Home Blog Page 185

ইরান আরো ৬ মাস ‘কঠিন যুদ্ধ’ চালিয়ে যেতে পারবে: আইআরজিসি

ইরান বর্তমান তীব্রতা বজায় রেখে অন্তত আরও ছয় মাস যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম—এমন দাবি করেছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। বাহিনীটির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের পরিস্থিতিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দীর্ঘ সময় ধরে একই মাত্রার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি ও সক্ষমতা রাখে।

আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি–এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আলি মোহাম্মদ নাঈনি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে যে গতিতে সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে, সেই একই মাত্রার কঠিন যুদ্ধ অন্তত আরও ছয় মাস চালিয়ে নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব। তিনি দেশটির সামরিক প্রস্তুতি ও সক্ষমতার বিষয়টি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের এই মূল্যায়ন সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বক্তব্য দিয়ে আসছেন, তার সঙ্গে স্পষ্টভাবে ভিন্ন। ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান অত্যন্ত সফল হয়েছে এবং তারা যুদ্ধে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। তাঁর ভাষায়, এই অভিযানে ইরানের শক্ত ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রভাবশালী সামরিক বাহিনীগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। কেবল সামরিক বা গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডেই নয়, দেশটির রাজনীতি, শিক্ষা ও অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রেও এই বাহিনীর উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে।

জ্বালানি তেলের মজুদ স্বাভাবিক, পেট্রল-অকটেনের বড় অংশ দেশেই উৎপাদিত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশে জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সংকট নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হলেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বলছে, মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। জ্বালানি বিভাগ, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিয়মিতভাবেই তেল আমদানি চলছে। বর্তমানে একটি জাহাজ থেকে বন্দরে তেল খালাস করা হচ্ছে এবং আগামী সোমবার আরও দুটি জাহাজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ কারণে জ্বালানি তেল নিয়ে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের মতে, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলে ব্যবহৃত পেট্রলের প্রায় পুরোটা এবং অকটেনের বড় একটি অংশ দেশেই উৎপাদিত হয়। ফলে এ দুই ধরনের জ্বালানি নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে তেলের দাম বাড়তে পারে বা সরবরাহ কমে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন পেট্রলপাম্পে তেল কেনার চাপ বেড়ে যায়। অনেক জায়গায় যানবাহনের দীর্ঘ সারিও দেখা গেছে। শনিবার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং দেশের কিছু স্থানে দুপুরের পর সাময়িকভাবে তেল বিক্রি বন্ধ রাখতে হয়।

তবে কর্মকর্তাদের মতে, প্রকৃত সংকটের চেয়ে আতঙ্কের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনতে শুরু করেন, আবার কিছু ব্যবসায়ী বেশি মুনাফার আশায় তেল মজুত করায় কৃত্রিম সংকট দেখা দেয়। নাটোরের সিংড়ায় বাঁশঝাড়ের নিচে প্রায় ১০ হাজার লিটার ডিজেল মজুত রাখার দায়ে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানাও করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসে মোট ১৪টি কার্গো দেশে আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ ইতোমধ্যে পৌঁছেছে এবং কয়েকটি পথে রয়েছে। আগামী মাসে ১৫টি কার্গোর মধ্যে ১৩টির সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে। বাকি দুটি কার্গো মে মাসে পাঠানো হবে বলে সরবরাহকারীরা জানিয়েছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা নিয়েও বড় ধরনের শঙ্কা দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, চীনা জাহাজের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় তেল পরিবহনে বড় বাধা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম।

বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্যও পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, বর্তমানে প্রায় ৫০ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো ফার্নেস অয়েল মজুদ আছে।

দেশে পেট্রল উৎপাদনের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা রয়েছে। ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড–এর এক কর্মকর্তা জানান, দেশে ব্যবহৃত পেট্রলের প্রায় পুরোটাই স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। মূলত দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া উপজাত কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে এই পেট্রল তৈরি করা হয়। অনেক সময় এই উৎপাদন দেশের চাহিদার চেয়েও বেশি হয়ে যায়।

এই পেট্রলের সঙ্গে আমদানি করা অকটেন বুস্টার মিশিয়ে অকটেন প্রস্তুত করা হয়। ফলে দেশে ব্যবহৃত পেট্রলের প্রায় সবটাই এবং অকটেনের বড় অংশ দেশীয়ভাবে উৎপাদন করা সম্ভব হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড এবং কয়েকটি বেসরকারি রিফাইনারি মিলিয়ে কনডেনসেট থেকে পেট্রল, অকটেনসহ প্রায় ৪০ ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা বছরে প্রায় ১৬ লাখ টন।

অন্যদিকে দেশে পেট্রল ও অকটেনের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৮ থেকে সাড়ে ৮ লাখ টন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক আতঙ্কের কারণে কয়েকদিন ধরে পাম্পগুলোতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছে। তবে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তারা আশা করছেন।

জনগণের ওপর জুলুম করবেন না

আলেম-ওলামা ও এতিমদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার  রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল সোয়া ৫টায় ইফতার মাহফিলে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসেই তিনি অতিথিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও কুশলাদি বনিমিয় করেন। এরপর ৫ টা ৩৫ মিনিটে তিনি সকলের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন।
বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আলেম-ওলামাদের সম্মানে রমজানের প্রথম দিনেই ইফতারের আয়োজন করে থাকি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এবার একটু দেরি হয়েছে। এতিমদের ব্যাপারে সরকার ও রাষ্ট্রের অবস্থান কেমন তা আজকের এই ইফতার আয়োজন দিয়েই বোঝা যায়।’
রমজান মাসেও যেসব ব্যবসায়ী অশুভ পন্থা অবলম্বন করছেন, তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আপনাদের আহ্বান জানাই, জনগণের ওপর জুলুম করবেন না।’
জাকাত প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাকাত দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরিকল্পিতভাবে জাকাত বণ্টন করা গেলে দরিদ্র্যতা মোকাবিলা করা যাবে।’ তিনি জাকাত বোর্ড পুনর্গঠন করার কথাও জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার আগামী ১০-১৫ বছরের মধ্যে দেশের দারিদ্র্য দূরীকরণে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবে।’
এ সময় ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সমাজ কল্যাণ, মহিলা ও শিশুবিষয়কমন্ত্রী ডা. আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসনে, আসসুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমদুল্লাহ ও বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক উপস্থিত ছিলেন।
শায়খ আহমদুল্লাহ জানান, ‘শুধু কওমি মাদ্রাসাগুলোতে প্রায় সাত লাখ এতিম শিশু লালিত-পালিত হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, দেশে প্রায় চার লাখ মসজিদ রয়েছে। এই মসজিদগুলোর ইমামদের দিয়ে নানা ধরনের কল্যাণমূলক র্কাযক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।

অগ্নিঝরা মার্চ

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাক ও সশস্ত্র সংগ্রামের প্রস্তুতির নির্দেশে পুরোপুরি পাল্টে যায় পুরো বাংলাদেশের চিত্র। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ প্রতিটি অক্ষরে অক্ষরে পালনে উত্তাল বিক্ষুব্ধ বাংলায় বিদ্রোহ-সংগ্রামের তরঙ্গ টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ছড়িয়ে পড়ে। বাঙালির প্রচ- বিক্ষোভে একাত্তরের এই দিনে রেডিও-টেলিভিশনে বঙ্গবন্ধুর অবিস্মরণীয় ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ প্রচার করতে বাধ্য হয় পাকি শাসকগোষ্ঠীরা।
চোখের সামনে সবাইকে বোকা বানিয়ে বঙ্গবন্ধুর কৌশলে স্বাধীনতার আহ্বানে হতভম্ভ হয়ে যায় পাকিস্তানি সামরিক জান্তারা। বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্নতাবাদী বানিয়ে স্বাধীনতার আন্দোলনকে ভ-ুলের শেষ পরিকল্পনাও ব্যর্থ হওয়ায় হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম দমনের নীলনকশা আঁটতে থাকে পাকি শাসক গোষ্ঠীরা।
আজ ৮ মার্চ। ১৯৭১ একাত্তরের এই দিনে বাংলার দামাল ছেলেরা চূড়ান্ত আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নিতে থাকে। আর ৭ মার্চে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে উদ্বুদ্ধ বাংলার জনগণ। বঙ্গবন্ধু যে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন তার পক্ষে দেশবাসী জেগে উঠতে শুরু করে। বাংলার দামাল ছেলেরা নিজেরা দলে দলে যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুতি নিতে শুরু করে।
বঙ্গবন্ধুর ডাকে অসহযোগ আন্দোলন চলতেই থাকে। এ সময় স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য স্বাধীনতা বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুর বাণী রেডিওতে প্রচার না করায় বাঙালি ক্ষোভে ফেটে পড়ে। বেতার কর্মীদের আন্দোলনের কারণে পাকিস্তানিরা বাধ্য হয় বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বেতারে প্রচার করতে। ৮ মার্চ সকাল ৮টায় রেডিওতে ভেসে আসে বঙ্গবন্ধুর সেই অবিস্মরণীয় ভাষণÑ ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
অন্যদিকে আগের মতোই উত্তাল জনতা মিটিং-মিছিলে প্রকম্পিত করে রাখে সারাদেশ। ক্ষুব্ধ বাঙালির মিছিলে মিছিলে ঝাঁজাল স্লোগানে উচ্চকিত ছিল সারাদেশ। প্রধান স্লোগান ছিলÑ ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’, ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্ম-মেঘনা-যমুনা’, ‘তোমার দেশ আমার দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ ইত্যাদি।
এক্ষেত্রে বসে নেই কুখ্যাত পাকিস্তানি বাহিনী। তাদের এ দেশীয় দোসররাও বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলন নস্যাতে তৎপর। কার্ফু দিয়েও সামরিক জান্তারা সাহসী বীর বাঙালিদের আটকে রাখতে না পেরে গোপনে আঁটতে থাকে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে বাঙালি নিধনের। একাত্তরের উত্তাল, ঝঞ্ছাবিক্ষুব্ধ বাংলাদেশে এই দিনটিতে সারাদেশের সকল পাড়া, গ্রাম, মহল্লায় সংগ্রাম কমিটির পাশাপাশি শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি এবং স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠনের আহ্বান জানানো হয়।

১৮ মার্চের টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে আজ থেকে

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে অনলাইনে অগ্রিম টিকিট বিক্রি করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আজ রবিবার ষষ্ঠ দিনের মতো বিক্রি হচ্ছে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট।

সকাল ৮টা থেকে আগামী ১৮ মার্চের পশ্চিমাঞ্চলের সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। অন্যদিকে দুপুর ২টা থেকে বিক্রি শুরু হবে পূর্বাঞ্চলের সব আন্তঃনগর ট্রেনের আসনের অগ্রিম টিকিট।

রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৩ মার্চের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে গত ৩ মার্চ, ১৪ মার্চের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে গত ৪ মার্চ, ১৫ মার্চের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে গত ৫ মার্চ, ১৬ মার্চের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে গত ৬ মার্চ ও ১৭ মার্চের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে গত ৭ মার্চ। এ ছাড়া আগামী ১৯ মার্চের টিকিট ৯ মার্চ বিক্রি করা হবে।

উল্লেখ্য, চাঁদ দেখার সাপেক্ষে আগামী ২০, ২১ ও ২২ মার্চের টিকিট বিক্রি করা হবে। যাত্রীদের অনুরোধে নন-এসি কোচের ২৫ শতাংশ দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট যাত্রা শুরুর আগে প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

মাহে রমজান

কুরআনুল কারীম নাযিলের মাস মাহে রমজান। এ মাসে আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব কুরআন পড়া, কুরআন শরীফের মর্ম অনুধাবন করা। আজ আমরা পবিত্র কুরআনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূরা সুরাতুল আনআমের ফযিলত ও পটভূমি পর্যালোচনা করব। সুরাতুল আনআম পবিত্র কুরআনের ৬ষ্ঠ সুরা। এতে ২০টি রুকু, ১৬৫টি আয়াত, ১২,৯৩৫টি হরফ রয়েছে। বিখ্যাত কুরআন বিশারদ হজরত আবদুল্ল­াহ ইবনে আব্বাস (রাদি.) বলেন : সুরা আনআমের একটি বৈশিষ্ট্য এই যে, কয়েকটি আয়াত বাদে গোাটা সুরাটি একযোগে একই রজনীতে মক্কা শরীফে অবতীর্ণ হয়েছে। সত্তর হাজার  ফেরেস্তা তাসবীহ পাঠ করতে করতে এ সুরার সঙ্গে অবতরণ করেছিলেন। আর আঁ-হজরত (স.) আল্লাহর প্রশংসা সূচক ‘সুবহানা রাব্বিায়াল আজীম’ পাঠ করছিলেন সেজদাবনত হয়ে। -(খাজাঈনুল ইরফান, অখ- ১৫২)।
অন্য এক বর্ণনায় হজরত মুয়াজ ইবনে জাবালের (রাদি.) চাচাত ভগ্নি আসমা বিনতে ইয়াজিদ বলেন : এ সূরা যখন হুজুর (স.) এর ওপর নাজিল হচ্ছিল তখন তিনি এক উষ্ট্রীর পিঠে আরোহিত ছিলেন। আর আমি ওটার লাগাম ধরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখন দুর্বহ চাপে উষ্ট্রীর অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে গিয়েছিল। মনে হচ্ছিল ওটার মেরুদ- এখনি বুঝি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে।
হাদীসে এ কথাও স্পষ্টরূপে উল্লেখ হয়েছে যে, যে রাতে এ সূরা নাজিল হয়েছিল, সেই রাতেই হজরত নবী করীম (স.) এটি লিপিবদ্ধ করিয়ে ছিলেন। সূরাটির বিষয়ে উপরোক্ত ফজিলত ও গুরুত্ব সম্ভবত এ জন্যই প্রকাশ করা হয়েছে যে, মক্কার সর্বশেষ পর্যায়ে এ সূরার মাধ্যমে মহানবী (স.) কুফফারে মক্কার তাওহীদ বিরোধী ভ্রান্ত ধারণা ও বিশ্বাসগুলোর যুক্তিপূর্ণ প্রতি উত্তর দিতে সক্ষম হবেন।
ইসলামের দাওয়াত প্রচারের কাজ করতে করতে খোদার রসুলের (স.) বারোটি বছর অতিবাহিত হয়ে যায়। এ সময় কুরাইশদের শত্রুতা, বিরুদ্ধতা ও জুলুম নিষ্পেষণের মাত্রা চরম সীমায় পৌঁছেছে। ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে উল্লে­খযোগ্য পরিমাণ লোক তাদের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে দেশ ছেড়ে হাবশায় হিজরত করে বসবাস করতে শুরু করল তখন জীবিত ছিলেন না হজরতের মুরুব্বি চাচা আবু তালিব, আর না অনুপ্রেরণা দানকারিণী বিবি খাদিজা (রাদি.)।
আবু ইসহাক ইসকেরায়য়িনী বলেন : এ সূরাটিতে তাওহীদের সমস্ত মূলনীতি ও পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে। এ সূরাটি ‘আলহামদুলিল্ল­াহ’ বাক্য দ্বারা আরম্ভ করা হয়েছে। এতে খবর দেওয়া হয়েছে যে, সর্ববিধ প্রশংসা আল্লাহর জন্য। প্রথম আয়াতের উদ্দেশ্য হলো একত্ববাদের স্বরূপ ও সুস্পষ্ট প্রমাণ বর্ণনা করে জগতের ঐসব জাতিকে হুঁশিয়ার করা, যারা মূলত একত্ববাদের বিশ্বাসী নয় কিংবা বিশ্বাসী হওয়া  সত্ত্বেও একত্ববাদের তাৎপর্যকে পরিত্যাগ করে বসেছে।
এ সূরার নামকরণ করা হয়েছে সুরাতুল আনআম। ‘আনআম’ অর্থগৃহ পালিত জন্তু। সুরাটির ১৬, ১৭ রুকুতে ‘আনআম’ শব্দটি বেশ কয়েকবার উল্লে­খিত হয়েছে। তা থেকেই উক্ত নামে সুরাটির নামকরণ। ইসলাম ধর্মে চতুষ্পদ গৃহপালিত জন্তু সম্পর্কীত সুস্পষ্ট হালাল-হারামের বিধান রয়েছে। কোনো কোনো জীব জন্তু হারাম, কখন এবং কেনই বা হারাম আর হালাল (বৈধ) হলো এর রহস্যই বা কি?
মানুষের বিপদ আপদ দূর হওয়ার জন্য বুজুর্গানে দ্বীন এ সূরা পাঠ করার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে থাকেন। আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে পবিত্র কুরআন ও রমজানের বরকতে আসমানী বালা ও জমিনী বালা মুসিবত থেকে পানাহ দান করুন- আমিন।

নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বলেছেন, নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকলকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, নারীর উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হলেও এর সুফল পেতে হলে ঘরে-বাইরে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম পর্যন্ত গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা শহিদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শহিদদের স্বপ্ন ছিল বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাদের আত্মত্যাগের যথার্থ মূল্যায়ন সম্ভব।

অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রপতির ভাষ্য, আগামী ১০ মার্চ থেকে এই কর্মসূচি কার্যকর হবে, যা পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১৬ শতাংশ অবদান আসে গৃহস্থালির কাজ থেকে এবং নারীরা স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি, শিল্প, কলকারখানা ও নির্মাণসহ সব ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

নারীর প্রতি সহিংসতা রোধের বিষয়েও রাষ্ট্রপতি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, নারী নির্যাতন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। একই সঙ্গে অনলাইন মাধ্যমেও নারীর চরিত্রহনন ও সাইবার বুলিংয়ের মতো নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কন্যাশিশুর ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, কঠোর আইন প্রয়োগ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে এসব সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে।

খালেদা জিয়া ছিলেন সাহসের অনুপ্রেরণা: ডা. জোবায়দা রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধুই একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি ইতিহাসের অংশ, একজন জীবন্ত কিংবদন্তি।

তাঁর মতে, খালেদা জিয়া প্রতিটি বাঙালি নারীর জন্য প্রেরণা, শক্তি ও সাহসের প্রতীক।

ডা. জোবাইদা রহমান রোববার (৮ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আলোচনা সভায় এই মন্তব্য করেন।

মির্জা আব্বাসের মানহানির অভিযোগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলার আবেদন ভ

ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মানহানির অভিযোগ এনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের আবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। রোববার সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে এই আবেদন জমা দেওয়া হয়। মির্জা আব্বাসের পক্ষে রমনা থানা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম মামলার আবেদনটি করেন।

এ বিষয়ে মির্জা আব্বাসের আইনজীবী মো. আমিরুল ইসলাম জানান, মামলার আবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে সকাল ১১টার দিকে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসনে মির্জা আব্বাস ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ওই নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে জয় পান মির্জা আব্বাস। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর পাটওয়ারী ভোট গণনায় ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলেছিলেন।

হোয়াইট হাউজে মেসি-মায়ামিকে ট্রাম্পের সংবর্ধনা

গত মৌসুমে ক্লাব ইতিহাসে প্রথমবার মেজর লিগ সকার (এমএলএস) চ্যাম্পিয়ন হওয়া ইন্টার মায়ামিকে হোয়াইট হাউজে অভ্যর্থনা জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্যারিয়ারের প্রথমবার শুক্রবার হোয়াইট হাউজে গিয়ে উষ্ণ শুভেচ্ছা পেয়েছেন রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা। যেখানে ট্রাম্প মেসিকে পেলের চেয়ে ভালো ফুটবলার বলে মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি নিজের ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো এবং মেসির ভক্ত বলে জানিয়েছেন।

এ সময় ট্রাম্প ও মায়ামির যৌথ মালিক জর্জ মাসের সঙ্গে ইষ্ট রুমে প্রবেশ করেন মেসি। তারপর নিজের সই করা মায়ামির একটি গোলাপি বল প্রেসিডেন্টকে উপহার দেন। এ ছাড়া মায়ামির মালিক ও কোচ হাভিয়ের মাশ্চেরানোর কাছ থেকে জার্সি ও ঘড়ি উপহার পান ট্রাম্প। এ সময় ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সত্যিকারের প্রতিভাবান মানুষদের সম্মানিত করছি। আমার বলতে খুব গর্ববোধ হচ্ছে যে আগে কোনো আমেরিকান প্রেসিডেন্ট যেটা বলতে পারেনি, সেটাই বলতে পারছি আমি- লিওনেল মেসি, তোমাকে হোয়াইট হাউজে স্বাগতম।’ মজার ব্যাপার হলো মেসির হোয়াইট হাউজে আগমনের খবর নাকি ট্রাম্পও জানতেন না। ছেলের কাছ থেকে শুনেছেন তিনি, ‘আমার ছেলে বলেছিল, বাবা, তুমি কি জানো এখানে কে আসতে যাচ্ছে? আমি বললাম, না, অনেক কিছুই তো হচ্ছে। সে বলল মেসি।’

ট্রাম্পের ছেলে মেসি এবং পর্তুজিগ সুপার স্টারের ভক্ত। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সে তোমার অনেক বড় একজন ভক্ত। তার মতে তুমি অসাধারণ একজন মানুষ। আমার ধারণা এর আগে তোমাদের দেখাও হয়েছে। সে ফুটবলের অনেক বড় ভক্ত, তবে তোমারও একনিষ্ঠ ভক্ত। আর রোনাল্ডো নামের একজন ভদ্রলোকেরও (ভক্ত)। ক্রিস্টিয়ানো দারুণ। তুমিও দারুণ।’

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে ট্রাম্পের কাছে আমেরিকান ক্লাবের সঙ্গে ব্রাজিলিয়ান গ্রেট পেলের খেলার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়। তিনি মেসির দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘তুমি হয়ত পেলের চেয়েও ভালো।’ তারপর দর্শকদের উদ্দেশে তার প্রশ্ন, কে বেশি ভালো? সেখানে উপস্থিত বেশিরভাগই রায় দেন মেসির পক্ষে। তাতে সুর মিলিয়ে ট্রাম্প বলে উঠেন, ‘আমি আপনাদের সঙ্গে একমত। তবে সে অনেক ভালো, পেলে আসলেই ভালো।’