Home Blog Page 184

ঈদের আনন্দ হারিয়ে গেছে পুরো গ্রামে, অনিশ্চিত জীবনের মুখে পরিবার

মা ও নাবালক তিন বোন বাড়িতে অপেক্ষায় ছিলেন। বাবার সঙ্গে রাজধানী থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন সোহেল ফকির ও তার স্ত্রী। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাড়িতে পৌঁছাতেন। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চানপুরা ইউনিয়নের চরকাটা গ্রামের ফকির বাড়িতে থাকতো ঈদের আনন্দ। বুধবার বিকেলে ঢাকা সদরঘাটের দুর্ঘটনা শুধু ফকির বাড়িতে নয়, পুরো গ্রামেই ঈদের আনন্দ হারিয়ে গেছে। উপার্জনক্ষম দুইজনকে হারিয়ে সোহেলের পরিবার অনিশ্চিত জীবনের মুখে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সোহেলের নিথর দেহ বাড়িতে পৌঁছায়। বাবা মিরাজ ফকির এখনও বুড়িগঙ্গায় নিখোঁজ। রাজধানীর মির্ডফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সোহেলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রেশমা আক্তার। মা ও বোনসহ স্বজদের আহাজারিতে ওই বাড়িতে আসা অনেক গ্রামবাসী চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে সড়কপথে সোহেলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। দুর্ঘটনার খবর জানার পর বুধবার রাত থেকেই মৃধা বাড়িতে গ্রামাবাসীর ভিড় ছিল। মরদেহ পৌঁছার পর মা ও বোনসহ স্বজনদের আর্ত চিৎকারে উপস্থিত সকলে আবেগ আপ্লুত হন। জোহরের নামাজের পর গ্রামের নুর মোহম্মদ মৃধা বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্তানে সোহেলকে দাফন করা হয়।

তার চাচা ফারুক ফকির জানান, ভাই মিরাজ ফকির (সোহেলের বাবা) ১৫ থেকে ২০ বছর আগে ঢাকায় যান। সাভারের হেমায়েতপুরে একটি ট্যানারিতে শ্রমিকের কাজ করতেন। ৫ বছর আগে একমাত্র ছেলে সোহেলকেও নিয়ে যান। সে বাবার পেশায় যুক্ত হয়। বছর দুয়েক আগে সোহেল বিয়ে করে। স্ত্রী ও বাবাকে নিয়ে সাভারে ভাড়া বাসায় থাকতেন। বৃহস্পতিবার বোনাস পেলে ঈদ উদযাপনের জন্য তারা বাড়িতে রওনা হয়েছিলেন।

ফারুক ফকির জানান, সোহেলর মা নাবালক তিন মেয়ে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকেন। মিরাজ ও ভাতিজা সোহেল ছিল পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাদের অনুপস্থিতিতে মা ও তিন বোনের দেখার কেউ রইলো না। পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ফারুক ফকির।

প্রসঙ্গত, মিরাজ, সোহেল ও তার স্ত্রী মেহেন্দিগঞ্জ যাওযার জন্য বুধবার বিকাল ৫টার দিকে একটি ট্রলারে রাজধানীর সদরঘাটে পৌঁছান। ট্রলার থেকে তারা ‘আসা-যাওয়া’ নামক লঞ্চে উঠছিলেন। এ সময়ে জাকির সম্রাট-৩ নামের আরেকটি লঞ্চ চাপা দিলে সোহেল নিহত হন। তার বাবা মিরাজ বুড়িগঙ্গায় পড়ে নিঁখোজ এবং সোহেলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী গুরুতর আহত হন।

টাঙ্গাইলে ২০ কিলোমিটার যানজট-ধীরগতি

যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা এলাকায় উভয় দিকে প্রায় ২০ কিলোমিটারজুড়ে থেমে থেমে যানজট ও যানবাহনের ধীরগতি সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেতুর পশ্চিম প্রান্তে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকামুখী লেন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার পর স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তে যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ এ ব্যবস্থা নেয়। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ঢাকামুখী যানবাহন আটকে রাখা হয়। এ সময় ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলগামী দুটি লেন ব্যবহার করে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।

এদিকে পূর্ব প্রান্তের যানজটের প্রভাব সেতুর পশ্চিম প্রান্তেও পড়েছে। ঢাকামুখী লেন বন্ধ থাকায় পশ্চিম পাড়ের গোলচত্বর থেকে সয়দাবাদ মুলিবাড়ি হয়ে দীর্ঘ যানবাহনের সারি তৈরি হয়েছে। এতে ঢাকাগামী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

কড্ডা ট্রাফিক ফাঁড়ির ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন, “বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার পর থেকে ঢাকামুখী বাস চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে উভয় লেন দিয়ে উত্তরাঞ্চলের যানবাহন চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, “যানজট নিরসনে স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষকে (বিবিএ) অনুরোধ করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অধীনে যমুনা সেতুর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “ঢাকা থেকে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলগামী যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা প্রান্তে প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় যানজট ও ধীরগতি তৈরি হয়েছে। এ কারণে সেতুর পশ্চিম প্রান্তে ঢাকামুখী লেন সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে উভয় লেন দিয়ে উত্তরমুখী যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এটি যানজট নিরসনে সাময়িক ব্যবস্থা।”

এদিকে টাঙ্গাইল প্রতিনিধি আব্দুর রহিম জানান, টাঙ্গাইল অংশে চাপ কমাতে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকামুখী লেনটি প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়। পরে দুপুর দেড়টার পর সেতুর পূর্ব প্রান্তে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী এলাকা দিয়ে বিকল্প পথে দূরপাল্লার বাস ঢাকার দিকে বিকল্পভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয় বলে সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া প্রতিনিধি বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে দুইটার দিকে জানান, “মেয়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে জরুরি ঢাকায় যাচ্ছি। কিন্তু যমুনা সেতুর পশ্চিম প্রান্তে সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ মোড়ে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা হলো আটকে আছি। টাঙ্গাইলের যানবাহনের চাপ কমাতে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকামুখী লেনটি বন্ধ রাখা হয়েছে। উভয় লেন দিয়ে ঢাকা থেকে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলগামী যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত ময়মনসিংহের যুবকের মৃত্যু, নিহত বেড়ে ৩

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত বাংলাদেশি প্রবাসী আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মঙ্গলবার সৌদি আরবের স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টায় আল খারিজ শহরের সোলাইমান আল হাবিব হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

এ নিয়ে একই হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়ালো। নিহত মামুন ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ভরভরা গ্রামের শহীদ সওদাগরের ছেলে। তিনি এক সন্তানের বাবা।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৮ মার্চ ইফতারের আগ মুহূর্তে সৌদি আরবের আল খারিজ শহরের ‘আল তোয়াইক বলদিয়া’ কোম্পানির একটি শ্রমিক ক্যাম্পে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই দুই বাংলাদেশি নিহত হন এবং মামুনসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে মামুনের শরীরের প্রায় ৭২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। ১০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার রাতে তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার মরদেহ ওই হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে নিহতের বাবা শহীদ সওদাগর ছেলের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোক বিরাজ করছে।

মামুনের মামাতো ভাই শাওন মড়ল বলেন, ‘ভাইকে বাঁচাতে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। এখন আমাদের একটাই দাবি, সরকারের সহযোগিতায় যেন দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।’

এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই হামলায় নিহত অপর দুই বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত করেছিল। তারা হলেন— কিশোরগঞ্জের কটিয়াদির বাচ্চু মিয়া এবং টাঙ্গাইলের সখীপুরের মোশাররফ হোসেন। মামুনের মৃত্যুতে এই হামলায় প্রাণ হারানো বাংলাদেশির সংখ্যা এখন তিনজন।

ইসরায়েলে গুচ্ছ বোমা হামলা ইরানের, দুজন নিহত

ইসরায়েলের তেল আবিবে ক্লাস্টার ওয়ারহেড বা গুচ্ছ বোমা যুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটি বলছে, জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে এই হামলা চালানো হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার রাতে চালানো ওই হামলায় তেল আবিবের একটি আবাসিক এলাকায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। এলাকাটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনার কাছাকাছি অবস্থিত। চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলে নিহতের সংখ্যা ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে।

ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হামলায় খোররামশাহর-৪ ও কদর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। দুটি ক্ষেপণাস্ত্রই কয়েক স্তরের ওয়ারহেড (বিস্ফোরক যুক্ত অংশ) বহনে সক্ষম।

এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশে অনেকগুলো ছোট ছোট বিস্ফোরকে বিভক্ত হয়ে বিশাল এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ফলে এগুলো প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন। ইসরায়েলের অভিযোগ, ইরান বারবার ক্লাস্টার ওয়ারহেড ব্যবহার করছে।

এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে একটি প্রজেক্টাইল (ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলা) আঘাত হেনেছে। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) জানিয়েছে ইরান। আইএইএ-এর প্রধান রাফায়েল গ্রোসি পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে সংঘাতের সময় সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।

ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি রুখে দেওয়া। সে অভিযানেই দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতাসহ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

 

বগুড়ায় মাইক্রোবাস উল্টে নিহত ৩, কয়েকজন আশঙ্কাজনক

বগুড়ার শেরপুরে যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাস উল্টে তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ভবানীপুর ইউনিয়নের ছোনকা কলেজ রোড এলাকার ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় চারজনকে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে আরও একজন মারা যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলে

শেরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. বখতিয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। আহত চারজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের অবস্থা গুরুতর ছিল।

শেরপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মর্তুজা নূর বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারে ধাক্কা দেয়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহত ও আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে।

 

হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ঈদের সকাল শুরু হোক নবাবি সেমাই দিয়ে, জানুন রেসিপি

ঈদের সকাল শুরু হয় বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি খাবার মুখে দিয়ে। এবারের ঈদে প্রিয়জনদের জন্য বাসায় নবাবি সেমাই রান্না করুন। রেসিপি দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী সীমা পুষ্প। 

উপকরণ: সেমাই দেড় কাপ, ঘি ২ টেবিল চামচ, দুধ ১ লিটার, কনডেন্সড মিল্ক ১/২ কাপ, চিনি ২-৩ টেবিল চামচ, কাস্টার্ড পাউডার এক টেবিল চামচ, এলাচ গুঁড়া ১/৪ চা চামচ, কিশমিশ ২ টেবিল চামচ, কাজু বাদাম ২ টেবিল চামচ, পেস্তা বাদাম ১ টেবিল চামচ, মালাই বা ক্রিম ১/৪ কাপ।

গৎবাঁধা চরিত্রে অভিনয় করার কোনো মানে নেই: ববিতা

ঈদ মানেই আনন্দ, স্মৃতি আর প্রিয় মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানোর বিশেষ উপলক্ষ। এই আনন্দকে আরও রঙিন করে তুলতে ঈদ উপলক্ষে বিশেষ আড্ডার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। এতে অতিথি হয়ে হাজির হয়েছেন নন্দিত অভিনেত্রী ববিতা।

এই আয়োজনে উঠে আসবে তাঁর ঈদের শৈশব স্মৃতি, পারিবারিক মুহূর্ত এবং শিল্পীজীবনের নানা অজানা গল্প। অনুষ্ঠানে গল্প, গান, হাসি-ঠাট্টা আর খুনসুটিতে জমে উঠে প্রাণবন্ত আড্ডা। যেখানে অভিনেতা শফিউল আলম বাবুর সঙ্গে স্মৃতিচারণে অংশ নেন ববিতা। আড্ডায় তিনি শোনাবেন অভিনয়জীবনে নায়িকা হয়ে ওঠার গল্প, বলবেন ঈদ উদযাপন ও বিভিন্ন সিনেমার স্মরণীয় অভিজ্ঞতার কথাও। এ পর্বের প্রযোজনায় রয়েছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে ববিতা বলেন, ‘বেশ বিরতির পর কোনো টেলিভিশন চ্যানেলে ঈদ আড্ডায় অংশ নিয়েছি। জীবনের নানা বিষয় অনুষ্ঠানে আলোচনা হয়েছে। প্রাণ খুলে কথা বলেছি। আশা করছি, অনুষ্ঠানটি দর্শকের ভালো লাগবে’।

এ আয়োজন ছাড়াও সম্প্রতি তিনি চ্যানেল আইয়ের একটি দীর্ঘ আলপচারিতায় আয়োজনে অংশ নিয়েছেন। সম্প্রতি চ্যানেল আইয়ের রেকর্ডিং শেষ হয়েছে। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন সিনিয়র চলচ্চিত্র সাংবাদিক আবদুর রহমান। ‘বরেণ্য ববিতা’ শিরোনামে নির্মিত এই বিশেষ সাক্ষাৎকারটি শিগগিরই চ্যানেল আইতে প্রচার হবে। এতে তাঁর শৈশব, কৈশোর, চলচ্চিত্রে আসার গল্প, অভিনয়জীবনের নানা স্মৃতি এবং ব্যক্তিজীবনের অজানা অনেক বিষয় উঠে আসবে বলে জানা গেছে। অনুষ্ঠানটি প্রচার হবে ঈদের দ্বিতীয় দিন সন্ধ্যা ৬টায়।

এই সময়ে উৎসব আয়োজনের অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও সিনেমায় একেবারেই অনিয়মিত ববিতা। ভালো গল্পের সিনেমার প্রস্তাব পেলে অভিনয় করবেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে ববিতা বলেন, ‘একজন প্রকৃত শিল্পীর কোনো অবসর নেই। অভিনয়তো করতেই চাই। আমার কাছে সে রকম গল্প আসতে হবে। যে ধরনের সিনেমা আমি করতে চাই, সে রকম সিনেমার প্রস্তাব এ সময়ে কোনো নির্মাতা নিয়ে আসতে পারেননি। মনের মতো ভালো চরিত্র না পেলে গৎবাঁধা চরিত্রে অভিনয় করার কোনো মানে নেই।’

১৯৫৩ সালের ৩০ জুলাই বাগেরহাটে ববিতার জন্ম। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তিনি এক অনন্য নাম। ষাটের দশকের শেষদিকে তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন এবং দ্রুতই জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর অভিনয়ের বৈচিত্র্য, সাবলীলতা ও গভীরতা তাঁকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে স্থায়ী আসন এনে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলো ছড়িয়েছেন।

খ্যাতিমান নির্মাতা জহির রায়হানের ‘সংসার’ সিনেমায় প্রথম অভিনয় করেন তিনি। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ পেয়েছেন অসংখ্য সম্মাননা।

ভিনিসিয়াস নৈপুণ্যে সিটিকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়াল

০

চ্যাম্পিয়নস লিগে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর প্রথম লেগে ৩-০ গোলে পিছিয়ে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির ইতিহাস গড়া হলো না ইতিহাদে। ঘরের মাঠে ফিরতি লেগে শুরুর দিকেই লাল কার্ড দেখেন ম্যানচেস্টার সিটির অধিনায়ক। ১০ জন নিয়ে ফেরার চেষ্টা করলেও শেষ ষোলো থেকে বিদায় হতে হলো সিটিকে। ভিনিসিয়াস জুনিয়রের জোড়া গোলে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ফিরতি লেগে ২-১ গোলে হেরেছে ম্যানচেস্টার সিটি।

যদিও অফসাইডের কারণে সিটির দুটি গোল বাতিল হয় আর রিয়ালের একটি। নিশ্চিত গোল বাঁচাতে গোল-লাইনে হ্যান্ডবল করে ২০ মিনিটে লাল কার্ড দেখেন সিটি মিডফিল্ডার বের্নার্দো সিলভা। দুই লেগ মিলিয়ে সিটিকে ৫-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল রিয়াল।

ইতিহাদ স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে ভিনিসিয়াস জুনিয়র পেনাল্টি থেকে রিয়ালকে এগিয়ে নেওয়ার পর, সমতা টানেন আর্লিং হলান্ড। পরে আরেক গোলে ব্যবধান গড়ে দেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। পাঁচ মৌসুমের মধ্যে চতুর্থবার সিটিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় করে দিল রিয়াল।

ম্যাচে ৪৭ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য ২২টি শট নিয়ে আটটি লক্ষ্যে রাখতে পারে সিটি। রিয়ালের ১৪ শটের সাতটি লক্ষ্যে ছিল।

ম্যাচের প্রথম মিনিট পূর্ণ না হতেই বড় সুযোগ পেয়ে যান প্রথম লেগে হ্যাটট্রিক করা ফেদে ভালভার্দে। মাঝমাঠের বাঁ দিক থেকে ভিনিসিয়াসের ক্রস ডি-বক্সের বাইরে ফাঁকায় পান তিনি। কিন্তু দুর্বল শটে হতাশ করেন উরুগুয়ের তারকা। বল সহজেই ঠেকান এগিয়ে আসা গোলরক্ষক জানলুইজি দোন্নারুম্মা।

একটু পরই মুহূর্তের ব্যবধানে ডাবল সেভে জাল অক্ষত রাখেন থিবো কোর্তোয়া। হায়ান শেহকি ও রদ্রির শট ঠেকিয়ে দেন বেলজিয়ান গোলরক্ষক।

সপ্তদশ মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে ভিনিসিয়াসের নেওয়া জোরাল শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। সিটি যদিও বল ক্লিয়ার করতে পারেনি। বক্সের ভেতরেই অন্য পাশ থেকে ভিনিসিউসের শট বের্নার্দো সিলভার হাতে লাগলে পেনাল্টির আবেদন করে রিয়ালের খেলোয়াড়রা।

লাইন্সম্যান শুরুতে অফসাইডের পতাকা তুললেও, ভিএআরে দীর্ঘ পরীক্ষার পর মনিটরে দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি, একই সঙ্গে সিটি অধিনায়ক সিলভাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান তিনি।

প্রথম লেগে পেনাল্টিতে ব্যর্থ হলেও, এবার আর ভুল করেননি ভিনিসিয়াস। গোল হজমের পর চতুর্থ অফিসিয়ালের গায়ে হাত রেখে হলুদ কার্ড দেখেন সিটির কোচ গুয়ার্দিওলা।

২৪তম মিনিটে আরেকটি ভালো সুযোগ পান ভিনিসিয়াস। বক্সের ভেতর থেকে এবার শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি।

পরের মিনিটে দুরূহ কোণ থেকে হলান্ডের শট ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া। ফিরতি বল বক্সের ভেতর থেকে উড়িয়ে মারেন ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী রদ্রি।

৪১তম মিনিটে ম্যাচে সমতা টানে সিটি। জটলার ভেতর দিয়ে আসা বলে কাছ থেকে হলান্ড ঠিকমতো পা ছোঁয়াতে না পারলেও, তা গড়িয়ে জালে জড়ায়। গত ১১ ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথম জালের দেখা পেলেন নরওয়ের তারকা। দ্বিতীয়ার্ধে আর মাঠে নামেননি কোর্তোয়া। তার বদলি নামেন আন্দ্রি লুনিন।

৫০তম মিনিটে হলান্ডের নিচু শট ঠেকান ইউক্রেইনের এই গোলরক্ষক। কয়েক মিনিট পর হলান্ডকে তুলে নেন কোচ। ৬৩তম মিনিটে জেরেমি ডোকু রিয়ালের জালে বল পাঠালেও, অফসাইডের কারণে গোল মেলেনি।

চোট কাটিয়ে ৬৯তম মিনিটে মাঠে ফেরেন কিলিয়ান এমবাপে। ব্রাহিম দিয়াজের বদলি নামেন এই ফরাসি তারকা। ৭৮তম মিনিটে কাছ থেকে হেডে রিয়ালের জালে বল পাঠান ডিফেন্ডার রায়ান আইত-নুরি, তবে তিনিও পরিষ্কার অফসাইডে ছিলেন।

যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ভিনিসিয়াস জালে বল পাঠালেও, অফসাইডের কারণে গোল হয়নি। একেবারে শেষ মুহূর্তে নিজের দ্বিতীয় গোলে দলের আরেকটি জয় নিশ্চিত করেন তিনি। দুর্দান্ত খেলে ম্যান অব দ্য ম্যাচের কৃতিত্ব নিজের করে নেন।

প্রতিশ্রুত জাহাজ অনিশ্চিত বিকল্প খুঁজছে সরকার

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রতিশ্রুত জ্বালানি তেলবাহী জাহাজগুলোর আগমন অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছে সরকার। বিদ্যমান চুক্তির বাইরে গিয়ে সরাসরি ক্রয়, জি-টু-জি সমঝোতা এবং উন্মুক্ত দরপত্র– সব পদ্ধতিই এখন সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় আনা হয়েছে।

সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বর্তমানে আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের ৫০ শতাংশ সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) পদ্ধতিতে এবং বাকি ৫০ শতাংশ আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সংগ্রহ করে। জি-টু-জি চুক্তির আওতায় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে অপরিশোধিত তেল এনে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে (ইআরএল) পরিশোধন করা হয়। এসব উৎসের মধ্যে রয়েছে– সৌদি আরামকোর অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড এবং আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির মুরবান ক্রুড।

কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে বাংলাদেশগামী জাহাজের সময়সূচি ভেঙে পড়েছে।

জ্বালানি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, মার্চ মাসে ১৭টি এলসি খোলা হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়টি পার্সেল দেশে এসেছে। চারটি পার্সেল অপেক্ষায় এবং বাকি সাতটির কোনো নিশ্চয়তা নেই। এপ্রিলের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। ১৫টি এলসির বিপরীতে মাত্র তিনটি সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে। ফলে প্রতিশ্রুত জাহাজের ওপর নির্ভরতা এখন বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে সরকার জরুরি ভিত্তিতে নতুন উৎস থেকে তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ইতোমধ্যে দুবাইভিত্তিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এক লাখ টন ডিজেল এবং ২৫ হাজার টন অকটেন আমদানির প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রতি ব্যারেলে প্ল্যাটস দামের সঙ্গে তিন ডলার প্রিমিয়ামে এই তেল সরবরাহের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা বিদ্যমান জি-টু-জি বা উন্মুক্ত দরপত্রের তুলনায় কম বলে বিবেচনা করছে সংশ্লিষ্টরা। এই আমদানিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় দুই হাজার ৪৬ কোটি টাকা।

এর পাশাপাশি ভারত থেকে আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী বছরে এক লাখ ২০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত থাকলেও প্রয়োজনে আরও ৬০ হাজার টন অতিরিক্ত আনার সুযোগ রয়েছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে দুটি চালানে ১০ হাজার টন ডিজেল এসেছে। নতুন প্রস্তাবে মার্চে ২০ হাজার টন এবং এপ্রিলে ২৫ হাজার টন ডিজেল আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ ছাড়া সমুদ্রপথে চারটি জাহাজে আরও এক লাখ ২০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।

একই সঙ্গে আফ্রিকা ও যুক্তরাষ্ট্র থেকেও জ্বালানি আমদানির সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। বাজারে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব দিচ্ছে, তবে তাদের সক্ষমতা, গুণগত মান ও দামের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছে বিপিসি। রাশিয়ার কাছেও জ্বালানি সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে অপরিশোধিত তেল আমদানির বিঘ্ন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। কারণ ইআরএলের উৎপাদন এই কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল। অপরিশোধিত তেল সময়মতো না এলে দেশীয় উৎপাদন কমে যাবে এবং তখন বাধ্য হয়ে বেশি দামে পরিশোধিত তেল আমদানি করতে হবে। হরমুজ সংকটে অপরিশোধিত তেলের তিনটি জাহাজের আগমনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় কূটনৈতিক উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশগামী জাহাজ যাতে নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারে, সে জন্য ইরানের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে। ইরান ইতিবাচক আশ্বাস দিলেও বাস্তবে ঝুঁকি এখনও পুরোপুরি কাটেনি।

জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সরবরাহকারীরা প্রাথমিক সম্মতি দিলেও বাস্তবে নির্ধারিত সময়ে তেল সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে চুক্তির বাইরে সরাসরি ক্রয়, বিশেষ অনুমোদনে আমদানি এবং উৎস বৈচিত্র্য সব কৌশল একসঙ্গে কাজে লাগাতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দামের চেয়ে সরবরাহ নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ডিজেল দেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৭০ শতাংশ, যা পরিবহন, কৃষি ও শিল্প খাতে অপরিহার্য। ফলে সরবরাহ ব্যাহত হলে অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
জানতে চাইলে জ্বালানি সচিব সাইফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, এপ্রিলের জন্য প্রায় তিন লাখ টন ডিজেল আমদানির চেষ্টা চলছে। কোন দেশ থেকে আমদানি করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সম্ভাব্য সব উৎস থেকেই জ্বালানি তেল সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে। যেখান থেকে পাওয়া যাবে, সেখান থেকেই কেনা হবে। প্রয়োজনে ডিপিএমে (ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড) কেনা হবে।

এক দশকে কর্মক্ষম অর্ধেক তরুণ কাজ পাননি

গত এক দশকে শ্রমবাজারে প্রবেশ করা তরুণদের প্রায় অর্ধেক কাজ পাননি বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জাট। তিন দিনের সফর শেষে মঙ্গলবার ঢাকা ত্যাগ করার আগে এক বিবৃতিতে বাংলাদেশকে কর্মসংস্থানে জোর দেওয়ার সুপারিশ করেন তিনি।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস জানায়, সফরকালে জোহানেস জাট অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং কোন কোন ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ সহায়তা জোরদার করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
জোহানেস জাট জানান, গত এক দশকে এক কোটি ৪০ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করেছে। তবে কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে মাত্র ৮৭ লাখের। অর্থাৎ বিপুলসংখ্যক কর্মক্ষম যুবক কাজের বাইরে থেকে গেছে। তরুণীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন।

বিবৃতিতে জাট বলেন, সরকার বৃহৎ পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিনিয়োগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যা বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে যুবক ও নারীদের জন্য চাকরি সৃষ্টিতে সহায়তা বাড়ানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথে অনেক মৌলিক প্রতিবন্ধকতা আছে। এগুলো দূর করতে হবে। এজন্য দীর্ঘদিনের অপেক্ষমাণ সামষ্টিক অর্থনীতি ও আর্থিক খাতের সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।

বিশ্বব্যাংক জানায়, সদস্য দেশগুলোতে প্রবৃদ্ধিকে স্থানীয় কর্মসংস্থানে রূপান্তর করতে তারা কাজ করছে। এ জন্য ভৌত ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে বিশ্বব্যাংক অন্যতম। সংস্থাটি এ পর্যন্ত বাংলাদেশকে ৪৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার মধ্যে অনুদান, সুদমুক্ত ঋণ এবং স্বল্প সুদের ঋণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।