Home Blog Page 178

কুয়াকাটায় দোকানে হামলা ভাংচুরের ঘটনায় মূল হোতা মাকসুদ গ্রেফতার

কুয়াকাটায় ‘তানিসা আচার ঘর’ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর ও টাকাপয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মাকসুদ আকনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তাকে কুয়াকাটা পৌর এলাকা থেকে মহিপুর থানা পুলিশ গ্রেফতার করে।

বিষয়টি মহিপুর থানার ওসি মো. মহব্বত খান নিশ্চিত করেন। এর আগে পটুয়াখালী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক আতিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে মাকসুদকে দল থেকে বহিষ্কার করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মাকসুদ কুয়াকাটা পৌরসভার নয় নং ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন।

এ ঘটনায় দোকান মালিক মনির হাওলাদার মহিপুর থানায় বৃহস্পতিবার সকালে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। যেখানে মাকসুদ আকন (৩০), মোঃ শাহীন মুসল্লী (২৮), মোঃ রহিমের (৩০) নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টায় অভিযুক্তরা দোকানের ম্যানেজার হাসানকে দোকান থেকে নামতে বলে। এক পর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। দোকানে ভাংচুর চালানো হয়। মালামাল তছনছ করে ক্যাশ থেকে নগদ ২২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। প্রথমে মনির হাওলাদার জরুরি পরিষেবা ৯৯৯ এ কল করেন। দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছলে আসামিরা সটকে পড়েন। তবে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেন, কুয়াকাটা শুন্য পয়েন্টের ওই বিতর্কিত জায়গার মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছিল। যার জের ধরে গতকালকের হামলা ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। সাধারণ ব্যবসায়ীদের মতামত জায়গাজমির বিরোধ থাকতে পারে তাতে একজনের দোকানে প্রকাশ্যে দিনের বেলা সন্ত্রাসী হামলা ভাংচুরের ঘটনা চরম নিন্দনীয়। এ ঘটনায় আইনের সহায়তা নেওয়া যেত।

মহিপুর থানার ওসি মো. মহব্বত খান জানান, এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরবর্তি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

রূপকথার মতো পরীর সংসার

ব্যক্তিগত জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দুই সন্তানকে ঘিরে পরীমনির ছোট্ট পরিবার। ঢাকাই সিনেমার এই চিত্রনায়িকা সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও সংসার প্রসঙ্গে কথা বলেন। সেখানেই এক সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেন, সংসার কেমন কাটছে? প্রশ্ন শুনে হাসতে হাসতেই উত্তর দেন এই অভিনেত্রী। পরীমনি বলেন, পরীর সংসার রূপকথার মতো যাচ্ছে। তার এই কথাতেই যেন ফুটে ওঠে এক ধরনের দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাস।
পরীমনি জানান, সন্তানদের ঘিরেই তার দিন-রাত, ব্যস্ততা আর আনন্দ। পাশাপাশি তার বাসায় আছে একটি পোষা প্রাণী। সেও সংসারেরই এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছে। আর আছে তার প্রিয় নানুভাইয়ের স্মৃতি।
পরীমনির বলেন, দুই বাচ্চা, আমার বাসায় একটা পেট আছে। আর আমার নানু ভাইয়ের স্মৃতি। এই তো, এভাবেই চলছে আমার সংসার।
এদিকে ইতোমধ্যেই ‘ডোডোর গল্প’ নামের একটি সিনেমার শূটিং শেষ করেছেন পরীমনি। এ ছাড়া গত বছরের শুরুতে ‘গোলাপ’ নামের আরেকটি সিনেমার ঘোষণা এলেও এখনো শূটিং শুরু হয়নি। এর বাইরে এই চিত্রনায়িকা বডির মাধ্যমে গর্ভবতী মা এবং নবজাতকদের জন্য লাইফস্টাইল পণ্যের ব্যবসাও করেন তিনি অনলাইনে।

বাসাটির প্রতি মায়া জন্মে গেছে: আসিফ নজরুল

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা হিসেবে আসিফ নজরুল রাজধানীর হেয়ার রোডের যে সরকারি বাসাতে থাকতেন নতুন সরকার দায়িত্বগ্রহণ করায় সেবাসাটি ছাড়ছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে বাসা ছাড়ার কথা তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, বাসাটির প্রতি মায়া জন্মে গেছে।

আসিফ নজরুল লেখেন, আমরা যখন হেয়ার রোডের এই বাসায় উঠি সবার মন খারাপ হয়ে যায়। বেশি বড় জায়গা, বেশি বড় বাড়ি, এত বড় যে আপন ভাবা যায় না ঠিক। সরকারি বাসায় ওঠার কারণে সন্তানদের মন খারাপ হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন, ফুলার রোডের বন্ধুদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল তারা।

তবে এখন হেয়ার রোডের বাসা ছাড়ার সময় এই জায়গার প্রতি মায়া তৈরি হয়েছে বলে লিখেছেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে বলেন, দু-একদিনের মধ্যে আমরা চলে যাবো এই বাসা থেকে। আমার মায়া রোগ আছে। এখন দেখি এই বাসাটার জন্যই অনেক মায়া লাগছে। বিশেষ করে ঝোপঝাড়, রোদ ছায়া, চিলের ডানা আর বিশাল আকাশটার জন্য।

সবশেষে তিনি লেখেন, বিদায় হেয়ার রোড। অন্তর্বর্তী সরকারে আইন উপদেষ্টার পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা এবং পরে ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেন আসিফ নজরুল। তফসিল ঘোষণার দিন থেকে ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পদত্যাগ কার্যকর হলে তিনি ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্ব পান।

রমজানে অ্যাসিডিটি সমস্যা দূর করতে যা খাবেন

রোজায় অনেকেই অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগে থাকেন। বিশেষ করে যারা খাবারের বিষয়ে খুব একটা সচেতন নন, তাদের মধ্যেই এ সমস্যার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকার পর হঠাৎ ভারী ও অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করলে পাকস্থলীতে অস্বস্তি, জ্বালাপোড়া ও গ্যাসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তাই রোজায় অ্যাসিডিটিসহ আরও অনেক স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে দূরে থাকতে চাইলে আপনাকে সবার আগে ইফতার ও সাহরির খাবারের দিকে মনোযোগী হতে হবে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, রমজানে অ্যাসিডিটি সমস্যা দূর করতে যা খাবেন—

দুধ: দুধ হচ্ছে শক্তিশালী উপাদান। আর রোজায় অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকলে দ্রুত দূর করতে পারে দুধ। সে জন্য এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এক গ্লাস ঠান্ডা দুধ একটি কার্যকরী প্রতিকার হতে পারে। আর দুধে রয়েছে পেটের অ্যাসিডকে নিউট্রাল করার ক্ষমতা। এটিই এর কার্যকারিতার মূল চাবিকাঠি। কারণ দুধ ক্যালসিয়াম কার্বনেট, একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড এবং অতিরিক্ত পেটের অ্যাসিডের উৎপাদন কমাতে সাহায্য করে।

ঠান্ডা দুধ পেটের অতিরিক্ত অ্যাসিড কার্যকরভাবে শোষণ করে এবং জ্বালাপোড়া আস্তরণের ওপর প্রশান্তিদায়ক প্রভাব ফেলে, যা অ্যাসিডিটির বদলে প্রশান্তি এনে দেয়। তবে আপনার যদি ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স থাকে তাহলে দুধ না খাওয়াই ভালো।

কল : প্রাকৃতিকভাবে ক্ষারীয় ও পাকস্থলীর অ্যাসিডকে নিউট্রাল করতে সাহায্য করতে পারে কলা। কারণ এতে পটাসিয়াম ও প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড রয়েছে, যা পেটের আস্তরণকে আবৃত করতে সাহায্য করে এবং অ্যাসিডিটির জ্বালাপোড়া কমিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে কলা শ্লেষ্মা উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে এবং পেটের আস্তরণকে অ্যাসিডের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।

এ ছাড়া তীব্র গ্যাস ও অ্যাসিডিটির জন্য ঘরোয়া প্রতিকার হিসাবে কলা রাখুন। প্রতিদিন সেহরি কিংবা ইফতারে একটি পাকা কলা খাওয়ার চেষ্টা করুন। এটি আপনি শুধু এমনিতেই খেতে পারেন, আবার কোনো খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। রমজানে আপনার খাদ্যতালিকায় এ সহজ সংযোজনটি প্রাকৃতিকভাবে পাকস্থলীর অ্যাসিডের মাত্রা ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং স্বাস্থ্যকর হজম বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।

ডাবের পানি: রোজায় যদি আপনি অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগে থাকেন, তাহলে ডাবের পানি পান করুন। আর ইফতারে বাইরে থেকে কেনা ইন্সট্যান্ট শরবতের বদলে বেছে নিন প্রাকৃতিক এ পানীয়টি। কারণ অ্যাসিডিটি নিরাময়ে ডাবের পানি বিশেষভাবে কার্যকরী। ডাবের পানি খেলে পেটে জমে থাকা গ্যাসের সমস্যা দূর হয় সহজেই। এই পানি অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর। সেই সঙ্গে ডাবের পানিতে থাকে উপকারী মিনারেলসও।

প্রতিদিন ইফতারে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত জুস বা কেমিকেলযুক্ত শরবতের বদলে খেতে পারেন ডাবের পানি। এতে রমজানে আপনাকে সতেজ ও শক্তিশালী রাখতেও কাজ করবে ডাবের পানি। সেই সঙ্গে দূর হবে অ্যাসিডিটির মতো সমস্যাও।

প্রথম রোজাতেই চড়া পেঁয়াজের দাম

পবিত্র রমজানের প্রথম দিনেই রাজধানীর বাজারে অস্থির হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের দাম। সরবরাহ সংকট ও চাহিদার অজুহাতে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রমজানের শুরুতেই নিত্যপণ্যের এমন চড়া দামে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল, ধানম-ি কাঁচাবাজার ও রায়েরবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে গত কয়েক দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। রমজান মাসের প্রথম দিনেই প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। আকারে একটু ছোট পেঁয়াজ আবার ৫৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। তবে কোনো দোকানেই ৬০ টাকার নিচে ভালো মানের পেঁয়াজ মিলছে না। পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়তি চাপের মুখে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

পেঁয়াজ বিক্রেতা হাসান মাহমুদ বলেন, আজকে নয়, গত দুই-তিন দিন ধরেই পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। মৌসুমের শেষের দিকে সরবরাহ কমে যাওয়া, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং চাহিদা বাড়ার কারণে বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তির দিকে। রমজানকে কেন্দ্র করে পাইকারি পর্যায়ে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।  খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারে বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে হওয়ায় বাধ্য হয়েই বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। অনেক বিক্রেতা জানান, আগের তুলনায় মোকামে পেঁয়াজের দাম কেজিতে কয়েক দফা বেড়েছে; ফলে খুচরা পর্যায়ে দাম সমন্বয় করা ছাড়া তাদের হাতে বিকল্প নেই।

স্বর্ণের দামে বড় পতন

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ বুধবার সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সেদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

নতুন দামে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৯ হাজার ৭৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ভরি প্রতি ১ লাখ ৭১ হাজার ১১১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজুস জানিয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরি কমবেশি হতে পারে।

এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি স্বর্ণের দাম সমন্বয় করে ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমানো হয়েছিল। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৩০ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় হয়েছে—এর মধ্যে ১৮ বার বেড়েছে এবং ১২ বার কমেছে। গত বছর মোট ৯৩ বার মূল্য সমন্বয় করা হয়েছিল।

অন্যদিকে স্বর্ণের দাম কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপা ভরি প্রতি ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা, ২১ ক্যারেট ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৯০৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম ১৭ বার সমন্বয় হয়েছে—যেখানে ১০ বার বেড়েছে এবং ৭ বার কমেছে। গত বছর রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল মোট ১৩ বার।

ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য বড় দুঃসংবাদ

জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে বিশ্বব্যাপী বাড়ছে বায়ুদূষণ। প্রতিদিনই একটু একটু করে বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে মেগাসিটিগুলো। আর এ তালিকায় সামনের দিকের এক নাম ঢাকা। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বায়ুমান উদ্বেগ ছড়াচ্ছে বেশ কয়েক বছর ধরেই। মাঝে একটু নিয়ন্ত্রণে এলেও শহরটিতে আবারও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে বায়ুদূষণ।

এই ধারাবাহিকতায় আজ শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ‘বিপর্যয়কর’ অবস্থায় চলে গেছে ঢাকার বাতাস। এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহরটির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর দেখা গেছে ৩২২।

একই সময়ে ঢাকা থেকে বায়ুদূষণে ওপরে ছিল শুধুমাত্র পাকিস্তানের লাহোর। বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় প্রথম স্থানে অবস্থান করা শহরটির স্কোর ৪০৪।

এদিকে, তালিকার তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতের কলকাতার একিউআই স্কোর ২১২। তালিকার চতুর্থ স্থানে আছে ভারতেরই আরেক শহর দিল্লি; বায়ুমান স্কোর ২০৮। এছাড়া, ১৬৯ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে কাতারের দোহার। স্কোরের বিচারে এই তিন শহরের বায়ুমান খুব অস্বাস্থ্যকর।

একটি শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, তার লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক জানিয়ে থাকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ার। প্রতিষ্ঠানটির মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো বলে বিবেচিত হয়।

আর একিউআই স্কোর ৫১ থেকে ১০০ হলে সেটাকে মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়। সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।

২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। এ ছাড়া ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

ঢাকার বর্তমান একিউআই স্কোর ৩২২ হওয়ায় নগরবাসীর জন্য তা চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ভোরে যারা প্রাতঃভ্রমণে বের হন অথবা কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য রাস্তায় নামেন, তাঁদের শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে বিষাক্ত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা ফুসফুসে প্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, শুষ্ক মৌসুমে নির্মাণকাজের ধুলোবালি, যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং চারপাশের ইটভাটার দূষণ ঢাকার বাতাসকে এমন বিষাক্ত করে তুলছে। বর্তমানের এই ‘বিপর্যয়কর’ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাড়ির বাইরে মাস্ক ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। শহরের বায়ুমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে সামনের দিনগুলোতে দূষণের এই রেকর্ড আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সমঝোতার ভিত্তিতে ইলেকশন হয় না, হয় সিলেকশন : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

‘সমঝোতার ভিত্তিতে ইলেকশন হয় না’ বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

আজ বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার পোস্টে বলেন, ‘সমঝোতার ভিত্তিতে ইলেকশন হয় না, হয় সিলেকশন।’

প্রসঙ্গত, এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর তিনি অল্প ব্যবধানে পরাজিত হন।

রাজনীতি-কূটনীতির সমীকরণ জামায়াতের উত্থান ঘিরে দিল্লির উদ্বেগ

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির উল্লেখযোগ্য আসন প্রাপ্তি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি ভারতের গণমাধ্যম ও নীতিনির্ধারণী মহলেও বিশ্লেষণের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। সীমান্ত নিরাপত্তা, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক কৌশলগত ভারসাম্যের প্রশ্নে দিল্লিভিত্তিক কিছু সংবাদমাধ্যম সম্ভাব্য নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা বলছে। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবতা আরও জটিল ও বহুস্তরীয়।
একটি দেশকে অন্য একটি দেশ নিয়মবহির্ভূত কোনো কিছু করার অধিকার রাখে না। প্রতিটি দেশই তাদের নিজেদের সরকারের কাছে জবাবদিহিতার মধ্যে থাকলে ভালো হয়। তবে এটাও সত্যি যে কোনো সরকার না চাইলে ভারতীয় মিডিয়াগুলো বাস্তবতা বিবর্জিত যা প্রচার করে সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করা  সরকারের  পক্ষে পুরোপুরি সম্ভব না হলেও কমানোর ব্যবস্থা করতে পারে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যা কম হচ্ছে। তবে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই্ উভয় দেশের সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে দুদেশের মধ্যে জোরাল কূটনৈতিক সম্পর্কের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
ভারতের প্রভাবশালী সাময়িকী ‘ইন্ডিয়া টুডে’ সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে জামায়াতের ভালো ফলাফলকে ভারতের নিরাপত্তা হিসাবের জন্য সম্ভাব্য ‘অস্থিরতার উপাদান’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিশেষ করে অসম ও পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন অঞ্চলে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে তাদের প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ উঠে এসেছে।
একই সুরে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া’। তাদের ভাষ্যে, দুই দশকের বেশি সময় পর জামায়াতের এটি অন্যতম বড় রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন, যা সীমান্ত অঞ্চলে দলটির সাংগঠনিক শক্তি পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দেয়।
নিউজ ১৮ ও অব ইন্ডিয়া’র বিশ্লেষণে দলটির আদর্শিক অবস্থান ও অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস সামনে এনে বিষয়টি উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা প্রেক্ষাপটে দেখা হয়েছে। অন্যদিকে হিন্দুস্তান টাইমস তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ আলোচনায় সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সামাজিক সংহতি, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরেছে। বার্তা সংস্থা এএনআইও বিষয়টিকে আঞ্চলিক ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করেছে। সব মিলিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে আলোচনার মূল সুর, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ভারতের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থে কী প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত প্রায় ৪,০৯৬ কিলোমিটার দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দীর্ঘ স্থল সীমান্ত। লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সাতক্ষীরার মতো জেলা ঐতিহাসিকভাবে সীমান্তপাচার, অনুপ্রবেশ ও সহিংসতার আলোচনায় এসেছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, যাকে ‘সেভেন সিস্টারস’ বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদ ও নিরাপত্তা ইস্যুতে স্পর্শকাতর। ফলে বাংলাদেশের সীমান্ত অঞ্চলে যে কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন দিল্লির নজরে থাকবে-এটি অস্বাভাবিক নয়।
তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত রাজনীতির বাস্তবতা কেবল দলীয় পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে না। প্রশাসনিক সমন্বয়, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও আস্থাভিত্তিক সহযোগিতাই এখানে মুখ্য।
ভারতীয় মিডিয়ার কিছু আলোচনায় জামায়াতের অতীত আদর্শিক অবস্থান ও ১৯৭১পরবর্তী ইতিহাসের প্রসঙ্গ এসেছে। কিন্তু আধুনিক রাষ্ট্রনীতিতে কেবল আদর্শ নয়, কার্যকর নীতি ও প্রশাসনিক আচরণই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলছেন বিশ্লেষকেরা।
গত এক দশকে বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বিদ্রোহ দমনে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করেছে। নিরাপত্তা সহযোগিতার এই ধারাবাহিকতা দিল্লি-ঢাকা সম্পর্কে আস্থার ভিত্তি তৈরি করেছে। রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও এই কাঠামো অব্যাহত থাকবে কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষক ইমতিয়াজ আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, “ভারতীয় গণমাধ্যমে যা বলা হচ্ছে, তা নিয়ে বাংলাদেশের অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। ভারত তাদের দেশে কী বলবে, সেটি তাদের বিষয়। পত্রিকার বিশ্লেষণকে রাষ্ট্রীয় অবস্থান মনে করা ঠিক নয়।”
তিনি আরও বলেন, জামায়াত একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচনে তাদের সাফল্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। “রাজনৈতিক উত্থান-পতন স্বাভাবিক বিষয়। এটিকে ভয় বা আতঙ্কের কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই”।
তার মতে, অনেক সময় নিরাপত্তাসংক্রান্ত মন্তব্য কৌশলগত বার্তার অংশও হতে পারে। উগ্রবাদী ঝুঁকির যে কথা বলা হচ্ছে, তার পক্ষে দৃশ্যমান কোনো প্রমাণ উপস্থাপিত হয়নি।

বিএনপি-জামায়াত সমীকরণ ও দিল্লির কৌশল
বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে ঘিরে দিল্লি বাস্তববাদী কূটনৈতিক অবস্থান নিতে পারে। ভারত ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে দলনির্বিশেষে কাজ করেছে। কৌশলগত স্বার্থ, বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা, নদী ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক সংযোগ এসব ক্ষেত্র দুই দেশকেই বাস্তববাদী হতে বাধ্য করে।
একজন সাবেক কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দিল্লি কখনোই একক কোনো রাজনৈতিক শক্তিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি নীতি নির্ধারণ করে না। তারা দেখবে নিরাপত্তা সহযোগিতা অব্যাহত থাকে কি না, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কার্যকর থাকে কি না, এবং আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্পগুলো এগোয় কি না।”
তার মতে, রাজনৈতিক বক্তব্যের চেয়ে বাস্তব পদক্ষেপই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। “যদি প্রশাসনিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা সমন্বয় অব্যাহত থাকে, তবে দিল্লির উদ্বেগ ধীরে ধীরে প্রশমিত হবে।”
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলার। বিদ্যুৎ আমদানি, ট্রানজিট সুবিধা, রেল ও সড়ক সংযোগ, সমুদ্রবন্দর ব্যবহার এসব খাতে পারস্পরিক নির্ভরতা ক্রমেই বাড়ছে। উপ-আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্প ও জ্বালানি সহযোগিতাও দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত গভীরতা দিয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও নীতি বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক সম্পর্ক যত গভীর হয়, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের প্রভাব তত সীমিত হয়ে আসে। বাস্তব অর্থনৈতিক স্বার্থই শেষ পর্যন্ত সম্পর্কের গতি নির্ধারণ করে।
চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

বর্তমান প্রেক্ষাপটে ঢাকা ও দিল্লির সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে সীমান্ত নিরাপত্তা সমন্বয় জোরদার করা, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও মানবাধিকার ইস্যুতে স্বচ্ছতা বজায় রাখা, মিডিয়া বয়ান ও সরকারি কূটনীতির মধ্যে ভারসাম্য রাখা এবং আস্থা বৃদ্ধিমূলক পদক্ষেপ জোরদার করা।
বিশ্লেষকদের মতে, গণমাধ্যমের বক্তব্য অনেক সময় রাজনৈতিক বার্তা বহন করে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক নির্ধারিত হয় কূটনৈতিক চ্যানেলে। প্রতিবেশী দেশের উদ্বেগ অস্বাভাবিক নয়; তবে তা একতরফা ব্যাখ্যা বা চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে সমাধানযোগ্য নয়।
অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত, নিজস্ব স্বার্থ ও উন্নয়ন অগ্রাধিকার সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়া। কে কী বলল, সেটিতে অতিরিক্ত মনোযোগ দিলে কৌশলগত ফোকাস নষ্ট হয়।”
ঢাকা ও দিল্লির সামনে এখন বড় দায়িত্ব আদর্শিক বিভাজনের বাইরে গিয়ে বাস্তববাদী কূটনীতি জোরদার করা। নিরাপত্তা সহযোগিতা, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি- এই তিন স্তম্ভই হতে পারে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যে কোনো রাজনৈতিক শক্তির উত্থান অভ্যন্তরীণ বাস্তবতার ফল। সীমান্তের রাজনীতি স্পর্শকাতর হলেও আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নের স্বার্থে দুই দেশের সম্পর্ককে স্থিতিশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ রাখা সময়ের দাবি।
শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রনীতি আবেগ নয়, স্বার্থ ও বাস্তবতার ওপর দাঁড়িয়ে এগোয়। দিল্লির উদ্বেগ ও ঢাকার বাস্তবতার এই সমীকরণ কোথায় গিয়ে স্থির হবে, তা নির্ভর করবে দুই দেশের নেতৃত্বের পরিমিতি, কৌশল ও পারস্পরিক আস্থার ওপর।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিগত সরকার অন্যায়ভাবে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে জেলে দিয়েছিলো, আপনি তাঁকে মুক্তি দিন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিগত সরকার অন্যায়ভাবে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে জেলে দিয়েছিলো, আপনি তাঁকে মুক্তি দিন

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক, ১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬।। সবাই জানে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস (প্রভু) হত্যাকারী নন, তবু তিনি হত্যা মামলায় জেলে, এবং শুধু তাই নয়, প্রধান অভিযুক্ত। প্রথমে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায়, তার এক কর্মী বাংলাদেশের পতাকার ওপর নাকি ইস্কনের পতাকা লাগিয়েছিল, এজন্যে? যখন বোঝা গেলো যে, এ মামলায় তাঁকে ফাঁসানো যাবেনা, তখন এডভোকেট আলিফ হত্যা মামলায় তাঁকে ফাঁসানো হলো। ক’দিন আগে এ মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়, এবং তাঁকে আদালতে তোলা হয়। সেখানে চিন্ময় প্রভু হাতজোড় করে বলেন, ‘ধর্মাবতার, জীবহত্যা করতে হবে বলে আমি মাছমাংস খাইনা, আর আমাকেই দেয়া হলো হত্যা মামলা’।  বিচারক তখন ফ্যালফ্যাল করে তাঁর দিকে তাকিয়ে বলেছেন যে, ‘প্রভু, আমি রাষ্ট্রের চাকুরী করি’। নুতন সরকার ক্ষমতাসীন হচ্ছে, পুরাতন অন্তর্বর্তী সরকারের এ অন্যায় সংশোধন করা দরকার।

এডভোকেট আলিফ হত্যা দু:খজনক, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ফাঁসাতেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়. শোনা যায়, তিনি ভাল লোক ছিলেন। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় প্রভুকে যেদিন চট্টগ্রামে আদালতে তোলা হয়, সেদিনই এডভোকেট আলিফ কোর্ট প্রাঙ্গনে নির্মমভাবে খুন হ’ন। চিন্ময় প্রভু তখন প্রিজন ভ্যানে পুলিশ হেফাজতে ছিলেন। শুধু চিন্ময় প্রভু নন, এই হত্যা মামলায় আরো বেশ ক’জন হিন্দু ছেলে অভিযুক্ত, এঁরা অনেকেই জেলে, কেউ কেউ পলাতক। চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভু’র বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি করেছেন একজন বিএনপি কর্মী, বিএনপি তাঁকে বহিস্কার করেছে। একই দলের একজন প্রার্থী আবু সুফিয়ান বলেছেন, ওই কর্মীকে দিয়ে মামলাটি করিয়েছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। আবু সুফিয়ান নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন কিনা আমার জানা নেই।

ভাবি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কথাবার্তায় ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এটি শুভ লক্ষণ। তার দলের একজন কর্মী চিন্ময় প্রভুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মিথ্যা মামলাটি দিয়েছে, যারজন্যে এই সাধু আজো জেলে পচছেন। যদিও তিনি রাজনৈতিক নন, তবু তাঁর বিরুদ্ধে মামলাগুলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে উৎসারিত। কারণ তিনি হিন্দুদের অধিকার আদায়ে ‘অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। শুধুমাত্র জামাত-এনসিপি ও ধর্মান্ধ গোষ্ঠী ব্যতীত দেশের শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ চিন্ময় প্রভু’র মুক্তি চায়। আশা করি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি সহৃয়তার সাথে বিবেচনা করবেন। আমরা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুর মুক্তি চাই।

মানুষের জন্যে ফাউন্ডেশন নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেছেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মিথ্যা অভিযোগে সংখ্যালঘুদের হত্যা, জুলুম চলছেই, ইউনুস সরকার কি আক্রমণকারীদের দায়মুক্তি দিচ্ছেন? সম্মানিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, আপনি অবগত আছেন যে, ২০১২-এ রামু থেকে বাংলাদেশে ধর্ম অবমাননার অজুহাতে সংখ্যালঘুদের ওপর বারবার আক্রমন হয়েছে, মানুষ হতাহত হয়েছে, বাড়ীঘর পুড়েছে, নারীর সম্ভ্রম লুট হয়েছে। অথচ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ঘটনার সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। দৃষ্টান্ত স্বরূপ রামু ও নাসিরনগর ঘটনা উল্লেখ্য। সর্বশেষ ময়মনসিংহের ভালুকায় দিপু চন্দ্র দাসের নির্মম হত্যাকান্ড আবারো চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, একটি গোষ্ঠী হিন্দুদের যেকোন উপায়ে নির্মূল করতে উদ্যত। এটি বন্ধ হওয়া দরকার। সিএসএ (সাইবার সিকিউরিটি এক্ট) আইনটি হিন্দুদের বিরুদ্ধে ‘ব্লাসফেমী;’ হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার দৃষ্টি আকর্ষন করে আইনটি বাতিলের দাবি জানিয়ে রাখলাম।

তারেক জিয়া সদ্য ক্ষমতাসীন হচ্ছেন, বিশাল দাবি’র ফর্দ নিয়ে তাঁর কাছে হাজির হচ্ছিনা, তবে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভু’র মুক্তি এবং ইসলাম অবমাননার ভুয়া অভিযোগে হিন্দুর ওপর নির্যাতন বন্ধ হওয়া দরকার। বাংলাদেশের ইতিহাসে জেনারেল জিয়া, জেনারেল এরশাদ, বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা’র আমলে বাংলাদেশে হিন্দুরা বারবার নির্যাতিত হয়েছে। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক কর্মীরা নির্যাতিত হয়েছে। সব সরকারের আমলে আমরা দেশে-বিদেশে আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছি। আমরা চাইনা সংখ্যালঘু নির্যাতনকারী হিসাবে তারেক জিয়ার নামটি ওই তালিকায় যুক্ত হোক, অথবা সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে আবার আমরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হই। পুরো বিশ্বে এটি প্রতিঠিত যে, বাংলাদেশে হিন্দুরা নির্যাতিত। এটি দেশের জন্যে অগৌরবের, আপনি পারেন, এথেকে জাতিকে মুক্তি দিতে।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রযন্ত্রটি ‘সাম্প্রদায়িক’ হয়ে গেছে, এটিকে অসাম্প্রদায়িক করা দরকার। ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার দেশে সাম্প্রদায়িকতা চরমভাবে উস্কে দিয়েছে। অনেকেই একথা বলতে পছন্দ করেন যে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু বলতে কিছু নেই, কথাটা সত্য নয়, রাষ্ট্র একটি ধর্মকে প্রাধান্য দেয়, অন্য ধর্মকে মর্যাদা দেয়না, রাষ্ট্রধর্ম থাকলে ‘সংখ্যালঘু’ও থাকবে। অতীতে সকল সরকার জেনেশুনে মিথ্যা বলতেন যে, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চমৎকার দৃষ্টান্ত। তাই যদি হতো তাহলে ২৯৯ আসনের মধ্যে মাত্র ৪জন হিন্দু নির্বাচিত হতেন না? নির্বাচনে বিএনপি ৬জন, জামাত ও এনসিপি ১জন করে মনোনয়ন দিয়েছিলো। এতটা মানসিক দৈন্যতা নিয়ে সম্প্রীতির কথা বলা যায়না। বর্তমান সরকারের কাছে আমরা কাজ চাই, মুখে সম্প্রীতির লেকচার চাইনা। রাষ্ট্রযন্ত্র অসাম্প্রদায়িক হলে ঐসব মিথ্যাচারের প্রয়োজন হয়না। গোষ্ঠী নয়, রাষ্ট্র হোক মানুষের কল্যানে নিয়োজিত।

Shitangsu Ghuho মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি তাঁকে মুক্তি দিন

Honourable Prime Minister,  the previous government had unjustly imprisoned Chinmoy Krishna Das, you should release him

Shitanshu Guha, New York, February 15, 2026. Everyone knows that Chinmoy Krishna Das (Prabhu)  is not a murderer, yet he is in jail in a murder case, and not only that, he is the main accused. First, he was arrested in a sedition case,  because one of his followers’ put the flag of ISKCON on the flag of Bangladesh? When it was understood that he could not be implicated in the case,  he was implicated in the Advocate Alif murder case. A few days ago, charges were framed against him in the case, and he was produced in court, where he said, “me Lord, atar, I don’t eat fish or meat because I don’t believe in killing animals, and even though I have been charged with murder’. The judge then looked at him and said, “Prabhu, I only serve the state.” The new government is about to be sworn in power, Tarique Rahman needs to rectify the wrong doing of the previous interim government.

The murder of Advocate Alif is tragic, he was the victim of a conspiracy,  he was killed in a planned manner to trap Chinmoy Krishna Das. It is  said that Advocate Alif was a good man and he was brutally murdered on the court premises on the same day that Chinmoy Prabhu was produced before the court in Chittagong in the sedition case. Chinmoy Prabhu was in police custody in a prison van at the time. Apart from Chinmoy Prabhu,  several other Hindu boys are also accused in the murder case, many of whom are in jail and some are absconding.  A BNP activist filed the sedition case against Chinmoy Krishna Das Prabhu, later he was expelled by the party. Abu Sufian, who was a candidate of the same party, said  that the BNP worker was forced to file the case by an intelligence agency. I don’t know if Abu Sufyan won the election.

I think there is a positive outlook in Prime Minister Tarique Rahman’s speech, which is a good sign. One of his party workers has filed the false case of sedition against Chinmoy Prabhu, for which Pravu is still languishing in jail. Although he is not a political element, the cases against him stem from political vendetta. Because he was vocal against  the interim government for the rights of the Hindus. Except for Jamaat-NCP (National Citizens’ Party) and fanatical groups, the well-intentioned people of the country want the release of Chinmoy Prabhu. I hope Prime Minister Tarique Rahman will consider the matter with patience. We want the release of Chinmoy Krishna Das Prabhu.

Shaheen Anam, executive director of the NGO “For Human Foundation’, said, “Killing and  persecution of minorities on false allegations of hurting religious sentiments continues, is the Yunus government giving impunity to the attackers? Honorable Prime Minister Tarique Rahman, you are aware that from 2012, there were repeated attacks on minorities in Bangladesh from Ramu on the pretext of blasphemy, people were killed,  houses were burnt and women’s dignity was looted. However, in almost every case, the truth of the matter has not been found. For example, the Ramu and Nasirnagar incidents are worth mentioning. The brutal murder of Dipu Chandra Das at Bhaluka in Mymensingh on 18th December 2025 has once  again shown that a group is determined to eliminate the Hindus by any means necessary. It needs to stop. The CSA (Cyber Security Act) Act is ‘blasphemy’ against Hindus. I ant to draw your attention to this and demand the repeal of the law.

Tarique Zia is just coming to power,  I am not coming to him with a big list of demands, but the release of Chinmoy Krishna Das Prabhu and the persecution of Hindus on false allegations of insulting Islam should be stopped. In the history of Bangladesh, Hindus  have been repeatedly persecuted during the tenure of General Zia, General Ershad, Begum Khaleda Zia and Sheikh Hasina. Opposition political activists have been persecuted. During the tenure of all the governments, we were forced to carry out movements at home and abroad. We don’t want Tarique Zia’s name to be included in the list as a minority persecutor,  or we are forced to take to the streets again to protest against the persecution of minorities. It is well known all over the world that  Hindus are persecuted in Bangladesh. It’s a disgrace to the country, you can  get rid of the nation from it.

The state machinery of Bangladesh has become ‘communal’, it needs to be made non-communal. Dr. Yunus’s interim government has instigated communalism in the country. In Bangladesh government people like to say that there is no such thing as a  minority in Bangladesh, it is not true, the state gives priority to one religion, does not respect other religions, if there is a state religion, there will be  a religious ‘minority’. In the past, all the governments knowingly  lied that Bangladesh was a wonderful example of communal harmony. If that were the case, why would only 4 Hindus be elected out of 299 seats in 2026? In the election, BNP nominated 6 religious minority candidates, Jamaat and NCP 1 each. Harmony cannot be spoken of with so much mental bigotry! We want the present government to effectively work for the religious minorities. We don’t want a lecture on harmony. If the state apparatus is secular, there is no need for such lies. The state should be engaged for all its citizens’, not for a particular religion, or religious group.