Home Blog Page 19

পুরোনো নিয়মে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদ অনুমোদিত হলেও সংবিধান সংশোধন না হওয়ায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে পুরোনো নিয়মেই। গোপন ব্যালট ব্যবহার হবে না। তবে যদি একাধিক প্রার্থী থাকেন, তাহলে সংসদ সদস্যরা (এমপি) ব্যালটে সইয়ের মাধ্যমে প্রকাশ্যে ভোট দেবেন।

জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই ছয়টি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের একক ক্ষমতা রাষ্ট্রপতিকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যদিও এর একাংশে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইনগুলো সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি এসব নিয়োগ ক্ষমতা পাবেন না।

জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করতে ইতোমধ্যে সংসদীয় কমিটি করেছে সরকারি দল। তবে বিরোধী দল এতে যোগ দেয়নি। তারা সংবিধান সংশোধন নয়; গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার চায়।

এদিকে সরকারি দলের সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম সভা এখনও হয়নি। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সংবিধান সংশোধন করতে কয়েক মাস লেগে যাবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে তার সম্ভাবনা নেই। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, শিগগির তারা স্পিকারের সঙ্গে দেখা করবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগে ইসি তা করে থাকে। ফলে আগামী সপ্তাহে জানা যাবে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা কবে হবে। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা। মোঃ সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়েন ২৪ জুলাই। এ হিসাবে আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে।

১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিলে সর্বোচ্চ ২৫ দিন সময় দেওয়ার নজির রয়েছে। ফলে আগামী সেপ্টেম্বরে এই নির্বাচন হতে পারে। একাধিক প্রার্থী না থাকলে এর আগেও নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে পারেন।

রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগে শূন্য পদে ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৭৭ দিন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তৎকালীন স্পিকার জমিরউদ্দিন সরকার। রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুতে শূন্য পদে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মোঃ আবদুল হামিদ ২০১৩ সালের ২০ মার্চ থেকে ওই বছরের ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৪ দিন দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৩ সালের ৯ এপ্রিল তপশিল ঘোষণা করে ২৯ এপ্রিল ভোট গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছিল। মোট সময় দেওয়া হয়েছিল ২০ দিন। তবে আবদুল হামিদ একক প্রার্থী হওয়ায় ভোট গ্রহণের আর প্রয়োজন হয়নি। ২০১৩ সালের তপশিলে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল ২১ এপ্রিল। যাচাই-বাছাই ছিল ২২ এপ্রিল। আর কোনো প্রার্থী না থাকায় সেদিনই  আবদুল হামিদ নির্বাচিত হয়ে যান।

এবারের সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। নির্বাচন হবে ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী। এই আইনের ১০ ধারা অনুসারে প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ার নিয়ম থাকায়, বিএনপির প্রার্থী ছাড়া অন্য কারও নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা নেই।

তাই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটে প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনা নেই। জামায়াত নেতারা ইতোমধ্যে তা সমকালকে জানিয়েছেন। ১৯৯১ সালে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেওয়ায়, সেবার প্রথম এবং শেষবারের মতো রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করতে হয়েছিল। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর এমপিদের সমর্থনে ১৭২ ভোট পেয়ে আবদুর রহমান বিশ্বাস জয়ী হয়েছিলেন।
ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া ঠেকাতে জুলাই সনদে প্রস্তাব করা হয়েছে, সংসদের উভয় কক্ষের ৪৫০ এমপির গোপন ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। যে ৩০টি সংস্কার প্রস্তাবে কোনো দলেরই নোট ডিসেন্ট ছিল না, এর একটি এই প্রস্তাব। সংবিধানের সংশোধন না হওয়ায় ১০০ আসনের সংসদের  উচ্চকক্ষও গঠিত হয়নি।

ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে জুলাই সনদে ছয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের একক ক্ষমতা রাষ্ট্রপতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। এতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ দিতে পারবেন রাষ্ট্রপতি।

বিএনপি এ প্রস্তাবের একাংশে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। দলটি রাষ্ট্রপতিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে নিয়োগের ক্ষমতা দিতে রাজি হয়নি। গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে যে ৯টি সংস্কার প্রস্তাবে নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী সংস্কারের কথা বলা হয়েছে, এর একটি এটি।

বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের কথা বলছে। যদিও বিরোধী দল এতে রাজি নয়। তবে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটি যেভাবে চাইবে সেভাবেই সংবিধান সংশোধন হবে। ফলে আগামী দিনের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ ক্ষমতা পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া সব কাজ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে করতে হয়। সংবিধানের ৫৬(৩) অনুচ্ছেদ সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যের আস্থাভাজনকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিতে বাধ্য রাষ্ট্রপতি। ফলে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া আর কোনো ক্ষমতা নেই তাঁর। চারটি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ ক্ষমতা দিতে হলেও সংবিধান সংশোধন করতে হবে।

গ্যাস সরবরাহ তলানিতে, বন্ধের মুখে বহু কারখানা দৈনিক চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট, সরবরাহ ২১৫ কোটি ঘনফুট

দীর্ঘদিন ধরে দেশে গ্যাস সংকট চলছে। কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটি সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। চাহিদার মাত্র ৫৬ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করছে পেট্রোবাংলা। গ্যাস সংকটের কারণে ধুঁকছে শিল্প খাত।

দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও চাপ অস্বাভাবিক কমে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে ডিজেল, এলপিজি ব্যবহার করে কারখানা চালু রাখা হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় দাঁড়াচ্ছে কয়েক গুণ। উদ্যোক্তারা বলছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন কমানোর পাশাপাশি অনেক কারখানা বন্ধ করে দিতে হতে পারে। বিশেষ করে অনেক ছোট কারখানা ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বিকল্প উপায়ে জ্বালানি সংগ্রহ করতে না পারায়।

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকদের ওপরেও। রাজধানী থেকে জেলা শহর; সবখানেই গ্যাসের ঘাটতিতে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

দেশে আমদানি করা এলএনজি রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি, অন্যটি সামিট গ্রুপ। গত সপ্তাহে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুনের পর সৃষ্ট যান্ত্রিক ত্রুটিতে সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে এলএনজি থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলেও বর্তমানে তা ৫০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে। সব মিলিয়ে দেশে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ কমে ২১৫ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমেছে, যা আগে ছিল প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট। অথচ দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট।

তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তারা জানান, তাদের দৈনিক প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে আগে পাওয়া যাচ্ছিল প্রায় ১৫০ কোটি ঘনফুট। বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ১১৫ কোটি ঘনফুটে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের শিল্পাঞ্চল, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকদের ওপর।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গ্যাস সংকট চরমে পৌঁছেছে। সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস এনে উৎপাদন চালিয়ে নেওয়ার যে বিকল্প ব্যবস্থা ছিল, সেটিও এখন অচল। ফলে ডায়িং, ফিনিশিং ও আয়রনের কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সময়মতো রপ্তানি আদেশ সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়বে এবং ক্রেতারা ক্রয়াদেশ স্থগিত, বাতিল বা মূল্য কমানোর মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল জানান, তীব্র গ্যাস সংকটসহ বিভিন্ন কারণে বর্তমানে দেশের ১২১টি স্পিনিং মিল উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।

গাজীপুরে সবচেয়ে বেশি সংকট
দেশের সবচেয়ে বড় শিল্পাঞ্চল গাজীপুরে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। কোনাবাড়ী, মৌচাক, চন্দ্রা, টঙ্গী, শ্রীপুর, কালিয়াকৈর ও বোর্ডবাজার এলাকার অনেক কারখানায় প্রয়োজনীয় ১০ থেকে ১৫ পিএসআই/ গ্যাস চাপের বিপরীতে মিলছে মাত্র ১ থেকে ৩ পিএসআই। কোথাও আবার চাপ একেবারে শূন্যে নেমে যাচ্ছে। এতে অন্তত অর্ধশত ছোট ও মাঝারি কারখানা উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কমে গেছে।

গোমতী টেক্সটাইল কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুর রহমান আনিস বলেন, লাইনে কার্যত কোনো গ্যাস নেই। কয়েক দিন নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎপাদন চালানোর চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রাখতে হয়েছে।

সাদমা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল রানা বলেন, কারখানা চালাতে ন্যূনতম ৪ পিএসআই গ্যাস চাপ দরকার। কিন্তু অনেক সময় ১ পিএসআইও পাওয়া যায় না। উৎপাদন বন্ধ করা ছাড়া উপায় নেই। তিনি বলেন, তাঁর কারখানায় ৭ হাজার শ্রমিক রয়েছেন। এখন তারা অলস সময় পার করছেন। আমবাগ এলাকার তাপস পিন কারখানার দৃশ্য একই। ২ হাজার ৭০ শ্রমিকের এ কারখানাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোনাবাড়ীর তুসুকা গ্রুপ ডিজেলচালিত জেনারেটর দিয়ে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক তারেক হাসান বলেন, প্রতিদিন শুধু ডিজেল কিনতেই অতিরিক্ত প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। এভাবে বেশি দিন উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

তিতাস গ্যাস গাজীপুর জোনের ব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. গোলাম ফারুক সমকালকে বলেন, জেলা ও মহানগরে দৈনিক প্রায় ৫৯ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে ৩০ কোটি ঘনফুট।

সাভার-আশুলিয়ায় রপ্তানি খাত চাপে
ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ার রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাগুলোও গ্যাস সংকটে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। কোথাও সকালে গ্যাস থাকলে দুপুরের পর চাপ কমে যাচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আশুলিয়ার লুসাকা নামে এক কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মেজর (অব.) মনিরুজ্জামান বলেন, ডিজেল দিয়ে জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন চালাতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। অথচ আন্তর্জাতিক ক্রেতারা দাম বাড়াচ্ছেন না। তিনি জানান, সাভার-আশুলিয়া এলাকায় ইতোমধ্যে ৫২টির মতো কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

ভালুকায় বাড়ছে উদ্বেগ
ময়মনসিংহের ভালুকায় এখনও গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবে দিনের মধ্যে কয়েক দফা গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া এবং কিছু সময়ের জন্য সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন শিল্প উদ্যোক্তারা।

শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের মহাব্যবস্থাপক মোকলেসুর রহমান বলেন, উৎপাদন ব্যয় এমনিতেই বেড়ে গেছে। এর মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকলে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন ধরে রাখতে পারবে না। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

নোমান কম্পোজিট অ্যান্ড টেক্সটাইল মিলসের সিনিয়র মহাব্যবস্থাপক রেদোয়ান আহাম্মেদ বলেন, দিনে পাইপলাইনে গ্যাস একেবারে শূন্য হয়ে যায়। ডিবিএল গ্রুপের গ্লোরি টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলস ইন্ডাস্ট্রিজের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, মাঝেমধ্যে গ্যাসের চাপ একেবারে শূন্যে নেমে যাচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে বিকল্প পথও বন্ধ
নারায়ণগঞ্জের ডাইং শিল্পেও সংকট তীব্র হয়েছে। লাইনে গ্যাস না থাকায় অনেক কারখানা এতদিন সিএনজি স্টেশন থেকে সিলিন্ডারে গ্যাস এনে উৎপাদন চালাচ্ছিল। কিন্তু তিতাসের নির্দেশে সেই ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ নিট ডাইং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমজাদ হোসেন বলেন, ডাইং একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। মাঝপথে গ্যাস চলে গেলে পুরো কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে সমিতিভুক্ত প্রায় দেড়শ কারখানার উৎপাদন প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে অনেক কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।

তবে আড়াইহাজারের মিথিলা টেক্সটাইল অ্যান্ড ওভেন ডাইং লিমিটেড আগে থেকেই বায়োমাসভিত্তিক জ্বালানির ব্যবস্থা করায় উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মোহাম্মদ মাহবুব খান হিমেল বলেন, দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট বিবেচনায় রেখে আগেই বিকল্প জ্বালানিতে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। এখন সেটিই কাজে লাগছে।

সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ লাইন
সংকটে পড়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোও। রাজধানী থেকে জেলা শহর– সবখানেই গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ নেই। অনেক স্টেশন দিনের বড় অংশ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। যেসব স্টেশন খোলা রয়েছে, সেখানেও দীর্ঘ লাইন।

সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, একটি স্টেশন স্বাভাবিকভাবে পরিচালনার জন্য অন্তত ১৫ পিএসআই গ্যাস চাপ প্রয়োজন। কিন্তু এখন অনেক এলাকায় ৪ থেকে ৫ পিএসআই, কোথাও আবার ২ পিএসআইয়ের কম চাপ পাওয়া যাচ্ছে। এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে গ্যাস বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

রাজধানীর উত্তরা, মিরপুর, মালিবাগ, বিমানবন্দর এলাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ময়মনসিংহ ও নরসিংদীর বিভিন্ন স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা। কোথাও দিনের মধ্যে একাধিকবার সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

মালিবাগের সিটি ওভারসিজ সিএনজি স্টেশনে অপেক্ষমাণ চালক ইমরুল হাসান গতকাল সোমবার বলেন, ‘সকাল ১০টায় লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর জানানো হলো– গ্যাস নেই। এখন অন্য একটি পাম্পে যেতে হবে। সেখানেও গ্যাস পাব কিনা, জানি না। সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলে গাড়ি চালাব কখন?’

আবাসিকে রান্না প্রায় বন্ধ
গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকরা। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, কলাবাগান, কাঁঠালবাগান, মিরপুর, বাড্ডা, রামপুরা, বাসাবোসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় গ্যাস থাকছে না। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে এলপিজি, ইন্ডাকশন কুকার কিংবা বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছে। কেউ কেউ গভীর রাতে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়লে তখন পরের দিনের রান্না সেরে রাখছেন।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আসমা বেগম বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে দীর্ঘ মেয়াদে এলপিজি কিনবে সরকার

বিশ্বজুড়ে জ্বালানির প্রচলিত সরবরাহ ব্যবস্থা চাপের মধ্যে পড়েছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে দীর্ঘমেয়াদে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস  বা এলপিজি আমদানি করবে বাংলাদেশ। এলপিজি আমদানি ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশনের (ডিএফসি) তহবিল থেকে অর্থায়ন পাওয়ার উদ্যোগও নিয়েছে সরকার। অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব ছাড়ার কয়েক দিন আগে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি সই হয়।  চুক্তির লক্ষ্য দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগামী ১৫ বছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার মূল্যের এলএনজি ও অন্যান্য জ্বালানি আমদানির শর্ত রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় এবার দীর্ঘমেয়াদে এলপিজি আমদানির  সরকারি উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা।

জানা গেছে, গত ২৯ জুন ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ইকোনমিক মিনিস্টার ডা. মো. ফজলে রাব্বী এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সিনিয়র ইকোনমিক অ্যাডভাইজার লরা অ্যান্ডারসনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের ফলাফল ও সুপারিশমালা সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিবের কাছে পাঠানো হয়।

বৈঠকে ইকোনমিক মিনিস্টার যুক্তরাষ্ট্র থেকে দীর্ঘমেয়াদে এলপিজি আমদানিতে সহযোগিতা এবং ডিএফসি অর্থায়নের জন্য বাংলাদেশের যোগ্যতা নিশ্চিত করতে মার্কিন সরকারের জোরালো সমর্থন চান। তিনি জানান, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ইতোমধ্যে এলপিজি সরবরাহের জন্য আগ্রহপত্র জমা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ইতিবাচক সাড়া দিতে উৎসাহিত করতে মার্কিন সরকারের সহযোগিতাও চাওয়া হয়।

বাংলাদেশের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে লরা অ্যান্ডারসন জানান, বিষয়টি নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, জ্বালানি বিভাগ এবং বাণিজ্য বিভাগ যৌথভাবে কাজ করছে। এলপিজি সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে শিগগিরই যোগাযোগ করে তাদের অংশগ্রহণ সহজতর করা হবে। এ জন্য যেসব কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন, তাদের তালিকা দ্রুত পাঠাতে বাংলাদেশ দূতাবাসকে অনুরোধ জানান তিনি।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রকে বিকল্প ভাবা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান ইরান যুদ্ধ, উৎপাদন ব্যাহত
হওয়া এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালির অনিশ্চয়তার কারণে বিকল্প উৎসের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। ইতেমাধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলপিজি আমদানিও বেশ বেড়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র থেকে দীর্ঘ সমুদ্রপথে এলপিজি আনতে পরিবহন ব্যয় তুলনামূলক বেশি।

ডিএফসি তহবিল ও শ্রম অধিকার ইস্যু
উন্নয়নশীল দেশগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও কৌশলগত বিনিয়োগ বাড়াতে ২০১৯ সালে ছয় হাজার কোটি ডলারের মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করে ডিএফসি। অবকাঠামো, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে ঋণ ও গ্যারান্টি সুবিধা দিয়ে থাকে সংস্থাটি। বাংলাদেশও দীর্ঘদিন ধরে এ তহবিলের সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে শ্রম অধিকার, পরিবেশগত মান, ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের সুযোগ এবং সামগ্রিক কর্মপরিবেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ এখনও ডিএফসি অর্থায়নের যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।

তবে বৈঠকে লরা অ্যান্ডারসন আশাবাদ ব্যক্ত করেন, অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ডিএফসি অর্থায়নের যোগ্য হতে পারে। তিনি পরামর্শ দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব দ্বিপক্ষীয় আলোচনায়  বিষয়টি ধারাবাহিকভাবে উত্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি সম্ভাব্য মার্কিন বিনিয়োগকারীদের সামনে উপস্থাপনের জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পের একটি তালিকা প্রস্তুত রাখারও পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে বিডার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ডিএফসি অর্থায়নের সুযোগ মিললে অবকাঠামো, জ্বালানি ও শিল্প উন্নয়ন প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের সক্ষমতা বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে, যার প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানি করতে হয়। ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার যে কোনো সংকটে দেশ চরম নাজুক পরিস্থিতিতে পড়ে যায়।

বড় জ্বালানি প্রকল্পে মার্কিন আগ্রহ
বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও কার্যকর করতে খাতভিত্তিক ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বিনিময়ের ওপর জোর দেওয়া হয়। গত মে মাসে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের সহায়তায় একটি সফল ব্যবসায়ী সফরের অভিজ্ঞতার আলোকে উভয়পক্ষ একমত হয়, বড় আকারের প্রতিনিধি দলের পরিবর্তে নির্দিষ্ট খাতভিত্তিক প্রতিনিধি দল পাঠালে বাণিজ্যিক সুফল বেশি পাওয়া যাবে। এ জন্য যৌথভাবে অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের দুটি বড় জ্বালানি অবকাঠামো প্রকল্প– ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) এবং ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের দ্বিতীয় শোধনাগার (ইআরএল-২)–এর দরপত্রে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ইকোনমিক মিনিস্টার জানিয়েছেন, বিষয়টি দ্রুত জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগকে জানানো হবে।

দূতাবাসের পাঁচ সুপারিশ
বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ওয়াশিংটন মিশন সরকারের কাছে পাঁচটি সুপারিশ করেছে। এগুলো হলো– যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কাছে সম্ভাব্য ১০টি মার্কিন এলপিজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা পাঠানো; প্রতিটি দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় ডিএফসি অর্থায়নের জন্য বাংলাদেশের যোগ্যতার বিষয়টি নিয়মিত উত্থাপন করা; সম্ভাব্য মার্কিন বিনিয়োগকারীদের সামনে উপস্থাপনের জন্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলোর চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত রাখা; ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের জন্য যৌথভাবে অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করা এবং উপযুক্ত সময়ে এফএসআরইউ ও ইআরএল-২ প্রকল্পের দরপত্রের সুযোগ সম্পর্কে মার্কিন সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে বিকল্প কম, ইরানের দাবি– আটকে গেছে যুক্তরাষ্ট্র

ইসরায়েলের ইন্ধনে যুক্তরাষ্ট্র পাঁচ মাসের যুদ্ধে জড়িয়ে আটকে গেছে এবং সমস্যার মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছে ইরান। তারা আরও বলেছে, দেশটিকে অবশ্যই এর মূল্য দিতে হবে। প্রায় একই কথা বলছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের বিশ্লেষণও। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, যুদ্ধ যত গড়াচ্ছে ট্রাম্পের হাতের বিকল্পের পরিধি তত ছোট হয়ে আসছে।

গত রোববার ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, ইরানে বিমান হামলা বন্ধ করা হয়েছে কূটনীতিকে সুযোগ করে দিতে। সিএনএন বলছে, কূটনীতির কিছু প্রমাণ দেখা গেছে। তবে ইরানের মূল দাবি হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ থেকে সরে আসতে দেখা যায়নি।

ঘুরেফিরে ট্রাম্প আবারও আগের অবস্থানেই রয়েছে। তিনি ইরানে হামলা চালিয়ে ছাড় পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে তাঁর সে পরিকল্পনা কাজ করেনি। স্থল অভিযানে সেনা পাঠাতে পারেন তিনি। তবে এতে মার্কিন নাগরিকদের প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে আগে থেকেই এই যুদ্ধ অজনপ্রিয়।

ইরান যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন এই সংঘাত কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হবে। এটি স্থায়ী হয়েছে পাঁচ মাস। সব মিলিয়ে তাঁর হাতে বিকল্পের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। একে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়ছে। তেলের দাম, গ্যাসের দাম, বেশির ভাগ মার্কিনির যুদ্ধবিরোধিতা, লোহিত সাগরের বিকল্প পথ হুমকির মুখে পড়া–সবই ট্রাম্পের মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্রাম্প এখন ইরানে হামলা চালাতে পারেন, অবকাঠামো ধ্বংস করতে পারেন। এতে ইরানের শাসক শ্রেণির ওপর চাপ পড়বে না। বরং বেসামরিকরাই চাপের মুখে পড়বেন। আর এটি যুক্তরাষ্ট্রের খরচও বাড়াবে। ফলে এই বিকল্প নিয়ে খোদ ট্রাম্পের আশপাশের ব্যক্তিদেরই আপত্তি রয়েছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।

আরেকটি পথ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধ। বন্দর থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে অবরোধ দিয়ে ইরান সরকারকে দেশ ও সামরিক বাহিনী চালানোর মতো অর্থ জোগাড়ে বাধা দেওয়া। এটিও দীর্ঘসময় ধরে চালাতে হবে, মাসের পর মাস ধরে এটি সমস্যা তৈরি করবে। সিএনএনের বিশ্লেষণ বলছে, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ধৈর্য বা দেশীয় রাজনৈতিক সমর্থন–কোনোটাই এ পথে যাওয়ার জন্য অনুকূল অবস্থায় নেই। উল্টো এই পথে হাঁটলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ পড়বে।

তৃতীয় বিকল্প হতে পারে, ইরানের সঙ্গে এর আগে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে ফেরত যাওয়া। এই বিকল্পে তেহরান রাজি হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্তত হরমুজ প্রণালি থেকে অর্থ আয় ও এর নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অস্পষ্ট রেখে ওই পথে হাঁটবে না তারা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এতে রাজি হলে, তা হবে দেশটির জন্য পরাজয়। ট্রাম্প দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক সমালোচনার মুখোমুখি হবেন। ফলে এই মুহূর্তে সত্যিকার অর্থে ট্রাম্পের হাতে বিকল্প নেই বললেই চলে।

অস্ত্রের মজুত কমেনি
টানা ১৩ দিন হামলার পর গত তিন দিন ধরে ইরানে হামলা হচ্ছে না। গুঞ্জন রটেছিল, হয়তো অস্ত্রের মজুত কমে আসায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সে দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, পেন্টাগনের আকাশ প্রতিরক্ষা প্রতিরোধকের কোনো সংকট নেই। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে বিশ্বের যে কারও চেয়ে অনেক বেশি অস্ত্র রয়েছে এবং আমাদের প্রয়োজনের চেয়েও বেশি রয়েছে।’

এদিকে, গতকাল সোমবার প্রথম ভাগে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে এআই দিয়ে তৈরি একাধিক ছবি শেয়ার করেন। সেগুলোতে দেখা যায়, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনী এগিয়ে রয়েছে।

ওয়াশিংটনের পথে নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের উদ্দেশে গতকাল রওনা হয়েছেন। সেখানে তাঁর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার কথা রয়েছে।

ট্রাম্পের আমন্ত্রণেই ওয়াশিংটন সফর করছেন নেতানিয়াহু। তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ নিয়ে আলাপ করবেন। গত রোববার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী জানান, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও তিনি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রয়োগ করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করতে বলেছেন।

তবে ট্রাম্প বলেছেন, নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় গ্রেপ্তার করা হবে না। ২০২৪ সালের নভেম্বরে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ওই পরোয়ানা জারি করে আইসিসি।

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইরানই প্রধান আলোচ্য বিষয়: নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সফরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে ইরান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পরিধি সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হবে।

সোমবার ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ‘এই জটিল সময়ে দৃঢ়তা ও প্রজ্ঞা-দুটিই প্রয়োজন। আমরা এজেন্ডার সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করব, তবে প্রধান বিষয় হবে ইরান। আমাদের লক্ষ্য আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শান্তির পরিধি আরও বিস্তৃত করা।’

এটি চলতি মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের পর নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার অষ্টম বৈঠক। ফেব্রুয়ারির পর এবারই প্রথম দুই নেতা মুখোমুখি হচ্ছেন। ওই বৈঠকের পরই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু করেছিল।

সাম্প্রতিক সংঘাতে ইসরায়েল সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের দুই সপ্তাহব্যাপী বোমা হামলা অভিযানে অংশ নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। পরে ট্রাম্প হামলা স্থগিতের ঘোষণা দেন। তেহরানও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ রাখলে তারাও আক্রমণ স্থগিত রাখবে। তবে ইসরায়েল সতর্ক করে বলেছে, ইরানের যেকোনো হামলার জবাবে তারা কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নেতানিয়াহু স্বীকার করেছেন, মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে তার ও ট্রাম্পের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। জুন মাসে দুই নেতার এক উত্তপ্ত ফোনালাপের খবর প্রকাশ্যে আসে। পরে ট্রাম্প নিজেই নিশ্চিত করেন যে ওই আলাপচারিতায় তিনি নেতানিয়াহুকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছিলেন।

ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রোববার ইসরায়েল জানায়, তারা গাজায় একটি বহুজাতিক নিরাপত্তা বাহিনী প্রবেশের অনুমতি দেবে। এর আগে ২১ জুলাই ইসরায়েল ঘোষণা দেয়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবাননের সঙ্গে হওয়া সমঝোতার আওতায় তারা দক্ষিণ লেবানন থেকে কিছু সেনা পুনর্মোতায়েন করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সঙ্গে ঐতিহ্যগতভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রদর্শন নেতানিয়াহুর জন্য অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে তিনি চাপে রয়েছেন।

সুস্থ হার্ট চান? সুরক্ষিত রাখতে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

সামগ্রিকভাবে সুস্থ থাকতে চাইলে আপনার অন্যতম প্রধান কাজ হলো হার্টের যত্ন নেওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নিকোল হারকিন সামাজিক মাধ্যমে এমন পাঁচটি জিনিসের কথা জানিয়েছেন যা তিনি হৃৎপিণ্ডকে সুরক্ষিত রাখতে চাইলে কখনোই করতেন না। তিনি জানিয়েছেন, কীভাবে কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।

তার পোস্টে, ডা. নিকোল এমন পাঁচটি জীবনযাত্রার অভ্যাসের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন যা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা হৎদপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। এর মধ্যে রয়েছে নিকোটিনযুক্ত পণ্য থেকে দূরে থাকা, প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়া সীমিত করা, বুকের ব্যথাকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া, হৃদরোগের পারিবারিক ইতিহাসের প্রতি মনোযোগ দেওয়া এবং পর্যাপ্ত ঘুমকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

ডা. নিকোল জানিয়েছেন, এই অভ্যাসগুলো এড়িয়ে চললে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। তবে তিনি জানান, আপাতদৃষ্টিতে ছোটখাটো জীবনযাত্রার অভ্যাসও হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

 ধূমপান বা ভ্যাপিং পণ্য ব্যবহার

ডা. নিকোল বলেছেন, তিনি তরুণীদের মধ্যে যতগুলো হার্ট অ্যাটাক দেখেছেন, তার প্রায় সবগুলোই ধূমপায়ী বা ভ্যাপ ব্যবহারকারীদের মধ্যে ঘটেছে। তার মতে, নিকোটিনযুক্ত পণ্য এড়িয়ে চলা মানুষের হৃৎপিণ্ডকে সুরক্ষিত রাখার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর মধ্যে একটি।

বুকের ব্যথা উপেক্ষা করা বা গুরুত্ব না দেওয়া

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ বুকের ব্যথাকে গুরুত্ব দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন,। তিনি বলেন, আশ্চর্যজনকভাবে, প্রচলিত স্ক্রিনিংয়ের  যাদের ঝুঁকি কম বলে মনে করা হয়, তাদেরও হার্ট অ্যাটাক হয়। যখন রোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে আসেন, তখন তারা অনেক বেশি অসুস্থ থাকেন। বুকে ব্যথা হলে তিনি যেই বয়সীই হোক না কেন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

নিয়মিত প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়া

ডা. নিকোল বেকন, হট ডগ, হ্যামবার্গার এবং ডেলি মিটের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংস নিয়মিত খাওয়ার বিরুদ্ধেও পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, হট ডগ, হ্যামবার্গার, ডেলি মিটের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংস নিয়মিত খাওয়ার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

হৃদরোগের পারিবারিক ইতিহাস উপেক্ষা করা

ডা. নিকোল বলেছেন, কারো পরিবারে হৃদরোগে ইতিহাস থাকলে কখনোই তা উপেক্ষা করা উচিত নয়। ডা. নিকোল ব্যাখ্যা করেন, আজকাল অনেক তরুণই জার্ট অ্যাটাকের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসে। সবাইকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে বিশেষ করে যাদের পরিবারে হার্ট হৃদরোগের ইতিহাস আছে তাদেরকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন।

ঘুমকে অবহেলা করবেন না

প্রতি রাতে অন্তত আট ঘণ্টা বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন ডা. নিকোল। হার্ট ভালো রাখতে ঘুম কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা তিনি ব্যাখ্যা করেন।

শিক্ষিকার রিল ভাইরাল, যা বলছেন ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’র গায়ক

‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে, অঝোরে নামবে বুঝি শ্রাবণের ধারা…’—তিন দশকের বেশি সময় আগে প্রকাশিত গানটি নতুন করে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের এক স্কুলশিক্ষিকার রিল ভিডিও ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্কের মধ্যেই গানটির শিল্পী মেজবাহ রহমান নিজের মতামত জানিয়েছেন। ভিডিওটিতে নেতিবাচক কিছু দেখেননি তিনি। বিষয়টি নমনীয়ভাবে দেখা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

ডিফারেন্ট টাচ ব্যান্ডের প্রধান ভোকাল মেজবাহ রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এই গানটা আমরা সব সময়ই গাই। এটা চিরন্তন বৃষ্টির গান, বর্ষার গান, প্রকৃতির গান। ১৯৮৯ সালে গানটি তৈরি করি, ১৯৯০ সালে প্রকাশ করি। ৩৬ বছর পরও এর আবেদন একটুও কমেনি। সাম্প্রতিক সময়ে এটি সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, এটাও এক ধরনের ভিন্ন অনুভূতি।’

সম্প্রতি এই গান ব্যবহার করে একটি রিল ভিডিও প্রকাশ করেন ফেঞ্চুগঞ্জের স্কুলশিক্ষিকা বিউটি পাল। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিকমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। স্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। তবে তার সহকর্মী ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষকরা একই গান ব্যবহার করে রিল তৈরি করে তার প্রতি সংহতি প্রকাশ করছেন।

বিউটি পালের প্রসঙ্গে মেজবাহ রহমান বলেন, ‘আমরা সব সময়ই বাবা-মায়ের পরে শিক্ষকদের স্থান দিই। শিক্ষকদের অবশ্যই কিছু বিষয় শিক্ষার্থীদের জন্য মেনে চলতে হয়। তবে এই রিল ভিডিও নিয়ে যেটা করা হচ্ছে, সেটা মোটেও কাম্য নয়। আমার কাছে এতে নেতিবাচক কিছু মনে হয়নি। এখানে একটি শ্রেণি কী অনৈতিক বিষয় খুঁজে পেল, আমি বুঝতে পারছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সামাজিকমাধ্যমকে আমরা কোনোভাবেই অস্বীকার করতে পারি না। প্রয়োজনেই সবাই এর দ্বারস্থ হয়। তাই একটি দিক দেখে কাউকে দোষারোপ করা ঠিক নয়।’

এদিকে ঘটনাটি সম্পর্কে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা জানিয়েছেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে এই ঘটনায় শিক্ষিকার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মেজবাহ রহমান। তার ভাষায়, ‘এটা নিয়ে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হলে সেটি ঠিক হবে না। আমার মনে হয়, বিষয়টি নমনীয়ভাবে দেখা উচিত। কারণ এটি কোনো নেতিবাচক ভিডিও ছিল না।’

ফেনী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মিনি ট্রাকসহ ভারতীয় পণ্য জব্দ

ফেনীর ছাগলনাইয়া সীমান্তে অভিযান চালিয়ে আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় পণ্য ও একটি মিনি ট্রাক জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক মূল্য ৬৮ লাখ ২৫ হাজার ৯৫০ টাকা।

সোমবার ভোরে ছাগলনাইয়া উপজেলার পূর্বদেবপুর সীমান্ত এলাকায় ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) এ অভিযান চালায়।

বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, চোরাকারবারিরা সীমান্ত দিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য এনে পাচারের উদ্দেশ্যে জমা করেছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান চলাকালে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পণ্যবোঝাই মিনি ট্রাক ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ট্রাকটি থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি ও চকলেট জব্দ করা হয়।

ফেনী ৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান সমকালকে জানান, জড়িত চোরাকারবারিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে। চোরাচালান ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পুশইনসহ যেকোনো অপতৎপরতা ঠেকাতে বিজিবি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছে।

এবার টিভি সিরিজে অভিনয় করবেন রোনালদো

দীর্ঘ ফুটবল ক্যারিয়ারের পাশাপাশি এবার বিনোদন অঙ্গনেও নতুন ভূমিকায় দেখা যাবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই পর্তুগিজ তারকা নতুন টেলিভিশন ড্রামা সিরিজ ‘ডে ওয়ানস’-এ নির্বাহী প্রযোজকের দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি বিশেষ অতিথি চরিত্রেও অভিনয় করবেন তিনি।

সিরিজটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন আর্সেনাল ও ফ্রান্সের সাবেক তারকা থিয়েরি অঁরিও। মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা পেরিয়ে এবার দুজনকে দেখা যাবে একই প্রযোজনা প্রকল্পে।

‘ডে ওয়ানস’ যৌথভাবে নির্মাণ করছে রোনালদো এবং হলিউড পরিচালক ম্যাথিউ ভনের প্রতিষ্ঠিত ইউআর-মার্ভ স্টুডিওস। ভন ‘কিংসম্যান’ ও ‘কিংসম্যান’ চলচ্চিত্র পরিচালনার জন্য পরিচিত।

নতুন প্রকল্প নিয়ে রোনালদো বলেন, ‘এটি আমার জীবনের নতুন একটি অধ্যায়। ফুটবলের পাশাপাশি বিনোদন জগতেও নতুন কিছু করার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত।’

ম্যাথিউ ভনও রোনালদোর প্রশংসা করে বলেন, ‘ক্রিশ্চিয়ানো মাঠে এমন অনেক গল্প তৈরি করেছেন, যা কল্পনাকেও হার মানায়। এবার তার সঙ্গে পর্দার গল্প বলার অপেক্ষায় আছি।’

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ডে ওয়ানস’ আধুনিক ফুটবলের পর্দার আড়ালের নানা বাস্তবতা নিয়ে নির্মিত হবে। খেলোয়াড়, এজেন্ট, অর্থনীতি এবং পেশাদার ফুটবলের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশই হবে সিরিজটির মূল বিষয়।

সিরিজটির ধারণা দিয়েছেন ফুটবল এজেন্ট ড্যারেন ডেইন। কেন্দ্রীয় চরিত্র স্ট্যানলি ডালটনের ভূমিকায় অভিনয় করবেন ‘হোমল্যান্ড’ ও ‘বিলিয়নস’-খ্যাত ব্রিটিশ অভিনেতা ডেমিয়ান লুইস।

ইতোমধ্যে উত্তর-পশ্চিম লন্ডনের বার্নেট এফসির স্টেডিয়াম ‘দ্য হাইভ’-এ সিরিজটির শুটিং শুরু হয়েছে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, রোনালদো ও অঁরির সম্পৃক্ততার কারণে সিরিজটির সম্প্রচারস্বত্ব পেতে বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে।

ফাইনালের ৭ দিন পর খোলা চিঠিতে যা লিখলেন স্কালোনি

২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের এক সপ্তাহ পর সমর্থকদের উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখেছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত বার্তায় আরেকটি ট্রফি এনে দিতে না পারার আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের লড়াই, মানসিকতা ও আত্মত্যাগকেই দলের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে তুলে ধরেছেন বিশ্বকাপজয়ী এই কোচ।

বিশ্বকাপ ফাইনালের পর প্রথমবারের মতো দীর্ঘ বার্তা দেন স্কালোনি। ট্রফি না জিতলেও দল কী দেখানোর চেষ্টা করেছে, সেটিই মনে রাখতে সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান স্কালোনি। তিনি লেখেন, ‘আমি চাই, আপনারা এই খেলোয়াড়দের মনে রাখুন। এরা আমার যোদ্ধা। আমার স্ত্রীকে যখন তাদের কথা বলতাম, তখনও আমি এভাবেই তাদের পরিচয় দিতাম।’

এরপর একে একে তিনি দলের মানসিকতার কথা তুলে ধরেন, ‘পরিশ্রম, জয়ের ইচ্ছা, বিশ্বাস, ‘আমি পারব’ মানসিকতা, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও হাল না ছেড়ে দেওয়া, আর কিছু দেওয়ার না থাকলেও নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়া, যারা আমাদের চেনে না তাদের কাছ থেকে আসা ঠান্ডা পানির ঝাপটা সহ্য করা, পা যখন আর মস্তিষ্কের নির্দেশ মানতে চায় না, তখনও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা… এটাই আসল ট্রফি।’

চিঠির শেষ অংশে নিজের কোচিং স্টাফ, খেলোয়াড়, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) কর্মী এবং সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন স্কালোনি। তিনি লেখেন, ‘আমার কোচিং স্টাফ, খেলোয়াড়, এএফএর কর্মীরা এবং নেপথ্যে নীরবে কাজ করা প্রত্যেকের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ। আর আপনাদের সবার ভালোবাসার জন্যও ধন্যবাদ।’

বিশ্বকাপ ফাইনালের পর থেকেই স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলছে। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সঙ্গে তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের ডিসেম্বরে। দায়িত্বে থাকা বা সরে যাওয়ার বিষয়ে তিনি এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেননি।

তবে ইতালীয় ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এএফএ তাকে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত জাতীয় দলের দায়িত্বে রাখতে আগ্রহী।