Home Blog Page 186

বিশ্বকাপে ভারত ম্যাচ বয়কট করল পাকিস্তান

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ এ অংশগ্রহণের অনুমতি পেলেও ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। বাবর আজম, শাহীন শাহ আফ্রিদিদের নিয়ে গঠিত জাতীয় দলকে বিশ্বকাপে খেলতে সরকারের পক্ষ থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান সরকার।

বিবৃতিতে জানানো হয়, পাকিস্তান সরকার আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ এ অংশগ্রহণের অনুমোদন দিলেও ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে পাকিস্তান দল মাঠে নামবে না।

বিস্তারিত আসছে…

এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা আজ

ফেব্রুয়ারি মাসে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ছে নাকি কমছে তা জানা যাবে আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি)। এদিন এক মাসের জন্য এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করা হবে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, সৌদি আরামকো ঘোষিত ফেব্রুয়ারি (২০২৬) মাসের সৌদি সিপি অনুযায়ী এই মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূল্য সমন্বয় সম্পর্কে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নির্দেশনা সোমবার দুপুর ৩টায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) ঢাকাস্থ কমিশন কার্যালয়ের শুনানি কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে ঘোষণা করা হবে।

 

মাঠ কাঁপাচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাঠে আছেন আড়াই শতাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী। এদের মধ্যে অন্তত অর্ধশত জনপ্রিয় প্রার্থী আছেন, যারা সংশ্লিষ্ট আসনে বড় বড় দলের হেভিওয়েট প্রার্থীদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছেন। জনপ্রিয় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অনেকে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহ করেছেন। এ জন্য নেমে এসেছে দল থেকে বহিষ্কারের খড়্গ।

আবার দল থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ে সফল নেতাও রয়েছেন এ দলে। সাড়া জাগানো এসব স্বতন্ত্র প্রার্থী জিততে না পারলেও অনেক ক্ষেত্রেই তাদের সাবেক দলের প্রার্থীর ভরাডুবির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েই মাঠ কাঁপানো কয়েক জনপ্রিয় প্রার্থীর সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে দেশবাসীর মনেও রয়েছে কৌতূহল।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির দলীয় প্রার্থী আছেন ২৯১টি আসনে। যুগপৎ আন্দোলনে থাকা সমমনা দলগুলোকে আটটি আসনে ছাড় দিয়েছে বিএনপি। কেবল কুমিল্লা-৪ আসনে মনজুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় সেখানে বিএনপির দলীয় প্রার্থী নেই। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ১১৭ আসনে বিএনপির ১৯০ জন দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। কারও কারও মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পরও ৭৯টি আসনে অন্তত ৯২ জন বিএনপির নেতা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। কোনো কোনো আসনে বিএনপির একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীও আছেন। যদিও বিদ্রোহীদের সবাইকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় অন্য নেতাদেরও বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছে। কিছু জায়গায় বিলুপ্ত করা হয়েছে পুরো কমিটি।
সাইফুল আলম নীরব ॥ দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী হিসেবে ঢাকা-১২ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট। এখানে তিনি কোদাল প্রতীয় নির্বাচন করছেন। এ আসনে শুরুতে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব। কিন্তু সাইফুল হককে আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় বিপাকে পড়েন নীরব। সমর্থিত নেতাকর্মীদের চাপে শেষ পর্যন্ত তিনি এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। এ জন্য দল থেকে বহিষ্কৃতও হন তিনি। কিন্তু নির্বাচনী মাঠ ছাড়েননি। উল্টা বিজয়ী হলে ফুটবল মার্কার এ আসনটি তারেক রহমানকে উপহার দেবেন ঘোষণা দিয়ে জোর প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিশ্লেষকদের ধারণা, সাইফুল আলম নীরব এবং সাইফুল হকের ভোট কাটাকাটির সুবিধা পেতে পারেন এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কমিটি নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল আলম খান মিলন। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নেতারা মিলনের পক্ষে এ আসনে জোপর প্রচারণা চালাচ্ছেন।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ॥ বিএনপির সাবেক সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্ট্রার রুমিন ফারহানা এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসেনে হাঁস মার্কায় স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন। বিএনপি এখানে মনোনয়ন দিয়েছে শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহ-সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিবকে। তিনি সেখানে খেজুর গাছ মার্কায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করায় রুমিনকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু তিনি থামেননি। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। চ্যালেঞ্জ দিয়ে যাচ্ছেন জোটের প্রার্থীকে। রুমিন ছাড়াও এ আসনে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, রুমিন-জুনায়েদের ভোট কাটাকাটিতে উক্ত আসনে অপেক্ষাকৃত দূর্বল এনসিপির প্রার্থী বিজয়ী হয়ে আসলেও অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না। তবে নিজের বিজয়ের ব্যাপারে রুমিন ফারহানা যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী বলে জানা গেছে।
হাসান মামুন ॥ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক জনপ্রিয় সভাপতি হাসান মামুন। তিনি ছিলেন বিএনপির জাতীয় কমিটির সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে পটুয়াখালী-৩ আসন নিজের মতো করে গুছিয়েছেন মামুন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলীয় হাইকমান্ড সে আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নূরুল হক নূরকে মনোনয়ন দেয়। এতে বিক্ষুব্ধ মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। দল তাকে বহিষ্কার করলেও দমেননি এই জনপ্রিয় ছাত্রনেতা। নির্বাচনী এলাকার অধিকাংশ নেতাকর্মী তার সঙ্গে আছেন দাবি করে জোর প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। স্বভাবিক কারণেই তীব্র চ্যালেঞ্জে পড়েছেন ট্রাক প্রতীকের জোট প্রার্থী নূর। বিশ্লেষকদের মাতে, এ আসনে নূরের চেয়ে হাসান মামুনের জনপ্রিয়তা বেশি। কিন্তু বিএনপি জোটের প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট কাটাকাটির সুবাদে জামায়াত জোটের প্রার্থী সেখানে অপেক্ষাকৃত কম জনপ্রিয়তা নিয়েও বেরিয়ে আসতে পারেন।
ডা. তাসনিম জারা ॥ বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ডাক্তার তাসনিম জারা। চব্বিশের গণঅভুত্থানে তিনি ছিলেন অগ্রসেনানি। দল গঠনের পর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ পান এনসিপিতে। ঢাকা-৯ আসনে তাসনিম জারার প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন দীর্ঘদিনের। দলও তাকে গ্রীন সিগন্যাল দিয়ে রেখেছিল। কিন্তু জামায়তের নেতৃত্বাধীন জোটে এনসিপির অন্তর্ভুক্তির ঘটনায় দল থেকে পদত্যাগ করেন জারা। শেষ পর্যন্ত তিনি ফুটবল প্রতীকে নির্বাচন করছেন স্বতন্ত্রভাবে। এনসিপি এ আসনে মনোনয়ন দিয়েছে দলটির আরেক কেন্দ্রীয় নেতা জাবেদ মিয়া রাসিনকে। আর বিএনপি থেকে ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক জনপ্রিয় সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিব।

বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতজোটের ভোট ব্যাংক নিশ্চিত করতে জোটের নেতাকর্মীরা রাসিনের শাপলা কলির পক্ষে সক্রিয় থাকলেও তাসনিম জারা ইতোমধ্যেই এ আসনে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পেবেছেন। এই দুজনের ভোট কাটাকাটির সুযোগে ধানের শীষের হাবিব এ আসনে নিশ্চিত বিজয়ের পথে হাঁটছেন বলে তাদের অনুমান।
ইসহাক সরকার ॥ ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রার্থী করা হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. হামিদুর রহমান হামিদকে। কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর ছাত্রদলের জনপ্রিয় নেতা মোহাম্মদ ইসহাক সরকার এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীকে মাঠে রয়েছেন। অন্যদিকে এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাফেজ এনায়েত উল্লাহ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করছেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাজি সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলনও লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এ আসনে। বিশ্লেষকদের মতে, ত্রিমুথি প্রতিদ্ধন্ধিতায় হামিদ-ইসহাকের ভোট কাটাকাটির ফল যেতে পারে জামায়াতের প্রার্থীর ঘরে।
এম এ এইচ সেলিম ॥ বাগেরহাট ১, ২ ও ৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিলভার সেলিম হিসেবে পরিচিত লাইন গ্রুপের কর্ণধার এম এ এইচ সেলিম। প্রচুর অর্থবিত্ত এবং সাবেক জেলা সভাপতি হিসেবে এলাকায় তিনি বেশ জনপ্রিয়। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করলেও পদ-পদবি না থাকায় দল তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। সেলিমের পাশাপাশি বাগেরহাট-১ আসনে প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য শেখ মাছুদ রানাও। দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি। বাগেরহাট-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য কাজী খায়রুজ্জামান।

দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ায় সম্প্রতি তাকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মাঠের প্রচারে সক্রিয় আছেন। এমতাবস্থায় নিজে জিনতে না পারলেও বিএনপির দলীয় প্রার্থীদের অবস্থান নড়বড়ে করে দেওয়ার জন্য তারা যথেষ্ট বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও সিলভার সেলিমের দাবি, বিএনপি থেকে যারা মনোনয়ন পেয়েছেন তারা কেউই জামায়াতের সামনে পাস করতে পারবেন না। কাজেই বিএনপির সিট রক্ষার জন্য, বিএনপির স্বার্থেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। যাতে বিএনপির সিটগুলো না কমে।
এস এ সিদ্দিক সাজু ॥ ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন মায়ের ডাকের প্রধান সানজিদা ইসলাম তুলি। এ আসনে জামায়াত প্রার্থী করেছে দীর্ঘদিন গুমের শিকার ব্যারিস্ট্রার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানকে। এ আসনে তুলি-আরমান দুজনই বেশ জনপ্রিয়। যদিও তুলির সামনে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এ সিদ্দিক সাজু। তার পিতা এস এ খালেক ছিলেন ওই এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য। সে কারণে পারিবারিকভাবে এই পরিবারের একটা প্রভাব ওই আসনে রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। স্বাভাবিক কারণেই সাজুর উপস্থিতিতে চাপে আছেন ধানের শীষের প্রার্থী সানজিদা। বিশ্লেষকদের মতে, তুলি-সাজুর ভোট কাটাকাটিতে আসনটি শেষ পর্যন্ত মীর কাসেম আলীর পুত্র হাসিনার আয়নাঘর থেকে ৮ বছর পর ফিরে আসা মীর আরমানের ঘরে ওঠার সম্ভাবনাই বেশি।
সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ॥ বিএনপি ঘাটি হিসেবে পরিচিত ঝিনাইদহ-৪ আসন চষে বেড়াচ্ছেন দলটির বহিষ্কৃত নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। এ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হেয়েছেন তিনি। আসনটি বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে থাকলেও গণঅধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগকারী রাশেদ খানকে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় শক্তিশালী ঘাটিটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। দলের একাংশ রাশেদের পক্ষে কাজ করলেও ফিরোজ মাঠে আছেন অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে। এলাকাবাসীর মন্তব্য, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ সংসার ত্যাগ করে দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, সামাজিক কর্মকা-ে সক্রিয়তা এবং মাঠের রাজনীতিতে দৃশ্যমান উপস্থিতির কারণে তিনি নিজ এলাকায় জনবান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিত। যদিও রাশেদ-ফিরোজের ভোট ভাগাভাগির সুবাদে ভোটের ফলাফল জামায়াতের প্রার্থীর ঘরে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সালমান ওমর রুবেল ॥ ময়মনসিংহ-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। একজন সবচেয়ে হেভিওয়েট প্রার্থী তিনি। যদিও কেন্দ্রীয় এই নেতার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠ কাঁপাচ্ছেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য ও ব্যবসায়ী সালমান ওমর রুবেল। এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তার পাশাপাশি তার রয়েছে বিপুল অর্থ। এ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ইসলামী ছাত্রশিবির ময়মনসিংহ জেলার সাবেক সভাপতি মাহফুজুর রহমান মুক্তা।

বিশ্লেষকদের মতে, এ আসনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের মধ্যে জমজমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু জামায়াতজোটেরও রয়েছে বিশাল ভোটব্যাংক। এমতাবস্থায় প্রিন্স-রুবেলের ভোট কাটাকাটির সুযোগে জামায়াত প্রার্থী ফসল ঘরে তুললেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না বলে মনে করছেন ভোটাররা।
আবদুল মতিন খান ॥ কুমিল্লা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী শিক্ষক নেতা সেলিম ভূঁইয়া। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বেগম খালেদা জিয়ার এক সময়ের এপিএস-২ মো. আবদুল মতিন খান। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। তবে তিনি এখনো মাঠে সরব। স্থানীয় সূত্রমতে, বিএনপির পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা মতিনের পক্ষে মাঠে সক্রিয়। এর মধ্যে বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। ভোটাররা মনে করছেন, ভোটে বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর লড়াই হবে। তবে একই ঘরানার ভোট দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেলে মাঝখান থেকে জামায়াত জোটের প্রার্থী উপকৃত হতে পারেন বলেও তাদের অনুমান।

বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক থাকছে না যে ১০ আসনে

প্রার্থিতা ফিরে পেতে কুমিল্লার দুটি আসনে বিএনপির প্রার্থীদের আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ফলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ ও কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী থাকছে না।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর করা ঋণখেলাপির অভিযোগে গত ১৭ জানুয়ারি এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসানের মনোনয়ন বাতিল করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মঞ্জুরুল আহসান হাইকোর্টে রিট করলে ২১ জানুয়ারি তা সরাসরি খারিজ হয়ে যায়। এরপর তিনি আপিল বিভাগে আবেদন (লিভ টু আপিল) করেন।

অন্যদিকে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। পরে প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন তিনি। গত ২২ জানুয়ারি সেই রিট সরাসরি খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। এরপর হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে গফুর ভূঁইয়া লিভ টু আপিল করেন।

রোববার দুটি আবেদনই খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ। ফলে আসন্ন নির্বাচনে তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার আর কোনো সুযোগ নেই।

এদিকে মিত্র দলগুলোকে ৮টি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ পেয়েছে ৪টি আসন। এ ছাড়া গণসংহতি আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও গণ অধিকার পরিষদ পেয়েছে একটি করে আসন। এসব দলের প্রার্থীরা নিজ নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করছেন।

শরিকদের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের ‘খেজুরগাছ’ প্রতীক নিয়ে সিলেট-৫ আসনে নির্বাচন করছেন দলটির সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ উবায়দুল্লাহ ফারুক। এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দলটির সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, নীলফামারী-১ আসনে মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে নির্বাচন করছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি মনির হোসেন কাসেমী।

অন্যদিকে ‘মাথাল’ প্রতীক নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে নির্বাচন করছেন গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। ঢাকা-১২ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক নিজ দলের প্রতীক ‘কোদাল’, পটুয়াখালী-৩ আসনে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ‘ট্রাক’ এবং ভোলা-১ আসনে বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ নির্বাচন করছেন ‘গরুর গাড়ি’ প্রতীক নিয়ে। ফলে এসব আসনেও ধানের শীষ থাকছে না।

চমক নিয়ে প্রস্তুত বিএনপির ইশতেহার ঘোষণা হতে পারে কাল

‘পর পর দুবারের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না’, ‘ নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা’, ‘জুলাই সনদের আলোকে কমিশন গঠন’ এবং নির্বাচিত হলে প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থান। বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ রাষ্ট্র গঠনে নানা চমক নিয়ে প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে বিএনপির ইশতেহার। আগামীকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সম্ভাব্য ইশতেহার ঘোষণার দিনক্ষণ ঠিক রেখেছে দলটি। তৈরি করা হয়েছে ২৭ দফা।

দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা ও চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ঘোষিত ‘ভিশন-২০৩০’- এর রূপরেখা সংযোজিত হয়েছে এতে। ২৭ দফার আলোকেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার চূড়ান্ত বলে বিশ্বস্ত সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দীর্ঘ প্রবাস জীবনের অবসান ঘটে তারেক রহমানের। দেশের মাটিতে পা রাখেন তিনি। মায়ের মৃত্যুর পর হয়েছেন ভারমুক্ত। এখন তিনি দলের চেয়ারম্যান। তাঁর অধীনে এবার বিএনপি ভোটের মাঠে লড়াই করছেন। ভোটের প্রচারণায় ছুটছেন সারাদেশে। আওয়ামী লীগ বিহীন জামায়াতের সঙ্গে চলছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে তরুণ প্রজন্মকে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবারের নির্বাচনকে অত্যন্ত কঠিন নির্বাচন বলেও দাবি করছে দলটি। সব বিবেচনায় একটি কল্যাণরাষ্ট্র গঠনে এবার নির্বাচনী ইশতেহারে অতীতের চাইতে বেশি চমক রাখা হয়েছে।
নির্বাচিত হলে দেশের জনগণকে নিয়ে পরিকল্পনা, জনসেবা ইত্যাদি তুলে ধরবে দলটি। ইশতেহারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তার পাশাপাশি জনসম্পৃক্ত নানা কর্মসূচির উল্লেখ থাকবে। এছাড়া প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থানের ঘোষণা দলটি আগেই দিয়ে আসছে। এর বাইরে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান ও ধর্মীয় নেতাদের জন্য উন্নয়ন সেবার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উন্নয়ন বা সেবার কথা বলবে বিএনপি। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধাদের জন্য থাকবে ভিন্ন পরিকল্পনা। সম্মান এবং মর্যাদায় তাদের জন্য আসবে বিশেষ প্রতিশ্রুতির বার্তা।
জানা যায়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, শাসনব্যবস্থা পুনর্গঠন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ, মানবাধিকার রক্ষা ও দুর্নীতিবিরোধী কাঠামো শক্তিশালীকরণ ইশতেহারের কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। দলের নীতিনির্ধারকরা জানান, জনগণকে রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলাই হবে বিএনপির অঙ্গীকার। ইশতেহারে বিএনপির ৩১ দফার মূল বিষয়- নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, মানবাধিকার সুরক্ষা, বাকসাধীনতা, স্বচ্ছ প্রশাসন ও জাতীয় অর্থনীতি পুনরুদ্ধার বিশদভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এছাড়া জুলাই সনদের আলোকে মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পূর্ণ স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা দেওয়ার পরিকল্পনাও ইশতেহারে গুরুত্ব পাবে। জানা যায়, সর্বশেষ স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলীয় প্রচারের কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে কী কী বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে নেতারা মতামত দেন। কৌশল অনুযায়ী নির্বাচনী প্রচারে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশাকে আলাদাভাবে টার্গেট করবে বিএনপি।
বিএনপির বিশ্বস্ত সূত্রগুলো বলছে সমসাময়িক বিষয়গুলোর সঙ্গে বিএনপির ২৭ দফার আলোকেই থাকবে মূল ইশতেহার। মূল পয়েন্টে সেগুলো যুক্ত রেখেছে দলটি। তা হলো-
১. একটি ‘সংবিধান সংস্কার কমিশন’ গঠন করে বর্তমান ‘অবৈধ’ আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত সব অযৌক্তিক, বিতর্কিত ও অগণতান্ত্রিক সাংবিধানিক সংশোধনী ও পরিবর্তনগুলো পর্যালোচনা করে তা রহিত বা সংশোধন করা। ২. প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘রেইনবো নেশন’ প্রতিষ্ঠা। ৩. একটি নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।

৪. রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা। ৫. পরপর দুবারের বেশি কেউ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। ৬. বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে উচ্চকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা প্রবর্তন। ৭. সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করার বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা। ৮. বর্তমান ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন-২০২২’ সংশোধন করা। ৯. সাংবিধানিক সব প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন ও শুনানির মাধ্যমে সংসদীয় কমিটির ভোটিং সাপেক্ষে এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া। ১০. নিশ্চিত করা হবে বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা। বর্তমান বিচারব্যবস্থা সংস্কারের জন্য গঠন করা হবে একটি ‘জুডিশিয়াল কমিশন’।
১১. একটি ‘প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন’ গঠন করে প্রশাসন পুনর্গঠন করা। ১২. মিডিয়ার সার্বিক সংস্কারের লক্ষ্যে একটি ‘মিডিয়া কমিশন’ গঠন করা।
১৩. দুর্নীতির ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না। অর্থপাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী নিয়োগ করা হবে ন্যায়পাল। ১৪. সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠা করা হবে আইনের শাসন। মানবাধিকার বাস্তবায়ন করা হবে ইউনিভার্সাল হিউম্যান রাইটস চার্টার অনুযায়ী।
১৫. অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠন করা হবে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন। ১৬. ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’—এ মূলনীতির ভিত্তিতে প্রত্যেক ধর্মাবলম্বী নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ অধিকার ভোগ করবেন। ১৭. মুদ্রাস্ফীতির আলোকে শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা হবে।
১৮. বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ খাতে দায়মুক্তি আইনসহ সব কালাকানুন বাতিল করা। ১৯. বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ভূখ-ের মধ্যে কোনো রকম সন্ত্রাসী তৎপরতা বরদাশত করা হবে না এবং কোনো সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা আশ্রয়-প্রশ্রয় পাবে না। সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদকে রাজনৈতিক ঢাল বা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এবং সন্ত্রাসবাদের ভিন্নমতবিরোধী শক্তি ও রাজনৈতিক বিরোধীদল দমনের অপতৎরতা বন্ধ করা হলে প্রকৃত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করা ও আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া সম্ভব হবে।
২০. দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সুসংগঠিত, যুগোপযোগী এবং সর্বোচ্চ দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত করে গড়ে তোলা। ২১. ক্ষমতার ব্যাপক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে অধিকতর স্বাধীন, শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমনভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে, যেন তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন পরিষেবা প্রদান ও উন্নয়ন কার্যক্রমে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। ২২. রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নিবিড় জরিপের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি তালিকা প্রণয়ন করা হবে এবং তাদের যথাযথ মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হবে। ২৩. যুবসমাজের ভিশন ও চিন্তা-চেতনাকে ধারণ করে প্রণয়ন করা হবে আধুনিক ও যুগোপযোগী যুব উন্নয়ন নীতিমালা।

২৪. নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। জাতীয় সংসদে মনোনয়নের ক্ষেত্রে নারীদের গুরুত্ব দেওয়া এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। ২৫. প্রাধান্য দেওয়া হবে চাহিদাভিত্তিক ও জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাকে। ২৬. ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’—এ নীতির ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যের ‘এনএইচএস’র আদলে চালু করা হবে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা। ২৭. কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে। প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হলেও শস্য বিমা, পশু বিমা, মৎস্য বিমা ও পোলট্রি বিমা চালু করা হবে। নিরুৎসাহিত করা হবে কৃষিজমির অকৃষি ব্যবহার।
এ বিষয়ে বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ বলেছেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে সরকারকে বাধ্য করা। এর জন্য আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। দাবি আদায় হলে আমরা অবশ্যই নির্বাচনে যাবো। নির্বাচনী ইশতেহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এরই মধ্যে আমরা রাষ্ট্র সংস্কারে ২৭ দফা জাতির কাছে উপস্থাপন করেছি। পরবর্তীসময়ে সবার পরামর্শে এই দফাগুলোর মধ্যে কিছু বিষয় সংযোজন বা বিয়োজন হতে পারে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে আর আগের মতো ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া যাবে না। এখন প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা ও নেতৃত্ব। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সেই পথেই হাঁটছে। তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে পরিবর্তনের সুযোগ। এ পরিবর্তন হতে পারে দায়িত্বশীল রাজনীতি, জনগণের অধিকার এবং একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের পথে যাত্রা। সময় এসেছে নীতিনির্ভর রাজনীতির। সময় এসেছে জনগণের জীবনে সত্যিকার পরিবর্তনের। ইশতেহারে থাকা প্রতিটি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে সত্যিকার পরিবর্তন আনবে বলে আশা করি।

নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সব ধরনের যান চলাচলে বিধি-নিষেধ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সব ধরনের যান চলাচলে বিধি-নিষেধ আরোপ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এতে বলা হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত ট্যাক্সি ক্যাব, পিক আপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

একই সঙ্গে ১০ ফেব্রুয়ারি দিনগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।

এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা আজ

ফেব্রুয়ারি মাসে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ছে নাকি কমছে তা জানা যাবে আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি)। এদিন এক মাসের জন্য এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করা হবে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, সৌদি আরামকো ঘোষিত ফেব্রুয়ারি (২০২৬) মাসের সৌদি সিপি অনুযায়ী এই মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূল্য সমন্বয় সম্পর্কে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নির্দেশনা সোমবার দুপুর ৩টায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) ঢাকাস্থ কমিশন কার্যালয়ের শুনানি কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে ঘোষণা করা হবে।

বাংলাদেশ ইস্যুতে এবার সংকটে পড়তে যাচ্ছে ভারত!

সামনে অনুষ্ঠিতব্য টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ সম্প্রতি সরে দাঁড়ায়। তাদের গ্রুপের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে সহ আয়োজক শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার অনুরোধ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল আইসিসি প্রত্যাখ্যান করার পর এই সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। এর পেছনে নিরাপত্তা ইস্যুকে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কলকাতা নাইট রাইডার্স আইপিএল দল থেকে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

বাংলাদেশের ম্যাচ ভারতে রাখার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আইসিসি নিলেও বিসিসিআই আইসিসির ওপর প্রভাব খাটিয়ে ভেন্যু পরিবর্তনের অনুমতি না দিতে ভূমিকা রেখেছে বলে জানা গেছে। আইসিসি নিজেদের স্বাধীন সংস্থা দাবি করলেও অতীতে ভারতের অনুকূলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নজির রয়েছে।

আইসিসিতে বিসিসিআইয়ের প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী এবং ভারত সরকারের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ আগে বিসিসিআইয়ের সচিব ছিলেন। তার বাবা অমিত শাহ নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্ত আগে ভারতের জিওস্টার মিডিয়া গ্রুপে শীর্ষ পদে ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানই আইসিসি ইভেন্টগুলোর একচেটিয়া সম্প্রচার স্বত্বধারী।

এই রাজনৈতিক বিতর্ক এমন সময়ে সামনে এলো যখন ভারত ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। দিল্লিকে ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমসের আয়োজক নিশ্চিত করার পর এখন আহমেদাবাদকে সামনে রেখে অলিম্পিক বিড করছে ভারত।তবে খেলাধুলায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে আইওসির অবস্থান আইসিসির তুলনায় অনেক কঠোর।

আইওসি সূত্র জানিয়েছে, অন্য দেশগুলো বয়কট করতে পারে এমন আশঙ্কা থাকলে কোনো দেশকেই অলিম্পিক আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয় না। অলিম্পিক চার্টার অনুযায়ী ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকতে হয় এবং গেমসে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় মত প্রকাশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট রাজনীতি তাই ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজক নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আইওসি সূত্রের মতে, বিশ্বাসযোগ্য অলিম্পিক আয়োজক হিসেবে বিবেচিত হতে হলে ভারতকে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সুস্পষ্ট অগ্রগতি দেখাতে হবে।

গোলাপি আভায় জয়া আহসান

দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসানের সময়টা এখন যেন সাফল্যের রঙে রাঙানো। একদিকে নতুন সিনেমার ব্যস্ততা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মাননা। সম্প্রতি কলকাতায় সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে নিয়েছেন তিনি। সুমন মুখার্জি পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’তে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য এই স্বীকৃতি পেয়েছেন জয়া।
সাফল্যের এই আনন্দঘন সময়ের মাঝেই সামাজিক মাধ্যমে নিজের নতুন কিছু ছবি শেয়ার করেছেন জয়া আহসান, যেখানে তার রূপের জাদুতে কাবু হয়েছেন নেটিজেনরা।
বর্তমানে টালিগঞ্জেই সময় কাটাচ্ছেন জয়া আহসান। সেখানকার বিভিন্ন ইভেন্টেও দেখা যাচ্ছে তাকে। শনিবার নিজের ফেসবুক পেজে একগুচ্ছ ছবি পোস্ট করেন জয়া আহসান। ছবিগুলোতে কলকাতার শিল্পীদের সঙ্গেও দেখা যায় জয়াকে।
ছবিগুলোতে দেখা যায়, জয়া একটি স্লিভলেস হল্টার-নেক স্টাইল গোলাপি গাউন পরেছেন। পোশাকটির পেছনের অংশটি ওপেন ব্যাক ডিজাইনের, যা তার লুকে একটি আধুনিক ও সাহসী ছোঁয়া এনেছে। চুলে একটি পরিপাটি পনিটেল এবং কানে ছোট টপ ব্যবহার করে তিনি তার লুকে আভিজাত্য বজায় রেখেছেন। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, গোলাপি আভা, অকৃত্রিম মুহূর্ত, চিরন্তন এক সন্ধ্যা।
ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন পুরস্কারের ক্রেস্ট ও একটি অ্যান্টিক প্রজেক্টর, যা তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারেরই ইঙ্গিত দেয়।
অভিনয় দক্ষতার পাশাপাশি জয়ার চিরযৌবনা রূপ ও ফ্যাশন সেন্স বরাবরই প্রশংসিত। এই নতুন লুকেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তার পোস্টের নিচে ভক্তদের মন্তব্যের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। এক ভক্ত লিখেছেন, পিঙ্ক হিউসে জয়া আহসান মানেই আলাদা এক গ্রেস ন্যাচারাল, ক্যান্ডিড আর চিরকালীন সৌন্দর্যের নিখুঁত মিল। আরেকজন মন্তব্য করেছেন, কি মিষ্টি লাগছে!। আরেক ভক্ত লিখেছেন, অসাধারণ ফ্যাশন সেন্স, চোখ ফেরানো দায়!।

শরীরে কৃমি বাসা বেঁধেছে কি না বুঝবেন যে ৫ লক্ষণে

প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু—উভয়ের শরীরেই কৃমির সংক্রমণ হতে পারে। সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঘটায় থ্রেডওয়ার্ম, রাউন্ডওয়ার্ম, হুইপওয়ার্ম, টেপওয়ার্ম ও হুকওয়ার্ম। পিনওয়ার্ম ও থ্রেডওয়ার্মের মতো কিছু কৃমির ডিম এতটাই সূক্ষ্ম যে খালি চোখে দেখা যায় না এবং বাতাসের মাধ্যমেও সংক্রমণ ঘটতে পারে।

শরীরে কৃমি ঢোকে যেভাবে

দূষিত খাবার ও পানি, অপরিষ্কার হাত, মাটি কিংবা সংক্রমিত মল-মূত্রের মাধ্যমে কৃমির ডিম বা লার্ভা শরীরে প্রবেশ করে। অনেক সময় খোলা পায়ে হাঁটা বা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বেশি সময় কাটালেও ত্বকের মাধ্যমে কৃমি ঢুকতে পারে।

এ ছাড়া খাওয়ার আগে হাত না ধোওয়া, অপরিশোধিত দুধ পান করা, সবজি ভালোভাবে না ধুয়ে রান্না করা, অপরিষ্কার সুইমিং পুলে গোসল করা কিংবা পোষ্য প্রাণীর সংস্পর্শেও কৃমির সংক্রমণ হতে পারে।

কৃমি শরীরের যে ক্ষতি করে

অন্ত্রে প্রবেশ করে কৃমি শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি শোষণ করে নেয়। ফলে রক্তাল্পতা, দুর্বলতা, ওজন কমে যাওয়া, হজমের সমস্যা, পেটব্যথা, বমিভাব ও চুলকানির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা না নিলে কৃমির সংখ্যা বেড়ে গিয়ে মারাত্মক জটিলতাও সৃষ্টি করতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু কৃমি যকৃত ও ফুসফুসে সিস্ট বা গুটি তৈরি করতে পারে। ফুসফুসে পৌঁছালে নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা এবং মস্তিষ্কে পৌঁছালে গুরুতর স্নায়বিক সমস্যার ঝুঁকি তৈরি হয়।

যে ৫ লক্ষণে বুঝবেন শরীরে কৃমি আছে

১. ক্ষুধা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া: কৃমি শরীরের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করে। ফলে কারও ক্ষুধা কমে যায়, আবার কারও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। প্রয়োজনীয় পুষ্টি শোষিত হয়ে যাওয়ায় শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।

২. ওজন কমে যাওয়া ও সার্বক্ষণিক ক্লান্তি: ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়াই যদি ধীরে ধীরে ওজন কমতে থাকে এবং সব সময় ক্লান্ত লাগে, তবে তা অন্ত্রের কৃমির লক্ষণ হতে পারে।

৩. মলের সঙ্গে কৃমি দেখা যাওয়া: মলত্যাগের সময় ছোট সাদা কৃমি দেখা যাওয়া অন্ত্রের কৃমির একটি স্পষ্ট লক্ষণ। অনেক সময় কৃমি খুব ছোট হওয়ায় চোখে নাও পড়তে পারে। তবে মলে অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

৪. ঘন ঘন পেটব্যথা: কোনো কারণ ছাড়াই বারবার পেটে মোচড় বা খিঁচুনির মতো ব্যথা হলে সতর্ক হতে হবে। খাওয়ার পর বা খালি পেটে ব্যথা বাড়লে তা কৃমির সংক্রমণের ইঙ্গিত হতে পারে।

৫. ত্বকের সমস্যা ও পায়ুপথে চুলকানি: কৃমি থেকে নির্গত বিষাক্ত উপাদান রক্তের মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ত্বকে ফুসকুড়ি, চুলকানি বা অ্যালার্জি দেখা দেয়। বিশেষ করে পায়ুপথের আশপাশে চুলকানি হওয়া অন্ত্রের কৃমির একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।