরায়েল তথাকথিত ‘মানবিক এলাকা’ ঘোষণা করলেও সেখানে দফায় দফায় বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক চিত্রে দেখা যায়, জনশূন্য অঞ্চলটি এখন প্লাস্টিক ও কাপড়ের তাঁবুতে ঠাসা। সেখানে ঠাঁই নিয়েছে লাখো গৃহহীন ফিলিস্তিনি পরিবার।

ধ্বংসপ্রাপ্ত মসজিদ ও গাজা বন্দর 
একসময় গাজার প্রধান কৃষিকেন্দ্র খান ইউনিসে ৫০ হাজারেরও বেশি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েলের হামলার মাত্র দুই বছর আগে পুনর্নির্মিত হওয়া ঐতিহ্যবাহী ইন্দোনেশীয় ইস্তিকলাল মসজিদটি পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে গাজা সিটির ঐতিহাসিক বন্দরটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অথচ এই বন্দরটি প্রায় এক লাখ ১০ হাজার মানুষের জীবিকার কেন্দ্র ছিল।

জাবালিয়া শরণার্থী শিবির
উত্তর গাজার অবস্থা আরও ভয়াবহ। মানবিক সহায়তাবিষয়ক জাতিসংঘ কার্যালয়ের মতে, উত্তরের প্রায় ৯৪ শতাংশ কৃষিজমি বিনষ্ট করা হয়েছে। আটটি বড় শরণার্থী শিবিরের মধ্যে সবচেয়ে বড় জাবালিয়া ক্যাম্পের একের পর এক ব্লক উপগ্রহ চিত্রে মাটির সঙ্গে মিশে যেতে দেখা গেছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের এই বর্বর হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। দখলদার দেশটির হামলায় আহত মানুষের সংখ্যা এক লাখ ৭৫ হাজারের বেশি। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা বহু মানুষের কোনো হদিস না থাকায় প্রকৃত প্রাণহানি আরও অনেক বেশি বলে ধারণা করা হয়। তথাকথিত যুদ্ধবিরতির পরও মৃত্যুর মিছিল থেমে নেই।

ত্রাণ সরবরাহে বাধা 
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তারা গাজায় প্রচুর ত্রাণ প্রবেশ করতে দিচ্ছে। তবে গাজা প্রশাসন একে বিভ্রান্তিকর হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। চুক্তির অধীনে দুই লাখ ১০ হাজার ৬০০টি ত্রাণের ট্রাক প্রবেশের কথা থাকলেও অনুমতি পেয়েছে মাত্র ৭২ হাজার ৮২৬টি (৩৩ দশমিক ৮ শতাংশ)।
এদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে শত শত ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর নজিরবিহীন সহিংসতা ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। নাবলুসের দক্ষিণে জালুদ গ্রামে গতকাল মঙ্গলবার শতাধিক ইসরায়েলি দখলদার একযোগে হামলা চালায়।

আদালতের আদেশে প্রায় দুই মাস পর একটি ফিলিস্তিনি পরিবার নিজ বাড়িতে ফিরে আসার সময়ই এই হামলার শিকার হয়। দখলদাররা সেখানে ঘরবাড়ি ও গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং এক প্রবীণ নারীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এই সহিংসতায় বাধা দিতে গিয়ে ইসরায়েলি সীমান্ত পুলিশের তিন সদস্য আহত হন এবং যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গাজার মানচিত্রের এই পরিবর্তন শুধু ভবন ধ্বংস নয়, একটি জাতির ইতিহাস ও স্মৃতি মুছে ফেলার এক নির্মম দলিল।