লিগ কাপের চলমান আসরে দাপুটে পারফরম্যান্স অব্যাহত রেখেছে ম্যানচেস্টার সিটি। দুই লেগের সেমিফাইনালে নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালের টিকিট কেটেছে পেপ গার্দিওলার দল। দ্বিতীয় লেগে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ৩-১ গোলের জয় তুলে নিয়ে মোট ৫-১ ব্যবধানে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করে শিরোপার লড়াইয়ে জায়গা করে নিয়েছে সিটিজেনরা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে আট বছর পর আবার লিগ কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ম্যানচেস্টার সিটি ও আর্সেনাল। সর্বশেষ ২০১৭–১৮ মৌসুমে এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে দেখা হয়েছিল দুই দলের। সেই ম্যাচে সিটি ৩-০ গোলে জয় পায়, যা ছিল গার্দিওলার অধীনে ক্লাবটির প্রথম শিরোপা। তখন আর্সেনালের কোচিং স্টাফে ছিলেন বর্তমান কোচ মিকেল আর্তেতা।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই কার্যত ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন নতুন তারকা ওমর মারমুশ। দুর্দান্ত গতি ও নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ১৯ ও ২৯ মিনিটে পরপর দুটি গোল করেন তিনি। এরপর ৩২ মিনিটে মিডফিল্ডার তিজানি রেইন্ডার্স গোল করে ব্যবধান ৩-০ তে নিয়ে যান। এতেই নিউক্যাসলের ঘুরে দাঁড়ানোর আশা প্রায় শেষ হয়ে যায়। বিরতির পর কিছুটা আক্রমণাত্মক খেলা উপহার দেয় নিউক্যাসল। ৬২ মিনিটে অ্যান্থনি এলাঙ্গা একটি গোল শোধ করেন। তবে সেটি শুধু ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কোনো কাজে আসেনি। পুরো ম্যাচজুড়েই সিটির রক্ষণভাগ ছিল দৃঢ়, মাঝমাঠে ছিল পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময় শেষে ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে গার্দিওলার শিষ্যরা।
এর আগে সেমিফাইনালে চেলসিকে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-২ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্সেনাল। সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতে প্রিমিয়ার লিগে সিটি-আর্সেনালের শিরোপা লড়াই নিয়মিত হলেও কাপ প্রতিযোগিতার ফাইনালে তাদের দেখা হওয়া ছিল বিরল। কমিউনিটি শিল্ড ছাড়া গত কয়েক বছরে বড় কোনো ফাইনালে মুখোমুখি হয়নি দুই দল।
ইতিহাস বলছে, লিগ কাপের ফাইনালে আর্সেনাল মোট আটবার উঠলেও শিরোপা জিতেছে মাত্র দুবার। বিপরীতে ম্যানচেস্টার সিটি নয়বার ফাইনালে উঠে আটবারই ট্রফি জিতেছে। চলতি মৌসুমে লিগে ৫৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা আর্সেনাল এবার অতীতের হতাশা কাটানোর সুযোগ পেতে পারে। উল্লেখযোগ্য আরেকটি পরিসংখ্যান হলো, এই ম্যাচের মাধ্যমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ম্যানচেস্টার সিটির মাঠে টানা ১২ ম্যাচে হারল নিউক্যাসল। এক প্রতিপক্ষের মাঠে এত দীর্ঘ হারার রেকর্ড নিউক্যাসলের ইতিহাসে নেই। আগামী ২২ মার্চ ওয়েম্বলিতে অনুষ্ঠিত হবে বহু প্রতীক্ষিত লিগ কাপের ফাইনাল।
ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পর গার্দিওলা বলেন, ‘আমরা আবার লন্ডনে যাচ্ছি, ওরা সেখানে আমাদের জন্য অপেক্ষা করবে। তারা কখনো উত্তরে (ফাইনালের জন্য) আসে না, কিন্তু আমি সত্যিই খুশি যে আবার ফিরতে পারছি। ১০ বছরে পাঁচটি লিগ কাপ ফাইনাল, এটা বড় একটি মাইলফলক। ভালো লাগবে।’
আট বছর পর সিটি-আর্সেনাল ফাইনাল
গাজার উদ্দেশে আবারো যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ত্রাণবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা
ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান যুদ্ধ ও মানবিক সংকটের মধ্যে আন্তর্জাতিক ত্রাণবহর গ্লোবাল সুমুদ এইড ফ্লোটিলা আবার যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। ঘোষণায় বলা হয়েছে, আগামী ২৯ মার্চ স্পেনের বার্সেলোনা বন্দর থেকে গাজার উদ্দেশে ত্রাণবহরের যাত্রা শুরু হবে। এবারের অভিযানে আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ থাকছে।
বৃহস্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত এক লাইভস্ট্রিম সংবাদ সম্মেলনে গ্লোবাল সুমুদের কর্মী সুমেইরা আকদেনিজ ওর্দু জানান, বার্সেলোনা থেকে ঐতিহাসিকভাবে যাত্রা শুরু করবে ফ্লোটিলা। এরপর তিউনিসিয়া, ইতালি এবং ভূমধ্যসাগরের অন্যান্য বন্দর থেকেও আরও জাহাজ এতে যুক্ত হবে।
তিনি বলেন, “এবার আমরা হাজার হাজার অংশগ্রহণকারী নিয়ে যাত্রা করবো, যার মধ্যে এক হাজারের বেশি চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী থাকবেন। আগের মিশনগুলোর তুলনায় এবারের অভিযান অনেক বেশি ব্যাপক হবে।”
সুমেইরা আরও জানান, এবারের বহরে শুধু চিকিৎসা পেশাজীবীরাই নয়, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণে দক্ষ ইকো-বিল্ডার এবং যুদ্ধাপরাধ তদন্তকারীরাও থাকবেন। তাদের উপস্থিতি গাজায় চলমান মানবাধিকার লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধের তথ্য সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আয়োজকদের মতে, এই ত্রাণবহরের মূল লক্ষ্য কেবল মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া নয়, বরং গাজার ওপর আরোপিত অবরোধের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সচেতনতা জোরদার করা। দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি আগ্রাসন ও অবরোধে গাজায় খাদ্য, চিকিৎসা ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।
গ্লোবাল সুমুদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশের নাগরিক, মানবাধিকার কর্মী ও পেশাজীবীদের এই উদ্যোগ গাজার জনগণের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংহতির স্পষ্ট বার্তা বহন করবে।
সিলেটে শ্রেষ্ঠ এসআই নির্বাচিত হলেন ডিবির আব্দুর রহিম জিবান
সিলেট রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ উপ-পরিদর্শক (এসআই) নির্বাচিত হয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) কর্মরত মো. আব্দুর রহিম জিবান। পেশাগত দক্ষতা, সাহসিকতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে আয়োজিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তার হাতে এই সম্মাননা পত্র ও পুরস্কার তুলে দেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত থাকাকালীন এসআই আব্দুর রহিম জিবান অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। জেলার অপরাধ দমন, মাদক উদ্ধার এবং বিভিন্ন সফল অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় তাকে সিলেট রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ এসআই (নিরস্ত্র) হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
পুরস্কার প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় এসআই আব্দুর রহিম জিবান জানান, এই অর্জন তার কাজের প্রতি উৎসাহ ও দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি আগামীতেও জেলা গোয়েন্দা শাখার হয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণে এবং অপরাধ দমনে সততার সাথে কাজ করে যেতে চান।
নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন তারেক রহমান
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এর আগে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’— এই স্লোগান নিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করবে বিএনপি। ইতোমধ্যে সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে যমুনা ঘেরাও, টিয়ারগ্যাস সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ
নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদনের আলোকে ৯ম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ঘেরাও করেছেন সরকারি কর্মচারীরা। এ সময় আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশকে জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে দেখা যায়।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা সোয়া ১১টায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের পাশের সড়কে পুলিশের দেয়া ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার প্রবেশ মুখে অবস্থান নেন তারা। এ সময় বিভিন্ন স্লোগন দেন সরকারি চাকরিজীবীরা। কিছুক্ষণ পর আন্দোলনকারীদের ওপর টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করতে দেখা যায় পুলিশকে।
এর আগে সকালে ৯ম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন সরকারি চাকরিজীবীরা। এরপর সেখান থেকে যমুনা অভিমুখে যাত্রা করেন তারা।
আন্দোলনকারীরা জানান, আজকের মধ্যেই ৯ম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করতে হবে, অন্যথায় তারা বাড়ি ফিরবেন না।
বিগত দিনে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও গেজেট প্রকাশ না করায় ক্ষোভ জানান তারা। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পে কমিশন গঠন হলেও গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় অবিচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।
এর আগে সকালে ৯ম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন সরকারি চাকরিজীবীরা। এরপর সেখান থেকে যমুনা অভিমুখে যাত্রা করেন তারা।
অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি জানান, পে কমিশনের প্রতিবেদন শুধু গ্রহণ করা হয়েছে, বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার চাইলে এ সিদ্ধান্ত বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারবে। গত ২৭ জানুয়ারি সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি এবং অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান।
রাজার জন্য যে বিচার সবার জন্য সে বিচার নিশ্চিত করতে চাই: জামায়াত আমির
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে সবখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। রাজার জন্য যে বিচার সবার জন্য সে বিচার নিশ্চিত করতে চাই।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।
জামায়াতের আমির বলেন, সারাদেশে ইনসাফ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সব বাহিনীর বেতন কাঠামো সময়োপযোগী করা হবে। সমাজের সব স্তরে নারী অধিকার এবং মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। প্রতিটি নদীর যেখানে বাঁধ দিলে বাংলাদেশ তার পানির ন্যায্য অধিকার বুঝে পাবে সেখানে বাঁধ দেওয়া হবে।
ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, পুরোনো বন্দোবস্তকে লালকার্ড এবং দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে ভোটারদের ভোটের আমানত হিসেবে ন্যায্য অধিকার বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির আরও বলেন, ন্যায়বিচার যখন কায়েম হবে এই বাংলাদেশে কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না। চাঁদাবাজির রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে। চাঁদাবাজদের ধরে এনে কাজে নিয়োগ দেওয়া হবে।
জামায়াত আমির বলেন, মানবিক বাংলাদেশের পক্ষে সর্বত্র গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জও তার গর্বিত অংশীদার। বিগত ৫৪ বছর এ দেশের মানুষ শাসন আর অপশাসন দেখে ক্লান্ত। এখন বাংলাদেশের জনগণ পরিবর্তন চায়। পুরোনো রাজনীতির বন্দোবস্ত আর দেখতে চাই না।
যুবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা তোমাদের হাতে অপমানের বেকার ভাতা নয়, প্রতিটি হাত দক্ষ করে গড়ে তুলবো। মর্যাদাপূর্ণ কাজ তোমাদের হাতে তুলে দেব। তোমরাই দেশ গড়বা, তৈরি হয়ে যাও। তোমাদের হাতে দেশের ভার তুলে দিতে চাই। বাংলাদেশ নামক উড়োজাহাজের ককপিটে বসবে যুবকরা, আমরা বসবো প্যাসেঞ্জার সিটে। এ দেশ তারা রকেট গতিতে সামনের দিকে এগিয়ে নেবে।
নারীদের উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনাদের দুটি জিনিস নিশ্চিত করতে চাই- একটি হচ্ছে সমাজের সব স্তরে অধিকার এবং মর্যাদা আরেকটি নিরাপত্তা।
জামায়াতে ইসলামী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি আবুজার গিফফারীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী ড. কেরামত আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী ড. মিজানুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী মো. নুরুল ইসলাম বুলবুলসহ জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এ সময় ১১ দলীয় জোটের এনসিপি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম এবং জাগপা সহসভাপতি ও দলের মুখপাত্র রাশেদ খান প্রধানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩টি আসনের জামায়াতের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন এবং আসন্ন নির্বাচনে তাদের জয়ী করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেন জামায়াত আমির।
আইসিসির দ্বিমুখী নীতি নিয়ে প্রশ্ন নাসেরের
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এখন আর কেবল ২২ গজের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। এটি রূপ নিয়েছে রাজনীতি আর ক্ষমতার দ্বন্দ্বে। আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়া থেকে শুরু করে বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে ছেঁটে ফেলার ঘটনায় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ালেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ও ধারাভাষ্যকার নাসের হুসেইন। একইসঙ্গে আইসিসি ও বিসিসিআইয়ের দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি।
স্কাই স্পোর্টসের পডকাস্টে মাইকেল আথারটনের অভিযোগ করেন, আইসিসি কাগজে-কলমে নিরপেক্ষ হলেও বাস্তবে তারা ভারতের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত। তার মতে, এই বৈষম্যমূলক আচরণই বিশ্ব ক্রিকেটের ভারসাম্য নষ্ট করছে।
আইসিসিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে নাসের বলেন, ধরা যাক, টুর্নামেন্টের এক মাস আগে ভারত বলল আমাদের সরকার চায় না আমরা কোনো দেশে খেলতে যাই। তখন কি আইসিসি একইভাবে কঠোর অবস্থান নিত? তখন কি বলত, ‘নিয়ম তো নিয়ম, দুর্ভাগ্য, তোমাদের বাদ দেওয়া হল’?
বিশ্বকাপের মতো মঞ্চ থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকি নিয়েও বাংলাদেশ নিজেদের আত্মসম্মান বিকিয়ে দেয়নি। এ নিয়ে নাসের বলেন, ‘আমার সত্যিই ভালো লেগেছে যে বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকেছে এবং নিজেদের ক্রিকেটার ফিজের (মুস্তাফিজ) পাশে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক এই সঙ্কট কোত্থেকে শুরু হয়েছে তাও মনে রাখতে হবে। (মুস্তাফিজুর) রহমান কলকাতার হয়ে আইপিএল খেলছে বা সে স্কোয়াডে ছিল এবং ব্যাখ্যাতীতভাবে হুট করে বিসিসিআই বলল, বাংলাদেশ ও ভারতের চলমান পরিস্থিতির কারণে তাকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিতে হবে এবং সেই সিদ্ধান্ত থেকেই বিষয়টি এতদূর এলো। পাকিস্তানও বাংলাদেশকে সমর্থন করেছে, এটাও ইতিবাচক। একসময় তো কাউকে বলতে হবে, রাজনীতি অনেক হলো, এবার কি আমরা আবার শুধু ক্রিকেটে ফিরতে পারি না?’
নাসেরের মতে, ভারতের অর্থনৈতিক শক্তির কারণেই আইসিসি তাদের প্রতি নমনীয়। তিনি বলেন, ‘ভারতীয় সমর্থকরা বলতে পারেন, আমাদের টাকা আছে, তাই ক্ষমতা আছে। কিন্তু ক্ষমতার সঙ্গে দায়িত্বও আসে। বারবার বাংলাদেশ বা পাকিস্তানকে কোণঠাসা করলে তাদের ক্রিকেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণেই ভারত-পাকিস্তান বা ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচগুলো এখন একতরফা হয়ে যাচ্ছে।’
এদিকে পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের ডাক দিলেও নিজেদের অবস্থান থেকে সরছে না ভারত। ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ম্যাচ খেলতে নিয়ম মেনেই শ্রীলঙ্কায় যাবে ভারত দল। প্রতিপক্ষ মাঠে না এলেও অনুশীলন ও সংবাদ সম্মেলনের মতো আনুষ্ঠানিকতা সারবে রোহিত শর্মার দল।
দাঁড়িয়ে পানি খাচ্ছেন? যেসব সমস্যা হতে পারে
পানি পান করলে শুধু তৃষ্ণাই মেটে না, সেই সঙ্গে শরীরে পানির মাত্রা বা ভারসাম্যও বজায় থাকে। চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ থাকতে দিনে পর্যাপ্ত পানি খাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সঠিক পদ্ধতিতে পানি পান না করলে অনেকসময় তা শরীরের জন্য বিপদজনক হতে পারে। অনেকেই খুব তাড়াহুড়োতে দাঁড়িয়ে পানি পান করেন। এতে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন-
প্রতিদিন আমাদের কমপক্ষে দেড় লিটার পানি খাওয়া উচিত। কিন্তু দাঁড়িয়ে থাকলে একবারে বেশি পানি খাওয়া যায় না , এর ফলে শরীরে জলের ঘাটতি দেখা যায়। তাই অনেকে শরীরে অস্বস্তিভাব লক্ষ্য করেন।
দাঁড়িয়ে পানি পান করার শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এটা হতে থাকলে আর্থারাইটিসের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
দাঁড়িয়ে পানি পান করলে শরীরের ভিতরে থাকা ছাঁকনিগুলো সংকুচিত হয়ে যায়। তখন শরীরের কার্যক্রম বিঘ্নিত হয় এবং শরীরে টক্সিনের মাত্রা বাড়তে থাকে।
পানি কিডনিকে সচল রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু দাঁড়িয়ে পানি খেলে সরাসরি কিডনিতে গিয়ে পরিশুদ্ধ না হতে পেরে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে । পরে রক্তের সঙ্গে মিশে শরীরের ক্ষতি করে।
অনেকসময় দাঁড়িয়ে পানি পানে বুকের পেশিতে চাপ পড়ে। তখন আমাদের হৃৎপিণ্ডের উপরেও চাপ সৃষ্টি হয় যা মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে।
দাঁড়িয়ে পানি খাওয়ার ফলে নার্ভের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এর ফলে মানসিক চাপ বা অ্যাংজাইটি বাড়তে শুরু করে।
পানি পানের কিছু সঠিক পদ্ধতি রয়েছে। যেমন-
১. সবসময়ই বসে পানি পান করা উচিত
২. এক ঢোঁকে না খেয়ে ছোট ছোট চুমুকে পানি পান করা স্বাস্থ্যকর।
পানি পানের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি মেনে চলতে পারলে সহজেই সুস্থ থাকা সম্ভব।
কোলেস্টেরল কমাতে উপকারী ভেষজ
বর্তমানের অনিয়মিত জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে অনেকেরই কোলেস্টেরলের সমস্যা বেড়েছে। রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়লে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই শরীর সুস্থ রাখতে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। আর এর জন্য কিছু ভেষজ হয়ে উঠতে পারে মহৌষধি। যেমন-
অর্জুন গাছের ছাল
আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় বহু প্রাচীন কাল থেকেই অর্জুন গাছের ছালের ব্যবহার হয়ে আসছে। অনেক কঠিন রোগব্যাধি আটকাতে সক্ষম এই ভেষজ। এমনকী হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও অর্জুন গাছের ছাল বেশ কার্যকর।
আমলকী
আমলকী ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর একটি গুণ। আরও নানা পুষ্টিগুণে পাওয়া যায় এই ফল। এই ফল রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর পাশাপাশি শর্করা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
হলুদ
প্রতিদিনের রান্নায় হলুদের ব্যবহারেকোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কারণ হলুদে রয়েছে উপকারী উপাদান কারকিউমিন। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। এর ফলে হৃৎপিণ্ডও ভালো থাকে।
গিলয়
এই ভেষজে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। এর পাশাপাশি লিভারের স্বাস্থ্যও ভালো রাখে।
ধনিয়া
রান্নাঘরের সুপরিচিত মসলা হল ধনিয়া। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে।
মেথি
ডায়েটারি ফাইবারে ভরপুর মেথি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে উপকারী। এই বীজের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
৫৭ হাজার পিস ইয়াবাসহ ৪ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ঢাকা মহানগর উত্তর কার্যালয় ৫৭ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে মাদক কারবারে ব্যবহৃত একটি প্রাইভটকারও জব্দ করা হয়। গত মঙ্গল ও বুধবার রাজধানীর মিরপুর, পল্লবী, উত্তরা এবং গাজীপুরের টঙ্গী থেকে ইয়াবাসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএনসি জানায়, ঢাকা মহানগর উত্তর কার্যালয়ের উত্তরা সার্কেলের পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল মঙ্গলবার গভীর রাতে পল্লবী এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় সন্দেহ হওয়ায় একটি প্রাইভেটকার তল্লাশী করে বিশেষ কৌশলে লুকানো অবস্থায় ছয় হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। এসময় গাড়ি থেকে মো. রাজু মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার সহযোগী মো. সুমন মিয়াকে উত্তরা থেকে চার হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাজু মোল্লার স্ত্রী সানজিদা আক্তারকে এবং টঙ্গী থেকে ৪৭ হাজার পিস ইয়াবাসহ জোৎস্না আকতারকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। এই অভিযান চলে গতকাল বুধুবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত।
পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান সমকালকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ওই চারজন দীর্ঘদিন মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তারা কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ইয়াবার বড় চালান এনে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় খুচরা মাদক কারবারিদের কাছে সরবরাহ করত। তিনি বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় মামলা করেছেন।


