Home Blog Page 20

স্বামী-স্ত্রী ও নবজাতকের লাশ বাসায় ডেকে আনা ব্যক্তিই কেড়ে নেন তিন প্রাণ: পিবিআই

০

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় আলোচিত স্বামী-স্ত্রী ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধের তথ্য পাওয়ার কথা বলছে সংস্থাটি। হত্যাকাণ্ডের দিন নিহত আলমগীর কবিরই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বাসায় ডেকে এনেছিলেন বলে জানা গেছে। পরে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির একপর্যায়ে আলমগীর ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নাজমা খাতুনকে হত্যা করেন ওই ব্যক্তি। একই সঙ্গে সদ্য ভূমিষ্ট শিশুরও মৃত্যু হয়।

সম্পূর্ণ ক্লুলেস হিসেবে শুরু হওয়া এ ঘটনায় পিবিআই তদন্তের মাধ্যমে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় হত্যাকাণ্ডের আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বাপ্পী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঘটনার পরপরই পিবিআই তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম ও পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে না। হত্যাকাণ্ডের আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ ও বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাজমা খাতুনের সঙ্গে এক ব্যক্তির পরকীয়ার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। গত ১ সেপ্টেম্বর কারখানা ছুটির পর পোশাককর্মী নাজমা খাতুন ও তার স্বামী পান সিগারেট বিক্রেতা আলমগীর কবির বাসায় ফেরেন।

ধারণা করা হচ্ছে, আলমগীর কবির ওই ব্যক্তিকে বাসায় ডেকে আনেন। তাকে মারধর ও সতর্ক করার উদ্দেশ্যেই ডেকে আনা হয়েছিল বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে। পরে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির একপর্যায়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। একপর্যায়ে আলমগীর ও সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা নাজমাকে হত্যা করা হয়। এ সময় নাজমার প্রসব হয়ে যায় এবং নবজাতকটিও মারা যায়। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি মরদেহ তিনটি রেখে বাইরে থেকে ঘরে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যান বলে ধারণা করছে তদন্তকারী সংস্থা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আশুলিয়ার জামগড়ার চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক অনুসন্ধানে পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নিহত আলমগীর কবিরই ওই ব্যক্তিকে বাসায় ডেকে এনেছিলেন বলে জানা গেছে।

নাজমা স্থানীয় প্রীতি গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এবং আলমগীর পান সিগারেট বিক্রি করতেন। গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে আশুলিয়ার জামগড়ার হযরত আলীর বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ ফোন দেন। পরে পুলিশ গিয়ে কক্ষের তালা ভেঙে ভেতর থেকে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় নিহত নাজমার বোন শাপলা বেগম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে পিবিআই জিজ্ঞাবাদ করছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা জানার চেষ্টা করছে পিবিআইয়ের ওই তদন্তকারী দল।

মা-নবজাতকের জন্য সেবা হাব গড়ার প্রস্তাব সমকাল-জননী গোলটেবিল বৈঠক

০

কয়েকটি ইউনিয়ন নিয়ে সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা হাব প্রতিষ্ঠা, ২৪ ঘণ্টা প্রাথমিক ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করা, কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা চালু করে মা ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবার গুণগতমান অর্জন ও টেকসই করা সম্ভব।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকাল সভাকক্ষে গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ‘মা ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা: গুণগতমান ও টেকসই উন্নয়নে করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, সরকারি কর্মকর্তা ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা এ সুপারিশ করেন।

আলোচনায় বক্তারা সরকারি সেবা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার, কৌশলগত ক্রয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে ২৪ ঘণ্টা রোগী পরিবহন সেবা চালুর পরামর্শ দেন। এসবের পাশাপাশি দক্ষ জনবল নিয়োগ ও ধরে রাখা, জরুরি সেবায় সমন্বিত যোগাযোগ ও কমান্ড ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিবীক্ষণ ও জবাবদিহির ওপর জোর দেন।

সমকাল ও জননী প্রকল্প যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করেছে। কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কোইকা) অর্থায়ন, সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তা এবং আরডিআরএস বাংলাদেশের মাধ্যমে রংপুর ও লালমনিরহাটে জননী প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জননী প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ডা. উজ্জ্বল কুমার রায়। আলোচনায় অংশ নেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. মো. নুরুল ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও সমন্বিত থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিচালক ডা. সৈয়দ কামরুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও গবেষণা) ডা. শাহনেয়াজ দেওয়ান, সেভ দ্য চিলড্রেনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. গোলাম মোদাব্বীর, আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ডা. শামস আল আরেফিন, ইউনিসেফের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক ডা. এমদাদুল হক, ইউএনএফপিএর এসআরএইচআর কর্মসূচি বিশেষজ্ঞ আবু সাইদ মোহাম্মদ হাসান, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও জেপাইগো বাংলাদেশ এমসিজিএল প্রকল্পের সিওপি ডা. ইখতিয়ার উদ্দিন খন্দকার, আরডিআরএস বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরুল কায়েস মুনিরুজ্জামান, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রোগ্রাম মনিটরিং, আইইএম ইউনিট) ইসরাত জাবীন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাবিনা আশরাফী লিপি, রংপুরের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক বিকাশ কুমার দাস, রংপুরের কান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ আজাদ জুয়েল, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও প্রধান মো. সাইফুল ইসলাম এবং লালমনিরহাটের পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজালাল।

আলোচনায় অংশ নিয়ে জননী প্রকল্প পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা। উপস্থিত ছিলেন জননী প্রকল্পের উপদেষ্টা নারে কিম ও তদারকি ও মূল্যায়ন পরিচালক সেই অয়ন কিম। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী।

আলোচকরা বলেন, জননী প্রকল্পের উদ্ভাবনী অভিজ্ঞতা সরকারি নীতিমালায় যুক্ত করা গেলে প্রান্তিক সেবার মান আরও বাড়বে। জননী প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই সরকারি মালিকানা প্রতিষ্ঠা এবং প্রকল্পের সফল মডেলগুলো জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় যুক্ত করার সুপারিশ করেন তারা।

মূল প্রবন্ধে ডা. উজ্জ্বল কুমার রায় বলেন, রংপুর বিভাগের দুর্গম এলাকা ও চরাঞ্চলের মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি চিহ্নিত করে তা দূর করাই জননী প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। বর্তমানে রংপুর ও লালমনিরহাটের ১৩টি উপজেলার ৪০টি ইউনিয়নে প্রথম পর্যায়ের কাজ চলছে। এ প্রকল্পের আওতায় ১৯ হাজারের বেশি স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে।

প্রকল্পটি ‘চার বিলম্ব মডেল’-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এগুলো হলো– একজন প্রসূতির স্বাস্থ্যসেবা নিতে দেরি করা, সেবা নেওয়ার জায়গায় পৌঁছানোর সমস্যা, সময়মতো মানসম্মত চিকিৎসার অভাব এবং জবাবদিহিতার অভাব। এই চারটি স্তর একসঙ্গে মোকাবিলা করে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই জননী প্রকল্পের কাজ।

রংপুরের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক বিকাশ কুমার দাস বলেন, মাঠ পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের প্রায় ৩০ শতাংশ পদ শূন্য থাকায় কার্যকর তদারকি করতে সমস্যা হচ্ছে। তিনি প্রতিটি উপজেলায় অন্তত একটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন ও কনসালট্যান্টের সহায়তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন।

ডা. আ. ন. ম. মোস্তফা কামাল মজুমদার বলেন, সারাদেশে তিন হাজার ২৯০টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে মাত্র একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা দিয়ে ২৪ ঘণ্টা সেবা চালানো বাস্তবে সম্ভব নয়। তিনি জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে চারজন করে মিডওয়াইফ পদায়নের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

ডা. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আঞ্চলিক চাহিদা অনুযায়ী ‘স্ট্র্যাটেজিক পারচেজিং’ বা কৌশলগত ক্রয় পরিকল্পনা জরুরি। প্রান্তিক পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা এবং কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে অনাকাঙ্ক্ষিত সিজারিয়ান কমানো সম্ভব।

ডা. সাবিনা আশরাফী লিপি বলেন, ২০২৫-২০২৯ মেয়াদের নতুন প্রকল্পের আওতায় প্রসূতি ও নবজাতকের পুষ্টি নিশ্চিত করতে আয়রন বড়ির পাশাপাশি ‘মাল্টিপল মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সাপ্লিমেন্ট’ চালু করা হবে। একই সঙ্গে লেবার রুম সংস্কার ও ফ্যাসিলিটি রেডিনেসের কাজও হাতে নেওয়া হয়েছে।

ডা. শামস আল আরেফিন বলেন, মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবায় পরিবর্তন আনতে জননী প্রকল্পের উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলো কীভাবে অন্য এলাকায়ও সম্প্রসারণ করা যায়, সে বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কী কী সীমাবদ্ধতা আছে, সেগুলোও চিহ্নিত করতে হবে। প্রকল্পের উদ্যোগগুলো সম্প্রসারণে সরকারের সঙ্গে একটি কার্যকর সম্পর্ক তৈরি করা জরুরি। কারণ সরকারেরও নানা সীমাবদ্ধতা আছে; সবকিছু চাইলেই পাওয়া যায় না।

চলচ্চিত্র অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা রংপুরের প্রত্যন্ত এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, কেন্দ্রগুলোর দেয়ালে গর্ভকালীন ও প্রসবোত্তর সেবা সম্পর্কে সহজ ভাষায় তথ্য দেওয়ায় মায়েরা উপকৃত হচ্ছেন। ‘জননী বন্ধু’ ও স্বজনদের উৎসাহে প্রসূতিরা বাড়িতে প্রসবের বদলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসছেন এবং বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় সাপ্লিমেন্ট পাচ্ছেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও জেপাইগো বাংলাদেশ সিওপি-এমসিজিএল প্রকল্পের ডা. ইখতিয়ার উদ্দিন খন্দকার বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে দক্ষ জনবলের বিকল্প নেই। উন্নয়ন সহযোগীরা সরাসরি জনবল না দিলেও প্রশিক্ষণ ও মেন্টরশিপের মাধ্যমে বিদ্যমান কর্মীদের সক্ষমতা বাড়াতে পারে। তিনি বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাতৃত্বকালীন ভাতা শুধু প্রথম গর্ভকালীন সেবা বা এএনসি-১-এর সঙ্গে যুক্ত না রেখে চতুর্থ এএনসি বা এএনসি-৪-এর সঙ্গেও যুক্ত করা দরকার।

জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) এসআরএইচআর কর্মসূচি বিশেষজ্ঞ আবু সাইদ মোহাম্মদ হাসান বলেন, দুর্গম এলাকায় সেবা নিশ্চিত করতে চারটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। শূন্য পদ দ্রুত পূরণ ও নতুন জনবল নিয়োগ, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, রেড-ইয়েলো-গ্রিন জোনভিত্তিক কার্যকর রেফারেল ও পরিবহনব্যবস্থা এবং মাতৃমৃত্যু নিরীক্ষার মাধ্যমে সেবার মান ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. সৈয়দ কামরুল ইসলাম বলেন, রেফারেল ব্যবস্থার জটিলতার কারণে তৃতীয় স্তরের হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি ‘হাব ফ্যাসিলিটি’ এবং আশপাশের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে ‘স্পোক’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তিনি জননী প্রকল্পে স্ট্র্যাটেজিক পারচেজিংয়ের মাধ্যমে অফিস সময়ের পরও গাইনি বিশেষজ্ঞ ও অ্যানেস্থেসিস্টদের সমন্বিত সেবা দেওয়ার উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

আরডিআরএস বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরুল কায়েস মুনিরুজ্জামান বলেন, সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য ভালো ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। ‘বন্ধু সেবা নেটওয়ার্ক’কে টেকসই করতে স্বেচ্ছাসেবীদের সামাজিক স্বীকৃতি এবং পারিবারিক সহায়তা নিশ্চিত করা দরকার। রেফারেলের পর রোগীর পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে মাঠকর্মীর কাছে তথ্য পৌঁছানোর ব্যবস্থা চালু করার পরামর্শ দেন তিনি।
ডা. গোলাম মুত্তাব্বির বলেন, স্বাস্থ্য খাতে শুধু জনবল নিয়োগ করলেই হবে না; তাদের পদায়ন, স্থায়ীকরণ এবং নীতিগত সংস্কারেও গুরুত্ব দিতে হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার আইনি জটিলতা কমানোর পাশাপাশি শহর ও প্রান্তিক এলাকার জনবল বৈষম্য দূর করতে হবে।

ইউনিসেফের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক ডা. এমদাদুল হক বলেন, নবজাতকের মৃত্যু কমাতে হলে সবার আগে মাতৃস্বাস্থ্যে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। ২০০৩ সাল থেকে হাসপাতালগুলোতে সমন্বিত জরুরি প্রসূতি সেবা চালুর পরিকল্পনা থাকলেও তা এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। নিরবচ্ছিন্ন জরুরি প্রসূতি সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি হাসপাতালে অন্তত ছয়জন গাইনি বিশেষজ্ঞ ও চারজন অ্যানেস্থেসিস্ট প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারের ভরসা ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

০

গ্যাস ও কয়লার সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে সরকার। স্বল্প মেয়াদে লোডশেডিং কমাতে দ্রুত উৎপাদনে আনা সম্ভব এমন কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চলতি মাসে তেলচালিত কেন্দ্র থেকে গড়ে দৈনিক প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এ লক্ষ্যে ৫৩ কেন্দ্রের জন্য এক মাসে ২ লাখ ৪ হাজার ১০০ টন ফার্নেস অয়েল চেয়েছে সংস্থাটি। ৫৩ কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৫ হাজার ৫৩৮ মেগাওয়াট। চাহিদার বিপরীতে চলতি মাসে ১ লাখ ৩৬ হাজার টন ফার্নেস অয়েল সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে এই পরিমাণও একবারে পাওয়া যাবে না; ধাপে ধাপে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

৬ হাজার কোটি টাকার জোগান
জ্বালানি সংকটের মধ্যে তেলচালিত কেন্দ্রগুলো চালাতে অর্থের সংস্থানও করেছে সরকার। ফার্নেস অয়েল কেনার জন্য গত সপ্তাহে পিডিবিকে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ বিভাগ। বিদ্যুৎ বিভাগ ও বাংলাদেশ প্রাইভেট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন (বিপ্পা) সূত্রে জানা গেছে, এর মধ্যে বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ৪ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি ১ হাজার ৩০১ কোটি টাকা জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছে।

এর মধ্যে সামিট গ্রুপের চারটি তেলভিত্তিক কেন্দ্রের জন্য ৫৩৩ কোটি এবং ইউনাইটেড পাওয়ারের চারটি কেন্দ্রের জন্য ৪৩৩ কোটি টাকা রয়েছে। এ ছাড়া ডোরিন গ্রুপ ৩৩৩ কোটি, অ্যাকর্ন গ্রুপ ২২৩ কোটি, ওরিয়ন ২২৩ কোটি, লংকা গ্রুপ ১২৩ কোটি, বারাকা পাওয়ার ২৩৩ কোটি, ইপিভি ঠাকুরগাঁও ও চট্টগ্রাম ১৯৬ কোটি, ইনডেক্স গ্রুপ ১০০ কোটি, আরপিসিএল ২০০ কোটি, বিআর পাওয়ারজেন ৪৫০ কোটি, আনলিমা এনার্জি ২২০ কোটি, মধুমতি বিদ্যুৎকেন্দ্র ৫০ কোটি, হোসাফ গ্রুপ ২০০ কোটি, দেশ এনার্জি ২২০ কোটি এবং মিডল্যান্ড গ্রুপ ২৪০ কোটি টাকা পেয়েছে।
সরকারি কেন্দ্রগুলোর তালিকাভুক্ত বরাদ্দের পরিমাণ ৫৯৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে তিতাসের ৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্র পেয়েছে ৫৪ কোটি টাকা। বাঘাবাড়ী ৫৯ কোটি, দোহাজারী ৬৪ কোটি, হাটহাজারী পিকিং প্লান্ট ১০১ কোটি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১০০ মেগাওয়াট কেন্দ্র ১২৬ কোটি, কাটাখালীর ৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্র ৪৩ কোটি, সান্তাহারের ৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্র ৩২ কোটি, ফরিদপুরের ৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্র ৩৮ কোটি এবং গোপালগঞ্জের ১০০ মেগাওয়াট কেন্দ্র ৮২ কোটি টাকা পেয়েছে।

আসছে বেসরকারি কেন্দ্রের তেল
পিডিবির কাছ থেকে অর্থ পাওয়ার পর কয়েকটি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ফার্নেস অয়েল আমদানি করছে। এরই মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ঋণপত্র খুলেছে। তবে এসব চালান দেশে পৌঁছাতে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। ফলে তাৎক্ষণিক তেল সরবরাহ বাড়ানোর ক্ষেত্রে এসব চালান খুব বেশি কাজে আসবে না।

মজুতও কম
৫ সেপ্টেম্বর দিন শেষে সরবরাহযোগ্য ফার্নেস অয়েলের মজুত ছিল মাত্র ১৪ হাজার ৭৫১ টন। মাসের বাকি সময়ে আরও ১ লাখ টন আমদানি এবং স্থানীয় উৎস থেকে ২৫ হাজার টন পাওয়ার কথা রয়েছে। বিপরীতে পিডিবির চাহিদা ২ লাখ ৪ হাজার ১০০ টন। ফলে চাহিদা পুরোপুরি মেটাতে আরও ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টন ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।
সেপ্টেম্বরের প্রথম পাঁচ দিনে সব খাত মিলিয়ে বিপিসি ৩১ হাজার ৯০২ টন ফার্নেস অয়েল বিক্রি করেছে। দৈনিক গড় বিক্রি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৩৮০ টনে। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের চাহিদার পাশাপাশি শিল্প খাতের সরবরাহও অব্যাহত রাখতে হচ্ছে বিপিসিকে।

বিপিসিরও আমদানি ও খালাস সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যমান অবকাঠামো দিয়ে মাসে সর্বোচ্চ প্রায় ১ লাখ টন ফার্নেস অয়েল আমদানি সম্ভব। এর বেশি আমদানিতে অতিরিক্ত অবকাঠামোগত সক্ষমতা প্রয়োজন। ফলে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে গেলে দ্রুত আমদানি বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে।

বন্ধ পাঁচ কেন্দ্রও চালুর উদ্যোগ
তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলায় আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া পাঁচটি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্রকে ‘বিদ্যুৎ নেই, টাকা নেই’ ভিত্তিতে চালানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ কেন্দ্রগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সরবরাহ করতে পারলেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অর্থ পরিশোধ করা হবে।

বাড়ছে সরকারের আর্থিক চাপ
গ্যাস ও কয়লার চেয়ে ফার্নেস অয়েল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বেশি। ফলে ঘাটতি সামাল দিতে তেলভিত্তিক কেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা বাড়লে পিডিবির বিদ্যুৎ কেনার খরচও বাড়বে। এর প্রভাব পড়বে সরকারের ভর্তুকির ওপর।

এরই মধ্যে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে সরকারের বকেয়া জমেছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় অনেক কেন্দ্র নিজস্ব অর্থে জ্বালানি কিনে উৎপাদন চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি
জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় সারাদেশে বেড়েছে লোডশেডিং। গতকাল মঙ্গলবার দিনভর জাতীয় গ্রিডে চাহিদার চেয়ে সরবরাহ ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৭৭৩ থেকে ২ হাজার ৮৪৪ মেগাওয়াট। সবচেয়ে বেশি ঘাটতি হয়েছে বেলা ৩টায়। ওই সময় ১৬ হাজার ১৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১৩ হাজার ১৭৪ মেগাওয়াট।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দেশে মোট ২ হাজার ৩২৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হয়েছে। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস ১ হাজার ৬২০ এবং এলএনজি ৭০৯ মিলিয়ন ঘনফুট। এই সরবরাহ দিয়ে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর চাহিদা পূরণ করা যায়নি।

বিকেল ৪টার দিকে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ৪ হাজার ৫২৮ মেগাওয়াট। ওই সময় ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৮৬১ মেগাওয়াট এবং কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৪ হাজার ৭২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। ভারত থেকে এসেছে ২ হাজার ১৫১ মেগাওয়াট। এর মধ্যে আদানির কেন্দ্র থেকে সরবরাহ ছিল ১ হাজার ২২০ মেগাওয়াট।

বক্স অফিসের পর ওটিটিতেও ধাক্কা খেল ‘টক্সিক’

০

বড় পর্দায় প্রত্যাশা অনুযায়ী সাড়া ফেলতে পারেনি ইয়াশের বহুল আলোচিত সিনেমা ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’। এবার সিনেমা ওটিটি স্বত্ব নিয়েও সামনে এসেছে হতাশাজনক খবর। মুক্তির আগে এর পোস্ট-থিয়েট্রিক্যাল স্ট্রিমিং স্বত্বের জন্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকার প্রস্তাব এসেছিল, বর্তমানে ছবির জন্য সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকার কাছাকাছি প্রস্তাব পাওয়া যাচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এখনো কোনো স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।

‘কেজিএফ’ সিরিজের পর যশের নতুন সিনেমা হিসেবে শুরু থেকেই ‘টক্সিক’ ঘিরে দর্শকের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। গীতু মোহনদাস পরিচালিত ছবিটিতে যশের সঙ্গে অভিনয় করেছেন নয়নতারা, কিয়ারা আদভানি, তারা সুতারিয়া ও হুমা কুরেশি। বড় বাজেটের এই গ্যাংস্টারধর্মী সিনেমাটি মুক্তির আগেই তৈরি করেছিল ব্যাপক প্রত্যাশা।

জানা যায়, প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগেই একটি বড় স্ট্রিমিং সংস্থা ‘টক্সিক’-এর সব ভাষার পোস্ট-থিয়েট্রিক্যাল ডিজিটাল স্বত্বের জন্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকা দিতে চেয়েছিল। তবে নির্মাতারা সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। বরং ২০০ কোটির বেশি অর্থে ডিজিটাল স্বত্ব বিক্রির লক্ষ্য ছিল তাদের।

এর পেছনে মূল কারণ ছিল বক্স অফিসে সিনেমাটির সম্ভাব্য সাফল্য নিয়ে নির্মাতাদের বড় প্রত্যাশা। ইয়াশের আগের সিনেমাগুলোর জনপ্রিয়তা এবং ‘কেজিএফ’ ব্র্যান্ডের প্রভাব বিবেচনায় ‘টক্সিক’ প্রেক্ষাগৃহে বড় অঙ্কের ব্যবসা করবে বলেই ধারণা করা হয়েছিল। সেই সাফল্যের ভিত্তিতে পরে আরও বেশি দামে ওটিটি স্বত্ব বিক্রি করা যাবে—এমন প্রত্যাশা ছিল।

কিন্তু মুক্তির পর সেই হিসাব মেলেনি। প্রথম দিনে অবশ্য জোরালো সূচনা করে ‘টক্সিক’। বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে সব ভাষা মিলিয়ে মুক্তির প্রথম দিনে সিনেমাটির নেট আয় ছিল প্রায় ১০১ কোটি ১০ লাখ টাকা। তবে পরবর্তী সময়ে দর্শক ও সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে দুর্বল হওয়ায় ছবিটির দৈনিক আয় দ্রুত কমতে থাকে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্তির ১২ দিন পর ভারতে ‘টক্সিক’-এর মোট নেট সংগ্রহ দাঁড়ায় প্রায় ২৪৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ফলে ছবির ডিজিটাল স্বত্বের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে নির্মাতাদের যে উচ্চ প্রত্যাশা ছিল, বক্স অফিসের ফলাফল তা অনেকটাই বদলে দিয়েছে।

এবার সেই প্রভাব পড়েছে ওটিটি স্বত্বের বাজারেও। খবর অনুযায়ী, বর্তমানে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘টক্সিক’-এর সব ভাষার পোস্ট-থিয়েট্রিক্যাল স্ট্রিমিং স্বত্ব কিনতে সর্বোচ্চ প্রায় ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। অর্থাৎ মুক্তির আগে পাওয়া ১৫০ কোটি টাকার প্রস্তাবের তুলনায় বর্তমান প্রস্তাব প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।

এই দৌড়ে এখন পর্যন্ত জি-ফাইভ এগিয়ে রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে প্ল্যাটফর্মটির সঙ্গে নির্মাতাদের চূড়ান্ত চুক্তি হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে বক্স অফিসে প্রত্যাশার ধাক্কার পর ‘টক্সিক’-এর ওটিটি স্বত্ব শেষ পর্যন্ত কত টাকায় বিক্রি হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

হামলার ঘটনার পর বাঁধন বললেন, ‘আমি এটার শেষ দেখে ছাড়ব’

০

ইতালির ভেনিসে সপরিবারে হামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া কয়েকজনকে দায়ী করেছেন তিনি। ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ ও বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানান বাঁধন।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বাঁধন জানান, তিনি বর্তমানে নিরাপদে আছেন ও হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নিতে নেবেন।

বাঁধন বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলে পরিচয় দেওয়া যারা, তারা এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। আমার জন্য আমার ছোট ভাইয়ের পরিবার ও তার ছোট্ট সন্তান যেভাবে আক্রমণের শিকার হয়েছে। এটা মেনে নেওয়ার মত নয়। আমি থানায় কেস ফাইল করবো। এখানকার অনেকের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমি কেস ফাইল না করে ভেনিস থেকে বাংলাদেশে আসছি না। এটার শেষ আমি দেখে ছাড়ব।’

বাঁধন জানান, ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ তাকে সহযোগিতা করেছে। এমনকি গত রাতে পুলিশ তাকে একটি নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। আজ বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে থানায় গিয়ে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

অভিনেত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে সমস্ত এভিডেন্স আছে এবং আমরা এরই মধ্যে অনেকজনকে আইডেন্টিফাই করেছি। বাংলাদেশ দূতাবাসের অ্যাম্বাসেডর আমাকে ফোন করেছেন। তাঁর অফিস থেকেও লোক এসেছে। তাদের সঙ্গে আমি থানায় যাচ্ছি কেস ফাইল করতে।’

ঘটনার পর দেশ ও দেশের বাইরে থেকে যারা তার খোঁজ নিয়েছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান বাঁধন। তিনি বলেন, ‘গতকাল থেকে ঘটনাটি ঘটে যাওয়ার পর অনেক মানুষ আমাকে ফোন করছেন, আমার খবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আমি কেমন আছি, কোথায় আছি—সব জানতে চাইছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমি ঠিক আছি।’

নিজের মানসিক দৃঢ়তার কথাও তুলে ধরেন বাঁধন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার মাথা কখনো নত করিনি। আমাকে ভেঙে ফেলা এত সহজ নয়। বাঁধন সাহস হারানোর জন্য জন্মায়নি।’

বাঁধন আরও বলেন, দেশের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থনে তিনি গর্বিত। তাঁর কথায়, ‘আমি মনে করি, আমি একজন গর্বিত বাংলাদেশি। কারণ আমার দেশের মানুষ আমার বিপদে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। এ জন্য সবার প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।’

২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকার বিষয়টিও নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেন বাঁধন। তিনি বলেন, ‘আমি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। আমি মনে করি, এটা আমার জীবনে নেওয়া কিছু সঠিক সিদ্ধান্তের মধ্যে একটি। আমি একজন গর্বিত জুলাইযোদ্ধা।’

তবে নিজের চেয়ে ছোট ভাই, তার স্ত্রী ও তিন বছরের শিশুর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাই তাঁকে বেশি নাড়া দিয়েছে বলে জানান বাঁধন। তিনি বলেন, ‘আমার ছোট ভাই, তার স্ত্রী এবং তার তিন বছরের বাচ্চা যেভাবে অ্যাসল্টেড ও হ্যারাসড হয়েছে, সেটার জন্য আমি মারাত্মকভাবে আপসেট।’

শেষে বাঁধন আবারও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দৃঢ়তার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আমি কেস ফাইল না করে ভেনিস থেকে বাংলাদেশে আসছি না। এটা শেষ, আমি দেখে ছাড়ব। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আমার জন্য দোয়া করবেন।’

স্কুলে ভর্তি হলো ব্রিটিশ রাজপুত্র, বছরে ফি ১ কোটি টাকার বেশি

০

ব্রিটিশ রাজপুত্র জর্জ (১৩) মঙ্গলবার থেকে মর্যাদাপূর্ণ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইটন কলেজে পড়াশোনা শুরু করেছে। প্রথমদিনে বাবা প্রিন্স উইলিয়াম ও মা ক্যাথরিন তাকে স্কুলে পৌঁছে দেন।

হালকা বৃষ্টির মধ্যে রাজ পরিবারের সদস্যরা বিশ্বখ্যাত স্কুলটিতে পৌঁছালে তাদের স্বাগত জানান প্রধান শিক্ষক সাইমন হেন্ডারসন। ভবিষ্যতের রাজাকে (জর্জ) উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘স্বাগতম, শুভকামনা। উপভোগ করো।’

বাবা উইলিয়ামের পর ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হবে জর্জ। ইটন কলেজে সে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করবে। এজন্য বছরে ৮৫ হাজার ডলার বা ১ কোটি চার লাখ টাকার বেশি ফি দিতে হবে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইটন কলেজ থেকে পারিবারিক আবাসস্থল (পশ্চিম লন্ডনের উইন্ডসর) কয়েক কিলোমিটার দূরে হলেও জর্জ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির আবাসিক ছাত্র হিসেবে থাকবে। এর মধ্যে দিয়ে সে বাবা উইলিয়াম ও চাচা প্রিন্স হ্যারির পথ অনুসরণ করছে। তারা দুজনই বার্কশায়ার কাউন্টিতে অবস্থিত এই কলেজে পড়াশোনা করেছেন।

যুক্তরাজ্যের অন্তত ২০ জন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল ইটন। তাদের মধ্যে আছেন বরিস জনসন ও ডেভিড ক্যামেরন। এছাড়া অভিনেতা টম হিডলস্টন থেকে শুরু করে জেমস বন্ড চরিত্রের স্রষ্টা ইয়ান ফ্লেমিংও এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছিলেন।

ব্রিটেনে দীর্ঘদিন ধরে কলেজটি অভিজাততন্ত্র ও শ্রেণিবৈষম্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। ১৪৪০ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন রাজা ষষ্ঠ হেনরি। এখানে মূলত ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সীরা পড়াশোনা করে। ওয়েবসাইট অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার ৩৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়।

পড়ালেখার মাঝপথেই আফগান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পাকিস্তান ছাড়ার নির্দেশ

০

পাকিস্তানে মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা আফগান শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির চিকিৎসা শিক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা পাকিস্তান মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (পিএমডিসি)। একই সঙ্গে পাকিস্তানের মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে নতুন করে আফগান শিক্ষার্থী ভর্তি, এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর ও মাইগ্রেশন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ করা হয়েছে।

পিএমডিসির এই নির্দেশের কারণে পাকিস্তানে পড়াশোনা করা আফগান শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যারা কয়েক বছর ধরে মেডিকেল শিক্ষার মাঝপথে রয়েছেন, তাদের পড়াশোনা শেষ না করেই দেশে ফিরতে হতে পারে।

পাকিস্তানের সরকারি ও বেসরকারি- দুই ধরনের মেডিকেল ও ডেন্টাল প্রতিষ্ঠানের জন্যই এ নির্দেশ প্রযোজ্য। গত ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে পিএমডিসি জানায়, পাকিস্তানে আগে থেকে ভর্তি থাকা আফগান নাগরিকদের আফগানিস্তানে ফিরে যেতে হবে। এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা, অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

আফগান শিক্ষার্থীদের তথ্যও পিএমডিসির কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। যারা ইতিমধ্যে পড়াশোনা শেষ করেছেন, তাদের স্নাতক হওয়ার তথ্য এবং পাকিস্তান ছাড়ার বিষয়টিও নথিভুক্ত ও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

পড়াশোনার মাঝপথে অনিশ্চয়তা
পিএমডিসির নির্দেশের প্রভাব এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দেখা যাচ্ছে। লাহোরের কিং এডওয়ার্ড মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে (কেইএমইউ) ২২ জন আফগান নাগরিক এ নির্দেশের আওতায় পড়েছেন। তাদের মধ্যে ২০ জন এমবিবিএস পড়ছেন। তারা দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ছয়জন শেষ বর্ষে রয়েছেন। অন্য দুজন সম্প্রতি পড়াশোনা শেষ করেছেন।

ফলে কয়েক বছর ধরে পাকিস্তানে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ ডিগ্রি শেষ করার আগেই পড়াশোনা বন্ধ করে দেশে ফিরতে বাধ্য হতে পারেন।

এর আগে চলতি মাসেই আফগানিস্তানের মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া ডিগ্রি পাকিস্তানে নিবন্ধন, লাইসেন্স বা পেশাগত কাজে স্বীকৃতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পিএমডিসি। সংস্থাটি জানায়, আফগানিস্তানের মেডিকেল ও ডেন্টাল প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের স্বীকৃত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নেই।

দুটি সিদ্ধান্তের ফলে পাকিস্তানে মেডিকেল শিক্ষায় যুক্ত আফগানদের ভর্তি থেকে শুরু করে পড়াশোনার মাঝপথ এবং ডিগ্রি শেষ করার পর পেশাগতভাবে কাজ করার ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্কে টানাপোড়েন
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে বেশ উত্তেজনাপূর্ণ। ইসলামাবাদ বারবার অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানসহ (টিটিপি) বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী পাকিস্তানে তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে কাবুল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা ও গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে। এর প্রভাব পাকিস্তানে থাকা আফগান নাগরিকদের জীবনযাপন, পড়াশোনা ও কাজের ওপরও পড়ছে।

এদিকে আফগান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের বিষয়ে সর্বশেষ সিদ্ধান্তের নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি পিএমডিসি। সংস্থাটি শুধু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীতিগত নির্দেশনা ও জাতীয় নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেছে।

বিপত্তি ছাড়া একীভূত পাঁচ ব্যাংকের অর্থ ফেরত শুরু

০

দুর্দশাগ্রস্ত পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু করেছে। অর্থ ফেরতের প্রথম দিন গতকাল সােমবার ৬ হাজার আবেদনের বিপরীতে ২৫০ কােটি টাকা উত্তোলন হয়। এ ছাড়া ফুল ও মিষ্টি দিয়ে গ্রাহকদের বরণ করা হয়। ঘোষিত স্কিমের বাইরে ব্যক্তি আমানতকারীদের আবেদনের ভিত্তিতে টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। প্রথম দিনে কোনো বিপত্তির খবর শোনা যায়নি।
ব্যক্তি আমানতকারীর প্রয়োজনীয় অর্থ ফেরত দিতে গত ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদনের সময় ছিল। চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের বাইরে মেয়াদি আমানতের টাকাও উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে কেউ মেয়াদি আমানতের পুরো অর্থ একবারে তুলে নিলে কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না। এসব শর্তের আলোকে মোট ৭৪ হাজার ২২১ আবেদনের বিপরীতে তিন হাজার ৯২৫ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন জমা হয়।

আবেদন গ্রহণের প্রথম দিন গত ১ সেপ্টেম্বর ১৮ হাজার ৪৬ আবেদনের বিপরীতে এক হাজার ৩২৯ কোটি টাকা উত্তোলনের চাহিদা দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দিনে ১৯ হাজার ৬১৩ আবেদনের বিপরীতে এক হাজার ১৬ কোটি, তৃতীয় দিন ২১ হাজার ৮৬টি আবেদনের বিপরীতে ৯২৩ কোটি এবং শেষ দিন রোববার ১৫ হাজার ৪৭৬টি আবেদনের বিপরীতে ৬৫৭ কোটি টাকা উত্তোলন করতে চাওয়া হয়।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, যারা ১ সেপ্টেম্বর আবেদন করেছিলেন গতকাল তাদের আসতে বলা হয়। তবে আবেদনকারীদের একটি অংশ আসেননি। কেউ কেউ জানিয়েছেন, আপাতত তারা টাকা তুলবেন না। মেয়াদি আমানতে মুনাফা দেওয়া হবে না এবং অর্থ ফেরত পেতে সমস্যা হবে না– এমন তথ্য পেয়ে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সমকালকে বলেন, চাহিদা অনুযায়ী টাকা ফেরত দিতে পারছে এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই হয়তো আস্থার কারণে টাকা তুলবে না। আবার একবারে কেউ মেয়াদি আমানতের টাকা তুলে নিলে মুনাফা পাবে না।

আমানত ফেরত দিতে যাতে সমস্যা না হয়, সে জন্য গত রোববার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ধার দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। টাকা ছাপিয়ে দেওয়ায় মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব পড়বে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতিতে হয়তো খুব সামান্য প্রভাব পড়তে পারে। টাকা তুলতে না পেরে গ্রাহকের আর্তনাদ বিবেচনায় তা অনেক কম। আবার ব্যক্তি পর্যায়ের এসব আমানতকারী টাকা তুলে একবারে খরচ করে ফেলবে না। বড় অংশ ব্যাংকেই ফিরে আসবে। হয় এসব বিবেচনা করে ব্যাংকটিকে বিশেষ ধার দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ দিন ধরে আমানতকারীর জমানো টাকা ফেরত দিতে না পারায় অন্তর্বর্তী সরকার এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে। ব্যাংক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এসব ব্যাংকের অবস্থা খারাপ হয়। এক্সিম ব্যাংক ছিল নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে। বাকি চার ব্যাংক ছিল বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের কর্তৃত্বে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়া হবে। এর বাইরে আমানত বীমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা দিয়ে এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পুরো অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরতের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি স্কিম ঘোষণা করেছে। ওই স্কিমের বাইরে ব্যক্তি আমানতকারীদের থেকে আবেদন নিয়ে এখন অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সমস্যাগ্রস্ত এই পাঁচ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংক এর আগে বিভিন্ন সময়ে মোট ৪৭ হাজার ৮৪ কোটি টাকার বিশেষ ধার দিয়েছে। সুদসহ এখন পাওনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা। আমানতকারীদের আস্থা ফেরাতে নতুন করে আরও পাঁচ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে ৫০ শতাংশ কোটা কমাল সরকার ন্যূনতম রপ্তানিমূল্য প্রতি কেজি ১.৬০ মার্কিন ডলার

০

দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বাজারে সম্ভাব্য মূল্যচাপ নিয়ন্ত্রণে সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে আগে অনুমোদিত ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ করা সুগন্ধি চাল রপ্তানির পরিমাণ অর্ধেকে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধিত বরাদ্দ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং অনুমোদনের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বহাল থাকবে।

সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে বৃহৎ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মাঝারি ও ক্ষুদ্র পর্যায়ের রপ্তানিকারকরাও আগের অনুমোদিত পরিমাণের অর্ধেকের বেশি সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পারবেন না।

রপ্তানিতে যুক্ত হচ্ছে ১০টি বাধ্যতামূলক শর্ত
কোটা কমানোর পাশাপাশি রপ্তানি কার্যক্রমে নজরদারি, জবাবদিহি ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ১০টি শর্ত আরোপ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. রপ্তানি নীতি ২০২৪–২৭-এর বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
২. সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
৩. প্রতিটি চালান রপ্তানির আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের মান ও সত্যতা যাচাই করবে।
৪. প্রতিটি কনসাইনমেন্ট জাহাজীকরণের পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে।
৫. ভবিষ্যতে নতুন রপ্তানি অনুমোদনের আবেদন করলে আগের অনুমোদিত কোটার বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রমাণ দিতে হবে।
৬. কোনো অবস্থাতেই সংশোধিত অনুমোদিত পরিমাণের বেশি চাল রপ্তানি করা যাবে না।
৭. আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য সুরক্ষায় প্রতি কেজি সর্বনিম্ন FOB রপ্তানিমূল্য ১.৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
৮. অনুমোদন সম্পূর্ণ অহস্তান্তরযোগ্য; সাব-কন্ট্রাক্ট বা অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রপ্তানি করা যাবে না।
৯. জনস্বার্থে সরকার যেকোনো সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই অনুমোদন বাতিল করতে পারবে।
১০. রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনের প্রমাণ হিসেবে PRC (Proceeds Realization Certificate) দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এর আগে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৪৫ হাজার ২শত ৭০ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান মোট ২ হাজার ৪ শত ১৯ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে সক্ষম হয়।

সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো, রপ্তানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ বাজারের সরবরাহ ও মূল্যস্থিতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সেই বিবেচনায় সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমানো এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে মূল্য, পরিমাণ, নথিপত্র ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসনসংক্রান্ত কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় রপ্তানিকারকদের অনুমোদিত সীমার মধ্যে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে এবং ভবিষ্যৎ অনুমোদনের ক্ষেত্রে আগের রপ্তানি-কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ হিসাব দিতে হবে। এর ফলে সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে একদিকে যেমন নিয়ন্ত্রণ বাড়বে, অন্যদিকে রপ্তানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও বাড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

সরকারের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করা নয়; বরং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিত ও টেকসইভাবে সুগন্ধি চাল রপ্তানি পরিচালনা করা।

ইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলার নিন্দা এনসিপি নেতাদের দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি

০

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। হামলার ঘটনায় তার প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেন, ইতালির ভেনিসের একটি পার্কে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা বাঁধনের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেছে। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ যে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, এ হামলা সেই পরাজিত ও নিষিদ্ধ রাজনৈতিক শক্তির পুরোনো সন্ত্রাসী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ।

তিনি আরও বলেন, ‘আজমেরী হক বাঁধন জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনে সাহসের সঙ্গে রাজপথে ছিলেন। দেশের মানুষের অধিকার ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশের দাবিতে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। সেই মানুষটির ওপর হামলা প্রমাণ করে, পরাজিত সন্ত্রাসী শক্তি এখনো প্রতিশোধ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতি থেকে বের হতে পারেনি। হামলা করে, ভয় দেখিয়ে কিংবা সহিংসতা চালিয়ে অরাজকতা করে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে দমিয়ে রাখা যাবে না। ইতালির মাটিতে বাংলাদেশের একজন নাগরিকের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দেশটির প্রচলিত আইনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে। আজমেরী হক বাঁধনের প্রতি আমাদের পূর্ণ সংহতি। জুলাইয়ের সহযোদ্ধাদের ওপর যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট।’

‘আমরা আপনাকে নিয়ে গর্বিত’
অন্যদিকে, অভিনেত্রী বাঁধনকে নিয়ে গর্ব প্রকাশ করে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম তার পোস্টে বলেন, দেশের মানুষকে স্বৈরাচারমুক্ত করার লড়াইয়ে এই অভিনেত্রীর সাহসী ভূমিকা প্রশংসনীয়।

তিনি বলেন, ‘আজমেরী হক বাঁধন, আমরা আপনাকে নিয়ে গর্বিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘‘যারা আপনাকে আক্রমণ করেছে, তাদেরকে আপনি ‘বাঙালি ভাই’ হিসেবে সম্বোধন করেছেন। তারা যতটা না বাঙালি ভাই, তার চেয়ে বেশি খুনিদের দালাল, বিবেকবোধ বিক্রি করে দেওয়া একেকটা নরপশু। খুনি হাসিনা যদি ওই চৌদ্দ শ’ মানুষের মতো তাদের সন্তানদের, ভাইদের খুন করত, তারপরও তারা খুনি হাসিনার দালালি করত, পা চাটত। এদের শুধু মানুষের মতো একটা দেহ আছে, মনুষ্যত্ব পচে গিয়েছে। এদের থেকে আপনি এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করবেন না। এসবের জন্য বিন্দুমাত্র কষ্ট পাবেন না। নরপশুদের থেকে এর চেয়ে ভালো আর কী প্রত্যাশা করা যায়?’’