Home Blog Page 17

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ‘এক থাপ্পড়ে ঠিক করে দেব’—প্রকল্প পরিচালককে ঠিকাদার

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) এক প্রকল্প পরিচালককে হেনস্তা ও মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসানুর জামান মিন্টু নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বুধবার দুপুরে অধিদপ্তরের নিজ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের পরিচালক মোস্তফা কামাল। একটি ইলেকট্রনিক টেন্ডার নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

প্রকল্প পরিচালকের কক্ষে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার চার মিনিটের একটি ফুটেজে দেখা যায়, মিন্টু সেখানে বসে মুঠোফোনে কথা বলছেন। এ সময় প্রকল্পের একটি টেন্ডারে সাউন্ড সিস্টেম সরবরাহের ক্ষেত্রে আইএসও সনদ চাওয়ার শর্ত নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি এ শর্তের বিষয়ে আপত্তি জানান। একপর্যায়ে প্রকল্প পরিচালককে উদ্দেশ্য করে ‘এক থাপ্পড়ে ঠিক করে দেব’ বলতে শোনা যায়।

প্রকল্প পরিচালক মোস্তফা কামাল জানান, বুধবার দুপুরে তিনি নিজ কার্যালয়ে ঢোকার পরপরই তাঁর পেছনে পেছনে হাসানুর জামান মিন্টু ও মিলন নামে দুজন কক্ষে প্রবেশ করেন। তাঁরা প্রকল্পের চলমান একটি ইলেকট্রনিক টেন্ডার তাঁদের দেওয়ার কথা বলেন। জবাবে তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডারপ্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে যিনি যোগ্য বিবেচিত হবেন, তাঁকেই কাজ দেওয়া হবে।

মোস্তফা কামাল বলেন, এ সময় মিন্টু মুঠোফোনে একজনের সঙ্গে কথা বলেন। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে তাঁকে গালাগাল করা হয়। এতে তিনি বিব্রত বোধ করেন এবং ফোন রাখতে বলেন। পরে মিন্টু যেকোনোভাবে টেন্ডারটি দেওয়ার জন্য চাপ দেন। অন্যথায় তাঁকে থাপ্পড় মারার হুমকি দেন এবং মারতে উদ্যত হন বলে অভিযোগ করেন প্রকল্প পরিচালক।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার দুপুর ১টা ৪২ মিনিট থেকে ১টা ৪৬ মিনিট পর্যন্ত মিন্টু প্রকল্প পরিচালকের কক্ষে অবস্থান করেন। এ সময় টেন্ডারে আইএসও সনদ চাওয়ার শর্ত নিয়ে কথা হয়। প্রকল্প পরিচালক জানান, গণপূর্ত অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে আলোচনা করেই এ শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। তখন অপর ব্যক্তি ১৭ বছর বঞ্চিত থাকার কথা উল্লেখ করেন। জবাবে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘নেতা আমিও ছিলাম।’ এরপরই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনা ঘটে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসানুর জামান মিন্টু বলেন, ‘আমি কেন তাঁকে হুমকি দেব? থাপ্পড় দেওয়ার চেষ্টা করব কেন? এসব মিথ্যা। পিডির টেন্ডার দেওয়ার ক্ষমতা আছে। আমি তাঁকে থাপ্পড় দিতে যাইনি।’

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মোস্তফা কামাল আরও বলেন, তিনি ঘটনার প্রতিবাদ করলে মিন্টু তাঁকে নানা ধরনের হুমকি দেন।

রাষ্ট্র কাঠামো নয় শুধু চেয়ার বদল হয়েছে: হাসনাত আবদুল্লাহ

০

রাষ্ট্র কাঠামোকে ফিটনেসবিহীন গাড়ির সঙ্গে তুলনা করে এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, রাষ্ট্রকাঠামো নয় শুধু চেয়ার বদল হয়েছে। কেউ সংসদ সদস্য হয়েছেন, কেউ মন্ত্রী হয়েছেন; কিন্তু রাষ্ট্রের কাঠামোর কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফিটনেসবিহীন গাড়িতে দক্ষ চালক বসালেও গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। রাষ্ট্রের কাঠামো ঠিক না হলে সরকারও সফল হবে না।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জুলাই গণহত্যার বিচার: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ব্যবধান’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় হাসনাত আবদুল্লাহ এসব কথা বলেন। এনসিপির জুলাই গণহত্যা ও গুমের বিচার পর্যবেক্ষণবিষয়ক কমিটি এ সভার আয়োজন করে।

সরকারের মুখে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কথা থাকলেও তাদের অন্তরে আওয়ামী লীগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, বিএনপি সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের পরিবর্তে ক্ষমতাকেন্দ্রিক ব্যবসা ও দুর্নীতির পথে হাঁটছে। জুলাই গণহত্যার বিচারও দায়সারা বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ৫ আগস্টের পর বিএনপিতে যুক্ত হওয়া একটি অংশ ব্যবসায়িক সুবিধা এবং প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাচ্ছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের হত্যা মামলাগুলোর তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপির এই সংসদ সদস্য নেতা বলেন, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আলোচনা না করেই অনেক মামলায় ঢালাওভাবে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পরে এসব মামলা অর্থ আদায় ও আপস-বাণিজ্যের উপলক্ষ হয়ে উঠছে।

সরকারের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ডিলারশিপ ও সরকারি ঠিকাদারি কাজ বণ্টনে স্বজনপ্রীতিরও অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলে জবাবদিহি দাবি করেন এনসিপির এই নেতা।

আলোচনা সভায় এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল আমিন এমপি, যুগ্ম আহ্বায়ক আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন, যুগ্ম সদস্যসচিব হুমায়রা নূর, জুলাই শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

হাসানুল হক ইনুকে নেওয়া হলো ঢামেক হাসপাতালে

০

সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তত্ত্বাবধানে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সিআইডির পরিদর্শক নাসির উদ্দিন সরকার জানান, শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে হাসানুল হক ইনুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। পরে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে তাকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ইনুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে একাধিক মামলার বিচার চলছে।

আগের পাঁচ প্রকল্প ‘অসফল, আবার নতুন উড়াল সড়ক চট্টগ্রাম নগরীর যানজট নিরসন

চট্টগ্রাম নগরীর যানজট নিরসনে গত ১৫ বছরে পাঁচটি প্রকল্প হাতে নেয় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এসব প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নের মধ্যেই এবার অক্সিজেন মোড়ে প্রায় দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে আরেকটি উড়াল সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, শুধু উড়াল সড়ক নির্মাণ নয়, সমন্বিত পরিবহন পরিকল্পনাই হতে পারে যানজট নিরসনের কার্যকর পথ।

নগরের বিভিন্ন এলাকায় নির্মিত উড়াল সড়কগুলোর কোথাও সংযোগ সড়ক ও র‌্যাম্পের ঘাটতি, কোথাও নিচের সড়কে যানজট, আবার কোথাও ব্যয় বৃদ্ধি ও দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের অভিযোগ, এসব অবকাঠামো নির্মাণের ফলে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) ও মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) চালুর সুযোগও সংকুচিত হয়েছে। তাদের মতে, শুধু উড়াল সড়ক নির্মাণ করে যানজটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; প্রয়োজন সমন্বিত সড়ক ও গণপরিবহন ব্যবস্থা।

এমন পরিস্থিতিতে নগরের উত্তর প্রবেশদ্বার অক্সিজেন মোড়ে নতুন উড়াল সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সিডিএ। গত বছরের জুলাইয়ে প্রকল্পটির নকশা ও বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির কাজ শুরু হয়। শিগগিরই অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা রয়েছে।

প্রস্তাবিত উড়াল সড়কটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে। এর একটি র‌্যাম্প বায়েজিদ থেকে হাটহাজারী সড়কের সঙ্গে এবং অন্যটি কুয়াইশ সড়কের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। হাটহাজারী সড়ক থেকে বায়েজিদ ও মুরাদপুরের দিকে দুটি র‌্যাম্প থাকবে। কুয়াইশ সড়কও সরাসরি বায়েজিদের সঙ্গে যুক্ত হবে। ছয় লেনের কুয়াইশ সড়ককে উড়াল সড়কের সঙ্গে সমন্বিত করা হবে। সব মিলিয়ে প্রকল্পটির দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার।

সিডিএর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন গত সোমবার সমকালকে বলেন, ‘অক্সিজেনের উড়াল সড়ক প্রকল্পটি শিগগিরই মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আমি আশা করি, জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে এটি দ্রুত অনুমোদন পাবে। অনুমোদনের পর কম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করব।’

আগের উড়াল সড়কগুলোর অভিজ্ঞতার পর নতুন প্রকল্পটি কতটা সুফল দেবে, জানতে চাইলে বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘শহরে ইট-কংক্রিটের জঞ্জাল কম করতে পারলে ভালো। তবে অক্সিজেন মোড়ের উড়াল সড়কটি সময়ের দাবি। এটা থেকে সাত সড়কে সাতটি র‌্যাম্প নামবে। এতে যান চলাচল সহজ হবে।’

বাস টার্মিনাল চালু হলে কমবে যানজট
অক্সিজেন মোড়ের যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে সড়কের পাশে উত্তর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামগামী বাস এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ডকে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এসব স্ট্যান্ড থেকে যাত্রী ওঠানামা এবং সড়কের পাশে যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকার কারণে মোড়ে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

চট্টগ্রাম নগরের কুলগাঁও বালুচরা সিটি করপোরেশন বাস টার্মিনালটি চলতি মাসে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এটি চালু হলে উত্তর চট্টগ্রামগামী বাসগুলো টার্মিনালে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে। ফলে অক্সিজেন মোড়ের যানজট এমনিতেই কমে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক সুবীর মহাজন প্রতিদিন অক্সিজেন মোড় দিয়ে যাতায়াত করেন। তিনি বলেন, অক্সিজেন মোড়ে উত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার অর্ধডজন বাসের স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। গড়ে উঠেছে একাধিক সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ড। সড়কের পাশে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে বাস-অটোরিকশার যাত্রী তোলার কারণেই সেখানে বেশি যানজট হয়। তাই উড়াল সড়ক নির্মাণ নয়, মোড় থেকে যানবাহনের অবৈধ স্ট্যান্ড সরালে অর্ধেক যানজট কমে যাবে।

চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ও পরিবহন নেতা মোহাম্মদ শাহজাহানও বাস ও অটোরিকশার স্ট্যান্ডকে যানজটের অন্যতম কারণ বলে মনে করেন। তিনি বলেন, বাস-অটোরিকশা স্ট্যান্ডের কারণে মোড়ে যানজট হয়, এটা অস্বীকার করা যাবে না। তবে উত্তর চট্টগ্রামের যানবাহনের জন্য কুলগাঁও বালুচরা বাস টার্মিনালটি চলতি মাসেই উদ্বোধন ও পুরোদমে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। সেটি চালু হলে সব বাস টার্মিনালে চলে যাবে, এরপর অক্সিজেন মোড়ে যানজট থাকার কথা নয়।’

কুলগাঁও বাস টার্মিনাল চালু হলে যানজট কমতে পারে– এমন যুক্তির বিষয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বলেন, এটা ঠিক। তবে উড়াল সড়ক প্রকল্পটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। সব দিক বিবেচনা করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের নিচে যানবাহন বেশি
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সিডিএ পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে চারটি উড়াল সড়ক এবং লালখানবাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করে। উড়াল সড়কগুলো হলো বহদ্দারহাট, মুরাদপুর-লালখানবাজার, কদমতলী-ধনিয়ালাপাড়া ও দেওয়ানহাট। এসব অবকাঠামোর কোনোটিতে নির্দিষ্ট পথে যান চলাচল সহজ হলেও সামগ্রিক কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

চার হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে প্রথমে ১৫টি র‌্যাম্প নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। পরে ছয়টি র‌্যাম্প বাদ দেওয়া হয়। বাকি র‌্যাম্পগুলোর কাজ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা।

২০১৪ সালে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের ‘স্টেট অব দ্য সিটিজ: গভর্ন্যান্স ফর আ লিভেবল চিটাগং’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যস্ত সময়ে ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের সংখ্যা ওপর দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের তুলনায় ৩ দশমিক ৮৫ গুণ ছিল।

পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদরা ২০১৫ সালে মুরাদপুর-লালখানবাজার ফ্লাইওভার নির্মাণের সময় আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, এ ধরনের অবকাঠামো গণপরিবহনের বিকল্প ব্যবস্থা চালুর সুযোগ সীমিত এবং নিচের সড়কের জায়গা সংকুচিত করতে পারে। ২০১৮ সালে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের সময়ও সংগঠনটি যানজট কমাতে ফ্লাইওভারের পরিবর্তে গণপরিবহন ও পথচারীবান্ধব ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের দাবি, বর্তমানে এসব উড়াল সড়ক দিয়ে নগরের মাত্র ২ শতাংশ যানবাহন চলাচল করে।

সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর জোর
পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সহসভাপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া বলেন, অক্সিজেন মোড়ের প্রস্তাবিত উড়াল সড়কও আগের প্রকল্পগুলোর মতো অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে। এ প্রকল্পের আগে কয়েকটি বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি।

সুভাষ বড়ুয়া বলেন, কোন দিক থেকে কত যানবাহন আসে এবং কোন দিকে যায়, সে বিষয়ে হালনাগাদ ট্রাফিক সমীক্ষা প্রয়োজন। র‌্যাম্পগুলোর অবস্থান এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে বায়েজিদ, হাটহাজারী, মুরাদপুর ও কুয়াইশমুখী যানবাহনের চলাচল নির্বিঘ্ন থাকে। পাশাপাশি নিচের সড়কে বাস ও অটোরিকশার যাত্রী ওঠানামা, পার্কিং এবং পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ফুটপাত, সাইকেল চলাচল ও গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি বলেন, উড়াল সড়ক থেকে যানবাহন নেমে যদি সামনে এগোতে না পারে, তাহলে নিচের গোটা সড়ক অকার্যকর হয়ে পড়বে।

সুভাষ বড়ুয়া উদ্বেগ জানিয়ে আরও বলেন, মুরাদপুর-লালখানবাজার ফ্লাইওভার ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কারণে নগরে বিআরটি ও এমআরটি চালুর সুযোগ সংকুচিত হয়ে গেছে। শহরের সবচেয়ে বড় রিসোর্স হলো ভূমি। সেটাকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ব্যবহার করা না গেলে শহর অকার্যকর হয়ে পড়ে।

সব মিলিয়ে অক্সিজেন মোড়ের যানজট নিরসনে নতুন উড়াল সড়ক নির্মাণের আগে বিদ্যমান যানবাহনের চাপ, বাস টার্মিনালের সম্ভাব্য প্রভাব এবং গণপরিবহন ও পথচারীদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বিবেচনায় নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

প্রতিদিন পেয়ারা খেলে যেসব উপকার মেলে

আজকাল সারা বছরই পেয়ারা পাওয়া যায়। স্বাদে মিষ্টি এই ফলটি পুষ্টিগুণেও ভরপুর। পেয়ারা ভিটামিন সি, ফাইবার, পটাশিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে সমৃদ্ধ একটি ফল। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এই ফল রাখলে শরীরের একাধিক উপকার মেলে। যেমন-

হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে: পেয়ারায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকায় অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় থাকে। সেই সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। এই ফল খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে। এর ফলে বারবার খিদে পাওয়ার প্রবণতা কমে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে: পেয়ারার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ভিটামিন সি। এটি শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে কার্যকর রাখতে ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে ত্বকের কোলাজেন তৈরিতেও ভিটামিন সি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পেয়ারায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতেও সহায়তা করে।

হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে: পেয়ারায় থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতে থাকা ফাইবার রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এর পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন জরুরি।

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: পেয়ারায় ফাইবার থাকায় একটি গোটা ফল খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। এ কারণে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে পেয়ারা রাখতে পারেন।

ওজন নিয়ন্ত্রণেও উপকারী: তুলনামূলকভাবে কম ক্যালোরি এবং বেশি পরিমাণে ফাইবার থাকায় পেয়ারা খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভর্তি থাকার অনুভূতি হয়। তখন অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্যও পেয়ারা ভালো বিকল্প হতে পারে।

প্রতিদিন কতটা পেয়ারা খাবেন

পেয়ারা পুষ্টিকর ফল হলেও অতিরিক্ত খেলে পেট ফাঁপা, গ্যাস বা পেটের অস্বস্তি হতে পারে। সাধারণভাবে, দিনে একটি মাঝারি আকারের পেয়ারা অথবা এক কাপ কাটা পেয়ারা খেতে পারেন। যদের কিডনির সমস্যা রয়েছে তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে পেয়ারা খাওয়া উচিত।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৯ জনের মৃত্যু হাসপাতালে ভর্তি ১৯৫৪

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৫৪ জন। গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৩১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরের প্রথম ১২ দিনে মারা গেছে ৭১ জন। এছাড়া সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এতে বলা হয়, গত সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল আটটা প্রর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৯৫৪ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৩৯৬ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৯৬৫ জন। এ পর্যন্ত মোট ৯৭ হাজার ২৯৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে ৮৪৫ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ৩১৮ জন, খুলনায় ২৩০ জন, বরিশালে ১৯৬ জন, রাজশাহীতে ১৮৪ জন, ময়মনসিংহে ৯৭ জন এবং রংপুরে ৭১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

আসিফ মাহমুদ ‘জুলাই গণহত্যার বিচারের ভয়েই প্রবাসে বসে উসকানি-সন্ত্রাস চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ’

০

জুলাই গণহত্যার বিচারের মুখোমুখি হওয়ার ভয় থেকেই আওয়ামী লীগ প্রবাসে বসে উসকানি, অপপ্রচার ও সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

 

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে তিনি এমন কথা জানান।

 

নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হেনস্তা ও আক্রমণাত্মক স্লোগান দেওয়ার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, হুইলচেয়ারে থাকা একজন ব্যক্তিকে ঘিরে ধরে তার চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা এবং আক্রমণাত্মক স্লোগান দেওয়া রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও মানবিক মর্যাদার সব সীমা লঙ্ঘন করেছে। আওয়ামী লীগের এ ধরনের আচরণ তাদের দীর্ঘদিনের অসহিষ্ণু ও সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের মুখে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা দেশে-বিদেশে জুলাইয়ের নেতৃত্ব ও শক্তিকে হেনস্তা এবং অপদস্থ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জেনেভা, লন্ডন ও নিউইয়র্কে জুলাইয়ের নেতৃবৃন্দের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনাগুলো একই ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত বহন করে।

 

আসিফ মাহমুদের অভিযোগ, ‘জুলাই গণহত্যা ও দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অপরাধের বিচারের মুখোমুখি হওয়ার ভয় থেকে তারা প্রবাসে বসেও বিভ্রান্তি, অপপ্রচার, উসকানিমূলক ও সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে।’

 

তিনি বলেন, এসব অপতৎপরতার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে দমন করা যাবে না। গণহত্যার বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রশ্নে কোনো আপসের সুযোগ নেই।

 

নিউইয়র্কের ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান আসিফ মাহমুদ। একই সঙ্গে ঘটনার তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সহযোগিতা চাওয়ার কথাও বলেন তিনি।

 

বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বসহ জুলাই গণহত্যার মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা, আইনি সহযোগিতা ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।

 

আসিফ মাহমুদ বলেন, সরকার কেবল বিবৃতি দিয়ে দায়িত্ব শেষ করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কূটনৈতিক তৎপরতা ও কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও জবাবদিহির আকাঙ্ক্ষা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রকে দৃঢ় ভূমিকা নিতে হবে। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিচার এবং জুলাই গণহত্যার দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।

সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সপ্তম বৈঠক বিরোধী দলকে নিয়েই সংবিধান সংশোধন চাই : সালাহউদ্দিন আহমদ

সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণের জন্য সরকার অপেক্ষা করবে। তবে তারা অংশ না নিলেও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ থেমে থাকবে না বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, আমরা চাই সরকারি দল, বিরোধী দলসহ সবাই মিলে সমঝোতার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে সংবিধান সংশোধন গ্রহণ করুক। বিরোধী দলকে আমরা বারবার আহ্বান জানিয়েছি, তারা যেন আলোচনায় অংশ নেয়। তবে তারা একান্তই না এলে আমাদের সাংবিধানিক সংশোধন তো নিতেই হবে। এটা জাতির প্রত্যাশা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। এটা আমাদের অঙ্গীকার।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সপ্তম বৈঠক শেষে সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, কমিটির সদস্য এমপি জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং এমপি মো. মাহমুদুল হক রুবেল অংশগ্রহণ করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন হয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে। ওই কমিশনের সহ-সভাপতি ছিলেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং সভাপতি ছিলেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এখন সরকার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে। বিরোধী দলকে কমিটিতে প্রতিনিধি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিনিধি দিলে তাদের আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের অধিবেশনসহ প্রতিটি বৈঠকে বিরোধী দলকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা চাইলে লিখিত মতামতও দিতে পারে। সংবিধান সংশোধনের প্রতিবেদন প্রণয়নের পর সংসদে সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হলে সেখানেও বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ও আলোচনায় ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।বিশেষ কমিটির বৈঠকে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, জাতীয় অধ্যাপক, সাবেক উপাচার্য, শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীরা অংশ নেন। বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ ও জ্ঞানসমৃদ্ধ উল্লেখ করে কমিটির সভাপতি বলেন, অংশগ্রহণকারীদের অনেকে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। অন্যরাও আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে লিখিত মতামত দেবেন বলে জানিয়েছেন। বৈঠকে সংবিধানের বিভিন্ন অংশে জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়গুলো কীভাবে প্রতিফলিত করা যায়, সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও এখতিয়ার, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব আরও সুস্পষ্ট করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে সংশোধনের যে বিধান রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা মতামত দিয়েছেন। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের গণভোট-সংক্রান্ত বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আদালতের রায়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে যে পরিবর্তন এসেছে, তা আইনসভার মাধ্যমে কীভাবে বিবেচনা করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কঠোরতা কিংবা অতিরিক্ত নমনীয়তাÑকোনোটিই যেন তৈরি না হয়, সে বিষয়ে বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে মতামত এসেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, এর গঠনপ্রক্রিয়া ও বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা মতামত দিয়েছেন।

জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে যাওয়ার যে বিধান ছিল, তা বিলুপ্ত করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। আগের বিকল্পগুলোতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত না হলে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে বিচার বিভাগের ভূমিকা রাখার বিষয়টি নিয়েও আলোচনায় মতামত এসেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখিত প্রস্তাব এখনও পাওয়া যায়নি। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও এখতিয়ার প্রসঙ্গে কমিটির সভাপতি বলেন, সংবিধানের ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের ক্ষমতা এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামো-সংক্রান্ত বিষয়ে বিচার বিভাগের এখতিয়ার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতের পাশাপাশি রাষ্ট্রের এক অঙ্গ যেন অন্য অঙ্গের ওপর অযাচিত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে না পারে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী ২৪ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধি, বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে দিনব্যাপী আলোচনার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য শোনা, তা রেকর্ড করা এবং বিস্তারিত পর্যালোচনার সুযোগ রাখতেই দিনব্যাপী আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বৈঠকে জাতীয় অধ্যাপক মাহবুবুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ, প্রফেসর সলিমুল্লাহ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, প্রফেসর গীতি আরা নাসরিন, প্রফেসর সামিয়া লুৎফা, অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান, অধ্যাপক কে এইচ লুৎফুল এলাহী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মো. রেজাউল করিম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি একরামুল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম ও অধ্যাপক শামীমা সুলতানাসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর মামুন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর মোহাম্মদ একরামুল হক, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর নেসার ইউ আহমেদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। কমিটির সভাপতি বলেন, শিক্ষাবিদদের লিখিত ও মৌখিক মতামত পর্যালোচনা করে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত করার বিষয়ে কমিটিতে আলোচনা করা হবে। জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়গুলোর পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রয়োজন, নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের প্রত্যাশার ভিত্তিতে আরও কিছু বিষয় সংশোধনী প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন হতে পারে।