Home Blog Page 176

যে তিন আসনের ফল ঘোষণা স্থগিত রাখবে নির্বাচন কমিশন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক ফল নির্ধারণ সম্পন্ন হলেও তিনটি আসনের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আসনগুলো হলো—শেরপুর-২, চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট তিন আসনে জয়ী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে মামলা বিচারাধীন থাকায় চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল ঘোষণা করা যাবে না। এ সংক্রান্ত পৃথক তিনটি চিঠি গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জারি করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-৪ আসনে প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী-এর বিষয়ে ইসির চিঠিতে বলা হয়, আপিল বিভাগে দায়ের করা সিপিএলএ নং ৪৪১/২০২৬ (হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ১১৭৪/২০২৬ থেকে উদ্বৃত) মামলার ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের আদেশ অনুযায়ী তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। তবে মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

একইভাবে চট্টগ্রাম-2 আসনের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর-এর ক্ষেত্রেও সিপিএলএ নং ৪৪০/২০২৬ (রিট পিটিশন নং ১০৫৩/২০২৬ থেকে উদ্বৃত) মামলার ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের আদেশের আলোকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বহাল রাখা হয়েছে। তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার নির্বাচনী ফল প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছে কমিশন।

অন্যদিকে শেরপুর-২ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী-এর বিষয়ে সিপিএলএ নং ৪৪২/২০২৬ (রিট পিটিশন নং ১১৮৬/২০২৬ থেকে উদ্বৃত) মামলার ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের আদেশ অনুসারে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন। তবে তার নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল সংশ্লিষ্ট মামলার চূড়ান্ত আদেশের ওপর নির্ভরশীল থাকবে বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

যে চারটি আসনে জিতল ’না’ ভোট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একইদিনে অনুষ্ঠিত গণভোটে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী চারটি আসনে ‘না’ ভোট জয়ী হয়েছে। আসনগুলো হলো—বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম-১৩।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত ফলাফল শিট থেকে এ তথ্য জানা গেছে। কমিশন জানিয়েছে, ফলাফল হালনাগাদ হওয়ায় এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

বান্দরবান জেলায় ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৭১ হাজার ৪১৭টি এবং ‘না’ ভোট ৯০ হাজার ১৫৬টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৫ হাজার ৪২২ জন।

চট্টগ্রাম-১৩ আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৮০ হাজার ৫৮০টি। বিপরীতে ‘না’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৬২৯টি। এখানে মোট ভোটার ৩ লাখ ৯৫ হাজার ২৪৬ জন।

রাঙামাটিতে ‘হ্যাঁ’ ভোট পেয়েছে ৭১ হাজার ৬৯৯টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮০৫টি। মোট ভোটার ৫ লাখ ৯ হাজার ২৬৭ জন।

খাগড়াছড়িতে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৫৫টি। বিপরীতে ‘না’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৯৪২টি। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৪ হাজার ১১৩ জন।

ভোট এত আনন্দ ও উৎসব মুখর হবে অনেকেই ভাবতে পারেনি: মির্জা ফখরুল

ভোট যে এবার এত আনন্দ, উৎসব মুখর হবে অনেকেই ভাবতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলে তিনি।

এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ভোট যে এবা র এত আনন্দ, উৎসব মুখর হবে অনেকে ভাবতে পারেনি। বাংলাদেশের মানুষ একটা আনন্দের উৎসব পেয়েছে। মানুষের যে আগ্রহ উচ্ছ্বাস তা সারাদিন শতাধিক কেন্দ্র পরিদর্শন করে দেখলাম। আমি আশাবাদী একটা সুন্দর নির্বাচন সুন্দর রেজাল্ট আসবে।’

এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই সুন্দর নির্বাচনের জন্য আমরা ১৫ বছর সংগ্রাম করেছি। এই নির্বাচনের ফলে মানুষ একটি নির্বাচিত সরকার পাবে।’

লাইন দীর্ঘ, ভোট স্লো করা হচ্ছে’: বিএনপি প্রার্থী মিল্টনের অভিযোগ

ঢাকা-১৫ আসনের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন থাকলেও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে ধীরগতিতে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) দুপুর ২টা ২৫ মিনিটের দিকে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের (মূল মনিপুর বালিকা শাখা) কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ অভিযোগ তোলেন।

মিল্টন বলেন, সব কেন্দ্র এখনো ঘুরে দেখা সম্ভব হয়নি। তবে যেসব কেন্দ্রে গেছেন, সেখানে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। তার দাবি, ভোটগ্রহণে অস্বাভাবিক ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিষয়টি গণমাধ্যমকে খতিয়ে দেখার আহ্বানও জানান তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কাজীপাড়া সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে কয়েকজন জালভোট দিতে গিয়ে ধরা পড়েছেন। এ বিষয়ে তদন্ত ও প্রতিবেদন প্রকাশের আহ্বান জানান বিএনপির এই প্রার্থী।

কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটে। পরে দায়িত্বরত সেনাসদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ভোটগ্রহণে ধীরগতির পেছনে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের ভূমিকা আছে বলেও ইঙ্গিত দেন মিল্টন। তার ভাষ্য, বহু বছর পর ভোটের সুযোগ এসেছে, তাই যেন কোনো ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত না হন—সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। তবে তার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণে ভোট প্রক্রিয়া ‘ইচ্ছাকৃতভাবে ধীর’ করা হচ্ছে বলে মনে হয়েছে।

নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। মিল্টন বলেন, ঢাকা-১৫ আসনের ভোটাররা স্থানীয় প্রার্থীকেই বেছে নেবেন বলে তার বিশ্বাস। তিনি নিজেকে এই এলাকার জন্ম ও বেড়ে ওঠা প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভোটাররা ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল সমর্থন দেবেন।

উল্লেখ্য, এ আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। অতীতে তিনি বিভিন্ন নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

ভোট সুষ্ঠু হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মিল্টন বলেন, একজন প্রার্থী হিসেবে তিনি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করেন।

দুপুর ২টা পর্যন্ত সারাদেশে ৪৮৬টি বিশৃঙ্খলা, জালভোট ৫৯টি

চলমান জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ৪৮৬টি কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। জালভোট দেওয়া হয়েছে ৫৯টি এবং ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে ৩টি জায়গায়।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টা পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি সমন্বয় সেল থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সমন্বয় সেলের তথ্য বলছে, দুপুর ২টা পর্যন্ত দেশের সব কেন্দ্রের মধ্যে পোলিং এজেন্টদেরকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৪টি স্থানে। সারাদেশে বিভিন্ন প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ১৩৫ জায়গায়। দেশের সব কেন্দ্রের মধ্যে ৪৮৬টি ভোট কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে সারাদেশে ব্যালট বাক্স ছিনতাই হয়েছে তিনটি জায়গায়। ৬ জন প্রার্থীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। ৫৯টি জালভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

ভোট দিতে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৮টি। অগ্নিসংযোগের ঘটনা পাওয়া গেছে ৪টি স্থানে এবং নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির অবহেলার ঘটনা ঘটেছে ৩৩টি।

এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রে ঢুকে দেখলেন ভোট দেয়া হয়েছে আগেই, ৩ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

গাজীপুর-৩ আসনে ভোট দিতে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন এক নারী ভোটার। প্রায় ১ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রে ঢুকে তিনি জানতে পারেন, তার ভোট আগেই দেয়া হয়ে গেছে।

এ ঘটনায় সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাসহ তিনজনকে প্রত্যাহার করেছে নির্বাচন কমিশন।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১০টায় শ্রীপুর পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মহিলা ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব আহমেদ।

প্রত্যাহার হওয়া ওই তিনজন হলেন, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হারেছা খাতুন এবং দুই পোলিং কর্মকর্তা মাসুম খান ও সালমা আক্তার। তাদের মধ্যে হারেছা খাতুন গিলাশ্বর বালিকা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক এবং সালমা আক্তার দক্ষিণ ভাংনাহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। অপর পোলিং কর্মকর্তা মাসুম খানের কর্মক্ষেত্রের নাম জানা যায়নি।

ভুক্তভোগী ওই নারী ভোটারের নাম লাকী বেগম।

প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, লাকী বেগম সকালে ভোট দিতে কেন্দ্রে এসে লাইনে দাঁড়ান। প্রায় ১ ঘণ্টা অপেক্ষার পর ভোটগ্রহণ কক্ষে গিয়ে দেখেন, তার ভোট আগেই দেয়া হয়ে গেছে। এতে তিনি হতাশ হয়ে পড়েন এবং বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জানান।

ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. সেলিম হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিষয়টি কীভাবে ঘটল, তা তদন্ত করে দেখা হবে।’

নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সজীব আহমেদ বলেন, ‘একজন ভোটার অভিযোগ করেছিলেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাসহ তিনজনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরে ওই নারী ভোটারের ভোট নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা অনুযায়ী টেন্ডারভোট হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।’

বড় দুঃসংবাদ পেতে যাচ্ছে ভারত

২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের দ্বিতীয় ম্যাচের আগে দুশ্চিন্তা বেড়েছে। ওপেনার অভিষেক শর্মার খেলা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি নয়াদিল্লিতে নামিবিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ ভারতের। তার আগে মঙ্গলবার অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে দলের প্রথম অনুশীলনে ছিলেন না অভিষেক।

এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, অভিষেক শর্মাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি পেটের সংক্রমণে ভুগছেন। এই কারণে তার মাঠে নামা এখন অনিশ্চিত। নামিবিয়া ম্যাচে তার না থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগেও অসুস্থ ছিলেন অভিষেক। ম্যাচ খেলার পর তার অবস্থা আরও খারাপ হয়। সেই ম্যাচে তিনি শূন্য রানে আউট হন। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি মাঠে নামেননি। তার বদলে বদলি ফিল্ডার হিসেবে নামেন সাঞ্জু স্যামসন। ম্যাচ শেষে হাত মেলাতেও দেখা যায়নি অভিষেককে।

ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের ম্যাচে অভিষেকের জ্বর ছিল বলে জানা গেছে। তাকে দ্রুত স্বস্তির জন্য স্যালাইন দেওয়া হয়। শুরুতে ভারতীয় দল বিষয়টিকে সাধারণ পেটের সমস্যা বলেছিল। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংক্রমণ গুরুতর। এতে তার পরের ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা অনেক কমে গেছে।

সহকারী কোচ রায়ান টেন ডেসকাটে বলেন, ‘অভিষেকের পেটের সমস্যা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। আমরা আশা করছি, দুই দিনের মধ্যে সে ম্যাচ খেলার মতো অবস্থায় থাকবে।’

অসুস্থ হলেও দলের সঙ্গে দিল্লি যান অভিষেক। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় তার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে বলে খবর। ৮ ফেব্রুয়ারি প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের বাসায় দলের বিশেষ নৈশভোজেও তাকে দেখা যায়। তবু তার সুস্থতা নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।

মঙ্গলবার অনুশীলনে অভিষেক না থাকায় প্রথমে নেটে যান সাঞ্জু স্যামসন। সাম্প্রতিক নিউজিল্যান্ড সিরিজে তিনি ছন্দে ছিলেন না। অনুশীলনে অর্শদীপ সিং ও হার্দিক পান্ডিয়ার বিপক্ষেও তাকে অস্বস্তিতে দেখা যায়। অনুশীলনের সময় তার বাঁ হাতেও চিকিৎসা দেওয়া হয়।

রায়ান টেন ডেসকাটে আরও বলেন, ‘আমরা সবচেয়ে বেশি অপেক্ষা করছি অভিষেকের ফিটনেসের দিকে। সেটার ওপর নির্ভর করে দলের কম্বিনেশন ঠিক হবে।’

বুধবার দিল্লিতে শেষ অনুশীলনের পর অভিষেক শর্মার খেলা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানা গেছে।

যে ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে শুধুই নারীরা

গত ৫৪ বছর ধরে পীরের কথা মেনে ভোট দেন না চাঁদপুর-৪ ফরিদগঞ্জ আসনের রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারীরা। মাঝেমধ্যে কিছু নারী ভোট দিলেও তার সংখ্যা খুবই নগণ্য। ফলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নারীদের ভোটের জন্য নারী ম্যাজিস্ট্রেটসহ সব কর্মকর্তার জায়গায় নারীদের নিয়োগ করা হয়েছে।

জানা গেছে, ৭০ দশকের জৈনপুরের পীরের অনুরোধ মেনে রূপসা দক্ষিণের নারীরা ওই এলাকার কোনো ভোটের সময়েই ভোট দিতে যান না। মাঝে মধ্যে দুএকটি ভোটের সময় প্রার্থীদের কাছের আত্মীয়রা ভোট দিলেও তার পরিমাণ ছিল নামমাত্র। যদিও ভোট ছাড়া আর বাকী সব কাজেই ওই ইউনিয়নের নারীদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। বিচরণ করেন হাট-বাজারসহ যাবতীয় সবকাজে। ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম সরকার নারীদের পর্দা নিশ্চিত করে যেকোনো মূল্যে নারীদের ভোট দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেন। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে রূপসা দক্ষিণের ইউনিয়নের মোট ৮টি কেন্দ্রের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ওই ইউনিয়নে মোট নারী ভোটার সংখ্যা ১০ হাজার ২৯৯ জন।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের ৮টি কেন্দ্রে নারী ভোটের জন্য ২০টি বুথ তৈরি করা হয়েছে। ওই বুথ গুলোর জন্য সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নারীদের নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পুলিশ, আনসার ভিডিপি এবং ৮টি কেন্দ্রের জন্য একজন নারী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া ৮ জন প্রার্থীকে ওই বুথগুলোতে নারী পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দেওয়ার জন্য চিঠি ও মৌখিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, নারীদের পর্দা মেনে ভোট দেওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ওই ইউনিয়নে ইতোমধ্যেই ব্যপক প্রচারণার মাধ্যমে জানানো হয়েছে। আশা করছি এবার নারীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ভোট কেন্দ্রে আসবেন।

‘গানকে হারাম বলা দলটাও গানে গানে ভোট খুঁজছে’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে চলছে নানা আলোচনা। রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলেও ভোটের আমেজ স্পষ্ট। এ প্রেক্ষাপটে নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করেছেন দেশের জনপ্রিয় লোকসংগীত শিল্পী আবদুল কুদ্দুস বয়াতি।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “গানকে হারাম বলা দলটাও গানে গানে ভোট খুঁজছে।” তবে তিনি তার পোস্টে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ করেননি।

পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই তার বক্তব্যের পক্ষে মন্তব্য করেন, আবার কেউ কেউ ভিন্নমতও প্রকাশ করেন।

দেশের বিভিন্ন সামাজিক ও সমসাময়িক ইস্যুতে অতীতেও সরব ছিলেন কুদ্দুস বয়াতি। ১৯৯২ সালে প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের নির্মিত বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রচারণার অংশ হিসেবে গাওয়া ‘এই দিন, দিন না আরও দিন আছে’ গানটির মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। কোভিড-১৯ মহামারির সময় ব্র্যাকের সচেতনতামূলক প্রচারণায় ‘জাইনা চলেন, মাইনা চলেন’ গানেও অংশ নেন তিনি।

এ পর্যন্ত তার দুটি একক অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি অসংখ্য বিজ্ঞাপনচিত্র, নাটক ও প্রামাণ্যচিত্রে গান গেয়েছেন এ শিল্পী। তার বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার রাজীবপুর গ্রামে।

ডায়াবেটিস রোগীরা কি সব ফল খেতে পারবেন

ফলের দোকানে আম, কলা, আঙুর বা তরমুজ দেখে মুখ চটকানো স্বাভাবিক। তবে ডায়াবেটিস থাকলে অনেকেই চিন্তায় পড়েন।

“ফল খেলে কি ব্লাড সুগার হঠাৎ বেড়ে যাবে?” এই ভয়ের কারণে অনেক রোগী ফল একেবারে বাদ দেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ফল স্বাস্থ্যকর হতে পারে, যদি ফলের ধরন, পরিমাণ এবং খাওয়ার সময় সঠিকভাবে মেনে চলা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সব ফলের শর্করার পরিমাণ সমান নয়। কিছু ফলের প্রাকৃতিক চিনি বেশি, আবার কিছু ফলের ফাইবার বেশি থাকায় রক্তে শর্করা ধীরে বৃদ্ধি পায়। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন অনুযায়ী, ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) এবং ফাইবারের পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ।

নিরাপদ ফলের মধ্যে রয়েছে: আপেল, পেয়ারা, নাশপাতি, কমলা, মাল্টা, পেঁপে, বেরিজ জাতীয় ফল যেমন স্ট্রবেরি এবং বেদানা। এই ফলগুলো রক্তে শর্করা ধীরে বৃদ্ধি করে।

তবে কিছু ফলের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। আম, কলা, কাঁঠাল, আঙুর ও লিচুতে প্রাকৃতিক চিনি বেশি থাকে। এগুলো একেবারে নিষিদ্ধ নয়, তবে অল্প পরিমাণে এবং নিয়মিত নয় খাওয়া উচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অতিরিক্ত চিনি যেকোনো উৎস থেকে রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে।

ফলের রসের দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। এতে ফাইবার কম থাকে, চিনি বেশি থাকে এবং রক্তে শর্করা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তাই গোটা ফল খাওয়া সবসময় বেশি নিরাপদ।

খাওয়ার সময়ও গুরুত্বপূর্ণ। খালি পেটে না খেয়ে দিনের মাঝামাঝি সময় বা হালকা নাস্তা হিসেবে ফল খেলে রক্তে শর্করার ওঠানামা কম থাকে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, এক বেলায় এক ধরনের ফলই যথেষ্ট।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ফল শত্রু নয়, তবে সঠিক ফল, সঠিক পরিমাণ এবং সঠিক সময় মেনে খাওয়া জরুরি।