Home Blog Page 172

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী-এমপিরা বেতনসহ যেসব সুবিধা পান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শিগগিরই বাংলাদেশের সরকার গঠন করতে যাচ্ছে অন্যতম জনপ্রিয় এই রাজনৈতিক দলটি।

আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টায় নতুন প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী-এমপিরা কত টাকা বেতন পেয়ে থাকেন এ নিয়েই বরাবরই আগ্রহী দেশের সাধারণ মানুষ। এছাড়া বেতনের বাইরে তারা আর কী কী সুবিধাদি পান তা নিয়েও যেন জনসাধারণের কৌতূহলের শেষ নেই। বিশেষ করে সংসদ নির্বাচনের সময়টায় এইসব প্রশ্ন অনেকের মনেই উঁকি দেয়।

জানা যায়, বাংলাদেশে সর্বোচ্চ বেতন পান রাষ্ট্রপতি। তিনি মূল বেতন হিসেবে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন। আর প্রধানমন্ত্রীর মাসিক বেতন হয়ে থাকে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এই দুই ব্যক্তির সব খরচ রাষ্ট্র বহন করে।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা বেতনের সঙ্গে বাড়ি ভাড়া হিসেবে ১ লাখ টাকা পেয়ে থাকেন। এছাড়া দৈনিক ভাতা হিসেবে ৩ হাজার টাকা, বিমান ভ্রমণের জন্য বিমা কভারেজ ২৫ লাখ টাকা এবং স্বেচ্ছাধীন তহবিল দেড় কোটি টাকা পেয়ে থাকেন তিনি। অবশ্য সরকারি বাসভবনে থাকলে তিনি বাড়ি ভাড়া বাবদ ১ লাখ টাকা পাবেন না।

জাতীয় সংসদের স্পিকার বেতন পান ১ লাখ ১২ হাজার টাকা। বেতন পাওয়ার দিক দিয়ে তার পরের অবস্থানে রয়েছেন প্রধান বিচারপতি। তিনি মাসিক বেতন পান ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীরা বেতন পান মাসিক ১ লাখ ৫ হাজার টাকা। আর প্রতিমন্ত্রীদের বেতন ৯২ হাজার টাকা। একই পরিমাণ বেতন পান জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, চিপ হুইপ এবং বিরোধী দলীয় নেতা। এছাড়া উপমন্ত্রীদের মাসিক বেতন হয়ে থাকে ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা।

একজন সংসদ সদস্য বেতন পান ৫৫ হাজার টাকা করে। এছাড়া বিভিন্ন ভাতা বাবদ পান আরও টাকা। এর মধ্যে রয়েছে- আপ্যায়ন, চিকিৎসা, পরিবহন, ভ্রমণ, অফিস পরিচালনা ও টেলিফোন বিল। এছাড়া বিমার আওতায় থাকেন সংসদ সদস্যরা।

মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী সরকারি খরচে একটি করে গাড়ি সুবিধা পান। এই গাড়ি পরিবহন পুল থেকে সরবরাহ করা হয়। এছাড়া সরকারি প্রয়োজনে ভ্রমণের সময় তারা মন্ত্রণালয়ের অধীনে যেকোনো সংস্থা বা দপ্তর থেকে একটি জিপ গাড়ি পান।

জ্বালানি বাবদ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী দৈনিক ১৮ লিটার জ্বালানি তেলের সমপরিমাণ অর্থ পান। একজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী দেশের ভেতরে কোথাও ভ্রমণে গেলে দৈনিক ভাতা পান ২ হাজার টাকা। উপমন্ত্রী পান দেড় হাজার টাকা।

আইন অনুযায়ী মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উপসচিব পদমর্যাদার একজন একান্ত সচিব (পিএস) পাবেন। এছাড়া একজন সহকারী একান্ত সচিব এবং সরকারি কর্মকর্তার বাইরে নিজের পছন্দের একজন সহকারী একান্ত সচিব পেয়ে থাকেন। এছাড়া দুইজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, একজন জমাদার, একজন আরদালি, দুইজন অফিস সহায়ক ও একজন পাচক পেয়ে থাকেন।

প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী একজন একান্ত সচিব, একজন ব্যক্তিগত সহকারী, একজন জমাদার, একজন আরদালি ও একজন অফিস সহায়ক পেয়ে থাকেন। এছাড়া মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা একটি করে মুঠোফোনের সুবিধাও পেয়ে থাকেন।

শপথ নিলো জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকে জয়ী প্রার্থীরা শপথ গ্রহণ করেছেন। এ সময় তারা সংবিধান সংস্কার কমিশনের শপথও গ্রহণ করেন।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ২২ মিনিটে  জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে তারা শপথ নিয়েছেন।

শপথের আগে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান।

এর আগে, সকাল পৌনে ১১টার দিকে শপথ নেন বিএনপির নবনির্বাচিত এমপিরা। তাদেরও শপথ পাঠ করান সিইসি।

নতুন মন্ত্রিসভা হতে পারে ৫০ সদস্যের, ফোন পেয়েছেন যারা

তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলেই শপথ নিতে যাচ্ছে নতুন মন্ত্রিপরিষদ। এবারের মন্ত্রিসভা ৫০ সদস্যের হতে পারে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে পূর্ণমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীর সংখ্যা সমান সমান হতে পারে।

সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানে আনা–নেওয়ার জন্য ৪৯টি গাড়ি পাঠাচ্ছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এর মধ্যে ২৫ পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন বলে জানা গেছে।

ইতোমধ্যে শপথ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে ফোন দিতে শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। অনেকে ফোন পেয়েছেন এবং গণমাধ্যমকে সেই খবর নিজেরাই নিশ্চিত করেছেন।

এর মধ্যে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন ফোন পেয়েছেন।

সিলেট থেকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে ডাক পেয়েছেন সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। ডাক পেয়েছেন সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সিলেটের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

বরিশাল–১ আসনের সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপনও ফোন পেয়েছেন। তিনিও পূর্ণ মন্ত্রী হচ্ছেন।

বগুড়া -২ আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ফোন পেয়েছেন।

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন থেকে নির্বাচিত নুরুল হক (নুর) প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার ডাক পেয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ–৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শরীফুল আলম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ফোন পেয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় ২ জনের নাম

নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হতে পারেন-এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা জোরালো হয়েছে। বিভিন্ন মহলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়েও চলছে নানা জল্পনা।

বিএনপির অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন-এর নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান-এর নামও আলোচনায় রয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের পথে রয়েছে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর মন্ত্রিসভা গঠনকে ঘিরে দলের ভেতরে আলোচনা চলছে। মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়েও মতবিনিময় হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এদিকে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পদত্যাগ করতে পারেন- এমন ইঙ্গিত তিনি গত ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন তিনি। সংবিধান অনুযায়ী তাঁর মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকলেও দায়িত্বে অব্যাহত থাকা নিয়ে তাঁর অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি সরকার গঠন করলে খন্দকার মোশাররফ হোসেন রাষ্ট্রপতি পদে আসতে পারেন-এমন আলোচনা আগে থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে ছিল। তিনি কুমিল্লা–১ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং অতীতে জ্বালানি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেছেন। এছাড়া তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

অন্যদিকে নজরুল ইসলাম খান রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় থাকলেও দলীয়ভাবে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে তিনি বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তবে নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে কে দায়িত্ব নেবেন- সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যেই বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশে পৌঁছেছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালানন্দ শর্মা। আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি ঢাকায় পৌঁছান। তথ্যটি নিশ্চিত করেছে ঢাকাস্থ নেপাল দূতাবাস।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে নতুন সরকার শপথ নিতে যাচ্ছে। আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান এবং নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান হবে। অনুষ্ঠানে শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি।

এর আগে সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও (এমপি) শপথ গ্রহণ করবেন। তাদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

অস্ত্রোপচারের পর কেমন আছেন তানিয়া বৃষ্টি?

অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টির ব্রেন টিউমারের খবর প্রকাশ হতেই ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মস্তিষ্কে সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। চার ঘণ্টাব্যাপী জটিল সার্জারির পর বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন, জানিয়েছেন নির্মাতা ইমরাউল রাফাত।

তানিয়াকে অন্তত ২৪ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পোস্ট-অপারেটিভ জটিলতার সম্ভাবনা থাকায় এখনই তাকে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত বলা যাচ্ছে না। এই সময়টিতে পূর্ণ বিশ্রাম নেওয়া এবং নিয়মিত চিকিৎসা অনুসরণ করা জরুরি।

ইমরাউল রাফাত বলেন, অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং টিউমার অপসারণ করা গেছে। তবে এখনই আউট অব ডেঞ্জার বলা যাচ্ছে না। তানিয়া ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় অপারেশনের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন এবং সেই দিন নিজের ফেসবুক পোস্টে অসুস্থতার খবর জানান। পোস্টে তিনি ভালোবাসা দিবসে পরিবারের দেওয়া ফুল হাতে হাসপাতালে বসে থাকা একটি ছবি শেয়ার করে সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন।

চাপে আছে ভারত

ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে ভারত। সমালোচকদের দাবি, এই চুক্তি ওয়াশিংটনের কাছে ‘আত্মসমর্পণ’।

মুম্বাই  থেকে এএফপি জানায়, চলতি মাসে ঘোষিত চুক্তিটি বিশেষ করে ভারতের প্রভাবশালী কৃষক সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাদের আশঙ্কা, সস্তা মার্কিন পণ্য আমদানি হলে দেশীয় উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ভারতে ৭০ কোটির বেশি মানুষ কৃষির সঙ্গে যুক্ত।

চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ হয়নি, শুধু একটি যৌথ বিবৃতি ও হোয়াইট হাউসের তথ্যপত্র প্রকাশিত হয়েছে। তবে নয়াদিল্লি জানিয়েছে, মার্চের শেষ নাগাদ একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে।

বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ অভিজিৎ দাস এএফপিকে বলেন, ‘ট্রাম্পের যুগে নিশ্চিত বলে কিছু নেই।’ তার মতে, চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তা টিকবে কি না, তা নির্ভর করবে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

সবচেয়ে বিতর্কিত প্রতিশ্রুতি হলো- সভারত আগামী পাঁচ বছরে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য কেনার ‘ইচ্ছা’ প্রকাশ করেছে। অথচ গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের আমদানি ছিল প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার।

নয়াদিল্লিভিত্তিক থিংক ট্যাংক গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, বছরে আমদানি ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা ‘অবাস্তব’।

তিনি জানান, এ অঙ্গীকারের বড় অংশ বিমান কেনার সঙ্গে যুক্ত। তবে বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোর অতিরিক্ত বোয়িং বিমান কেনার সিদ্ধান্তও মোট লক্ষ্যপূরণে যথেষ্ট হবে না। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, পাঁচ বছরে ২০০টি বোয়িং বিমান কিনলেও (প্রতি বিমানের আনুমানিক মূল্য ৩০০ মিলিয়ন ডলার) মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে কিছু অর্থনীতিবিদ মনে করেন, ‘অঙ্গীকার’ নয় বরং ‘ইচ্ছা’ হিসেবে লক্ষ্য নির্ধারণ করায় নয়াদিল্লির ঝুঁকি কিছুটা কমেছে। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের শিভান ট্যান্ডন বলেন, লক্ষ্যকে বাধ্যবাধকতা না বানানোয় চুক্তি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা কমেছে।

আরেকটি বিতর্কিত বিষয় হলো- ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধে সম্মত হয়েছে বলে ওয়াশিংটনের দাবি। এর পর যুক্তরাষ্ট্র ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করে। তবে যৌথ বিবৃতিতে এমন কোনো প্রতিশ্রুতির উল্লেখ নেই এবং ভারত সরকারও বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।

ভারত বলছে, তাদের জ্বালানি নীতি জাতীয় স্বার্থনির্ভর এবং বিভিন্ন উৎস থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল।

২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি রুশ তেল আমদানি করলেও জানুয়ারিতে তা কমে প্রায় ১১ লাখ ব্যারেলে নেমেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত রিফাইনারিগুলো এপ্রিলের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল কেনা শুরু করেছে।

তবে রুশ তেল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। আংশিকভাবে রাশিয়ার রোজনেফটের  মালিকানাধীন মুম্বাইভিত্তিক নায়ারা এনার্জি প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ ব্যারেল তেল কেনা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা করছে বলে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে।

বিএমআই (ফিচ সলিউশনসের একটি ইউনিট)-এর ড্যারেন টে বলেন, ‘নয়াদিল্লি প্রকাশ্যে পুরোপুরি বন্ধের কথা বলছে না এবং মূল্য ও প্রাপ্যতার ভিত্তিতে জ্বালানি সংগ্রহের কথা উল্লেখ করছে—এতে তেল ইস্যুতে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।’

তার মতে, ভারতীয় রিফাইনারিগুলো স্পট মার্কেটে রুশ তেল কেনা কমাচ্ছে, যা আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতির বদলে আংশিক সমন্বয়ের ইঙ্গিত দেয়।

চুক্তিটি এখনো ‘ভঙ্গুর ও রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত। এ কারণে ভারতের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাসে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আনার মতো স্থিতিশীলতা এখনো তৈরি হয়নি ব্বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা।

রমজান সামনে রেখে খেজুর বাজার জমজমাট

পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে খেজুরের বাজার এখন জমজমাট। পাইকারি ও খুচরা বাজারের পাশাপাশি ফুটপাতে বসেছে খেজুরের মৌসুমি বাজার। দাম অনেকটা গত বছরের মতোই। ফলে বেচাকেনাও বেশ ভালো। তবে মেয়াদ উত্তীর্ণ পচা খেজুর বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে। যদিও সরকারি বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি খেজুর ব্যবসায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
বিক্রেতারা জানান, রমজানকে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকার সদরঘাট-বাদামতলী ফল বিক্রয় এলাকায় বেড়েছে খেজুরের বেচাকেনা। দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি ও খুচরা ফলের বাজার হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় আমদানিকারকদের বেশিরভাগ আড়ত অবস্থিত। তুলনামূলক কম দামে বিভিন্ন জাতের খেজুর পাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও ভিড় করছেন এখানে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, আড়ত এলাকায় প্রতি ৫ কেজি প্যাকেটের খেজুরের দাম ধরা হয়েছে মরিয়ম ভিআইপি ৫ হাজার টাকা, কালনি ২ হাজার ৯০০, ফরিদা ১ হাজার ৭৫০, সুক্কারি ১ হাজার ৮৫০, সুফরি ২ হাজার, ছড়া ২ হাজার ২০০, মেভজুল ৫ হাজার ৭০০, মিনিফি ১ হাজার ৮০০, রাবেয়া ২ হাজার ৫০, কালমী ২ হাজার ৬০০, খুরমা ১ হাজার, মরিয়ম জমজম ৪ হাজার ৭০০, মাসরুক ২ হাজার ৩০০, মেভজুল বড় ৭ হাজার ২০০, মেভজুল মাঝারি ৬ হাজার ১০০, মাবরুম ৫ হাজার, সুল্যাস ২ হাজার ৩০০, দুখানী মরিয়া ৪ হাজার এবং মালমী (ভিআইপি) ৩ হাজার ৪০০ টাকা।
বিক্রেতারা জানান, ৩ কেজি প্যাকেটের মধ্যে আজোয়া ২ হাজার ৭০০, কালমী ২ হাজার ২০০ এবং মাবরুম ২ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ১ কেজি প্যাকেটের ক্ষেত্রে মেভজুল বড় ১ হাজার ৫৫০, মেভজুল মাঝারি ১ হাজার ৪০০, মেভজুল ছোট ১ হাজার ৩০০ এবং মাবরুম মাঝারি ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে খুচরা বাজারে এ দাম কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ২০০ টাকা বেশি।
এদিকে খেজুর ব্যবসায় অসাধু উপায় অবলম্বনকারিদের নিয়ন্ত্রণে কর্মসূচি নিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো। ঢাকা মহানগর ফল আমদানি-রপ্তানিকারক ও আড়তদার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড এবং বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মেয়াদোত্তীর্ণ, পঁচা বা দুর্গন্ধযুক্ত খেজুর বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সরাসরি মেঝেতে পণ্য রাখা যাবে না; কাঠের তক্তা বা চাটাইয়ের ওপর রাখতে হবে এবং বস্তাবন্দি খেজুর স্বচ্ছ পিপি পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে, যেন মশা-মাছি না বসে। মেয়াদোত্তীর্ণ কোল্ড স্টোরেজে রাখা মাল্টা বা ম্যান্ডারিন বিক্রির আগে সমিতির পূর্বানুমতি নিতে হবে এবং কোনোভাবেই খাদ্য-অযোগ্য পণ্য বাদামতলী মন্ডিতে বিক্রি করা যাবে না। এছাড়া খেজুর পরিমাপের স্কেল বা পাল্লা পরীক্ষা করে ব্যবহার, মূল্য তালিকা প্রদর্শন এবং বিক্রির মেমো বা রশিদ কার্বন কপিসহ সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যে কোনো সময় নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর বা বিএসটিআই কর্তৃপক্ষ অভিযান পরিচালনা করতে পারে। এ কারণে সব ব্যবসায়ীকে নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে।

আঞ্চলিক কূটনীতিতে ভারসাম্যের বার্তা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নবনির্বাচিত সরকারের শপথগ্রহণ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শেষে গণরায়ের ভিত্তিতে গঠিত এ সরকারকে ঘিরে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলো থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি আঞ্চলিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত বহন করছে।

শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ—উভয়ের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি থাকায় ব্যক্তিগতভাবে শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবুও দুই দেশের প্রতিনিধিত্বমূলক অংশগ্রহণকে কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও প্রতিনিধিত্বের স্তর ও বার্তাই এখানে অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্বকে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বাংলাদেশের অন্যান্য দেশের সঙ্গে ধারাবাহিক বন্ধুত্বের পুনর্ব্যক্তি বলে মন্তব্য করেছেন।

ভারতের পক্ষ থেকে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিস্ত্রি। ভারতের কূটনৈতিক সূত্র জনকণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস নোটে ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের গভীর ও ঐতিহাসিক বন্ধনের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক বহুমাত্রিক। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় দুই দেশের সম্পৃক্ততা ক্রমবর্ধমান। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সংযোগ অবকাঠামো, জ্বালানি সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা—এসব ক্ষেত্রে উভয় দেশ পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে কাজ করে আসছে। ফলে শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্বকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি হিসেবেই মূল্যায়ন করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

পাকিস্তানের পক্ষে পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী এহসান ইকবাল অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যে পরিবর্তন এসেছে, তার আলোকে বাংলাদেশ–পাকিস্তান সম্পর্কেও বাস্তববাদী যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ অস্ট্রিয়ার ফেডারেল চ্যান্সেলর ক্রিস্টিয়ান স্টোকারের আমন্ত্রণে ১৫–১৬ ফেব্রুয়ারি ভিয়েনা সফরে রয়েছেন। সফরকালে তিনি পাকিস্তান–অস্ট্রিয়া বিজনেস ফোরামে অংশ নেবেন এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি’র সঙ্গে বৈঠক করবেন। সফরটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, একই সময়ে একাধিক কূটনৈতিক কর্মসূচিতে সম্পৃক্ততা দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোর বহুমাত্রিক পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন।

শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যমমন্ত্রী নালিন্দা জয়তিস্সা শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন। একইভাবে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লে. জেনারেল (অব.) বালা নন্দ শর্মার উপস্থিতির সম্ভাবনার কথা জানা গেছে। দক্ষিণ এশীয় সহযোগিতার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো—বিশেষত আঞ্চলিক বাণিজ্য, জলবায়ু সহনশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও জনগণ-জনগণ যোগাযোগ—এগুলোতে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতিনিধিত্বকে আঞ্চলিক সংহতির ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একই সময়ে, ১৭–১৯ ফেব্রুয়ারি ভারতে সরকারি সফরে রয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এ সফরে ‘হরিজন ২০৪৭’ রোডম্যাপের আলোকে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, জ্বালানি রূপান্তর ও ইন্দো-প্যাসিফিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। মুম্বাইয়ে ‘ইন্ডিয়া–ফ্রান্স ইয়ার অব ইনোভেশন ২০২৬’-এর উদ্বোধন এবং নয়াদিল্লিতে এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে অংশগ্রহণ—এসব কর্মসূচি বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারত্বের বহিঃপ্রকাশ। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অঙ্গনে সমান্তরাল কূটনৈতিক তৎপরতা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক সময়রেখাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

বাংলাদেশের জন্য তাৎপর্য

বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথকে কেন্দ্র করে যে বহুপাক্ষিক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, তা দেশের কৌশলগত অবস্থান ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার স্বীকৃতি বহন করে। বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে সংযোগ, সমুদ্রসম্পদ, নীল অর্থনীতি, আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্য এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের পুনর্বিন্যাস—এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠছে।

নবনির্বাচিত সরকারের জন্য পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় সক্রিয় ভূমিকাই হবে অগ্রাধিকার। কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিবেশীদের সঙ্গে আস্থাভিত্তিক সম্পর্ক জোরদার, বহুপাক্ষিক মঞ্চে সক্রিয়তা বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে ফলপ্রসূ সম্পৃক্ততা—এই তিন অক্ষে আগামী দিনের কৌশল নির্ধারিত হতে পারে।

আজকের শপথ অনুষ্ঠান কেবল একটি সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী মুহূর্ত। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিত্বমূলক উপস্থিতি পারস্পরিক সম্মান, সংলাপ ও সহযোগিতার ধারাকে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিচ্ছে।

বাংলাদেশের নতুন সরকার আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির পক্ষে ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে—এ প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা। দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এ শপথ অনুষ্ঠান ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ভিত্তি সুদৃঢ় করার এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সাকিব-মাশরাফির বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা বিশ্বাসযোগ্য নয়: ইশরাক

ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও ব্রাদার্স ইউনিয়নের আহ্বায়ক ইশরাক হোসেন বলেছেন, জাতীয় দলের সাবেক দুই তারকা সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তাজার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া গণহত্যার মামলা তার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। তিনি মনে করেন, এই দুই ক্রিকেটারকে রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়, দেশের ‘অ্যাসেট’ হিসেবে দেখা উচিত।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অনেক আগেই সরে দাঁড়িয়েছেন মাশরাফি। ঘরোয়া ক্রিকেটে খেললেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি জনসম্মুখে নেই। অন্যদিকে জুলাই অভ্যুত্থানের পর সাকিব আল হাসানের নামেও একাধিক মামলা হয়েছে একই কারণে তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইশরাক বলেন, তারা ক্রিকেটার এবং শুধু কোনো যেন-তেন ক্রিকেটার না, তারা আমাদের দেশের অ্যাসেট। আমি তাদের ক্রিকেটার হিসেবেই বিবেচনা করছি। জনগণ ইতোমধ্যে একপ্রকার জবাব দিয়ে দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে যে গণহত্যার মামলা হয়েছে, সেটি আমার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না। আমার কাছে মনে হয়নি, তারা গিয়ে কোনো অর্ডার ক্যারি আউট করেছে বা নিজের হাতে বন্দুক নিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে।

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইশরাক। তিনি বলেন, আপনারা জানেন বিসিবির কাউন্সিলর কেমন করে হয় সেখানে জেলা প্রশাসক কাউন্সিলর নিয়োগ দেন। এটা মহাদুর্নীতি, বাণিজ্য ও পক্ষপাতিত্বমূলক প্রক্রিয়া। নিজেদের সিন্ডিকেট বোর্ডে বসানোর চেষ্টা হলে আমরা তো বসে থাকতে পারি না।

তবে নিজে বোর্ড রাজনীতিতে আসার আগ্রহ নেই বলেও জানান তিনি। আমি একজন কাউন্সিলর হলেও কখনো বোর্ডে আসব না। আমার বোর্ডে আসার সময় নেই। আমি ফুলটাইম রাজনীতি করব। আমি চাই, যারা ফুলটাইম ক্রীড়া সংগঠক, তারা আসুক। আমরা তাদের সহায়তা করব, যোগ করেন ইশরাক।