Home Blog Page 174

নদীতে গোসল করতে নেমে মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ, এক ঘণ্টা পর মিলল মরদেহ

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে তুলশীগঙ্গা নদীতে গোসল করতে নেমে আব্দুল্লাহ (১২) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পৌর এলাকার রাজকান্দা-ঠেংগাপুর গ্রামের তুলশীগঙ্গা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল্লাহ ওই গ্রামের ফারুক আহম্মেদের ছেলে এবং রাজকান্দা-ঠেংগাপুর ক্বওমী মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল আটটার দিকে মাদ্রাসা ছুটি হয়। বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় আব্দুল্লাহ বাড়িতে চলে যায়। পরে সকাল দশটার দিকে ৪-৫ জন সহপাঠীকে নিয়ে মাদ্রাসার সামনে তুলসীগঙ্গা নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে সে নদীর এপার-ওপার সাঁতরে পার হওয়ার চেষ্টা করলে হঠাৎ পানিতে তলিয়ে যায়। সহপাঠীরা বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা দ্রুত নদীতে নেমে খোঁজাখুঁজি চালায়। দীর্ঘ সময় খুঁজেও তাকে না পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়।

খবর পেয়ে আক্কেলপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টার পর নদীর গভীর থেকে আব্দুল্লাহকে উদ্ধার করা হয়। পরে দ্রুত তাকে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী খোকন হোসেন বলেন, সকালে কয়েকজন ছাত্র নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে আব্দুল্লাহ পানিতে তলিয়ে যায়। আমরা অনেক খোঁজ করেও পাইনি। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে উদ্ধার করে।

মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ গোলাম রাব্বী জানান, বাড়ি থেকে তারা নদীতে গোসল করতে গিয়েছিল। সাঁতার ভালোভাবে না জানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আব্দুল্লাহ আঠারো পারা কোরআনের হাফেজ ছিল।

আক্কেলপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার আব্দুল কাদের বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় নদীর গভীর অংশ থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

টিকা সংকটের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি

টিকা ক্রয়-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হয়ে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে ‘হামের সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব ও করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তারা এ দাবি জানান।

নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেলের উদ্যোগে আয়োজিত এ বৈঠকে চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, গণমাধ্যমকর্মী ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বৈঠকে বক্তারা বলেন, টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ায় হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা ক্রয়-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে যদি টিকার ঘাটতি সৃষ্টি হয়ে থাকে এবং এর ফলে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, তবে দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা জরুরি।
তারা বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা, জনসচেতনতা বাড়ানো, স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা উন্নয়ন এবং সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া অপরিহার্য। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কার্যকর নজরদারি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, তাদের প্রচেষ্টার কারণে অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে দাবি-দাওয়া আদায়ের কর্মসূচিতে যেন জনদুর্ভোগ না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারা।
বৈঠকে হামের প্রাদুর্ভাব নতুন কোনো ভাইরাস মিউটেশনের কারণে কিনা, তা নিয়েও গবেষণার ওপর জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যম ব্যবহার করে জনসচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে উপস্থিত অতিথিরা বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা ও ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন। বৈঠক শেষে এসব সুপারিশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সরকারের কাছে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক রুবীনা ইয়াসমিন ও অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমিম, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. হানিফ, ওজিএসবির সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারীরা এ ধরনের সময় উপযোগী আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

মার্চে রপ্তানিতে বড় পতন

আরও কিছুটা গতিহীন হয়ে পড়েছে দেশের রপ্তানি খাত। গত মার্চ মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি কমেছে ১৮ শতাংশের বেশি। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গত ৯ মাসে আর কোনো মাসে এত বড় ব্যবধানে রপ্তানি কমেনি। এ নিয়ে গত আট মাস টানা রপ্তানি কমলো। দেশের রপ্তানির ইতিহাসে কখনও টানা আট মাস রপ্তানি কমার নজির নেই।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) গতকাল বৃহস্পতিবার হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, গত মার্চ মাসে রপ্তানির পরিমাণ ৩৪৮ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। গত বছরের মার্চ মাসে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪২৫ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে রপ্তানি কমেছে ৭৭ কোটি ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় ৯ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা। সাধারণত মাসে সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি ডলার পণ্য রপ্তানি হয়ে থাকে।

রপ্তানির এই টানা পতনের কারণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, মার্কিন পাল্টা শুল্ক এবং শুল্ক কেন্দ্র করে প্রতিযোগী দেশগুলো জোটগত প্রধান বাজার ২৭ জাতির জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নে অগ্রাসী রপ্তানি বাণিজ্য করছে। কম দামে পণ্য রপ্তানি করা হচ্ছে ওই দেশগুলোতে। এ কারণে গত ৮ মাস ধরেই বাংলাদেশের রপ্তানি কমছে। এসব কারণের সঙ্গে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে
গড়ে ১০ দিনের মতো কারখানা বন্ধ ছিল। এ কারণে মার্চের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সময় ধরে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। মূলত এ কারণেই এত বেশি হারে রপ্তানি কমেছে মার্চ মাসে।
অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের গত ৯ মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এ সময় মোট রপ্তানি আয়ের পরিমাণ তিন হাজার ৫৩৯ কোটি ডলারের মতো। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল তিন হাজার ৭৭২ কোটি ডলারেরও কিছু বেশি।

জুলাই মাসে অস্বাভাবিক বেশি রপ্তানির কারণ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পাল্টা শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগের দিন পর্যন্ত কারখানায় রাত-দিন কাজ করে পণ্য জাহাজীকরণের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন উদ্যোক্তারা। ব্র্যান্ড-ক্রেতারাও বাড়তি শুল্ক এড়াতে আগাম আমদানিতে আগ্রহী। এ কারণে ওই মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি রপ্তানি হয়। গত বছরের ৩১ জুলাই ওয়াশিংটনের ঘোষণা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বাজারে প্রবেশে বাংলাদেশের পণ্যের পাল্টা ২০ শতাংশ শুল্ক ৭ আগস্ট রাত ১২টা ১ মিনিটে কার্যকর হয়। ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রপ্তানি বেশি হয় ২৫ শতাংশের মতো।
চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মাসে আগস্ট থেকেই পণ্য রপ্তানিতে কিছুটা হোঁচট আসে। এরপর আগস্টে আয় কমে যায় ৩ শতাংশের মতো। তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরও সেই ধারাই চলে। মাসটিতে রপ্তানি আরও কমে যায় ৫ শতাংশের মতো। অক্টোবর মাসে রপ্তানি কম ৭ শতাংশ। নভেম্বর মাসে রপ্তানি কম হয় ৬ শতাংশ। ডিসেম্বর মাসে রপ্তানি কম হয়েছে ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। জানুয়ারি মাসে রপ্তানি হ্রাসের গতি কমে কিছু কমে আসে। রপ্তানি কম হয় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বা আধা শতাংশ। ফেব্রুয়ারি মাসে রপ্তানি কমে ১২ শতাংশ।

ইপিবির তথ্যউপাত্ত বলছে, গত মার্চে গড়ে যে হারে মোট রপ্তানি আয় কমেছে তার চেয়ে বেশি হারে কমেছে প্রধান পণ্য তৈরি পোশাক রপ্তানি। মাসটিতে তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় কমে গেছে ১৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ। রপ্তানি হয়েছে ২৭৮ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক। গত বছরের মার্চ মাসে এই পরিমাণ ছিল ৩৪৫ কোটি ডলারের মতো। অর্থাৎ একক পণ্য তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ৬৭ কোটি ডলার। অর্থবছরের গত ৯ মাসে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় এসেছে দুই হাজার ৮৫৮ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল তিন হাজার ২৫ কোটি ডলার।
মার্চ মাসে বড় অঙ্কে রপ্তানি কমে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএর পরিচালক এবিএম শামসুদ্দিন সমকালকে বলেন, রোজার ঈদের কারণে ১০ দিনের মতো কারখানা বন্ধ ছিল। এই ১০ দিনের রপ্তানি কম হয়েছে মার্চ মাসে। পোশাক খাতের সাধারণত বছরের দুই ঈদে লম্বা ছুটি থাকে। এটা তো একটা কারণ মার্চের রপ্তানির ক্ষেত্রে। তবে যেসব কারণে গত আট মাস ধরে রপ্তানি কমছে সে সব কারণের প্রভাব মার্চ মাসের রপ্তানিতেও ছিল। অর্থাৎ বিশ্বব্যাপী মার্কিন পাল্টা শুল্কের প্রত্যক্ষ প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমছে। সেখানে চাহিদা কমছে। আর পরোক্ষ প্রভাব হিসেবে রয়েছে চীন, ভিয়েতনাম, ভারতের মতো দেশগুলো ইইউতে আগ্রাসী রপ্তানি কার্যক্রম। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ। এতে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে যে উত্তেজনা শুরু হয়েছে কবে নাগাদ তার সুরাহা হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে দেশে উৎপাদন ব্যয়ও বাড়বে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত উৎপাদন চালিয়ে নিতে কোনো সমস্যা হয়নি। তবে এসব কারণে রপ্তানি খাতের জন্য শিগগিরই কোনো সুখবর দেখা যাচ্ছে না।

ইপিবির তথ্যউপাত্ত বলছে, চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে অন্যান্য বড় পণ্যের রপ্তানিতেও একই গতি। হোম টেক্সটাইলের রপ্তানি কমছে ২১ শতাংশ। ওষুধের রপ্তানি কমেছে ২০ শতাংশ। সবজি রপ্তানি কম হয়েছে ৪৫ শতাংশ। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি কমেছে ৭ শতাংশ। পাট ও পাটপণ্যের রপ্তানি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কম হয়েছে ১৩ শতাংশ। তবে কয়েকটি পণ্যের রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে। যেমন হিমায়িত ও জীবন্ত মাছের রপ্তানি বেড়েছে ৫ শতাংশের মতো। কাঁকড়ার রপ্তানি বেড়েছে ৩৩ শতাংশ। প্লাস্টিক পণ্যের রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৬ শতাংশ।

জাপানের জনপ্রিয় খেলা এখন ‘অফিস চেয়ার রেসিং’

চাকাযুক্ত অফিস চেয়ারে বসে নড়াচড়া করার অভ্যাস অনেকেরই আছে। কিন্তু সে অভ্যাসকেই যদি ফর্মুলা ওয়ানের মতো রেসিংয়ে কাজে লাগানো হয়, তাহলে কেমন হবে? সম্প্রতি জাপানে ঠিক এমনই একটি রেসিংয়ের আয়োজন হয়েছে।

দেশটির কি উপদ্বীপের কুমানোতো এলাকায় আয়োজিত ‘অফিস চেয়ার রেসিং’-এ অংশ নিয়েছিলেন কয়েক ডজন অফিসকর্মী। চেয়ারে বসে পায়ের পেশির সবটুকু শক্তি দিয়ে মাটিতে ধাক্কা দিয়ে তারা উল্টো দিকে ছুটে চলেন।

২০১০ সালে চালু হওয়া এই খেলাটি জাপানে দিনে দিনে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তিনজনের একেকটি দল দুই ঘণ্টা ধরে একটি নির্দিষ্ট পথে যত বেশি সম্ভব চক্কর দেওয়ার চেষ্টা করে। এই সময়ে প্রতিযোগীরা প্রায় ২০ কিলোমিটার বা তারও বেশি পথ অতিক্রম করেন।

কিয়োতো অঞ্চলের কিওতানাবে শহরে খেলাটি চালু করেছিলেন সুয়োশি তাহার নামের একজন। ছোটবেলায় অফিস চেয়ার নিয়ে খেলার অপরাধে এক শিক্ষক তাঁকে বকাঝকা করেছিলেন। সেই স্মৃতি থেকেই তিনি মজার খেলাটি চালুর অনুপ্রেরণা পান।

এরপর থেকে খেলাটি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতি বছর টোকিও, কিয়োতো এবং শিজুওকাসহ ১০টি শহরে ‘অফিস চেয়ার রেসিং’ অনুষ্ঠিত হয়। টয়োটার মতো বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোও এখানে তাদের দল পাঠায়।

বিজয়ীরা পুরস্কার হিসেবে পান ৯০ কেজি চাল। পুরস্কার হিসেবে চাল বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে সুয়োশি তাহার জানান, জাপানের সব অঞ্চলে চালের জনপ্রিয়তা আছে। তবে কিছু আঞ্চলিক বৈচিত্র্যও রাখা হয়। যেমন- টোকিওতে প্রথম পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় ৫ কেজি টুনা মাছ।

সম্প্রতি রেসিংয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন ইয়াসুনোরি মিউরা। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ডেস্কে বসে কাজ করেন। কিন্তু অবসর সময়ে অফিস চেয়ার নিয়ে কঠোর অনুশীলনে নেমে পড়েন। জিমের চেয়ার ব্যবহার করে ২০০ মিটারের ৪০ বা ৫০টি রান দেওয়া এখন তাঁর নিয়মিত ওয়ার্কআউট।

পায়ের ওপর বেশি চাপ তৈরি করতে মিউরা সপ্তাহে চারদিন ভারী অফিস চেয়ার নিয়ে অনুশীলন করেন। সপ্তাহে দুইদিন জিমে গিয়ে শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম করেন।  মিউরা বলেন, যেহেতু আমরা একই পথে বারবার চক্কর দিই, তাই অন্য দল এবং প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত দেখা হয়। তখন প্রতিযোগিতাও জমে ওঠে।

চাঁদ অভিমুখী যান থেকে পৃথিবী দেখার অভিজ্ঞতা জানালেন নভোচারীরা

বড় ধরনের ‘ইঞ্জিন ফায়ারিং’য়ের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার শেষ রাতের দিকে আর্টেমিসের চার মহাকাশচারী পৃথিবীর কক্ষপথ অতিক্রম করেছেন। তারা এখন দ্রুতবেগে চাঁদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।

প্রায় ছয় মিনিটের এই প্রক্রিয়া শেষে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন মহাকাশচারীরা। প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গেছে, মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় তাঁরা একটি ভাসমান মাইক্রোফোন একে অপরের দিকে ছুড়ে দিচ্ছেন। এ সময় সবার মুখে ছিল হাসির ঝিলিক। তারা জানান, মহাকাশযানের ভেতরটা কিছুটা শীতল তবে এই পরিবেশকে থাকার উপযোগী করে নিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে মহাকাশযান থেকে পৃথিবী দেখার মুহূর্তটি বর্ণনা করেন কমান্ডার রিড ওয়াইসম্যান। তিনি বলেন, ‘এখান থেকে আপনি এক পলকে এক মেরু থেকে অন্য মেরু পর্যন্ত পুরো গোলকটি দেখতে পাবেন। আফ্রিকা, ইউরোপ এবং একটু মনোযোগ দিয়ে তাকালে উত্তর মেরুর আলোকছটাও দেখা যায়।’

রিড ওয়াইসম্যান বলেন, ‘এটি ছিল আমাদের দেখা সবচেয়ে চমৎকার মুহূর্ত। এটি আমাদের চারজনকেই স্তব্ধ করে দিয়েছিল।’ আর্টেমিস-২ নামের এই অভিযানে ওয়াইসম্যান ছাড়া আরও আছেন- ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোক ও জেরেমি হ্যানসেন।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহাকাশচারীরা এখন একটি ‘ফ্রি-রিটার্ন’ ট্র্যাজেক্টরি বা পথে আছেন। যা চাঁদের মহাকর্ষ শক্তি ব্যবহার করে মহাকাশযানটিকে বাড়তি জ্বালানি ছাড়াই পৃথিবীর দিকে ফিরিয়ে আনবে। নাসার কর্মকর্তা লরি গ্লেজ জানিয়েছেন, কক্ষপথীয় বলবিদ্যার নিয়মগুলোই নভোচারীদের চাঁদের দিকে নিয়ে যাবে। চাঁদের দূরবর্তী অংশ প্রদক্ষিণ করাবে এবং আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনবে।

মহাকাশচারীরা যে স্যুটগুলো পরে আছেন তা মূলত ‘সারভাইভাল সিস্টেম’ হিসেবে কাজ করে। কোনো কারণে কেবিনের চাপ কমে গেলে বা লিক হলে এই স্যুটগুলো ছয়দিন পর্যন্ত অক্সিজেন, তাপমাত্রা এবং যথাযথ বায়ুচাপ বজায় রাখতে সক্ষম।

মহাকাশে নভোচারীরা তাঁদের প্রথম কয়েক ঘণ্টা কাটিয়েছেন যানের সিস্টেমগুলো পরীক্ষা করে। মানুষ নিয়ে প্রথমবারের মতো যাত্রা করা এই যানে টয়লেটের সমস্যা ও যোগাযোগের ত্রুটির মতো কিছু ছোটখাটো ঝামেলার সমাধানও করেছেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে টয়লেটের পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে হাসিমুখে ক্রিস্টিনা কোক বলেন, নিজেকে ‘স্পেস প্লাম্বার’ হিসেবে পরিচয় দিতে পেরে আমি গর্বিত। এটি (টয়লেট) ঠিকঠাক কাজ করছে জানতে পেরে সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছি।

দেশের জার্সিতে ১ বছর কাটিয়ে হামজা বললেন, ‘জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত’

০

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সাবেক চ্যাম্পিয়ন লেস্টার সিটির তারকা হামজা চোধুরী। দেখতে দেখতে বাংলাদেশের জার্সিতে এক বছর পূর্ণ করেছেন তিনি। এক বছর পর লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করা নিয়ে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে ২৮ বছর বয়সী এই তারকা বললেন, ‘এটি আমার জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত।’

ইএসপিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশের জার্সিতে নিজের এক বছরের মূল্যায়ন করেছেন হামজা। তিনি বলেন, ‘অসাধারণ! সত্যি বলতে, এটি আমার করা সেরা কাজ। এর চেয়ে দারুণ কিছু আমি আর চাইতে পারতাম না। হ্যাঁ, এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করতে না পারার আক্ষেপ তো আছেই। তবে এই কঠিন শিক্ষাগুলো আমাদের আরও শক্তিশালী করবে। সবাই হতাশ, কিন্তু আমি নিশ্চিত, যখন আমরা আমাদের খেলার ভিডিওগুলো আবার দেখব, বুঝতে পারব দল হিসেবে আমরা কতটা উন্নতি করেছি।’

বাংলাদেশের জার্সিতে হামজার অভিষেক হয় গত বছরের মার্চে। সেদিন ২২ বছর পর ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় পায় বাংলাদেশ। এরপর গত ১২ মাসে বাংলাদেশের খেলা ১০টি ম্যাচের ৯টিতেই মাঠে নেমেছেন তিনি। চোটের কারণে নেপালের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে ছিলেন না। তার খেলা সব ম্যাচেই পুরো ৯০ মিনিট খেলেছেন এবং নামের পাশে যোগ করেছেন ৪টি গোলও।

এশিয়ান কাপে খেলার স্বপ্ন পূরণ না হলেও গত এক বছরে বাংলাদেশের অর্জন নেহায়েত কম নয়। ২০০০ সালের পর এই প্রথম বাছাইপর্বে কোনো গ্রুপের তলানিতে থেকে শেষ করেনি বাংলাদেশ। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ যেখানে ১৮১তম, সেখানে ভারত (১৩৬), সিঙ্গাপুর (১৪৭) ও হংকং (১৫৫) বেশ এগিয়ে। তারপরও বাছাইপর্বে কোনো ম্যাচেই বাংলাদেশ এক গোলের বেশি ব্যবধানে হারেনি।

হামজা বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য বড় একটি ধাপ। আমি মনে করি, গত এক বছরে আমরা দল হিসেবে অনেক দূর এগিয়েছি। সিঙ্গাপুরের মতো কোয়ালিফাই করা দলের মাঠে গিয়ে আমরা যে ফুটবল খেলেছি, তা নিয়ে আমাদের গর্ব করা উচিত এবং আশা করি এটি সামনের ক্যাম্পেইনে আমাদের দারুণ কাজে দেবে।’

গত মঙ্গলবার এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলেছে বাংলাদেশ। যেখানে ৩০ হাজারেরও বেশি দর্শকের মধ্যে প্রায় ৬ হাজারই ছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশি। মাঠে হামজার প্রতিটি ছোঁয়াই তাদের উল্লাসে মাতিয়ে তুলেছিল। সমর্থকদের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় মুগ্ধ হামজা বলেন, ‘তারা সত্যিই অসাধারণ। আমার মনে হয়, তারা বিশ্বের সেরা সমর্থক। আমরা কোয়ালিফাই করতে পারিনি, ম্যাচটি মূলত সিঙ্গাপুরের উদ্‌যাপনের মঞ্চ ছিল; তারপরও নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ খরচ করে তারা এত বিপুল সংখ্যায় আমাদের সমর্থন দিতে এসেছেন! তাদের এই ঋণ শোধ করার মতো নয়।’

প্রথম বছরের পাঠ চুকিয়ে হামজার চোখ এখন ভবিষ্যতের দিকে। বিশেষ করে আগামী সেপ্টেম্বরে হতে যাওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে বেশ আশাবাদী তিনি। তারকা এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘গ্রীষ্মে হয়তো আমরা কিছু প্রীতি ম্যাচ খেলব। এরপর সেপ্টেম্বরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আছে, যেখানে আমরা শিরোপা জয়ের প্রত্যাশা করছি। আমাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিজেদের ওপর সেই প্রত্যাশার চাপ তৈরি করেছে। এরপর আমাদের চোখ ২০২৭ সালের ক্যাম্পেইনের দিকে। ইনশাআল্লাহ, পরেরবার আমরা এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে পারব।’

তৃতীয় সপ্তাহে ‘দমকে’ পেছনে ফেলে এগিয়ে গেল ‘রাক্ষস’

ঈদুর ফিতরে মুক্তির পর প্রেক্ষাগৃহে দারুণ চমক দেখাচ্ছে রোমান্টিক অ্যাকশন থ্রিলার গল্পের সিনেমা ‘রাক্ষস’। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর বড় পর্দায় সিয়ামের নতুন রূপে দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন ভক্তরা। ঈদের দিন মাত্র ১৪টি শো নিয়ে স্টার সিনেপ্লেক্সে সিনেমাটির প্রদর্শন শুরু হয়েছিল। তবে  দর্শক চাহিদায় তা বেড়ে ২০–এর অধিক হয়েছিল দুইদিন পরই।

প্রথম দিকে কেবল মাল্টিপ্লেক্সেই মুক্তি পায় সিনেমাটি।  এই মাল্টিপ্লেক্সে সর্বাধিক শো পেয়ে এগিয়ে ছিল আফরান নিশো অভিনীত দম। তার পরই ছিল তারকাবহুল সিনেমা বনলতা এক্সপ্রেস। কিন্তু দ্বিতী দমকে পেছনে ফেলে দর্শক চাহিদা ও শোয়ের দিক থেকে এগিয়ে যায় বনলতা এক্সপ্রেস। তৃতীয় সপ্তাহে এসে শীর্ষস্থান ধরে রেখে তানিম নূর পরিচালিত এই সিনেমাটি।

কিন্তু রেদওয়ান রনির দম তৃতীয় সপ্তাহে এসে শোয়ের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানটিও হাড়াল। সেখানে চোখ রাঙানি দিয়ে শীর্ষ উঠে এলো মেহেদি হাসান হৃদয় পরিচালিত সিনেমা ‘রাক্ষস’।  স্টার সিনেপ্লেক্সের সব শাখায় মিলিয়ে রাক্ষসের আজকের শো চলছে ১১টি। এবাং আগামীকালও ( ৪ এপ্রিল) চলবে ১১টি করে শো। অন্যদিকে লায়ন সিনেমাসে আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত রাক্ষসের প্রতিদিন ৪টি করে শো চলবে, আর যমুনা ব্লকবাস্টারে চলছে  ৩টি করে শো। রাজশাহীর গ্র্যান্ড রিভারভিউ সিনেপ্লেক্সে প্রতিদিন চলছে ৩টি করে শো এবং গ্র্যান্ড সিলেট মুভি থিয়েটার সিনেপ্লেক্সে প্রতিদিন চলবে তিনটি করে শো।  সব মিলিয়ে দেশের মাল্টিপ্লেক্সে রাক্ষসের শো হচ্ছে ২৫টি শো।

অন্যদিকে স্টার সিনেপ্লেক্সের সব শাখায় দমের আজকের শো চলছে ১৪টি। এবাং আগামীকালও (৪ এপ্রিল) চলবে ১৪টি করে শো। অন্যদিকে লায়ন সিনেমাসে আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত দমের প্রতিদিন ৩টি করে শো চলবে, আর যমুনা ব্লকবাস্টারে চলছে  ৩টি করে শো।  মাল্টিপ্লেক্সে সর্বমোট দমের শো চলছে ২০ টি শো।

এদিকে শুক্রবার থেকে সিঙ্গেল স্ক্রিনে যাত্রা শুরু করেছে ‘রাক্ষস’।   বিভাগীয় ও জেলা শহরের একাধিক বড় হলে আজ থেকে প্রদর্শন শুরু হয়েছে সিনেমাটির।  প্রথম ধাপে প্রায় ২০–৩০টি হলে সিনেমাটি প্রদর্শিত হচ্ছে জানিয়েছে প্রযোজনা সংস্থা।

প্রযোজনা সংস্থা ও প্রদর্শক সমিতির বরাতে  প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আনন্দ সিনেমা (কুলিয়ারচর), মনিহার সিনেমা ও মনিহার সিনেপ্লেক্স (যশোর), মম ইন ও মধুবন (বগুড়া), রাজ তিলক (রাজশাহী), সুগন্ধা (চট্টগ্রাম), মধুমিতা, আনন্দ ও শ্যামলী (ঢাকা), সৈনিক ক্লাব (ঢাকা), সিনেস্কোপ (নারায়ণগঞ্জ), স্বপ্নীল (কুষ্টিয়া)সহ আরও বেশ কিছু হলে চলছে ‘রাক্ষস’। আগামী সপ্তাহে হল সংখ্যা আরও দ্বিগুন হবে বলে জানিয়েছেন সিনেমাটির অন্যতম প্রযোজক শাহরীন আক্তার সুমি।

‘রাক্ষস’ মূলত ‘বরবাদ ইউনিভার্স’-এর অংশ হিসেবে নির্মিত।  সিনেমাটিতে সিয়ামের বিপরীতে অভিনয় করেছেন কলকাতার সুষ্মিতা চ্যাটার্জি। এছাড়া রয়েছেন আলী রাজ, সোহেল মণ্ডলসহ আরও অনেকে। বিশেষ একটি গানে অংশ নিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী নাতালিয়া জানোসজেক।

তৃতীয় সপ্তাহেও সিনেমাটির দর্শক রেসপন্স নিয়ে পরিচালক মেহেদি হাসান হৃদয় বলেন, ‘ভালো সিনেমা দর্শকদের কাছে ধীরে ধীরে হরেও স্থান পাবে। প্রথমে মাল্টিপ্লেক্সে আমাদের শো কম হওয়ায় দর্শকরা সিনেমাটি দেখতে এসেও দেখার সুযোগ পাননি অনেকেই। ফলে এখনও দর্শকদের চাপ রয়েছে। তৃতীয় সপ্তাহে এসেও সিনেমাটি অলমোস্ট হাউজফুল যাচ্ছে। সিঙ্গেল স্ক্রিনেও সিনেমাটি বড় সাড়া পাবে বলে আমার বিশ্বাস। কারণ সিঙ্গেল স্ক্রিনের দর্শকরা যে ধরনের সিনেমা দেখে আনন্দ পান তার সবই এতে রয়েছে।’

বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের মুম্বাইতে হয়েছে সিনেমাটির শুটিং। এটি পরিচালকের দ্বিতীয় সিনেমা। প্রথম সিনেমা ‘বরবাদ’ করে দারুণ আলোচনায় আসেন তিনি।

একীভূতই থাকছে পাঁচ ব্যাংক

ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ সংশোধন করে জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপনের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার কাজ করে আগামী রোববারের মধ্যে সংশোধনী প্রস্তাব সরকারকে দিতে বলা হয়েছে। অধ্যাদেশ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পাঁচ ব্যাংক একীভূত অবস্থাতেই থাকছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আরও কয়েকটি ব্যাংক একীভূত বা অবসায়ন করা, যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, আদৌ তা হবে কিনা– আইন সংশোধনের পর সেটি বোঝা যাবে বলে জানা গেছে।

গত বছরের মে মাসে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ-২০২৫ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। এই অধ্যাদেশ এবং ব্যাংক কোম্পানি আইনের আলোকে শরিয়াহভিত্তিক পরিচালিত এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। আর আমানতকারীদের মাঝে ১৫ হাজার কোটি টাকার শেয়ার দেওয়া হবে। এ ছাড়া আমানত বীমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা দিয়ে এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পুরো অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরতের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি স্কিম ঘোষণা করেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে বিভিন্ন বিষয়ে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশ জারির পর তা পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করতে হয় এবং ৩০ দিনের মধ্যে পাস না হলে তা বাতিল হয়ে যায়। যে কারণে এসব অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে রিপোর্ট পেশের জন্য ১৩ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি করা হয়। ওই কমিটি ব্যাংক রেজল্যুশনসহ ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করেছে। যদিও দেশের স্বার্থে এবং আর্থিক খাতে অনিয়ম বন্ধে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশটি অপরিবর্তিত অবস্থায় পাসের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছেন বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য।

জানা গেছে, ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশে সংশোধনীর বিষয়ে গতকালই বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সমন্বয়ে সাত সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে আজ শুক্র ও আগামীকাল শনিবার কাজ করে রোববারের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। সে আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা নিয়ে নির্ধারিত সময় সংশোধিত আইনটি সংসদে উত্থাপন করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী অধ্যাদেশটি সংশোধন বা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত যত কাজ হবে, তা বৈধ। আবার পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণ কেবল এই অধ্যাদেশের আলোকে হয়েছে, তেমন নয়। ব্যাংক কোম্পানি আইনও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তবে ন্যাশনাল, এবি ও আইএফআইসি ব্যাংকের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সম্পদের গুণগত মান যাচাই (একিউআর) সম্পন্ন করা হয়েছিল। বিষয়টি আর এগোবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। অবশ্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এ ক্ষেত্রে স্বোচ্চার আছে জানিয়ে তিনি বলেন, মূলধন ঘাটতি নিয়ে যেসব ব্যাংক চলছে, তাদের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটির পরবর্তী কিস্তি ছাড়ে এ বিষয়টি দেখা হবে।

ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের আলোকে সাময়িক সময়ের জন্য একটি দুর্বল ব্যাংক সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মালিকানায় নেওয়া যায়। বিভিন্ন আর্থিক সূচকের ভিত্তিতে দুর্বল ব্যাংক চিহ্নিত করে রেজল্যুশন বা নিষ্পত্তি তথা অবসায়ন, একীভূতকরণ বা তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি কিংবা নতুন শেয়ার ইস্যুসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়। দুর্বল ব্যাংক চিহ্নিতসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকে আলাদা একটি বিভাগ খোলা হয়।

মূলত কয়েকটি ব্যাংক আমানতকারীর জমানো অর্থ ফেরত দিতে না পারায় ব্যাপক আস্থাহীনতা তৈরি হয়। যে কারণে রেজল্যুশনের মাধ্যমে ব্যাংকের উন্নয়ন করে আবার বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে আর্থিক ব্যবস্থায় জনগণের আস্থা বজায়, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং ব্যাংকের লেনদেন চলমান রাখা ছিল মূল উদ্দেশ্য। রেজল্যুশনের আওতায় নিয়ে অধ্যাদেশে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি সূচক দেখতে বলা হয়। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশিত মূলধন বা তারল্য সংরক্ষণের শর্ত পালনে ব্যর্থতা, কোনো ব্যাংক দেউলিয়া হয়েছে বা হওয়ার পথে কিংবা আমানতকারী বা অন্য পাওনাদারের দায়বদ্ধতা পূরণে  অক্ষম এবং প্রতারণামূলকভাবে ঋণের নামে অর্থ বের করার ঘটনা থাকলে এ সম্পর্কিত অধ্যাদেশের আওতায় সেই ব্যাংক তা নিষ্পত্তি করতে পারবে।

স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল

সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। দেশে শিশুদের মধ্যে হামজনিত নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা অফিস আদেশে বলা হয়, আপদকালীন সময়ে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং হামের টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও অধিদপ্তরের অধীন সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের অর্জিত ছুটি ও নৈমিত্তিক ছুটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত এ আদেশে বলা হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে এটি জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এদিকে, হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সরকার ইতোমধ্যে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আদেশটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশের জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জুলাই সনদ, গণভোট মানছে না বিএনপি

গণভোটে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ আদেশ বিএনপি মানছে না। আদেশ অনুযায়ী দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। বিএনপির চাওয়া অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হলে জুলাই সনদ বিষয়ে ও সরকারের এখতিয়ার নিয়ে আরও বেশি প্রশ্ন উঠবে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেমিনারে এসব কথা বলেছেন বক্তারা। ‘গণভোটের আলোকে জনরায় বাস্তবায়নে গড়িমসি: সরকারের দায় ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক এই সেমিনারে আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমরান আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী, জামায়াতের কর্মপরিষদ পরিষদ সদস্য শিশির মনির, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাভেদ রাসিন, ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নেতারা।

শিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন শিবিরের সাধারণ সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ। সঞ্চালনা করেন ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ। সেমিনারে নারী বক্তা না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন শহিদুল আলম।

জামায়াতের রাজনীতির ঘোর বিরোধী হয়েও গণভোটের মত জাতীয় স্বার্থে শিবিরের সেমিনারে যোগ দিয়েছেন জানিয়ে শহিদুল আলম বলেন, আদর্শিক বা ধর্মীয় চিন্তায় ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও দেশের স্বার্থে এবং জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নারী বক্তা না থাকা হতাশাজনক। তবুও এসেছি, কারণ জুলাই সনদ রক্ষা সবার দায়িত্ব।

জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে শহিদুল আলম তিনি বলেন, ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা ‘রাষ্ট্রের মেরামত চাই’ প্ল্যাকার্ডটি আমাকে ভীষণভাবে স্পর্শ করেছিল।

শিশির বলেন, ঐকমত্য কমিশনের সংলাপের এক পর্যায়ে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া কী হবে, অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। তখন বিএনপির পক্ষ থেকেই গণভোটের প্রস্তাব আসে। এরপর বাকিরা তাতে সায় দেয়। এখন সেই প্রস্তাবকারী দল বলছে, গণভোটের আদেশ মানতে তারা বাধ্য নয়।

সরকারের গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাবের সমালোচনা করে শিশির মনির বলেন, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ বাতিল করার কী কারণ থাকতে পারে? ডিজিএফআইয়ের আপত্তি ছাড়া, এসবি, এনএসআইয়ের আপত্তি ছাড়া। এই আয়নাঘর তৈরি করার মূল কারিগর ডিজিএফআই।’

বিএনপি সরকার সংস্কারের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে অভিযোগ করে শিশির মনির বলেছেন, তারা হয়ত এমন কোথাও নাকে খত দিয়েছে, যা ৭০ ভাগ মানুষের মতামতের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ তাদের কাছে।

নাজিবুর রহমান বলেন, সংবিধানের পক্ষের শক্তি এবং বিপক্ষের শক্তি হিসেবে দেশকে আবার বিভাজনের পাঁয়তারা চলছে।

আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, বাহাত্তরের সংবিধান জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পৃথিবীর কোথাও জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া কোনো সংবিধান রচিত হয়নি।

নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, গণভোট কেবল নীতিগত অনুমোদন নয়, জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট।

সিবগাতুল্লাহ বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে বিএনপি সরকার ২০০৯ সালে গঠিত সরকারের মতো একই পথে হাঁটা শুরু করেছে। সেমিনার থেকে গণভোট অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনসহ ৭ দফা দাবি জানানো হয়েছে।