Home Blog Page 179

গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাব নিয়ে টানাপোড়েন

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোট হয়েছে যে অধ্যাদেশে, সেই ‘গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫’ নিয়ে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। জামায়াতের ভাষ্য, ক্ষমতাসীন দল বিএনপি অধ্যাদেশটি বাতিলের প্রস্তাব করেছে। এতে তারা আপত্তি জানিয়েছে। তবে সরকারি দলের ভাষ্য, তারা অধ্যাদেশটি বাতিল বা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়নি। আলোচনা চলছে।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির সভা শেষে পরস্পরবিরোধী এই ভাষ্য জানিয়েছে সরকারি দল বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।

১৪ সদস্যের এ কমিটি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করছে। এ কমিটির ১১ সদস্য বিএনপির। তিনজন জামায়াতের। ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১১৩টি জাতীয় সংসদে পাস করাতে একমত হয়েছে সরকারি ও বিরোধী দল।

বিশেষ কমিটির বৈঠক সূত্র জানায়, গণভোট ছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, গুম প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশেও বিএনপি পরিবর্তন আনতে চাইছে। বিরোধী দলের দাবি, পরিবর্তন বা আলোচনার জন্য সংসদে উত্থাপনের মাধ্যমে এসব অধ্যাদেশ বাতিল করতে চাইছে সরকারি দল। এর মাধ্যমে আগের মতো প্রধানমন্ত্রীর হাতে একচ্ছত্র ক্ষমতা রাখতে চায়, যা জুলাই সনদের লঙ্ঘন।

সূত্রটি জানায়, ২০টি অধ্যাদেশের বিষয়ে এখনও একমত হতে পারেনি বিশেষ কমিটি। আগামী ২৯ মার্চ কমিটির তৃতীয় বৈঠক হবে।
সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশ জারির পর তা পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন এবং ৩০ দিনের মধ্যে পাস না হলে তা বাতিল হয়ে যাবে। ইউনূস সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশ গত ১৩ মার্চ সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো পাস হতে হবে।

গতকাল বিশেষ কমিটির বৈঠকের পর জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেন, গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলে আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে বিরোধী দল আপত্তি জানিয়েছে।

রফিকুল ইসলাম খান জানান, ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশেও সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অধ্যাদেশ নিয়ে এখনও আলোচনা হয়নি।

জামায়াতের আরেক এমপি জিএম নজরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, বিএনপির আচরণে মনে হচ্ছে, তারা গণভোট বাতিল করতে চায়। তারা বলছে, গণভোটের বিধান সংবিধানে নেই। তাই গণভোট আয়োজন করা বৈধ কিনা– এই আলোচনা সংসদে হওয়া উচিত।

বিশেষ কমিটির বৈঠকে বিরোধী দলের কী অবস্থান ছিল– এমন প্রশ্নে নজরুল ইসলাম বলেছেন, গণভোট অধ্যাদেশ সংশোধনের নামে সংসদে উত্থাপন মানেই সরকারি দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তা বাতিল হতে দেওয়া। এর মানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বাতিল করা। বিরোধী দল তা হতে দেবে না।
তিনি আরও বলেন, গণভোট হয়ে গেছে। এখন অধ্যাদেশ সংশোধনের প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতে এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে আর গণভোট হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই সংশোধন প্রস্তাবই আদতে অধ্যাদেশটি বাতিল করার পাঁয়তারা।

তবে কমিটির সভাপতি ও সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন দাবি করেছেন, গণভোট বাতিল বা রাখার পক্ষে-বিপক্ষে তারা কোনো অবস্থান নেননি।
এ ছাড়া আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান গতকাল রাতে সমকালকে বলেন, বিষয়টি এখনও আলোচনার টেবিলে। এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

গণভোট অধ্যাদেশ ঝুলে আছে
রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের ৪৮টিতে সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব রয়েছে। গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে রাজনৈতিক দলগুলোর তৃতীয় দফার সংলাপে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ছয়টি পদ্ধতির প্রস্তাব করা হয়েছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলের মতামতে, সনদ বাস্তবায়নে আদেশ জারি এবং আদেশের ওপর গণভোট আয়োজনের সুপারিশ করে সাবেক ঐকমত্য কমিশন। বর্তমান আইনমন্ত্রী তখন ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনিও একই অভিমত দিয়েছিলেন। বিএনপি ওই সময় গণভোটে একমত হলেও সংবিধানে নেই– যুক্তিতে আদেশ জারির বিপক্ষে ছিল।

গত ১৩ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের অনুমোদনে রাষ্ট্রপতি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেন। ২৫ নভেম্বর জারি করা হয় গণভোট অধ্যাদেশ। ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিনে আদেশের ওপর গণভোট হয়। ৬৮ শতাংশের বেশি ভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়লাভ করে।

আদেশে বলা হয়েছিল, হ্যাঁ জয়ী হলে ত্রয়োদশ সংসদ দ্বৈত ভূমিকা পালন করবে। নির্বাচিত এমপিদের নিয়ে ১৮০ কার্যদিবস মেয়াদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। এ পরিষদ গণভোটের ফল অনুযায়ী, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্ম কমিশন, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, ন্যায়পাল এবং দুর্নীতি দমন কমিশন গঠনের বিধান সংবিধানে যুক্ত করবে। ভোটের অনুপাতে (পিআর) সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা দিয়ে ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ গঠন করবে। এসব ছাড়াও জুলাই সনদের যে ৩০ সংস্কার প্রস্তাবে সব দলের ঐকমত্য হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়ন করবে।

নির্বাচনে বিজয়ী হবার পর বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি। দলটি জুলাই সনদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন পদ্ধতি, পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন, দুদক এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ পদ্ধতিতে নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) দিয়েছিল। সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায়। অন্যদিকে বিরোধী জোট গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চায়।

সরকারি দল সরাসরি বলছে না
বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, গণভোট নিয়ে বৈঠকে তেমন আলোচনা হয়নি। কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, গণভোট বিষয়ে বৈঠকে তেমন আলোচনা হয়নি। এটা নিয়ে ২৯ মার্চ পরবর্তী বৈঠকে আলোচনা হবে অথবা সংসদের বৈঠকে আলোচনা হবে।

সরকারি দল থেকে গণভোট অধ্যাদেশ রহিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে জয়নুল আবেদীন বলেন, তাদের পক্ষ থেকে রহিত করার প্রস্তাব করা হয়নি, আবার রাখার প্রস্তাবও করা হয়নি। তারা বলেছেন, এটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সংবিধানের আলোকে এগুলো আলোচনা করতে হবে। কারণ সংবিধান সবার ঊর্ধ্বে। সংসদ সংবিধান অনুযায়ী চলবে। সে জন্য গণভোটসহ সবকিছু আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে শেষ করতে চান তারা।

গণভোট অধ্যাদেশ নিয়ে বিএনপির দলীয় অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে জয়নুল আবেদীন বলেন, এটা সংসদের বিষয়। বিশেষ কমিটি এ বিষয়ে ঐকমত্য হতে না পারলে সংসদের বৈঠকে আলোচনা হবে।

বৈঠকে উপস্থিত চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিও গতকাল সন্ধ্যায় সমকালকে বলেন, আলোচনা চলমান। গণভোট বাতিলের প্রস্তাব কার পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে– এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, ‘একটা গ্লাসের অর্ধেক পানি দেখে কেউ একজন বলতে পারে অর্ধেক খালি; আবার আরেকজন বলতে পারে অর্ধেক ভরা।’

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গণভোট অধ্যাদেশের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, যে আদেশের ওপর গণভোট হয়েছে, তা ছিল এখতিয়ারবহির্ভূত। সুতরাং অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করা যাবে না। রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন। তাই এটা পাস না করা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ এবং মানবাধিকার-সংক্রান্ত অধ্যাদেশেও সংশোধনের সুপারিশ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে বৈঠকে করা হয় বলে জানা গেছে। নজরুল ইসলাম বলেছেন, বিরোধী দলের বিরোধিতায় এসব অধ্যাদেশ নিয়ে পরে আলোচনার সিদ্ধান্ত জানায় সরকারি দল।

১৩৩ অধ্যাদেশকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এক ভাগ হচ্ছে অধ্যাদেশগুলো যেভাবে জারি হয়েছিল, সেভাবে পাস করা হবে। আর কিছু অধ্যাদেশে সংশোধনী আনা হবে, সেভাবে পাস হবে। আর কিছু অধ্যাদেশ এই অধিবেশনে বাতিল হয়ে যাবে; পরে যদি প্রয়োজন হয়, তা বিল আকারে পরবর্তী অধিবেশনে উত্থাপন করা যাবে। অধ্যাদেশ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে ‘জুলাই সনদ’ এবং ‘সাংবিধানিকতা’– এ দুই বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ক্ষমতা কুক্ষিগতের অভিযোগ বিরোধীদের 
ইউনূস সরকারের জারি করা ‘সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ’-এর মাধ্যমে উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা খর্ব করা হয়। এই অধ্যাদেশ সংশোধনের মাধ্যমে সরকারি দল আবারও প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা নিতে চাইছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম খান।

দুর্নীতি দমন কমিশনের অধ্যাদেশ সংশোধনের মাধ্যমে চেয়ারম্যান নিয়োগে সার্চ কমিটির ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে অভিযোগ করে বিরোধীদলীয় এই হুইপ বলেন, সরকার যাকে ইচ্ছা তাকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা নিতে চাইছে। একইভাবে পুলিশ কমিশনার এবং আইজিপি নিয়োগেও পেশাদারিত্বের চেয়ে সরকারের পছন্দকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা চলছে। জামায়াত বলেছে, এসব সংশোধনী প্রস্তাব জুলাই চেতনার পরিপন্থি।

সংসদে সরকারি দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে অতীতের সরকার অনেক কিছু করেছে। কিন্তু সেই অহংকার জাতির জন্য ভালো কিছু বয়ে আনে না। সংস্কার ও বিচারের ম্যান্ডেট নিয়ে এই সরকার এসেছিল। গুম কমিশন বা মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশের মাধ্যমে যে অর্জনগুলো হয়েছে, তা ক্ষতিগ্রস্ত করা জনগণ মেনে নেবে না।

জুলাই সনদ মানার কথা বলছে সরকার
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান দাবি করেন, সরকার এখন পর্যন্ত জুলাই সনদের বাইরে পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি বলেন, জুলাই সনদ সবার কাছে স্পর্শকাতর এবং সম্মানের। জুলাই সনদের শর্তই হলো ১ থেকে ৪৮ পর্যন্ত প্রস্তাব বাস্তবায়ন সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে।

গণভোটে বলা আছে; হ্যাঁ জয়যুক্ত হলে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে– এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ওইটা জুলাই সনদের পরিপন্থি।

তাহলে আপনারা কোনটাকে প্রাধান্য দেবেন– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংবিধান ও জুলাই সনদকে প্রাধান্য দিচ্ছি। সংবিধান এবং জুলাই সনদকে এড়িয়ে কোনো কিছু করতে গেলে সেটা নিয়ে পরবর্তী বৈঠকে আলোচনা হবে।

গতকালের বৈঠকে কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে আরও অংশ নেন সালাহউদ্দিন আহমেদ, নূরুল ইসলাম মনি, আসাদুজ্জামান, ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ এম মাহবুব উদ্দিন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মুজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম খান এবং জিএম নজরুল ইসলাম। বিশেষ আমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের দলীয় এমপি মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান।

চর্চায় শাকিব-সিয়াম-নিশো

সারা বছর প্রেক্ষাগৃহে দর্শক-খরা থাকলেও ঈদ এলেই বদলে যায় চিত্র। সিনেমা হলে তখন উপচে পড়া ভিড়, উৎসবের আমেজ আর দর্শকের উচ্ছ্বাসে মুখর পরিবেশ। এবার ঈদের দিন থেকেই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে পাঁচটি সিনেমা–‘প্রিন্স’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, ‘দম’, ‘রাক্ষস’ ও ‘প্রেশার কুকার’। এর মধ্যে ‘প্রিন্স’, ‘রাক্ষস’ ও ‘দম’ মূলত নায়কনির্ভর সিনেমা।

এই তিন সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় তিন নায়ক–শাকিব খান, সিয়াম আহমেদ ও আফরান নিশো। ফলে এবারের ঈদজুড়ে এই তিন নায়ককে ঘিরেই চলছে চর্চা, তর্ক-বিতর্ক এবং ভক্তদের উন্মাদনা।

শাকিব খান
ঈদের সিনেমার পরীক্ষিত নাম শাকিব খান। প্রতি ঈদেই তাঁর সিনেমা থাকে আলোচনার কেন্দ্রে, আর দর্শকও ভিড় করেন তাঁর সিনেমা দেখতে। বছরের দুই ঈদকে কেন্দ্র করে তাঁর সিনেমা মুক্তির বিষয়টি এখন প্রায় প্রতিষ্ঠিত। এবারের ঈদে মুক্তি পেয়েছে গ্যাংস্টার কালচারের গল্প নিয়ে সিনেমা ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’। মুক্তির পর থেকেই হলসংখ্যার দিক থেকে এগিয়ে ছিল এবং দেশের প্রায় সব সিঙ্গেল স্ক্রিনে দাপট দেখিয়েছে। তবে মুক্তির আগে প্রচারণার ঘাটতি নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ ছিল ভক্তদের মধ্যে। দুটি গান, পোস্টার ও একটি টিজার ছাড়া তেমন কোনো প্রচারণায় দেখা যায়নি সিনেমাটির বেলায়। তবে এগুলো প্রকাশেই তৈরি হয় আগ্রহ, ট্রেন্ডিংয়েও আসে সিনেমাটির ট্রেলার।

সার্ভার জটিলতায় ঈদের দিন দুপুর পর্যন্ত অনেক প্রেক্ষাগৃহে শো চালু না হওয়ায় দর্শক হতাশ হন, কোথাও ক্ষোভও দেখা যায়। এমনকি স্টার সিনেপ্লেক্স এর মতো মাল্টিপ্লেক্সের সবচেয়ে বৃহৎ চেইনটিতেও ঈদের প্রথম তিন দিন সিনেমাটি প্রদর্শিত হয়নি। পরে ঈদের চতুর্থ দিন থেকে সেখানে শো শুরু হলে দ্রুতই হাউসফুল হয়ে ওঠে। এরপর থেকে প্রতিটি শোয়ের টিকিট সোল্ড আউটের খবর আসছে। হাউসফুল শোয়ের খবর আসছে। তবে শো দেরিতে শুরু হওয়া সার্ভার জটিলতার থাকলেও ঈদের নায়কদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন শাকিব খানই।

সিয়াম আহমেদ
শাকিব খানের পর এবারের ঈদের সবচেয়ে আলোচিত নায়ক সিয়াম আহমেদ। ‘বরবাদ’ নির্মাতা মেহেদি হাসান হৃদয় এবার নিয়ে এসেছেন ‘রাক্ষস’। মূলত বরবাদ ইউনিভার্সেরই নতুন সংযোজন এই সিনেমা; যেখানে এবার যুক্ত হয়েছেন সিয়াম। ফলে মুক্তির আগেই ছিল দর্শক-হৃদয়ে জেগেছিল আশা-আকাঙ্ক্ষা ও কৌতূহল। বরবাদে ছিল দেশসেরা নায়ক শাকিব খান। তাঁর ইউনিভার্সে সিয়াম কতটা বাজিমাত করতে পারবেন। সিনেমা মুক্তির পর সেই সংশয় পুরোপুরি কেটে গেছে। এই সিনেমায় সিয়াম শুধু অভিনয় করেননি, বরং স্ক্রিন ডমিনেট করেছেন।

গান, রোমান্স, ডায়ালগ ও অ্যাকশন–সবখানেই তিনি ছিলেন পিওর ম্যাসি অ্যাভাটারে। ‘ওয়ান ম্যান শো’ ধরনের একটি সিনেমা কাঁধে নেওয়ার আত্মবিশ্বাসই তাঁকে নতুনভাবে আলোচনায় এনেছে। ‘রাক্ষস’ সিঙ্গেল স্ক্রিনে মুক্তি না পেলেও মাল্টিপ্লেক্সে প্রায় ২৩টি শো চলছে–যেগুলোর বেশিরভাগই হাউসফুল। আগাম টিকিটও দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। তবে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও শো না বাড়ানো নিয়ে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ রয়েছে। তাদের মতে, শো বাড়ানো হলে সিনেমাটি বড় বাণিজ্যিক সাফল্য পাবে।

আফরান নিশো
‘সুড়ঙ্গ’ ও ‘দাগী’র পর এবারের ঈদে মুক্তি পেয়েছে আফরান নিশোর ‘দম’। রেদোয়ান রনি পরিচালিত কাজাখস্তানের বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে ধারণ করা এই সারভাইভাল ঘরানার সিনেমাটি ভিজ্যুয়াল ও আবেগ–দুই দিক থেকেই নতুন অভিজ্ঞতা দিয়েছে দর্শকদের। বরাবরের মতোই অভিনয়ের জন্য প্রশংসা পাচ্ছেন নিশো। সিনেমাটি সিঙ্গেল স্ক্রিনে মুক্তি না পেলেও মাল্টিপ্লেক্সে সর্বোচ্চ সংখ্যক শো পেয়েছে এবং সেই শোগুলোতেই দর্শকের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নিশো এখন মাল্টিপ্লেক্স দর্শকদের কাছে আস্থার নাম হয়ে উঠেছেন।

সব মিলিয়ে বলা যায়, এবারের ঈদের সিনেমা বাজারে তিন নায়কের লড়াইই সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। তিনজনই নিজ নিজ জায়গা থেকে দর্শকের মনোযোগ কাড়তে সক্ষম হয়েছেন। সেই কারণেই এবারের ঈদে সিনেমার গল্প মানেই ‘তিন তারকার’ জমজমাট প্রতিযোগিতা যেন।

কানে লাল ফুল গোঁজা মেয়েটি বেঁচে আছে, হারিয়েছে মা-ভাইকে

স্বজনদের সৌজন্যে যে ছবিটি পাওয়া গেল তাতে চার বছর বয়সী মেয়ে নওয়ারা আক্তারকে কোলে নিয়ে আছেন নুরুজ্জামান। নওয়ারার কানে গোঁজা লাল রঙের ফুল। পাশে দাঁড়ানো স্ত্রী আয়েশা আক্তারের কোলে ৭ মাসের ছেলে আরশান। ঈদে তোলা এই ছবিটি এখন নুরুজ্জামানের কাছে পারিবারিক সুখস্মৃতির সবশেষ স্মারক।

বুধবার পদ্মা নদীতে স্ত্রী ও পুত্র সন্তানকে হারিয়েছেন নুরুজ্জামান। তলিয়ে যাওয়া সৌহার্দ পরিবহনের বাসটিতে ছিলেন তারা। মেয়েকে নিয়ে নুরুজ্জামান গিয়েছিলেন চিপস কিনতে। ঘাটে ফিরে জানতে পারেন তাঁর স্ত্রী-সন্তানসহ অন্য যাত্রীদের নিয়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পানিতে পড়ে তলিয়ে গেছে। ঈদ উদযাপন শেষে ঝিনাইদহের শৈলকুপা থেকে ঢাকায় ফিরতে চাওয়া নুরুজ্জামানের মাথায় যেন ওই মুহূর্তে আকাশ ভেঙে পড়ে।

শৈলকুপায় নুরুজ্জামানদের বাড়ি কাঁচেরকোল ইউনিয়নের খন্দকবাড়িয়া গ্রামে। বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে ছিল শুনশান নীরবতা। নুরুজ্জামানের বাবা কামরুজ্জামান প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ঢাকার সাভারের নয়ারহাটে যাওয়ার। আয়েশার বাবার বাড়ি সাভারে। সেখানে ছেলেসহ তাঁকে দাফন করা হবে।

কামরুজ্জামান জানান, সাভার ও মিরপুর সিআরপি হাসপাতালে চাকরি করতেন আয়েশা-নুরুজ্জামান দম্পতি। সন্তানদের নিয়ে ঈদের কয়েকদিন আগে বাড়ি ফেরেন। বুধবার দুপুরে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে।

নাতি-নাতনিকে বিদায় দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর বিকেলে মোবাইল ফোনে নুরুজ্জামানের কল পান কামরুজ্জামান। ওপর পাশ থেকে কাঁদতে কাঁদতে ছেলে জানান, ‘আব্বা আমার সব শেষ। আপনার বৌমা, আরশান পদ্মায় তলিয়ে গেছে।’

কামরুজ্জামানের সঙ্গে ওই ফোনালাপের সময়ই চিপস কিনতে গিয়ে নিজে বেঁচে যাওয়ার কথা জানান নুরুজ্জামান। ঘাটে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর রাত তিনটার দিকে বাসের ভেতর থেকে তাঁর স্ত্রী ও পুত্র সন্তানের লাশ উদ্ধার হয়।

প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে নুরুজ্জামানের গ্রামের বাড়িতে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প বসতো। তাঁর ভাতিজা মোবাস্বির আহেমদ বলেন, তাঁর চাচা-চাচি মিলে এ কাজ করতেন। কিন্তু এবার নিজেরা অসুস্থ থাকায় ক্যাম্প করতে পারেননি।

ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে গত মঙ্গলবার রাতে আত্মীয় বুলবুল আহমেদের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল নুরুজ্জামানের। বলেছিলেন, ‘ভাগনে আগামীকাল (বুধবার) চলে যাচ্ছি। দেখা হবে না।’ বুলবুল বলেন, সেটি ছিল বিদায়ের আগে সৌজন্যতার আলাপ। কয়েক ঘণ্টা পর পরিবারটির হৃদয় বিদারক কোনো ঘটনার কথা শুনতে হবে তা ভাবনাতেও ছিল না। এমন কিছু কেউ আসলে ভাবেও না।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে তলিয়ে যাওয়া বাসটি বৃহস্পতিবার উদ্ধার হয়েছে। আয়েশা-আরশানসহ শনাক্ত হয়েছে ২৬ জনের মরদেহ।

মেয়েকে নিয়ে সাঁতরে পল্টুনের কাছে আসেন শাকিলা, আনতে পারেননি ছেলেকে

ঈদের ছুটিতে ননদ নিশি এসেছিলেন বাবার বাড়ি বেড়াতে। ঢাকায় ঘুরতে যাওয়ার শখ ছিল ভাবী শাকিলার। তাই ঈদের ছুটি শেষে শাকিলা, তার ছেলে সাবিত, মেয়ে সাবিহা, ননদ নিশি ও নিশির একমাত্র মেয়ে সোহানা এই পাঁচজন সৌহার্দ্য পরিবহনে রাজবাড়ী থেকে ঢাকা যাচ্ছিলেন ঘুরতে। কিন্তু কে জানত এই যাত্রাই হবে তার সন্তান আর ভাতিজির শেষ যাত্রা।

শাকিলা বেগমের প্রতিবেশী মরিয়ম আক্তার কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, পদ্মায় বাসডুবির পর পরই শাকিলা এক হাতে মেয়েকে কোলে নিয়ে আর অন্য হাতে সাঁতরে বাস থেকে বেরিয়ে পল্টুনের কাছে এসে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের বলেন, ভাই আপনারা মেয়েটাকে কিছুক্ষণ ধরে থাকেন, আমি বাস থেকে আমার ছেলেটাকে নিয়ে আসি। তখন পল্টুনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন মেয়েরা সঙ্গে মাকেও টেনে উপরে নিয়ে আসেন। কারণ তারা বুঝেছিলেন শাকিলা এবার ছেলে উদ্ধার করতে গেলে আর কখনোই ফেরত আসতে পারবেন না। এরপর শাকিলা পল্টুনে আসার পরই অজ্ঞান হয়ে যান।

দৌলতদিয়ায় বাসডুবির ঘটনায় শাকিলার ছেলে সাবিতের (৮) সঙ্গে ননদের মেয়ে সোহানাও (১০) প্রাণ হারিয়েছে। শুধু বেঁচে ফিরেছেন শাকিলা, তার মেয়ে সাবিহা ও ননদ নিশি।

এলাকাবাসী জানায়, শাকিলা বেগম দাদশী ইউনিয়নের আগমাড়াই গ্রামের শরিফুল ইসলামের স্ত্রী। শরিফুল ইসলাম পেশায় রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী। সাবিত স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

প্রতিবেশীরা জানান, শরিফুলের বোন নিশি আক্তার ঢাকায় গার্মেন্টে চাকরি করেন। স্বামী ও একমাত্র সন্তান সোহানাকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন তিনি। ঈদের ছুটিতে নিশি এসেছিলেন বাবার বাড়ি বেড়াতে। ছুটি শেষে ভাবী, ভাতিজা আর ভাতিজিকে নিয়ে ঢাকায় ফেরার পথে এ দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তারা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আগমারাই গ্রামে শরিফুলদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, দুই শিশুর মরদেহ পাশাপাশি রাখা হয়েছে। সেখানে লোকে লোকারণ্য। শরীফুল তার প্রিয় সন্তানের কাছে বসে কান্না করছেন। শরিফুলের স্ত্রী শাকিলা শোকে নির্বাক হয়ে গেছেন। মাঝে মধ্যে বিলাপ করছেন ছেলের শোকে। তার স্বজনরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। মেয়ে হারানো নিশি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। যেন কাঁদতে কাঁদতে তার চোখের পানি শুকিয়ে গেছে। মাঝে মধ্যে তিনি মূর্ছা যাচ্ছিলেন।

শরিফুল ইসলামের স্বজন সিরাজুল ইসলাম ক্রন্দনরত কণ্ঠে বলেন, এ দৃশ্য দেখা যায়না। একটা সুখী পরিবারে এমন কালো ছায়া নেমে আসবে তা কল্পনাও করেনি কেউ।

 

বাইরের খাবার খেয়ে পেট ব্যথা-বমি হলে যা করবেন

ঈদের ঘোরাঘুরি, খাবার খাওয়ার রেশ এখনো রয়ে গেছে। বেড়াতে গিয়ে পথের খাবার খাচ্ছেন অনেকে। বিভিন্ন ভাজাপোড়া খাবার, রাস্তায় বিক্রি হওয়া কাটা ফল অথবা রেস্তোরাঁর খাবার খেয়ে অনেকেই ‘ফুড পয়জনিং’য়ে আক্রান্ত হন। বমি, পেট ব্যথা আর পেটের গোলমাল শুরু হলে অনেকেই অ্যান্টিবায়োটিক বা ব্যথানাশক ওষুধ খান। চিকিৎসকদের মতে, প্রাথমিক অবস্থায় ঘরোয়া কিছু উপাদানেই এই বিষক্রিয়া কাটানো সম্ভব। শরীর থেকে টক্সিন বের করে হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক করতে ঘরোয়া কিছু উপকরণই কাজে আসতে পারে।

অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অপরিষ্কার পানি, বিশেষ কোনো খাবার সহ্য না হওয়া কিংবা কোনো খাবারে ব্যাকটেরিয়া-ছত্রাক জন্মালে, তা থেকে
খাদ্যে বিষক্রিয়া হতে পারে। কাঁচা মাছ, মাংস বা শাকসবজি ঠিক মতো না ধুয়ে রান্না করলেও তা থেকে পেটে বিষক্রিয়া হতে পারে। সালমোনেল্লা ব্যাকটেরিয়া, ই কোলাই নামক ব্যাকটেরিয়া ও কয়েক রকম ছত্রাক খাদ্যে বিষক্রিয়ার জন্য দায়ী।

বিষক্রিয়া কটিয়ে ওঠার উপায় কী?

এক কাপ পানিতে আদা কুচি ফুটিয়ে নিন। তাতে এক চামচ মধু মিশিয়ে গরম গরম খান। বমি ভাব নিমেষে উধাও হবে। আদা ও মধুর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল গুণ আছে। এই দুই উপাদান প্রদাহনাশকও।

এক গ্লাস পানি নিয়ে তাতে কয়েকটি রসুনের কোয়া দিন। পানি ফুটিয়ে ছেঁকে নিন। সেই পানি অল্প অল্প করে খান। রসুনের অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল গুণ বিষক্রিয়ার প্রভাব কাটিয়ে দেবে।

খাদ্যে বিষক্রিয়া কমাতে কলা খেতে পারেন। কলায় পটাশিয়ামের পরিমাণ অনেক থাকায়, এটি বিষক্রিয়া কমাতে সহায়ক।

খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে শরীরে যে প্রদাহ তৈরি হয়, তার রেশ কাটাতে পারে জিরা পানি। এক গ্লাস পানিতে জিরা ভিজিয়ে রাখুন। সেই পানি ছেঁকে গরম করে খেতে পারেন।

এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ পানিতে দু’চামচ অ্যাপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে খান। এটি দ্রুত বিষক্রিয়া কাটাতে সাহায্য করবে।

ভিয়েতনামেও হামজাকে ঘিরে উন্মাদনা

০

ভিয়েতনামে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন হামজা চৌধুরী। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এ ফুটবলারের গত রোববার ভিয়েতনাম আসার কথা থাকলেও তাঁর ক্লাব লেস্টার সিটির খেলা থাকায় আসতে পারেননি। ইংল্যান্ড থেকে তার্কিশ এয়ারলাইন্সে গতকাল স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায় ভিয়েতনাম পৌঁছান তিনি।

সেখান থেকে হোটেলে বাক্সপেটরা রেখেই দলের সঙ্গে দেখা করতে অনুশীলন মাঠে চলে যান। গতকাল হ্যানয়ে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন ছিল বিকাল ৫টায়। দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তির কারণে হামজা অনুশীলন করেননি।

বাফুফে থেকে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় হামজা জানান, ‘দলের সবার সঙ্গে দেখা হওয়ায় তিনি বেশ আনন্দিত। ইংল্যান্ড থেকে আসতে ১৫ ঘণ্টা লেগেছে। ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি ছিল। তবে লম্বা ভ্রমণেও খুব বেশি কষ্ট হয়নি।’ কিছু দিন আগে সেরে ওঠা চোট নিয়ে তিনি জানান, ‘হাঁটুতে কোনো সমস্যা নেই, এখন খুবই ভালো বোধ করছেন। দলের সবার সঙ্গে অনুশীলন করতে মুখিয়ে আছেন।’ অনুশীলনের সময়ই হামজাকে নিয়ে ভিয়েতনামের ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ দেখা যায়। হোটেলে ফেরার পর এক দল সাপোর্টার হামজাকে জার্সি উপহার দেন। আগামীকাল ভিয়েতনামের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচ খেলে পরের দিন সিঙ্গাপুর রওনা হবে তারা। ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে জামালরা ঢাকার বিমানে চড়লেও হামজা উড়াল দেবেন ইংল্যান্ডের পথে।

 

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সফল কিডনি প্রতিস্থাপন, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন রোগী

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সফলভাবে একটি কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে ওঠায় বুধবার রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নেফ্রোলজি ও ইউরোলজি বিভাগের তত্ত্বাবধানে এ প্রতিস্থাপন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলামের অধীনে রোগী ভর্তি ছিলেন। কিডনি অপসারণে নেতৃত্ব দেন ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. তৌহিদ মো. সাইফুল ইসলাম দিপু। আর প্রতিস্থাপন সার্জারিতে নেতৃত্ব দেন অধ্যাপক এ কে এম খুরশিদুল আলম ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম।

চিকিৎসকরা জানান, দেশের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই রোগী দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন এবং ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। এতে রোগী ও তার পরিবারের পক্ষে চিকিৎসা ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। পরে রোগীর মায়ের উদ্যোগ ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সহায়তায় চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি রোগীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়।

গত ২৮ জানুয়ারি মেডিকেল বোর্ড কিডনি প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে ২ মার্চ অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। এতে সন্তানের জীবন বাঁচাতে কিডনি দান করেন তার মা।

অস্ত্রোপচারের পর মা ও সন্তান উভয়ই সুস্থ থাকায় বুধবার তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল উপস্থিত ছিলেন। তিনি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ধন্যবাদ জানান এবং দেশে জটিল চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, রোগীদের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ জরুরি। এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার প্রবণতা কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বড় ভাইয়ের ছোড়া গুলিতে ছোট ভাই নিহত

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বড় ভাইয়ের ছোড়া গুলিতে ছোট ভাই নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলার চতুল এলাকায় ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের পেছনে রেলগেটে এ ঘটনা ঘটে।

জমি-জমার বিরোধের জেরে বড় ভাই ডা. গোলাম কবির তার বন্দুক দিয়ে ছোট ভাই মিন্টুকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন। গুরুতর অবস্থায় মিন্টুকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত গোলাম কবীরকে আটক করে। পরে তাকে হেফাজতে নেয় বোয়ালমারী থানা পুলিশ।

স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে দুই ভাইয়ের মধ্যে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। সকালে ডা. গোলাম কবির ছোট ভাই মিন্টুকে চতুল ফায়ার সার্ভিসের পিছনে রেলগেট এলাকায় গাছ বিক্রিকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে গুলি ছোড়েন তিনি।

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, গোলাম কবিরকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

প্রসঙ্গত, ডা. গোলাম কবির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসনে (বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, মধুখালি) সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলেন।

সংসার ভাঙল মৌসুমী হামিদের

বছর দুয়েক আগে লেখক-নাট্যকার আবু সাইয়িদ রানার সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ। দুই বছর পর জানা গেলো পরকীয়ার জেরে সংসার ভেঙে গেছে তাদের। খবরটি নিশ্চিত করেছেন মৌসুমী নিজেই।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আপনারা যা শুনেছেন, ঠিকই শুনেছেন। এ নিয়ে বিস্তারিত বলার মতো মানসিক অবস্থায় নেই আমি।’

জানা গেছে, পরকীয়ার জেরে ঘর ভেঙেছে মৌসুমীর। গত বছর নভেম্বর থেকে আলাদা থাকছেন তারা। গেল কয়েক মাস ধরেই রানার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন শোবিজে। এক তরুণীর সঙ্গে রানার ঘনিষ্ঠতার খবর শোনা গেছে।

মূলত পরকীয়ার নিয়েই মৌসুমী-রানার সংসারে অশান্তির সূত্রপাত। এক পর্যায়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন রানা। ডিভোর্স লেটার পাঠান মৌসুমীকে।

এদিকে কথা বলতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায় মৌসুমী হামিদের।

২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি বিয়ে করেন রানা-মৌসুমী। পারিবারিক সিদ্ধান্তে হয়েছিল বিয়ে। সে সময় মৌসুমী বলেছিলেন, ‘রানার সঙ্গে আমার দুই বছরের পরিচয়। এরপর আমরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিই। দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলি। সবার সম্মতি নিয়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সেরে নিচ্ছি।’

শোবিজে মৌসুমীর যাত্রা শুরু লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতার সুন্দরী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। এরপর ব্যস্ত হয়ে পড়েন ছোটপর্দায়। নাকট ছাড়াও বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। এছাড়া ওটিটি মাধ্যমে কাজ করেও হয়েছেন প্রশংসিত।

টানা সাত দিন বন্ধের পর খুলল ব্যাংক

টানা সাত দিনের ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে গতকাল মঙ্গলবার দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খুলেছে। ব্যাংক খোলার কারণে শেয়ারবাজারের লেনদেনও শুরু হয়েছে। এদিকে রমজানের পর পুনরায় স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী ব্যাংকিং লেনদেন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত লেনদেন চালু হয়েছে। আর অফিস কার্যক্রম সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
ঢাকায় সোনালী ব্যাংক লোকাল শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ ছুটির পর ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়েছে। প্রথম দিন গ্রাহক উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। আগামী সপ্তাহে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হবে। কেননা ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা দিবসের ছুটি। পরের দুদিন শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। আগামী সপ্তাহের রোববার থেকে ব্যাংকিং কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে।