Home Blog Page 19

সংসদে প্রধানমন্ত্রী বিগত সরকারের দুর্নীতির তদন্ত হচ্ছে ব্যবস্থা নেওয়া হবে

০

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেছেন, বিগত সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্ত হচ্ছে। প্রতিবেদন পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার গঠিত হওয়ার পর বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে কিছু অনিয়ম দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সেই প্রকল্পগুলোকে তদন্তের অধীনে নেওয়া হয়েছে এবং কয়েকটির ক্ষেত্রে মোটামুটিভাবে তদন্ত শেষ হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন সরকারের হাতে এলে পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা ঠেকাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ বৃদ্ধি ও ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত একটি মাত্র কারণে হয় না। বরং প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, ক্রয় প্রক্রিয়া, ব্যবস্থাপনার একাধিক দুর্বলতা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতার বিষয়টি সরকারের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর এ বিষয়ে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে নির্ভুল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রকল্প অনুমোদনের পর বাস্তবায়ন প্রস্তুতি দ্রুত করার উদ্যোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন সংক্রান্ত বিদ্যমান নির্দেশিকা সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে সংশোধন কার্যক্রম চলমান। চলমান প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি মনিটরিং জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ড্যাশবোর্ড স্থাপন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিয়মিত প্রকল্প পর্যালোচনা ও মাঠ পর্যায়ে নিবিড় তদারকি বাড়ানো হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হচ্ছে। যেসব প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি, সেগুলোর বিলম্ব, অনিয়ম, ব্যয় বৃদ্ধি ও সংশোধনের কারণ পর্যালোচনা করে বিলম্বের জন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩০ শতাংশের কম, সেসব প্রকল্পের উপযোগিতা ও কার্যকারিতা বিবেচনা করে প্রকল্পগুলো পুনর্বিন্যাস, স্কোপ পরিবর্তন কিংবা চলমান রাখার বিষয়ে মন্ত্রণালয় বা বিভাগ কর্তৃক যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প গ্রহণ না করে সমন্বিত কর্মসূচির অধীনে গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ই-জিপির ব্যবহার সম্প্রসারণের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

নতুন এলএনজি টার্মিনালসহ ১৫০ কূপ খননের পরিকল্পনা
সরকারি দলের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আকস্মিক বা সাময়িক গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প খাত যাতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে না পড়ে, সে জন্য দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন ও গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিচ্ছে সরকার। ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১৫০টি কূপ খনন, ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রাঞ্চলের ২৬টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে গত ২৪ মে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। স্থলভাগে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি-২০২৬’ প্রণয়নের কার্যক্রমও গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে বর্তমানে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে কমবেশি দৈনিক গড়ে ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। ভবিষ্যতে মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন আরেকটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীতে একটি ল্যান্ডবেজ্ড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুতুবজোমের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালে এবং মাতারবাড়ীর এলএনজি টার্মিনাল থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর নাগাদ রি-গ্যাসিফায়েড এলএনজি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলের সুবিধাজনক কোনো স্থানে জরুরি ভিত্তিতে আরেকটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে।

ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্যাস নেটওয়ার্কে যুক্ত করার বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদ নেতা বলেন, ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশের মূল গ্যাস নেটওয়ার্কে নিয়ে আসতে চাইলে সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অন্তত ৭ বছর লাগবে। তাই ভোলার গ্যাস স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করে শিল্পকারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে সেখানে গ্যাসনির্ভর কিছু শিল্প স্থাপনের চেষ্টা চলছে। এর ফলে ভোলা অঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতির আকারও বাড়বে।

ভোলার গ্যাস যথাযথভাবে ব্যবহারের জন্য সেখানে একটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও করছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো, আমদানি-নির্ভরতা মোকাবিলা এবং শিল্প ও রপ্তানি খাতে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনুসন্ধান, উৎপাদন ও অবকাঠামো উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন
সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকার যাতায়াতে সময় ও দূরত্ব কমিয়ে আনার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনার জন্য ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের নিমিত্তে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর প্রকল্পের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।

সরকার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব পদক্ষেপের আওতায় টঙ্গী-আখাউড়া এবং লাকসাম-চট্টগ্রাম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে লাকসাম-চট্টগ্রাম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন। এ ছাড়া টঙ্গী-আখাউড়া ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়ন শেষ পর্যায়ে।

মাঠ প্রশাসনকে জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক করতে সংস্কার
সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মাঠ প্রশাসনকে অধিকতর জনবান্ধব, স্বচ্ছ, দক্ষ, সেবামুখী ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে সরকার বিদ্যমান নীতি ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিকায়নের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। বর্তমানে সেবা সহজীকরণ, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ, অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তি, পরিদর্শন ও তদারকি, গণশুনানি কার্যক্রম, তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়ন এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কৃষকদের ৫ বছরের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ চালিত পানির পাম্প
মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজউদ্দীন খানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সেচ কাজে ডিজেলচালিত পানির পাম্পের পরিবর্তে কৃষকদের সৌরবিদ্যুৎ চালিত পাম্প দেওয়া হবে।

সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর সস্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌরবিদ্যুতের স্টোরেজের জন্য এখানে দুই ধরনের ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। একটি হচ্ছে, লেড ব্যাটারি; এটি নরমাল ট্র্যাডিশনের। আরেকটা হচ্ছে লিথিয়াম ব্যাটারি, যেটি পরিবেশবান্ধব। বর্তমান সরকার লিথিয়াম অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘লিথিয়াম ব্যাটারি স্থাপনের ক্ষেত্রে অর্থাৎ তৈরির ক্ষেত্রে যেসব কলকারখানা স্থাপিত হবে সেটিকে সরকার সব রকম সহযোগিতা দেবে। লিড ব্যাটারিতে এসিডের ব্যবহার হয়, যা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সে জন্য এটাকে নিরুৎসাহিত করতে চাইছি। ভবিষ্যতে আমাদের চিন্তাভাবনা থাকবে, রুফটপের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহার করতে হবে।’

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন
চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য নগরী চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অধীনে নগরের ২৫টি খাল থেকে আবর্জনা, মাটি উত্তোলনসহ ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার সার্ভিস ড্রেন পরিষ্কার, ড্রেনে জমে থাকা মাটি ও আবর্জনা অপসারণ কার্যক্রম চলমান। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। এ ছাড়া নগরীর ৩২টি খাল থেকে আবর্জনা ও মাটি উত্তোলন এবং অপসারণের কার্যক্রম চলছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে বাস্তবায়নাধীন জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত ৩৬টি খাল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ডিপিপি প্রণয়নের কার্যক্রম চলছে। প্রকল্পের বাইরে আরও ২১টি খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ডিপিপি প্রণয়নের কার্যক্রম চলছে।

তারেক রহমান জানান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে এয়ারপোর্ট রোডসহ বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ৪৮ কিলোমিটার রাস্তা, ২টি কালভার্ট ও ৬টি ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২টি খেলার মাঠ উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আরও ৬টি খেলার মাঠ উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে।

পরিবেশ রক্ষা করতে গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবেশ রক্ষা, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

পরিবেশ রক্ষায় সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশের পরিবেশ সুন্দর ও সবুজ করতে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছি। এতে তোমাদেরও অংশগ্রহণ করা উচিত। পরিবেশ ঠিক রাখতে তোমাদের বাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমনকি তোমাদের আত্মীয়স্বজনদের বাসার আশপাশেও গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।’

জাতীয় সংসদ ভবনে গতকাল বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে রাজধানীর ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল সানিডেলের শিক্ষার্থীরা তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংসদের কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং সংসদ অধিবেশন প্রত্যক্ষ করার সুযোগের অংশ হিসেবে সংসদে যান সানিডেলের শিক্ষার্থীরা।

আর্থিক অনিয়ম-শিক্ষাগত সনদ জালিয়াতির অভিযোগ: ডব্লিউএইচও’র পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ

০

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। বুধবার পদত্যাগপত্র দিয়েছেন তিনি। ওই পদত্যাগপত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থাটি।

জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে বাংলাদেশ ও ডব্লিউএইচওর তদন্তের মধ্যে থাকা অবস্থায় পদত্যাগ করলেন সায়মা ওয়াজেদ। তিনি গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে।

২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের মেয়াদে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন সায়মা ওয়াজেদ। তবে গত বছরের শেষ দিকে তাঁকে বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায় সংস্থাটি। এর আগে ওই বছরের মার্চে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা করে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীরা জানান, ডব্লিউএইচও তাঁর বিরুদ্ধে চীন সফরের ক্ষেত্রে আর্থিক জালিয়াতি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছে। সায়মা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুসের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে সায়মা আরও জানান,বাংলাদেশে একটি জমির প্লট অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগ করেছে ডব্লিউএইচও। তাঁর দাবি, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমি অর্জন করেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য আইনের আওতায় তিনি এর বৈধ মালিকানা পেয়েছেন।

পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর সেবা করার লক্ষ্যেই তিনি আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তাঁকে দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনে ক্রমাগত বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, তাঁকে বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানোর কারণে প্রায় এক বছর ধরে কোনো পারিশ্রমিক পাননি। এতে তাঁর আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বের প্রতি তাঁর আস্থা ও বিশ্বাসও নষ্ট হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে, এর আগে দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, সায়মা ওয়াজেদকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ডব্লিউএইচও। সূত্রগুলো জানায়, আগামী ১২ অক্টোবর এ পদের জন্য মনোনয়ন আহ্বান করা হতে পারে। ডিসেম্বরে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর ২০২৭ সালের ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন হতে পারে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের অধীনে বাংলাদেশ ও ভারতসহ এ অঞ্চলের দেশগুলো রয়েছে। আঞ্চলিক পরিচালকরা বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব ও জরুরি পরিস্থিতিতে ডব্লিউএইচওর কার্যক্রম পরিচালনা এবং স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্থার নীতিমালা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

জুলাইয়ের চিঠিতে সায়মা তাঁর বিরুদ্ধে ভ্রমণ-সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগও অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, ৯০১ ডলারের একটি অর্থ ফেরত পাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়ায় তাঁর এক সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে বিষয়টি তৈরি হয়েছে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন এবং ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোসের কাছে এ যোগ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট করেছিলেন।

সায়মা ওয়াজেদ এ বিষয়ে রয়টার্সকে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মন্তব্যের অনুরোধে ডব্লিউএইচওও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি। গত মাসে সংস্থাটি জানিয়েছিল, সায়মা ছুটিতে রয়েছেন; তবে গোপনীয়তার কারণে তাঁর বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করবে না।

হরমুজে ‘অত্যাধুনিক’ মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন আটকের দাবি ইরানের

০

হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক মানুষবিহীন সাবমেরিন ড্রোন আটকের দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তাদের যে আন্ডারওয়াটার ড্রোনটি বিকল হয়েছিল, সেটি পুরোনো মডেলের এবং এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য বা গোপন সরঞ্জাম ছিল না।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে আইআরজিসির বরাতে বলা হয়, মঙ্গলবার ভোরে গোয়েন্দা অভিযানের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানুষবিহীন ও ‘স্মার্ট’ সাবমেরিন আটক করেছে আইআরজিসির নৌবাহিনী।

আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, আটক করা ডুবোজাহাজটি পানির নিচে ব্যবহারের জন্য বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত। এটি ২০২৫ সালে মার্কিন নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত করা হয়েছিল বলেও দাবি করেছে ইরান। শিগগির আটক করা সাবমেরিনটির ছবি প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে তারা।

ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষবিহীন এই ডুবোজাহাজের সক্ষমতার মধ্যে রয়েছে পানির নিচে অনুসন্ধান ও নজরদারি, সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, মাইন শনাক্তকরণ এবং সাবমেরিন কেবল ও পাইপলাইন পরিদর্শন।

তবে ইরানের দাবির পরপরই আল-জাজিরার কাছে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, এক দিনেরও বেশি সময় আগে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর পরিচালিত একটি আন্ডারওয়াটার ড্রোন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে পড়ে।

মার্কিন ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, ড্রোনটি চলমান সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য আঞ্চলিক জলসীমায় জরিপ চালাচ্ছিল। এটি ছিল পুরোনো মডেলের একটি ড্রোন। এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা ছিল না এবং কোনো গোপন সোনার বা রাডার সরঞ্জামও ছিল না।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ বজায় রেখেছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে।

সুতায় বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারে কারও আপত্তি, কেউ খুশি

০

১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার করেছে সরকার। এর প্রতিক্রিয়ায় টেক্সটাইল খাতের উদ্যোক্তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে সুতার মূল ব্যবহারকারী তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা সরকারের এ সিদ্ধান্তকে আত্মঘাতী বলছেন। জরুরি ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের আদেশ জারি করে। এর আগে গত ২০ আগস্ট আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে ওই সভার কার্যবিবরণীতে জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বস্ত্র খাতের সমস্যা সমাধানে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বস্ত্র ও পোশাক খাতের তিন সংগঠনের সভাপতিরা রয়েছেন কমিটিতে। তবে বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ সভাপতি বলেছেন, ওই সভায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত হয়নি।

এনবিআর আদেশে বলা হয়, আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সভায় ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আমদানির শর্ত হিসেবে বস্ত্র ও পোশাক খাতের তিন সংগঠন বিটিএমএ, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর প্রত্যয়নপত্র সংশ্লিষ্ট কাস্টমস স্টেশনে দাখিলের কথা বলা হয়। আমদানি পর্যায়ে প্রযোজ্য শুল্ক ও করের সমপরিমাণ নিঃশর্ত ও অব্যাহত ব্যাংক গ্যারান্টি দাখিল করতে হবে। এ ছাড়া খালাস করা কাঁচামালে প্রস্তুত করা পণ্য সম্পূর্ণরূপে রপ্তানি হওয়া সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্তযোগ্য হবে।

সরকারের এ সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছে পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। গতকাল সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে লেখা এক চিঠিতে বলা হয়, গত ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভার কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্তের ‘ক’ অংশে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানির ক্ষেত্রে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার করে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে আমদানির কথা বলা হয়েছে। সিদ্ধান্তের ‘খ’ অংশে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সুতার ন্যূনতম ৫০ শতাংশ স্থানীয় স্পিনিং মিল থেকে সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করা এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ সুতা আমদানির সুযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু সভায় দুই সংগঠনের সভাপতি উপস্থিত ছিলেন এবং এমন কোনো বিষয়ে আলোচনা হয়নি।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সভা শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে একটি আলোচনা উঠলে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএর যৌথ সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্ত্রণালয়কে জানালে সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানানো হয়। সভার আলোচনাবহির্ভূত এ ধরনের বিষয় সভার কার্যবিবরণীতে ‘সিদ্ধান্ত’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা তাদের বিস্মিত করেছে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবতাবিরোধী ও আত্মঘাতী, যা বাস্তবায়িত হলে পোশাকশিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। স্বার্থান্বেষী মহলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিনের বন্ড ব্যবস্থাকে বাদ দেওয়া যাবে না। দেশের তৈরি পোশাকশিল্প এ বন্ড ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে। হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্ত বাদ দেওয়া হলে বিদেশি ব্র্যান্ড ক্রেতাদের কাছে ভুল বার্তা যাবে। এতে পোশাক রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে রপ্তানি আদেশ কম। এ কারণে বাজারে সুতার চাহিদা তুলনামূলক কম থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় বাজারে এর দাম বাড়ছে। এতে বোঝা যায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল দেশে মনোপলি ব্যবসা করার জন্য পোশাক রপ্তানিকারকদের জিম্মি করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা চালাচ্ছে। বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম চিঠিতে সই করেন।

অন্যদিকে সরকারের সিদ্ধান্তকে দেশীয় বস্ত্র ও স্পিনিং খাতের পুনরুজ্জীবন বলছে টেক্সটাইল মিল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ। সংগঠনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, দেশীয় বস্ত্রশিল্প বিশেষ করে স্পিনিং খাতের সুরক্ষা  ও বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে সরকারের এ সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। এতে দেশীয় বস্ত্র ও স্পিনিং খাতের পুনরুজ্জীবন হবে। স্থানীয় সুতার চাহিদা বাড়বে, বন্ধ ও আংশিক বন্ধ মিলগুলো পুনরায় সচল হবে, বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারের সুযোগ বাড়বে। এ ছাড়া বন্ড সুবিধার অপব্যবহার কমবে।

বিটিএমএ মনে করে, আমদানি পর্যায়ে প্রযোজ্য শুল্ক-করের সমপরিমাণ ব্যাংক গ্যারান্টি সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রত্যয়নপত্র দাখিল ও আমদানি করা কাঁচামালে উৎপাদিত পণ্য সম্পূর্ণরূপে রপ্তানির পর তা অবমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখার ফলে আমদানি করা সুতা স্থানীয় বাজারে অবৈধভাবে বিক্রি কমবে। সুতা আমদানিতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে উত্তরণের পর রপ্তানিতে স্থানীয় মূল্য সংযোজন বাড়ানোর যে শর্তের কথা বলা হচ্ছে, তা পরিপালনও সহজ হবে।

প্রসঙ্গত, সুতা কতটুকু চিকন বা মোটা, তার ওপর এর কাউন্ট নির্ধারণ হয়। ১০ কাউন্টের সুতা মোটা এবং ৩০ কাউন্টের সুতা তুলনামূলক চিকন। বিভিন্ন কাউন্টের সুতা থাকলেও বাংলাদেশের পোশাক খাতে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতার ব্যবহার বেশি।

জুলাইয়ে বাণিজ্য ঘাটতি ২০৯ কোটি ডলার

০

আমদানি বাড়লেও কমেছে রপ্তানি আয়। এতে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২০৯ কোটি ডলার।
গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই মাসের এ ঘাটতি ছিল ১৫১ কোটি ডলার। তবে রেমিট্যান্সে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ফলে চলতি হিসাবে সাড়ে ছয় কোটি ডলার উদ্বৃত্ত রয়েছে। গত অর্থবছরের
একই সময়ে অবশ্য উদ্বৃত্ত ছিল সাড়ে ১২ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের জুলাই ভিত্তিক বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্য প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে আমদানিতে খরচ হয়েছে ৬৪৪ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি। অথচ রপ্তানি এক দশমিক ৬০ শতাংশ কমে ৪৩৫ কোটি ডলারে নেমেছে। এতে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। প্রথম মাসে রেমিট্যান্স প্রায় সাড়ে ১৫ শতাংশ বেড়ে ২৮৬ কোটি ডলার দেশে আসে। সব মিলিয়ে চলতি হিসাবে ছয় কোটি ৪০ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত হয়েছে। আগের অর্থবছরের প্রথম মাসে উদ্বৃত্ত ছিল সাড়ে ১২ কোটি ডলার।

আর্থিক হিসাবে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৮ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের জুলাইতে যা ৮৮ কোটি ডলার ছিল। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে বিদেশি ঋণ ও অনুদান কমেছে। সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আগের বছরের জুলাইয়ের তুলনায় এক কোটি ডলার কমে ১১ কোটি ডলার এসেছে। সব মিলিয়ে সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে ৬৩ কোটি ডলার ঘাটতি দাঁড়িয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যেখানে ঘাটতি ছিল ৫৪ কোটি ডলার।

বাঁধনের ওপর হামলা ভিন্নমত দমনের নজির: মহিলা জামায়াত

০

ইতালির ভেনিসে আজমেরী হক বাঁধন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর ছাত্রলীগ পরিচয়ে হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ। মঙ্গলবার বিবৃতিতে বলেছে, জুলাই অভ্যুত্থানে অভিনেত্রী বাঁধন ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে রাজপথে নেমেছিলেন। এমন একজনের ওপর হামলা শুধু ব্যক্তি আক্রমণ নয়, বরং ভিন্নমত দমনের ভয়ংকর নজির।

মহিলা জামায়াতের প্রচার বিভাগীয় সেক্রেটারি নাজমুন নাহার এমপি বিবৃতিতে বলেছেন, বিদেশের মাটিতে গিয়ে একজন নারী শিল্পী ও তাঁর পরিবারের ওপর এ ধরনের সংঘবদ্ধ হামলা, গায়ে ডিম-পানি নিক্ষেপ এবং প্রকাশ্যে হেনস্তা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য যত গভীরই হোক, তা কাউকে গায়ে হাত তোলার বা প্রকাশ্যে অপমান করার অধিকার দেয় না।

হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের জন্য ইতালীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মহিলা জামায়াত। ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসকে অবিলম্বে বাঁধন ও তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়াতেও আহ্বান জানিয়েছে।

অভিনেত্রী বাঁধন ও তাঁর পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে নাজমুন নাহার বলেছেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নারীর মর্যাদা ও নাগরিক নিরাপত্তার প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামী সবসময় সোচ্চার থাকবে।

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে মন্ত্রী-হুইপ স্পিকারের উষ্মা

০

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে একাধিক হুইপকে রাখা এবং প্রতিমন্ত্রীকে কমিটির সদস্য পদ দেওয়া নিয়ে সংসদের বৈঠকেই উষ্মা প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, কমিটির সভাপতি হবেন বেসরকারি সদস্য এবং মন্ত্রী পদে যারা আছেন তারা সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্য থাকবেন। বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে সতর্ক থাকতে চিফ হুইপকে অনুরোধ জানান স্পিকার।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি পাঁচটি সংসদীয় কমিটি গঠন ও দুটি পুনর্গঠন করেন। এরপর স্পিকার এই মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপনকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় সংসদের সরকারদলীয় চার হুইপকে চারটি সংসদীয় কমিটির সভাপতি করা হয়েছে।

এদের মধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাপতি করা হয়েছে হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলকে; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাপতি করা হয়েছে হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে; বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সভাপতি করা হয়েছে হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়াকে এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের সভাপতি করা হয়েছে হুইপ জি কে গউছকে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সদস্য পদ দেওয়া হয়েছে। রীতি অনুযায়ী মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা নিজ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য থাকেন, অন্যসব কমিটিতে তাদের সাধারণত রাখা হয় না।

চিফ হুইপের উদ্দেশে স্পিকার বলেন, কমিটি গঠনের স্পিরিট হলো কমিটির সভাপতি হবেন বেসরকারি সদস্য অর্থাৎ এমপিরা। কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সদস্য পদে প্রতিমন্ত্রী, হুইপ– এ ধরনের উচ্চপদস্থ এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু সংসদের প্রথা হলো বেসরকারি সদস্যরাই সদস্য পদে থাকবেন এবং মন্ত্রীও একজন সদস্য থাকবেন।

পাঁচ সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন
গতকাল আরও পাঁচ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির প্রস্তাবে কমিটিগুলো কণ্ঠভোটে পাস হয়।
জাতীয় সংসদের ৫০টি সংসদীয় কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত এবং ১১টি বিষয়ভিত্তিক। এর মধ্যে ৪৫টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যার মধ্যে ৩৬টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। বাকি ৯টি বিষয়ভিত্তিক।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহানকে। তিনি বেসরকারি সদস্যদের বিল এবং বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব সম্পর্কিত কমিটিরও সভাপতি। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে এ কে এম ফজলুল হক মিলনকে। রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে মোহাম্মদ আলী আসগার লবিকে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে এসএম রফিকুল ইসলামকে।

সীতাকুণ্ডে অস্ত্রের মহড়া দেওয়া তিনজন গ্রেপ্তার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মারামারি

০

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি কেন্দ্র করে দলের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়া দেওয়া তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা যায়নি।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন– মো. সাদেক আলী, কামরুল হাসান ও মো. হানিফ। গত সোমবার রাতে সাদেককে চট্টগ্রামের মিরসরাই, কামরুলকে চাঁদপুর এবং হানিফকে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ বলছে, তাদের কাছ থেকে একটি দেশি একনলা কাটা বন্দুক, ১১টি ধারালো ছুরি, তিনটি কিরিচ, একটি দা ও ১৫টি লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার দিন মো. সাদেক আলী ও সিরাজুল ইসলাম নামে দুই অস্ত্রধারীর ছবি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছাপা হয়। এর মধ্যে সাদেক গ্রেপ্তার হলেও সিরাজুল এখনও গ্রেপ্তার হননি। এ ছাড়া ঘটনার দিনের ছবি বিশ্লেষণ করে কামরুল হাসান এবং মো. হানিফের কাছেও অস্ত্র ছিল বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ। এ ছাড়া ঘটনার দিন হানিফ একটি ব্যাগ বহন করছিলেন। ওই ব্যাগেও অস্ত্র ছিল বলে সন্দেহ করছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে কামরুলের কাছে শুটারগান এবং হানিফের কাছে পিস্তল ছিল। গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিরা তাদের অস্ত্রগুলো হাত বদল করেছেন। সাদেকের কাছ থেকে একনলা বন্দুক উদ্ধার করা হলেও সেটি ভাইরাল হওয়া ছবিতে থাকা অস্ত্র নয়। সাদেক ও কামরুলকে নিয়ে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার দিন ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো উদ্ধার করার চেষ্টা করছেন তারা। আশা করছেন, খুব শিগগিরই উদ্ধার হবে। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

অস্ত্রধারীদের হাতে যে অস্ত্র ছিল, সেগুলো উদ্ধার করা যায়নি বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা অবৈধ অস্ত্রের প্রদর্শন কোনোভাবেই বরদাশত করবে না। অপরাধী যে দলের, যে গ্রুপের বা যে রাজনৈতিক পরিচয়ই ব্যবহার করুক না কেন–কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ঘটনায় জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হবে।

পুলিশ সুপার বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অতি গরম চা-কফিতে বাড়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি

০

সকালের এক কাপ গরম চা কিংবা ধোঁয়া ওঠা কফি—দিন শুরুর সঙ্গে অনেকেরই জড়িয়ে আছে এই অভ্যাস। কেউ আবার কাপ হাতে নিয়েই চুমুক দেন, পানীয়টি একটু ঠান্ডা হওয়ার অপেক্ষাও করেন না। কিন্তু খুব গরম অবস্থায় নিয়মিত চা-কফি পান করার এই অভ্যাসই ডেকে আনতে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত গরম পানীয় নিয়মিত পান করলে খাদ্যনালীর ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

কতটা গরম পানীয় ঝুঁকিপূর্ণ

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাটি ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ক্যান্সার’-এ প্রকাশিত হয়েছে। এতে ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রার পানীয়কে ‘খুব গরম’ হিসেবে ধরা হয়েছে। ৯ লাখ ৭৭ হাজার ২৮২ জন মধ্যবয়সী নারী ও পুরুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, দিনে ছয়বার বা তার বেশি গরম পানীয় পান করার অভ্যাসের সঙ্গেও এই ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে।

খাদ্যনালীর ক্ষতি হয় যেভাবে

অত্যন্ত গরম তরল পাকস্থলীতে যাওয়ার সময় খাদ্যনালীর ভেতরের কোষের আস্তরণে ক্ষতি করতে পারে। নিয়মিত এ ধরনের তাপের সংস্পর্শে আসা কোষের ক্ষতি ও প্রদাহের সঙ্গে খাদ্যনালীর ক্যান্সারের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। চা বা কফিতে দুধ মেশালে পানীয় কিছুটা ঠান্ডা হয়। তবে দুধ-চা বা দুধ-কফিও অতিরিক্ত গরম অবস্থায় থাকলে একই ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে।

কতক্ষণ অপেক্ষা করবেন

কেটলিতে পানি পুরোপুরি ফুটে যাওয়ার পর তৈরি করা চায়ের তাপমাত্রা প্রায় ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে। কাপে ঢালার পরও এর তাপমাত্রা প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকতে পারে। তাই পান করার আগে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে পানীয়কে আরামদায়ক তাপমাত্রায় নামিয়ে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে বলছে, পানীয় ঠান্ডা হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কত মিনিট অপেক্ষা করতে হবে, তা বলা কঠিন। তবে সংস্থাটির পরামর্শ হলো, খুব গরম অবস্থায় পানীয় না খেয়ে আরামদায়ক তাপমাত্রায় আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা।

গবেষকের বক্তব্য

প্রধান গবেষক ড. কেরেন পাপিয়ের জানান, দক্ষিণ আমেরিকায় ‘মাটে’ নামের অত্যন্ত গরম ভেষজ পানীয় পানকারীদের মধ্যেও গরম পানীয় ও খাদ্যনালীর ক্যান্সারের মধ্যে একই ধরনের সম্পর্ক আগে দেখা গেছে। তবে পানীয়ের ঠিক কোন তাপমাত্রা থেকে ঝুঁকি বাড়তে শুরু করে, তা নির্দিষ্ট করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। অন্য একটি গবেষণায় ১১৮ জন তরুণ-তরুণীকে বিভিন্ন তাপমাত্রার ব্ল্যাক কফি পান করানো হয়। এতে দেখা যায়, তাপমাত্রা ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী কফিকে অতিরিক্ত গরম মনে করেন।

কফির আদর্শ তাপমাত্রা

এমটিপ্যাক কফির তথ্য অনুযায়ী, বাইরে নিয়ে গিয়ে পান করার জন্য গরম কফির আদর্শ তাপমাত্রা ৪৯ থেকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। তবে কেউ যদি কফি দীর্ঘ সময় গরম রাখতে চান বা ‘অতিরিক্ত গরম’ কফি চান, সেক্ষেত্রে ৮২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায়ও কফি পরিবেশন করা হয়।

সামগ্রিক ঝুঁকি কতটা

গবেষকদের মতে, খুব গরম পানীয় পান করা বন্ধ করলে প্রতি ১০টি খাদ্যনালীর ক্যান্সারের মধ্যে একটি বা দুটি প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে। তবে স্কোয়ামাস সেল ইসোফেজিয়াল ক্যান্সার তুলনামূলকভাবে বিরল। যুক্তরাজ্যে একজন মানুষের জীবদ্দশায় এ ধরনের ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ১ শতাংশ। তাই অত্যন্ত গরম পানীয় পান করলে ঝুঁকি বাড়লেও ব্যক্তিগতভাবে এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ খাদ্যনালীর ক্যান্সারের আরও বড় ঝুঁকির কারণ। ক্যান্সার রিসার্চ ইউকের ফিওনা ওসগুন বলেন, এই ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো ধূমপান না করা এবং অ্যালকোহল গ্রহণ কমিয়ে আনা।

যে লক্ষণগুলো খেয়াল করবেন

খাদ্যনালীর ক্যান্সারের লক্ষণের মধ্যে বুক জ্বালাপোড়া, বদহজম, গলা বা বুকে ব্যথা এবং অকারণে ওজন কমে যাওয়া রয়েছে। এসব লক্ষণ দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

চা-কফির কাপ ছেড়ে দেওয়ার কথা নয়—শুধু অতিরিক্ত গরম অবস্থায় পান করার অভ্যাসটি বদলানোই গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক মিনিটের অপেক্ষা হয়তো খুব ছোট একটি পরিবর্তন, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য সেটিই হতে পারে সচেতনতার সহজ একটি পদক্ষেপ।

স্বামী-স্ত্রী ও নবজাতকের লাশ বাসায় ডেকে আনা ব্যক্তিই কেড়ে নেন তিন প্রাণ: পিবিআই

০

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় আলোচিত স্বামী-স্ত্রী ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধের তথ্য পাওয়ার কথা বলছে সংস্থাটি। হত্যাকাণ্ডের দিন নিহত আলমগীর কবিরই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বাসায় ডেকে এনেছিলেন বলে জানা গেছে। পরে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির একপর্যায়ে আলমগীর ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নাজমা খাতুনকে হত্যা করেন ওই ব্যক্তি। একই সঙ্গে সদ্য ভূমিষ্ট শিশুরও মৃত্যু হয়।

সম্পূর্ণ ক্লুলেস হিসেবে শুরু হওয়া এ ঘটনায় পিবিআই তদন্তের মাধ্যমে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় হত্যাকাণ্ডের আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বাপ্পী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঘটনার পরপরই পিবিআই তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম ও পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে না। হত্যাকাণ্ডের আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ ও বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাজমা খাতুনের সঙ্গে এক ব্যক্তির পরকীয়ার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। গত ১ সেপ্টেম্বর কারখানা ছুটির পর পোশাককর্মী নাজমা খাতুন ও তার স্বামী পান সিগারেট বিক্রেতা আলমগীর কবির বাসায় ফেরেন।

ধারণা করা হচ্ছে, আলমগীর কবির ওই ব্যক্তিকে বাসায় ডেকে আনেন। তাকে মারধর ও সতর্ক করার উদ্দেশ্যেই ডেকে আনা হয়েছিল বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে। পরে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির একপর্যায়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। একপর্যায়ে আলমগীর ও সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা নাজমাকে হত্যা করা হয়। এ সময় নাজমার প্রসব হয়ে যায় এবং নবজাতকটিও মারা যায়। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি মরদেহ তিনটি রেখে বাইরে থেকে ঘরে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যান বলে ধারণা করছে তদন্তকারী সংস্থা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আশুলিয়ার জামগড়ার চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক অনুসন্ধানে পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নিহত আলমগীর কবিরই ওই ব্যক্তিকে বাসায় ডেকে এনেছিলেন বলে জানা গেছে।

নাজমা স্থানীয় প্রীতি গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এবং আলমগীর পান সিগারেট বিক্রি করতেন। গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে আশুলিয়ার জামগড়ার হযরত আলীর বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ ফোন দেন। পরে পুলিশ গিয়ে কক্ষের তালা ভেঙে ভেতর থেকে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় নিহত নাজমার বোন শাপলা বেগম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে পিবিআই জিজ্ঞাবাদ করছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা জানার চেষ্টা করছে পিবিআইয়ের ওই তদন্তকারী দল।