Home Blog Page 176

ঢাকার অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক সাড়া

রাশিয়া থেকে পরিশোধিত ডিজেলসহ অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য কিনতে বাংলাদেশের বিশেষ ছাড়ের অনুরোধ ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনে এক বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে এ আশ্বাস দেন মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট। গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় বাংলাদেশের সংকট নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তিনি রাশিয়া থেকে সরাসরি পরিশোধিত ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ ছাড় পাওয়ার অনুরোধ জানান। এর আগেও বাংলাদেশ একই অনুরোধ জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি দিয়েছিল।

বৈঠকে খলিলুর রহমান বলেন, কৃষকরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং খাদ্য নিরাপত্তা যেন বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য এ ছাড় প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘এর আগে রাশিয়ার তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী যে ছাড় দিয়েছিল, তার সুফল বাংলাদেশ নিতে পারেনি।’

এ ছাড়া, জরুরি চাহিদা মেটাতে তৃতীয় কোনো দেশ থেকে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের বিনিময়ে পরিশোধিত তেল কেনার বিষয়েও দুজন আলোচনা করেন। মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী বাংলাদেশের বর্তমান  জ্বালানি সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে এ কঠিন সময়ে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন সরকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি আশ্বাস দেন, তাঁর দপ্তর এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মার্কিন সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে কাজ করবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর প্রথম ভারত সফর করতে যাচ্ছেন ক্ষমতাসীন বিএনপির পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি মরিশাসে যাওয়ার পথে ভারতে যাত্রাবিরতি নেবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আগামী ১০ থেকে ১২ এপ্রিল মরিশাসে নবম ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স (আইওসি) হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের পক্ষে এতে যোগ দেবেন খলিলুর রহমান। আইওসিতে যোগ দেওয়ার আগে ভারতে যাত্রাবিরতি নেবেন তিনি। ৭ এপ্রিল ভারতের উদ্দেশে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখান থেকে ৯ এপ্রিল মরিশাসের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর।

জ্বালানি তেলের লাইন এখনও দীর্ঘ
রাজধানীতে জ্বালানি তেলের জন্য প্রতীক্ষার দীর্ঘ লাইন এখনও কমেনি। নগরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে সকাল থেকেই মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও গণপরিবহনের সারি চোখে পড়ছে। সাম্প্রতিক সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে সংকটের চাপ পুরোপুরি কাটেনি।

ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, সীমিত পরিমাণে তেল সরবরাহের কারণে পাম্পগুলো নির্দিষ্ট সময় পরপর বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনের চাপ আরও বাড়ছে। অনেক চালক ভোর ৫টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও দুপুর পর্যন্ত তেল পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের ভোগান্তি বেশি, কারণ স্বল্প পরিমাণ তেল নিয়েই তাদের বারবার লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। পরিবহন চালকরাও বলছেন, তেলের অভাবে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী যানবাহন চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

বিভিন্ন স্থানে হামলা-হামলা, মারামারি
দেশের বিভিন্ন জেলায় জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটছে। ফরিদপুরের ভাঙ্গায় কালোবাজারিদের ড্রামে তেল না দেওয়ায় একটি ফিলিং স্টেশনে হামলা হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন স্টেশন মালিকসহ তিনজন। ঘটনার পর বুধবার সকাল থেকে সংশ্লিষ্ট মালিকের দুটি ফিলিং স্টেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ঢাকা-খুলনা ও ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন এবং সেচনির্ভর কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

গাইবান্ধায় রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়ার ১৬ দিন পরও সংকট পুরোপুরি কাটেনি। জেলার বিভিন্ন পাম্পে তেল না পাওয়া এবং দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষার দৃশ্য এখনও নিয়মিত। একই চিত্র নেত্রকোনায়ও দেখা যাচ্ছে। সেখানে অধিকাংশ পাম্প দিনে বন্ধ থাকে, আর যেগুলো খোলা থাকে সেগুলোও সীমিত সময় তেল বিক্রি করে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেককে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও মারামারির ঘটনাও ঘটছে।

প্রশাসনের অভিযান জোরদার
অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযানও জোরদার হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ডিজেল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৃথক অভিযানে তিন হাজার লিটারের বেশি জ্বালানি তেল জব্দ করা হয় এবং দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনা হয়। সিরাজগঞ্জ ও গোপালগঞ্জে জরিমানা ও দণ্ডাদেশের ঘটনা ঘটেছে।

সংকট মোকাবিলায় কিছু এলাকায় নতুন উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। রাজবাড়ীর পাংশায় পরীক্ষামূলকভাবে অ্যাপের মাধ্যমে তেল সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে তেল নিতে হলে চালকের নাম, গাড়ির লাইসেন্স, নম্বরপ্লেটসহ বিস্তারিত তথ্য ডিজিটালি সংরক্ষণ করা হচ্ছে। একাধিকবার বা অপ্রয়োজনে তেল নেওয়ার প্রবণতা ঠেকাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। প্রথম দিনেই একাধিক চালককে চিহ্নিত করে জরিমানা করা হয়েছে।

মান পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি 
জ্বালানি তেলের মান যাচাই নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। পেট্রোল পাম্প মালিকদের সংগঠন বলছে, বর্তমানে পাম্প পর্যায়ে তেলের মান পরীক্ষা করা হলেও ডিপো পর্যায়ে একইভাবে কঠোর যাচাই করা হয় না। ফলে তেলের মান খারাপ হলে দায় কার ডিপো না পাম্পের তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় তারা প্রথমে ডিপো থেকে তেল সরবরাহের সময় মান পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছেন।

সংগঠনটির দাবি, অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকরা পাম্পে এসে তেলের মান নিয়ে অভিযোগ করেন, যা নিয়ে বিক্রেতা ও ক্রেতার মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। এতে পাম্প মালিকরা অযথা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে তারা মনে করেন। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, একই তেলের নমুনা ডিপো ও পাম্প দুই পর্যায়েই পরীক্ষা করা হলে প্রকৃত সমস্যা কোথায় তা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

মধু খেলে কী ওজন কমে

মধু খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। কেউ কেউ চিনির বিকল্প হিসেবে বদলে মধু খান। নিয়মিত মধু খেলে শরীরের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নানা সমস্যার সমাধান হয়। কারও কারও ধারনা মধু খেলে ওজন কমে। আসলেই কি তাই?

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিশোধিত চিনির পরিবর্তে মধু ব্যবহার করলে ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে। মধু খেলে অতিরিক্ত খিদে লাগার প্রবণতা কমে। যা ওজন কমাতে সাহায্য করে।  প্রতিদিন ১-২ চামচ মধু, বিশেষ করে হালকা গরম পানি বা লেবুর রসের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে পেটের মেদ কমে। সেই সঙ্গে হজমশক্তি উন্নত হয়।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মধু শরীরের ওজন, অ্যাডিপোসিটি( শরীরের চর্বি জমা) এবং বডি মাস ইনডেক্স কমাতে সাহায্য করতে পারে।

এক চামচ মধুতে ক্যালরির পরিমাণ 
এক টেবিল চামচ মধুতে প্রায় ৬৪ ক্যালরি থাকে। এ কারণে এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। সকালে কালি পেটে বা রাতে খাবারের পর মধু খাওয়া বেশি উপকারী।

মধু খাওয়ার সঠিক নিয়ম
অনেকেই ফুটন্ত গরম পানিতে মধু পান। এটা ঠিক নয়। মধু খেতে হবে হালকা গরম পানিতে, লেবুর রস বা আদার রসের সঙ্গে মিশিয়ে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সতর্কতা 
ডায়াবেটিস রোগীদের মধু খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ, মধু রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
মধুতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি শরীরের বিভিন্ন সংক্রমণ এবং জ্বর জাতীয় অসুস্থতা থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

গলা ব্যথা কমায় 
গলা ব্যথা কমাতে হালকা গরম পানিতে লেবুর রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন।  এ পদ্ধতি অনুসরণ করলে কাশি থেকেও আরাম মেলে।

শরীরে শক্তি বাড়ায় 
মধু খেলে শরীর দ্রুত শক্তি ও সতেজতা পায়। এছাড়া, এটি ত্বককে আর্দ্র রাখতে এবং প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতেও দারুণভোবে সহায়তা করে।

বাগদান ও বিয়ে নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন লুবাবা

বিনোদন জগত ছাড়ার পর হঠাৎ করেই নতুন জীবনের খবর দিয়ে আলোচনায় আসেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী সিমরিন লুবাবা। সামাজিক মাধ্যমে ছবি প্রকাশ করে তিনি জানান, ‘আল্লাহ আমাকে একজন দ্বীন শেখার সঙ্গী উপহার দিয়েছেন।” এরপর থেকেই নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে বিয়ের গুঞ্জন।

তবে এবার নিজেই সেই জল্পনার অবসান ঘটালেন লুবাবা। বুধবার ফেসবুকে নতুন একটি ছবি প্রকাশ করে জানান, বিয়ে নয়, বাগদান সেরেছেন তিনি।

বুধবার  প্রকাশ করা ছবিতে বাগদত্তার সঙ্গে  দেখা যাচ্ছে লুবাবাকে। তবে বর বা কনের চেহারাই স্পষ্ট নয়। ফলে প্রকাশ্যে আসেনি পাত্রের ছবি ও পরিচয়।

বাগদান ও বিয়ের বিষয়টি স্পস্ট জানিয়ে লুবাবা লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের দুই পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঘরোয়া পরিবেশে আমাদের বাগদান সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়েই আমাদের বিবাহ সম্পন্ন হবে, ইনশাআল্লাহ।”

সিমরিন লুবাবা। ছবি: ফেসবুক

উল্লেখ্য, প্রায় এক বছর আগে শোবিজ অঙ্গনকে বিদায় জানান সিমরিন লুবাবা। তবে সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত সক্রিয় রয়েছেন তিনি এবং পর্দা প্রথা মেনে নিজের জীবনযাপন তুলে ধরছেন।

সংস্কৃতিমনা পরিবারে জন্ম নেওয়া লুবাবার দাদা ছিলেন প্রখ্যাত অভিনেতা আব্দুল কাদের। তার অনুপ্রেরণাতেই ছোটবেলায় অভিনয়জগতে পথচলা শুরু করেন লুবাবা এবং শিশুশিল্পী হিসেবেই দর্শকদের কাছে পরিচিতি পান।

ল্যাংটার মেলা বন্ধের নির্দেশ খাদেমকে কুপিয়ে জখম

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের বেলতলী এলাকায় হজরত শাহ সোলেমান ল্যাংটার মাজার প্রাঙ্গণে আয়োজিত ১০৭তম ওরশের মেলা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। অনুমতি ছাড়াই মেলা আয়োজন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগে গতকাল বুধবার বিকেল থেকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত সময়ের একদিন আগে সোমবার থেকেই মেলার কার্যক্রম শুরু হয়। পরদিন মঙ্গলবার ওরশ ও মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের দিন মাদক সেবন ও বিক্রিকে কেন্দ্র করে মেলায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় দুর্বৃত্তদের হামলায় মাজারের প্রধান খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়া গুরুতর জখম হন।

তাঁকে উদ্ধার করে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জবীর হুসাইন সানীব সমকালকে বলেন, মেলা আয়োজনের জন্য প্রশাসনের কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। তাই গতকাল বুধবারের মধ্যেই মেলার কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং নির্দেশনা জানিয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই মেলা আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় মেলা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবন, জুয়ার আসর এবং চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে। কিছু স্থানে নারী-পুরুষের যৌথ অশ্লীল নৃত্যসহ অনিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ড চলে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়গুলো আমলে নিয়ে মেলা বন্ধের দাবিতে চাঁদপুর জেলা জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম নামে একটি সংগঠন স্থানীয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে।
মতলব উত্তর থানার ওসি মো. কামরুল হাসান বলেন, হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বেলতলী লঞ্চঘাট থেকে সাদুল্ল্যাপুর মোড় পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মেলা বসেছিল। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থী এতে অংশ নেন।

গণভোট বাস্তবায়নে গড়িমসি করলে বিএনপিকে বড় মাশুল দিতে হবে

গণভোটে দুই-তৃতীয়াংশ মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায়কে সম্মান জানিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠনের নেতারা। তাদের মতে, গণভোট কার্যকর হলে দেশের অনেক জটিল সমস্যার সমাধান সম্ভব। তবে এ প্রক্রিয়ায় গড়িমসি করলে বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে বড় মাশুল দিতে হতে পারে।
গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘ত্রয়োদশ নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা: দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা কি গণভোট বাস্তবায়নের অন্তরায়?’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি এ আয়োজন করে।

আলোচনায় এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, দলটির মধ্যে এক ধরনের রাজনৈতিক হীনম্মন্যতা কাজ করছে। বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে না। এমন আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলই অতীতে জাতির সঙ্গে বেইমানি করেছে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ও সংখ্যালঘু ভোটের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। তবে দলটির রাজনীতি এখন আর আগের মতো এক্সক্লুসিভ নয়। অতীতে সংবিধান ও আওয়ামী লীগের প্রশ্নে সঠিক অবস্থান নিতে না পারার কারণে জিয়াউর রহমানকে মূল্য দিতে হয়েছিল। বিএনপি একই পথে হাঁটছে বলেও মন্তব্য করেন এ নেতা।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও জামায়াত নেতা শিশির মনির বলেন, সংবিধানে নির্দিষ্ট কোনো তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা নেই। বিএনপি নিজেই তপশিলে সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠনের কথা বলেছিল। অথচ এখন তারা সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। এখন ঐকমত্য কমিশনের সাংবিধানিক ভিত্তি কোথায়?
তিনি আরও বলেন, বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে এবং গণভোটের পক্ষে প্রচারণাও চালিয়েছে। কিন্তু এখন দলটির অবস্থান অস্পষ্ট।
আইনজীবী আবু হেনা রাজ্জাকী দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নানা দাবিতে আন্দোলন হলেও এখন সেগুলোর আর কোনো প্রতিফলন নেই। তিনি জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ তুলে সরকারের বক্তব্য ও বাস্তবতার মধ্যে দ্বিচারিতার অভিযোগ করেন।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, সংবিধানের দোহাই দিয়ে গত ১৭ বছরে জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে। সাম্প্রতিক পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী হয়েছে বিএনপি; কিন্তু দলটি সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেয়নি। গণভোট উপেক্ষা করলে দলটির জন্য তা চরম মূল্য বয়ে আনতে পারে।
ভয়েস ফর রিফর্মের উদ্যোক্তা ফাহিম মাসরুর বলেন, জুলাই সনদে এমন কিছু নেই, যা বিএনপির ক্ষমতার জন্য হুমকি হতে পারে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইনজীবী ইমরান সিদ্দিকী, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাভেদ রাসিন প্রমুখ।

সংবিধান সংস্কার না হলে আন্দোলন: বিরোধী দল

গণভোটের ফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার না করলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। নিজের তোলা মুলতবি প্রস্তাবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না পাওয়ার অভিযোগ তুলে গতকাল বুধবার সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধী জোট।

সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, সংসদ বর্জন নয়, ওয়াকআউট করেছি। সংসদে বিরোধী দল ফিরবে কিনা, তা বৃহস্পতিবার (আজ) দেখা যাবে। তিনি বলেন, আন্দোলন ছাড়া আমাদের করার আর কী আছে? আইনমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বক্তব্য বিকৃতির অভিযোগ করে তিনি জানান, ১১ দলের বৈঠকে আন্দোলনের কর্মসূচি ঠিক করা হবে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিএনপি গণভোটের প্রস্তাব করেছে; কিন্তু সরকারে আসার পর গণভোটের রায় বাস্তবায়ন থেকে সরে গেছে। সংবাদ সম্মেলনে এ সময় এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এমপি পীরজাদা হানজালা উপস্থিত ছিলেন।

বিরোধীদলীয় নেতার মুলতবি প্রস্তাবের ওপর মঙ্গলবার সংসদে আলোচনা হয়। তাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ‘বিশেষ সংবিধান সংশোধন কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব করেন। বিরোধীদলীয় নেতা সরকারি এবং বিরোধী দল থেকে সমান সদস্য নিয়ে ‘সংবিধান সংস্কার কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব করেন। আইনমন্ত্রী এর বিরোধিতা করে বক্তব্য রাখেন।

শফিকুর রহমান গতকাল সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বক্তব্য বিকৃত করার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কার চায়। গণভোটে জনগণ সংবিধান সংস্কার চেয়েছে। সংবিধান সংশোধন কমিটি বিরোধী দল মেনে নেয়নি।

গতকাল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বের পর বিরোধী দল প্রস্তাবটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত চায়। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, স্পিকার জানিয়েছেন, অতীতে মাত্র তিনটি মুলতবি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। বিরোধী দলের মুলতবি প্রস্তাব মঙ্গলবারের আলোচনায় শেষ হয়েছে। স্পিকার তাদের ওয়াকআউট না করার অনুরোধ করেছিলেন।

স্পিকারের অনুরোধের পরও জামায়াত-এনসিপি জোট কেন ওয়াকআউট করেছে– এ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, গণভোটের রায় সংসদে যেহেতু কার্যকর করতে পারলাম না, তাই জনগণের দাবি জনগণের কাছে নিয়ে যাব।

স্বতন্ত্র এমপি শেখ মুজিবুর রহমানের পর বিএনপির এমপি জয়নুল আবদিন ফারুক গতকাল জুলাই সনদের ওপর মুলতবি প্রস্তাব আনেন। ৫৩ বছরের সংসদীয় ইতিহাসে এবারই প্রথম সরকারি দল মুলতবি প্রস্তাব আনল। এর ওপর আগামী রোববার আলোচনা হবে বলে স্পিকার সময় নির্ধারণ করেন।

শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের অভিপ্রায় চাপা দিতেই এই নোটিশটি আনা হয়েছে। এটারও প্রতিবাদ করেছি।

শফিকুর রহমান গতকাল পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ওয়াকআউটের ঘোষণা দিয়ে বিরোধী সদস্যদের নিয়ে সংসদ কক্ষ থেকে বের হয়ে যান। এর আগে সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিন ১২ মার্চ রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করেছিল বিরোধী দল।

জামায়াত আমির বলেন, বিএনপির পক্ষে যিনি ঐকমত্য কমিশনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তিনি গণভোটের প্রস্তাব করেছিলেন। জামায়াতসহ অন্যান্য দল এতে সমর্থন করেছিল। বিএনপিও গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচার চালিয়েছিল। বিরোধী দলের মুলতবি প্রস্তাবের পর বাধার মুখেও ডেপুটি স্পিকার নোটিশটি আমলে নেন।
অতীতের গণভোটের নজির দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, আগে তিনটি গণভোটের ফল মান্য করা হয়েছে। সংসদে এবারের গণভোটের সমাধান চেয়েছিলাম। গণভোটের রায় কীভাবে কার্যকর করা যায়, চেষ্টা করেছিলাম।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জুলাই সনদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সরকারি দল নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। এটা তাদের ব্যাপার। জনগণ গণভোটে জুলাই আদেশ অনুমোদন করেছে। সংসদে যেহেতু পারলাম না, জনগণের দাবি জনগণের কাছে নিয়ে যাব।

এর আগে অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বের পরপরই বিরোধীদলীয় নেতা পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আগের দিনের মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে কথা বলেন। ওই দিনের আলোচনার শেষ বক্তা আইনমন্ত্রীর বক্তব্য খণ্ডন করেন। গণভোট ও গণভোটের আলোকে যে পরিষদ গঠন হওয়ার কথা ছিল, তার সভা আহ্বানের বিষয়টি ছিল নোটিশে। প্রত্যাশা করেছিলাম সংসদে প্রতিকার পাব।

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের ৫৩ বছরের সংসদীয় ইতিহাসে মাত্র তিনটি মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। বছরের পর বছর চলে যায় সংসদে কোনো মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ হয় না। তার পরও প্রাণবন্ত আলোচনার জন্য ডেপুটি স্পিকার মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ করেছিলেন। আরেকটি নোটিশ এসেছে, বিরোধী দল সেখানে কথা বলার অবারিত সুযোগ পাবে।

স্পিকারের বক্তব্যের পর আবারও ফ্লোর নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা প্রতিকার চেয়েছিলাম। যে বিষয়ে নির্বাচনের আগে সবাই একমত হয়েছিলাম। এর সপক্ষে কথা বলেছি, প্রচার করেছি। বিরোধী দলে বসে এখন এর অবমূল্যায়ন মেনে নিতে পারি না। এর প্রতিবাদে আমরা ওয়াকআউট করছি।

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতাকে উদ্দেশ করে স্পিকার বলেন, ওয়াকআউট আপনাদের অধিকার। আরেকটি নোটিশ রয়েছে, সেখানে মন খুলে আরও কথা বলতে পারবেন। তার পরও যদি ওয়াকআউট করতে চান, একটু অপেক্ষা করে দেখতে পারেন।

বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিরোধী দলের নোটিশের সময়ই আপত্তি উত্থাপন করেছিলাম। উভয় পক্ষে বিতর্ক হয়েছে। সুতরাং আলোচনার পর নিষ্পত্তি কী হবে– সেজন্য ভোটাভুটি দেওয়ার কোনো বিধান নেই।

সরকারি দলের পক্ষে নোটিশ দিয়ে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ত্যাগ ও লড়াইয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বে জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের ফসল জুলাই সনদ। যা ভবিষ্যতের পথরেখা।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের পরাজয় নিশ্চিত, বলছে ৮০ থিংকট্যাংক

ইরানে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের লক্ষ্য অর্জনে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে- বিশ্বের প্রধান ৮০টি থিংকট্যাংক বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি। সংবাদমাধ্যমটির ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’ গত এক মাসে প্রকাশিত এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এ কথা জানিয়েছে।

গবেষণায় ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কেন পিছিয়ে-বিশ্লেষকরা এমন পাঁচটি বিষয় মূল স্তম্ভ হিসেবে ধরেছেন। এগুলো হলো—

১. প্রযুক্তিগত বনাম কৌশলগত জয়: সামরিক প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ‘ট্যাকটিক্যাল’ বা কৌশলগত কিছু আঘাত হানতে পারলেও ‘স্ট্র্যাটেজিক’ বা রণকৌশলগত দিক থেকে তারা ব্যর্থ।

২. ইরানের প্রতিরোধ: রাজনৈতিক ব্যবস্থা উপড়ে ফেলা, ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ধ্বংস করা বা দেশটিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার যে লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ছিল, তা অর্জনে বাধা দিতে সক্ষম হয়েছে তেহরান।

৩. হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ: ইরান বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ‘অপ্রতিসম যুদ্ধ’ চালিয়ে যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রেখেছে। বিশেষ করে, হরমুজ প্রণালি দখল এবং সেটি পুনরায় সচল করতে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের ব্যর্থতা ইরানের হাতকে শক্তিশালী করেছে।

৪. ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধ: বর্তমানে যুদ্ধটি একটি ‘ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে’ পরিণত হয়েছে, যেখানে সময় যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের চেয়ে ইরানের পক্ষেই বেশি কাজ করছে।

৫. যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থানের পথ: যুদ্ধ থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে হয় একটি ‘প্রচারণামূলক বিজয়’ দেখাতে হবে, নতুবা কোনো জয় ছাড়াই যুদ্ধ শেষ করতে হবে।

তাসনিম নিউজের গবেষণায় মোট ৮০টি থিংকট্যাংককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২২টি—ব্রুকিংস, কার্নেগি, সিএফআর, র‍্যান্ড, সিএসআইএস, হেরিটেজ ফাউন্ডেশন, আটলান্টিক কাউন্সিলহ বাকিরা।

যুক্তরাজ্যের আটটি—চ্যাথাম হাউস, আইআইএসএস, রুসি, পলিসি এক্সচেঞ্জ ইত্যাদি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য ১৮টি—ব্রুগেল, ইফরি, সিইপিএস, এসআইপিআরআই, জার্মান মার্শাল ফান্ড ইত্যাদি। এশিয়ার ৯টি—চীনের সিআইসিআইআর, ভারতের ওআরএফ, জাপানের জেআইআইএ, দক্ষিণ কোরিয়ার কেডিআই ইত্যাদি। এ ছাড়া ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপসহ ১৪টি আন্তর্জাতিক সংস্থা রয়েছে।

এ ছাড়া কানাডা (২), অস্ট্রেলিয়া (৩), ল্যাটিন আমেরিকা (১) ও আফ্রিকার (৩) শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো এই তালিকায় রয়েছে।

গবেষণায় ব্রুকিংস, কার্নেগি, চ্যাথাম হাউস, সিএসআইএস, র‍্যান্ড, এসআইপিআরআই, ইউরেশিয়া গ্রুপ ও হাডসন ইনস্টিটিউটের মতো প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইরান অত্যন্ত সুকৌশলে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। সামরিক শক্তি প্রয়োগের পরও কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনই যুদ্ধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সেই জায়গায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আটকে দিতে পেরেছে ইরান।

ইরান থেকে ‘শিগগির’ই বের হবে যুক্তরাষ্ট্র, প্রয়োজনে আবার ফিরবে: ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধ থেকে শিগগিরই বের হয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে প্রয়োজন পড়লে আবার ফিরে এসে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান ট্রাম্প। এর আগে, গত মঙ্গলবার ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করা প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। সেখানে ‘শিগগিরই’ বোঝাতে একটি সময়সীমা তুলে ধরেন তিনি। সেটি হলো, দুই সপ্তাহের মধ্যে, হয়তো দুই অথবা তিন।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর ট্রাম্প একাধিকবার যুদ্ধ শেষ করার কথা বলেছেন। একই সময়ে যুদ্ধের পরিধি বাড়াতে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনও করছেন। তাই প্রশ্ন উঠেছে, ট্রাম্প আদৌ তাড়াতাড়ি যুদ্ধ শেষ করবেন কিনা? গত সপ্তাহে তার দেওয়া একটি বক্তব্যও সামনে এসেছে। তিনি বলেছিলেন, ‘ট্রাম্পের সময়ে এক দিনের কোনো সীমা নেই। দুই সপ্তাহের মধ্যে, হয়তো দুই অথবা তিনও লাগতে পারে।’

জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকায় এ যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার উপায় খুঁজে বের করতে চাপে আছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ–সংক্রান্ত পরবর্তী পদক্ষেপগুলো তুলে ধরতে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় বুধবার রাত ৯টায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।

রয়টার্সকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তার ভাষণের একটি দিক হবে ন্যাটোর প্রতি তাঁর চরম অসন্তোষ প্রকাশ করা। তার মতে, ইরানে মার্কিন লক্ষ্য অর্জনে এই জোটের পক্ষ থেকে সমর্থনের অভাব রয়েছে। ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তিনি ‘অবশ্যই’ বিবেচনা করছেন বলে জানান। ১৯৪৯ সালে মার্কিন সিনেটে এই জোটের অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের যখন দরকার পড়ল, তখন তারা বন্ধুর পরিচয় দেয়নি। আমরা কখনো তাদের কাছে খুব বেশি কিছু চাইনি…এটা সব সময় একতরফা ছিল।’

যুক্তরাষ্ট্র কখন ইরান যুদ্ধ শেষ বলে বিবেচনা করবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আপনাকে নির্দিষ্ট করতে বলতে পারব না…আমরা খুব দ্রুতই সরে আসব।’

জরিমানার প্রতিবাদে সিলেটের সকল পেট্রোল পাম্প বন্ধ ঘোষণা

জরিমানা ও হয়রানির অভিযোগে সিলেটে সব ধরনের পেট্রোল পাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট বিভাগের সকল পাম্প বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন জ্বালানি ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউশন এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি জুবায়ের আহমেদ চৌধুরী সমকালকে জানিয়েছেন, সিলেটে জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলেও তুচ্ছ অজুহাতে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। বিশেষ করে ছয়টি পেট্রোল পাম্পকে জরিমানা করা হয়েছে। সংকটের মধ্যে এসব জরিমানা না করলে চলতো।

তিনি জানান, অন্যায়ভাবে জরিমানা করা এবং পাম্পগুলোতে ট্যাগ অফিসার বসানো, বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ঘনঘন হিসাব নেওয়ার প্রতিবাদে তারা তেল বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সিলেট বিভাগের সিএনজি ও এলপিজিসহ কোনো পাম্পই মালিকদের পক্ষে পরিচালনা করা সম্ভব নয় দাবি করে সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন আহমেদ জানান, সরকারের প্রতিনিধিরা চাইলে পাম্প চালাতে পারেন, এতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। মূলত প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও জরিমানাকে ‘হয়রানি’ হিসেবেই আমরা দেখছি।

তারা জানিয়েছেন, বুধবার রাতে এসব বিষয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও কোনো ফলাফল আসেনি। ফলে রাতেই তারা বৈঠক করে পেট্রোল পাম্প মালিকদের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে কর্মসূচি চলবে।

রেলের গতি ধীর, উন্নতি নেই প্রাথমিক ও গণশিক্ষায়

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের গতি খুবই ধীর। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে উন্নতি নেই। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অবস্থাও বিশেষ ভালো নয়। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গত আট মাসে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পাওয়া ১৫ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে এডিপি বাস্তবায়নে এই তিনটিই সবচেয়ে পিছিয়ে আছে। এ রকম আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বাস্তবায়ন দুর্বলতায় চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাস শেষে এডিপিতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৩০ দশমিক ৩১ শতাংশ। এ অবস্থায় শেষ ৪ মাসে বরাদ্দের বাকি ৬৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ বাস্তবায়ন করা অনেকটা অসম্ভব বলেই মনে করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) এডিপি বাস্তবায়নের  হালনাগাদ প্রতিবেদন গতকাল বুধবার প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, গত আট মাসে এডিপির বিভিন্ন প্রকল্পের বিপরীতে মোট ব্যয় করা সম্ভব হয়েছে ৬৩ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা। গত ২০২৪-২৫ অর্থছরের একই সময়ে যা ছিল ৬৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকারও বেশি।

অবশ্য একক মাসের হিসাবে গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাস্তবায়নের হার আগের অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় বেড়ে হয়েছে ৬ দশমিক ১১ শতাংশ। মাসটিতে ব্যয় করা সম্ভব হয়েছে ১২ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই মাসে ছিল সাত হাজার  ৬৭৬ কোটি টাকা।

গুরুত্ব বিবেচনায় সরকার প্রায় প্রতিবছরই এই ১৫ মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়ে থাকে। এই অর্থবছর এ রকম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে মোট এডিপি বরাদ্দের ৭১ শতাংশ দেওয়া হয়েছে। আইএমইডির প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, এডিপি বাস্তবায়নে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ব্যয় মাত্র ২০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এই মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ রয়েছে মোট এডিপির ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ। ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৬৭২ কোটি টাকা। মোট বরাদ্দ আছে আট হাজার ৫৪ কোটি টাকা। ছয়টি প্রকল্পের বিপরীতে এই বরাদ্দ রয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রায়ই একই ধরনের বাস্তবায়ন পরিস্থিতি ছিল মন্ত্রণালয়টির।

প্রায় একই গতি রেলের। আট মাসে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ব্যয়ের হার ২০ দশমিক ৭৯ শতাংশ। ব্যয়ের পরিমাণ এক হাজার ২৪ কোটি টাকা। মন্ত্রণালয়টির জন্য বরাদ্দ রয়েছে চার হাজার  ৯২৪ কোটি টাকা। সাতটি প্রকল্পের বিপরীতে এই বরাদ্দ পেয়েছিল রেলপথ মন্ত্রণালয়।

সর্বাধিক বরাদ্দপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর অন্যতম স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এডিপি ব্যয়ের হার ২১ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। আট মাসে ব্যয় করা গেছে মাত্র ৬৬০ কোটি টাকার মতো। মোট বরাদ্দ রয়েছে তিন হাজার ১২৮ কোটি টাকারও বেশি। ১৮টি প্রকল্পের বিপরীতে এই বরাদ্দ রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের।

পরিকল্পনা কমিশন এবং আইএমইডির কর্মকর্তারা বলেন, সাম্প্রতিক নানা কারণে এডিপি বাস্তবায়নের গতি এত ধীর। প্রধান কারণ বাস্তবায়নে অদক্ষতা। এ ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা ছিল। নতুন পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ও বিধিমালাও অন্যতম কারণ হতে পারে। এখন শতভাগ টেন্ডার ইজিপির আওতায় আনা হচ্ছে। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধানে সময় লাগছে। নতুন ও বিধিমালা অনুমোদন প্রক্রিয়ার সময়টাতে সরকারি ক্রয় বন্ধ রেখেছিল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।