Home Blog Page 179

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ট্রাকের পেছনে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ১

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর ফেরিঘাট আন্ডারপাসের উপর মাওয়ামুখী এক্সপ্রেসওয়েেত দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে আরেকটি চলন্ত ট্রাক ধাক্কা দিলে একজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ৪৪ মিনিটের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, ত্রুটি মেরামতের জন্য একটি ট্রাক এক্সপ্রেসওয়েতে থেমে ছিল। এ সময় একই দিকে আসা অপর একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে সামনের ট্রাকের হেলপার আহত হন এবং পিছনের ট্রাকের হেলপার গাড়ির ভেতরে আটকে পড়েন।

খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাইড্রোলিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে আটকে পড়া হেলপারকে উদ্ধার করেন। পরে আহতদের ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

কর্তব্যরত চিকিৎসক ট্রাকচালক শওকত বেপারীকে (২৩) মৃত ঘোষণা করেন। তিনি শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার কাজিরহাট এলাকার দবির বেপারীর ছেলে। আহত ইমরান মন্ডল (২৪) সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার মোড়দহ বাঙ্গাল এলাকার আবদুল আজিজের ছেলে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর প্রায় এক ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকলেও বর্তমানে এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে যে বার্তা দিলেন কনকচাঁপা

দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও দোয়া জানিয়ে আবেগঘন বার্তা প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, আল্লাহ আপনাকে ও আমাদের সম্মানিত করলেন। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল পুরো পৃথিবী আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আপনার মাধ্যমে আমাদের বাংলাদেশকে সুরক্ষিত, আনন্দিত, সুখী, সমৃদ্ধ রাখুন। আমিন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শেষে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

কনকচাঁপা ১৯৬৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জন্ম গ্রহণ করেন। তার দাদা বাড়ী সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে। তবে কনকচাঁপা বেড়ে উঠেছেন ঢাকায়। তার বাবা আজিজুল হক মোর্শেদ। পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে কনক চাঁপা তৃতীয়।

শাহনূর প্যানক্রিয়াস টিউমারে আক্রান্ত, নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন
চলচ্চিত্র, আধুনিক গান, নজরুল সঙ্গীত, লোকগীতি সহ প্রায় সবধরনের গানে তিনি সমান পারদর্শী। বর্তমানে প্লে-ব্যাক সিঙ্গার হিসেবে তিনি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ৩৪ বছর ধরে সংগীতাঙ্গনে সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত তিনি চলচ্চিত্রের তিন হাজারেরও বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। প্রকাশিত হয়েছে ৩৫টি একক গানের অ্যালবাম। চলচ্চিত্রের গান নিয়ে তার সর্বশেষ প্রকাশিত অ্যালবাম ‘আবার এসেছি ফিরে। বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবনূরের প্রায় প্রতিটি গানেই কনকচাঁপা কণ্ঠ দিয়েছেন। তার গান মানেই তুমুল শ্রোতাপ্রিয়।

প্রকৃতির সৌন্দর্যের পাশাপাশি পুষ্টিগুণেও ভরপুর সজনে

মুকসুদপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের পথে-প্রান্তরে সজনে ফুল এখন এক মনোরম দৃশ্য সৃষ্টি করেছে, যা প্রকৃতিতে ভিন্ন মাত্রার রঙ ছড়িয়ে দিচ্ছে। বসন্তের আগমনে প্রকৃতিতে শোভা ছড়াচ্ছে শ্বেতশুভ্র সজনে ফুল। ডালে ডালে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা এই ফুল গ্রামীণ প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার পাশাপাশি এর পুষ্টিগুণেও ভরপুর।

শুধু নান্দনিক সৌন্দর্যই নয়, সজনে একটি উচ্চ পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ও ভেষজ গুণসম্পন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদ। স্থানীয়ভাবে এটি সুস্বাদু সবজি হিসেবেও ব্যাপক জনপ্রিয়। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে রাস্তার পাশে ও বসতবাড়ির আঙিনায় সজনে গাছে সাদা ও হলুদাভ ফুলে ছেয়ে গেছে, যা প্রকৃতিকে করে তুলেছে আরও নয়নাভিরাম।

জানা গেছে, সজনে গাছ খুব অল্প পরিচর্যায় বেড়ে ওঠে।  মুকসুদপুরেও বাড়ির আঙিনা, রাস্তার ধারে, পরিত্যক্ত ও অনাবাদি জমিতে এই গাছ সহজেই জন্মাতে দেখা যায়। কিছু এলাকায় সজনে ফুলের সমারোহে প্রকৃতি হয়ে উঠেছে রঙিন ও প্রাণবন্ত।

সজনে ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ স্থানীয় বাসিন্দারাও। অনেকেই সকাল-বিকাল হাঁটার সময় কিংবা সড়কে যাতায়াতের পথে থমকে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছেন চোখজুড়ানো এই প্রাকৃতিক শোভা। গাছের নিচে ঝরে পড়া ফুল কুড়িয়ে নিচ্ছে শিশু-কিশোররাও।

উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞদের মতে, সজনে একটি ঔষধি গাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম মরিঙ্গা ওলিফেরা। এটি খরা সহিষ্ণু ও গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলের উপযোগী একটি মাঝারি আকৃতির গাছ। থোকায় থোকায় ফুল ফোটার পাশাপাশি এর কাঁচা লম্বা ফল সবজি হিসেবে এবং পাতা শাক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আমাদের দেশে সাধারণত ডাল বা অঙ্গজ প্রজননের মাধ্যমে এর বংশবিস্তার করা হয়।
সজনে ফুলেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ঔষধি গুণাগুণ। এতে থাকা উপাদান ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এ ছাড়া সজনে গাছের ফল, পাতা ও ফুলে রয়েছে ভিটামিন এ, বি১, বি২, বি৩, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

সব মিলিয়ে, বসন্তে ফোটা সজনে ফুল শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়াচ্ছে না, বরং একটি পরিচিত ও উপকারী ভেষজ উদ্ভিদ হিসেবে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সোনার দাম আরও কমলো

দেশের বাজারে সোনার দাম আরও কিছুটা কমানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম কমানো হয়েছে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা। এতে এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা। স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম কমানো হয়েছে। বুধবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে গতকাল সকাল ১০টা থেকে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম কমানো হয় ২ হাজার ২১৬ টাকা।

এই দাম কমানোর ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই এখন আরও কিছুটা কমানো হলো। এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৩ হাজার ৯১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৫৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ২ হাজার ৬৮৩ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ২ লাখ ৯ হাজার ৭৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ১১১ টাকা। এর আগে গতকাল সকাল ১০টা থেকে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ২ হাজার ২১৬ টাকা ।

রমজানে ব্যাংক লেনদেনে নতুন সময়সূচি ঘোষণা

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে আজ থেকে দেশের সব ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে কার্যকর হয়েছে পরিবর্তিত সময়সূচি। নতুন সূচি অনুযায়ী ব্যাংকগুলোতে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত গ্রাহক লেনদেন করা যাবে।

এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রমজান মাসে ব্যাংক খোলা থাকবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। এর মধ্যে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত গ্রাহক লেনদেন চলবে, আর পরবর্তী সময় দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করা হবে।

স্বাভাবিক সময়ে ব্যাংক সাধারণত সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে এবং লেনদেন চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। তবে রমজানের বিশেষ বিবেচনায় এই সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এদিকে পুঁজিবাজারের লেনদেন সময়ও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সূচি অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হবে সকাল ১০টায় এবং চলবে দুপুর ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত, যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কম।

সার্কুলারে আরও জানানো হয়েছে, রমজানে দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত যোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। তবে এই সময় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে লেনদেন প্রক্রিয়া চালু রাখতে হবে, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়।

এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফিস সময়ও একইভাবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। রমজান শেষে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও পুঁজিবাজার আবার স্বাভাবিক সময়সূচিতে ফিরে যাবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বিএনপিতে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে যা জানালেন রুমিন ফারহানা

সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ অত্যন্ত অবহেলিত, পিছিয়ে পড়া এবং প্রান্তিক মানুষের ভাগ্য ও জীবনমান উন্নয়নে সর্বাত্মকভাবে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করা আমার জন্য খুবই কঠিন ছিল। এবারের সংসদে আমার অবস্থান থাকবে দেশ ও সাধারণ মানুষের পক্ষে। বিশেষ করে আমার নির্বাচনী এলাকায় অত্যন্ত অবহেলিত, পিছিয়ে পড়া এবং প্রান্তিক মানুষের ভাগ্য ও জীবনমান উন্নয়নে সর্বাত্মকভাবে কাজ করব।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ শেষে তিনি এ কথা বলেন। অবশ্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি রুমিন ফারহানা।

PhotoGalleryবিএনপিতে ফেরার প্রশ্নে রুমিন ফারহানা বলেন, নির্বাচনের পর বিএনপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। এই মূহূর্তে বিএনপিতে ফেরার সম্ভাবনা নেই।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেয়ে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব। আমি বিএনপির মেয়ে বলে কিছু নেই। আপনারা কেন যে সব কিছু আবেগকে গুলিয়ে ফেলতে পছন্দ করেন। আমি একটা দলের সমর্থক ছিলাম এবং দেশ ও মানুষের পক্ষে সেই দলের হয়ে কথা বলেছি, তারপরে আমাদের মধ্যে মতের মিল হয়নি, আমি সরে গেছি।

এখানে আসলে আবেগকে নিয়ে আসার কিছু আছে বলে আমার মনে হয় না।

নির্বাচনের লড়াই প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, এই লড়াইটা আমার খুবই কঠিন ছিল। ন্যাচারালি কারণ একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী একটা দলের জোয়ারের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে ভোট করা ডেফিনেটলি কঠিন ছিল। আমাকে নানানভাবে চেষ্টা করা হয়েছে সর্বশক্তি দিয়ে যাতে আমি হেরে যাই। বিকজ এটা একটা ইগো প্রবলেম হয়ে দাঁড়িয়েছিল যে, দলের চেয়ে ব্যক্তির ইমেজ কেন বেটার হবে।

আজ থেকে দীর্ঘ ছুটি শুরু হলো যাদের

মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলে আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রমজানের প্রথম দিন থেকেই ছুটি শুরু হচ্ছে। ছুটি চলবে আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত। গতকাল বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এতে বলা হয়েছে, বিগত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের স্মারক নম্বর: ৩৭.০০.০০০০.০৭১.০৪.০০২.০২ (অংশ)-৫০৭ মূলে জারীকৃত প্রজ্ঞাপন সংশোধনক্রমে সরকারি/বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের ২০২৬ (১৪৩২-১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জি নিম্নোক্তরূপে নির্ধারণ করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পবিত্র রমজান, শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব, শবেকদর (১৭ মার্চ),  জুমাতুলবিদা (২০ মার্চ), ঈদুল ফিতর (২১ মার্চ) এবং স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস (২৬ মার্চ) উপলক্ষে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত মোট ৩৬ দিন ছুটি থাকবে মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে।

জানা যায়, দীর্ঘ আলোচনার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ বার্ষিক ছুটির তালিকায় সংশোধন এনেছে। ফলে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে রমজানের প্রথম দিন থেকেই ছুটি শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়।

এদিকে পবিত্র রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছিল।

১৫ ফেব্রুয়ারি সেই রিটের শুনানি হয়। এতে পুরো রমজান মাস, অর্থাৎ ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরো রমজান সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পরে গত সোমবার পুরো রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের নেতৃত্বাধীন চেম্বার জজ আদালত স্থগিতের আদেশ দেন।

দেশকে নিরাপদ করতে চাই

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান তথা দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী, এই দেশ আমাদের সবার। প্রতিটি নাগরিকের জন্যই এই দেশকে আমরা একটি নিরাপদ ভূমিতে পরিণত করতে চাই। একটি স্বনির্ভর নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই বিএনপি সরকারের লক্ষ্য। এই সরকার আপনাদেরই সরকার। আপনারাই ভোটের মাধ্যমে এই সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। আপনারাই এই সরকারের শক্তি।’
দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণের পর বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করছে। দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলবে বিধিবদ্ধ নীতি-নিয়মে। দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি অথবা জোর জবরদস্তি নয়, আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা।
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, রমাদান আত্মশুদ্ধির মাস। আমরা যদি আত্মশুদ্ধি শব্দটির মর্মার্থ উপলব্ধি করি তাহলে এই মাসে মানুষের ভোগান্তি বাড়ার কথা নয়। যদিও আমাদের অনেকের মধ্যেই এই মাসটিকে ঘিরে ব্যবসায় অধিক মুনাফা লাভের প্রবণতা লক্ষণীয়। আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান, রামাদানের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে এই মাসটিকে আপনারা ব্যবসায় মুনাফা লাভের মাস হিসেবে পরিগণিত করবেন না।
তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য যাতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায় এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা সতর্ক থাকবেন। হাজারো প্রাণের বিনিময়ে একটি মাফিয়া সিন্ডিকেটের পতন ঘটিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়েই আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিএনপি সরকার সকল ক্ষেত্রেই অনাচার- অনিয়মের সকল সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর, ইনশাআল্লাহ।
ভাষণের শুরুতেই নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করে বলেন, শুরুতেই মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। হাজারো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পেরেছি। তাঁবেদারমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। দেশে গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই যাত্রালগ্নে আমি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা এবং আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণের কারণেই দেশে আবার মানুষের অধিকার, সম্মান এবং মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের সময়ের দুর্নীতি- দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো আর অবনতিশীল আইনশৃংখলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি, নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে আমাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। সারাদেশে জুয়া এবং মাদকের বিস্তারকেও বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ বলে চিহ্নিত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুয়া এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব রকমের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করছে। দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলবে বিধিবদ্ধ নীতি-নিয়মে। দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তি অথবা জোরজবরদস্তি নয়, আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা।
তারেক রহমান বলেন, ক্ষুদ্র, মাঝারি কিংবা ছোট-বড় সকল ব্যবসায়ীর প্রতি বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি সহজ এবং স্পষ্ট। বর্তমান সরকার ব্যবসায়ী এবং ক্রেতা সাধারণ উভয়ের স্বার্থরক্ষা করেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চায়। সুতরাং, সরকারের পক্ষ থেকে কি ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করলে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কিংবা ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থরক্ষা হবে এ ব্যাপারে আপনাদের যে কোনো ধরনের পরামর্শ কিংবা অভিযোগ শুনতে সরকার প্রস্তুত। ক্রেতা-বিক্রেতা, গ্রহীতা এই সরকার সকলেরই সরকার। এই সরকার আপনাদেরই সরকার। আপনারাই ভোটের মাধ্যমে এই সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। আপনারাই এই সরকারের শক্তি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রমাদান মাসে রোজাদারগণ বিশেষ করে ইফতার, তারাবীহ, সেহরি এই সময়গুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পেতে চান। এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছি। অপচয় রোধ করে কৃচ্ছ্রতা সাধন প্রতিটি মুসলমানের ইমানি দায়িত্ব। অফিস-আদালতে বিনা প্রয়োজনে কিংবা প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি খরচের ব্যাপারে সচেতনতা অবলম্বন করাও ইবাদাতের অংশ বলেই আমি মনে করি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জনসাধারণের প্রতি কৃচ্ছ্রতা সাধনের আহ্বান জানানোর আগে আমি সরকারের মন্ত্রী এবং বিএনপির এমপিদের দিয়েই একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছি।

বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভাতেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বিএনপি থেকে নির্বাচিত কোনো এমপি সরকারি সুবিধা নিয়ে ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আমদানি করবেন না এবং প্লট সুবিধা নেবেন না। আমি আপনাদের সামনে বলেছিলাম, রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে বিএনপি সরকার মহানবীর ‘ন্যায়পরায়নতার’ আদর্শ অনুসরণ করবে। আমি মনে করি বিএনপির সংসদীয় দলের এসব সিদ্ধান্ত ‘ন্যায়পরায়ণতার’ আদর্শেরই প্রতিফলন।’
রাজধানী ঢাকায় প্রচ- যানজটের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিভাগীয় শহরগুলোতে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় যানজট প্রায় নিয়ন্ত্রণহীন। হাটে-মাঠে-ঘাটে, অফিস-আদালতে জনগণের ভোগান্তির শেষ নেই। জনজীবনের নানা ক্ষেত্রে জনদুর্ভোগ লাঘব করা না গেলে জনমনে স্বস্তি ফিরবে না। রাজধানীতে জনসংখ্যার চাপ কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, মানুষ তার নিজ জেলায় কিংবা নিজের বাসাবাড়িতে থেকেও যাতে সহজভাবে সঠিক সময়ে অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারেন সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথমেই রেল, নৌ, সড়ক এবং সেতু মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস ও সমন্বয় করা হচ্ছে। আমরা মনে করি, সারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার সহজ-সুলভ এবং নিরাপদ করা গেলে একদিকে যেমন জনগণের শহর-নগরকেন্দ্রিক নির্ভরতা কমবে, অপরদিকে পরিবেশেরও উন্নতি হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের চারপাশে সমস্যার শেষ নেই। তবে সমস্যার পাশাপাশি সম্ভাবনাও কিন্তু কম নয়। আমাদের বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে যদি আমরা দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারি তাহলে এই জনসংখ্যাই হবে আমাদের ‘জনসম্পদ’। আমরা নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে শুধু বাংলাদেশই নয় বিশ্ববাজারও আমাদের জন্য উন্মুক্ত। তথ্য প্রযুক্তির সিঁড়ি বেয়ে বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করেছে। প্রযুক্তির এই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মান এবং সচ্ছলতার সঙ্গে টিকে থাকতে হলে আমাদের কোনো না কোনো একটি বিষয়ে বা কাজে পারদর্শী হতে হবে।
দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থী এবং তরুণ যুবশক্তিকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেধায়, জ্ঞানে-বিজ্ঞানে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য যত রকমের সহযোগিতা দেওয়া যায় সব রকমের সহযোগিতা দিতে বর্তমান সরকার প্রস্তুত। কর্মসংস্থান এবং কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার নিয়ে বর্তমান সরকার যাত্রা শুরু করেছে।
দেশবাসীর অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর দেশে ফিরে গত বছর ২৫ ডিসেম্বর আমি বলেছিলাম, দেশ এবং জনগণের জন্য ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন স্থান ঘুরে আমার ‘প্ল্যান পরিকল্পনা’র অনেক কিছুই আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি। আপনারা স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপিকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দিয়েছেন। এখন এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সকল অঙ্গীকার পূরণ করার দায়িত্ব বিএনপি সরকারের। আমরা আমাদের পরিকল্পনা এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে দিয়েছি, ইনশাআল্লাহ । অঙ্গীকার পূরণের এই যাত্রাপথে আমরা ভবিষ্যতের দিনগুলোতেও আপনাদের অব্যাহত সমর্থন প্রত্যাশা করি।
দেশবাসীকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকারপ্রধান হিসেবে আমি দেশবাসীর উদ্দেশে একটি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, নবগঠিত সরকার গঠনের সুযোগ দিতে যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন কিংবা দেননি অথবা কাউকেই ভোট দেননি, এই সরকারের প্রতি আপনাদের সবার অধিকার সমান। বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে, দলমত, ধর্মম, দর্শন যার যার, রাষ্ট্র সবার। এই দেশে, এই রাষ্ট্রে একজন বাংলাদেশি হিসেবে আপনার, আমার, আমাদের প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের অধিকার সমান।
ভাষণের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর নিরাপদ ও সুস্থ জীবন কামনা করে বলেন, আল্লাহ আমাদের সবাইকে নিরাপদ এবং সুস্থ রাখুন। আল্লাহ আমাদের সকল ইতিবাচক পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের তৌফিক দিন। পবিত্র রমাদান মাস শুরুর শুভলগ্নে আল্লাহর দরবারে এই নিবেদন রেখে আমার বক্তব্য শেষ করছি।

আজ থেকে নতুন সময়সূচিতে চলবে অফিস-আদালত

শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস। সেহেরি ও ইফতারের সময় বিবেচনা করে আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে নতুন সময়সূচি অনুযায়ী চলবে সব সরকারি, আধা-সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত অফিস।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, হিজরি ১৪৪৭ (২০২৬ খ্রিস্টাব্দ) সনের পবিত্র রমজান মাসে সেহরি ও ইফতারের সময় বিবেচনায় দেশের সব সরকারি ও আধা-সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন অফিস সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

রমজানে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অফিস চলবে। এর মধ্যে দুপুর সোয়া ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ১৫ মিনিট জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। আর শুক্র ও শনিবার থাকবে সাপ্তাহিক ছুটি।

তবে ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ডাক, রেলওয়ে, হাসপাতাল ও রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো তাদের নিজস্ব আইন ও জনস্বার্থ বিবেচনা করে নিজস্ব অফিস সময়সূচি নির্ধারণ ও অনুসরণ করবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন সময় অনুযায়ী রমজান মাসে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ব্যাংকে লেনদেন হবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। আর অফিস চলবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। আর শুক্রবার ও শনিবার থাকবে সাপ্তাহিক ছুটি।

ফলে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক পবিত্র রমজান মাসে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এর মধ্যে দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। তবে এ বিরতির সময় অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যাংকের লেনদেন অব্যাহত রাখা যাবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নতুন সময় অনুযায়ী রমজান মাসে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অফিস চলবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। আর শুক্রবার ও শনিবার থাকবে সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে দেশের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পবিত্র রমজান মাসে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এর মধ্যে দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে।

এছাড়া রমজান মাসে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম চলবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। এছাড়া অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। উভয় ক্ষেত্রে দুপুর সোয়া ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে।

একের পর এক চমক দেখাচ্ছেন তারেক রহমান

বাংলাদেশের সেনাপ্রধান, রাষ্ট্রপতি এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমান ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশের মাটিতে বীরের বেশে বাংলাদেশে ফিরে এক সংবর্ধনা সম্মেলনে বলেছেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান।’

পরবর্তীতে তিনি তার পরিকল্পনার কথা সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী সমাবেশে তুলে ধরেছেন। পরিকল্পনায় তিনি মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলার স্থিতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সকল মৌলিক বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জাতিকে জানিয়েছেন। তারেক রহমানের পরিকল্পনায় মানুষ সন্তুষ্ট হয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা উপহার দিয়েছেন। এককভাবে ২০৯ আসন লাভ করে পুরো মন্ত্রিসভা গঠন করেন তারেক রহমান।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেন গত মঙ্গলবার।

একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের পর রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে তারেক রহমান দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেখানে তিনি দেশের স্বার্থ রক্ষা করে বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার কথা ব্যক্ত করেন।

একই সঙ্গে তিনি দেশে আইনের শাসনের কথা ধীরভাবে ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, কোনো পক্ষ থেকেই কোনো রকম অন্যায়, অত্যাচার, নির্যাতনকে তিনি কখনোই প্রশ্রয় দেবেন না।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি নিজের গাড়ি, নিজের চালক ও নিজের ক্রয়কৃত জ্বালানি ব্যবহার করবেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন না। আজ দিনের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী সাভার ও শেরেবাংলা নগরে গিয়েছিলেন নিজের টয়োটা গাড়িতে চড়ে। সেখান থেকে সচিবালয়ে গিয়েছেন সেই গাড়িতেই।

বিএনপি সূত্র জানায়, যানজটের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তার গাড়িবহরের সংখ্যা কমিয়ে ফেলা হয়েছে। এতদিন প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের সংখ্যা ছিল ১৩–১৪টি। আজ সেটি কমিয়ে ৪টি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী পতাকাবিহীন গাড়ি ব্যবহার করছেন। তবে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান অথবা বিদেশি মেহমানদের সফর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে পতাকা ব্যবহৃত হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী এখন থেকে মন্ত্রিসভার বৈঠক সচিবালয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক হলে সব মন্ত্রীদের সচিবালয় থেকে যাতায়াতে জট সৃষ্টি হয়, ভিআইপি চলাচলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির মুখে পড়ে। সেসব কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে বেশিরভাগ সময়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথে সড়কের দুইধারে পোশাকধারী পুলিশের অবস্থানের যে বিধান, তা বন্ধ করার জন্যও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।

সকালে গুলশানের বাসা থেকে নিজের সাদা টয়োটা গাড়িতে চড়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এই সময়ে তার গাড়িবহরের সংখ্যা কম ছিল।

সাভার থেকে প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। দুই জায়গাতেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পুরো মন্ত্রিসভার সদস্যরা ছিলেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে যান।

এদিকে গতকাল বুধবার ছিল তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম কার্যদিবস। সচিবদের তিনি বলেছেন, জনগণ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী রায় দিয়েছেন। সুতরাং সংবিধান ও আইনবিধি অনুযায়ী ওই নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য সচিবেরা আন্তরিক হবেন—সেই আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, ‘সবাইকে আমরা বলেছি, কে কার কী অ্যাফিলিয়েশন (সম্পৃক্ততা) আছে, সেটি আমরা দেখব না। আমরা মেধার ভিত্তিতে সবাইকে যাচাই করব।’

বুধবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে নতুন সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে তিনটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য সকলকে নির্দেশ দিয়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী।

অগ্রাধিকার তিনটি হলো—দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমীর, জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রধান এবং চরমোনাই পীরের সঙ্গে দেখা করে তারেক রহমান রাজনীতির মাঠে অন্যরকম চমক দেখিয়েছেন। এসব জাতীয় নেতৃবৃন্দকে তারেক রহমান নিজের বাসায় না ডেকে, তিনি নিজেই সকলের বাসায় গিয়ে দেখা করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, তারেক রহমানের এমন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দেশের রাজনীতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। তিনি চান সকল দল-মতের মানুষকে নিয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। নির্বাসিত জীবন শেষ করে ৫৫ দিনের মাথায় তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেক ইতিবাচক ধারা প্রবর্তন করেছেন।

তারা মনে করেন, দেশের সকল রাজনীতিবিদ এবং যারা যে দায়িত্বে আছেন, তারা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে বাংলাদেশের অগ্রগতি কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. কাজী মাহাবুবুর রহমান বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এদেশের মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা পেয়েছেন। তারেক রহমান যে ধারায় রাজনীতি শুরু করেছেন এবং দেশের দায়িত্ব পালন করছেন, তাতে আমরা আশাবাদী। আমরা আশা করছি, আগামীর বাংলাদেশে ভালো কিছু হবে।