Home Blog Page 174

মদসহ আটক মেহজাবীনকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন তিশা

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৪ বোতল বিদেশি মদসহ জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর আটকের খবরে যখন নেটদুনিয়া তোলপাড়, ঠিক তখনই সামনে এলো আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

কাস্টমসের সেই ‘রহস্যজনক’ ছাড়ের নেপথ্যে নাকি প্রভাব খাটিয়েছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা! নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গোপন সূত্রের বরাতে এমনই বিস্ময়কর তথ্য মিলেছে।

গোপন ওই সূত্র জানায়, সম্প্রতি দেশের এক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের অফিসে আড্ডায় অংশ নেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। সেখানে কথার প্রসঙ্গে মেহজাবীন চৌধুরীর এই মাদককাণ্ডের বিষয়টি উঠে আসে। আড্ডায় তিশা নিজেই নিশ্চিত করেন যে, মেহজাবীনের মদসহ আটকের ঘটনাটি সম্পূর্ণ সত্যি।

সূত্রমতে, বিমানবন্দরে আটকের পর মেহজাবীনের পক্ষ থেকে তিশা-ফারুকীর কাছে ফোনকল আসে এবং তারাই প্রভাব খাটিয়ে অভিনেত্রীকে কাস্টমসের জাল থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করেন বলে আড্ডায় স্বীকার করেন তিশা।

প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৭ আগস্ট ব্যাংকক থেকে বিএস-২১৮ ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরেন মেহজাবীন, তাঁর স্বামী আদনান আল রাজীব ও নির্মাতা শঙ্খ দাসগুপ্ত। গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময় কাস্টমসের তল্লাশিতে তাদের লাগেজ থেকে ১৪ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়।

অবৈধভাবে অ্যালকোহল বহনের দায়ে মামলা হওয়ার বিধান থাকলেও, অদৃশ্য ইশারায় মুচলেকা ছাড়াই তাদের সসম্মানে ছেড়ে দেওয়া হয়। সে সময় জব্দ পণ্যের রসিদ করে বিষয়টি ধামাচাপা দেয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। প্রটোকল দিতে আসা এভিয়েশন সিকিউরিটির দুই কর্মকর্তাও মুচলেকা দিয়ে জানান, মদের বিষয়ে তারা কিছুই জানতেন না।

মাদককাণ্ড ও কাস্টমসের ছাড়ের বিষয়টি শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশ্যে আসার পর রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক ফেসবুক পোস্টে মুখ খোলেন মেহজাবীন। সেখানে মদের বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার বা স্পষ্ট না করলেও তিনি দাবি করেন, ক্যারিয়ারের এই সময়ে তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘টার্গেট’ করা হচ্ছে।

পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমি যখন নতুন করে কাজে মনোনিবেশ করেছি, ঠিক তখনই আবার আমার মানহানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। নারীরাই আজকাল সহজ টার্গেট হচ্ছে, এর পেছনে কে বা কারা আছে তা আমার জানা নেই।’

যুবদল নেতা হত্যায় হাসিনাসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

জুলাই আন্দোলনে যুবদল নেতা হাফিজুর রহমান সুমনকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট।

তবে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় বরিশাল-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপুসহ ৬৩ জনকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের ইনভেস্টিগেশন শাখার পরিদর্শক মোহাম্মদ আতিকুর রহমান খান আদালতে এ অভিযোগপত্র দেন।

অভিযোগপত্রের অন্য আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত ওরফে এম এ আরাফাত, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানক, হারুন অর রশিদ বিশ্বাস, মানাম আহমেদ রাতুল, মো. রায়হান ওরফে রাহেল, আব্দুর রহমান রাসেল, শহিদুল ইসলাম ওরফে রানা ওরফে লম্বু রানা, সোহাগ ওরফে রানা, আসাদুজ্জামান নুর ওরফে আসাদ, টাডি রাজু।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুর ১টার দিকে শেরেবাংলানগর মহিলা কলেজসংলগ্ন এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেন হাফিজুর রহমান সুমন। দুপুর ২টা থেকে আড়াইটার দিকে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। গুরুতর আহন হন সুমন। আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টার দিকে মারা যান সুমন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোসা. বিথী খাতুন ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর শেরেবাংলানগর থানায় শেখ হাসিনাসহ ৬৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ২০-৩০ জনের  বিরুদ্ধে মামলা করেন।

বরিশাল থেকে সংরক্ষিত আসনের এমপি হওয়ার দৌঁড়ে যারা

সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি বরিশালেও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের নির্বাচন রমজান মাসের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।

সেইলক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ত্যাগী ও আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় নারী নেত্রীরা মনোনয়ন পাওয়ার দৌঁড়ে ইতোমধ্যে তৎপরতা শুরু করেছেন।

দলীয় নেত্রীরা বলছেন, বিগত ১৭ বছর রাজপথে যাদের ভূমিকা ছিল তারাই সংরক্ষিত নারী আসনের প্রকৃত দাবিদার হওয়া উচিত। সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অবদান, নেতৃত্বগুণ ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে নারী নেত্রীদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হলে তা দলের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করবে।

তারা আরও বলেন, মনোনয়নেরক্ষেত্রে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা না হলে ভবিষ্যতে কোন নেতা-নেত্রীরা নিজেদের জীবনবাঁজি রেখে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করবেন না। তাই ত্যাগীদের অতীত ইতিহাস ও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার বিষয়ে সঠিক পর্যালোচনা করে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য তারা দলের চেয়ারম্যান ও নীতিনির্ধারকদের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনে বরিশাল বিভাগ থেকে আলোচনায় রয়েছেন চারজন নারীনেত্রী। তারা হলেন, বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন।

বিগত আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথ কাঁপানো ও অসংখ্যবার কারাবরণকারী নেত্রী বরিশাল মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আফরোজা খানম নাসরিন।

বরিশাল মহানগর মহিলাদলের সভাপতি দলের দুর্দীনের আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা পালন করা অধ্যাপিকা ফারহানা তিথি।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঝালকাঠী জেলা আহবায়ক কমিটির সদস্য জিবা আমিনা আল গাজী। সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সহিদুল আলম তালুকদারের সহধর্মিণী, বাউফল উপজেলা মহিলা দলের সাবেক সভানেত্রী এবং পটুয়াখালী জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সাবেক সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থাকা দক্ষ ও পরীক্ষিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সালমা আলম লিলি তালুকদার।

দেশের রিজার্ভে বড় সুখবর

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে আবারও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দেশের মোট (গ্রস) রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৮৬২ দশমিক ০২ মিলিয়ন বা ৩৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক-এর নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ৩৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-এর বিপিএম-৬ (BPM-6) হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ১০৭ দশমিক ৮২ মিলিয়ন বা ৩০ দশমিক ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলার।

জানা গেছে, নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুযায়ী। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক দায় বাদ দিলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।

অবৈধ গ্যাস লাইন লিকেজ হয়ে বিস্ফোরণ; একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে অবৈধ গ্যাস লাইন লিকেজ হয়ে বিস্ফোরণে নারী শিশুসহ একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।

দগ্ধরা হলেন মনোয়ারা (৬০), জিলহক (৩৭), উম্মে হুমায়রা (৩০) ও হুররাম (২)।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, সকাল ছয়টার দিকে কুমিল্লার দাউদকান্দি পৌর ৭ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম মাইজপাড়া( বলদা খাল)নামক স্থান থেকে দগ্ধ অবস্থায় নারী শিশুসহ একই পরিবারে চারজনকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের মধ্যে মনোয়ারা বেগমের শরীরের দুই শতাংশ, জিলহকের শরীরের ৫৪ শতাংশ, উম্মে হুমায়রা শরীরের ৬৫ শতাংশ ও শিশু হুররামের শরীরে ৬ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দগ্ধদের মধ্যে জিলহক ও হুমায়রার দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় তারা আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে পশ্চিম মাইজপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানায়,বাড়ির মালিক পিয়ার হোসেনের বিল্ডিং এ অবৈধ গ্যাস সংযোগ থাকায় কিছুদিন পূর্বে বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেডের কর্মকর্তাবৃন্দ অবৈধ গ্যাস সংযোগের দায়ে লাইনটি বিচ্ছিন্ন করে দেয়।গতকাল সোমবার আবারো অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেয়।এ সময় বাড়ির ভাড়াটিয়া গ্রামীণ ব্যাংকে কর্মরত জিলহকের স্ত্রী উম্মে হুমায়রা ভোর রাতে সেহরি তৈরি করার সময় গ্যাস লাইনে আগুন জ্বালাতে গিয়ে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়।

খামেনির ‘মাস্টারপ্ল্যান’: শীর্ষ নেতৃত্বের মৃত্যু হলেও অচল হবে না ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানের। যেকোনও মুহূর্তে ইরানে সামরিক হামলা চালাতে পারে মার্কিন বাহিনী। একই সঙ্গে আগ্রাসন চালাতে পারে ইহুদিবাদী ইসরায়েলও।

ইসরায়েলি বা মার্কিন হামলা কিংবা শীর্ষ নেতাদের গুপ্তহত্যার আশঙ্কার মধ্যেই এক ‘মাস্টারপ্ল্যান’ হাতে নিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, খামেনির অবর্তমানে বা যেকোনও জরুরি পরিস্থিতিতে দেশের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানিকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি কোনও কারণে সর্বোচ্চ নেতা বা দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব নেতৃত্ব দানে অক্ষম হন বা নিহত হন, তবে দেশকে টিকিয়ে রাখা এবং প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধান। খামেনি নিজেই এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং হামলার হুমকির মুখে এই আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে তেহরান। মূলত সম্ভাব্য রাজনৈতিক শূন্যতা বা নেতৃত্বহীনতা এড়াতে খামেনির এই আগাম সিদ্ধান্ত ইরানজুড়ে নতুন এক সমীকরণ তৈরি করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ এবং হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াহর মতো মিত্র নেতাদের ওপর সফল গুপ্তহত্যার ঘটনা ইরানকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খামেনি মনে করছেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ চেইন অব কমান্ড বা নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। এই শূন্যতা পূরণে এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে আলী লারিজানি বা জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধানকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সদস্য ও উচ্চপদস্থ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বরাতে গত রবিবার নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

খামেনির নির্দেশনা অনুযায়ী, তার নিয়োগ দেওয়া সামরিক ও সরকারি পদগুলোর জন্য চার স্তরের উত্তরাধিকার পরিকল্পনা করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনও কর্মকর্তা নিহত হলে তার পর ধাপে ধাপে কোন চারজন নিয়োগ পাবেন, তা ঠিক করা হয়েছে। এছাড়া, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরও নিজেদের অন্তত চারজন উত্তরসূরির নাম ঠিক করে রাখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লারিজানি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার দৌড়ে নেই বললে চলে। কারণ, এই পদের জন্য জ্যেষ্ঠ শিয়া আলেম হওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব যদি পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে দেশ পরিচালনার জন্য যারা যোগ্য প্রার্থী, তিনি তাদের অন্যতম।

কে এই আলী লারিজানি

আলী লারিজানি ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান। গত আগস্টে এই নিরাপত্তাপ্রধানকে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি নিয়োগ দেওয়া হয়।

এই কাউন্সিল মূলত দেশটির নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি–সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ক্ষমতা রাখে। তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্ব গুপ্তহত্যার শিকার হলে ইরানের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে খামেনি যেসব ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক সহযোগীকে দায়িত্ব দিয়েছেন বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, আলী লারিজানি তাদের মধ্যে অন্যতম।

সহিংস আন্দোলনের এক মাস পর ইরানে ফের উত্তাল বিশ্ববিদ্যালয়

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার এ প্রেক্ষাপটে খামেনির পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। চলতি সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও আদতে উত্তেজনা কমেনি। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ এড়ানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার খামেনি ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, তিনি ইরানকে ‘ধ্বংস’ করতে পারবেন না।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ডিক্রির মাধ্যমে খামেনি বিশ্বকে দুটি বার্তা দিতে চেয়েছেন। যেমন- নেতৃত্বের পরিবর্তন হলেও ইরানের নীতি বা প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হবে না এবং শত্রুপক্ষকে জানানো যে, শীর্ষ নেতাদের হত্যা করলেও ইরানের রাষ্ট্রযন্ত্র অচল করা সম্ভব নয়।

প্রসঙ্গত, গত বছর জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিন ধরে চলা সংঘাতের সময় খামেনি তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে তিনজনের নাম ঘোষণা করেছিলেন।

এদিকে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন এবং তেল আবিব ইরানের এই নতুন সাংগঠনিক বিন্যাসকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধের ময়দানের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাকেই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা খামেনি।

অপরদিকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত লক্ষ্য ঠিক কী, তা এখনও স্পষ্ট করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল সামরিক শক্তি মোতায়েনের পাশাপাশি তিনি কূটনৈতিক সমঝোতার কথাও বলছেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও আঞ্চলিক প্রভাবকে কেন্দ্র করে ক্রমেই উত্তেজনা বাড়লেও সম্ভাব্য সংঘাত শেষ পর্যন্ত কোন পথে নিয়ে যাবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।

বার্তাসংস্থা এএফপি বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দিলেও, দীর্ঘ বা স্বল্পমেয়াদি সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত লক্ষ্য কী, তা স্পষ্ট করেননি। ইতোমধ্যে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ ও বহুসংখ্যক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছেন। ফলে পরিস্থিতি যেকোনও সময় বড় আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রশ্ন উঠছে, ট্রাম্প কি ইরানের ক্ষমতাসীন ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার মূল ভিত্তি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ওপর সীমিত আঘাত হানতে চান? নাকি ইসরায়েলের প্রত্যাশা অনুযায়ী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করতে চান? এমনকি তেহরানে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টাও কি তার পরিকল্পনায় আছে? অবশ্য ইরান আগেই সতর্ক করেছে যে হামলা হলে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে।

পিলখানা হত্যা মামলা: প্রথমবার আসামি হচ্ছেন শেখ হাসিনা

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারির পিলখানা হামলার ঘটনায় মামলা এখনো বিচারিক প্রক্রিয়ায় জটিলতার মধ্যে রয়েছে। দীর্ঘদিনের বিচার ও আপিলের মধ্য দিয়ে আসামি ও নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারদের ধৈর্য পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

প্রসিকিউশন জানায়, বিস্ফোরক এই মামলার সাক্ষীদের জবানবন্দিতে, বিডিআর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে শেখ হাসিনা, শেখ তাপস, মির্জা আজম, জাহাঙ্গীর কবির নানক’সহ তৎকালীন বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতার নাম উঠে এসেছে।

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিস্ফোরক এই মামলাটি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে । ৫ আগস্টের পর এই মামলার কয়েকশ’ আসামি জামিন পেয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রক্তাক্ত হয়েছিল পিলখানা। কেউ কখনও ভাবিতেই পারেনি পিলখানার মতো সুরক্ষিত স্থানে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে জীবন দিতে হবে।

বিচারিক আদালত, ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর, এ মামলার রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। হাইকোর্ট ১৩৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এছাড়া ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়। খালাস পান ২৮৩ জন।

প্রাথমিকভাবে ১৩ উপজেলায় চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড

সরকার প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষা প্রদানের জন্য প্রথমে ১৩টি উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এর সভাপতিত্বে ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় জানানো হয়েছে, শুরুতে দুটি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প চালানোর পরিকল্পনা থাকলেও পরে তা সম্প্রসারণ করে দেশের ১৩টি উপজেলার ১৩টি ওয়ার্ডে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে বনানীর কড়াইল বস্তি, পাংশা, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, বাঞ্ছারামপুর, লামা, খালিশপুর, চরফ্যাশন, দিরাই, ভৈরব, বগুড়া সদর, লালপুর, ঠাকুরগাঁও ও নবাবগঞ্জে।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে। নির্বাচিত পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত চারটি শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে উপকারভোগীর তালিকা চূড়ান্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আর অনুদানের অর্থ সরাসরি ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এর মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।

১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

বিভিন্ন ভাতা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে লক্ষ্য নির্ধারণে ত্রুটি কমিয়ে সহায়তা কার্যক্রমকে সমন্বিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করছে সরকার। আগামী ১০ মার্চ এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথম ধাপে দেশের ১৩ জেলার একটি করে ওয়ার্ডে বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কর্মসূচির সুষ্ঠু বাস্তবায়নে উপজেলা থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি কমিটির প্রধান হিসেবে প্রথম শ্রেণির একজন সরকারি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে উপকারভোগী নির্বাচন ও তদারকি প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়।

এর আগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ফ্যামিলি কার্ড–সংক্রান্ত কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রাথমিকভাবে দুটি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা থাকলেও তা সম্প্রসারণ করে ১৩টি উপজেলার ১৩টি ওয়ার্ডে বাস্তবায়ন করা হবে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারকে সুসংগঠিতভাবে সহায়তা দিতে এই কার্ড ব্যবহার করা হবে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে, যা সার্বিক নীতিগত দিক তদারকি করবে।

উপকারভোগী নির্বাচনে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করা হলেও আয়সংক্রান্ত তথ্য সরাসরি না থাকায় নির্ধারিত ওয়ার্ডগুলোতে সরেজমিন যাচাই-বাছাই করে তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত—এই চার শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রথম ধাপে যে এলাকাগুলোতে কার্যক্রম শুরু হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বনানীর কড়াইল বস্তি, পাংশা, পতেঙ্গা, বাঞ্ছারামপুর, লামা, খালিশপুর, চরফ্যাশন, দিরাই, ভৈরব, বগুড়া সদর, লালপুর, ঠাকুরগাঁও ও নবাবগঞ্জ।

উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিগুলো পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে উপকারভোগীর তালিকা চূড়ান্ত করবে। অনুদানের অর্থ ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সরাসরি বিতরণ করা হবে। নীতিমালা অনুযায়ী নারীদের পরিবারপ্রধান হিসেবে কার্ড দেওয়া হবে। তিনি আলাদা ভাতা না পেলেও পরিবারের অন্যান্য সদস্য নির্ধারিত সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

অন্যতম চ্যালেঞ্জ সিন্ডিকেট দমন

একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করছে বিএনপি। সরকার গঠনের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে শপথ গ্রহণ করেন জনপ্রতিনিধিরা। এই শপথের মাধ্যমেই শুরু হয়েছে নতুন সরকারের যাত্রা। বিএনপি এমন একটি সময় দায়িত্ব নিয়েছে যখন মুসলিম জাহানের অতি পবিত্র মাস ‘মাহে রমজান’ আসা মাত্র। পবিত্র এই মাসটি এলেই দেখা দেয় নানা ধরনের খাদ্য সংকট। বেড়ে যায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের জন্য পীড়াদায়ক হয়ে দাঁড়ায়। তাই ঊর্ধ্বগতির এই বাজার নিয়ন্ত্রণ যে নতুন সরকারের প্রথম চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
পবিত্র এই মাসে ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনে ইবাদত বন্দেগিতে নিজেদের সমর্পণ করে। রোজা পালনে প্রায় ১২-১৪ ঘণ্টা অনাহারে কাটান। বৈজ্ঞানিক মতে, দীর্ঘ সময় অনাহারে কাটানোর ফলে শরীরে সৃষ্টি হয় পুষ্টিজনিত ঘাটতি। আর এই ঘাটতি মেটাতে প্রয়োজন পুষ্টিকর খাবার। পুষ্টির এই চাহিদা পূরণে মুসলিম বিশ্বের ব্যবসায়ীরা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে নানা রকম মূল্য-ছাড় দিয়ে থাকে। কিন্তু মুসলিম দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট একদমই আলাদা। পবিত্র এই মাসটিকে ঘিরে মুসলিমরা যেমন উৎসবে মুখরিত হয়ে থাকে, তেমনি বেড়ে যায় চাঁদাবাজ ও অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য। বাড়িয়ে দেওয়া হয় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। বিশেষ করে মাছ-মাংস থেকে শুরু করে চাল, ডাল, ডিম, আলু, তেল, চিনিসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ায় সিন্ডিকেট চক্র। রমজানে এমন ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার হারাবে। বঞ্চিত হবে আমিষসহ পুষ্টিজনিত খাবার থেকে। বিশ্লেষকদের মতে, রমজানে বাজার ঊর্ধ্বমুখী হলে বিশাল অঙ্কের একটি গোষ্ঠী পুষ্টিহীনতায় পড়তে পারে। ফলে দেখা দেয় নানা রকম অপুষ্টিজনিত রোগ।
গত রমজানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হস্তক্ষেপে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ফেরেনি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে। কয়েকবছর ধরে প্রতিটি পণ্যের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েই চলছে। লাগামহীন এসব পণ্য এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। যা তাদের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে কয়েকগুণ। এই মূল্য বৃদ্ধি যে ঈদের আগে চরম রূপ ধারণ করবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ, এ দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণ হয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের হাত ধরে। যাদের মূল লক্ষ্যই রমজানে অধিক মুনাফা অর্জন। তাই তারা অসৎ উপায় অবলম্বন করে। রমজান এলেই সকল ধরনের নিত্যপণ্য ও খাদ্যসামগ্রী মজুত করে ফেলে। মজুত কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখে। মানবসৃষ্ট এই কৃত্রিম খাদ্য সংকটের কারণে বাজারে চাহিদার চেয়ে যোগান হয় নিম্নমুখী। অর্থনীতির ভাষায়, ‘যোগানের চেয়ে চাহিদা বেশি হলে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়’। এটাকে পুঁজি করে খুচরা ব্যবসায়ীরা অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রি করে। আর এই খুচরা ব্যবসায়ীদের হাত ধরেই অর্থ যায় সিন্ডিকেটদের পকেটে।
অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের প্রেক্ষাপট একদমই আলাদা। পূর্ববর্তী সরকার রমজানকে ঘিরে নিজেদের পরিকল্পনা ও কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সময় পেলেও পাচ্ছে না নতুন সরকার। তারা এমন একটি সময় সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করতে চলেছে যখন রমজান শুরু। তাই বলা যেতে পারে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও প্রয়োজনের জন্য এখন সুযোগ থাকছে না তাদের হাতে। অন্যদিকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি, অগোছালো প্রশাসন, এবং চাঁদাবাজরা ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এত প্রতিকূলতার পরেও সরকারের থেমে থাকা চলবে না। যেহেতু তারা জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি, তাই জনগণের অসুবিধা লাঘব করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। রমজানে বাজারে স্বস্তি ফেরানোকে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে নিতে হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কয়েকটি টিম গঠন করে মাঠে নেমে পড়তে হবে। বিশেষ করে প্রশাসনকে জোর দিতে হবে সিন্ডিকেট ভাঙতে। বিশেষ ইন্টেলিজেন্স ফোর্সের মাধ্যমে চক্রগুলোকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। শুধু সিন্ডিকেটই নয়। মূল্যবৃদ্ধির পেছনে রয়েছে চাঁদাবাজ চক্র। যাদের কারণে পরিবহন খরচসহ ব্যবসায়ীদের অপ্রয়োজনীয় খরচ বেড়ে যায়, যা সরাসরি মূল্যে প্রভাব ফেলে। তাই শহর কেন্দ্রিক স্বেচ্ছাচারী সংগঠনগুলোকে দায়িত্ব দিতে হবে চাঁদাবাজদের রুখতে। তবেই সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে সফল হতে সক্ষম হবে।
পরিশেষে বলতে চাই, ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যবসা একটি মহৎ পেশা। হাশরের ময়দানে সাধু ব্যবসায়ীদের স্থান হবে শহীদদের সঙ্গে আর অসাধুদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। তাই আসুন, অসৎ উপায়ে অর্থ  উপার্জন না করে একটি ক্রেতা বান্ধব বাজার গড়ে তুলি। এবং নতুন সরকারকে তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করি।