Home Blog Page 177

র‌্যাবের ডিজি হলেন হাবীব এসবি প্রধান নুরুল আমিন

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ও পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে সরকার। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশকে র‌্যাব মহাপরিচালক, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নুরুল আমিনকে এসবি প্রধান, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে সিআইডির প্রধান এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজকে এপিবিএন প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানা যায়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন উপসচিব তৌছিফ আহমেদ।
মো. আহসান হাবীব পলাশ চট্রগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি পিবিআইতে কাজ করেন। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে তিনি পদোন্নতি বঞ্চিত ছিলেন তিনি। আহসান হাবীব পলাশ ১৫তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা।
বাগেরহাটের বাসিন্দা অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নূরুল আমিন ১৫তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা। তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে (এইচআরএম ও ডেভেলপমেন্ট) কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সাবেক এই শিক্ষার্থীর মাঠপর্যায়ে অপারেশন পরিচালনায় দক্ষতা রয়েছে।
মোসলেহ উদ্দিন আহমদ পুলিশ সদর দপ্তরে লজিস্টিকস্ অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন শাখায় দায়িত্ব পালন
করছিলেন। তিনি ২০২৫ সালের মে মাসে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পদোন্নতি ও পদায়ন পান। তিনি ১৫তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা। তিনি সে সময় ডিএমপিতে ডিসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। একজন সৎ, দক্ষ ও যোগ্য পুলিশ অফিসার হিসেবে বাহিনীতে তার সুনাম রয়েছে। খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় জন্ম মোসলেহ উদ্দিনের।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজকে এপিবিএন প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সিআইডি প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহকে পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
আরেক প্রজ্ঞাপনে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি মো. আশরাফুর রহমানকে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (চলতি দায়িত্বে) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পৃথক প্রজ্ঞাপনে এসবির অতিরিক্ত আইজিপি জি এম আজিজুর রহমানকে রাজশাহীর সারদার বিপিএর প্রিন্সিপাল হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

র‌্যাব ডিজি ও এসবিপ্রধানের বিদায় সংবর্ধনা
বাংলাদেশ পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাব মহাপরিচালক (গ্রেড-১) এ কে এম শহিদুর রহমান এবং এসবিপ্রধান (গ্রেড-১) মো. গোলাম রসুল দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে অবসরে গেলেন। তাদের অবসর উপলক্ষে সোমবার বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তরে এক বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির সভাপতিত্ব করেন।
সভায় অতিরিক্ত আইজিপি, ঢাকাস্থ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান এবং পুলিশ সদর দপ্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিদায়ী কর্মকর্তাদের পেশাগত ও ব্যক্তিজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে পুলিশ কর্মকর্তারা স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন।
বিদায়ী দুই অতিরিক্ত আইজিপি তাদের বক্তব্যে জনগণের আস্থা ও সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। তারা পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সহযোগিতার জন্য সকল সহকর্মীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
সভাপতির বক্তব্যে আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনকালে বিদায়ী কর্মকর্তা অত্যন্ত সুনাম ও সফলতার সঙ্গে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করেছেন। তারা বাংলাদেশ পুলিশের উন্নয়নে অনন্য অবদান রেখেছেন। আইজিপি বিদায়ী কর্মকর্তাদের সুখী, সুন্দর ও সমৃদ্ধ অবসর জীবন এবং সার্বিক সুস্থতা কামনা করেন।
এ কে এম শহিদুর রহমান ১৯৯১ সালের ২০ জানুয়ারি সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। অপর বিদায়ী অতিথি মো. গোলাম রসুল ১৯৯১ সালের ২০ জানুয়ারি সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন।

অগ্নিঝরা মার্চ

১৭ মার্চ, ১৯৭১। ‘সংগ্রাম সংগ্রাম সংগ্রাম/চলবেই দিনরাত অবিরাম’- এ রকম অনেক উদ্দীপনামূলক গান টিভিতে প্রচারিত হচ্ছে মার্চের উত্তাল দিনগুলোতে। সে ছিল আশ্চর্য এক জাগরণের কাল। সকল বাঙালির চেতনা স্থির ছিল একটি মাত্র লক্ষ্যবিন্দুতে- যার নাম স্বাধীনতা।
একাত্তরের উত্তাল এই দিনে পাকিস্তানের উর্ধ্বতন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। খোদ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থান করে নিশ্চিত হন এ অংশে কার্যত পাকিস্তানের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। বঙ্গবন্ধুর অঙুলি হেলনেই চলছে সবকিছু। স্বাধীনতার প্রশ্নে বীর বাঙালির অকুতোভয় সংগ্রাম আর রণপ্রস্তুতিতে পাক প্রেসিডেন্টের বুঝতে বাকি থাকে না পাকিস্তানের অখ-তা আর রক্ষা করা সম্ভব নয়।
তাই বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণের পথ নেই পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার। প্রতিটি বৈঠকেই বঙ্গবন্ধু বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতার প্রশ্নে আপোসহীন। ফলে পাকি সামরিক জান্তারা ভেতরে ভেতরে বাঙালি নিধনযজ্ঞ চালিয়ে স্বাধীনতার সংগ্রামকে ভ-ুল করার জঘন্য পরিকল্পনা আঁটতে থাকে। প্রতিদিনই পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য ও অস্ত্র-গোলাবারুদ মজুত করা হয় বাংলাদেশে।
একাত্তরের ১৭ মার্চ ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫২তম জন্মদিন। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সমাজের সর্বস্তরের মানুষ মিছিল করে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাসভবনে গিয়ে তাদের প্রাণপ্রিয় নেতাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। সেদিন দুপুরে ধানমন্ডির বাসভবনে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে আসা স্বাধীনতাকামী বাঙালির উদ্দেশে জন্মদিনের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- ‘আমার জীবনের সবচেয়ে বড় কামনা জনগণের সার্বিক মুক্তি।’
একাত্তরের এই দিন সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দ্বিতীয় দফা বৈঠকে মিলিত হন পাকি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে। বৈঠক প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। কড়া সামরিক প্রহরায় প্রেসিডেন্ট ভবনে এই বৈঠক হয়। এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তৃতীয় কেউ উপস্থিত ছিলেন না। বৈঠক শেষে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের বঙ্গবন্ধু বলেন, আলোচনা এখনো শেষ হয়নি। তবে আলোচনার পরবর্তী সময়ও ঠিক হয়নি। আলোচনা চলছে। লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এর বেশি আর কিছু আমার বলার নেই।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর বঙ্গবন্ধু সরাসরি তাঁর বাসভবনে ফিরে যান। সাংবাদিকরাও বঙ্গবন্ধুকে অনুসরণ করে তার বাসভবন গিয়ে পৌঁছেন। বাসভবনে পৌঁছানোর পর দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের অনুরোধে বঙ্গবন্ধু তাদের সঙ্গে এক ঘরোয়া আলোচনায় মিলিত হন।
এ সময় জনৈক বিদেশি সাংবাদিক বাংলাদেশের নেতাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে জানতে চান, আজ ৫২তম জন্মদিনে আপনার সবচেয়ে বড় কামনা কী? জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেন, জনগণের সার্বিক মুক্তি। অন্য এক প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি জন্মদিন পালন করি না। আমার জন্মদিনে মোমবাতি জ্বালাই না, কেকও কাটি না। বঙ্গবন্ধু আরও বলেন, আমি জনগণেরই একজন। আমার জন্মদিনই কী, আর মৃত্যুদিনই কী! আমার জনগণের জন্যই আমার জীবন ও মৃত্যু। আপনারা জনগণের অবস্থা জানেন। অন্যের খেয়ালে যেকোনো মুহূর্তে তাদের মৃত্যু হতে পারে। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আজকের বৈঠক প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বলেন, আলোচনা চলবে।
বৈঠকে তার চারদফা পূর্বশর্ত নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি-না জানতে চাওয়া হলে বঙ্গবন্ধু বলেন, আমি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছি। আমি যখন আলোচনা করি অবশ্যই আমার দাবির কথাও বলি। আলোচনা ফলপ্রসূ হচ্ছে কি-না প্রশ্নে বঙ্গবন্ধু বলেন, আলোচনা ফলপ্রসূ হচ্ছে, না নিরর্থক হচ্ছে জানি না। তবে জন্মদিনের শুভেচ্ছার জবাবে বঙ্গবন্ধু যে বাঙালির মুক্তির কথা বলেছিলেন, ঠিকই তাঁর নেতৃত্বে মুক্তিপাগল বাঙালি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে ছিনিয়ে এনেছে স্বাধীনতার লালসূর্য।

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী নারী সংগীতশিল্পীর সম্পদের পরিমাণ কত?

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী নারী সংগীতশিল্পীর তালিকায় আবারও শীর্ষে উঠে এসেছেন মার্কিন পপ তারকা টেইলর সুইফট। বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ফোর্বস প্রকাশিত ২০২৬ সালের বিলিয়নিয়ার তালিকা অনুযায়ী, তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে সুইফটের সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলার। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে তার আলোচিত কনসার্ট সিরিজ দ্য ইরাস ট্যুর এবং গানের রয়্যালটি থেকে পাওয়া বিপুল আয়।

ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, সুইফটের গানের স্বত্বের মূল্য বর্তমানে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি তার মালিকানাধীন বিভিন্ন স্থাবর সম্পত্তির বাজারমূল্য প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার।

এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে তিনি তার নতুন অ্যালবাম দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল প্রকাশ করেন। অ্যালবামটি মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই ৪ মিলিয়নের বেশি কপি বিক্রি হয়ে সংগীত জগতে বড় রেকর্ড গড়ে।

এই সাফল্যের জন্য ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুইফট বলেন, অ্যালবামটির পেছনে সমর্থন দেওয়ার জন্য তার ভক্তদের প্রতি তিনি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবেন।

এদিকে ক্যারিয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন এই পপ তারকা। মাত্র ৩৬ বছর বয়সে তিনি সংরাইটার্স হল অব ফেম-এ অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছেন। এতে তিনি এই সম্মান পাওয়া ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ নারীতে পরিণত হবেন।

আগামী ১১ জুন নিউইয়র্ক সিটি-তে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননা দেওয়া হবে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে বাংলাদেশের সিরিজ জয়

পাকিস্তানের বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে ১১ রানের জয়ে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পরও শেষ দিকে ক্যালকুলেটিভ ক্রিকেট খেলতে না পারায় তীরে গিয়ে তরী ডুবায় পাকিস্তান।

রোববার প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ২৯০ রান করে বাংলাদেশ। টার্গেট তাড়ায় ২৭৯ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। সিরিজ নির্ধারণী ওয়ানডেতে ৩০০ বলে ২৯১ রানের টার্গেট তাড়ায় ১৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় পাকিস্তান। এরপর আব্দুল সামাদ ও গাজী গৌরি চতুর্থ উইকেটে ৬৭ বলে ৫০ রানের জুটি গড়েন।

একটা পর্যায়ে ৩ উইকেটে পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৬৭ রান। এরপর মাত্র ১৫ রানের ব্যবধানে গাজী গৌরি ও আব্দুল সামাদকে ১৫ রানের ব্যবধানে ফেরান নাহিদ রানা ও মোস্তাফিজুর রহমান। তখন আবারও চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান।

তবে ছয় নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে মিডলঅর্ডার এবং লোয়ারঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের নিয়ে অবিশ্বাস্য লড়াই করেন সালমান আলি আগা। ষষ্ঠ উইকেটে এই ম্যাচে অভিষেক হওয়া তরুণ ব্যাটসম্যান সাদ মাকসুদের সাথে ৮২ বলে ৭৯ রানের জুটি গড়েন সালমান।

এরপর সপ্তম উইকেটে ফাহিম আশরাফের সঙ্গে ৪৯ বলে গড়েন ৪৮ রানের জুটি। অষ্টম উইকেটে সালমান আলি আগাকে সঙ্গ দেন পাকিস্তানের তারকা পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি। এই জুটিতে তারা ৪৯ বলে ৫২ রানের পার্টনারশিপ গড়েন।

জয়ের জন্য শেষ ১৫ বলে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ৩০ রান। খেলার এমন অবস্থায় তাসকিন আহমেদের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন সালমান আলি। তিনি ৯৮ বলে ৯টি চার আর ৪টি ছক্কায় ১০৬ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে না পারার হতাশা প্রকাশ করে হয়ে মাঠ থেকে সাজঘরে ফেরেন।

সালমান আউট হওয়ার পর ১৪ বলে পাকিস্তানের দরকার ছিল ৩০ রান। ইনিংসের ৪৯তম ওভারে দুই ছক্কা হাঁকিয়ে ১৫ রান আদায় করে নেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। তবে মোস্তাফিজের করা ওভারের শেষ বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন হারিস রউফ।

জয়ের জন্য শেষ ৬ বলে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১৪ রান। বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১টি উইকেট। রিশাদ হোসেনের করা ওভারের প্রথম বল ডট। দ্বিতীয় বলে ক্যাচ তুলে দেন শাহিন আফ্রিদি। তবে ক্যাচ ফেলে দেন বোলার রিশাদ।

জয়ের জন্য ৪ বলে দরকার ছিল ১৪ রান। তৃতীয় বলে ডাবল রান নেন শাহিন আফ্রিদি। শেষ ৩ বলে প্রয়োজন ছিল ১২ রান। চতুর্থ বল ডট। পঞ্চম ডেলিভারি ওয়াইড। ২ বলে দরকার ছিল ১১ রান। পাকিস্তান শেষ দুই বলে কোনো রান নিতে পারেনি। যে কারণে তীরে গিয়ে তরী ডুবায় পাকিস্তান। পাকিস্তান হেরে যাওয়ায় বিফলে যায় সালমান আলি আগার সেঞ্চুরি।

এদিন মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে স্বাগতিকদের প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠায় পাকিস্তান। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করে টাইগাররা। বিনা উইকেটে দলীয় একশ রানের ঘরে পৌঁছায় স্বাগতিকরা।

দলীয় ১০৫ রানে শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন সাইফ হাসান (৩৬)। তবে উইকেটের আরেক পাশে সাবলীলভাবে ব্যাট চালাতে থাকেন তানজিদ হাসান তামিম।

তামিমকে সঙ্গ দিতে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত (২৭) ফেরেন পাকিস্তানি পেসার হারিস রউফের ওভারে। এরপর লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে থাকেন তানজিদ।

অবশেষে ৩৩তম ওভারের শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান তানজিদ তামিম। সেঞ্চুরির জন্য তিনি খরচ করেন ৯৮ বল, ৭টি ছক্কা এবং ৬টি চারের মারে সাজানো ছিল তার এই দারুণ ইনিংস। তবে সেঞ্চুরির পর নিজের ইনিংসটা লম্বা করতে পারেনি এই ওপেনার। ফেরেন ১০৭ বলে ১০৭ রান করেন।

দলীয় ২৬২ রানে ফেরেন লিটন কুমার দাস। তিনি ৫১ বলে এক চার আর এক ছক্কায় ৪১ রান করে আউট হন। তবে পাঁচ নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত খেলে যান তাওহীদ হৃদয়। তার ৪৪ বলের ৪৮ রানের ইনিংসের সুবাদে ২৯০ রান তুলতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।

ঈদের ছুটিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৬ নির্দেশনা

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে হাসপাতালগুলোতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ১৬ দফা নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

একই সঙ্গে দেশের সব সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, লেবার রুম, জরুরি অস্ত্রোপচার, পরীক্ষাগার, ব্লাড ব্যাংক, সিটি স্ক্যান ও এমআরআই সার্বক্ষণিক চালু রাখতে বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনাগুলো হলো– ১. জরুরি বিভাগে প্রয়োজনের অতিরিক্ত চিকিৎসক পদায়নের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

২. জরুরি বিভাগ ও লেবার রুম, ইমার্জেন্সি ওটি, ল্যাব, ব্লাড ব্যাংক, সিটি স্ক্যান ও এমআরআই সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে।

৩. কর্মস্থলে পর্যাপ্ত জনবল ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ঈদের আগে ও পরে সমন্বয় করে জনবলকে পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়া যেতে পারে।

৪. প্রতিষ্ঠান প্রধান নিরবচ্ছিন্ন জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম ও জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ছুটি মঞ্জুর করতে পারবেন। ৫. সিভিল সার্জন ও বিভাগীয় পরিচালককে অবহিত করে ঈদের ছুটিকালে নিজ জেলার মধ্যে অতি প্রয়োজনীয় জনবল সমন্বয় করা যাবে।

৬. হাসপাতালের অন্তবিভাগ ইউনিট প্রধানরা প্রতিদিন তাদের বিভাগীয় কার্যক্রম তদারক করবেন। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি ল্যাব, এক্স-রে সেবা সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অন কল সেবা চালু রাখতে হবে।

৭. ছুটি শুরু হওয়ার আগেই পর্যাপ্ত ওষুধ, আইভি ফ্লুইড, কেমিক্যাল রি-এজেন্ট, সার্জিক্যাল সামগ্রী মজুদ ও তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এক্ষেত্রে স্টোর কিপার অথবা ছুটি চলাকালে দায়িত্ব পাওয়া স্টাফ অবশ্যই নিজ জেলা ও উপজেলায় অবস্থান করবেন। ৮. অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে।

৯. ছুটি চলাকালে হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আগামপত্র দিতে হবে।

১০. ছুটি চলাকালে সব স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপণ বিষয়ক সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

১১. প্রতিষ্ঠান প্রধান ও বিভিন্ন বিভাগের প্রধানরা ছুটিকালীন সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করবেন এবং ঈদের দিন কুশল বিনিময় করবেন।

১২. প্রতিষ্ঠান প্রধান ছুটি নিলে অবশ্যই বিধি অনুযায়ী কাউকে দায়িত্ব দিতে হবে এবং দায়িত্ব গ্রহণকারী কর্মকর্তা সব দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম ও মোবাইল নম্বর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।

১৩. প্রতিষ্ঠান প্রধান ঈদের দিন রোগীদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন তদারকি করবেন এবং রোগীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

১৪. বহির্বিভাগ একাধারে ৭২ ঘণ্টার বেশি বন্ধ রাখা যাবে না। এর ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেবেন।

১৫. ক) বেসরকারি ক্লিনিক/হাসপাতালকে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের অধীনে সার্বক্ষণিক জরুরি ও প্রসূতি বিভাগ খোলা রাখতে হবে।

খ) কোনো রোগী রেফার করার আগে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা এবং যাত্রাপথের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

গ) রেফার্ড রোগীরা যাতে অ্যাম্বুলেন্স পায়, সেজন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে হবে।

১৬. যে কোনো দুর্যোগ, অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুমকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করতে হবে।

ঈদুল ফিতরে কারাবন্দিদের জন্য থাকছে যেসব খাবার

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন কারাগারগুলোও কাটে এক ভিন্ন আবহে। কারাবন্দিদের জন্য এ দিন আয়োজন করা হয় বিশেষ খাবারের। সম্প্রতি কারা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঈদের দিন কারাগারে আটক বন্দিদের সকাল, দুপুর ও রাতে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে।

ঈদের নামাজের জামাতে শরিক হন কারাবন্দিরা। এরপর নির্ধারিত মেন্যু অনুযায়ী সকালে পায়েস বা সেমাই এবং মুড়ি পরিবেশন করা হবে। দুপুরে সাদা ভাত, গরুর মাংস (ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জন্য খাসির মাংস), মুরগির রোস্ট, আলুর দম ও রুই মাছ দেওয়া হবে। এছাড়া, পান ও সুপারিও সরবরাহ করা হবে।

কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, ঈদের আনন্দ কারাবন্দিদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে প্রতিবারের মতো এবারও এমন আয়োজন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের সব কারাগারে বন্দিদের এ বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে।

কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষ্যে বন্দিদের মধ্যে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি এবং তাদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে এ বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হবে।

তাহিরপুরে ইয়াবা ও গাঁজাসহ যুবক আটক, থানায় মামলা

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে মোঃ জিহাদ ইসলাম (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার ১৫ মার্চ  রাত সাড়ে ১১টার দিকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর  থানার এসআই মোঃ রিপন উদ্দিন সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সের সহায়তায় উপজেলার তরং এলাকায় মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় তরং গ্রামের বাসিন্দা মোঃ সামছুল হকের ছেলে মোঃ জিহাদ ইসলামকে সন্দেহজনকভাবে আটক করা হয়।

পরে তার দেহ তল্লাশি করে ১৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৩ পোটলা গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮ হাজার ২০০ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় তাহিরপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে তাহিরপুর থানা পুলিশ সবসময়ই কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

টানা ৭ দিনের ছুটি

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটিতে যাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। ঈদের আগে তাদের শেষ কর্মদিবস আজ (সোমবার)। অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও আজ থেকে ঈদের ছুটি শুরু হচ্ছে।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পূর্বঘোষিত ছুটির পাশাপাশি ১৮ মার্চ অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করার প্রস্তাব গত ৫ মার্চ মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়। এর ফলে সব সরকারি অফিসে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মোট সাত দিন ছুটি থাকবে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। সম্ভাব্য এই তারিখ ধরে আগেই ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এর আগে ১৭ মার্চ পবিত্র লাইলাতুল কদরের ছুটি রয়েছে। এর পরদিন ১৮ মার্চ অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণার ফলে এবার ঈদ উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটি পাওয়া যাচ্ছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৭ মার্চ জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে কার্যবণ্টনের তফশিল অনুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতাবলে নির্বাহী আদেশে এ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

ঘোষিত ছুটির সময়ে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।

তবে জরুরি সেবাগুলো এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ, অগ্নিনির্বাপণ সেবা, বন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা, ডাক সেবা এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত।

এ ছাড়া হাসপাতাল, জরুরি চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মী এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহনও এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। জরুরি কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো খোলা থাকবে।

সরবরাহ কম, দাম বাড়ছে সয়াবিন ও পাম তেলের

দেশের কোনো কোনো জায়গায় সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের (এমআরপি) চেয়েও বেশি দরে ভোজ্যতেল বিক্রি হচ্ছে। পবিত্র রমজান মাসের মাঝামাঝি থেকেই এমন পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, কোনো কোনো জায়গায় পাঁচ লিটারের বোতলের ভোজ্যতেলই পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কেউ কেউ এক বোতলের বেশি বিক্রি করছেন না ভোজ্যতেল। খুচরা বাজারে লিটারে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দামে সয়াবিন তেল কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। স্বপ্ন, মীনা বাজারের মতো চেন শপগুলোতে লেখা রয়েছে, ভোজ্যতেলের মজুত সীমিত এবং এক বোতলের বেশি বিক্রি করা হবে না। এক লিটারের সয়াবিন তেলের বোতলের এমআরপি ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা। আর পাঁচ লিটারের এমআরপি ৯২০ থেকে ৯৫৫ টাকা। গত ৭ ডিসেম্বর থেকে এ দর চলছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, গত এক সপ্তাহে পাঁচ লিটারের এক বোতল সয়াবিন তেলের সর্বনিম্ন দাম ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৯৫০-৯৫৫ টাকায়। খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে বেড়েছে ৭ থেকে ১০ টাকা। বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ১৮৫-১৯৩ টাকা দরে। অন্যদিকে খোলা পাম তেলের দাম বেড়েছে ৬ থেকে ১৩ টাকা, বিক্রি হচ্ছে ১৬৩-১৬৮ টাকা দরে।
ঢাকার নিউ ইস্কাটনে দিলু রোডের গলিতে ১২টি বড় আকারের মুদিদোকান রয়েছে। রমিজ মোল্লা নামের দোকানদার বলেন, ‘ডিলারদের কাছ থেকে আমরা তেল পাচ্ছি না। তাঁদের কাছ থেকে আমাদেরই কিনতে হচ্ছে এমআরপি দরে।’ তিনি বলেন, ‘তেল না থাকলে কাস্টমাররা অন্য দোকানে চলে যান বলে কম লাভ হলেও তেল রাখতে হচ্ছে।’ তাঁর প্রশ্ন, ‘এক বোতল তেল বিক্রি করে ৫ থেকে ১০ টাকা লাভ না থাকলে পোষাবে?’ সোহাগ মিয়া নামের এক ক্রেতাকে রমিজ মোল্লার সঙ্গে ঝগড়া করতেও দেখা গেছে। তিনি বলছিলেন, ‘ছোট-বড় সব ব্যবসায়ীই এক। কোনো না কোনো উসিলায় খালি কীভাবে পাবলিকের গলা কাটা যায়।’
তবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এমআরপির চেয়ে বেশি দামে বিক্রিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে উল্লেখ করলেন। গতকাল সিলেট এলাকার কিছু বাজার ঘোরার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আপনি যে উদাহরণ দিলেন, তা সারা দেশের সাধারণ চিত্র নয়। সিলেটের প্রান্তিক এলাকায় আমি এমআরপি দরেই ভোজ্যতেল বিক্রি হতে দেখেছি। দিলু রোডের গলির এক পাশে চেন শপ স্বপ্ন, আরেক পাশে মীনা বাজার। উভয়টিতেই গিয়ে দেখা যায়, লেখা রয়েছে ‘স্টক সীমিত। সকল গ্রাহকের সয়াবিন তেল কেনার অধিকার নিশ্চিত করতে সাময়িকভাবে প্রতি গ্রাহক সর্বোচ্চ ১ পিস (বোতল) তেল কিনতে পারবেন।’ তবে এমআরপির চেয়ে বেশি দাম রাখা হচ্ছে না এসব শপে। ডিলারদের কাছ থেকে আমরা তেল পাচ্ছি না। তাঁদের কাছ থেকে আমাদেরই কিনতে হচ্ছে এমআরপি দরে।
দিলু রোড থেকে ঢাকার কাওরান বাজারে বিসমিল্লাহ ট্রেডিংয়ে গিয়ে দেখা যায়, এমআরপি দরেই ভোজ্যতেল বিক্রি হচ্ছে। তবে সরবরাহের ঘাটতি রয়েছে। মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ফ্রেশ ব্র্যান্ডের ভোজ্যতেল ছাড়া এ দোকানে কোনো ভোজ্যতেল নেই। ম্যানেজার আবদুর রহমান বলেন, ‘রূপচাঁদাসহ সব কোম্পানির মালই চাচ্ছি। কিন্তু কেউ দিতে পারছে না। ফ্রেশ পেয়েছি, সেটাই বিক্রি করছি।’ সরকারের পক্ষ থেকে ভোজ্যতেলের সার্বিক সরবরাহ পর্যালোচনা বৈঠক হয়েছে ৯ মার্চ। বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানার মালিকেরাও উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) ওই বৈঠকে ভোজ্যতেলের সরবরাহ ও দাম পরিস্থিতি নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরে। এতে ভোজ্যতেলের সরবরাহ ঘাটতির কথা উল্লেখ রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে বলে তাঁরা সরকারের কাছে ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয়ের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু সরকার তাতে কর্ণপাত করছে না।
বৈঠকে জানানো হয়, বর্তমানে সাতটি পরিশোধন কারখানা ভোজ্যতেল ব্যবসায়ে জড়িত। এগুলো হচ্ছে মেঘনা গ্রুপ, টি কে গ্রুপ, সিটি এডিবল অয়েল, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল, বসুন্ধরা মাল্টি ফুড প্রোডাক্টস, স্মাইল ফুড প্রোডাক্টস ও মীর বনস্পতি প্রোডাক্টস। বৈঠকে জানানো হয়, পরিশোধিত ও অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেলের মজুত রয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৯ টন। সাতটির মধ্যে চার কারখানার ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে ৫৫ হাজার ৫০০ টন এবং চার কারখানার ভোজ্যতেল পাইপলাইনে রয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৩৫৩ টন। কারখানাগুলো প্রতিদিন ৯ হাজার ৮৮ টন করে ভোজ্যতেল বাজারে ছাড়ছে এবং ৯ মার্চ পর্যন্ত ১৫ দিনে সরবরাহ করেছে ৫৭ হাজার ৬৪৪ টন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী দেশে ভোজ্যতেলের বার্ষিক চাহিদা ২৪ থেকে ২৫ লাখ টন। স্থানীয়ভাবে শর্ষে ও রাইস ব্র্যান মিলে ভোজ্যতেল উৎপাদন হয় চার লাখ টন।

তারেক রহমানের এক মাসের শাসন: প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবতার পথে…

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একটি নতুন প্রশাসনিক অধ্যায় শুরু হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ  প্রথম কয়েকটি সপ্তাহই ভবিষ্যতের  ইঙ্গিত দিচ্ছে।  তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রথম এক মাসকে অনেক পর্যবেক্ষক একটি প্রাথমিক কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ সময়কাল হিসেবে দেখছেন। নানা পত্র-পত্রিকা ও বিশ্লেষণে এই সময়টিকে মূলত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সূচনা, অর্থনীতি সুরক্ষা এবং প্রশাসনিক স্থিতি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

প্রথমত, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু প্রতীকী কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ লক্ষ্য করা গেছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচি নিয়ে সরকারের দ্রুত উদ্যোগ জনমনে একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুপ করার যুগান্তকারী   উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষা ও কৃষি সহায়তার এই দুই উদ্যোগকে অনেকেই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক নীতির সূচনা হিসেবে দেখছেন।

দ্বিতীয়ত একই সঙ্গে ইমাম ও পুরোহিত ভাতা চালু করার মাধ্যমে ধর্মীয় নেতাদের প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সামাজিক সংহতির একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা লক্ষ করা গেছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি রচনার এই  উদ্যোগ নাগরিক সমাজে আস্থা ও স্বস্তির জন্ম দিয়েছে।

তৃতীয়ত, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় ছিল দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা। বাজার তদারকি, সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নজরদারি এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, তবুও বাজারে আতঙ্ক বা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানোর ক্ষেত্রে সরকারের সক্রিয়তা অনেকের দৃষ্টিতে ইতিবাচক হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে।

চতুর্থত, মধ্যপ্রাচ্য সংক্ট ও বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি ও তেল সরবরাহ সংকট মোকাবেলা ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা এবং সরবরাহ অনিশ্চয়তার মধ্যেও সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উদ্যোগ নিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে করে দেশে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট এড়ানো সম্ভব হয়েছে—যা অর্থনীতি ও পরিবহন ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি তারেক রহমানের অন্যতম কুটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেশ বিদেশে সমাদৃত হয়েছে।

প্রশাসনিক দিক থেকেও ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, নীতি বাস্তবায়নে গতি আনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমন্বয় তৈরি করার দিকে সরকারের মনোযোগ রয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। যদিও এটি সময়সাপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া, তবে প্রথম মাসে এর সূচনা অনেকের কাছে আশাব্যঞ্জক।

এ সময়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভারতের সঙ্গে দাসত্ব ও শত্রুতার পরিবর্তে  দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে নতুন করে যোগাযোগ বাড়ানোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারতের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কূটনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। সেই দিক থেকে এই এক মাসে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা ইতিবাচক সংকেত বহন করে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, তারেক রহমানের শাসনের প্রথম এক মাসকে দেশের সিংহভাগ মানুষ  প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সূচনা, প্রশাসনিক পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক স্থিতি বজায় রাখার প্রচেষ্টার সফল সময়কাল হিসেবে দেখছেন। অবশ্যই এটি একটি দীর্ঘ পথের কেবল শুরু। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়ে একটি সমৃদ্ধ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে উঠুক এটাই সবার প্রত্যাশা।