Home Blog Page 171

বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেছেন তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় অবস্থিত জিয়া উদ্যান-এ স্ত্রী ও কন্যাসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-র কবর জিয়ারত করেন। বিএনপির মিডিয়া সেল জানায়, জিয়ারত শেষে পরিবারের সদস্য ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মোনাজাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ৪৯ জন শপথ গ্রহণ করেন। মো. সাহাবুদ্দিন সবাইকে শপথ পাঠ করান।

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শ্রদ্ধা

শপথগ্রহণের পরদিন আজ বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সন্ধ্যা ৭টায় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভি-তে ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে সরকারের এক তথ্যবিবরণীতে জানানো হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এরপর নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও শপথ গ্রহণ করেন। বিকেল ৪টার পর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথ পড়ান। এর মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় এবং প্রায় দুই দশক পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসে।

রোজায় রান্নাঘরে এক মাসের স্টক করবেন যেসব পণ্য

রোজা শুরু হলেই ইফতার ও সেহরির সময় রান্নাঘরে ব্যস্ততা বেড়ে যায়। হঠাৎ বাজারে ভিড়, পণ্যের দাম ওঠানামা কিংবা সরবরাহে ঘাটতি – এসব এড়াতে আগেভাগে পরিকল্পনা করা বুদ্ধিমানের কাজ। তাই প্রয়োজন বুঝে তালিকা করে কেনাকাটা করলে অপচয় কমে, বাজেটও নিয়ন্ত্রণে থাকে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এক মাসের জন্য কোন কোন উপকরণ রমজানের শুরুতেই কিনে স্টক করতে পারেন –

১. শস্য ও কার্বোহাইড্রেট
চাল, আটা বা ময়দা, সেমাই ও লাচ্ছা, ওটস বা চিড়া – এসব পণ্য শুষ্ক ও বাতাস চলাচল করে এমন পাত্রে রাখুন। আর্দ্রতা ঢুকলে পোকা ধরতে পারে।

২. ডাল ও প্রোটিনের উৎস
মসুর, মুগ, ছোলা ডাল, বুট, সয়াবিন, কাবলি ছোলা, ডিম ইত্যাদি। ডাল ও বুট দীর্ঘদিন ভালো থাকে। তবে একমাসের ডিম একসঙ্গে কিনলে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন।

৩. মসলা ও রান্নার উপকরণ
লবণ, চিনি, গুড়, হলুদ, মরিচ, জিরা, ধনে, গরম মসলা, সয়াবিন তেল, সরিষার তেল, ঘি। এই মসলাগুলো কিনে বায়ুরোধী পাত্রে রাখলে স্বাদ ও গুণাগুণ বজায় থাকবে।

রোজার প্রস্তুতি: রান্নাঘরে এক মাসের স্টক করবেন যেসব পণ্য

৪. ইফতারের বিশেষ উপকরণ
খেজুর, চিঁড়া, মুড়ি, বেসন, শরবতের সিরাপ – এসবও কিনে রাখতে পারেন। তবে খেজুর শুষ্ক স্থানে রাখুন এবং বেসন আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখলে ভালো থাকে।

৫. হিমায়িত ও সংরক্ষিত খাবার
মুরগি ও গরুর মাংস পরিমাণমতো ভাগ করে ফ্রিজে রাখুন। সবজি সাপ্তাহিক বাজার করে কেটে ধুরে পানি ঝরিয়ে আলাদা আলাদা বক্স বা জিপলক ব্যাগে সংরক্ষণ করুন। আদা-রসুন বাটা আলাদা বাটিতে ডিপ ফ্রিজে রাখুন।

৬. স্বাস্থ্যকর বিকল্প
বাদাম, কিশমিশ, মধু, লেবু, ইসবগুল – এগুলো রোজায় বেশ কার্যকর খাবার। রোজায় দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে পুষ্টিকর ও হালকা খাবার মজুত রাখা জরুরি।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খাদ্য সংরক্ষণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দেয়। একইভাবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অযথা মজুত বা অতিরিক্ত কেনাকাটা না করার পরামর্শ দেয়, যাতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়। তাই রোজার বাজার একবারে করলেও তা যেন পরিকল্পিত হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী তালিকা তৈরি করুন, সংরক্ষণ পদ্ধতি ঠিক রাখুন এবং অতিরিক্ত অপচয় এড়ান। সচেতন প্রস্তুতিই স্বস্তির রোজা নিশ্চিত করতে পারে।

জিনিয়াস তৈরি হয় স্বাধীন চিন্তায়

জিনিয়াস হওয়া মানে শুধু পরীক্ষায় ভালো করা বা মোটা বই মুখস্থ করা নয়। প্রকৃত জিনিয়াস জন্মায় কৌতূহল, আবেগ, ব্যর্থতা আর স্বাধীন চিন্তার ভেতর দিয়ে। মনোবিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদদের মতে, শিশুর বেড়ে ওঠার পরিবেশই নির্ধারণ করে সে ভবিষ্যতে কতটা গভীরভাবে ভাবতে পারবে, কতটা নতুন কিছু সৃষ্টি করতে পারবে।

কীভাবে আপনার সন্তানকে সৃজনশীল ও ব্যতিক্রমী চিন্তাশীল মানুষ হিসেবে তৈরি করবেন আসুন জেনে নেই-

বিশ্বজুড়ে দেখা গেছে, অনেক সৃজনশীল ও ব্যতিক্রমী চিন্তাশীল মানুষের শৈশব কেটেছে কিছু নির্দিষ্ট ধরনের পারিবারিক পরিবেশে। সেই পরিবেশগুলো কেমন—তা তুলে ধরা হলো এই প্রতিবেদনে।

প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে প্রশ্ন তৈরি করা

এই পরিবারগুলোতে বাবা-মা শিশুর প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন না।
“আকাশ নীল কেন?”—এর জবাবে তারা বলেন, “তোমার কী মনে হয়?”

এর ফলে শিশু শুধু তথ্য মুখস্থ করে না, বরং নিজে ভাবতে শেখে। উত্তর খোঁজার এই প্রক্রিয়াই মস্তিষ্ককে সৃজনশীল করে তোলে। জিনিয়াসরা সূত্র মুখস্থ করে না—তারা নতুন সূত্র তৈরি করে।

বাড়িতে থাকে সৃজনশীল ‘অগোছালো’ ভাব

রঙের বাক্স দিনের পর দিন টেবিলে পড়ে থাকে, লেগোর টুকরো মেঝেতে ছড়ানো, পুরনো কাগজে আঁকিবুঁকি—এসবকে সমস্যা হিসেবে দেখা হয় না।
এই তথাকথিত অগোছালো পরিবেশ শিশুর চিন্তাকে নমনীয় করে। গবেষণায় দেখা যায়, অতিরিক্ত শৃঙ্খলা সৃজনশীলতাকে দমিয়ে দেয়।

ব্যর্থতা লুকানো হয় না

এই পরিবারগুলোতে বাবা-মা নিজেদের ব্যর্থতার গল্প বলেন।
“আমি অঙ্কে খুব খারাপ ছিলাম,”
“নিজের পথ খুঁজে পেতে আমাকে কয়েকবার চাকরি হারাতে হয়েছে।”

এতে শিশু শেখে—ব্যর্থতা লজ্জার কিছু নয়। বরং ব্যর্থতাই শেখার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম।

তর্ক হয়, তবে সম্মানের সঙ্গে

রাতের খাবারের টেবিলে মতবিরোধ হয়। বাবা এক মত দেন, মা আরেক মত। কেউ চিৎকার করে না, কেউ ছোট করে না।
শিশু দেখে—একটি বিষয়ে একাধিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে পারে। এখান থেকেই জন্ম নেয় সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা।

‘অকারণ’ শখকে গুরুত্ব দেওয়া হয়

পাথর সংগ্রহ, পিঁপড়া দেখা, পুরনো ফোন খুলে যন্ত্রাংশ দেখা—এসবকে সময় নষ্ট বলা হয় না।
কারণ এই “অকারণ” আগ্রহ থেকেই অনেক সময় বড় আবিষ্কারের বীজ জন্ম নেয়। আবেগ ও কৌতূহলই জিনিয়াসের আসল জ্বালানি।

কঠোর সময়সূচির বদলে নমনীয় জীবন

এই পরিবারে সময় মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে না, মানুষ সময়কে ব্যবহার করে।
রাতের খাবার কখনো ৬টায়, কখনো ৯টায়। হঠাৎ করেই বেড়াতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এই নমনীয় জীবনযাপন শিশুকে শেখায়—জীবন মানে নিয়মের খাঁচা নয়, বরং সম্ভাবনার জায়গা।

আবেগ লুকানো হয় না

বাবা গান শুনে কাঁদতে পারেন, মা সূর্যাস্ত দেখে আবেগপ্রবণ হন। রাগ, আনন্দ, বিস্ময়—সব আবেগই গ্রহণযোগ্য।
এতে শিশু শেখে নিজের অনুভূতিকে বুঝতে ও সম্মান করতে। আবেগীয় বুদ্ধিমত্তাই ভবিষ্যতের বড় চিন্তা ও আবিষ্কারের ভিত্তি।

জিনিয়াস হওয়া নির্ভর করে না একটি শিশু কতগুলো বই মুখস্থ করেছে তার উপর।
বরং নির্ভর করে সে কি—

  • স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শিখেছে?
  • গভীরভাবে অনুভব করতে পেরেছে?
  • আর পাঁচজনের মতো না হয়ে আলাদা হতে ভয় পায় না?

রমজানে টিসিবির বিক্রি শুরু আজ, মিলবে ৫ পণ্য

পবিত্র রমজান উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি শুরু করবে রাষ্ট্রীয় বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।

এতে বলা হয়, এ কার্যক্রমের আওতায় সারাদেশে বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুর পাওয়া যাবে। রোজার দুটি বাড়তি পণ্য ছোলা প্রতি কেজি ৬০ টাকা ও খেজুর ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হবে। এছাড়া ভোজ্যতেল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা, চিনি ৮০ টাকা ও মসুর ডাল ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হবে।

ভ্রাম্যমাণ ট্রাক থেকে একজন ভোক্তা সর্বোচ্চ দুই লিটার তেল, এক কেজি চিনি, দুই কেজি ডাল, এক কেজি ছোলা ও বরাদ্দ সাপেক্ষে এক-দুই কেজি খেজুর কিনতে পারবেন। ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের এসব পণ্য যে কেউ কিনতে পারবেন।

এর পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ডধারীদের জন্য নিয়মিত বিক্রি কার্যক্রম যথারীতি চলবে। কার্ডধারী পরিবারের কাছে প্রতিমাসে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করা ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডালের পরিমাণ ও মূল্য অপরিবর্তিত থাকবে এবং রমজানে ছোলা ৬০ টাকা ও খেজুর ১৬০ টাকা দামে বিক্রি করা হবে।

প্রতিদিন ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ৫০টি, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় ২০টি ও ৭টি মেট্রোপলিটন এলাকায় ১৫টি করে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে। অবশিষ্ট ৫৫ জেলায় ৫টি করে সর্বমোট ৪৫০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি করবে টিসিবি।

১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত ২০ দিন (শুক্রবার ও ছুটির দিন ছাড়া) রোজার এ বিক্রয় কার্যক্রম চালু থাকবে। টিসিবি জানিয়েছে, দৈনিক ট্রাকপ্রতি ৪০০ জন নিম্নআয়ের জনসাধারণের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রির কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। ট্রাকসেলের মাধ্যমে প্রায় ৩৫ লাখ উপকারভোগীর কাছে প্রায় ২৩ হাজার টন পণ্য বিক্রি করা হবে।

শহিদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানী নয়, বিএনপি শপথ না নিলে কোনো শপথ নিবে না জামায়াত

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে যে সংস্কারের জন্য হয়েছিল এবং পরবর্তীতে জুলাই সনদে স্বাক্ষর হয়েছিল তা থেকে সরে দাড়িয়েছে জিয়াউর রহমান ও খালেদার দল বিএনপি। দলটির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি আজ।

এর প্রতিবাদে জুলাই রক্তের সঙ্গে বেঈমানী না করে সংস্কারে পক্ষে থাকার দাবিতে ১১ দলীয় জোটের সদস্যরা কোনো শপথই নেবেন না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি)  সকালে জামায়াতের একজন সিনিয়র নেতা এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, শহিদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানী নয়। নিলে দুটি শপথ এক সঙ্গে,  না হলে কোনো শপথ নয়। বিএনপি যে স্বৈরাচারের পথে হাটছে তার খেসারত এই জাতিকে দিতে হবে।

সংসদ ভবনের ভেতরেই বিএনপি, জামায়াত ও বিদায়ী সরকারের প্রতিনিধিরা আলোচনা করছেন জট খোলার জন্য। ১২টায় জামায়াত এমপিদের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।

ডা. শফিকুরর রহমানসহ জামায়াত এমপিরা সংসদ ভবনে অবস্থান করছেন। এর আগে সকাল ১০টা ৪০ মিটিনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোটের এমপিরা শপথ নেন কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা (এমপি) মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ১১টার দিকে শপথ নিয়েছেন। একই দিন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার কথা থাকলেও বিএনপির দলীয় সংসদ
সদস্যরা শপথ নেননি জানিয়েছেন দলটির স্থায় কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়

নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার শপথ গ্রহণ করছে আজ মঙ্গলবার। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙ্গে এবার বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান হচ্ছে। শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর আগে সকালে দলীয় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যগণের শপথ শেষে সংসদীয় দলের সভায় দলের নেতা নির্বাচন করা হচ্ছে।
জানা যায়, বিএনপি তারেক রহমানকেই সংসদ নেতা নির্বাচন করতে যাচ্ছে এবং তিনিই হচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে স্ব স্ব সেক্টরে অভিজ্ঞদের নিয়ে গঠিত হচ্ছে মন্ত্রিপরিষদ।
দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙ্গে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বঙ্গ ভবনের পরিবর্তে এবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। শপথ অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি। শপথের আগে বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে জানাবেন যে, সংসদে দলটির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের জন্য আবেদন করবেন। রাষ্ট্রপতি সংসদ নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন, যিনি পরবর্তীতে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নির্বাচন করবেন।

সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে থাকছেন দেশি-বিদেশি ১ হাজার ২০০ অতিথি।  আমন্ত্রিতদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা,  ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল, কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রহমান বিন জসিম বিন জাবের আল থানিস, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা ও শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নলিন্দা জয়তিসার প্রমুখ। এছাড়া নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন চীন, ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের সরকারের অন্যান্য প্রতিনিধি।
শপথ অনুষ্ঠানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের মধ্যে থাকবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাগণ, বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাগণ, তিন বাহিনী প্রধান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ, ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতগণ, বুদ্ধিজীবীগণসহ দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিগণ।
উল্লেখ্য, সরকার গঠন করতে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫১ আসন লাগে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন ২৯৭টিতে নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশ করে ১৩ ফেব্রুয়ারি। এই নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসনে বিজয়লাভ করে। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পায় জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি। ৭ আসনে বিজয়ী হয় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা (বিএনপির বিদ্রোহী)। এনসিপি ৬টি,  বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, বিজেপি ১টি, গণঅধিকার পরিষদ ১টি, গণসংহতি আন্দোলন ১টি, এনডিএম ১টি ও ইসলামী আন্দোল ১টি আসন পেয়েছে।
এছাড়া ২ টি আসনের ফলাফল স্থগিত করা হয়। আর ৩০০ আসনের মধ্যে একটি আসন নির্বাচনের আগেই স্থগিত করা হয়। এদিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মন্ত্রী হিসেবে বিএনপি ও সমমনা দলের অর্ধশতাধিক নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও কারা থাকছেন সেখানে তা আজ মঙ্গলবার দুপুরের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। শেষ মুহূর্তেও চমক থাকতে পারে।  তবে নবীন-প্রবীণ, ত্যাগী, পরীক্ষিত ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতাদের সমন্বয়েই মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন আগের তিনবারের মতো এবারও মন্ত্রিসভায় থাকছেন। এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সালাহ উদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ,  ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সেলিমা রহমানও থাকতে পারেন নতুন মন্ত্রিসভায়।
এছাড়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. বরকতউল্লাহ বুলু, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জয়নাল আবদিন ফারুক, ফজলুর রহমান, ড. মাহাদী আমিন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার  মাহবুব উদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, হুমায়ুন কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, দলের নেতা অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, ড. ওসমান ফারুক, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, নওশাদ জমির, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, আজিজুল বারী হেলাল, ব্যারিস্টার মীর হেলাল, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু থাকতে পারেন নতুন মন্ত্রিসভায়। বিএনপির সমমনা দলগুলো থেকে নতুন মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক নূর ও ববি হাজ্জাজ।
বিএনপি সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনে বিজয়ের পর থেকেই নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়ে দফায় দফায় সিনিয়র নেতাদের মতামত নিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে আজ সংসদীয় দলের সভা শেষে নতুন মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাচ্ছেন সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা যায়। দলীয় সূত্র জানায়, দলীয় ফোরামে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার তারেক রহমানকেই দিয়েছেন সিনিয়র নেতারা।
এছাড়া, সংসদের উপনেতা, চিফ হুইপ, হুইপসহ বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ রয়েছে। সেখানেও বিএনপির অনেক নির্বাচিত এমপি দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবে। এরমধ্যে উপনেতা, চিফ হুইপ, হুইপ পদগুলো মন্ত্রি, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর পদমর্যাদা সম্পন্ন। এসব পদে কারা নির্বাচিত হন সেগুলোও থাকবে আজ দৃষ্টিতে।

সেই জার্সি গায়ে দিয়েই হাসনাত আব্দুল্লাহর শপথগ্রহণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ সংসদে শপথ নিলেন ‘আইকনিক’ সবুজ জার্সি গায়ে।

মঙ্গলবার(১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় এর শপথকক্ষে শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। অনুষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি অতিথিরাও উপস্থিত ছিলেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ যে জার্সি পরে শপথ গ্রহণ করেছেন, তা সবুজ রঙের, সামনে লেখা তার বিভাগের নাম এবং বাম দিকের ওপরের অংশে ফুটে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো। পেছনে লেখা ছিল তার নাম ‘হাসনাত’ ও নম্বর ১০।

এর আগে তিনি একই জার্সি পরে নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি এর আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র অনুযায়ী, শপথগ্রহণের পর তিনি বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে অংশ নিয়ে সংসদ নেতা হিসেবে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত করতে সহায়তা করবেন।

আজ বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান এবং নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন। সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন মন্ত্রীদের দপ্তরবণ্টন ও আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

মন্ত্রিসভায় সুনামগঞ্জের প্রতিনিধি থাকলে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে দাবি নুরুল হক আফিন্দীর

নতুন সরকার গঠনের প্রাক্কালে সুনামগঞ্জের উন্নয়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির দাবি উঠেছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক বা সুজন সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি নুরুল হক আফিন্দী এক বিবৃতিতে এই দাবি জানান। তিনি মনে করেন, হাওরবেষ্টিত এই জনপদের টেকসই উন্নয়নের জন্য মন্ত্রিসভায় জেলার প্রতিনিধি থাকা জরুরি।

​নুরুল হক আফিন্দী বলেন, নতুন সরকার গঠনের শুরুতেই জনমনে স্বস্তি ফেরাতে চাঁদাবাজ ও লুটপাটকারীদের দৌরাত্ম্য কঠোর হাতে বন্ধ করতে হবে।সুনামগঞ্জের বিশেষ ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ যদি মন্ত্রিসভায় স্থান পান তবে হাওরাঞ্চলের উন্নয়ন অগ্রাধিকার পাবে। বিশেষ করে নদী খনন এবং বাঁধের নামে লুটপাট বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি। প্রতি বছর বাঁধ সংস্কারের নামে যে মাটি কাটা হয়, তা জমির উর্বরতা ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। তাই অস্থায়ী বাঁধের বদলে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে।

​বিবৃতিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, এক সময়ের সমৃদ্ধ টাঙ্গুয়া ও খরচার জলাভূমির প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে। অনেক প্রজাতির মাছ ও ঝোপঝাড় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। সামগ্রিকভাবে জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আনতে এবং জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে সুনামগঞ্জ থেকে শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব মন্ত্রিসভায় থাকা প্রয়োজন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়ার সময় এখনও হয়নি: মির্জা আব্বাস

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার বিষয়ে এখনও সময় হয়নি, সময় আছে তো বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শপথগ্রহণ শেষে সংসদ ভবন থেকে বের হওয়ার পথে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

মির্জা আব্বাস বলেন, ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। দেশবাসীর প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, তারা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করে সংসদে পাঠাতে পেরেছে। আমি তাদের প্রতিনিধি হয়ে অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বিত বোধ করছি।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ আপনারা না নিলে জামায়াত কোনো শপথই নেবে না, এ প্রসঙ্গ মির্জা আব্বাস বলেন আমাদের গণতান্ত্রিক ধারা মেনে চলা উচিত, যা হবে সংসদে হবে।

দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন আপনারা পেয়েছেন। কীভাবে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে এই সংসদ কার্যকর করবেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবং বেগম খালেদা জিয়া ও শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পথ অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করব।

এর আগে, কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হইনি। জাতীয় সংসদে সাংবিধানিকভাবে গৃহীত হলে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া যাবে।