Home Blog Page 171

জাল দিয়ে নাকি প্যাকেটসহ দুধ ফ্রিজে সংরক্ষণ করবেন? জেনে নিন

দুধ অনেকেরই পছন্দের একটি খাবার। কেউ আবার চা বানাতে বা কনফ্লেক্স খেতে প্রতিদিন দুধ ব্যবহার করেন। এ কারণে অনেকে প্রতিদিন প্যাকেটজাত দুধ কিনে রাখেন। তা ছাড়া নিয়মিত দুধ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্যই ভালো। হাড় ও পেশি স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এই খাদ্যের জুড়ি নেই। তবে সমস্যা দেখা দেয় প্রতিদিন দুধ কেনা এবং তা সংরক্ষণ করা নিয়ে।

যারা খাবার তৈরিতে নিয়মিত দুধ ব্যবহার করেন তাদের মধ্যে অনেকেই একসঙ্গে ২-৩ প্যাকেট দুধ কিনে ফ্রিজে রাখেন। দুধ পচনশীল। এ কারণে না ফুটিয়ে রাখলে দুধ কেটে যায়। আবার প্যাকেটসহ বেশিদিন সংরক্ষণ করলে তার টেক্সচার ও স্বাদ বদলে যায়। এখন যেহেতু গরম বাড়ছে, তাই দুধও ঠিকমতো সংরক্ষণ করা জরুরি।

দুধ ফ্রিজে রাখা কি ঠিক?

আজকাল বাজারে বিভিন্ন ধরনের দুধ পাওয়া যায়। কোনওটায় ফ্যাটের পরিমাণ কম, আবার কোনওটা ফুল ফ্যাট মিল্ক। এই ধরনের দুধ সহজেই ফ্রিজে রাখতে পারেন। টোন্‌ড, ডবল টোন্‌ড এবং ফুল ক্রিম মিল্ক—প্রায় সব ধরনের দুধই ফ্রিজে সংরক্ষণ করা যায়। তার জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। যেমন-

যেভাবে ফ্রিজে দুধ রাখবেন–

প্রথমে দুধটা ভালো করে ফুটিয়ে নিন। এরপর ঠান্ডা হতে দিন। দুধ একদম ঘরের তাপমাত্রায় চলে আসার পরে ফ্রিজে রাখুন। ডিপ ফ্রিজের নীচের যে ট্রে রয়েছে,সেখানে দুধটা ঢেকে রাখতে পারেন।

প্যাকেটসহও দুধ ফ্রিজে রাখতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে প্যাকেটটা ভালো করে ধুয়ে নিন। তার পরে তা ডিপ ফ্রিজের তলায় যে ট্রে রয়েছে সেখানে রাখুন। ডিপ ফ্রিজেও রাখতে পারেন। এতে দুধ ভালো থাকবে।

ফ্রিজে কত দিন পর্যন্ত দুধ ভালো থাকে?​

দুধ সব সময়ে জাল দিয়েই ফ্রিজে রাখা ভালো। এ ক্ষেত্রে দুধ ১ দিনের বেশি ফ্রিজে রাখা যাবে না। তা না হলে দুধে ছত্রাক জন্মাবে এবং সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়বে।

প্যাকেটজাত দুধ বেশ কিছু দিন পর্যন্ত ফ্রিজে রাখতে পারেন। এক্সপায়ারি ডেট দেখে ফ্রিজে রাখুন। ওই তারিখের মধ্যে দুধ খেয়ে নিন।

আর কীভাবে দুধ সংরক্ষণ করবেন?

মাটির পাত্রে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার সবচেয়ে ভালো থাকে। এ ছাড়া যে কোনও পাত্রে দুধ যায়। রান্নাঘর বা বাড়ির এমন জায়গায় দুধ রাখুন, যে অংশটা খুব ঠান্ডা। খাটের নিচে রাখতে পারেন।

দুধ ফুটিয়েও সংরক্ষণ করতে পারেন। প্রথমে দুধ জাল দিয়ে নিন। তার পরে সেটি ঘরের তাপমাত্রা আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এটি পাত্রে ঠান্ডা পানি নিন। তার উপর দুধের পাত্র বসিয়ে দিলে দুধ ভালো থাকে।

দুধের প্যাকেট পানিভর্তি পাত্রে ডুবিয়ে বা ভিজে তোয়ালে মুড়ে রাখতে পারেন।

ঝুলে আছে ক্যাবরেরার ভবিষ্যৎ, নতুন কোচের সন্ধানে বাফুফে

০

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার ভাগ্যে কী আছে? তিনি কি থাকছেন নাকি লাল-সবুজের ডাগআউটে দেখা যাবে নতুন মুখ? এমন সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আজ বাফুফে ভবনে বসেছিল ন্যাশনাল টিম ম্যানেজমেন্ট কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা। জানা গেছে, ক্যাবরেরার ওপর বাফুফের একচ্ছত্র আস্থা আর নেই। আগামী ৩০ এপ্রিল চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া এই স্প্যানিশ কোচের বিকল্প খুঁজতে ইতোমধ্যেই মাঠে নেমেছে ফেডারেশন।

সভা শেষে বাফুফের মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বাবু জানিয়েছেন, ‘৩০ এপ্রিল ক্যাবরেরার সাথে আমাদের চুক্তি শেষ হবে। যার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এখন থেকেই নতুন কোচের সন্ধানে নেমেছি। আমরা উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন কোচের সাক্ষাৎকার নেব।’

তবে ক্যাবরেরার জন্য দরজা একেবারে বন্ধ করেনি বাফুফে। তিনি যোগ করেন, ‘ক্যাবরেরা চাইলে তিনিও নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। সবার সিভি যাচাই করে আমাদের কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে কে হবেন পরবর্তী দুই বছরের কান্ডারি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাফুফের কোনো ব্যক্তিগত পছন্দ নেই। আমরা বিভিন্ন এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করছি। যার প্রোফাইল সবচেয়ে ভালো হবে এবং যিনি আমাদের খেলোয়াড়দের দ্রুত বুঝতে পারবেন, তাকেই নিয়োগ দেওয়া হবে।’

পরিসংখ্যান ঘাটলে দেখা যায়, ক্যাবরেরার অধীনে গত চার বছরে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা মোট ৩৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নেমেছে। এর মধ্যে জয় এসেছে ১০টি ম্যাচে, ড্র হয়েছে ১০টিতে এবং হারতে হয়েছে বাকি ১৯টি ম্যাচে। তার মেয়াদের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে ধরা হয় ২০২৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে।  সেই টুর্নামেন্টে ভারতকে হারানোর পাশাপাশি দীর্ঘ ১৪ বছর পর সেমিফাইনালে ওঠার দারুণ এক স্মৃতিও দলকে উপহার দিয়েছিলেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে দল নির্বাচন এবং স্কোয়াড গঠন নিয়ে তাকে ক্রমাগত সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে ফুটবল ভক্তদের মধ্যে তাকে নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছিল।

কোচ নিয়োগের পাশাপাশি আগামী জুনের ফিফা উইন্ডো নিয়েও আলোচনা হয়েছে সভায়। বাফুফের লক্ষ্য জুনে থাইল্যান্ড বা মিয়ানমারের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ম্যাচ আয়োজন করা। এর জন্য জাতীয় দলের পাশাপাশি অনূর্ধ্ব-২৩ দলকেও সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জুনের ম্যাচগুলোকে সামনে রেখে এখন থেকেই খেলোয়াড়দের অনুশীলনে রাখার পরিকল্পনা করছে ম্যানেজমেন্ট কমিটি।

শুধু হেড কোচ নয়, বাফুফে এখন একজন গোলকিপিং কোচ নিয়োগের বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমিরুল ইসলাম বাবু জানিয়েছেন, আগামী দুই বছরের মেয়াদে একজন দক্ষ গোলকিপিং কোচের খোঁজও আজ থেকেই শুরু হয়ে গেছে।

পৃথক জোটে থাকছে বিএনপি ও জামায়াত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী পৃথক জোটে নির্বাচন করবে। এই দুই দলের নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দলগুলো থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রায় সবাই নিজ নিজ জোটে থাকবেন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের নিয়ে হচ্ছে পৃথক মোর্চা।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এই সূত্র বলছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী দল ও প্রার্থীদের কাছে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে জোটগত অবস্থান জানাতে ইসির পক্ষ থেকে সম্প্রতি পৃথক চিঠি দেওয়া হয়েছিল। ইসির চিঠির জবাবে দল ও নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সবাই জোটগত অবস্থান জানিয়েছেন।
সূত্র বলছে, এ ক্ষেত্রে বিএনপি থেকে নির্বাচিত ২০৮ জন সংসদ সদস্য এক জোটে থাকবেন। তাদের জোট শরিক গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) থেকে নির্বাচিত তিন এমপিও এই জোটে থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত ৬৮ জন ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নির্বাচিত ছয়জন সংসদ সদস্য জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করবেন। তাদের সঙ্গে আরও যুক্ত হবেন জোট শরিক খেলাফত মজলিসের আসন থেকে নির্বাচিত আবুল হাসান (সিলেট-৫) ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদুল্লাহ (ময়মনসিংহ-২)। তবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হয়ে মাদারীপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা কোনো জোটেই থাকবেন না বলে ইসিকে জানিয়েছেন।
এদিকে, স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত সাতজন সংসদ সদস্যের মধ্যে ছয়জন আলাদা মোর্চায় নির্বাচন করবেন। স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচিত বাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা কোনো জোটে থাকবেন না বলে ইসিকে জানিয়েছেন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন থেকে নির্বাচিত একমাত্র সংসদ সদস্য বরগুনা-১ আসনের মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহও কোনো জোটে থাকবেন না।
ইসির সচিব আখতার আহমেদও একই তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, আগামী ৬ এপ্রিল ইসির ১১তম কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সংরক্ষিত নারী আসনের তপশিল ঘোষণাসহ এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে প্রতিবেদন তৈরিতে ১৮ সদস্যের কমিটিত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রতিবেদন তৈরিতে ১৮ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ইসি। গতকাল ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মমতাজ-আল-শিবলী স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ থেকে বিষয়টি জানা গেছে। এতে বলা হয়, দুই নির্বাচনের যাবতীয় তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করে বই আকারে ডকুমেন্টেশন তৈরির জন্য লে-আউট প্রস্তুতে ১৮ জন কর্মকর্তাকে নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা-২ শাখার যুগ্ম সচিবকে। সদস্য সচিব থাকবেন সিনিয়র সহকারী সচিব।

কুমিল্লায় মেডিকেল ছাত্রী অর্পিতার মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন, তদন্তে কমিটি

কুমিল্লার বেসরকারি সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিনের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল। গতকাল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে পুলিশ ক্যাম্পাস-সংলগ্ন হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এক ভাই-এক বোনের মধ্যে অর্পিতা ছোট। তার গ্রামের বাড়ি খুলনা জেলা সদরে।

খুলনার সরকারি করোনেশন গার্লস হাইস্কুল থেকে এসএসসি ও খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কেসিসি উইমেন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে অর্পিতা এ মেডিকেল কলেজটির ১৮তম ব্যাচে ভর্তি হন।

অর্পিতা কলেজের এক নারী শিক্ষকের মানসিক চাপে অতিরিক্ত ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে ‘আত্মহত্যা’ করতে বাধ্য হয়েছেন- তার পরিবার ও সহপাঠীরা এমন দাবি করলেও পুলিশ বলছে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের আগে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় শনিবার কলেজ কর্তৃপক্ষ ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির প্রধান কলেজের সহকারী অধ্যাপক সহিদ উল্লাহ।

পুলিশ ও কলেজ সূত্র জানায়, গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে কলেজটির সদর দক্ষিণ উপজেলার মোস্তফাপুর ক্যাম্পাস সংলগ্ন মহিলা হোস্টেল থেকে অর্পিতার নিথর দেহ উদ্ধার করে কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরীক্ষার পর চিকিৎসjরা জানিয়েছেন হাসপাতালে নেওয়ার অনেক আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন ‘ওই মেডিকেল ছাত্রীর মরদেহ ১০টার দিকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। আজ শনিবার ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নেওয়া হয়েছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্পিতার সহপাঠীরা বলেন, ‘প্রথম বর্ষেই কলেজের এনাটমি বিভাগের প্রধান ডা. মনিরা জহিরের রোষানলে পড়েন নওশিন। এরপর প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হলেও এনাটমি বিষয়ে অকৃতকার্য হতে হয় তাকে। এরপর গত তিন বছরে আরও ৪ বার এনাটমির পরীক্ষা দিয়েছেন নওশিন। কিন্তু প্রত্যেকবারই পরীক্ষায় ফেইল এসেছে।’

তারা বলছেন, গত ৮ মার্চ চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ব্যাচের তৃতীয় প্রফের ফল প্রকাশ হয়। ২০২১-২২ সেশনের সবাই এখন পঞ্চম বর্ষে পড়ছেন। কিন্তু অর্পিতা নওশিনের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি এখনও প্রথম প্রফ পরীক্ষাই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। জুনিয়রদের সাথে তার ক্লাস করতে হচ্ছে। এতে সে মানসিকভাবে বিপর্যপ্ত ছিল, তাই অতিরিক্ত ঘুমের ট্যাবেলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

তবে কী কারণে ওই তাকে ওই নারী শিক্ষকের ‘রোষানলে’ পড়তে হয়েছে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পায়নি সমকাল।

অর্পিতা নওশিনের ভাই শাহরিয়ার আরমান বোনের মরদেহ নিতে কুমিল্লায় অবস্থান করছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার বোনের এরকম কোনো মানসিকতা নেই যে সে আত্মহত্যা করবে। শিক্ষকের মানসিক চাপ থেকে এটা হয়তো করেছে। নওশিন বারবার এনাটমি বিভাগের মনিরা ম্যাডামের (ডা. মনিরা জহির) কথা বলত। একদম ফার্স্ট ইয়ার থেকে আমার বোনকে মানসিক নিপীড়ন করেছেন তিনি। সবাইকে পাস করিয়ে দেয়, আমার বোন প্রত্যেকটা সাবজেক্ট পাস করে, কিন্তু ওই একটা সাবজেক্টে আটকে রাখে। আমি বলেছি, আমার বোনের সমস্যা কোথায় বলেন, তাও বলবে না। প্রেসার দিতে দিতে আমার বোনকে মেন্টালি নিপীড়ন যারা করেছে, তারাই এই মার্ডার করেছে। আমি ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করছি।’

শাহরিয়ার আরমানের ভাষ্য বলেন, ‘বৃহস্পতিবারও ওর (অর্পিতা) সাথে আমি কথা বলেছি। ফর্ম ফিলাপের জন্য টাকা নিয়েছে। আমাকে বলল যে, ভাই আমি তো বাড়িতে বলতে পারছি না, আব্বুর ভয়ে, এখন তুই একটু ম্যানেজ কর। আমি বললাম, ঠিক আছে, তুই তোর বন্ধুর সঙ্গে ফর্ম ফিলাপটা কর, আমি টাকা পাঠাচ্ছি। আর আজকে এরকম খবর পাব কোনোদিন কল্পনা করিনি।’

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এনাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মনিরা জহির কলেজের প্রয়াত অধ্যক্ষ ডা. জহিরুল ইসলামের মেয়ে। আজ শনিবার একাধিকবার তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফজলুল হক লিটন আজ শনিবার দুপুরে সমকালকে বলেন, ‘চিকিৎসক হওয়ার আগেই আমাদের একজন ছাত্রীর নিথর দেহ আজ পরিবারের কাছে যাচ্ছে। এমন মৃত্যু আমাদের মর্মাহত করেছে। তবে কোনো শিক্ষকের অবহেলার কারণে যদি তার মৃত্যু হয়ে থাকে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অধ্যক্ষের ভাষ্য ‘ যেমনটি অভিযোগ আসছে, এমন হয়ে থাকলে ওই ছাত্রী কিংবা তার অভিভাবকরা আগেই আমাদের লিখিতভাবে অবহিত করতে পারতেন। আমরা এ বিষয়ে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছি। কমিটি কাজ শুরু করেছে। পুলিশও আলাদা তদন্ত করছে।’

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সিরাজুল মোস্তফা সমকালকে বলেন, মেডিকেল ছাত্রীর মরদেহ রাতে উদ্ধার হয়। আজ মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। কি কারণে তার মৃত্যু হয়েছে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। অতিরিক্ত ঘুমের ট্যাবলেট খেয়েছে কিনা বিষয়টির তদন্ত চলছে।

মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হলেও ইরানের সঙ্গে আলোচনা থামবে না: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব পড়বে না।

শুক্রবার এনবিসি নিউজকে ফোনে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ ক্রুদের উদ্ধারে চলমান তৎপরতা নিয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে চান না। বিষয়টিকে তিনি ‘সংবেদনশীল সামরিক ইস্যু’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ ক্রুদের খোঁজে অভিযান চলছে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনে অসন্তোষও প্রকাশ করেন ট্রাম্প।

ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা এই ঘটনায় প্রভাবিত হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, না, একেবারেই না। এটা যুদ্ধ। আমরা যুদ্ধে আছি।

এনবিসি নিউজের প্রতিবেদক গ্যারেট হ্যাককে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন।

এর আগে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট সিএনএনকে জানান, ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অবহিত করা হয়েছে। পরে বিমানটিকে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, একই সময়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহিনীর আরেকটি যুদ্ধবিমান— এ-১০ বিধ্বস্ত হয়।

অন্যদিকে দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে ফোনে দেওয়া পৃথক এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানে নিখোঁজ মার্কিন পাইলটের কোনো ক্ষতি হলে যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে এখনই মন্তব্য করতে চান না। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, এমন কিছু ঘটবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান: ফার্স নিউজ

যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ।

নাম প্রকাশ না করা একটি সূত্রের বরাত দিয়ে ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র একটি মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে ২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) ইরানকে দুই দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়, যার জবাবে তেহরান তাদের হামলার তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়।

তবে সেই প্রস্তাব বা এর সত্যতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য বা নিশ্চিত করার তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুদ্ধ শেষ করার জন্য ওয়াশিংটন ইরানের নতুন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছে। তাদেরকে তিনি আরও বিচক্ষণ বলে অভিহিত করেছেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন নেতার দাবি বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে। উল্লেখ করেছে যে, তেহরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি মীমাংসা প্রস্তাব পেয়েছিল, যা ‘অযৌক্তিক’ বলে প্রমাণিত হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাঘচি সম্প্রতি আল-জাজিরাকে বলেছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের ১৫-দফা প্রস্তাবে কোনো সাড়া দেয়নি। তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। আরাঘটি চলমান যোগাযোগকে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পরিবর্তে বার্তা বিনিময় হিসেবেই আখ্যা দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, তেহরান ‘যুদ্ধবিরতিতে রাজি হবে না’ এবং ‘এই অঞ্চলে যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসান’ চায়।

ফার্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী যখন ক্রমাগত উত্তেজনা ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে, তখনই এ প্রস্তাব সামনে আসে। বিশেষ করে কুয়েতের বুবিয়ান দ্বীপে একটি মার্কিন সামরিক গুদামে হামলার পর যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরালো হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা শুরু করে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত এক হাজার ৩৪০ জন নিহত হয়েছেন। জবাবে ইরানও ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এমন উপসাগরীয় দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।

জ্বালানি তেল ও গ্যাস পরিস্থিতি মার্চে সামাল দেওয়া গেলেও কঠিন হবে এপ্রিল

জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বিপুল ঘাটতি নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন মাস। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রভাব মার্চের পুরোটা সময় থাকলেও এলএনজির চারটি জাহাজ আগেই অতিক্রম করতে পেরেছিল হরমুজ প্রণালি। এর সঙ্গে আগের মজুত যুক্ত করে পরিস্থিতি সামাল দিতে পেরেছে সরকার। আগামীতেও জ্বালানি সংকট তীব্র হবে না বলে আশ্বস্ত করছে মন্ত্রণালয়। তবে বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।
যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি পার হয়ে একটি জাহাজও আসেনি দেশে। এলএনজি, এলপিজি, গ্যাস অয়েল, বেস অয়েলসহ বিভিন্ন জ্বালানি নিয়ে বিকল্প দেশ থেকে মার্চের ৩১ দিনে ৩৮টি  জাহাজ এসেছে। তবে বুকিং থাকার পরও মার্চে এলএনজি ও এলপিজি নিয়ে ২৬ জাহাজের মধ্যে এসেছে মাত্র ১৫টি। এপ্রিলে যে বুকিং আছে, সেটিরও দুই-তৃতীয়াংশ নিশ্চিত হয়নি এখনও।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক আখতার কবীর চৌধুরী বলেন, অগ্রাধিকার ঠিক করে এখনই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। শৃঙ্খলা ফেরানো দরকার বিতরণ ব্যবস্থায়ও। দেশ থেকে তেল পাচার হয়ে যাওয়া, অবৈধভাবে মজুত করা, আতঙ্ক থেকে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা, প্রশাসনের তদারকির দুর্বলতা ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে না পারায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হলে এই পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। আগাম প্রস্তুতি হিসেবে গত মঙ্গলবার স্পট ও জিটুজি পদ্ধতিতে দুই লাখ ৬০ হাজার টন জ্বালানি কেনার অনুমতি দিয়েছে ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

মার্চে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল নিয়ে ১৭টি জাহাজ আসার কথা ছিল বিপিসির। তবে পুরো মাসে এসেছে ১০টি জাহাজ; যেগুলোতে তেল ছিল মাত্র আড়াই লাখ টন। বুকিং থাকলেও আসেনি দেড় লাখ টন জ্বালানি তেলের বাকি ছয়টি জাহাজ। অভিন্ন চিত্র আছে এলএনজি নিয়েও। মার্চে ৯টি এলপিজি বোঝাই জাহাজ আসার কথা থাকলেও এসেছে পাঁচটি। বুকিং থাকলেও আসেনি প্রায় তিন লাখ টনের চারটি এলপিজির জাহাজ। একইভাবে সূচি নির্ধারিত থাকার পরও ক্রুড অয়েলের দুটি জাহাজের একটিও আসেনি। জ্বালানি তেল ও গ্যাসের এই সংকট দূর করতে বিকল্প দেশের দ্বারস্থ হয়েছে সরকার। ১২ দেশ থেকে সর্বশেষ মাসে দেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাস এনেছে ৩৮টি জাহাজ। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিকল্প দেশেরও দরজা আস্তে আস্তে বন্ধ হবে। তখন বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকেও জ্বালানি কেনা কঠিন হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রভাব জ্বালানি তেল ও গ্যাসে পড়লেও বিকল্প ভাবনা আছে আমাদের। আশা করছি, এপ্রিল, মে মাসেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারব আমরা। তবে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনা, অবৈধ মজুতের প্রবণতা ও সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে তেল পাচারের চেষ্টা বন্ধ করতে হবে। এ জন্য সামনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের ‘ভেসেল অ্যারাইভাল লগ’ অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর মার্চ মাসের ৩১ দিনে ৩৮টি জাহাজের পণ্য খালাস করেছে তারা। এর মধ্যে এলএনজির আটটি, এলপিজি বোঝাই ৯টি, গ্যাস অয়েলের আটটি, এইচএসএফও বোঝাই চারটি, বেস অয়েলের দুটি, এমইজি বোঝাই একটি, ইথিলিনের একটি ও কনডেনসেটের জাহাজ ছিল একটি। এর মধ্যে কাতার, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাহাজ ছিল ৯টি। মার্চে বেশির ভাগ জাহাজ এসেছে বিকল্প দেশ থেকে। সিঙ্গাপুর থেকে ৯টি, মালয়েশিয়া থেকে আটটি ও ভারত থেকে এসেছে পাঁচটি জাহাজ। এখন অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে জ্বালানি আনছে কিছু জাহাজ। চলতি এপ্রিল মাসে এখন পর্যন্ত এসেছে তিনটি জাহাজ। গতকাল শুক্রবার ২৭ হাজার টন গ‍্যাস অয়েল নিয়ে একটি জাহাজ নোঙর করেছে বন্দরে। চলতি মাসে এলএনজি ও ইথিনিল নিয়ে এসেছে আরও দুটি জাহাজ।

এলএনজি আমদানির স্থানীয় প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠান ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের সিনিয়র ডিজিএম মো. নুরুল আলম বলেন, প্রতি মাসে গড়ে ৯ থেকে ১০টি জাহাজ এলএনজি আমদানি করা হয় আমাদের মাধ্যমে। মার্চে এসেছে মাত্র পাঁচটি। আর এপ্রিলে জন্য এখন পর্যন্ত একটি এলএনজির জাহাজ এসেছে। এই জাহাজটির পণ্যও কেনা হয়েছে স্পট মার্কেট থেকে।’

বুকিং থাকার পরও আসেনি জাহাজ
বিপিসির মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন (বাণিজ্য ও অপারেশন) বলেন, চীনের ইউনিপেক ও মালয়েশিয়ার পেটকো ট্রেডিং বিপিসির বড় দুই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হলেও যুদ্ধের কারণে তাদের থেকে তেল যথাসময়ে পাইনি আমরা। গত ৩ মার্চ সৌদি আরবের রাস তানুরা টার্মিনাল থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল আনার কথা থাকলেও জাহাজটি আটকে আছে হরমুজ প্রণালিতে। আবার আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (অ্যাডনক) থেকে তেল আনার জন্য ভাড়া করা ‘এমটি ওমেরা গ্যালাক্সি’ নামে জাহাজটির চুক্তিও বাতিল হয়েছে। এ জন্য মার্চে অপরিশোধিত তেলের নতুন কোনো চালান দেশে আসেনি। হরমুজ প্রণালিতে বাধা পাওয়ায় বুকিং থাকার পরও মধ্যপ্রাচ্য থেকে গত মাসে আসেনি চার জাহাজ এলএনজি। ‘লিব্রেথা’ নামে একটি জাহাজ এলএনজি লোড করার পরও আসতে পারছে না চট্টগ্রামে। ‘ওয়াদি আল সেইল’ নামে আরেকটি জাহাজ এলএনজি লোড করার জন্য  হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে যেতে পারছে না টার্মিনালে।

জ্বালানি তেলের চাহিদা কত
বিপিসির হিসাবে, দেশে বছরে ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল, যা মূলত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে। মোট চাহিদার ২০ শতাংশ অপরিশোধিত আকারে এনে দেশে পরিশোধন করা হয়, বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত অবস্থায় আমদানি করা হয়। আর প্রতি মাসে দেশে এলপিজি আনা হয় ছয় লাখ টনের বেশি। মার্চে এসেছে তিন লাখ টনের কম। যুদ্ধের কারণে এই সরবরাহ ব্যবস্থা এলোমেলো হয়ে গেছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, যুদ্ধের কারণে চাহিদামতো জ্বালানি আসছে না। যেটা আসছে, সেটাও ঠিকভাবে পাচ্ছেন না গ্রাহক। শৃঙ্খলা ফেরাতে এখন মাঠে নেমেছে বিজিবিও। কৃত্রিম সংকট ও পাচার রোধে ৯টি জেলার ১৯টি ডিপোতে অস্থায়ী বেস ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

রোববার থেকে নতুন সূচিতে চলবে ব্যাংক

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে আগামীকাল রোববার থেকে নতুন সূচিতে চলবে ব্যাংক।

শনিবার এ সংক্রান্ত‌ একটি নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, অফিস শেষ ও লেনদেনের সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে সকাল ১০টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অফিস খোলা রাখা হবে। আর লেনদেন চলবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত।

এতদিন সকাল ১০টা থেকে ৪টা পর্যন্ত লেনদেন এবং ৬টা পর্যন্ত অফিস খোলা থাকতো। তবে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে অফিসের সময় কমানো হয়েছে। তবে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যথারীতি চলমান থাকবে।

প্রথম ধাপে হামের টিকা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৩০ উপজেলায়

দেশে কিছু এলাকায় হাম-রুবেলার (এমআর) প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় জরুরিভিত্তিতে আগামী রোববার থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করছে সরকার।

আগামীকাল রোববার সকাল নয়টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে একযোগে কর্মসূচির উদ্বোধন হবে। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা পৃথক পৃথক স্থানে এর উদ্বোধন করবেন।

শনিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ছোট শিশুদের মধ্যে হাম সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এ বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে জাতীয় টিকাদান বিষয়ক কারিগরি পরামর্শক কমিটি (নিট্যাগ) এ জরুরি কর্মসূচির সুপারিশ করে। এটি একটি সমন্বিত প্রতিরোধ পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এ কার্যক্রমের আওতায় পাঁচ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে টিকা দেওয়া হবে তারা আগে টিকা নিয়ে থাকুক বা না থাকুক। কোনো শিশুকে সুরক্ষার বাইরে না রাখাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

ধাপে ধাপে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় (হটস্পট) টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। পরে ২১ মে’র মধ্যে পরিস্থিতি ও প্রস্তুতির ভিত্তিতে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে।

অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, পাঁচ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে নির্ধারিত টিকাকেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে। তবে জ্বর বা অন্য কোনো অসুস্থতা থাকলে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে, যা জটিলতা কমাতে সহায়তা করে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, টিকা সংগ্রহ, সরবরাহ, কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

কর্মসূচি সফল করতে অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুজব প্রতিরোধে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়।

সরকার আশ্বস্ত করেছে, ব্যবহৃত টিকা নিরাপদ ও কার্যকর। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে সচেতনতা ও অংশগ্রহণ জরুরি।

ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে বর্তমান প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যাবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়।

হটস্পট যেসব উপজেলা
দেশের মোট ৩০টি হটস্পট উপজেলা/পৌরসভা চিহ্নিত করা হয়েছে। সর্বোচ্চ আক্রান্ত এলাকার মধ্যে বরগুনা সদর ও পৌরসভা রয়েছে।

উচ্চঝুঁকিপূর্ণ জেলার মধ্যে পাবনা (পৌরসভা ও সদর), চাঁদপুর (সদর), কক্সবাজার (মহেশখালী), গাজীপুর সদর, নেত্রকোনা (আটপাড়া), ময়মনসিংহ (সদর ও ত্রিশাল), রাজশাহী (গোদাগাড়ী), বরিশালসহ (মেহেন্দিগঞ্জ) নানা এলাকায় সংক্রমণের হার মাঝামাঝি পর্যায়ে রয়েছে।

নিম্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে রয়েছে মাদারীপুর, ঢাকার নবাবগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ঝালকাঠি, শরীয়তপুরসহ বেশ কয়েকটি জেলা।

নদীতে গোসল করতে নেমে মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ, এক ঘণ্টা পর মিলল মরদেহ

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে তুলশীগঙ্গা নদীতে গোসল করতে নেমে আব্দুল্লাহ (১২) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পৌর এলাকার রাজকান্দা-ঠেংগাপুর গ্রামের তুলশীগঙ্গা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল্লাহ ওই গ্রামের ফারুক আহম্মেদের ছেলে এবং রাজকান্দা-ঠেংগাপুর ক্বওমী মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল আটটার দিকে মাদ্রাসা ছুটি হয়। বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় আব্দুল্লাহ বাড়িতে চলে যায়। পরে সকাল দশটার দিকে ৪-৫ জন সহপাঠীকে নিয়ে মাদ্রাসার সামনে তুলসীগঙ্গা নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে সে নদীর এপার-ওপার সাঁতরে পার হওয়ার চেষ্টা করলে হঠাৎ পানিতে তলিয়ে যায়। সহপাঠীরা বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা দ্রুত নদীতে নেমে খোঁজাখুঁজি চালায়। দীর্ঘ সময় খুঁজেও তাকে না পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়।

খবর পেয়ে আক্কেলপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টার পর নদীর গভীর থেকে আব্দুল্লাহকে উদ্ধার করা হয়। পরে দ্রুত তাকে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী খোকন হোসেন বলেন, সকালে কয়েকজন ছাত্র নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে আব্দুল্লাহ পানিতে তলিয়ে যায়। আমরা অনেক খোঁজ করেও পাইনি। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে উদ্ধার করে।

মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ গোলাম রাব্বী জানান, বাড়ি থেকে তারা নদীতে গোসল করতে গিয়েছিল। সাঁতার ভালোভাবে না জানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আব্দুল্লাহ আঠারো পারা কোরআনের হাফেজ ছিল।

আক্কেলপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার আব্দুল কাদের বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় নদীর গভীর অংশ থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।