Home Blog Page 181

ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লো হিজবুল্লাহ

ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সোমবার (২ মার্চ) ভোরে এ হামলা চালানো হয় সংগঠনটি। হিজবুল্লাহ নিশ্চিত করেছে, শনিবার ভোরে ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে হামলা শুরু করার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

আল-জাজিরা জানায়, এই হামলার মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে গেল।

যদিও যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকেই লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েল হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালিয়ে আসছিল, হিজবুল্লাহ দাবি করে আসছিল যে তারা যুদ্ধবিরতি মেনে চলেছে।

এদিকে, নওয়াফ সালাম ইসরায়েলের দিকে হিজবুল্লাহর রকেট হামলাকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও সন্দেহজনক কাজ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এ হামলা লেবাননের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে এবং ইসরায়েলকে আগ্রাসন অব্যাহত রাখার অজুহাত দিচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘দেশকে আমরা নতুন কোনো দুঃসাহসিক অভিযানে জড়িয়ে পড়তে দেব না। হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং লেবাননের জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এর আগে হিজবুল্লাহ হামলার দায় স্বীকার করে জানায়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনিকে হত্যার প্রতিক্রিয়া এবং লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের লঙ্ঘনের জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

এবার যুদ্ধের মধ্যে আটকা পড়লো বাংলাদেশের জাহাজ!

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার জবাবে ইরানের বিধ্বংসী পাল্টা আক্রমণে উত্তাল হয়ে উঠেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই যুদ্ধাবস্থার কবলে পড়ে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে আটকা পড়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। বর্তমানে জাহাজটিতে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক অবস্থান করছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাহাজটি থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিএসসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাতার থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন স্টিল কয়েল নিয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি এই বন্দরে পৌঁছালেও নিরাপত্তার খাতিরে বর্তমানে এটি জেটিতেই স্থির রয়েছে।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর এম. মাহমুদুল মালেক নিশ্চিত করেছেন যে, জাহাজে থাকা সকল নাবিক নিরাপদ ও সুস্থ আছেন এবং তারা নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে দুবাইয়ে ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় এক বাংলাদেশিসহ তিনজনের নিহতের খবর জেবেল আলী বন্দর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। বিএসসি বহরের বাকি ছয়টি জাহাজ বর্তমানে নিরাপদ অঞ্চলে থাকলেও ‘জয়যাত্রা’ নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। নাবিকদের পর্যাপ্ত খাবার ও পানি মজুত রাখার পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যুদ্ধকবলিত অঞ্চলে বিএসসির একমাত্র জাহাজ হিসেবে বর্তমানে এটি বন্দরে অবস্থান করছে। নাবিকদের জীবন রক্ষায় জাহাজটিকে জেটিতেই নিরাপদ অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে।

ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার ঝুঁকিতে থাকায় বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ৩৮ হাজার টনেরও বেশি স্টিল কয়েল খালাসের কাজ শুরু করা হচ্ছে না।

বিএসসি কর্তৃপক্ষ অনলাইনে সার্বক্ষণিক নাবিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। দীর্ঘমেয়াদী অবরোধ বা যুদ্ধের আশঙ্কায় জাহাজে অতিরিক্ত খাদ্য ও সুপেয় পানি সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএসসির বাকি ছয়টি জাহাজ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও রাশিয়ার মতো নিরাপদ দেশের বন্দরগুলোতে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছে, যা বিএসসির জন্য কিছুটা স্বস্তির বিষয়।

দুবাইয়ে ইরানের হামলায় এক বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনাটি জেবেল আলী বন্দরে অবস্থানরত নাবিকদের মধ্যে মানসিক চাপ তৈরি করেছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যালোচনার মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

ঐতিহাসিক জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস আজ

একাত্তরের অগ্নিঝরা মার্চের আজকের এই দিনে প্রথমবারের মতো উত্তোলিত হয়েছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। ঐতিহাসিক ওই ঘটনার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ডাকসু’র তখনকার ভিপি আ স ম আবদুর রব। সেই দিনকে স্মরণ করে আজ (২ মার্চ) উদযাপন করা হচ্ছে ‘জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস’।

১৯৭১ সালের ২ মার্চ সেই দিনের দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তানের পতাকা নামানো হয় এবং বাংলাদেশের পতাকা উড়ানো হয়। রাতেই সচিবালয়ে একই দৃশ্য ঘটেছিল। সবুজ পটভূমির ওপর লাল বৃত্তের মাঝে সোনালি মানচিত্র অঙ্কিত সেই পতাকা বাঙালি জনগণের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।

তৎকালীন সময় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ, অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা একসঙ্গে দাঁড়ায়। পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি ছাত্র ও সাধারণ মানুষ স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি উজ্জীবিত হয় এবং মুক্তির পথে যাত্রা শুরু করে।

দেশের বাইরে, অর্থাৎ ভারতের কলকাতায় প্রথমবার ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। ডেপুটি হাইকমিশনের প্রধান এম হোসেন আলী সেই সময় বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে পতাকা উত্তোলন করেন।

পতাকা উত্তোলন দিবস উপলক্ষে আজ নানান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কলাভবন সংলগ্ন ঐতিহাসিক বটতলায় আজ সকাল ১০টায় ‘পতাকা উত্তোলন দিবস’ উদযাপন করা হবে। অনুষ্ঠানে ঢাবি’র ভাইস-চ্যান্সেলর, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন), প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) এবং ট্রেজারার উপস্থিত থাকবেন।

এছাড়া ডাকসুর সাবেক ভিপি, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী আ স ম আবদুর রব অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন।

স্বর্ণ ও রুপার দাম বেড়ে নতুন মূল্য কার্যকর আজ থেকে

দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণ ও রুপার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) শনিবার রাতে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আজ (রোববার, ১ মার্চ) থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বর্ণের দাম ভরিতে যথাক্রমে ২২ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮০ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৫৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।

রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৯৯৮ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৫ হাজার ৭১৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ৪ হাজার ৩১৬ টাকা।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ৩৪ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ২২ বার বাড়ানো হয়েছে এবং ১২ বার কমানো হয়েছে। রূপার দাম এই বছর ২০ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৩ বার বাড়ানো হয়েছে এবং ৭ বার কমানো হয়েছে।

ইফতারের পর মাথা ভারী? জেনে নিন সহজ প্রতিকার

রমজানে সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের মুহূর্তে স্বস্তি ফিরে আসার কথা থাকলেও অনেকেই ঠিক তখনই মাথাব্যথার সমস্যায় ভোগেন। কপাল ভারী লাগা, মাথার দুপাশে চাপ অনুভব করা বা চোখের ওপর টানটান ব্যথা—এগুলো বেশ সাধারণ উপসর্গ।

বিশেষজ্ঞদের ভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় ‘ফাস্টিং হেডেক’ বা উপবাসজনিত মাথাব্যথা। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়–এর আবাসিক চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন জানান, এই ধরনের ব্যথা সাধারণত মৃদু থেকে মাঝারি হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কপাল বা মাথার দুই পাশে অনুভূত হয়। খাবার গ্রহণের পর কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিনের মধ্যে এটি কমে যায়।

কেন হয় ইফতারের পর মাথাব্যথা?
১. পানিশূন্যতা
সারাদিন না খেয়ে-না পান করে থাকায় শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। এতে রক্তনালীর সংকোচন ঘটে এবং মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।

২. ক্যাফেইন থেকে বিরতি
যারা নিয়মিত চা বা কফি পান করেন, তারা হঠাৎ ক্যাফেইন বন্ধ করলে ‘উইথড্রয়াল’ জনিত মাথাব্যথায় আক্রান্ত হতে পারেন।

৩. রক্তে শর্করার ঘাটতি
দীর্ঘ সময় উপোস থাকার কারণে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায়, যা মস্তিষ্কে ব্যথার অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে। মাইগ্রেইনের রোগীদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও তীব্র হতে পারে।
কখন সতর্ক হবেন?
চিকিৎসকরা বলছেন, সাধারণ উপবাসজনিত মাথাব্যথা খুব তীব্র হয় না। তবে যদি—
🔹 ব্যথা অসহনীয় হয়ে ওঠে
🔹 ঘাড় শক্ত হয়ে যায়
🔹 শরীরের কোনো অংশ অবশ লাগে
🔹 বমি, জ্বর বা বিভ্রান্তি দেখা দেয়
তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

প্রতিরোধের উপায়
পর্যাপ্ত পানি পান
ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত অল্প অল্প করে বারবার পানি পান করতে হবে।

ক্যাফেইন ধীরে কমানো
রমজানের আগে থেকেই চা বা কফির পরিমাণ কমালে মাথাব্যথার ঝুঁকি কমে।
সুষম সেহরি ও ইফতার
সেহরিতে প্রোটিন, জটিল শর্করা ও শাকসবজি রাখা উচিত। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলা ভালো।
পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম
ঘুমের রুটিন ঠিক রাখা, প্রয়োজনে ছোট সময়ের বিশ্রাম নেওয়া এবং মানসিক চাপ কমানো মাথাব্যথা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

রমজানে ইফতারের পর মাথাব্যথা অনেকের কাছেই পরিচিত সমস্যা হলেও সচেতন খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ, ক্যাফেইন নিয়ন্ত্রণ ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের মাধ্যমে এটি অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

নরসিংদীতে সেই ধর্ষণ মামলায় আসামিপক্ষে দাঁড়াননি কোনো আইনজীবী

নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় বাবার কাছ থেকে কিশোরীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াননি।

রোববার (১ মার্চ) দুপুরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (২য়) আদালতের বিচারক মো. মেহেদী হাসান প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরাসহ ৭ জনের ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান ভুইয়া বলেন, সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ মামলায় কোনো আইনজীবী আসামিপক্ষকে আইনি সহায়তা দেবে না, রাষ্ট্রপক্ষকে সার্বিক সহায়তা করা হবে। পুলিশ আন্তরিক হয়ে মামলাটির দ্রুত চার্জশিট দিলে ৬ মাসের মধ্যে মামলাটি শেষ করতে পারব বলে আমরা আশাবাদী। এ মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নূরাসহ গ্রেফতার ৭ আসামির ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনের প্রেক্ষিতে ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাধবদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ওমর কাইয়ুম বলেন, মামলার এজাহারের প্রেক্ষিতে ধর্ষণের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ৪ জন এবং ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সালিশ বৈঠকের বিচারক ও সহায়তাকারী সাবেক মেম্বারসহ ৩ জনকে ৭ গ্রেফতারের পর ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। পলাতক দুই আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

উল্লেখ্য,বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) নরসিংদীর মাধবদীতে বাবাকে ছুরি হাতে জিম্মি করে ওই কিশোরীকে তুলে নিয়ে যায় নূর মোহাম্মদ নূরা ও তার সঙ্গীরা। পরে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ শেষে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ সরিষাখেতে ফেলে রাখে।

এ ঘটনায় নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে প্রধান করে ৯ জনকে আসামি করে মাধবদী থানায় মামলা দায়ের করেন নিহতের মা।

দ্রুত নতুন নেতা নিয়োগ দিতে চাপ দিচ্ছে আইআরজিসি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ক্ষমতার শীর্ষে কে আসবে তা নিয়ে তীব্র টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এড়িয়ে দ্রুত নতুন নেতা নিয়োগ দিতে চাপ দিচ্ছে।

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা হলো এ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস। তবে চলমান হামলার কারণে তাদের বৈঠক ডাকা সম্ভব নয় বলে দাবি করা হচ্ছে। এই সুযোগে আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে নতুন নেতার নিয়োগ সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামোর ভেতরে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কমান্ড চেইনের কিছু অংশে ভাঙন, নির্দেশ আদান-প্রদানে বিঘ্ন এবং সমন্বয়হীনতার খবর পাওয়া গেছে। কিছু সামরিক কমান্ডার ও সদস্যও নিজ নিজ ঘাঁটিতে রিপোর্ট করেননি। অব্যাহত হামলায় সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হতে পারে—এমন আশঙ্কায় তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, রোববার দিনের আলো ফোটার পর দেশজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা। নেতৃত্ব সংকট, সামরিক অস্থিরতা ও জনঅসন্তোষ—এই তিনটি চাপের মুখে ইরান এখন সংকটময় অবস্থায় রয়েছে।

ভূমিকম্পে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবী প্রস্তুত করা হ

ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকায় ১ লাখ সেচ্ছাসেবী প্রস্তুত করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

রোববার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আশ্রয়ের জন্য খেলার মাঠ এবং স্কুল চিহ্নিত করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ভূমিকম্পের সময় সচেতনতা তৈরি করতে মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারেক রহমান৷

প্রাথমিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করে ১১ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রী।

ইরানে হামলা ও খামেনি হত্যার প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভের ডাক

আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইরান ও দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে আজ বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

রোববার (১ মার্চ) বিকেল ৩টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হবে।

কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলামসহ দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতারা অংশ নেবেন।

উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। রোববার রাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেনির মৃত্যুর খবর জানান। পরে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য স্বীকার করে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সবচেয়ে বড় বাজিটি খেললেন

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদ যুগের অবসান ঘটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হলো নতুন এক রক্তক্ষয়ী অধ্যায়। কোনো ধরনের প্রত্যক্ষ উসকানি ছাড়াই ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানে ‘শাসন পরিবর্তনের’ লক্ষ্য নিয়ে একতরফা হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন কংগ্রেস বা জনগণের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই শুরু হওয়া এই যুদ্ধের আইনি ভিত্তি নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই প্রশ্ন উঠেছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলাকালীন এই আকস্মিক হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শনিবার প্রথম দফা হামলার পর রেকর্ড করা এক ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, এই অভিযানের লক্ষ্য কেবল তেহরানকে আলোচনার টেবিলে আনা নয়। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী বাহিনী বা আইআরজিসি আত্মসমর্পণ না করলে তাদের সমূলে বিনাশ করা হবে। একই সঙ্গে ধ্বংস করা হবে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও নৌবাহিনীকে। ভাষণে তিনি পার্সিয়ান, কুর্দি, আজেরি ও বালুচসহ ইরানের সব সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার আহ্বান জানান।

ট্রাম্পের সুর মেলাতেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে ‘সন্ত্রাসী শাসনগোষ্ঠী থেকে সৃষ্ট অস্তিত্বের হুমকি দূর করার যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বর্তমান সময়ে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তেহরান তাৎক্ষণিক কোনো বড় হুমকি ছিল না। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প যুদ্ধের পথ বেছে নেওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে। নিজ দেশে জনপ্রিয়তা কমতে থাকায় এবং জনমত জরিপে পিছিয়ে পড়ায় ভোটারদের মনোযোগ ঘোরাতে ট্রাম্প এই যুদ্ধকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি নিজের প্রিয় ‘শুল্ক’ আরোপের ক্ষমতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কাছে বড় ধরনের আইনি ধাক্কা খাওয়াও তাকে ক্ষুব্ধ করেছে।

সাবেক বাণিজ্যসচিব উইলবার রসের মতে, আদালতে এই পরাজয় ট্রাম্পের ইগোতে আঘাত করেছে, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই হামলায়। এছাড়া কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের নথিপত্র প্রকাশ নিয়ে চলা বিতর্ক থেকে দৃষ্টি সরাতেও যুদ্ধের ডামাডোল সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুদ্ধ শুরুর মাত্র ১০ দিন আগে ট্রাম্প ওয়াশিংটনে ‘শান্তি পর্ষদ’-এর উদ্বোধন করেছিলেন, যেখানে টনি ব্লেয়ারের মতো নেতারা ট্রাম্পকে ‘বিশ্ব শান্তির দূত’ হিসেবে প্রশংসা করেছিলেন। অথচ ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের ভয়াবহ স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে ট্রাম্প এখন সেই একই পথে হাঁটছেন। সে সময় ইরাকে যে ধরনের অজুহাত দেওয়া হয়েছিল, ইরানের ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ ছাড়াই প্রায় একই ধরনের ঢালাও মন্তব্য করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদিও গত প্রায় অর্ধশতাব্দীর মধ্যে ইরানকে সম্ভবত এখনই সবচেয়ে কম শক্তিশালী হিসেবে দেখা যায়, কারণ অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় দেশটি এমনিতেই বিপর্যস্ত।

ইতিহাস সাক্ষী, শুধু বিমান হামলার মাধ্যমে কোনো সুপ্রতিষ্ঠিত শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো প্রায় অসম্ভব। এখন তেহরান সরকারের কাছে এটি অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে তারা তাদের হাতে থাকা সবটুকু শক্তি দিয়ে আক্রমণকারীদের সর্বোচ্চ ক্ষতি করার চেষ্টা করবে।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর চাক শুমার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ট্রাম্প যখন ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিপদে পড়েন তখন ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। ইরানের ওপর এই অতর্কিত হামলা সেই হিতাহিত জ্ঞানশূন্যতারই ফল হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।