Home Blog Page 184

বিনোদন অঙ্গনে একুশে পদক পাচ্ছেন ববিতা, আইয়ুব বাচ্চু ও ওয়ারফেজ

বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ১টি প্রতিষ্ঠানকে ২০২৬ সালের একুশে পদক প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এবারের তালিকায় বিনোদন অঙ্গনের দুই কিংবদন্তি—প্রয়াত ব্যান্ডসংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু এবং অভিনয়শিল্পী ফরিদা আক্তার ববিতা—মনোনীত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নাট্যকলায় একুশে পদক পাচ্ছেন ইসলাম উদ্দিন পালাকার। ব্যান্ডসংগীতে দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেজ মনোনীত হয়েছে একুশে পদকের জন্য। নৃত্যকলায় এই সম্মাননা পাচ্ছেন অর্থী আহমেদ।

এ ছাড়া একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন অধ্যাপক আবদুস সাত্তার, মেরিনা তাবাশ্যুম, সাংবাদিক শফিক রেহমান, অধ্যাপক মাহবুবুল আলম মজুমদার এবং তেজশ হালদার যশ।

উল্লেখ্য, ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে প্রদত্ত একুশে পদক দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান। সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা, সাংবাদিকতা, শিল্পকলা ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য প্রতিবছর এই পদক প্রদান করা হয়ে থাকে।

টিআইবির লোকজনের দিব্যদৃষ্টি নেই

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) অনেক ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের বাস্তব সংস্কার কার্যক্রম দেখতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, টিআইবির লোকজন চোখে সব কিছু দেখতে পায় না। ওদের তো দিব্যদৃষ্টি নেই, ভালো দৃষ্টিও নেই। দেখতে চাইলেও অনেক কিছু তারা দেখতে পারে না। গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এই সরকার উন্নয়ন বা সংস্কার যতটা দৃশ্যমান দেখাচ্ছে, বাস্তবে ততটা হয়নি– টিআইবির এমন দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, টিআইবি শুধু আইনকানুনের দিকটাই দেখে। অথচ অনেক প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে, যেগুলো তারা দেখছে না। উপদেষ্টা বলেন, কেউ যদি না দেখার ইচ্ছা করে, তাহলে অনেক কিছুই উপেক্ষা করা যায়। তবে তিনি টিআইবির বদনাম করছেন না। যেগুলো মৌলিক বিষয়, সেগুলোর দিকে নজর দেওয়ার কথা বলছেন।

দেড় বছর দায়িত্ব পালন শেষে দেশের অর্থনীতিকে কোন অবস্থায় রেখে যাচ্ছেন– এমন প্রশ্নে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, তিনি মনে করেন, অর্থনীতি এখন একটি সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। সামনে যে সরকার আসবে, তাদের খুব বেশি সমস্যায় পড়তে হবে না। বেকারত্ব বেড়ে যাওয়া সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি বড় চ্যালেঞ্জ। ছোট ও মাঝারি শিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানো দরকার ছিল, কিন্তু সে জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংক চেষ্টা করেছে, তবে বড় কারখানাগুলোতে শ্রমনির্ভরতা তুলনামূলক কম।
অর্থনৈতিক অবস্থাকে ‘সন্তোষজনক’ বলা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, সন্তোষজনক বলতে তিনি স্থিতিশীল অবস্থার কথা বোঝাচ্ছেন। অর্থনীতি আগের মতো নড়বড়ে অবস্থায় নেই, ভবিষ্যৎ সরকার এটিকে সামনে এগিয়ে নিতে পারবে।

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করে জাতীয় বেতন কমিশন যে প্রতিবেদন দিয়েছে তা অত্যন্ত ভালো বলে মন্তব্য করেন অর্থ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, কমিশনের সুপারিশগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করে যাবে অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সঙ্গে বেতন কমিশনের দেওয়া সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রেখে যাবে বলে জানান তিনি।
কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, তিনি তাঁর পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন এবং এখন আর কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন নেই।  তাঁর স্ত্রীও পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। উপদেষ্টা বলেন, শুধু তিনি নন, অনেকেই পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী সবারই কূটনৈতিক পাসপোর্ট সারেন্ডার করতে হয়।
সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে মরক্কো, সৌদি আরব এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে মোট দুই লাখ ১০ হাজার টন সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব সার কেনায় মোট ব্যয় হবে এক হাজার ৩৭০ কোটি টাকা।

বৈঠকে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল আলম (এস আলম) ও তাঁর পরিবারের করা মামলার বিরুদ্ধে লড়তে ব্রিটিশ ফার্ম হোয়াইট অ্যান্ড কেইস এলএলপিকে নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই আইনি লড়াই ও এ সম্পর্কিত কাজে ফার্মটিকে ঘণ্টায় এক হাজার ২৫০ মার্কিন ডলার ফি দিতে হবে।
এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘অর্থ পাচারের ব্যাপারে এস আলমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোনো দেশের সরকার বা কোম্পানি ব্যবসা-বাণিজ্যে বাধা দিলে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের আইসিএসআইডি আরবিট্রেশন করে। আরবিট্রেশন আমাদের নোটিশ দিয়েছে। আরবিট্রেশনকে জবাব দিতে হবে আমাদের এবং এটা খুব কমপ্লিকেটেড, সহজ তো না।’
গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থিত আইসিএসআইডিতে এস আলম ও তাঁর পরিবারের আইনজীবীরা সালিশি মামলার আবেদন জমা দেন। আবেদনে বলা হয়, অবৈধ অর্থ পাচারের অভিযোগে বাংলাদেশ সরকার যে সম্পদ জব্দ, বাজেয়াপ্ত ও অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে, তাতে তাদের শত শত কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ চুক্তির পরিপন্থি। বর্তমানে সিঙ্গাপুরের নাগরিক হিসেবে তারা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রাখেন।

তিন বছর কমার পর সঞ্চয়পত্রে বাড়ছে সরকারের ঋণ

টানা তিন অর্থবছর সঞ্চয়পত্রে সরকারের ঋণ কমার পর এবার বাড়ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ২ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা পেয়েছে সরকার। সব মিলিয়ে গত ডিসেম্বর শেষে সরকারের এ বাবদ ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৪১ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা। এদিকে, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে মুনাফার ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশই থাকছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

সাম্প্রতিক সময়ে ট্রেজারি বিল, বন্ডে সুদহার অনেক কমেছে। সে তুলনায় সঞ্চয়পত্রে কম কমেছে। যে কারণে ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকা সঞ্চয়পত্রে সাধারণ মানুষের বিনিয়োগ কিছুটা বাড়ছে। সঞ্চয়পত্রের মোট বিক্রি থেকে সুদ ও আসল পরিশোধের পর নিট বিক্রির হিসাব হয়। টানা তিন অর্থবছর নিট বিক্রি কমায় ঋণ স্থিতি কমছিল। ২০২২ সালের জুন শেষে সঞ্চয়পত্রে সরকারের ঋণ স্থিতি ছিল তিন লাখ ৬৪ হাজার ১০ কোটি টাকা। সেখান থেকে কমে গত জুন শেষে তিন লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকায় নেমেছিল।
সঞ্চয়পত্রে গত অর্থবছর সরকারের ঋণ কমেছিল ৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছর কমে ২১ হাজার ১২৪ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে কমেছিল তিন হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। তার আগের অর্থবছর বেড়েছিল ১৯ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যাংকের তুলনায় উচ্চ সুদসহ বিভিন্ন কারণে একটি সময় বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি সঞ্চয়পত্র বিক্রি হতো। সঞ্চয়পত্রে সরকারের ঋণ কমাতে তখন কয়েক দফায় সুদহার কমানো হয়। ট্রেজারি বিল, বন্ডের সুদ অনেক বাড়লেও সঞ্চয়পত্রে কম ছিল। সব মিলিয়ে গত তিন অর্থবছর ধরে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমেছে। এ সময়ে ট্রেজারি বিল, বন্ডে ব্যক্তি বিনিয়োগ কয়েকগুণ বেড়েছে। গত কয়েক মাস ধরে বিল, বন্ডের সুদহার কমে ১০ শতাংশের ঘরে নেমেছে। গত বছরের এ সময়ে যা ১২ থেকে ১৩ শতাংশের কাছাকাছি ছিল।
বাজেট ঘাটতি মেটাতে প্রতি বছরই সরকার অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি উৎস থেকে ঋণের একটি লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে। চলতি অর্থবছর সঞ্চয়পত্র থেকে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা নিট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গত অর্থবছরের মূল বাজেটে ১৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ১৪ হাজার কোটি টাকায় নামানো হয়। এবারে ব্যাংক থেকে সরকার ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। গত ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকার নিয়েছে ৫৯ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছর ৯৯ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সরকার নিয়েছিল ৭২ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা।

দেশ থেকে বিপুল অর্থ পাচারের প্রভাব ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে কিছু ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক কার্যক্রম কিছুটা সীমিত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাসহ বিভিন্ন কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ চাহিদা তলানিতে নেমেছে। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। দুই যুগের বেশি সময়ের মধ্যে যা সর্বনিম্ন। মূলত সরকার পতনের পর থেকে অর্থ পাচার নিয়ে কড়াকড়ি এবং মূল্যস্ফীতি কমানোর ওপর জোর দিয়েছে সরকার। গত ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
সঞ্চয়পত্রে উৎসে কর বাড়ছে না: পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের মুনাফার ওপর অনেক আগ থেকে ৫ শতাংশে উৎসে কর কাটা
হয়। তবে হঠাৎ করে গত জানুয়ারিতে ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে মুনাফা দেয় সরকার। এতে করে সঞ্চয়কারীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এ অবস্থায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গত মঙ্গলবার জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে উৎসে কর ৫ শতাংশই থাকছে। কোনো ব্যক্তি যদি সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে মোট বিনিয়োগ পাঁচ লাখ টাকা অতিক্রম না করে তাহলে অর্জিত মুনাফার ওপর উৎসে করের হার হবে ৫ শতাংশ।

সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে: জামায়াত আমির

সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, এই বাংলাদেশে যারা মাইনোরিটি অধিকার নিয়ে বেশি হাল্লাচিল্লা করতেন। সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকার আপনাদের পাশে সাঁওতাল পল্লীতে (গাইবান্দার সাহেবগঞ্জ) কি করেছে আপনারা কি দেখেন নাই? তাঁরা কি আমাদের ভাই-বোন না? তাঁরা কি এ দেশের নাগরিক না? আমরা তাঁদেরকে কথা দিচ্ছি, আমরা সবাইকে বুকে ধারণ করে সামনে আগাবো। আমরা সকলের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করব।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নওগাঁ শহরের এটিম মাঠে নওগাঁ জেলা জামায়াতেই ইসলামী আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াতের আমির বলেন, কোনো পরিস্থিতি হলেই যারা মুসলমান নন, তাঁরা ভয়ের সংস্কৃতিতে থাকবে কেন? সেই ভয়ের সংস্কৃতিকে আমরা গুড়িয়ে একাকার করে দিতে চাই। সেই পরিবেশ আমরা রাখব না। এদেশ আমাদের সকলের। সবাইকে নিয়েই আমরা চলব।

নারীদের ঘরে ও কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘মায়েদের জন্য ঘরে, চলাচলে, কর্মস্থলে সব জায়গায় মর্যাদা আর নিরাপত্তা এই দুইটা জিনিস নিশ্চিত করা হবে। কোনো জালিম সাহস করবে না নারী জাতির কারও দিকে চোখ তুলে তাকানোর। সেই পরিবেশ তৈরি করা হবে। এই অবস্থা দেখে অনেকে বেসামাল। ভাই মাঘ মাসে মাথা গরম করবেন চৈত্র মাস সামনে। এখনই যদি মাথা গরম করেন চৈত্র মাসে কি করবেন। মাথা ঠান্ডা রাখেন। মানুষ কি ভাবছে কান পেতে শোনেন। দেশ বাঁচলে আপনিও বাঁচবেন। এই ভোটটা আগামীতে হবে ইনশাআল্লাহ ইনসাফের প্রতীক।’

জামায়াত আমির বলেন, যারা নারীদের হুমকি-ধামকি, গায়ে হাত তোলেন, তাঁদের মনে করিয়ে দিতে চাই, জুলাইয়ের ১৫ তারিখে মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়ার জন্য যেভাবে যুবক ভাইয়েরা গর্জে উঠেছিল। আবার বিস্ফোরিত হবে, গর্জে উঠবে। মায়ের অপমান সহ্য করবে না।

সরকার গঠন করলে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের জামায়াত প্রশ্রয় দেবে না উল্লেখ করে জামায়াতে আমির বলেন, ‘আমাদের অঙ্গীকার চাঁদাবাজি আমরা করি না। চাঁদাবাজি আমরা কাউকে করতে দেব না। দুর্নীতি আমরা পছন্দ করি না। বগলের নিচে দুর্নীতিবাজদের আশ্রয় দেব না। ব্যাংক ডাকাতি আমরা করি না। কোনো ব্যাংক ডাকাতের সঙ্গে আমাদের আপস হবে না। মামলাবাজি আমাদের কাসলত নয়। মামলা বাণিজ্য যারা করেছে তাঁদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।’

তিনি বলেন, ৫৪ বছরে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তাঁরা নিজেদের পকেট পুরেছেন। ব্যাংক, বীমা লুট করেছে। বড় বড় মেগা প্রকল্পে মেগা দুর্নীতি করেছে। দুর্নীতির টাকা দেশে রাখতে পারে নাই। সেই টাকা বিদেশে পাচার করেছে। ক্ষমতায় এলে এই সব চোরদের মুখে হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে সব টাকা বের করে নিয়ে আনা হবে।’

উত্তরবঙ্গ কৃষির রাজধানী উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সারা দেশের মধ্যে নওগাঁ জেলায় দশ ভাগের এক ভাগ আম ও ধান উৎপন্ন হয়ে থাকে। কিন্তু এই জেলা তার ন্যায্য পাওনা পাইনি। নওগাঁ শহরের ভেতর দিয়ে চলা প্রধান সড়কটি চারলেন হওয়া দরকার। জামায়াত ক্ষমতায় এলে এই সড়কটি চারলেন করা হবে। এই জেলায় ব্যাপক পরিমাণে ধান ও ফল উৎপন্ন হয়ে থাকে। কিন্তু কৃষকরা তাঁদের ফসলের ন্যায্য মূল্য পায় না। উৎপাদিত ফল সংরক্ষণের জন্য সংরক্ষণাগার তৈরি করা হবে। ফল প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি করা হবে। প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলো সংরক্ষণ করে পর্যটন শিল্পকে আরও বিকশিত করা হবে।’

নওগাঁ জেলা জামায়াতের আমির ও নওগাঁ-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আব্দুর রাকিবের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন, নওগাঁ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও নওগাঁ-৫ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আ স ম সায়েম, নওগাঁ-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুল আলম, নওগাঁ-২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী এনামুল হক, নওগাঁ-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাহফুজুর রহমান, নওগাঁ-৬ আসনের জামায়াতের প্রার্থী খবিরুল ইসলাম, ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ, ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির প্রমুখ।

অপপ্রচার-মিথ্যা দিয়ে জাতীয়তাবাদী শক্তির শিকড় উপড়ানো যাবে না: রিজভী

অপপ্রচার আর মিথ্যা দিয়ে জাতীয়তাবাদী শক্তির শিকড় উপড়ে ফেলা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার জাতীয় শিল্পকলার চিত্রশালা মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) আয়োজনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচার প্রচারণামূলক সঙ্গীত উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তির শিকড় এত গভীরে যে একটা গাছ বা বটগাছের শিকড় যতদূরে যায়, তার চাইতেও অনেক গভীরে। এই শিকড়কে অপপ্রচার এবং মিথ্যাচার চালিয়ে উপড়ে ফেলা যাবে না। এটাকে নুইয়ে ফেলা যাবে না। এটা একেবারে সোজা মেরুদণ্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, সামনে নির্বাচন। এই নির্বাচনে আমাদেরকে একটি সংগ্রামের মতো বিজয় ঘটাতে হবে। কারণ চারিদিকে নানা চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার, মিথ্যাচার এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা বট বলে একটা জিনিস তৈরি হয়েছে।

জাসাস নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, এই সমস্ত কুৎসা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আমাদের কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, গীতিকার, অভিনয় শিল্পী, সুরকার যারা আছেন- সবাই মিলে আপনাদের সুললিত ধ্বনি এবং আপনাদের অত্যন্ত শক্তিশালী শব্দ-সবগুলোকে ব্যবহার করে এই অপপ্রচারের যে কষাঘাত চলছে, সেটাকে আমরা পরাজিত করবো। আমরা সত্য, ন্যায় এবং ধানের শীষের নিশ্চিত বিজয় ঘটাতে সম্পন্ন হবো।

এসময় জাসাসের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান, সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এক নজরে ৫৫ বছরের ইতিহাসে বাংলাদেশের নির্বাচন, একটি সমীক্ষা ও প্রশ্ন ?

Shitangsu Ghuho এক নজরে ৫৫ বছরের ইতিহাসে বাংলাদেশের নির্বাচন একটি সমীক্ষা ও প্রশ্ন

নির্বাচন-১
শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্কঃ বাংলাদেশে প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ৭ই মার্চ ১৯৭৩ সালে। আওয়ামী লীগ ২৯৩টি আসনে জয়লাভ করে। ১১জন প্রার্থী বিনা-প্রতিদ্ধন্ধিতায় নির্বাচিত হয়। ভোট পরে ৫৫%। মহিলা সংরক্ষিত আসন ছিলো ১৫টি। এ নির্বাচনে টুকটাক কারচুপি’র অভিযোগ উঠে, সেটি কেন্দ্রভিত্তিক, জাতীয়ভাবে কারচুপি ছিলোনা। নির্বাচনটি -বাকী অংশ ৩৩ পাতায় মোটামুটি স্বচ্ছ, অবাধ ও ভালোই ছিলো, গ্রহণযোগ্য হয়।

এরপর দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন হয় ১৮ই ফেব্রুয়ারী ১৯৭৯। বিএনপি ২০৭ আসনে জিতে, আওয়ামী লীগ ৩৯। ভোট পরে ৫১%। মহিলা রিজার্ভ ৩০টি আসন। এ নির্বাচনে জাতি প্রথম ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং দেখে, একই সাথে ভোটের আগে-পরে সংখ্যালঘু নির্যাতন হয়।

তৃতীয় সংসদ নির্বাচন হয় ৭ই মে ১৯৮৬ সালে। জাতীয় পার্টি ১৫৩, আওয়ামী লীগ ৭৬, জামাত ১০টি আসন লাভ করে। ভোট পরে ৬১%। বিএনপি ভোট বয়কট করে। মহিলা রিজার্ভ ৩০টি আসন।

চতুর্থ সংসদ নির্বাচন ৩রা মার্চ ১৯৮৮। জাতীয় পার্টি ২৫১, সম্মিলিত বিরোধী জোট ১৯টি আসন লাভ করে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি নির্বাচন বয়কট করে। মহিলা রিজার্ভ ৩০টি আসন। ২য়, ৩য় ও ৪র্থ সংসদ নর্বাচনের ফলাফল বিশ্বাসযোগ্য ছিলোনা, সামরিক স্বেচ্ছাচারী সরকারের ইচ্ছেমত ফলাফল ঘোষণা হয়।

পঞ্চম সংসদ নির্বাচন হয় ১৩ই জানুয়ারী ১৯৯১। বিএনপি ১৪০, আওয়ামী লীগ ৮৮, জাতীয় পার্টি ৩৫, জামাত ১৮টি আসনে জেতে। মহিলা রিজার্ভ ৩০টি আসন। ভোট পরে ৫৫.৪৫%। এ নির্বাচনটি ভাল এবং গ্রহণযোগ্য হয়। শেখ হাসিনা সূক্ষ্ণ কারচুপির অভিযোগ তোলেন, গ্রাহ্য হয়নি।

১৯৯৬-এ ২টি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৫ই ফেব্রুয়ারী নির্বাচন, আওয়ামী লীগ বয়কট করে, বিএনপি জয়ী হয়, আসন ২৭৮। আওয়ামী লীগ আন্দোলন করে ‘তত্বাবধায়ক সরকার’ দাবি আদায় করে। জুনে আবার সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। এটি ছিলো তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে প্রথম নির্বাচন। নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয় ১২ই জুন ১৯৯৬। আওয়ামী লীগ ১৪৬, বিএনপি ১১৬, জাতীয় পার্টি ৩২, জামাত ৩, ইসলামী ঐক্য জোট ১, জাসদ (রব) ১, স্বতন্ত্র ১টি আসন লাভ করে। মহিলা রিজার্ভ ৩০টি আসন। ভোট পরে ৭৪.৯৬%। ১৫ই ফেব্রুয়ারী নির্বাচনটি জাতির জন্যে কলঙ্ক ছিলো।

অষ্টম জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসন লাভ করে, যদিও বিএনপি-আওয়ামী লীগ ভোট পায় প্রায় সমান-সমান (৪০.৯৭%, আওয়ামী লীগ ৪০.১৩%)। আসন, বিএনপি ১৯৩, আওয়ামী লীগ ৬২, জামাত ১৭, ইসলামী জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট ১৪, জাতীয় পার্টি ৪, ইসলামী ঐক্য জোট ২, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ১, জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) ১টি আসন। স্বতন্ত্র ৬, ভোট পরে ৭৪.৯৭%। এ নির্বাচনের পর ব্যাপক সংখ্যালঘু নির্যাতন হয়। নির্বাচনটি হয় ১লা অক্টবর ২০০১। ৫৪টি দল, ৪৮৪জন স্বতন্ত্র প্রার্থী সহ মোট ১৯৩৫জন নির্বাচনে প্রতিদ্ধন্ধিতা করেন। এটি ছিলো তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে দ্বিতীয় নির্বাচন।

২০০৮-এ নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩০টি আসন পেয়ে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করে। বিএনপি ৩০, জাতীয় পার্টি (এরশাদ) ২৭, জাসদ ৩, ওয়ার্কার্স পার্টি ২, জামাত ২, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ১, স্বতন্ত্র ৪, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ১টি আসন। মোট ভোট পরে ৮৭.১৩%। মহিলা রিজার্ভ ৪৫টি আসন। বাংলাদেশের ইতিহাসে সম্ভবত: এটি সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।
১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয় ৫ই জানুয়ারি ২০১৪, আওয়ামী লীগ ১৫৩টি আসন বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করে। বিএনপি বয়কট করে। ভোট পরে ৩৯.৫৮%। মোট আসন, আওয়ামী লীগ ২৩৪, জাতীয় পার্টি ৩৪, ওয়ার্কার্স পার্টি ৬, জাসদ ৫, তরিকত ফেডারেশন ২, জাতীয় পার্টি (মন্জু) ২, বাংলাদেশ ন্যাশনালিষ্ট ফ্রন্ট ১, স্বতন্ত্র ১৬টি আসন। মহিলা রিজার্ভ ৫০টি আসন। এটি ‘বিনে ভোটের’ নির্বাচন বলে স্বীকৃতি পায়।

১১তম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ৩০শে ডিসেম্বর ২০১৮। প্রদত্ত ভোট ৮০.২%। মহিলা রিজার্ভ ৫০টি আসন। জাতীয় পার্টি ২৬, বিএনপি ৭, আওয়ামী লীগ ২৫৭টি আসন। বাকি অন্যান্য। এ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ উঠে, এবং দিনের ভোট রাতে হয় বলে পরিচিতি লাভ করে।

১২তম সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ৭ই জানুয়ারী ২০২৪। আওয়ামী লীগ ২২৩টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। ভোট পরে ৪০%, গুজব রয়েছে ১০%’র নীচে ভোট পড়েছে। বিএনপি বয়কট করে। স্বতন্ত্র ৬১টি আসন। এটি ‘ডামি ভোট’ বলে স্বীকৃতি পায়। এ নির্বাচন নিয়ে ঢাকার মাঠে সরকারের পক্ষে ভারত-রাশিয়া-চীন এবং অন্যপক্ষে আমেরিকা-ইউরোপ-কানাডা বা পশ্চিমা বিশ্ব খেলছে। ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪-র নির্বাচনী ফলাফল মানুষ মেনে নেয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে (২০০৯-২০২৪) নির্বাচনী ক্ষেত্রে ৩টি সাফল্য জাজ্বল্যমান, ১) ‘২০১৪-এ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়’ নির্বাচন, ২) ২০১৮-তে ‘দিনের ভোট রাতে’ নির্বাচন, ও ৩) ২০২৪-এ ‘ডামি’ নির্বাচন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন ৬২ জন। তাদের মধ্যে ৫৭ জনই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদ-পদবিতে রয়েছেন। এই স্বতন্ত্রদের মধ্যে নৌকার প্রার্থীকে হারিয়েছেন ৪৩ জন।

১৩শ’ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘোষিত হয়েছে ১২ই ফেব্রুয়ারী ২০২৬। এতে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না। তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন। খালেদা জিয়া মারা গেছেন। নির্বাচনে বিএনপি জোট, জামাত-এনসিপি-এলডিপি নিয়ে ১০দলীয় ইসলামী জোট অংশ নিচ্ছে।

১৯৭০’র নির্বাচন
১৯৭০’র নির্বাচন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ১৬৭টি আসন নিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। ভোট পায় ৩৯.২%। সেবার পাকিস্তানের মোট ভোটার ছিলো ৫৬,৯৪১,৫০০। তন্মধ্যে পূর্ব-পাকিস্তানে ৩১.২১১,২২০ এবং পশ্চিম-পাকিস্তানে ২৫,৭৩০,২৮০। ভোট পড়েছিল ৬৩%। পূর্ব-পাকিস্তানে ভোট পড়েছিল আনুমানিক ১৯,৬৬৩,০৬৯ (৬৩ী৩১,২১১,২২০/১০০=১৯,৬৬৩,০৬৯) ভোট। আওয়ামী লীগ পেয়েছিলো ১২,৯৩৭,১৬২ ভোট। আসন না পেলেও আওয়ামী লীগের বিপক্ষে ভোট পড়েছিলো ৬,৭২৫,৯০৭ (১৯,৬৬৩,০৬৯-১২,৯৩৭,১৬২= ৬,৭২৫,৯০৭) ভোট। ৬৭ লক্ষের উপর এ ভোটগুলো কাদের? ভুট্টো’র পিপিপি (পাকিস্তান পিপলস পার্টি) পূর্ব-বাংলায় ভোট পাওয়ার কোন কারন ছিলোনা, এই ভোটগুলো ছিলো মুসলিম লীগ এবং জামাত ও অন্যান্য ইসলামী দলগুলোর। পাকিস্তানের ৩০০ আসনে ৮১টি সিট্ পেয়েছিলো পিপিপি এবং তারা ভোট পায় ১৮.৬%। তিনভাগে বিভক্ত মুসলিম লীগ পায় ১৩.৮% এবং ইসলামী দলগুলো ১৩.৯%। হিসাবটা পুরো পাকিস্তানের হলেও মুসলিম লীগ এবং ইসলামী দলগুলোর শক্তি স্বাধীন বাংলাদেশে একেবারে কম ছিলোনা। এরা পরাজিত হলেও সক্রিয় ছিলো, যা টের পাওয়া যায় বঙ্গবন্ধু নিহত হবার পর।

আওয়ামী লীগ পেয়েছিলো ১২,৯৩৭,১৬২ ভোট। আওয়ামী লীগের বিপক্ষে ইসলামী দলগুলো পেয়েছিলো ৬,৭২৫,৯০৭ ভোট। ঐসময় দেশে জনসংখ্যা ছিলো ৭কোটি’র ওপর (সাড়ে ৭কোটি?)। ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলো সাকুল্যে দেড়কোটি। এরমধ্যে ১কোটি হিন্দু, কারণ তাঁদের টার্গেট করে হত্যা করা হচ্ছিলো। বাকি সাড়ে ৫কোটি/৬কোটি মানুষ দেশেই ছিলো। তর্কের খাতিরে ধরে নেই এদের অর্ধেক, অর্থাৎ প্রায় ৩কোটি মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে ছিলো, বাকি ৩কোটি বিপক্ষে? দেশে এখন জনসংখ্যা ১৭কোটি, অর্থাৎ ৫২ বছরে প্রায় ২.৫% বা আড়াই গুন্ বেড়েছে। সেই হিসাবে ৩কোটি স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বেড়ে ৩ী২.৫=৭.৫কোটি, বা সাড়ে ৭কোটি হয়েছে। প্রকৃত সংখ্যাটি আরো বেশি। দেশে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তির একজনও স্বাধীনতার সপক্ষে আসেনি, কিন্তু বহু মুক্তিযোদ্ধা বা স্বাধীনতার সপক্ষ শক্তি বিরোধী শিবিরে গেছেন। বঙ্গবন্ধু’র সাড়ে ৩ বছর এবং শেখ হাসিনা’র ১৯৯৬-২০০১ এ সময়টা ছাড়া বাংলাদেশের সকল সরকার মৌলবাদীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে দেশে এখন ৭কোটি মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ এবং ১০কোটি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তির মানুষ আছেন। হিসাবটা মেনে নেয়ার প্রয়োজন নেই, যেকেউ ইচ্ছেমত হিসাবটি করতে পারেন।

২০২৪ এর নির্বাচন এবং এরপর
২০২৪-এর নির্বাচনটি শেখ হাসিনা’র জন্যে ‘কাল’ হয়। নির্বাচনে তিনি জয়ী হ’ন, পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হ’ন, কিন্তু ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হ’ন না। ছাত্র আন্দোলন বা কোটা আন্দোলন এক দফায় পরিণত হয়, ৫ই আগষ্ট তিনি দেশত্যাগ করতে বাধ্য হ’ন। তার এ পরিণতি অনিবার্য ছিলো, কাম্য ছিলোনা। পরপর তিনটি নির্বাচন ছিনিয়ে নিয়ে তিনি নিজেই তাঁর ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন, স্বৈরাচারী পদকে ভূষিত হয়ে দেশ থেকে পলায়নের ইতিহাস রচনা করেন। যে ছাত্ররা তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে এঁরা সবাই শেখ হাসিনা’র আমলে বেড়ে ওঠা, তারই শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষিত হয়ে তাকে দেশত্যাগী করেছে। যে কওমী শিক্ষার্থীদের তিনি ‘কওমী জননী’ হয়েছেন, তারাই তাকে দেশ থেকে বিতারণ করেছে। মৌলবাদীদের জন্যে তিনি অনেক কিছু করেছেন, মাদ্রাসার ছাত্র দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভরিয়ে দিয়েছেন। তাঁর নির্মিত ৫৬০টি মডেল মসজিদ থেকে একজনও তাঁকে রক্ষায় এগিয়ে আসেনি।

আজকে দেশে মৌলবাদের যে রমরমা, এটি শেখ হাসিনা’র অবদান। শুধুমাত্র ক্ষমতায় থাকার জন্যে তিনি দেশের বারোটা বাজিয়ের দিয়েছেন, নিজের দল ও আওয়ামী লীগের কর্মীদের বিপদে ফেলেছেন, প্রগতিশীল শক্তির মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিয়েছেন, এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারতকে বিপদে ফেলেছেন। শেখ হাসিনা’র রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্য ছিলো প্রগতিশীল শক্তি ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। এই দুই শক্তির কোমড় তিনি নিজহাতে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছেন। একটা সময় আসে যখন এ দুই শক্তিই তার পতন চাইছিলো, তবে যেভাবে তার পতন হয়েছে, ঠিক সেভাবে নয়? শেখ হাসিনা অনেক উন্নতি করেছেন, এরপরও সাধারণ মানুষ তার প্রতি বিরক্ত হয়ে পড়ে, তিনি জনসমর্থন হারান। এরপরও শেখ হাসিনা’র পতনের পর গোপালগঞ্জে প্রথম যে প্রতিবাদটি হয়, সেটিও করে হিন্দুরা, এর নেতা ‘বিমল বিশ্বাস’, পরে তিনি ভারতে পালিয়ে যান।

দেশে ও প্রবাসে হিন্দুরা এখন তাদের অধিকারের দাবিতে সোচ্চার। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এদের ভেতরে ঢুকে আত্মরক্ষায় সচেষ্ট। হিন্দুরা সতর্ক, ৫৪ বছর আওয়ামী লীগ তাদের -বাকী অংশ ৩৩ পাতায় দাবার ঘুটির মত ব্যবহার করেছে। অন্য রাজনৈতিক দলগুলো তাদের পক্ষে দাঁড়ায়নি। আজকের তরুণ সমাজ জেনে গেছে আওয়ামী লীগ তাদের বন্ধু নয়, বাংলাদেশে কোন রাজনৈতিক দল তাদের বন্ধু নয়। প্রশ্ন হচ্ছে শেখ হাসিনা’র পতনের পর অন্তর্র্বতী সরকার হিসাবে যারা ক্ষমতায় তারাও বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী নির্বাচনী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আন্তরিক নন? প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী ড: মোহাম্মদ ইউনুস-র দেশের চাইতে নিজেকে বেশি ভালবাসেন। শেখ হাসিনা চেয়েছেন ইউনুসকে জেলে পুরতে, তিনি এখন ক্ষমতায়, শেখ হাসিনা ক্ষমতার বাইরে।

যদি ক্ষমতার হাত বদলের ব্যবস্থাটা স্বচ্ছ ও পোক্ত হয়ে যায় তাহলে অনেক সমস্যাই সমাধান হয়ে যাবে। বিষয়টি যতটা সহজ মনে হয়, ঠিক ততটাই কঠিন। তবে এটি হওয়া দরকার। নইলে তত্বাবধায়ক/অন্তর্র্বতী বা আরো কত কি ব্যবস্থা চলতেই থাকবে। যতদিন ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যবস্থা পাকা না হবে ততদিন ‘অনিয়িমতান্ত্রিক’ ক্ষমতার পরিবর্তন বন্ধ হবেনা। সমস্যা হচ্ছে, ‘যে যায় লঙ্কা সে হয় রাবন’। ক্ষমতায় গেলে কেউ আর তা ছাড়তে চায়না। ২০২৪-এর নির্বাচনে ঢাকার মাঠে রাজনৈতিক ফুটবল বা ‘টি-টুয়েন্টি’ ক্রিকেটের মত নির্বাচনী খেলায় বিদেশী প্লেয়াররা অংশ নেয়। খেলা জমে ওঠে। সংঘাত বাড়ে। রাজনৈতিক সন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও হয়। কিছু মানুষ মারা যায়। শেষমেষ নির্বাচনটি সম্পন্ন হয়। একপক্ষ বলে, নির্বাচনটি ভাল হয়েছে। অন্যপক্ষ বলে, অবাধ ও সুষ্ঠূ নির্বাচন হয়নি।

সর্বশেষ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হয়েছে ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬। বাংলাদেশে ঠিক কবে থেকে নির্বাচন ছিনতাই (ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং) শুরু হয়েছিলো, কেন হয়েছিলো, আদৌ কি এর শেষ আছে, নাকি এভাবেই চলবে স্বদেশ এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা প্রয়োজন। বাস্তবতা হচ্ছে, দেশে নির্বাচনী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে রাজনৈতিক দলগুলো কখনোই আন্তরিক ছিলোনা, নির্বাচন কমিশন কখনো সোজা হয়ে দাঁড়াতে চেষ্টা করেনি। এবার তা হচ্ছেনা।

শিতাংশু গুহঃ লেখক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট (নিউইয়র্ক)

এবার মুয়াম্মার গাদ্দাফির-পুত্র সাইফ আল-ইসলামকে হত্যা!

লিবিয়ার দীর্ঘকালীন শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির সবচেয়ে প্রভাবশালী উত্তরসূরি সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি এক সশস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানী ত্রিপোলি থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত জিনতান শহরে ৫৩ বছর বয়সী সাইফকে চার বন্দুকধারী তাঁর নিজ বাসভবনের বাগানে গুলি করে হত্যা করে।

গাদ্দাফি পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে সৌদি সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া জানিয়েছে, হামলাকারীরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরাগুলো অকেজো করে ভেতরে প্রবেশ করে। সাইফ আল-ইসলামের মুখোমুখি হয়ে তারা সরাসরি গুলি বর্ষণ করে এবং দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তাঁর রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওসমান ফেসবুকে এই ‘হত্যাকাণ্ডের’ খবর নিশ্চিত করে শোক প্রকাশ করেছেন।

ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থেকে সংস্কারের স্বপ্ন বাবা মুয়াম্মার গাদ্দাফির শাসনামলে সাইফ ছিলেন দেশটির অঘোষিত দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসে পড়াশোনা করা সাইফ ইংরেজিতে ছিলেন সাবলীল। লিবিয়াকে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে দশা থেকে মুক্ত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। বিশেষ করে লকার্বি বিমান হামলার ক্ষতিপূরণ এবং লিবিয়ার গণবিধ্বংসী অস্ত্র ত্যাগের আলোচনায় তিনি নেতৃত্ব দেন। অনেক পশ্চিমা দেশ তাঁকে লিবিয়ার আধুনিক ও সংস্কারক মুখ হিসেবে বিবেচনা করত।

বিদ্রোহ, পতন ও বন্দিজীবন ২০১১ সালে যখন লিবিয়ায় বিদ্রোহ শুরু হয়, সাইফ তাঁর পশ্চিমা বন্ধুদের বদলে পরিবারের প্রতি আনুগত্য বেছে নেন। বিদ্রোহীদের দমনে কঠোর অবস্থান নিয়ে তিনি ব্যাপক সমালোচিত হন। বাবার মৃত্যুর এক মাস পর নাইজারে পালানোর পথে তিনি বিদ্রোহীদের হাতে ধরা পড়েন এবং দীর্ঘ ছয় বছর জিনতানের একটি পাহাড়ি শহরে বন্দি থাকেন। ২০১৫ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত যুদ্ধাপরাধের দায়ে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও ২০১৭ সালে সাধারণ ক্ষমার আওতায় তিনি মুক্তি পান।

রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের ব্যর্থ চেষ্টা দীর্ঘ অজ্ঞাতবাস কাটিয়ে ২০২১ সালে সাইফ আল-ইসলাম নাটকীয়ভাবে লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে তিনি বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলেছিলেন। তবে তাঁর প্রার্থিতা লিবিয়ার রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতা তৈরি করে। তাঁর বিরোধীরা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এই প্রার্থিতা প্রত্যাখ্যান করে। আইনি জটিলতা ও দণ্ডাদেশের কারণে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন প্রক্রিয়াটিই ভেস্তে যায় এবং লিবিয়া রাজনৈতিক অচলাবস্থায় ফিরে যায়।

সাইফ আল-ইসলামের এই করুণ মৃত্যু লিবিয়ার ইতিহাসে গাদ্দাফি যুগের প্রভাবের সর্বশেষ শক্তিশালী অধ্যায়েরও অবসান ঘটাল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পাকিস্তান কে বাদ দিয়ে উগান্ডাকে নিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে আইসিসি?

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটি খেলতে পাকিস্তান অস্বীকৃতি জানানোয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি চরম কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পিসিবি যদি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে, তবে পাকিস্তান দলকেই বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের বিকল্প হিসেবে আফ্রিকার দেশ উগান্ডাকে নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশ যদি রাজনৈতিক বা অন্য কোনো কারণে টুর্নামেন্টের নির্দিষ্ট কোনো ম্যাচ বয়কট করে, তবে তা টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক কাঠামো ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী হিসেবে গণ্য হয়। যেহেতু এই বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে সরে দাঁড়িয়েছে এবং তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ড অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তাই পাকিস্তান বহিষ্কৃত হলে আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে পরবর্তী অবস্থানে থাকা উগান্ডাই হবে টুর্নামেন্টের ২০তম দল। উগান্ডা বর্তমানে বিশ্বকাপের মূল তালিকায় থাকা দেশগুলোর বাইরে র‍্যাঙ্কিংয়ে সবার ওপরে অবস্থান করছে।

আইসিসি প্রধানত তিনটি কারণে পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে উগান্ডাকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবছে:

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি না হলে আইসিসি ও সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলো বিশাল অঙ্কের রাজস্ব হারাবে, যা কোনোভাবেই মানতে রাজি নয় জয় শাহের নেতৃত্বাধীন আইসিসি।

পাকিস্তানকে টুর্নামেন্টে রেখে একটি ম্যাচ বাতিল করার চেয়ে তাদের বাদ দিয়ে একটি আগ্রহী দলকে (উগান্ডা) সুযোগ দেওয়াকে টুর্নামেন্টের ভারসাম্যের জন্য বেশি কার্যকর মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের এই বয়কট সংস্কৃতি রুখতে আইসিসি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে অন্য দেশগুলোকে কড়া বার্তা দিতে চায়।

পিসিবি যদি তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে, তবে উগান্ডা তাদের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বড় কোনো বিশ্বমঞ্চে খেলার সুযোগ পেতে যাচ্ছে। পাকিস্তান সরকার ও ক্রিকেট বোর্ডের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই এখন নির্ভর করছে তারা বিশ্বকাপে থাকবে নাকি উগান্ডার জন্য জায়গা ছেড়ে দেবে।

সকালে দুধ চা পানের অভ্যাস? এর ভয়াবহ ক্ষতিকর দিকগুলো জানেন তো

চা কম-বেশি সবারই পছন্দের একটি পানীয়। কেউ কেউ তো সকালে ঘুম থেকে উঠে সবার আগে চায়ের কাপ খোঁজা শুরু করেন। সকালে নাশতার আগে থেকে শুরু করে রাতে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত বিভিন্ন সময় চা পান করা হয়। অফিসে কাজের ফাঁকে, সহকর্মীদের সঙ্গে গল্পের সময়, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা এবং খাবার টেবিলে চা থাকবেই।

চা পছন্দ হলেও অনেকেই আবার দুধ চা পছন্দ করেন। ফলে নানা কারণেই দুধ চা পান করা হয়। কিন্তু এই পছন্দের পানীয় পানে নিজের অজান্তেই যে ক্ষতি হয়, তা কি জানেন? স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চায়ের সঙ্গে দুধ আর চিনি যোগ করলে শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে সকালে খালি পেটে এই চা পানে বেশি ক্ষতিকর। এ ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম। তাহলে খালি পেটে চা পানের ক্ষতিকর দিক জেনে নেয়া যাক-

১. সকালে ঘুম থেকে উঠে বা খালি পেটে দুধ চা পান করলে গ্যাসের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ জন্য সঙ্গে আদা মিশিয়ে নিন।

২. ঘুম থেকে উঠেই কড়া করে দুধ চা পানের জন্য পেপটিক আলসার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ জন্য আগেই সাবধান হওয়া উচিত।

৩. চায়ে বিদ্যমান ট্যানিন দুধের স্পর্শে অধিকতর সক্রিয় হয়ে উঠে। ট্যানিন দাঁতে হলদে দাগ সৃষ্টি করে।

৪. সকালে দুধ চা পানের ফলে পাকস্থলীতে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। যা থেকে হজমের সমস্যা হয়। এমনকি কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

৫. অতিরিক্ত দুধ চা পানের কারণে পেট ফাঁপা বা ব্লোটিং হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৬. দিনে চার-পাঁচ বার দুধ চা পান করলে অনিদ্রার সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে।

এসব সমস্যা থেকে রক্ষায় দুধ চা-এর পরিবর্তে লিকার চা পান করতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, চায়ে খুব বেশি চিনি যোগ করা যাবে না। সম্ভব হলে মধু ও লেবুর রস ব্যবহার করেন। যতটা সম্ভব খালি পেটে চা পানের অভ্যাস পরিহার করুন। প্রয়োজনে আগে একটি বিস্কুট, একমুঠো মুড়ি বা চিড়া চিবিয়ে নিতে পারেন।

বন্ধ হচ্ছে দেশের ৬টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান

দেশের ৩৫টি ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) মধ্যে ২০টিকে সমস্যাগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ছয়টি প্রতিষ্ঠান তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুইটি প্রতিষ্ঠানকে তিন মাস এবং একটি প্রতিষ্ঠানকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে।

এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ আদায় বা তহবিল সংগ্রহ করতে পারলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবসায়ন প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হতে পারে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধেও অবসায়নের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

খেলাপি ঋণের ভয়াবহ চিত্র

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ৩৫টি এনবিএফআইয়ের মোট ঋণের পরিমাণ ২৫ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা খেলাপি, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৮৩ দশমিক ১৬ শতাংশ।

অন্যদিকে, এসব প্রতিষ্ঠানের বন্ধকী সম্পদের মোট মূল্য মাত্র ৬ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা, যা খেলাপি ঋণের তুলনায় অত্যন্ত কম।

তিন প্রতিষ্ঠানকে ছয় মাস সময়

অনিয়ম, দুর্নীতি ও দুর্বল ব্যবস্থাপনায় ক্ষতিগ্রস্ত এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটিকে সর্বোচ্চ ছয় মাস সময় দিয়ে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই তিন প্রতিষ্ঠান হলো—

  • বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি
  • জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি
  • প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জানান, ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে অবলুপ্ত করা হবে। বাকি তিনটি সময় চেয়েছে, তাই তাদের তিন থেকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক অগ্রগতি দেখাতে না পারলে তারাও অবসায়নের আওতায় পড়বে।

আমানতকারীরা পাবেন শুধু মূল টাকা

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আরও জানান, যেসব প্রতিষ্ঠান অবসায়নের আওতায় পড়বে, সেগুলোর আমানতকারীরা শুধু মূল আমানতের অর্থ ফেরত পাবেন। কোনো সুদ বা মুনাফা দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, অন্য কিছু এনবিএফআইয়ে আমানতকারীরা মাত্র ১৮ টাকা পেয়েই সন্তুষ্ট ছিলেন, যেখানে আগে তারা কিছুই পাননি।

বিশেষজ্ঞদের মত: মৃত প্রতিষ্ঠান বাঁচানো বৃথা

অর্থনীতিবিদদের মতে, যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান কার্যত ‘মরে গেছে’, সেগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করে লাভ নেই। বরং যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো টিকে আছে, সেগুলোকে কীভাবে বাঁচানো যায়, সেদিকেই বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।

তারা বলেন, একীভূতকরণ বা মার্জিংয়ের আগে দেখতে হবে, দুর্বল প্রতিষ্ঠানটি আদৌ ভালো প্রতিষ্ঠানের প্রভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো ‘ক্যান্সার’ বা ‘গ্যাংগ্রিন’-এর মতো অবস্থায় পৌঁছে গেছে, যেখানে জোর করে বাঁচানোর চেষ্টা ফলপ্রসূ হয় না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন করে বাঁচানো সম্ভব হলেও সব প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করতে গেলে সরকারের বিপুল অর্থায়ন ও সহায়তা প্রয়োজন হবে, যা বর্তমানে সম্ভব নয়।

প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত

এরই মধ্যে তিনটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।

ভালো অবস্থানে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর চিত্র

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকা ১৫টি এনবিএফআইয়ের খেলাপি ঋণের হার মাত্র ৭ দশমিক ৩১ শতাংশ।

গত বছর এসব প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে ১৪৫ কোটি টাকা মুনাফা করেছে এবং তাদের মোট মূলধন উদ্বৃত্ত রয়েছে ৬ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রতিষ্ঠানগুলোই বর্তমানে দেশের এনবিএফআই খাতের স্থিতিশীলতার প্রধান ভরসা।