Home Blog Page 182

ধর্মের ভিত্তিতে দেশকে আর বিভক্ত করতে দেওয়া হবে না: জামায়াত আমির

শনিবার বেলা ১১টার দিকে হবিগঞ্জে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেছেন যে, ধর্মের ভিত্তিতে দেশকে আর কোনোভাবেই বিভক্ত করতে দেওয়া হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আগামী দিনে মেধার ভিত্তিতেই প্রত্যেকে তার যোগ্য স্থান ও কাজ খুঁজে পাবে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বৈষম্য বিলোপ ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ একটি ফুলের বাগানের মতো যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে একসঙ্গে বসবাস করছে। ইসলাম ধর্মে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি পছন্দ করা হয় না। প্রতিটি ধর্মের মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের আচার-অনুষ্ঠান পালন করবে এবং কেউ এতে বাধা দিলে তা সহ্য করা হবে না। তিনি আরও জানান, নির্বাচিত হলে স্থানীয় চ-বাগানকে আধুনিকায়ন করে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা হবে।

দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান রাজনীতিকে পেশা নয় বরং কর্তব্য হিসেবে নিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, একদল মানুষ ভিক্ষুকদের কাছ থেকেও চাঁদা নেয়। দেশে এই চাঁদাবাজি চিরতরে বন্ধ করা হবে। সন্ত্রাস ও দুর্নীতির জন্য পূর্বের ক্ষমতাধরদের দায়ী করে তিনি বলেন, অসৎ রাজনীতির কারণেই দেশে বৈষম্য টিকে আছে।

জবাবদিহিতা ও জনসেবার নতুন নজির জামায়াত আমির এক অনন্য প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, নির্বাচিত হলে তাঁরা বছরে একবার জনগণের কাছে নিজেদের আয়-ব্যয়ের হিসাব দেবেন। এছাড়া নারীদের অবমাননাকারীদের ১৮ কোটি মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এমপিদের সুযোগ-সুবিধা বর্জন দলের সংসদ সদস্যদের বিলাসিতা ত্যাগের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন:

জামায়াতের এমপিরা বিনা ট্যাক্সের (শুল্কমুক্ত) গাড়ি সুবিধা গ্রহণ করবেন না।
স্বল্পমূল্যে দেওয়া সরকারি ফ্ল্যাটও কেউ নেবেন না।
প্রয়োজনে রিকশায় চড়বেন, তবুও জনগণের অর্থের অপচয় করবেন না।
যাঁদের সামর্থ্য আছে, তাঁরা বাজারমূল্যে গাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনবেন।

বিএনপির জনসভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম আল্লামা আব্দুল হামিদ

ঢাকা-৬ নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইশরাক হোসেনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন ব্যক্ত করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় কওমি আলেম ও খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশের আমির আল্লামা আব্দুল হামিদ (মধুপুরের পীর সাহেব)। শনিবার এক নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে তিনি এই সমর্থন জানান।

জনসভায় দেওয়া বক্তব্যে মধুপুরের পীর সাহেব ইশরাক হোসেনের বাবা, ঢাকার সাবেক মেয়র প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, ইশরাক তাঁর অত্যন্ত আদরের এবং ভালো ছেলে। মূলত বাবার সাথে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক ও ইশরাকের প্রতি স্নেহের কারণেই তিনি এই জনসভায় উপস্থিত হয়েছেন। ইশরাক বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে আল্লামা আব্দুল হামিদ দেশের ধর্মীয় প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ আলেম-ওলামা, পীর-মুর্শিদ ও মুসলমানদের দেশ। এ সময় তিনি রাজনীতির মাঠে দায়িত্বরত বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রতি বিশেষ নসিহত প্রদান করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসছে—এমন বিশ্বাস অনেকের মনেই রয়েছে, তবে ক্ষমতায় আসার পর সাধারণ জনগণের ওপর যেন কোনো ধরনের জুলুম বা অত্যাচার না হয়, সে বিষয়ে এখনই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

মধুপুরের পীরের এই প্রকাশ্য সমর্থন ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রে জড়াচ্ছে গৃহকর্মীরা! উঠে এসেছে ভয়াবহ তথ্য

রাজধানীর কর্মব্যস্ত জীবনে গৃহকর্মী এখন অপরিহার্য হলেও এই সুযোগে বাসাবাড়িতে বাড়ছে নৃশংস অপরাধের ঘটনা। নিরীহ বেশভূষায় কাজে ঢুকে এক শ্রেণির গৃহকর্মী চুরি ও ডাকাতি থেকে শুরু করে হত্যাকাণ্ডের মতো ভয়ংকর অপরাধ ঘটাচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত অন্তত পাঁচটি বড় অপরাধের ঘটনায় গৃহকর্মীদের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র গৃহকর্মীর ছদ্মবেশে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করছে যেখানে অনেক ক্ষেত্রে বাড়ির দারোয়ান বা কেয়ারটেকারদের যোগসাজশ পাওয়া যাচ্ছে।

বিগত বছরগুলোতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ড এবং ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভীন খুনের ঘটনায় গৃহকর্মীদের জড়িত থাকার বিষয়টি দেশজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। এছাড়া ইস্কাটন ও পল্লবী এলাকায় খাবারের সাথে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে গৃহকর্তাদের অজ্ঞান করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সির জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও অলংকার চুরির নেপথ্যেও ছিল বিশ্বস্ত গৃহকর্মীরা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে কোনো ধরনের পরিচয়পত্র বা স্থায়ী ঠিকানা যাচাই ছাড়াই এসব অপরাধীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

গৃহকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে আদালতের স্পষ্ট ছয় দফা নির্দেশনা এবং পুলিশের কঠোর সতর্কতা থাকলেও বাস্তবে নগরবাসীদের মধ্যে সচেতনতা খুবই কম। আদালত নির্দেশ দিয়েছিল যে কোনো নতুন কর্মীকে নিয়োগের পর প্রথম ৯০ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে এবং তাঁর ছবি ও জীবনবৃত্তান্ত থানায় জমা দিতে হবে। এছাড়া বাসাবাড়ির প্রবেশপথে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও নিবন্ধিত এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের কথা বলা হলেও এর প্রয়োগ নেই বললেই চলে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কর্মকর্তারা বারবার পরামর্শ দিচ্ছেন যে নিয়োগের আগে কর্মীর নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তা অবশ্যই যাচাই করতে হবে। পরিচিত কারো সুপারিশ বা পূর্ববর্তী কাজের সঠিক রেফারেন্স নেওয়া নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নির্ধারিত ফরম পূরণ করে নিকটস্থ থানায় জমা দেওয়াকে আইনি বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সুরক্ষার প্রধান উপায় হিসেবে দেখছে প্রশাসন।

একটি দল পরিকল্পিতভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দল পরিকল্পিতভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। লক্ষ্মীপুরে সেই দলের নেতাদের দ্বারা ভোটের সিল তৈরির ঘটনা তারই প্রমাণ। পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর পাচ্ছি, ধর্মীয় অনুভূতিকে অপব্যাবহার করে এবং জাল ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিপুলসংখ্যক বোরখা এবং নিকাব প্রস্তুত করা হয়েছে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, লক্ষ্মীপুরে ভোটে ব্যবহারের অবৈধ ছয়টি সিল উদ্ধারের ঘটনায় একটি প্রিন্টিং প্রেসের মালিক গ্রেফতার হয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন যে, জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতার নির্দেশেই এসব সিল তৈরি করা হয়েছে। এমনকি তার হোয়াটসঅ্যাপে পাওয়া অর্ডারের তথ্য, জব্দকৃত আলামত ও সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার প্রমাণও প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে, যা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার একটি ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়। আমরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

নির্বাচন কমিশনকে জোরালো আহ্বান জানিয়ে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের নারী কক্ষে অবশ্যই পর্যাপ্তসংখ্যক নারী পোলিং অফিসার নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী মুখমণ্ডল খুলে ভোটার শনাক্তকরণ কার্যকরভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যেই স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে যে, ন্যাশনাল আইডি কার্ড বা হজের ছবি তোলার সময় যেভাবে মুখ খোলা রাখা বাধ্যতামূলক। একইভাবে ভোটগ্রহণের সময় নারী পোলিং কর্তৃপক্ষের সামনে মুখ খুলে পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ভোটের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় সব রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নারী কক্ষে যথাসম্ভব নারী পোলিং এজেন্ট নিয়োগ নিশ্চিত করাও অপরিহার্য।

তিনি বলেন, এর আগেও আমরা দেখেছি- ওই রাজনৈতিক দলটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করেছে। এসব ঘটনার কারণে জাল ভোটের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এমনকি অতিরিক্ত ব্যালট ছাপানোর প্রস্তুতির তথ্যও আমরা পেয়েছি। আমরা দেখলাম, রাজধানীর পুরাতন ঢাকার সূত্রাপুরে সেই দলেরই এক নেতার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ক্রিকেট খেলার ১৫২টি স্ট্যাম্প উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তাহলে কি তারা নির্বাচনের সময় দেশব্যাপী সহিংসতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে? এমনই যদি হয়, তবে এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছি।

পর্যবেক্ষকের নামে কিছু প্রতিষ্ঠানের একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে

মাহদী আমিন বলেন, আরেকটি গুরুতর বিষয় আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে যে, আসন্ন নির্বাচনে পর্যবেক্ষক নিয়োগে নানাবিধ অসংগতি রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (পাশা) নামক একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে সর্বাধিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের অনুমোদন পেয়েছে। মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন দেশি পর্যবেক্ষকের মধ্যে একাই পাশার রয়েছে ১০ হাজার ৫৫৯ জন। যদিও বাস্তবে হবিগঞ্জের একটি গ্রামের বাসার একটি কক্ষই এই সংস্থার তথাকথিত কার্যালয় এবং লোকবল বলতে একজনই, যা ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। ইতঃপূর্বে আমরা নির্বাচন কমিশনে অবহিত করেছি যে, পর্যবেক্ষকের নামে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। আমরা মনে করি, এসব বিষয় একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে অন্তরায়। অতএব একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আবারও আহ্বান জানাচ্ছি।

ক্ষমতায় গেলে এ দেশকে পুনর্গঠন করা হবে: তারেক রহমান

জনগণের সমর্থন নিয়েই সরকার গঠন করতে চাই বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গত ১৬ বছর স্বৈরাচার শুধু নিজেদের স্বার্থ দেখেছে। ক্ষমতায় গেলে এ দেশকে পুনর্গঠন করা হবে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির নির্বাচনে জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে বেলা পৌনে ১২টায় সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভার মঞ্চে ওঠেন তিনি। মাঠ প্রাঙ্গণে আসতেই হাজার হাজার নেতা-কর্মী করতালি দিয়ে তাদের নেতাকে অভিবাদন জানায়। তারেক রহমান হাত নেড়ে তাদের অভিবাদনের জবাব দেন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২৩ বছর পর ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে পা রাখলেন তারেক রহমান।

ব্যবহৃত মোবাইল ফোন যেভাবে ডি-রেজিস্ট্রেশন করবেন

নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড পরিবর্তন, অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া কিংবা বিক্রির আগে অবশ্যই ফোনটি ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে—এমন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার’ (এনইআইআর) সিস্টেমটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হয়েছে। এর আওতায় বর্তমানে নেটওয়ার্কে সচল সব মোবাইল ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধনের আওতায় এসেছে।

এর ফলে এখন থেকে নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল ফোনের সিম পরিবর্তন, অন্য ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর বা বিক্রির ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সঙ্গে যুক্ত হ্যান্ডসেটটি আগে ডি-রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ এনআইডির সঙ্গে সংযুক্ত মোবাইল ফোনের নিবন্ধন বাতিল বা অবমুক্ত করতে হবে।

বিটিআরসি জানায়, ডি-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সিম কেনার সময় ব্যবহৃত এনআইডি অথবা পাসপোর্ট নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা প্রয়োজন হবে। নিবন্ধিত ফোন বিক্রি বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা আবশ্যক।

যেভাবে করবেন মোবাইল ডি-রেজিস্ট্রেশন

১. সিটিজেন পোর্টাল (neir.btrc.gov.bd):
এনইআইআর পোর্টালে লগইন করে ড্যাশবোর্ডে প্রবেশ করতে হবে। এরপর তালিকা থেকে সংশ্লিষ্ট ডিভাইস নির্বাচন করে ‘ডি-রেজিস্টার’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান শেষে ডি-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে।

*২. ইউএসএসডি চ্যানেল (১৬১৬১#):
মোবাইল ফোনের ডায়াল অপশনে গিয়ে *১৬১৬১# ডায়াল করতে হবে। এরপর ডি-রেজিস্ট্রেশন অপশন নির্বাচন করে নির্দেশনা অনুসরণ করলে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

বিটিআরসি আরও জানায়, ডি-রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে গ্রাহকের ব্যবহৃত সিম অবশ্যই তার নিজস্ব এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত হতে হবে। ক্লোন বা ডুপ্লিকেট আইএমইআই নম্বরযুক্ত হ্যান্ডসেট ডি-রেজিস্ট্রেশনের সময় অতিরিক্ত তথ্য হিসেবে পরবর্তী ব্যবহারকারীর সিম নম্বর দিতে হবে।

ডি-রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে বিটিআরসির ওয়েবসাইট neir.btrc.gov.bd ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিটিআরসির কল সেন্টার (১০০) অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার সেন্টার থেকেও সহায়তা নেওয়া যাবে।

সংসদে গিয়ে ‘নো সার্ভিস, নো বিল’ প্রস্তাব তুলবো: তাসনিম জারা

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে গেলে ‘নো সার্ভিস, নো বিল’ নীতির পক্ষে আইন প্রস্তাব তুলবেন বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির সাবেক নেত্রী ও ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনই মন্তব্য করেন তিনি।

তাসনিম জারা বলেন, আমার নির্বাচনী আসন যদিও শহরের প্রাণ কেন্দ্র তারপরও মানুষ যখন চুলা জ্বালায় রান্না করার জন্য গ্যাস বের হয় না। তবে, মাসে মাসে বিলটা ঠিকই দিতে হয়। সংসদে গিয়ে ‘নো সার্ভিস, নো বিল’ নীতির পক্ষে আইন প্রস্তাব তুলবো।

এছাড়াও সরকার যদি পাইপলাইনে গ্যাস দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে এলাকায় যাতে ভর্তুকি বা ন্যায্য দামে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়, সেই প্রস্তাবনাও রাখবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

ঢাকা-৯ আসনের এই প্রার্থী বলেন, আমার আসনে প্রায় ছয়-সাত লাখেরও বেশি মানুষ থাকে। তবে, এই বিপুল জনসংখ্যার জন্য মাত্র একটি সরকারি হাসপাতাল রয়েছে। আর এই মুগদা হাসপাতালে জনবলের সংকট আছে, যন্ত্রপাতি সংকট আছে, রোগীরা ভোগান্তির শিকার হয়, অব্যবস্থাপনা আছে। এই মেডিকেলে যাতে আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকে, পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ হয় সেজন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমি যোগাযোগ রাখবো। আমাদের যে পাড়ার ক্লিনিকগুলো আছে, সেগুলো যাতে আধুনিকায়ন করতে পারি সেটার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেব, যাতে এই ক্লিনিকগুলো মিনি হাসপাতালের মত হয়ে যায়। এছাড়াও ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সারা বছর কাজ করবে এমন স্থায়ী মশা নিধন স্কোয়াড গঠন করব। নারী স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে হাসপাতাল ও সরকারি স্থাপনায় গর্ভবতী মায়েদের জন্য নিয়মিত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা, ব্রেস্টফিডিং স্পেস এবং নারীবান্ধব টয়লেট নিশ্চিত করা হবে।

স্কুলে ভর্তিতে এমপির (সংসদ সদস্য) কোনো কোটা বা সুপারিশ থাকবে না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মেধা ও স্বচ্ছতাই হবে একমাত্র মানদণ্ড। এছাড়া, স্কুলে আধুনিক বিজ্ঞান ল্যাব, কোডিং ক্লাব ও লাইব্রেরি গড়ে তোলা হবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তাসনিম জারা বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন কেবল প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যম নয়, বরং এর মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা হবে, যেখানে দেশের প্রতিটি নাগরিক তাদের ন্যায্য অধিকার ভোগ করতে পারবেন। নাগরিকরা সেবা গ্রহণের জন্য প্রতিষ্ঠানের দ্বারে দ্বারে ঘুরবে না, বরং এগুলোই তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।

হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখার সহজ উপায়

নারীদের মধ্যে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওজন বেড়ে যাওয়া, সব সময় ক্লান্ত লাগা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ত্বকের সমস্যা—এসব উপসর্গ অনেকেই অনুভব করেন, কিন্তু মূল কারণটি বুঝতে পারেন না।

বিশেষ করে পিসিওডি (পলিসিস্টিক ওভারিয়ান ডিস-অর্ডার)–এ ভোগা নারীরা হরমোনের সমস্যা নিয়ে বেশি লড়াই করেন। অনেক চেষ্টা করেও অনেকে সঠিক সমাধান পান না।

সম্প্রতি পিসিওডি ও গাট–হেলথ বিশেষজ্ঞ ডা. রানি রোশনি হরমোনের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার জন্য চারটি সহজ কৌশল শেয়ার করেছেন। সেগুলো হচ্ছে—

 

ইনসুলিন ঠিক রাখা

ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, পিসিওডি থাকা নারীদের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এটি ঠিক রাখতে এই চিকিৎসক পরামর্শ দেন কার্বোহাইড্রেট বেশি, এমন খাবারের আগে হালকা গরম পানিতে সামান্য আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে পান করতে।খাওয়ার পর ১০ মিনিট হাঁটাও ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়াতে সাহায্য করে।

কর্টিসল নিয়ন্ত্রণ করা

কর্টিসল কমাতে ‘বক্স ব্রিদিং’ পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে।

৪ সেকেন্ড শ্বাস নিন, ৪ সেকেন্ড ধরে রাখুন, ৪ সেকেন্ডে ছাড়ুন। এভাবে ২ মিনিট করলে সাময়িক স্বস্তি পাওয়া যায়।

সকালে অন্তত ৫ মিনিট রোদে থাকা কর্টিসল লেভেল স্বাভাবিক করতে সাহায্য করতে পারে।

মেলাটোনিন বাড়ানো

মেলাটোনিন শরীরকে ঘুমের দিকে নিয়ে যায় এবং বিশ্রামের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া চালু করে। গবেষণায় দেখা গেছে, পিসিওএস থাকা নারীদের শরীরে মেলাটোনিনের মাত্রা কম থাকতে পারে, যার ফলে ঘুমের সমস্যা, ক্লান্তি ও মুড সুইং দেখা দেয়।

এটি ঠিক করতে ঘুমের অন্তত এক ঘণ্টা আগে ফোন বন্ধ রাখা ভালো। গরম হলুদ দুধ বা ক্যামোমাইল চা পান শরীরকে ঘুমের সংকেত দেয়। আলো নিভিয়ে, ফোন দূরে রেখে প্রতিদিন একই রুটিন অনুসরণ করলে ঘুমের মান উন্নত হতে পারে।

ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন ঠিক রাখা

পিসিওএস থাকা নারীদের মধ্যে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের ভারসাম্যহীনতা দেখা যায়, যার ফলে অনিয়মিত মাসিক, মুখে অতিরিক্ত লোম, মেটাবলিক সমস্যা ইত্যাদি হতে পারে।

প্রতিদিন এক টেবিল চামচ ফ্ল্যাক্সসিড দই বা স্মুদির সঙ্গে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ। পেট ফাঁপা কমাতে দিনে ২–৩ লিটার পানিতে এক চিমটি পিঙ্ক সল্ট মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। শক্তি বাড়াতে মন খারাপ বা দুর্বল লাগলে ২ মিনিট ওয়াল সিট বা স্কোয়াট করা উপকারী।

দীর্ঘমেয়াদে সিড সাইক্লিং অনুসরণ করা যেতে পারে। প্রথম ১৪ দিন ফ্ল্যাক্সসিড ও কুমড়ার বীজ, পরের ১৪ দিন সূর্যমুখী ও তিলের বীজ। পাশাপাশি স্ট্রেংথ ট্রেনিং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, প্লাস্টিকে খাবার গরম না করা এবং ধাতব পানির বোতল ব্যবহার করার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

৮০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁলেন ইলন মাস্ক

ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ ৮০০ বিলিয়ন বা ৮০ হাজার কোটি ডলার ছাড়াল। মাস্কের রকেট কোম্পানি স্পেসএক্স তাঁরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানি এক্সএআই অধিগ্রহণ করার পর এই মাইলফলক তৈরি হয়েছে। ফোর্বস ম্যাগাজিনের হিসাবে, এই চুক্তিতে যৌথ কোম্পানির মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি ডলার। ফলে মাস্কের সম্পদ বেড়েছে ৮৪ বিলিয়ন ডলার- মোট সম্পদমূল্য বেড়ে হয়েছে রেকর্ড ৮৫২ বিলিয়ন বা ৮৫ হাজার ২০০ কোটি ডলার। চুক্তির আগে মাস্কের হাতে স্পেসএক্সের আনুমানিক ৪২ শতাংশ মালিকানা ছিল।

পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বুবলী, বাবা শাকিব খান!

ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা শাকিব খান ও তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। প্রথম স্ত্রী অপু বিশ্বাস এবং দ্বিতীয় স্ত্রী শবনম বুবলীর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায়। এবার শাকিব খান ও শবনম বুবলীকে ঘিরে নতুন গুঞ্জন ছড়িয়েছে—অভিনেত্রী বুবলী নাকি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

বিনোদন অঙ্গনের একাধিক সূত্রের দাবি, শাকিব খান ও বুবলী দ্বিতীয় সন্তানের পরিকল্পনা করেছেন। সে অনুযায়ী, শাকিব খান তৃতীয়বারের মতো বাবা হতে যাচ্ছেন বলে আলোচনা চলছে।

জানা গেছে, গত বছরের শেষদিকে শাকিব খান ও বুবলী তাঁদের ছেলে শেহজাদ বীরকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান। সেই সময় তাঁদের মধ্যে আবার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে শোনা যাচ্ছে। এরপরই ডিসেম্বর মাস থেকে বুবলীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন ছড়াতে শুরু করে।

মাঝখানে অভিনেত্রীর গর্ভপাতের খবরও শোনা গেলেও সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, সে গুঞ্জন সত্য নয়। বরং রমজানের প্রথম সপ্তাহেই বুবলী যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন এবং সেখানেই সন্তানের জন্ম দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, শাকিব খান ও বুবলীর প্রথম সন্তান শেহজাদ বীরের জন্মও যুক্তরাষ্ট্রেই হয়েছিল। সে সময় বুবলী অভিযোগ করেছিলেন, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শাকিব খান তাঁর খোঁজখবর রাখেননি এবং তাঁকে একা রেখে দেশে ফিরে আসেন। তবে সেই অধ্যায় এখন অতীত বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে নতুন সন্তানের আগমনের খবরে আবারও আলোচনায় শাকিব খান ও বুবলী। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বুবলী ও শাকিব খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও দুজনের পক্ষ থেকেই কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।