Home Blog Page 175

কে পড়াবেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ, জানালেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব

সংবিধান অনুযায়ী নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শপথ পড়াবেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশিদ।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

নতুন মন্ত্রিসভার শপথের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রস্তুতি আছে বলেও জানিয়েছেন শেখ আব্দুর রশিদ।

এ ছাড়া নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের জন্য কম-বেশি এক হাজার অতিথিকে দাওয়াত দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ফ্রিতে ওয়াজের ঘোষণা দিয়েও ভোটে ভরাডুবি তাহেরীর

সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এসএম ফয়সল। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের আলোচিত প্রার্থী মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরী। মোমবাতি প্রতীক নিয়ে লড়া তাহেরী পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৩২৩ ভোট।

এর আগে নির্বাচনি প্রচারে ফ্রিতে ওয়াজের ঘোষণা সত্ত্বেও ভোটে ভরাডুবি হলো মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর। বিএনপি প্রার্থী ফয়সলের সঙ্গে ১ লাখ ৩ হাজার ৭৪৯ ভোটের বিপুল ব্যবধানে পরাজিত হন তাহেরি।

এদিকে তাহেরির নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৪৪৬ ভোট। এ আসনে আলোচিত প্রার্থী মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরী মোমবাতি প্রতীকে পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৩২৩ ভোট।

অন্য প্রার্থীদের মধ্যে মো. মুজিবুর রহমান (মই) পেয়েছেন ৩২৯ ভোট, মু. রেজাউল মোস্তফা (আপেল) ৪৮৪, মো. রাশেদুল ইসলাম খোকন (ছড়ি) ৪৮৪, শাহ মো. আল আমিন (হারিকেন) ৫৩৬, মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী (ঘোড়া) ৬৫২ এবং সালেহ আহমদ সাজন (ফুটবল) পেয়েছেন ৬১৯ ভোট।

এ আসনে মোট ভোটার ছিল ৫ লাখ ৫২ হাজার ৭১১ জন। ৯ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ১০ হাজার ৯৭টি, যা ৫৬ দশমিক ১০ শতাংশ।

একটি আসনও পেল না জাতীয় পার্টি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় পরিসরে অংশ নিলেও ভরাডুবির মুখে পড়েছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। দলটি ১৯৬টি আসনে প্রার্থী দিলেও শেষ পর্যন্ত একটিও আসনে জয় তুলতে পারেনি। বিশেষ করে রংপুর-৩ (সদর) আসনে ফলাফল দলটির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে, যেটিকে দীর্ঘদিন ধরে জাপার ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

রংপুর শহরেই দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বাড়ি। সেই সূত্রে এ আসনে জাপার শক্ত ভিত্তি রয়েছে বলে ধারণা করা হতো। কিন্তু এবার সেই আসনেই দলীয় চেয়ারম্যান জিএম কাদের তৃতীয় অবস্থানে নেমে গেছেন।

বেসরকারি ফল অনুযায়ী, রংপুর-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪০৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু ৭৪ হাজার ১৭১ ভোট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকেন। অন্যদিকে জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের পান ৩৭ হাজার ৯৩৩ ভোট।

জানা গেছে, নির্বাচনের দিন জিএম কাদের নিজে ভোটকেন্দ্রে যাননি। তিনি সারাদিন নগরীর নিউসেনপাড়া এলাকার বাসায় ছিলেন। যদিও দলের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, ভোটের দিন সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে তিনি ভোট দেবেন।

এদিকে জাপার মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার গাইবান্ধা-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রাথমিক হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মাজেদুর রহমান ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯৪৫ ভোটে বিজয়ী। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী ৩৭ হাজার ৮৫১ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় ও জাপার মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী ৩৩ হাজার ৯২৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে।

জামায়াতের রাজনীতি মানুষ পছন্দ করেনি বলেই বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ জয়

সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপির বিপুল বিজয়কে জনগণের রাজনীতির জয় হিসেবে অভিহিত করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি মানুষ পছন্দ করেনি দেখেই বিএনপি নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়েছে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে নির্বাচনের পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি কখনো জনপ্রিয়তা হারায়নি এবং এই দল সবসময় জনগণের রাজনীতি করেছে।

বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি সম্পর্কে মহাসচিব বলেন, বিএনপি কোনো ক্যাডার বেজ দল না, এটি জনগণের দল। আওয়ামী লীগের দমন-পীড়ন ও দুঃশাসনের কারণেই মূলত জামায়াতের উত্থান হয়েছিল। তবে দেশের মানুষ এখন তাদেরকে প্রত্যাহার করেছে।

নির্বাচন পরবর্তী পরিকল্পনা ও জোটের অঙ্গীকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট বিরোধী দলগুলোকে নিয়ে আমাদের একটি জাতীয় সরকারের কমিটমেন্ট আছে। আমরা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবো।

তিনি আরও জানান, জুলাই সনদে যে বিষয়গুলোতে সই করা হয়েছে, সেগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে। সেই সঙ্গে বিএনপির ঘোষিত ‘৩১ দফা’ সংস্কার কর্মসূচিও পূরণ করার কথা জানান তিনি।

উত্তরাঞ্চলের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সঠিকভাবে রংপুরের জনগণের জন্য কাজ করতে পারলে ভবিষ্যতে আমরা উত্তরাঞ্চলের সব আসনে বিজয়ী হবো।

তারেক রহমানকে নরেন্দ্র মোদির অভিনন্দন

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া বার্তায় তিনি বলেন, এ বিজয় বাংলাদেশের জনগণের তার নেতৃত্বের প্রতি আস্থার প্রতিফলন। একইসঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে একসঙ্গে কাজ করার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।

এক্সে দেয়া ওই পোস্টে মোদি লিখেছেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে নিরঙ্কুশ জয়ে নেতৃত্ব দেয়ায় তিনি তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছেন। তিনি বলেন, এই বিজয় বাংলাদেশের জনগণের তার নেতৃত্বের প্রতি আস্থার প্রতিফলন।

মোদি আরও উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ভারত সমর্থন অব্যাহত রাখবে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্য এগিয়ে নিতে তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছেন তিনি।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে সফলভাবে ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার প্রেক্ষাপটে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ঢাকা এক বার্তায় বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানায়। একই সঙ্গে নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও দলটির নেতা তারেক রহমানকেও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।

দূতাবাসের প্রকাশিত বার্তায় বলা হয়, সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের জনগণ অভিনন্দনের দাবিদার। পাশাপাশি বিএনপি ও তারেক রহমানের ঐতিহাসিক বিজয়কে স্বাগত জানানো হয়।

বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে অভিন্ন লক্ষ্য রয়েছে, তা বাস্তবায়নে নবনির্বাচিত নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী। দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়েছে।

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়ার মধ্যে মার্কিন দূতাবাসের এই বার্তা কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নতুন সরকারের শপথ পড়াবেন কে?

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে । দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ট দল হিসেবেই সরকার গঠন করতে যাচ্ছে দলটি।

সর্বশেষ প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে ২৯৬ আসনের মধ্যে ২১২টিতে বিএনপি জোট, ৭৬টিতে জামায়াত জোট ও স্বতন্ত্রসহ অন্যান্য প্রার্থীরা ৮টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন।

এদিকে নতুন সরকার গঠন হবে কিভাবে বা তারেক রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া কী হবে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী, এই ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া বা নতুন সরকার গঠনের শুরুটা হবে নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে। তবে এই শপথের প্রক্রিয়া নিয়েও এবার তৈরি হয়েছে কিছু অনিশ্চয়তা।

শপথ কত দিনের মধ্যে নিতে হয়?- উত্তরটা হচ্ছে, সাধারণত নিবাচনের ফল ঘোষণার তিনদিনের মধ্যে শপথ পড়ানো হয়। কিন্তু এখানে একটা কথা আছে। সাধারণভাবে নির্বাচন কমিশন থেকে যে বেসরকারি ফল যাওয়া যায় একদিন বা দুইদিনের মধ্যে, সেটা কিন্তু আনুষ্ঠানিক ফলাফল হিসেবে গণ্য হয় না। মানে সেই ফলাফল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে শপথ নিতে হবে এমনটা নয়।

সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল ‘সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত’ হতে হবে এবং এরপর ‘তিন দিনের মধ্যে’ নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণ হবে। সেক্ষেত্রে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পর প্রজ্ঞাপন হতে আরও কয়েকটা দিন বাড়তি সময় লাগতে পারে।

শপথ কে পড়াবেন এই প্রশ্ন উঠছে, কারণ নিয়ম অনুযায়ী অতীতে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়িয়েছেন মূলত জাতীয় সংসদের স্পিকার। কিন্তু চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতে সংসদ নেই, স্পিকারও নেই। এমনকি ডেপুটি স্পিকারও কারাগারে।

তাহলে উপায় কী আছে? এক্ষেত্রে আবারও যেতে হবে সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে। যেখানে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হইবার তারিখ হইতে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে এই সংবিধানের অধীন এতদুদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা তদুদ্দেশ্যে অনুরূপ ব্যক্তি কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনও ব্যক্তি যে কোনও কারণে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ পরিচালনা করিতে ব্যর্থ হইলে বা না করিলে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার উহার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে উক্ত শপথ পাঠ পরিচালনা করিবেন, যেন এই সংবিধানের অধীন তিনিই ইহার জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি।

এই অনুচ্ছেদে মূলত দুটি উপায় বলা হয়েছে। এক. রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করানোর জন্য কাউকে মনোনীতি করতে পারেন। দুই. যদি তিন দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি শপথ করাতে না পারেন তাহলে তখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথ পাঠ করাবেন।

এ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গত পাঁচই ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। সেসময় তিনি জানান, নির্বাচনের পর দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায় সরকার।

তিনি বলেন, এটা সরকারের নীতিগত পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। আমাদের সামনে দুটি অপশন আছে। একটা হচ্ছে রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করা পারেন। উদাহরণ হিসেবে হয়তো আমাদের প্রধান বিচারপতি হতে পারেন।

তিনি বলেন, আর এটা যদি না হয়, তাহলে আমাদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার আছেন, তিনিই শপথ গ্রহণ করাবেন। এ ক্ষেত্রে একটি সমস্যা আছে, তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। আমরা আসলে অপেক্ষা করতে চাই না, আমরা নির্বাচন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চাই।

রোজায় তেল, ডাল, চিনির সঙ্গে ছোলা ও খেজুর বিক্রি করবে টিসিবি

পবিত্র রমজান মাসে সারাদেশে ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি (ট্রাক সেল) করবে সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। রোজায় টিসিবির নিয়মিত পণ্যের পাশাপাশি ছোলা ও খেজুরও বিক্রি করা হবে। ট্রাকে পণ্য বিক্রির পাশাপাশি স্মার্ট পরিবার কার্ডের মাধ্যমেও পণ্য বিক্রি করবে টিসিবি। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে টিসিবি। এতে বলা হয়, সারাদেশে ভর্তুকি মূল্যে স্মার্ট কার্ডধারী পরিবারের কাছে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এর পাশাপাশি রমজান মাসে ট্রাক সেলের মাধ্যমে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ ভোক্তার কাছে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি করা হবে। টিসিবির এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি রোজা শুরু হতে পারে। এর আগের দিন অর্থাৎ ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে টিসিবির ট্রাক সেল কার্যক্রম শুরু হতে পারে। অন্যদিকে সারাদেশে এখন পর্যন্ত ৬৬ লাখ স্মার্ট পরিবার কার্ড সক্রিয় রয়েছে। তারাও রোজার মাসে টিসিবির পণ্য কিনতে পারবে।
যে কোনো ব্যক্তি ট্রাকের পেছনে লাইনে দাঁড়িয়ে টিসিবির ভর্তুকি মূল্যের পণ্য কিনতে পারবেন। রোজার মাসের ট্রাক সেলে পণ্য বিক্রয়ের পরিমাণ ও দাম বিক্রয় কার্যক্রম শুরুর আগে জানানো হবে। টিসিবি সূত্রে জানা যায়, প্রাপ্তবয়স্ক যে কোনো ব্যক্তি লাইনে দাঁড়িয়ে ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে পারবেন। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুই লিটার সয়াবিন তেল, দুই কেজি মসুর ডাল ও এক কেজি চিনি কিনতে পারবেন। গত বছর রোজার মাসে এই তিন পণ্যের সঙ্গে দুই কেজি ছোলা ও ৫০০ গ্রাম খেজুর বিক্রি করেছিল টিসিবি। এর ফলে দেশের সাধারণ ভোক্তাদের স্বস্তি ফিরে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিএনপি ও তারেক রহমানকে পাকিস্তানের অভিনন্দন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কথিত বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার প্রেক্ষাপটে চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগেই বিএনপি ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি ইসলামাবাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তিনি জানান, ঢাকায় নতুন সরকার গঠিত হলে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করতে পাকিস্তান আগ্রহী।

জারদারি আরও আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা দক্ষিণ এশিয়ায় পারস্পরিক সম্মান ও ভারসাম্যের ভিত্তিতে সম্পর্ক জোরদারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বিজয় মিছিল নয়, সারা দেশে দোয়া কর্মসূচি করবে বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে জয় পাওয়ার পরও কোনো ধরনের বিজয় মিছিল বা সমাবেশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এর পরিবর্তে সারা দেশে দোয়া কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত আড়াইটায় দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক আসনে নির্বাচিত হওয়ায় ঢাকাসহ দেশব্যাপী দলটির পক্ষ থেকে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানানো হয়েছে।

এ উপলক্ষে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বাদ জুমআ ঢাকাসহ সারা দেশের মসজিদে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে দোয়া কর্মসূচি পালন করা হবে। এতে ‘গণতন্ত্রের মা’ খ্যাত সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া-র বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং দেশবাসীর কল্যাণ কামনা করা হবে।

বিএনপি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নির্বাচনে বিজয়ের পর দলটির পক্ষ থেকে কোনো আনন্দ মিছিল বা সভা-সমাবেশ করা যাবে না। ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণকে মসজিদে আয়োজিত দোয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে সারা দেশের মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে স্ব স্ব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষদের সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনা করার অনুরোধও জানানো হয়েছে।