Home Blog Page 189

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তে যা বললেন চরমোনাই পীর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রের আশপাশে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

বিবৃতিতে চরমোনাই পীর বলেন, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত কোনো স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয় না। বরং এর মাধ্যমে তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তার মতে, এমন সিদ্ধান্তের পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য না থাকলে এই নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

তিনি আরও বলেন, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, তথ্যপ্রবাহ বন্ধ করলেই নানা অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি হয়। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময়ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সীমিত করার চেষ্টা হয়েছিল, তবে সাধারণ মানুষের হাতে থাকা মোবাইল ফোনের কারণে অনেক ঘটনা নথিভুক্ত করা সম্ভব হয়েছিল। এখন মোবাইল নিষিদ্ধ করে সেই সুযোগও বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ ও অনাস্থা তৈরি করছে। দ্রুত এই নির্দেশনা বাতিল না করলে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে আরও প্রশ্ন উঠবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। একই সঙ্গে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে, ভোটকেন্দ্রে নারী ভোটারদের ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টিও তুলে ধরেন চরমোনাই পীর। তিনি বলেন, পর্দানশীন ও নেকাব পরিহিত নারী ভোটারদের প্রয়োজনে নারী কর্মকর্তা নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই পুরুষ কর্মকর্তার সামনে তাদের নেকাব খুলতে বাধ্য করা উচিত নয়।

সংগ্রামের মাধ্যমে আদায় করা ভোটাধিকার নিয়ে ষড়যন্ত্র হলে প্রতিহত করা হবে: মির্জা আব্বাস

ঢাকা–৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন–সংগ্রামের মাধ্যমে ভোটাধিকার আদায় করা হয়েছে। এই ভোট কেউ ষড়যন্ত্র করে নষ্ট করার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে।

ভোটের দিন সবাইকে পোলিং সেন্টার পাহারা দিয়ে ভোটের ফল ঘরে আনার আহ্বান জানান তিনি।

সোমবার রাজধানীর পীর জঙ্গী মাজারের সামনে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি তারেক রহমান।

বক্তব্যের শুরুতে মির্জা আব্বাস তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, সারা দেশে ঘুরে ঘুরে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে গিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যানকে অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে এই স্থান থেকেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাঁর মনোনয়ন ঘোষণা করেছিলেন। একই স্থানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপস্থিতিতে আগে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের জনগণ ভোট দেওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। তবে কিছু মহল ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি আসনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ফল প্রভাবিত করার ষড়যন্ত্র করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে, সরকারি বা বেসরকারি যে-ই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, ঢাকায় এই এলাকায় গ্যাস, পানি ও জলাবদ্ধতার সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। তিনি জানান, এলাকায় খেলার মাঠ নেই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একসময় মাঠ ও কমিউনিটি সেন্টারের ব্যবস্থা করেছিলেন, কিন্তু ষড়যন্ত্রের কারণে তা টিকিয়ে রাখা যায়নি।

তিনি আরও বলেন, এলাকায় কবরস্থানের জায়গা দখল করে সরকারি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। ওই কবরস্থানের জায়গা এবং মাঠের জায়গা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি স্কুলিং এরিয়া হওয়ায় নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, যাতায়াত সুবিধা এবং পানির ব্যবস্থার অভাবের কথাও তুলে ধরেন।

বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ক্ষমতায় গেলে ইনোভেটিভ আইডিয়ার মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করা হবে—এমন প্রত্যাশা তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের কাছে করেন।

তিনি বলেন, শত ষড়যন্ত্র ও প্রতিকূলতার মধ্যেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। ইনশাল্লাহ বিএনপি ঢাকা–৮সহ সারা দেশের বেশিরভাগ আসনে জয় লাভ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জেন-জি দের ভোটই নির্বাচনে কে জিতবে তা নির্ধারণ করবে: রয়টার্স

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে পরিস্থিতি পুরোপুরি উল্টো। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বড় প্রভাবক হতে যাচ্ছে জেনারেশন জেডের ভোট। বিশ্বে এটিই প্রথম দেশ হতে যাচ্ছে যেখানে সংসদে কারা যাবেন, তা নির্ধারণ করতে পারেন জেনজি ভোটাররা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ এখন নিষিদ্ধ। ২০২৪ সালের এক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে হাসিনা সরকার উৎখাতে ভূমিকা রাখা অনেক তরুণ বলছেন, এই নির্বাচনই হবে ২০০৯ সালের পর প্রথম সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এই নির্বাচনে জয়ের সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন একটি জোটও শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে। ৩০ বছরের কম বয়সী জেন-জি কর্মীদের দ্বারা পরিচালিত একটি নতুন দল (এনসিপি), যারা শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিল, তারা রাজনীতিতে শক্ত ভোটব্যাংক গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়ে জামায়াতের সঙ্গে জোট বেঁধেছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রয়টার্সকে বলেছেন, সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তার দল সরকার গঠনের জন্য ‘যথেষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা’ পাবে বলে আত্মবিশ্বাসী।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে বিভক্ত ফলাফলের বদলে একটি স্পষ্ট রায় আসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনার পতনের পর কয়েক মাসের অস্থিরতায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের এই দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশটির এই খাতসহ বড় বড় শিল্প মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

এই নির্বাচনের রায় দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি চীন ও ভারতের ভবিষ্যৎ ভূমিকাকেও প্রভাবিত করবে।

ঢাকার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসি বলেন, জনমত জরিপগুলোতে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও মনে রাখতে হবে, এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার সিদ্ধান্তহীন। ফলাফল নির্ধারণে অনেক বিষয় কাজ করবে, বিশেষ করে জেনারেশন জেড—যারা মোট ভোটারের প্রায় এক-চতুর্থাংশ—তাদের ভোট বড় ভূমিকা রাখবে।’

সারাদেশে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ ও জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকসংবলিত সাদা-কালো পোস্টার ও ব্যানার বিদ্যুতের খুঁটি, গাছ এবং দেয়ালে ঝুলছে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে দলীয় অস্থায়ী কার্যালয়গুলো তাদের প্রতীক দিয়ে সাজানো, আর সেখানে জোরে জোরে বাজছে নির্বাচনি গান। অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থীর পোস্টারও এর সঙ্গে দেখা যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের রায় বাংলাদেশে চীন ও ভারতের ভবিষ্যৎ প্রভাবও নির্ধারণ করবে। শেখ হাসিনাকে ভারতঘেঁষা নেতা হিসেবে দেখা হতো এবং ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি ভারতে আশ্রয় নেওয়ায়। তার পর থেকে বাংলাদেশে বেইজিংয়ের প্রভাব বেড়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, জামায়াতের প্রতি ভোটারদের আগ্রহের বড় কারণ তাদের ‘পরিচ্ছন্ন’ ভাবমূর্তি। ইসলামী আদর্শের চেয়ে এই ভাবমূর্তিই বেশি প্রভাব ফেলছে।

জরিপে বলা হয়েছে, ভোটাররা বিপুলভাবে ভোট দিতে আগ্রহী। তারা ধর্মীয় বা প্রতীকী বিষয় নয়, বরং দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সমস্যাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তারা এমন নেতৃত্ব চান, যারা দায়িত্বশীল, দক্ষ এবং জনগণের প্রতি যত্নশীল।

ভোটের মাঠে বিএনপি এগিয়ে, তবে ইতিহাসের সেরা ফলের পথে জামায়াত: রয়টার্স

১৫ বছরের বেশি সময় পর সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ভোটের মাঠে বিএনপি এগিয়ে আছে বলে ধরা হচ্ছে, তবে ইসলামপন্থি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট এবার ইতিহাসের সেরা নির্বাচনী ফল করতে পারে। শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ও পলায়নের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্যে এই ভোট বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা, অর্থনীতি ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আসন্ন এই জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে প্রথমবারের মতো সক্রিয় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাজনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে জেনারেশন জেড। বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোট শুধু সরকার পরিবর্তনের নয়, দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণেরও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, দীর্ঘ দেড় দশকের একচেটিয়া রাজনৈতিক প্রভাবের পর এক নতুন মোড়ে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে বছরের পর বছর ধরে নির্বাচনের সময় রাজপথে বিরোধীদের উপস্থিতি ছিল খুবই সীমিত। কখনও তারা নির্বাচন বর্জন করেছে, আবার কখনও শীর্ষ নেতাদের গণগ্রেপ্তারের কারণে তারা কার্যত মাঠের বাইরে ছিল। তবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে সেই চিত্র পুরোপুরি পাল্টে গেছে।

পলাতক হাসিনার আওয়ামী লীগ এখন নিষিদ্ধ। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে তার সরকার পতনে ভূমিকা রাখা অনেক তরুণ বলছেন, এই নির্বাচনই হতে যাচ্ছে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে ২০০৯ সালের পর প্রথম প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট, যেবছর শেখ হাসিনা টানা ১৫ বছরের শাসন শুরু করেছিলেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এই নির্বাচনে জয়ী হবে বলে ‘ব্যাপকভাবে ধারণা’ করা হচ্ছে। তবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন একটি জোট তাদেরকে শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। এর পাশাপাশি ৩০ বছরের কম বয়সী জেন-জেড কর্মীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি নতুন দলও জামায়াতের সঙ্গে জোট বেঁধেছে। হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় থাকলেও তারা সেই জনসমর্থনকে স্বতন্ত্র নির্বাচনী শক্তিতে রূপ দিতে পারেনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রয়টার্সকে বলেন, সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তার দল সরকার গঠনের মতো পর্যাপ্ত আসন পাবে বলে আত্মবিশ্বাসী।

বিশ্লেষকদের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে যদি স্পষ্ট রায় আসে, তাহলে ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরতে সহায়ক হবে। হাসিনার পতনের পর কয়েক মাসের অস্থিরতায় তৈরি পোশাক খাতসহ বড় শিল্প খাতগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশের জন্য বড় ধাক্কা।

এই নির্বাচনের ফলাফল দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে আঞ্চলিক শক্তিধর চীন ও ভারতের ভূমিকার ওপরও প্রভাব ফেলবে। ঢাকার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসি বলেন, ‘জনমত জরিপে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও এখনও ভোটারদের বড় একটি অংশ কোনও সিদ্ধান্ত নেননি। ফলাফলের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়’। তিনি বলেন, ‘ভোটের ফল নির্ধারণে কয়েকটি বিষয় প্রভাব ফেলবে। এর মধ্যে জেনারেশন জেডের ভোট বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মোট ভোটারের প্রায় এক-চতুর্থাংশই এই প্রজন্মের।’

সারা দেশে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ এবং জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকসংবলিত সাদা-কালো পোস্টার ও ব্যানার খুঁটি, গাছ এবং সড়কের দেয়ালে ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারসামগ্রী। সড়কের মোড়ে মোড়ে দলীয় প্রতীক লাগানো অস্থায়ী কার্যালয় থেকে ভেসে আসছে প্রচারণার গান। আগের নির্বাচনের সঙ্গে এর বড় পার্থক্য হলো— তখন সর্বত্রই আধিপত্য ছিল আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ প্রতীকের।

জনমত জরিপে ধারণা করা হচ্ছে, একসময় নিষিদ্ধ থাকা জামায়াত এবার তাদের ইতিহাসের সেরা নির্বাচনী ফল করতে পারে, যদিও দলটি এককভাবে সরকার গঠন নাও করতে পারে। দলটি ১৯৭১ সালে ভারতের সমর্থনে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের রায় আগামী দিনে বাংলাদেশে ভারত ও চীনের ভূমিকাও নতুনভাবে নির্ধারণ করবে। শেখ হাসিনাকে ভারতের ঘনিষ্ঠ হিসেবে দেখা হতো। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি নয়াদিল্লিতে পালিয়ে যান এবং সেখানেই অবস্থান করছেন। এরপর থেকেই বাংলাদেশে বেইজিংয়ের প্রভাব বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারতের প্রভাব কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বিএনপিকে তুলনামূলকভাবে দিল্লির সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করেন কিছু বিশ্লেষক। অন্যদিকে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হলে দেশটি পাকিস্তানের দিকে আরও ঝুঁকতে পারে বলে তাদের ধারণা। পাকিস্তান একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এবং ভারতের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী।

জামায়াতের জেন-জেড মিত্র দলটি বলেছে, বাংলাদেশে ‘নয়াদিল্লির আধিপত্য’ তাদের অন্যতম উদ্বেগ। দলটির নেতারা সম্প্রতি চীনা কূটনীতিকদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। তবে ইসলামি নীতিতে পরিচালিত সমাজের পক্ষে অবস্থান নেয়া জামায়াত অবশ্য বলেছে, তারা কোনও দেশের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট নয়।

বিএনপির তারেক রহমান বলেছেন, তার দল সরকার গঠন করলে যে দেশ বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের জন্য উপযোগী প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের প্রতি ভোটারদের আকর্ষণের বড় কারণ তাদের ‘পরিষ্কার ভাবমূর্তি’, ধর্মীয় অবস্থান নয়। জরিপে বলা হয়েছে, ভোটাররা নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী, ধর্মীয় বা প্রতীকি ইস্যুর চেয়ে দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং দায়িত্বশীল, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছেন।

সব মিলিয়ে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানকে পরবর্তী সরকারপ্রধান হওয়ার সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে যদি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে যায়, তাহলে তাদের চেয়ারম্যান ডা. শফিকুর রহমানও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে থাকতে পারেন।

গল্প বানানো সহজ, সত্য জানা জরুরি

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে ঘিরে সাম্প্রতিক নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যেই সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ছবিকে কেন্দ্র করে তোলপাড় শুরু হয়। ছবিতে দেখা যায়, বিসিবি সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ ও নাজমুল ইসলামের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হচ্ছে। তবে এই ছবিটির পেছনের আসল ঘটনা জানিয়ে গুজব নাকচ করে দিয়েছেন বিসিবি পরিচালক খালেদ মাসুদ পাইলট।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও আপলোড করে পাইলট লিখেছেন, ছবি দেখে গল্প বানানো সহজ, কিন্তু সত্যটা জানা জরুরি। একটি ছবি নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা ছড়ানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। নাজমুল ভাই, ফারুক ভাই ও আমি রংপুর স্টেডিয়ামের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করছিলাম, এর বাইরে কিছুই নয়।
ক্ষুব্ধ সাবেক অধিনায়কের মতে, স্রেফ কিছু ‘ভিউ’ পাওয়ার আশায় ফেসবুকে নেতিবাচক ও ভিত্তিহীন খবর প্রচার করা হচ্ছে। এ সময় তিনি গুজব এড়িয়ে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার আহ্বান জানান। ভিডিও বার্তায় পাইলট বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন,‘আপনারা ফেসবুকে যে ছবিটি ভাইরাল হতে দেখছেন, সেখানে ফারুক ভাই নাজমুল ভাইকে বাজেভাবে কিছু বলছেনÑএমন কোনো ঘটনাই আসলে ঘটেনি। আমরা তিনজন মিলে প্রেজেন্টেশন বক্সে বসেছিলাম। নাজমুল ভাই উপরে ছিলেন, আমি তার নিচের ধাপে ছিলাম।

আমাদের মধ্যে মূলত আগের দিনের রংপুর সফর, সেখানকার মাঠের ইতিহাস এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলাপ হচ্ছিল।’ পাইলট আরও নিশ্চিত করেন যে, আলোচনার পুরো সময়টা ছিল অত্যন্ত স্বাভাবিক ও ইতিবাচক। কোনো ধরনের উচ্চবাচ্য বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সেখানে তৈরি হয়নি। স্রেফ একটি মুহূর্তের ছবিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ভাইরাল ওই ছবিতে বিসিবি প্রেসিডেন্ট বক্সে তীব্র মুহূর্তে দেখা গেছে রাগান্বিত অবয়বে সহ-সভাপতি ফারুক ও পাইলট পরিচালক নাজমুল ইসলামকে কিছু বলছেন। ফারুক আহমেদের আঙুল সরাসরি নাজমুল ইসলামের দিকে, খালেদ মাসুদও আঙুলের ইশারায় কিছু বলছেন।

ঢাকাকে মানবিক ও বসবাসযোগ্য শহরে পরিণত করতে বদ্ধপরিকর জামায়াতে ইসলামী

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, প্রকৌশল বিভাগের এক ঝাঁক তরুণ ও মেধাবীদের উদ্যোগে আজ ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, শনিবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের পদ্মা হলে “বসবাসযোগ্য ও মানবিক শহর” শীর্ষক একটি ব্যতিক্রমী পলিসি ডায়ালগের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৯৪৭, ১৯৭১ এবং ২০২৪ সালের সকল শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “মানুষকে সৃষ্টি করাই হয়েছে কল্যাণের জন্য। সে কারণে জামায়াতে ইসলামী মনে করে, ঢাকা শহর ও বাংলাদেশকে নিরাপদ, আধুনিক ও বসবাসের যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের সকলেরই নৈতিক দায়িত্ব। ইনশাআল্লাহ, আমরা ঢাকাকে একটি মানবিক ও বসবাসযোগ্য শহরে পরিণত করতে চাই। আল্লাহ তাআলা সুযোগ প্রদান করলে আমরা জাতিকে এমন একটি শহর ও দেশ উপহার দিতে বদ্ধপরিকর।”

তিন পর্বের বিস্তারিত আলোচনা

১ম পর্ব: সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা এই পর্বে “Let Us Build Together Livable, Caring, Governable, Functional Cities and Towns” শীর্ষক প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন ব্রি. জে. (অব.) এ টি এম জিয়াউল হাসান। তিনি তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে ঢাকাকে বসবাসের যোগ্য করার কৌশল ব্যাখ্যা করেন। একই সাথে সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বরিশাল, রাজশাহী, খুলনা ও রংপুর বিভাগকে আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা এবং ৬৪ জেলাকে সমৃদ্ধ করার রূপরেখা তুলে ধরেন। মানবিক শহরের ৭টি পিলারের কথা উল্লেখ করা হয়:

সকলের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি (পাওয়ার ও এনার্জি) নিশ্চিত করা।

আধুনিক ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ।

মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে হাতের নাগালে কর্মসংস্থান।

উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত পরিকল্পিত উন্নয়ন।

গৃহায়ণ, আবাসন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা।

অর্থনীতির চাকাকে সচল ও পুনর্গঠন।

২য় পর্ব: জাতীয় লক্ষ্য ও নীতিমালা “A National Vision for Livable & Human City” শীর্ষক এই সেশনটি পরিচালনা করেন এক্সিস ট্রায়াঙ্গেল গ্রুপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার শাহজাহান আলম। তিনি জানান, বিশ্বের ১৭৩টি সবচেয়ে খারাপ শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৭১তম। তথ্য দেওয়া হয় যে, এই শহরে বছরে ৩০০০ কোটি টাকা হকারদের থেকে এবং ১০৫৯ কোটি টাকা বাস ও বেসরকারি গাড়ি থেকে চাঁদাবাজি হয়। এছাড়াও ৮২ ভাগ নারী হয়রানির শিকার হন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, জামায়াত ক্ষমতায় আসলে এই চাঁদাবাজি ও হয়রানির অবসান হবে। আধুনিক ড্রেনেজ, অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা, গ্রিন পার্ক এবং ঢাকার চতুর্দিকে ‘ওয়াটার ব্লু জোন’ (Water Blue Zones) তৈরির মাধ্যমে ট্রাফিক জ্যামমুক্ত শহর গড়া হবে।

৩য় পর্ব: অবকাঠামো ও পরিবেশ “Building Together” শীর্ষক এই সেশনটি পরিচালনা করেন পরিকল্পনাবিদ খন্দকার মো. আনসার হোসাইন (সাবেক সচিব, বিআইপি)। তিনি বর্তমান এক্সপ্রেসওয়েগুলোর অপরিকল্পিত নির্মাণের সমালোচনা করে বলেন, এতে অর্থ অপচয় ও পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। জামায়াত ক্ষমতায় আসলে প্রাণ ও প্রকৃতি রক্ষা করে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে রাস্তাঘাট, জলাশয়, পুকুর ও নদ-নদীকে কাজে লাগিয়ে একটি আদর্শ শহর গড়ে তুলবে, যেখানে নারী ও শিশুর জীবন নিরাপদ থাকবে।

প্যানেল আলোচকবৃন্দ আলোচনায় অংশ নেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ টি এম জিয়াউল হাসান, দেওয়ান এ. এইচ. আলমগীর, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব, প্ল্যানার মেহেদী আহসান, ড. আদিল মোহাম্মদ খান, ড. ফজলে এলাহী, প্রকৌশলী শাহজাহান আলম, খন্দকার মো. আনসার হোসেন, মারদিয়া মমতাজ, ড. মাহবুবুল বারী এবং ড. মোশলেহ উদ্দিন।

উদ্বোধন ও সমাপ্তি ক্বারি হাফেজ বেলাল হোসাইনের কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী শাসন করার সুযোগ পেলে ঢাকাসহ বাংলাদেশকে বসবাসের উপযোগী করা আর স্বপ্ন থাকবে না, বাস্তবে রূপ নেবে। সমাপনী বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান (সাবেক নির্বাহী পরিচালক, ইয়ুথ গ্রুপ) উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, একটি নিরাপদ ও মানবিক শহর গড়া আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য অপরিহার্য।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

বয়স ১৫ হোক বা ২৫, এই ৫ ফেসপ্যাক মাখলে ৭ দিনে ব্রণ দূর হতে বাধ্য

ত্বকের অন্যতম বড় সমস্যা ব্রণ। বয়স কম হোক বা বেশি—তৈলাক্ত ত্বক, হরমোনজনিত পরিবর্তন, ধুলোবালি কিংবা অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে অনেকেই ব্রণ সমস্যায় ভোগেন। দুই গাল, কপাল, থুতনি—কোনো জায়গাই যেন বাদ যায় না। বাজারচলতি প্রসাধনী ব্যবহার করেও যখন কাজ হয় না, তখন ভরসা হতে পারে কিছু পরিচিত ঘরোয়া ফেসপ্যাক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ও সঠিকভাবে ব্যবহার করলে প্রাকৃতিক উপাদান ত্বককে শান্ত রাখতে সাহায্য করে এবং ব্রণজনিত জ্বালা কমাতে পারে।

তুলসী-নিম ফেসপ্যাক: তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কার্যকর
তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণ বেশি হয়। এ ক্ষেত্রে তুলসী ও নিমপাতা একসঙ্গে বেটে নিন। পরিষ্কার মুখে এই প্যাক লাগিয়ে শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক পরিষ্কার ও কোমল থাকতে পারে।

তুলসী, ওটস ও দুধের প্যাক: জেল্লা ফেরাতে সহায়ক
তুলসী পাতার গুঁড়োর সঙ্গে
🔹 ১ চামচ ওটস গুঁড়ো
🔹 ১ চামচ কাঁচা দুধ
ভালভাবে মিশিয়ে মুখে লাগান। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে নিন। সপ্তাহে দু’বার ব্যবহার করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়তে পারে।

শীতকালীন ব্রণের জন্য বিশেষ প্যাক
শীতকালে অনেকেরই হঠাৎ ব্রণ বেড়ে যায়। সে ক্ষেত্রে
তুলসী গুঁড়ো, নিমপাতা বাটা, হলুদ গুঁড়ো ও চন্দন গুঁড়ো একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। কয়েক মিনিট মুখে রেখে ধুয়ে ফেলুন।

হলুদ ও মধু: প্রদাহ কমাতে সহায়ক
আধ চা-চামচ হলুদ ও ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন।
হলুদ প্রাকৃতিক প্রদাহবিরোধী উপাদান, আর মধু ত্বককে হাইড্রেটেড রাখে। ১০–১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে নিন।

রসুন-দুধ প্যাক: সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার
একটি রসুনের কোয়া থেঁতো করে অ্যালোভেরা বা জোজোবা তেলে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ২ টেবিল চামচ দুধের সঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান। সংবেদনশীল ত্বকে আগে প্যাচ টেস্ট করা জরুরি।

গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
🔹 যেকোনো প্যাক ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করুন
🔹 অতিরিক্ত ব্রণ বা ব্যথা থাকলে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন
🔹 পরিষ্কার মুখে ও নিয়ম মেনে ব্যবহার করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
ঘরোয়া এই ফেসপ্যাকগুলো নিয়মিত ব্যবহার করলে ব্রণ সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে ত্বকের ধরন বুঝে যত্ন নেওয়াই সবচেয়ে ভালো সমাধান।

প্রোপোজ ডে-তে সঙ্গীকে বলতেই পারেন এই ১০টা কথা

ভালোবাসার মাস শুরু হয়ে গিয়েছে। গতকাল ছিল রোজ ডে বা গোলাপ দিবস। আজ সারা বিশ্বে প্রোপোজ ডে পালন করা হচ্ছে।

বন্ধুত্ব হোক কিংবা ভালোবাসার মানুষটাকে মনের কথা জানাতে পারেন আজকের দিনে। প্রোপোজ ডে-তে কীভাবে বন্ধু কিংবা প্রিয়জনকে বার্তা পাঠাবেন, রইল কিছু উদাহরণ-

১. তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি, যাকে ছাড়া আমি নিজেকে অসম্পূর্ণ মনে করি।
২. তোমার হাসিটাই আমার দিনের সব ক্লান্তি দূর করে দেয়।
৩. তুমি ভালো থাকলেই আমার মন শান্ত থাকে—এটাই আমার সবচেয়ে বড় চাওয়া।
৪. তোমার প্রতিটা ছোট অনুভূতিই আমার কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।
৫. আমি সবসময় তোমার পাশে আছি, সুখে হোক বা দুঃখে।
৬. তোমার যত্ন নেওয়াটাই আমার কাছে ভালোবাসার সবচেয়ে সহজ ভাষা।
৭. তুমি কেমন আছো—এই প্রশ্নটাই আমার সবচেয়ে প্রিয়।
৮. তোমার কষ্ট আমার মনেও ব্যথা হয়ে বাজে।
৯. আমার ভালোবাসা হয়তো শব্দে প্রকাশ করা সম্ভব নয়, কিন্তু আমার আচরণ তা জানান দেয়।
১০. যতদিন থাকব, ততদিন তোমার হাতটা শক্ত করে ধরে রাখব।

একদিনেই উত্থান-পতন, স্বর্ণের ভরিতে কমল ৩ হাজারের বেশি

দেশের স্বর্ণবাজারে একই দিনে বড় উত্থান ও পতনের ঘটনা ঘটেছে। সকালে দাম বাড়ানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাতে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন এই দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বর্ণের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকায়। ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ধরা হয়েছে ভরিতে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।

বাজুস আরও জানায়, নির্ধারিত স্বর্ণের দামের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ হবে। তবে গহনার নকশা ও মান অনুযায়ী মজুরির পরিমাণে পার্থক্য হতে পারে।

উল্লেখ্য, এর আগে শনিবার সকালেই স্বর্ণের দাম বড় ধরনের সমন্বয় করেছিল বাজুস। তখন ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছিল।

সকালবেলার ঘোষণায় ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকা।

এদিকে, স্বর্ণের দামে পরিবর্তন এলেও রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকায়। ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা বিক্রি হচ্ছে ভরিতে ৩ হাজার ৯০৭ টাকায়।

চায়ের কাপে ভোটের আলোড়ন—বিক্রি বেড়েছে কয়েক গুণ

নির্বাচনী মৌসুম এলেই চায়ের কাপে জমে ওঠে রাজনৈতিক আড্ডা। রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম—দিন কিংবা রাত, সর্বত্র গমগম করছে চায়ের দোকান। ভোটের উত্তাপে চায়ের কাপে চুমুকের সঙ্গে চলছে তর্ক-বিতর্ক, আলোচনা আর মতবিনিময়। এর প্রভাব পড়েছে চায়ের বাজারে—বিক্রি বেড়েছে চা, চিনি, রুটি, কেক ও বিস্কুটেরও।

চায়ের দোকানিরা বলছেন, শীত মৌসুমে এমনিতেই চায়ের চাহিদা বেশি থাকে। তার ওপর জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে মানুষের আনাগোনা ও আড্ডা বেড়ে যাওয়ায় বিক্রি কয়েক গুণ বেড়েছে। অনেক দোকানে আগে যেখানে দিনে ১৫০ কাপ চা বিক্রি হতো, সেখানে এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ কাপ পর্যন্ত।

নির্বাচনী প্রচারণায় সারা দেশ এখন মুখর। শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই চায়ের দোকান হয়ে উঠেছে আলোচনা কেন্দ্র। চায়ের কাপে চুমুকের ফাঁকে চলছে প্রার্থী, দল ও নির্বাচনী ইস্যু নিয়ে আলোচনা। দোকানিরা জানান, চায়ের পাশাপাশি রুটি, কেক ও বিস্কুটের বিক্রিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাড়তি চাহিদা মেটাতে অনেক দোকানি নতুন কাপ-কেটলি কিনেছেন, কেউ কেউ আবার মৌসুমি চায়ের দোকানও খুলেছেন।

এক চা-দোকানি জানান, নির্বাচনের আগে যে পরিমাণ চা বিক্রি হতো, এখন তার তুলনায় বিক্রি দ্বিগুণেরও বেশি। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, দোকানে ভিড়ও তত বাড়ছে।

এদিকে চাহিদা বৃদ্ধির প্রভাবে চায়ের দামে প্রভাব পড়েছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চা ও চিনির দাম বাড়িয়েছে। খোলা ও প্যাকেট চায়ের দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ৪০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত। এক ব্যবসায়ী বলেন, আগে যে চায়ের প্যাকেটের দাম ছিল ৩৬০ টাকা, তা এখন বেড়ে হয়েছে ৪২০ টাকা।

বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যমতে, দেশের চায়ের বাজার বর্তমানে চার হাজার কোটি টাকার বেশি। নির্বাচনী আমেজ এ বাজারে বাড়তি গতি এনেছে বলে তারা মনে করছেন।

টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য খন্দকার রুহুল আমিন বলেন, ভালো মানের চায়ের দাম সব সময়ই তুলনামূলক বেশি থাকে। তবে এবার নিম্নমানের চায়ের দামও বেড়েছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। তাঁর মতে, নির্বাচনী মৌসুমের কারণেই চায়ের দামে এই বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

চায়ের বিক্রি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাঙ্গা হয়েছে চিনির বাজারও। সব মিলিয়ে ভোটের উত্তাপে রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি জমে উঠেছে চায়ের ব্যবসাও।