Home Blog Page 173

ড. ইউনূস একটি জালেমকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছেন

জাতীয় নাগরিক পার্টি–এর মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করে বলেছেন, ‘ড. ইউনূস একজন জালেম ব্যক্তিকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছেন এবং আমরা দেখছি, তাদের মাধ্যমেই আওয়ামী লীগের কার্যালয় উদ্বোধন করা হচ্ছে।’ আজ রোববার রাজধানীতে আয়োজিত এক সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ড. ইউনূসকে উদ্দেশ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আপনি যেভাবে এ দেশে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সহায়তা করেছেন, তা জাতি মনে রাখবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যখন লন্ডনে গিয়েছিলেন, তখন আমরা বলেছিলাম আপনি সেখানে সিজদা দিয়ে এসেছেন। এরই ফল হিসেবে এবারের নির্বাচনে প্রশাসনকে ব্যবহার করে কারচুপি করা হয়েছে।’

এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, ‘সারা দেশে আমাদের বোনদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে, এর দায় আপনাকেই নিতে হবে। আমরা কাউকে ক্ষমা করার পক্ষপাতী নই।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবি করায় আপনি ইনকিলাব মঞ্চের ভাই-বোনদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছেন।’

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা যখন ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়েছি, তখন তা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলার মাটিতে ওসমান হাদি হত্যার বিচার হতেই হবে। যদি এ হত্যার বিচার হতো, তাহলে আমাদের বোন আজ গণধর্ষণের শিকার হতো না। বিএনপির নামে যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে, তারা সেই সাহস পেত না।’

মন্ত্রিসভায় থাকছে চমক

আলোচিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সরকার গঠনের প্রস্তুতিও চলছে ত্বরিতগতিতে। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, এমনটা এক প্রকার নিশ্চিত।

আগামীকাল মঙ্গলবার হবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ। কারা থাকবেন সেখানে, কাদের নিয়ে গঠিত হচ্ছে মন্ত্রিসভা- সেটাই এখন সকলের আগ্রহের বিষয়, ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ও। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা কেমন হবে এ প্রশ্নে জবাবে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা বলছেন, নবীন-প্রবীণের মিশেলে হবে এবারের চমকের মন্ত্রিসভা। যেভাবে সারাদেশে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, সেই ছাপ দেখা যাবে মন্ত্রিসভাতেও।

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ত্যাগী, পরীক্ষিত ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতাদের ঠাঁই হবে মন্ত্রিসভায়। ‘চমক’ থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা। এ ছাড়াও বিএনপির জোটসঙ্গী কয়েকজনও স্থান পাবে মন্ত্রিসভায়। বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামে যারা হাল ধরে ছিলেন তাদের বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হবে, সেটি নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে বিএনপির বেশিরভাগ জ্যেষ্ঠ নেতাই এবার নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাচ্ছেন, সেই ধারণাই পাওয়া গেছে দলটির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে। ধারণা করা হচ্ছে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মির্জা আব্বাস, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, সালাহ উদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম ও ডা. এ জেড এম জাহিদের মতো পরীক্ষিতরা পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন।

এ ছাড়া শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, লুৎফুজ্জামান বাবর, শামা ওবায়েদ, অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, মাহবুব উদ্দিন খোকন, ওসমান ফারুক, আলী আজগর লবি, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মো. বরকতউল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, জয়নাল আবদিন ফারুক, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এবিএম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), নওশাদ জমির, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ (অপু), সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রকিবুল ইসলাম বকুল, নিতাই রায় চৌধুরী, আজিজুল বারী হেলাল, ব্যারিস্টার মীর হেলাল, মিজানুর রহমান মিনু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নওশাদ জমির, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও এসএম জিলানীর নাম নিয়েও চলছে আলোচনা।

জোটসঙ্গীদের মধ্যে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, ববি হাজ্জাজ, জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নূর মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার জোর আলোচনায় রয়েছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসার জোর গুঞ্জন রয়েছে। সর্বশেষ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রেস কনফারেন্সে বিদেশি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবের সময় এ বিষয়টি লক্ষ্য করা গেছে। উল্লেখ্য, তিনি ২০০১ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ওই সময় শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নকল দমনে তিনি অনেক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। নতুন মন্ত্রিসভায় তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদের। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবেন বলে অনেকে ধারণা করছেন। অপর স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে, জোর গুঞ্জন রয়েছে, বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ হতে পারেন রাষ্ট্রপতি। তেমনি হলে রুহুল কুদ্দুস তালুকদারকে দেখা যেতে পারে এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এমএস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়ার। আইএমএফে কাজ করা এ অর্থনীতিবিদ নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়ার বিষয়ে দলের মধ্যেও আলোচনা হচ্ছে। এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এর আগেও তিনি একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানকে তথ্য অথবা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার জোর গুঞ্জন রয়েছে।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভায় জোর গুঞ্জন চলছে- দলটির সিনিয়র নেতা মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বস্ত্র ও পাট), আবদুল আওয়াল মিন্টু (সমাজকল্যাণ), আবদুস সালাম পিন্টু (শিল্প), এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী (স্বরাষ্ট্র), মাহবুব উদ্দিন খোকন কিংবা অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান (আইন ও বিচার),  ইকবাল মাহমুদ টুকু (কৃষি), আমান উল্যাহ আমান (ডাক, টেলিযোগাযোগ), ব্যারিস্টার নওশাদ জামির (খাদ্য), শামা ওবায়েদ (প্রাথমিক ও গণশিক্ষা), নিতাই রায় চৌধুরী (যুব ও ক্রীড়া), সানজিদা ইসলাম তুলি (মহিলা ও শিশু), মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (ধর্ম), লুৎফুজ্জামান বাবর (পানি সম্পদ), শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী (প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক), জয়নুল আবেদীন ফারুক (মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ), হাবিবুর রহমান (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা), আজিজুল বারি হেলাল (পরিবেশ ও বন), শিমুল বিশ্বাস (সংস্কৃতি), ববি হাজ্জাজ (পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী), হুম্মাম কাদের চৌধুরী (শ্রম ও কর্মসংস্থান) এবং জোট সঙ্গী আন্দালিব পার্থ (রেলপথ), নুরুল ইসলাম নুরু (নৌ পরিবহন) এবং জোনায়েদ সাকি (ভূমি) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে।

টেকনোক্র্যাট কোটায় যারা আলোচনায় রয়েছেন ॥
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে টেকনোক্র্যাট কোটায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী করা হতে পারে বলে দলীয় অভ্যন্তরে আলোচনা রয়েছে। এ ছাড়া তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিনকেও এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেখা যাওয়ার গুঞ্জন রয়েছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মওদুদ আলমগীর পাভেলও আলোচনায় আছেন।

টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিত্ব পেতে পারেন চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, কৃষক দলের সাবেক আহ্বায়ক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। এ ছাড়া ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাককেও যে কোনো দায়িত্বে দেখা যেতে পারে।

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জনকণ্ঠকে বলেন, ‘মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে কে কোন মন্ত্রণালয় ভালো করবেন তা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। চেয়ারম্যান পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন। তবে, এ মুহূর্তে কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন তা নিশ্চিতভাবে বলা মুশকিল।’

ত্বক দীর্ঘসময় কোমল রাখতে লোশন ব্যবহারের সেরা সময়

শীতকালে ত্বক দীর্ঘসময় কোমল রাখতে লোশন ব্যবহারের সেরা সময়

শীত এলেই আমাদের ত্বক সবার আগে পরিবর্তনটা টের পায়। বাতাস ঠান্ডা হয়ে যায়, আর্দ্রতা কমে যায়, আর হঠাৎ করেই দেখা যায়- যে লোশনটি সারা বছর ভালো কাজ করত, সেটি আর আগের মতো কার্যকর মনে হচ্ছে না। যতবারই লাগান না কেন, কিছুক্ষণ পর আবার ত্বক শুষ্ক, টানটান আর রুক্ষ লাগে।

কিন্তু এর কারণ সব সময় লোশন নয়। অনেক সময় কখন লোশন লাগাচ্ছেন, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সঠিক সময়ে লোশন ব্যবহার করলে ত্বক অনেক বেশি আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে এবং নরম-মসৃণ থাকে দীর্ঘসময়।

আজ আমরা জানব শীতে কেন ত্বক বেশি শুকিয়ে যায়, লোশন কীভাবে কাজ করে, এবং শীতকালে দীর্ঘস্থায়ী ময়েশ্চারের জন্য লোশন ব্যবহারের সেরা সময় কোনগুলো।

শীতকালে ত্বক কেন বেশি শুষ্ক হয়ে যায়
ঠান্ডা বাতাসে আর্দ্রতা খুব কম থাকে, ফলে ত্বক খুব দ্রুত নিজের ভেতরের পানি হারায়। এর ওপর ঘরের ভেতরের হিটার বা গরম বাতাস ত্বককে আরও শুষ্ক করে তোলে।

শীতকালে ত্বক দীর্ঘসময় কোমল রাখতে লোশন ব্যবহারের সেরা সময়
যে ৫ খাবার ফ্রিজে রাখবেন না
শীতকালে সাধারণত যা ঘটে :

– ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর দুর্বল হয়ে যায়

– ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমে যায়, ফলে খোসা ওঠা ও জ্বালা দেখা দেয়

– মোটা কাপড় ও গরম পানিতে গোসল ত্বক আরও শুষ্ক করে, এর ফল হলো—হাত, পা, কনুই ও হাঁটুতে রুক্ষতা, চুলকানি ও টান ধরা ভাব। তাই শীতে সঠিক লোশন নির্বাচন এবং সঠিক সময়ে ব্যবহার করা খুবই জরুরি।

শীতকালে লোশন ব্যবহারের সেরা সময়

গোসলের পরপরই (৩ মিনিটের মধ্যে)

এটাই লোশন লাগানোর সবচেয়ে ভালো সময়। গোসলের পর ত্বক যখন হালকা ভেজা থাকে, তখন লোশন খুব সহজে শোষিত হয় এবং ত্বকের ভেতরের পানি আটকে রাখতে সাহায্য করে।

টিপস: তোয়ালে দিয়ে ত্বক ঘষে না শুকিয়ে হালকা চাপ দিয়ে পানি মুছে নিন, তারপর লোশন লাগান।

ঘুমানোর আগে

রাতে আমাদের ত্বক নিজে নিজে ঠিক হওয়ার কাজ করে। ঘুমানোর আগে লোশন লাগালে ত্বক সারা রাত পুষ্টি শোষণ করতে পারে।

বিশেষ করে পা, কনুই ও হাঁটুতে ভালো করে লাগান—সকালে ত্বক হবে অনেক নরম।

টিপস: গভীর ময়েশ্চারের জন্য লোশন লাগানোর পরে হালকা petroleum jelly বা ভ্যাসলিন ব্যবহার করতে পারেন, যাতে আর্দ্রতা আরও দীর্ঘসময় ধরে থাকে।

হাত ধোয়ার পর বা ঠান্ডা বাতাসে বের হলে

বারবার হাত ধোয়া ও ঠান্ডা বাতাস ত্বকের প্রাকৃতিক তেল তুলে নেয়। তাই ব্যাগে ছোট একটি লোশন রাখুন এবং প্রয়োজনমতো লাগান।

এই অভ্যাস শীতেও হাতকে নরম ও মসৃণ রাখবে।

লোশনের ধরন কেন গুরুত্বপূর্ণ
শীতকালে হালকা লোশন অনেক সময় কাজ করে না। এই সময় দরকার এমন লোশন, যা গভীরভাবে ত্বককে পুষ্টি দেয় এবং দীর্ঘসময় আর্দ্রতা ধরে রাখে।

যেসব উপাদান খুঁজবেন—

– শিয়া বাটার বা গ্লিসারিন (গভীর ময়েশ্চারের জন্য)

– ভিটামিন ই (ত্বক রক্ষা ও মেরামতের জন্য)

– অ্যালোভেরা বা গোলাপ নির্যাস (ত্বক শান্ত করতে)

– ২৪ ঘণ্টা ময়েশ্চারের জন্য সহজ রুটিন

– কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করুন

– গোসলের পরপরই লোশন লাগান

– রাতে ঘুমানোর আগে আবার লাগান

– ঘরে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন

– পর্যাপ্ত পানি পান করুন

শীতকালে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর ত্বকের জন্য শুধু ভালো লোশনই যথেষ্ট নয়—সঠিক সময়ে লোশন ব্যবহার করাই আসল চাবিকাঠি। গোসলের পর এবং ঘুমানোর আগে নিয়মিত লোশন লাগালে ত্বক থাকবে নরম, মসৃণ ও সুরক্ষিত।

এই শীতে আপনার ত্বককে দিন বাড়তি যত্ন। নিয়মিত লোশন ব্যবহার করুন, আর উপভোগ করুন সারাদিনের ময়েশ্চার ও প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা।

নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী মঙ্গলবার নতুন সরকার শপথ নিতে যাচ্ছে। নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপির একাধিক সূত্র সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় রয়েছে চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান।

প্রসঙ্গত, আগামী মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পায় বিএনপি জোট।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিরা ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার শপথ নিচ্ছেন। ওই দিন সকালে তাদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।

বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের দামে উত্থান

দুর্বল মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার কমানোর প্রত্যাশা জোরদার হওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বৃহস্পতিবারের পতনের পর উল্লম্ফিত হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সময় শুক্রবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি ২.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫,০২২.০৬ ডলারে পৌঁছায়। সপ্তাহের হিসেবে স্বর্ণের দাম প্রায় ১.২ শতাংশ বাড়ার দিকে রয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার এক দিনের মধ্যে প্রায় ৩ শতাংশ পতন ঘটে, যা প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে ছিল।

এপ্রিল ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার্সও প্রায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে আউন্সপ্রতি ৫,০৪৬.৩০ ডলারে লেনদেন হয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জানুয়ারির ভোক্তা মূল্যসূচক (CPI) প্রত্যাশার তুলনায় কম আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি হয়েছে। স্বাধীন ধাতু ব্যবসায়ী তাই ওং মন্তব্য করেছেন, “শক্তিশালী কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের পর যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, নরম CPI তা প্রশমিত করেছে। এর ফলে স্বর্ণ ও রুপার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।”

মার্কিন শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ভোক্তা মূল্যসূচক ০.২ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে অর্থনীতিবিদরা ০.৩ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। ডিসেম্বরেও মূল্যসূচক ০.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

তথ্যসংগ্রাহক সংস্থা এলএসইজি জানিয়েছে, চলতি বছরে বাজারে মোট ৬৩ বেসিস পয়েন্ট সুদহার কমার প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যার প্রথম ধাপ হতে পারে জুলাই মাসে। সাধারণভাবে, সুদহার কম থাকলে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।

এছাড়াও, রুপার দাম ৩.৪ শতাংশ বাড়ে আউন্সপ্রতি ৭৭.৭০ ডলারে। যদিও এর আগের সেশনে রুপার দাম ১১ শতাংশ কমেছিল, সাপ্তাহিক হিসাবে সামান্য ০.৩ শতাংশ হ্রাসের পথে রয়েছে।

প্লাটিনামের দাম ৩.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২,৭৫.৯৩ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ৩.৬ শতাংশ বেড়ে ১,৬৭৪.৫০ ডলারে পৌঁছেছে। তবে এই দুটি ধাতুই সাপ্তাহিক ভিত্তিতে ক্ষতির মুখে রয়েছে।

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো…

সেদিনও বইছিল বসন্ত বাতাস। তবে  ফাগুনরাঙা সেই বাতাসে মিশেছিল দ্রোহের উত্তাপ। ইতিহাসের বাঁক ফেরানো দিনটিতে বারুদের গন্ধ ছড়িয়েছিল শহর ঢাকায়। মায়ের ভাষার অধিকার আদায়ে জ্বলে উঠেছিল তরুণ হৃদয়ের বহ্নিশিখা। শোষকের বিনাশী তৎপরতার মাঝে অবিনাশী হয়ে উঠেছিল সেসব তরুণ প্রাণ। বুকের রক্তে ছিঁড়ে দিয়েছিল শাসকের ষড়যন্ত্রের সবক’টা জাল। রচিত হয়েছিল বাঙালি জাতিসত্তার  নতুন ইতিহাস।
মাতৃভাষার দাবিতে জ্বলে ওঠা সেই দিনটি ছিল ১৯৫২ সালে একুশে ফেব্রুয়ারি। এদিন বেলা ১১টায় আমতলার সভায় এসেছিল ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত। সভাপতির ভাষণে ছাত্রদের মাঝে সংগ্রামী চেতনা ছড়িয়ে দিয়ে ভাষাসংগ্রামী গাজীউল হক বলেন, ‘নুরুল আমিন সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে পুলিশ মোতায়েন করেছে। ১৪৪ ধারা ভাঙা হলে নাকি গুলি করা হবে, ছাত্রদের হত্যা করা হবে। আমরা সরকারের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছি। ১৪৪ ধারা আমরা ভাঙব। আমরা দেখতে চাই নুরুল আমিন সরকারের অস্ত্রাগারে কত বুলেট জমা আছে।’
সেই উদ্দীপ্ত বক্তৃতা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্লোগান ওঠে, ১৪৪ ধারা মানি নাÑমানি না। গগণবিদারী স্লোগানের সঙ্গে সঙ্গে ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভাঙার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। সত্যাগ্রহ করতে দশজনের দল করে দল বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়। তবে কে প্রথম ভাঙাবে ১৪৪ ধারা, তা নিয়ে ছিল দ্বিধাদ্বন্দ্ব ।
মোহাম্মদ সুলতানকে দায়িত্ব দেওয়া হয় যারা সত্যাগ্রহ করতে বাইরে যাবেন তাদের নাম, ঠিকানা লিখে রাখার। তাকে সাহায্য করেন আজহার ও হাসান হাফিজুর রহমান। নাম-ধাম লিখে নেওয়ার জন্য মোহাম্মদ সুলতান এগিয়ে আসতেই মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান শেলী (পরবর্তীকালে প্রধান বিচারপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা) বলে ওঠেন, ‘তুই আমার পঙ্খীরাজটা (সাইকেল) দেখিস, আমি চললাম।’ অতঃপর গলা ফাটিয়ে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে যান কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে। ১৪৪ ধারা ভাঙার প্রথম দলের নেতৃত্ব দিয়ে প্রথম দলের সঙ্গে এগিয়ে যান মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
১৪৪ ধারার ভাঙ্গার ঘটনা প্রসঙ্গে মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান স্মৃতিকথায় লিখেছিলেন, ‘তখন বেলা সোয়া একটা। উত্তেজনায় সারা গা থেকে তখন আগুনের ভাপ বের হচ্ছে। প্রথমে পুলিশ আমাদের ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে এবং পরে রাস্তার একধারে ঘেরাও করে রাখে। আমরা এগিয়ে যাওয়ার পর যখন অন্য ছাত্ররা গেট পার হয়ে রাস্তায় নামতে শুরু করল তখন আমাদের কয়েকজনকে পুলিশ একটা ট্রাকে তুলে নিল। ট্রাকটা যখন তেজগাঁওয়ের দিকে চলতে শুরু করল তখন মনের অবস্থা হাল্কা করার জন্য আমি বললাম, দূরে কোথাও কোন মজা পুকুরে আমাদের চ্যাংদোলা করে ছুঁড়ে ফেলা হবে। ট্রাকটা চলার সঙ্গে সঙ্গে ঠা-া হাওয়ায় মানসিক উত্তেজনা কিছু কমল, কিন্তু দুর্ভাবনা বাড়তে থাকল।’
এরপর দলে দলে মানুষ বের হতে শুরু করে। ১৪৪ ধারা ভাঙা ও গ্রেপ্তার বরণের এক প্রতিবাদী প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে গাজীউল হক বলেন, ‘দ্বিতীয় দলের নেতৃত্ব দিয়ে ইব্রাহীম তাহা ও আবদুস সামাদ বাইরে বের হলেন। তৃতীয় দল নিয়ে বের হলেন আনোয়ারুল হক খান এবং আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ। তিনটি সত্যাগ্রহী দলকেই পুলিশ গ্রেপ্তার করে এবং ট্রাকে তুলে নেয়।
এ সময় পুলিশের তরফ থেকে গেটে একটি হামলা ও লাঠিচার্জ হয়। এর ফলে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম চতুর্থ দলটি যাবে সাফিয়ার নেতৃত্বে। এই দলে বেশ কয়েকজন ছাত্রী ছিলেন। রওশন আরা বাচ্চু, ডা. সাফিয়া, সুফিয়া ইব্রাহিম, শামসুন নাহার প্রমুখ। পুলিশের লাঠিচার্জের ফলে ছাত্ররা উত্তেজিত হয়ে পুলিশের ওপর ইট পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। পুলিশ তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। ছাত্রদের রক্তে তখন বিদ্রোহের আগুন জ্বলে ওঠে। মোহাম্মদ সুলতানের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘সত্যাগ্রহীদের নাম লেখার সময় পাওয়া যাচ্ছিল না। এসময় কাঁদানে গ্যাসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ অন্ধকার হয়ে পড়ে। কাঁদানে গ্যাসের একটি শেল এসে সরাসরি আমার বুকে লাগে এবং আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি।’
পুলিশ এরপর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়-চত্বরে প্রবেশ করে। এ সময় কিছুক্ষণের জন্য ছাত্ররা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজের মাঝখানের প্রাচীর টপকে মেডিক্যাল হোস্টেলের প্রধান ফটকের কাছে আবার জমায়েত হন। গ্রেপ্তারবরণ চলতে থাকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত।

উচ্চকক্ষের সদস্য কারা হচ্ছেন সর্বত্র আলোচনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের পথে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আসন নিয়ে বিজয়ী বিএনপি। সরকারের মন্ত্রিসভা কেমন হবে- এ নিয়ে চায়ের কাপে ঝড় উঠলেও মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে জাতীয় সংসদের ‘উচ্চকক্ষ’।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার পর এখন আলোচনায় তুঙ্গে রয়েছে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদের বিষয়টি। কারা হচ্ছেন এই উচ্চকক্ষের সদস্য আর কী হবে তাদের যোগ্যতা- তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা। এ নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে সুনির্দিষ্টভাবে পরিষ্কার করে কিছু বলা নেই। দলগুলো যাদেরকেই মনোনয়ন দেবে তারাই হবেন জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষের সদস্য। সেক্ষেত্রে নি¤œকক্ষের নির্বাচনে পরাজিত অনেক প্রার্থীকেই সংসদের উচ্চকক্ষে দেখা যেতে পারে। নি¤œকক্ষের প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে সরকার ও বিরোধী দল কে কতটি আসন পাচ্ছে, তাও নির্ধারিত হবে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সাধারণত উচ্চকক্ষ ও নি¤œকক্ষের নির্বাচন একই সঙ্গে হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে নি¤œকক্ষের নির্বাচন আগে হয়ে যাওয়ায় একটি বিশেষ বিধান রাখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীরাও উচ্চকক্ষের সদস্য হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন, তবে এই সুযোগ থাকবে শুধু ত্রয়োদশ সংসদের জন্য।
উচ্চকক্ষ গঠনের পদ্ধতি কী হবে, তা নির্ভর করবে সংশোধিত সংবিধান ও প্রণীত আইনের ওপর। সম্ভাব্যভাবে সদস্যরা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারেন, আবার পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতিও থাকতে পারে। যেখানে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ভোট দিয়ে উচ্চকক্ষের সদস্য নির্বাচন করবেন। কিছু ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ, নারী বা সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে মনোনয়ন ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে। সদস্যদের মেয়াদ সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্ধারিত করা হবে এবং শপথ গ্রহণের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করবেন।
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) আদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী, উচ্চকক্ষের সদস্য সংখ্যা হবে ১০৫ সদস্যবিশিষ্ট। ১০০ জন সদস্য নির্বাচিত হবেন সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের আনুপাতিক হারে। বাকি ৫ জন সদস্যকে রাষ্ট্রপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী বা বিশেষজ্ঞদের মধ্য থেকে মনোনীত করবেন। এই পরিষদের প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে। এর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। এর মেয়াদ হবে নি¤œকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।
উচ্চকক্ষ গঠিত হওয়ার পর বাংলাদেশের সংসদ কার্যত দ্বিকক্ষবিশিষ্ট হয়ে যাবে। উচ্চকক্ষের প্রধান কাজ হবে আইন পর্যালোচনা ও পুনর্বিবেচনা করা। বিশেষ করে সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের বিশেষ ক্ষমতা থাকবে। তবে এই কক্ষ সরকারের ওপর অনাস্থা আনতে পারবে না, যদিও তারা সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবে।
এছাড়া উচ্চকক্ষের আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে প্রান্তিক কণ্ঠস্বর তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। দুই কক্ষের মধ্যে কোনো মতবিরোধ দেখা দিলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের বিধান রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, উচ্চকক্ষের পাশাপাশি নি¤œকক্ষ বা জাতীয় সংসদের আসন সংখ্যা হবে ৫০৫টি। এর মধ্যে ৪০০টি আসন হবে নি¤œকক্ষের। ৩০০টি আসনে প্রচলিত সরাসরি ভোট পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে। বাকি ১০০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে, তবে তারা সারাদেশের নির্দিষ্ট ১০০টি নির্বাচনী এলাকা থেকে কেবল নারী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন।

পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন যে পরিকল্পনা

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে নতুন সরকারের প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পরিকল্পনা নিয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। ‘দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে সংগঠিত কর্মচারীরা জানান, শিগগিরই তারা তারেক রহমান-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সাত দফা দাবি উপস্থাপন করবেন।

দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ সচিবালয়ের বাইরে দপ্তর, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট। সংগঠনটির দাবি, শিক্ষক-কর্মচারীসহ প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মচারী এ জোটের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী গণমাধ্যমকে জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই পে-স্কেল নিয়ে তারা আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। লাগাতার কর্মসূচির পর সরকার একটি কমিটি গঠন করলেও দাবিগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি। নির্বাচন শেষ হওয়ায় এখন নতুন সরকারের কাছে বিষয়টি চূড়ান্তভাবে উপস্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ওয়ারেছ আলীর নেতৃত্বে সংগঠনের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের দপ্তরে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়। আবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালের পে-স্কেলে বৈষম্য তৈরি হয়েছে এবং বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ১১ থেকে ২০ গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সাত দফা দাবি

সংগঠনটির দাবির মধ্যে রয়েছে—

১:৪ অনুপাতে ১২ ধাপে সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করে বৈষম্যহীন নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন

মূলবেতন সর্বোচ্চ ধাপে পৌঁছানো কর্মচারীদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি অব্যাহত রাখা

২০১৫ সালের গেজেটে বাতিল হওয়া তিনটি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল

স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পেনশন প্রবর্তন ও গ্রাচ্যুইটির হার শতভাগ নির্ধারণ

প্রতি পাঁচ বছর পরপর উচ্চতর গ্রেড বা পদোন্নতি

টেকনিক্যাল কাজে নিয়োজিতদের টেকনিক্যাল মর্যাদা প্রদান

ভাতা পুনর্নির্ধারণ, রেশন ব্যবস্থা চালু, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ ও অবসরের বয়স ৬২ বছর নির্ধারণ

এছাড়া উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত পদধারীদের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আদেশ বাতিলের দাবিও জানানো হয়েছে।

সংগঠনটির নেতারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।

যে কারণে বিএনপি সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে থাকছেন না মোদি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আঞ্চলিক বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারবেন না—এমন তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৭ ফেব্রুয়ারি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ভারত সফরে যাচ্ছেন। ওইদিন মুম্বাইয়ে মোদি ও ম্যাক্রোঁর মধ্যে বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, ম্যাক্রোঁ পরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এআই ইমপেক্ট সম্মেলনে অংশ নেবেন এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারতে অবস্থান করবেন।

মোদির ব্যস্ততার কারণে শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষ থেকে অন্য কোনো উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি অংশ নিতে পারেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্ভাব্য প্রতিনিধিদের মধ্যে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট বা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম আলোচনায় রয়েছে।

এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির জয়ের পর নরেন্দ্র মোদি দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-কে টেলিফোনে অভিনন্দন জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি বলেন, তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে তিনি আনন্দিত এবং বাংলাদেশের নির্বাচনে অসাধারণ জয়ের জন্য তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে ভারতের অব্যাহত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন।

আসন্ন শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, প্রতিবেশী দেশগুলোর অংশগ্রহণ নতুন সরকারের সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গ্রামবাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখির কারুকার্য

গ্রামবাংলার প্রকৃতির এক অনন্য শিল্পী বাবুই পাখি—তার নিপুণ বুননে তৈরি বাসা একসময় ছিল গ্রামীণ সৌন্দর্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তালগাছের পাতায় ঝুলন্ত সেই কারুকার্যময় বাসা শুধু পাখির আবাস নয়, ছিল প্রকৃতির জীবন্ত স্থাপত্য। কিন্তু পরিবেশের পরিবর্তন, তালগাছ নিধন ও মানবসৃষ্ট নানা কারণে আজ বাবুই পাখি ও তার বাসা দুটোই বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়েছে।

এক সময় বাংলার মাঠ-ঘাট, পুকুরপাড় ও গ্রামাঞ্চলের তালগাছে সারি সারি বাবুই পাখির বাসা চোখে পড়তো। বাতাসে দুলতে থাকা সেই বাসাগুলো গ্রামীণ দৃশ্যকে দিত আলাদা মাত্রা। কবিতায়ও এসেছে বাবুইয়ের শিল্পীসত্তা—খড়-কুটো দিয়ে গড়া তার নিখুঁত নির্মাণশৈলী আজও বিস্ময় জাগায়। অথচ কালের বিবর্তনে সেই পরিচিত দৃশ্য এখন প্রায় হারিয়ে গেছে।

সাতক্ষীরা জেলাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় তালগাছ কমে যাওয়ায় বাবুই পাখির আবাসস্থলও দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। শুধু তালগাছ নয়—নারকেল, সুপারি ও অন্যান্য উঁচু গাছেও তারা বাসা বাঁধে। কিন্তু নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে নিরাপদ আবাস হারিয়ে বিপদে পড়ছে এই পাখি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে একটি গাছে ১০–২০টি পর্যন্ত বাবুইয়ের বাসা ঝুলতে দেখা যেত। শিশু-কিশোরদের কৌতূহল, ঢিল ছোড়া কিংবা বাসা সংগ্রহের প্রবণতাও ক্ষতির একটি কারণ। অনেক ক্ষেত্রে ডিম ও বাচ্চাসহ বাসা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে এবং সংখ্যা কমে যাচ্ছে দ্রুতগতিতে।

প্রকৃতি বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝড়-ঝঞ্ঝা ও বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবও বাবুই পাখির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাধ্য হয়ে অনিরাপদ স্থানে বাসা বানাতে গিয়ে ঝড়ে বাসা ভেঙে পড়া বা মানুষের হাতে ধ্বংস হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে।

স্থানীয় মাষ্টার হাসানুজ্জামান বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখি ও বৃক্ষের ভূমিকা অপরিসীম। বাবুই পাখির মতো প্রাকৃতিক কারিগরকে টিকিয়ে রাখতে হলে তালসহ দেশীয় বৃক্ষরোপণ, বাসা ধ্বংস বন্ধ এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

প্রকৃতির এই নিখুঁত শিল্পীকে রক্ষা করতে এখনই উদ্যোগ না নিলে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো বাবুই পাখির বাসা শুধু বইয়ের পাতায়ই দেখবে।