Home Blog

চাঁদপুরে সড়ক-ফুটপাতের দখলদারদের চিহ্নিত করতে আদালতের নির্দেশ

চাঁদপুরের বাবুরহাট এলাকায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধিগ্রহণ করা জমি এবং ফুটপাত দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের ঘটনায় দখলদারদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আগামী ১২ নভেম্বরের মধ্যে সরেজমিন তদন্ত করে অবৈধ স্থাপনা ও দখলদারদের নাম-ঠিকানাসহ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

চাঁদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুজাহিদুর রহমান স্বাক্ষরিত আদেশে জেলা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির ফখরুদ্দিন আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আদালতের আদেশে বলা হয়, গত ২৪ আগস্ট চাঁদপুর পৌরসভার বাবুরহাট এলাকায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধিগ্রহণ করা জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। তবে চাঁদপুর-মতলব সড়কের বাবুরহাট বাজারসংলগ্ন পশ্চিম পাশে সড়ক বিভাগের জমি ও জনসাধারণের চলাচলের ফুটপাত দখল করে আবারও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে।

আদেশে আরও বলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা বাবুরহাটে সড়ক সংকুচিত হয়ে নিয়মিত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে যানবাহন ও পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জনদুর্ভোগ বাড়ছে। সরকারি জমি উচ্ছেদের পর পুনরায় দখল এবং সড়ক-ফুটপাত দখল করে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে সরকারি জমি দখলমুক্ত রাখা এবং যানবাহন ও পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আদালত।

আদেশ অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বরের মধ্যে সরেজমিন তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট এলাকার অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি দখলদারদের নাম-ঠিকানাসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের জন্য জেলা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সেঞ্চুরির যে তালিকায় তামিমের পরেই সাদমান

০

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশের ওপেনারদের মধ্যে নতুন উচ্চতায় উঠেছেন সাদমান ইসলাম। টেস্টে ওপেনার হিসেবে তিনটি সেঞ্চুরি নিয়ে এখন এই তালিকায় তার অবস্থান দ্বিতীয়। ১০টি শতক নিয়ে সবার ওপরে আছেন তামিম ইকবাল।

প্রথম দিনের খেলা শেষে ৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন সাদমান। ফলে রাতভর অপেক্ষা ছিল ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরির। দ্বিতীয় দিনের শুরুতে জশুয়া বিশপের করা ওভারের দ্বিতীয় বলে দুই রান নিয়ে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছে যান বাঁহাতি এই ওপেনার। তবে সেঞ্চুরির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ১০৫ রান করে বিশপের বলেই এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে এটিই ছিল ক্যারিবীয় এই বোলারের প্রথম উইকেট।

সেঞ্চুরির পথে শুরুটা অবশ্য সহজ ছিল না সাদমানের। গতকাল তানজিদ হাসানের সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধনে নেমে ক্যারিবীয় পেসারদের চাপে পড়েন তিনি। ১৬তম বলে প্রথম রান নেন। বাংলাদেশের ইনিংসের প্রথম বাউন্ডারিটি আসে নবম ওভারে, সেটিও সাদমানের ব্যাট থেকে। অর্ধশতকে পৌঁছাতে তার লাগে ৯৪ বল। আর সেঞ্চুরির দেখা পান ২২১ বলে।

বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে ওপেনারদের মধ্যে ইমরুল কায়েস ও মাহমুদুল হাসানের রয়েছে দুটি করে সেঞ্চুরি। তাদের ছাড়িয়ে তিনটি শতক নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন সাদমান।

২৭২ রানেই অলআউট বাংলাদেশ

০

মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা জাগিয়েও তা কাজে লাগাতে পারল না বাংলাদেশ। সাদমান ইসলামের সেঞ্চুরির পর ব্যাটিং ধসে মাত্র ৫৯ রান যোগ করতেই শেষ সাতটি উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় দিনের সকালে একের পর এক উইকেট হারিয়ে ২৭২ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস।

আগের দিনের ৩ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। দিনের প্রথম ওভারেই দুই রান নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সাদমান। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি এই বাঁহাতি ওপেনার। ১০৫ রানে অভিষিক্ত জশুয়া বিশপের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি। তার বিদায়ের পরই শুরু হয় বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়।

সাদমানের পর দ্রুতই সাজঘরে ফেরেন তাওহিদ হৃদয়। আগের দিন পেশিতে টান লাগায় ৪২ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন তিনি। সাদমান আউট হওয়ার পর আবার ব্যাটিংয়ে ফিরলেও কোনো রান যোগ করতে পারেননি হৃদয়। বিশপের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন এই ব্যাটার। এরপর লিটন দাসকে সঙ্গ দিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে জোমেল ওয়ারিক্যানের সোজা ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ১৫ রানেই থামতে হয় তাকে। লিটনের সঙ্গে তার ৩২ রানের জুটিটি স্থায়ী হয় ৭১ বল।

মিরাজের বিদায়ের পর নাঈম হাসানও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। শামার জোসেফের ১৪১.২ কিলোমিটার গতির ডেলিভারিতে ব্যাটের বাইরের কানায় লাগিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি। ১২ বলে ৫ রান করে ফেরেন নাঈম। এরপর একই বোলারের শিকার হন হাসান মাহমুদ। তার ব্যাট থেকে আসে ৬ রান। শেষ দিকে জোমেল ওয়ারিক্যানের ঘূর্ণিতে ফিরেছেন তাইজুল ইসলামও। উইকেটকিপার আমির জাঙ্গুর হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এক প্রান্ত আগলে রাখার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত ইনিংস বড় করতে পারেননি লিটন দাস। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১০৫ রান করেন সাদমান। লিটন করেন ৩২ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে জোমেল ওয়ারিক্যান পাঁচটি এবং শামার জোসেফ তিনটি উইকেট নেন। অভিষিক্ত বিশপ পান দুটি উইকেট।

মেট্রোরেল প্রকল্পে কোরিয়ার অর্থায়ন নিয়ে জটিলতা

০

রাজধানীর পশ্চিম অংশ গাবতলী থেকে পূর্ব অংশ দাশেরকান্দি পর্যন্ত মেট্রোরেল যোগাযোগ উন্নয়নে নেওয়া প্রকল্প এমআরটি-৫ (দক্ষিণ) বাস্তবায়ন নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে। এর কারণ, প্রকল্পের যৌথ অর্থায়নকারী দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) থেকে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগ করার পরও ঋণচুক্তির বিষয়ে কোনো সাড়া দিচ্ছে না কোরিয়া। এই জটিলতা কাটাতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কোরিয়া যাচ্ছেন আগামী শনিবার। অর্থমন্ত্রী বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান সফরে রয়েছেন। সেখান থেকে সিউলে যাওয়ার কর্মসূচি রয়েছে তাঁর।

এমআরটি-৫ (দক্ষিণ) প্রকল্পে ১১০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার কথা ইডিসিএফের। স্থানীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। সম্ভাব্য ৪৭ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পে ৩০০ কোটি ডলার দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এডিবি ঋণচুক্তির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয়ের বাকি অর্থ ১৫ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব জোগান থেকে দেওয়ার কথা।

প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, মৌলিক প্রকৌশল নকশা, দরপত্র, ভূমি অধিগ্রহণ পরিকল্পনা ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন-সংক্রান্ত পরিকল্পনার কাজ শেষ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গত ১৬ সেপ্টেম্বর একনেক বৈঠকে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। অবশ্য এর নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ ‍সালে। ২০২২ সালে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করা হয়। সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিস্তারিত নকশার জন্য মোট ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রকল্পটির অনুমোদন আটকে যায়। পরে ব্যয় কমিয়ে একনেকে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সাড়া না পাওয়ায় একনেকে ওঠানো যায়নি। অবশ্য, ওই সময় প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৫৫ হাজার কোটি টাকা। একনেকে অনুমোদনের আগে সাত হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা কমিয়ে ৪৭ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা করা হয়।

ইআরডি সূত্র জানায়, এমআরটি লাইন-৫ (দক্ষিণ) প্রকল্পে এডিবির সঙ্গে সহঅর্থায়নকারী হওয়ার জন্য কোরিয়া আগ্রহ দেখিয়েছিল। ইআরডির সঙ্গে আলোচনায় ১১০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানায়। নিয়ম অনুযায়ী একটি কাঠামো চুক্তিও হয়। সেভাবেই প্রকল্প তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু এখন আর তারা সাড়া দিচ্ছে না। কোরিয়ার প্রস্তাবিত ঋণ নমনীয় বা সহজ শর্তের। সুদের হার মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। ১৫ বছরের রেয়াতকালসহ ৪০ বছরে এই ঋণ পরিশোধের কথা।

ইআরডির পক্ষে ইডিসিএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে থাকে সংস্থার এশিয়া উইং। এই উইংয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা গত সোমবার সমকালকে বলেন, ঋণচুক্তির বিষয়ে গত কয়েক মাসে অন্তত চার দফা চিঠি দেওয়া হয়েছে ইআরডির পক্ষ থেকে। কিন্তু কোনো জবাব আসেনি কোরিয়ার কাছ থেকে। ঢাকায় ইডিসিএফ বাংলাদেশ আবাসিক মিশনেও যোগাযোগ করা হয়। তবে মিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রধান কার্যালয় থেকে কোনো জবাব না আসা পর্যন্ত তারা কিছু বলতে পারছে না। এ রকম একটা পরিস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন। অর্থমন্ত্রী এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপান সফরে রয়েছেন। ২৯ অক্টোবর সরকারি সফর শেষ করার পরদিন তিনি দক্ষিণ কোরিয়া যাবেন। এর পর ৩১ অক্টোবর থেকে তাঁর সরকারি সফর শুরু হবে।

জানা গেছে, অর্থমন্ত্রী কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। মেট্রোরেল প্রকল্পের ঋণ নিয়ে আলোচনা ছাড়াও কোরিয়া সরকারের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা নিয়ে আলোচনা করবেন। তিনি স্যামসাং, এলজির মতো দক্ষিণ কোরিয়ার কয়েকটি বড় কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

মেট্রোরেল-৫ (দক্ষিণ) লাইন প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী গাবতলী থেকে দাশেরকান্দিতে যাওয়া যাবে মাত্র ২৮ মিনিটে। পরিবহন ব্যয়ও কমবে। রুটে প্রতিদিন যাতায়াত করবেন ৯ লাখ ২৪ হাজার যাত্রী। প্রতিটি ট্রেনে যাত্রী ধারণক্ষমতা থাকবে দুই হাজার ৩১২ জন। মোট স্টেশন থাকবে ১৫টি।

গাবতলী থেকে টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজগেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাবনগর, আফতাবনগর সেন্টার, আফতাবনগর পূর্ব, নাছিরাবাদ ও সর্বশেষ স্টেশন হবে দাশেরকান্দি। দৈর্ঘ্য হবে ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার পাতালপথ। উড়ালপথ ৪ দশমিক ১০ কিলোমিটার। পাতাল স্টেশন হবে ১১টি। উড়াল স্টেশন হবে চারটি।

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সড়কে গাড়ি চলাচল কমবে এক হাজার ৪৯টি। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে বাতাসে দুই লাখ আট হাজার টন কার্বন নিঃসরণ কমাতে পারবে। ২০৩০ সালের জুনে এই মেট্রোরেল নগরবাসীর ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়ার কথা। তবে প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০৩২ সাল পর্যন্ত। এটি মেট্রো লাইন-৫ (উত্তর) ও মেট্রো লাইন-২-কে সংযুক্ত করবে। এর ফলে গোটা রাজধানীই মেট্রোরেল অবকাঠামোর আওতায় আসবে।

জিটুজি পদ্ধতিতে গম আমদানির পুরোটাই আসছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান একটি থেকে দুটি উন্নীত

০

সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৭ লাখ টন গম আমদানি করা হচ্ছে। এর পুরোটাই আসবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। দেশটি থেকে গম আমদানির জন্য এতদিন অনুমোদিত ছিল একটি প্রতিষ্ঠান। এখন আরও একটি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়ায় দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপ্রস্তাব নিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতার কাছ থেকে গম কেনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এ-সংক্রান্ত এক প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। গতকাল বুধবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালিভাবে অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে জিটুজি ভিত্তিতে গম আমদানির লক্ষ্যে ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েশন অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান অ্যাগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল পিটিই লিমিটেড এবং লুই ড্রেফাস কোম্পানি (এলডিসি) থেকে মূল্য প্রস্তাব নেওয়া হবে।

সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালায় জিটুজি পদ্ধতিতে একাধিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপ্রস্তাব নেওয়া কিংবা সর্বনিম্ন দরদাতার সঙ্গে দর-কষাকষির বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। এ কারণে দুটি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপ্রস্তাব নিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতার সঙ্গে দর-কষাকষির জন্য অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন নেওয়া হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, সরকারিভাবে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে ৮ লাখ টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত রয়েছে। এর মধ্যে জিটুজি পদ্ধতিতে ৭ লাখ টন গম আমদানির জন্য গত ২০ মে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদন নেওয়া হয়।

নথিতে বলা হয়েছে, সরকারি মজুত বাড়ানো এবং সরকারি খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থা সচল রাখতে দ্রুত ও প্রতিযোগিতামূলক দামে গম সংগ্রহের জন্য প্রতি বছর জিটুজি এবং আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে খাদ্যশস্য আমদানি করে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে জিটুজি ভিত্তিতে গম আমদানির লক্ষ্যে গত বছরের ২০ জুলাই দেশটির গম রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করে বাংলাদেশ। পরে সংগঠনটি অ্যাগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল পিটিই লিমিটেডকে ২০২৫ থেকে ২০৩০ অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য অনুমোদিত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্ধারণ করে।

এর পর ট্রেড নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৭ লাখ ৪ হাজার টন গম আমদানি করা হয়। ওই গম সরবরাহের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে অ্যাগ্রোকর্প। চলতি অর্থবছরেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টন গম আমদানির কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। অ্যাগ্রোকর্পের পাশাপাশি লুই ড্রেফাস কোম্পানিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম সরবরাহের জন্য অনুমোদন দেওয়া হলো।

বাংলাদেশি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা পাল্টা শুল্ক কমানোর দর-কষাকষিতে সুবিধা পেতে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরকারি পর্যায়ে গম আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর আওতায় পাঁচ বছর মেয়াদে প্রতিবছর ৭ লাখ টন করে গম আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ।

তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানিতে অন্য উৎসের তুলনায় সরকারের বাড়তি খরচ হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অন্যান্য দেশ থেকে যে দামে গম কেনা হয়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনতে প্রতি টনে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ মার্কিন ডলার বেশি ব্যয় হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গমের মান ভালো একাধিকবার সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে সমকালকে বলেন, ‘আমরা রাশিয়া বা অন্যান্য দেশ থেকে তুলনামূলক কম দামে গম আমদানি করতাম। কিন্তু সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির বিষয়টি শুধু দামের ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, অন্যান্য স্বার্থ এবং রাজনৈতিক চুক্তির মতো অনেক বিষয় জড়িত। তাছাড়া বাংলাদেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছিল, সেটিও বিবেচনার বিষয়।’

আরবদের সঙ্গে জোটে আপত্তি ইসরায়েলি নেতাদের মনোভাব বর্ণবাদী: সামি আবু শেহাদেহ

নির্বাচনে কোনো সুস্পষ্ট বিজয়ী উঠে না আসার পর, জনমত জরিপে রেকর্ডসংখ্যক সমর্থনের কারণে ইসরায়েলের পরবর্তী পার্লামেন্টে (নেসেট) ‘কিংমেকার’ হতে পারে আরব দলগুলো। এমন সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও, আরব দলগুলোর সাথে জোট গঠন করতে অস্বীকৃতি জানানোর জন্য ইসরায়েলের প্রধান রাজনৈতিক নেতাদের নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির বালাদ পার্টির নেতা সামি আবু শেহাদেহ। তাদের মনোভাবকে বর্ণবাদী বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ফিলিস্তিনি আরব। এত বড় জনগোষ্ঠী থাকা সত্ত্বেও তাদের বৈধ রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘এটি বর্ণবাদ। আমরা জাতীয় সংখ্যালঘুদের বৈধভাবে নির্বাচিত নেতৃত্ব। আমাদের জনগণের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ আমাদের নেতৃত্ব হিসেবে বেছে নিয়েছে।’

আরব দলগুলো এবার রেকর্ড ১৯টি আসনে জয় পেতে যাচ্ছে। এর ফলে ইসরায়েলের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৮৫ শতাংশ ভোট গণনার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট অন্তত ৫৩টি আসনে এগিয়ে ছিল। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছিল ৪৮টি আসন। ইসরায়েলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। কিন্তু কোনো জোটই তখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলিরা একটি শক্তিশালী ডানপন্থি সরকার বেছে নিয়েছে। অন্যদিকে আইজেনকোটের দাবি, মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছে।

জয়েন্ট লিস্টের তিনটি দলের একটি হলো বালাদ। দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন আবু শেহাদেহ। তবে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেননি। কট্টর ডানপন্থি নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের অনুরোধে ইসরায়েলের নির্বাচন কমিশন আবু শেহাদেহকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার পক্ষে রায় দেয়। বেন-গভির অভিযোগ করেন, আবু শেহাদেহ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলাকে সমর্থন করেছিলেন।

এই অভিযোগের পক্ষে তিনি হামলার পরদিন প্রকাশিত আবু শেহাদেহর একটি নিবন্ধের কথা উল্লেখ করেন। ওই নিবন্ধে আবু শেহাদেহ হামলাটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

পরে আবু শেহাদেহ সুপ্রিম কোর্টকে বলেন, আমি সশস্ত্র সংগ্রামকে সমর্থন করি না। তবে তিনি স্বীকার করেন, নিবন্ধটির একটি অনুচ্ছেদের ভাষা সঠিক ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমার উদ্দেশ্য ছিল সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে বিষয়টিকে একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার দিকে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো।’

অক্টোবরে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের একটি প্যানেলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য তাকে অযোগ্য ঘোষণার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করতে পারেন বলে মনে হচ্ছিল। এ পরিস্থিতিতে আবু শেহাদেহ নিজেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

তবে তিনি অযোগ্য ঘোষণার পক্ষে দেওয়া যুক্তিগুলো প্রত্যাখ্যান করেন। তার অভিযোগ, ‘আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, ইসরায়েলে দুটি ভিন্ন বিচারব্যবস্থা রয়েছে—একটি ইহুদিদের জন্য, অন্যটি আরবদের জন্য।’

আল জাজিরাকে আবু শেহাদেহ বলেন, ইসরায়েলের আরব ফিলিস্তিনি সংখ্যালঘুদের নিয়ে আমরা অত্যন্ত গর্বিত। তারা বিপুল সংখ্যায় ভোট দিতে গিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, “ভোটারদের কাছে আমাদের প্রথম প্রতিশ্রুতি ছিল নেতানিয়াহু এবং কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ও ইতামার বেন-গভিরকে ক্ষমতায় ফেরা থেকে ঠেকানো। আমরা তাদের ‘অপরাধীদের চক্র’ বলে উল্লেখ করেছি। তাই আমরা এখন থেকেই আমাদের প্রথম প্রতিশ্রুতি রক্ষার কাজ শুরু করতে পারি।”

আরব দলগুলো নির্বাচন ‘চুরি’ করেছে: নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি

নির্বাচনে কোনো সুস্পষ্ট বিজয়ী উঠে না আসার পর, জনমত জরিপে রেকর্ডসংখ্যক সমর্থনের কারণে ইসরায়েলের পরবর্তী পার্লামেন্টে (নেসেট) ‘কিংমেকার’ হতে পারে আরব দলগুলো। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাপক ভোট জালিয়াতি ও ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তুলে পুলিশ ও দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের তদন্ত দাবি করেছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। দলটির অভিযোগ, আরব দলগুলো নির্বাচন ‘চুরি’ করেছে।

বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে লিকুদ পার্টি দাবি করে, ঘুষ, হুমকি, সহিংসতা, জালিয়াতি এবং ভোটারদের সংগঠিত করতে অবৈধ সফটওয়্যার ব্যবহারের মতো গুরুতর অপরাধের মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রভাবিত করা হয়েছে। দলটি আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েল রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগও আনে।

তবে এর কয়েক ঘণ্টা আগে চ্যানেল টুয়েল্ভ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের (সিইসি) এক কর্মকর্তা ভোট জালিয়াতির অভিযোগ নাকচ করেছিলেন।

নিয়মিত নির্বাচনে অংশ নেওয়া আরব নেতৃত্বাধীন দল রাআম (Ra’am) ও জয়েন্ট লিস্ট মঙ্গলবার রেকর্ডসংখ্যক ভোট পেয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, জোট দুটি ১৯টি আসন পেতে পারে। বর্তমানে তাদের সম্মিলিত আসনসংখ্যা ১০।

এই ফলাফল কার্যকর হলে নেতানিয়াহুর জোট কিংবা তার বিরোধী ইহুদি-নেতৃত্বাধীন দলগুলো—কোনো পক্ষের পক্ষেই সহজে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা সম্ভব হবে না। তবে আরব দলগুলোর সমর্থন পেলে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট সরকার গঠনের সুযোগ পেতে পারেন।

বিরোধী দলগুলোর কয়েকটি অবশ্য আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় নেতানিয়াহু ও তার দলও এমন সম্ভাবনাকে বারবার নাকচ করার চেষ্টা করেছে।

মঙ্গলবার ভোট গ্রহণের আগেই হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, নেতানিয়াহু নির্বাচনে জয়ী না হলে আরব অধ্যুষিত এলাকাগুলোর ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করতে পারে লিকুদ। দলটি নির্বাচন ‘চুরি’ হওয়ার অভিযোগও তুলতে পারে। এ জন্য তারা আগেই বিভিন্ন অভিযোগ ও জালিয়াতির দাবি প্রস্তুত করে রেখেছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

ভোট জালিয়াতির অভিযোগে তদন্ত দাবি
বুধবারের বিবৃতিতে লিকুদ জানায়, তারা পুলিশ, শিন বেত ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে ‘শত শত সাক্ষ্য’ এবং অন্যান্য প্রমাণ জমা দিয়েছে।

দলটির দাবি, এসব প্রমাণের মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ ও রাআম দলের স্লিপসহ হাজার হাজার খাম, ভোটকেন্দ্রের কর্মকর্তাদের হুমকি ও তাদের ওপর হামলা, ভোট দেওয়ার গোপন কক্ষে একাধিক ভোটারের উপস্থিতি, একই ব্যক্তির একাধিকবার ভোট দেওয়া এবং খামের সংখ্যা ও ভোটারের সংখ্যার মধ্যে অসংগতি।

এ ছাড়া ভোটারদের সংগঠিত করতে অবৈধ সফটওয়্যার ব্যবহারের অভিযোগও তুলেছে দলটি। লিকুদ এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেছে।

জবাবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানায়, প্রতিটি নির্বাচনের মতো এবারও নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠুতা যাচাইয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দলের উত্থাপিত অভিযোগ এবং ভোটের ফলাফলে সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে।

কমিশন আরও জানায়, নির্বাচনের দুই দিন আগে ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ডিন লিভন সব নির্বাচনী তালিকাকে এ প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন। যেসব ভোটকেন্দ্রের ফলাফল পুনরায় পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে দলগুলো মনে করে, সেগুলোর বিস্তারিত তথ্যও চাওয়া হয়েছিল।

কমিশনের ভাষ্য, লিকুদের অভিযোগ তারা পেয়েছে এবং নিয়মিত পর্যালোচনা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সেগুলো পরীক্ষা করছে।

‘আমাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে’
নির্বাচনে জোট গঠন নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিন বলেছেন, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধীদের নেতৃত্বাধীন সরকারকে সহযোগিতা করতে তারা প্রস্তুত। তবে সরাসরি কোনো সরকারি জোটে যোগ দেওয়ার পক্ষে নন তারা।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জাবারিন বলেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে গাজায় চলমান যুদ্ধ, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন এবং অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় আমরা ইসরায়েলের কোনো সরকারি জোটের অংশ হওয়ার সম্ভাবনা দেখছি না।’

তবে তিনি মনে করেন, ইসরায়েলের জনগণ নতুন নেতৃত্বের পক্ষে ভোট দিয়েছে। তাই নেতানিয়াহুর সরকারের বিকল্প গঠন করতে আগ্রহী রাজনৈতিক দলগুলোকে আরব দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।

জাবারিন বলেন, ‘নেতানিয়াহুর রক্তমাখা সরকারের একটি বাস্তব ও কার্যকর বিকল্প দিতে চায়—এমন যে কাউকেই আমাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে।’

রাআম দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ইয়োভ সেগালোভিটজও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে বুথফেরত জরিপের ফল প্রকাশের পর তিনি টাইমস অব ইসরায়েলকে বলেন, তাদের দল পরবর্তী সরকার গঠনের জোটে থাকতে আগ্রহী। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যাকে মনোনীত করা হবে, তাকে রাআম দলের ভোটারদের প্রত্যাশাও বিবেচনায় নিতে হবে।

ইসরায়েলের জায়নবাদ বিরোধী দলগুলোর মধ্যে বামপন্থি ডেমোক্র্যাটস পার্টিই একমাত্র দল, যারা রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে ইহুদি ও আরব দলগুলোর যৌথ জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছে। দলটির নেতা ইয়াইর গোলান বুধবার তার ‘চেঞ্জ ব্লক’-এর শরিকদের রাআম ও জয়েন্ট লিস্টের সঙ্গে সম্ভাব্য জোট গঠনের বিরোধিতা থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।

সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দূরে দুই পক্ষই
বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৮৫ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষে জয়েন্ট লিস্ট ১২টি এবং রাআম সাতটি আসন পেতে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসনে এগিয়ে ছিল। গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ও তার শরিকদের আসনসংখ্যা ছিল ৪৮।

ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। কিন্তু ভোট গণনার ওই পর্যায়ে কোনো পক্ষই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অভাবের পথ পেরিয়ে সফল উদ্যোক্তা

০

জীবন যখন চরম অনিশ্চয়তায় মোড়ানো, চারপাশে যখন কেবলই অভাবের কালো ছায়া—এমন এক কঠিন বাস্তবতায় দাঁড়িয়েও হার মানেননি হাওয়া বেগম। স্বামীকে হারিয়ে জীবনযুদ্ধের ময়দানে একদম একা হয়ে পড়েছিলেন তিনি। কোনো সন্তান না থাকায় নিজের কষ্ট ভাগ করে নেওয়ার কিংবা বিপদের দিনে পাশে দাঁড়ানোর মতো আপনজনও ছিল না। তবে অভাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেননি হাওয়া বেগম। জীবনের কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর একটি সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। সেই সুযোগই একসময় তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তাঁর পাশে দাঁড়ায় সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেডএম)। প্রতিষ্ঠানটির ‘জীবিকা উন্নয়ন কেন্দ্র, সান্তানপাড়া, নরসিংদী’প্রকল্পের সহায়তায় শুরু হয় তাঁর জীবনে পরিবর্তনের নতুন অধ্যায়।

১৫ হাজার টাকা থেকে স্বপ্নের সূচনা
স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সিজেডএম থেকে প্রথমে ১৫ হাজার টাকা তহবিল সহায়তা পান হাওয়া বেগম। এই অর্থের মধ্য থেকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে দুটি ছাগল কিনে শুরু করেন ছাগল পালন। অভাবের জীবনে এটিই ছিল তাঁর নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রথম অবলম্বন।
শুরুটা ছিল ছোট। কিন্তু স্বপ্নটা ছিল বড়। নিজের হাতে থাকা সামান্য সম্পদকে যত্ন, শ্রম ও ধৈর্যের মাধ্যমে কীভাবে বড় করে তোলা যায়, সেই চেষ্টাই করতে থাকেন তিনি। ছাগল দুটির পরিচর্যায় কোনো ধরনের অবহেলা করেননি। খাবার, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার দিকে নজর রেখেছেন নিয়মিত। ধীরে ধীরে সেই ছোট উদ্যোগেই সম্ভাবনার আলো দেখতে শুরু করেন তিনি।
হাওয়া বেগমের কাছে দুটি ছাগল ছিল শুধু দুটি প্রাণী নয়; ছিল নিজের জীবনের নতুন অধ্যায়ের ভিত্তি। তাই প্রতিদিনের পরিশ্রমের পাশাপাশি তিনি খামারটিকে আরও বড় করার স্বপ্ন দেখতে থাকেন।

মেধা ও পরিশ্রমে মিনি খামার
হাওয়া বেগমের একাগ্রতা, পরিশ্রম ও যত্নশীলতায় প্রথম পদক্ষেপটি সফল হতে শুরু করে। এরপর তাঁকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। কাজের ধারাবাহিকতায় ধাপে ধাপে তিনি আরও সহায়তা গ্রহণ করেন এবং ছাগলের খামারের পরিধি বাড়াতে থাকেন।
এভাবে মোট পাঁচটি ধাপে মোট এক লাখ টাকা সহায়তা পান তিনি। সেই অর্থের সঙ্গে নিজের শ্রম ও অভিজ্ঞতা যুক্ত করে ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন একটি সমৃদ্ধ ‘মিনি ছাগলের খামার’। তাঁর নিরলস পরিচর্যা ও ভালোবাসায় আজ খামারটিতে শোভা পাচ্ছে ছোট-বড় ১২টি সুস্থ-সবল ছাগল।
একসময় যে নারী অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, সেই তিনিই এখন নিজের একটি উদ্যোগের মালিক। খামারের প্রতিটি ছাগল তাঁর কাছে সম্ভাবনার প্রতীক। একটি ছাগল বিক্রি করে পাওয়া অর্থ যেমন তাঁর দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে সহায়তা করে, তেমনি নতুন ছাগল কেনার মাধ্যমে ব্যবসা আরও সম্প্রসারণের সুযোগও তৈরি হয়।
হাওয়া বেগম বলেন, “যখন প্রথম ১৫ হাজার টাকা সাহায্য পাইলাম, মনে হইলো যেন একটা খড়কুটো আঁকড়ে ধরলাম। ১০ হাজার টাকা দিয়া দুইটা ছাগল কিইন্যা নিজের সন্তানের মতো যত্ন করতে লাগলাম। এরপর ধাপে ধাপে টাকা পাইছি আর খামার বড় করছি। ভাবতেও পারি নাই, আমার মতো অভাবী মানুষেরও একদিন ১২টা ছাগলের একটা খামার হবে।”

অভাব থেকে আত্মমর্যাদার পথে
হাওয়া বেগমের গল্প শুধু একটি ছাগলের খামার গড়ে ওঠার গল্প নয়; এটি একজন অসহায় নারীর নিজের ভাগ্য বদলে নেওয়ার গল্প। একসময় যেখানে প্রতিদিনের খাবারের চিন্তাই তাঁকে তাড়া করত, সেখানে আজ তিনি ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করতে পারেন। নিজের পরিশ্রমে আয় করার সুযোগ তাঁকে শুধু আর্থিক স্বস্তিই দেয়নি, ফিরিয়ে দিয়েছে আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদাও।
ছাগল পালনকে তিনি এখন আর শুধু সহায়তার একটি মাধ্যম হিসেবে দেখেন না। এটি তাঁর কাছে একটি নিয়মিত জীবিকা ও ভবিষ্যতের বিনিয়োগ। ছাগলের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে তাঁর সম্ভাবনাও। খামারের প্রতিটি ছাগলের যত্ন, খাবারের ব্যবস্থা, পরিচর্যা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিক্রির সিদ্ধান্ত—সবকিছুতেই এখন তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে তাঁর মানসিকতায়। অন্যের সাহায্যের অপেক্ষায় থাকা একজন নারী আজ নিজের উদ্যোগে আয় করছেন। ফলে জীবনের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে গেছে। এখন তিনি বিশ্বাস করেন, সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে অভাবগ্রস্ত মানুষও নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন।

সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন
হাওয়া বেগমের চোখে এখন আরও বড় স্বপ্ন। তাঁর ছোট্ট খামারটিকে আরও বড় করা, ছাগলের সংখ্যা বাড়ানো এবং নিয়মিত আয় নিশ্চিত করাই তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য। একদিন যে নারী ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার সুযোগই পেতেন না, আজ তিনিই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করছেন।
হাওয়া বেগমের জীবনসংগ্রাম তাই শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়। এটি সম্ভাবনার গল্প, ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প এবং আত্মমর্যাদা ফিরে পাওয়ার গল্প। তাঁর ছোট্ট খামারের প্রতিটি ছাগলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর সংগ্রাম, পরিশ্রম, স্বপ্ন ও নতুন জীবনের প্রত্যয়।
অভাবের কঠিন পথ পেরিয়ে হাওয়া বেগম আজ প্রমাণ করছেন—সুযোগের একটি দরজা খুলে দিলে একজন মানুষ নিজেই নিজের জন্য আরও অনেক দরজা খুলে দিতে পারেন। সঠিক দিকনির্দেশনা, শ্রম এবং জাকাতভিত্তিক উৎপাদনমুখী সহায়তা একজন অসহায় মানুষকে শুধু সাহায্যপ্রার্থী নয়, একজন স্বাবলম্বী উদ্যোক্তায় পরিণত করতে পারে।
সিজেডএমের জীবিকা কর্মসূচির প্রধান এনামুল হক বলেন, “জীবিকা কর্মসূচির মাধ্যমে সিজেডএম এ পর্যন্ত প্রায় ৩৩ হাজার পরিবারের জীবনমান পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে। এসব পরিবারের আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন ও উন্নত জীবন গঠনের পথে পাশে থাকতে পেরে আমরাও সম্মানিত ও গর্বিত বোধ করছি।“

তুরাগ নদ থেকে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট (অব.) তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর উত্তরখান থানা এলাকার তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সমকালকে এসব তথ্য জানান নৌ পুলিশের ঢাকা  রিজিয়নের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন।

তিনি বলেন, বুধবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বর থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদ থেকে তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর এক আত্মীয়কে খবর দেওয়ার পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানান পুলিশ সুপার। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

পুলিশ জানায়, বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদে যায় টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল। সেখানে নদে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর বয়স আনুমানিক ২৮ বছর। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় তাঁর পরনে সাদা পাজামা ও কালো জামা, হাতে ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। ওই ফোনের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি। তাঁর বাবার নাম কে এম এনায়েতুর। তিনি উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের ১৪/বি নম্বর সড়কের বাসিন্দা।

এদিকে, তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনার দেশত্যাগের মুহূর্তের যে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল, সেটি ধারণ করেছিলেন তিনি। তবে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেননি নৌ পুলিশের কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন।

জমি না দেওয়ায় ৮০ বছরের মাকে বাড়িছাড়া

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে একটু আশ্রয়ের জন্য বুকফাটা কান্না ৮০ বছরের মমেনা বেগমের। জমি লিখে না দেওয়ায় নিজের সন্তান মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাঁকে বাড়িছাড়া করেছেন।
ছেলে মা-বাবার জমিতে গড়ে তোলা পাকা বাড়িতে বিলাসী জীবন কাটালেও হতভাগা মায়ের ঠিকানা হয়েছে অন্যের বাড়িতে। ঘরের চাল ও বেড়ার অসংখ্য ফুটো দিয়ে বৃষ্টি নামলেই ভিজে যায় বিছানা-বালিশ। স্বামীর মৃত্যুর পর মেয়ের আশ্রয়ে থেকে কাঁথা সেলাই করেই চলছে এই মমেনা বেগমের দিনযাপন।

১৪ বছর আগে আরও জমি লিখে দেওয়ার দাবি জানান ছেলে মোখলেছুর রহমান। তিনি কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার রাজমাল্লীরহাট সিদ্দিকীয়া ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। কিছু জমি দিলেও তাতে তিনি সন্তুষ্ট হননি। এরপর জোর করে মা-বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে তারা রাজমাল্লীরহাট মিস্ত্রীপাড়া গ্রামে মেয়ে খাদিজা বেগমের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে চার বছর আগে মারা যান মমেনা বেগমের স্বামী আবদুস সাত্তার। অধ্যক্ষ ছেলে তাঁর জানাজায়ও অংশ নেননি এবং নিজের বসতভিটায় দাফন করার শেষ ইচ্ছাও পূরণ করতে দেননি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মোখলেছুর রহমানের বক্তব্য জানতে কর্মস্থল মাদ্রাসা ও বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরে বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উমর মজিদ ইউপি চেয়ারম্যান আহসানুল কবির আদিল বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। অভিযোগ পেলে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া যেত।
আইনজীবী আহসান হাবিব নিলু জানান, ভরণপোষণ আইন-২০১৩ অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধের জন্য কঠোর জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে।