Home Blog Page 197

চা নাকি কফি: কোনটি ভালো?

চা ও কফি দুটি পানীয়ই বিশ্বব্যাপী মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে অনেক সময় প্রশ্ন আসে, কোনটি শরীরের জন্য বেশি উপকারী? বিজ্ঞান ও গবেষণার আলোকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দুই পানীয়েরই নিজস্ব গুণ এবং উপকারিতা রয়েছে।

প্রাচীনকালে ব্রিটিশরা চা পানকে জনপ্রিয় করার জন্য নানা প্রচারণা চালিয়েছিল। বলা হত, চায়ে রয়েছে অসাধারণ স্বাস্থ্যগত উপকারিতা, যা ঠান্ডা জ্বর থেকে শুরু করে গা ব্যথা, এমনকি কলেরা পর্যন্ত মোকাবেলায় কার্যকর। যদিও তখনকার প্রচারণায় কিছু অতিশযোক্তি ছিল, আধুনিক গবেষণায় চায়ের অনেক উপকারিতাই প্রমাণিত হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী ৮ লাখ মানুষের ওপর এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত চা পান করেন, তাদের মধ্যে যকৃতের (লিভার) সিরোসিস এবং অন্যান্য যকৃত সংক্রান্ত রোগের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। এছাড়া ২০১৫ সালের এক মেটা-অ্যানালাইসিসে ২৩ হাজার ব্যক্তির ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা গেছে, দিনে তিন কাপ চা পানে বিষণ্ণতা কমে প্রায় ২৩ শতাংশ।

চায়ের আরও এক বড় উপকারিতা হলো স্ট্রোক এবং হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস। যারা দিনে তিন কাপ বা তার বেশি চা পান করেন, তাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে প্রায় ২১ শতাংশ। পাশাপাশি, একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, চা পানে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা কমে এবং গ্রিন টি পানের মাধ্যমে প্রস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, কফিতেও রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও মানসিক সতেজতা বৃদ্ধির গুণ, যা শরীর ও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী। তবে অতিরিক্ত কফি পানের কারণে অনিদ্রা, উদ্বেগ ও পেটের সমস্যা হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে থাকেন।

তবে এই সব তথ্য মূলত জরিপভিত্তিক ও পর্যবেক্ষণমূলক, যার দ্বারা সরাসরি চায়ের কারণে এসব উপকারিতা ঘটছে বলেই সুনির্দিষ্ট কিছু বলা কঠিন। ফলে, চা ও কফির মধ্যে কোনটি ভালো তা নির্ভর করে ব্যক্তিগত পছন্দ, স্বাস্থ্য অবস্থা ও গ্রহণের পরিমাণের ওপর।

শ্বশুরবাড়ি থেকে পাওয়া উপহারে দিতে হবে কর

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) উপহার বা দানের ওপর কর আরোপসংক্রান্ত বিধানে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু পরিবর্তন এনেছে। নতুন এই সংশোধনের ফলে কোন ক্ষেত্রে উপহার করমুক্ত থাকবে এবং কোন ক্ষেত্রে কর দিতে হবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

এনবিআর সূত্র জানায়, নির্দিষ্ট কয়েকটি পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে উপহার বা দান করলে তা করমুক্ত থাকবে। তবে এসব সম্পর্কের বাইরে কারও কাছ থেকে উপহার পেলে সেটি করের আওতায় পড়বে।

যাদের কাছ থেকে উপহার পেলে কর বসবে না

চার ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে উপহার বা দান সম্পূর্ণ করমুক্ত থাকবে। এ ক্ষেত্রে অর্থ, গয়না, জমি, ফ্ল্যাটসহ স্থাবর ও অস্থাবর সব ধরনের সম্পদই কর ছাড়াই হস্তান্তর করা যাবে। করমুক্ত সম্পর্কগুলো হলো—
১. স্বামী-স্ত্রী
২. মাতা-পিতা
৩. ছেলে-মেয়ে
৪. আপন ভাই-বোন

চলতি অর্থবছর থেকে করমুক্ত দান বা উপহারের তালিকায় আপন ভাই ও বোনকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এনবিআর। ফলে সহোদর ভাই-বোনের মধ্যে অর্থ বা সম্পদ লেনদেনে আর কর দিতে হবে না।

প্রবাসী বাংলাদেশিরা অনেক সময় ভাই-বোনের ব্যাংক হিসাবে রেমিট্যান্স বা উপহার হিসেবে অর্থ পাঠান। রেমিট্যান্স করমুক্ত হলেও উপহার হিসেবে পাঠানো অর্থ নিয়ে আগে কিছুটা অস্পষ্টতা ছিল। নতুন ব্যাখ্যায় বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, পাঁচ লাখ টাকার বেশি যেকোনো লেনদেন অবশ্যই ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে করতে হবে।

যাদের উপহারে কর দিতে হবে

এনবিআরের তালিকায় শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা করমুক্ত সম্পর্কের মধ্যে নেই। ফলে শ্বশুর-শাশুড়ি, শ্যালক-শ্যালিকা কিংবা শ্বশুরবাড়ির অন্য কোনো সদস্যের কাছ থেকে টাকা, গয়না, জমি বা ফ্ল্যাট উপহার হিসেবে পেলে সেটির ওপর কর দিতে হবে।

মোদ্দাকথা, স্বামী-স্ত্রী, মাতা-পিতা, সন্তান ও আপন ভাই-বোন ছাড়া অন্য যে কারও কাছ থেকে উপহার পেলে তা করযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

এনবিআর জানিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে শ্বশুরবাড়ি থেকে পাওয়া সম্পদ উপহার হিসেবে কর নথিতে দেখিয়ে অবৈধ অর্থ বৈধ করার অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়ম ঠেকাতেই করমুক্ত উপহারের পরিধি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

কীভাবে রিটার্নে দেখাবেন

এনবিআর সূত্র অনুযায়ী, করমুক্ত সম্পর্ক ছাড়া অন্য যে কারও কাছ থেকে উপহার পেলে তা সংশ্লিষ্ট করবর্ষের আয়কর রিটার্নে দেখাতে হবে এবং নির্ধারিত হারে কর পরিশোধ করতে হবে। একই সঙ্গে উপহারদাতাকেও তার আয়কর রিটার্নে উপহার দেওয়ার তথ্য উল্লেখ করতে হবে।

স্বর্ণের বাজারে বড় পতন, আজ থেকে নতুন দামে বিক্রি

দীর্ঘদিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর অবশেষে দেশের স্বর্ণবাজারে স্বস্তির খবর এলো। টানা ছয় দফা দাম বাড়ার পর স্বর্ণের মূল্য কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) থেকে সারা দেশে নতুন নির্ধারিত দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।
সবশেষ গত ২২ জানুয়ারি রাতে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ১৪৯ টাকা কমানো হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য হ্রাস পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৮ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম পড়বে ভরিপ্রতি ২ লাখ ৩৮ হাজার ৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৪ হাজার ৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ বিক্রি হবে ভরিপ্রতি ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৩৭ টাকায়।
বাজুস আরও জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার নকশা ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।
এর আগে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি স্বর্ণের দামে বড় ধরনের সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভরিপ্রতি ৮ হাজার ৩৩৯ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকায় উন্নীত করা হয়, যা ছিল দেশের ইতিহাসে স্বর্ণের সর্বোচ্চ মূল্য। সেই দামে ২১ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হয়েছিল ২ লাখ ৪০ হাজার ৯৭৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ৬ হাজার ৫৬৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৩ টাকা, যা কার্যকর হয়েছিল ২২ জানুয়ারি থেকে।
চলতি বছরে এ নিয়ে দেশের বাজারে মোট ১১ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হলো। এর মধ্যে ৮ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৩ দফা কমানো হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে সারা বছরে স্বর্ণের দাম সমন্বয় হয়েছিল ৯৩ বার, যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয় এবং ২৯ বার কমানো হয়।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামেও কমতি এসেছে। ভরিপ্রতি ৫২৫ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ভরিপ্রতি ৩ হাজার ৯০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলতি বছরে এ পর্যন্ত রুপার দাম ৮ দফা সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫ দফা বেড়েছে এবং ৩ দফা কমেছে। আর ২০২৫ সালে রুপার দাম সমন্বয় হয়েছিল মোট ১৩ বার এর মধ্যে ১০ বার দাম বেড়েছিল, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।

নির্বাচনের দিন ফজর নামাজ পড়বেন ভোটকেন্দ্রে-তারেক রহমান

এবার ও ভোট নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে,নির্বাচনের দিন ফজর নামাজ পড়বেন ভোটকেন্দ্রে,ধানের শীষ সরকার গঠন করলে, আমাদের তরুন সমাজে যুব সমাজে বেকার সমস্যা আছে,বেকার সমস্যা একটা বিরাট সমস্যা।বেকারদের জন্য ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করবো কর্মসংস্থান এর জন্য।দেশে যেনো একটা ব্যবসা করতে পারে এবং বিদেশে গিয়ে ভালো একটা কাজ করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার(২২জানুয়ারী)রাত ১০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্রাপাড়া খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন,ফ্যামেলি কার্ডের ব্যবস্থা করবো,পুরুষের পাশাপাশি মহিলাদের যদি সাপোর্ট থাকে তাহলে একটা ফ্যামিলি খুব ভালোভাবে চলতে পারে,সন্তানদের মানুষ করতে পারে,তাই গৃহিনীদের জন্য এই ব্যবস্থা করে দেবো,তাছাড়া কৃষকদের জন্য কৃষি থাকবে বিনামূল্যে সার,বীজ যেনো কৃষকেরা পায়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া১(নাসিরনগর)আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এমএ হান্নান,ব্রাহ্মণবাড়িয়া২(সরাইল আশুগঞ্জ এবং বিজয়নগর আংশিক)আসনে বিএনপির জোট প্রার্থী আল্লামা জুনায়েদ আল হাবিব,ব্রাহ্মণবাড়িয়া৩(সদর বিজয়নগর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব (শ্যামল),ব্রাহ্মণবাড়িয়া৪(কসবা আখাউড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুশফিকুর রহমান,ব্রাহ্মণবাড়িয়া৫(নবীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ মান্নান,ব্রাহ্মণবাড়িয়া৬ আসনে বিএনপি জোট প্রার্থী মোঃ জোনায়েদ সাকীসহ জেলা উপজেলার হাজারও নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণ।

ধামরাইয়ে এনসিপির কার্যালয় ভাঙচুর অভিযোগ, তবে ভাঙচুর নয় বলে দাবি ভবন মালিক ও পুলিশের

ঢাকার ধামরাইয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একটি নির্বাচনি কার্যালয় লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। তবে ভবন মালিক ও পুলিশ তা অস্বীকার করেছে। তারা বলছে, সেখানে কোনো লুটপাট বা ভাঙচুর হয়নি,অনুমতি ছাড়া নির্মাণাধীন ভবনে রাখা চেয়ার, টেবিল ও ব্যানার ভবন মালিক সরিয়ে রেখেছেন মাত্র। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ধামরাই উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের কালামপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়। পরে পুলিশ ও ভবন মালিকের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়।

এনসিপির দাবি অনুযায়ী, গত ২১ জানুয়ারি কালামপুর বাজার এলাকায় একটি ভবনের একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে সেখানে ব্যানার টাঙানো হয় এবং ১৫-২০টি চেয়ার ও কয়েকটি টেবিল দিয়ে কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়। তবে বৃহস্পতিবার এসে নেতাকর্মীরা দেখতে পান, কার্যালয়ের কোনো মালামাল নেই।

এনসিপির সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ অভিযোগ করেন, তাদের নির্বাচনি কার্যক্রম শুরুর আগেই একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে কার্যালয় ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। গতকাল রাত পর্যন্ত আমাদের অফিসে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। আজ এসে দেখি সব চেয়ার, টেবিল ও ব্যানার নেই, অফিস সম্পূর্ণ খালি।
তবে অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন ভবন মালিক মোঃ শামসুর রহমান। তিনি বলেন,ভবনটি এখনো নির্মাণাধীন। এনসিপিকে কোনো অংশ ভাড়া দেওয়া হয়নি। আমার অনুমতি ছাড়াই এখানে ব্যানার লাগানো হয়েছিল। তাই সেগুলো খুলে রেখে দিয়েছি। চেয়ার-টেবিল এখনো আমার হেফাজতেই আছে। কোনো লুটপাট বা ভাঙচুর হয়নি। তিনি আরও জানান, ভবন ব্যবহারের বিষয়ে এনসিপির কেউ তার সঙ্গে আলোচনা বা অনুমতি নেননি।

এদিকে, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর ধামরাই থানা পুলিশ জানায়, সেখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার আলামত পাওয়া যায়নি।

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নাজমুল হুদা খান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে জানতে পারি, ভবনের মালিক মালামাল পাশের একটি দোকানে সরিয়ে রেখেছেন।  বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।

এখন তিনি জানিয়েছেন, এনসিপিকে কার্যালয় করতে দেওয়ার বিষয়ে তার আপত্তি নেই। দোকান মালিক বুঝতে না পেরে সরিয়ে রাখেন। এখানে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি।

সরকারি পেনশনে বড় চমক—নবম পে-স্কেলে কারা পাচ্ছেন দ্বিগুণ পেনশন?

নবম জাতীয় পে-স্কেল প্রণয়নকে কেন্দ্র করে পূর্ণ কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভা শেষে কমিশন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত নতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের জন্যও উল্লেখযোগ্য সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে পে-কমিশনের এই সভা শেষ হয়।
সভা সূত্রে জানা গেছে, নবম জাতীয় পে-স্কেলে বিভিন্ন শ্রেণির পেনশনভোগীদের পেনশনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুপারিশ করা হচ্ছে। পেনশনপ্রাপ্তদের বর্তমান ভাতার পরিমাণ অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হারে এই বৃদ্ধি নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব পেনশনভোগী বর্তমানে মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের ক্ষেত্রে পেনশন দ্বিগুণ বা শতভাগ বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে। মাসিক ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য ৭৫ শতাংশ পেনশন বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। আর যাদের পেনশন ৪০ হাজার টাকার বেশি, তাদের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হচ্ছে।
এছাড়া প্রবীণ পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৫৫ বছরের কম বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা ৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
কমিশন সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘ আলোচনা ও সার্বিক পর্যালোচনার পর এসব সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়েছে। পে-কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়ার পর যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের মাধ্যমে নতুন বেতন ও পেনশন কাঠামো কার্যকর করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এসব সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে সরকারি পেনশনভোগীদের আর্থিক নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে তাদের জন্য বড় সহায়ক হবে।

ধর্ষণের অভিযোগে দু’জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

জামালপুর শিশু আদালত-১ এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মুহাম্মদ আব্দুর রহিম আজ বৃহস্পতিবার এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দুইজনকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে । সেই সাথে  প্রত্যেককে ৩ লাখ টাকা জরিমানাও করেছে। জরিমানার টাকা ভিকটিম প্রাপ্ত হবেন এই আদেশ দেন বিচারক।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, জামালপুর সদর উপজেলার ডেফালী বাড়ী গ্রামের আলাল উদ্দিনের ১৮ বছর বয়সী ছেলে মো. রিফাত হোসেন এবং গোপালপুর দামেশ্বর গ্রামের আব্দুল মান্নান আকন্দ বেলের ২৪ বছর বয়সী ছেলে মো. সাব্বির হোসেন আকন্দ ওরফে সেতু।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মোঃ ফজলুল হক সাংবাদিকদের জানায়, বিগত ২৬ জানুয়ারী ২০১৮ রাতে দশম শ্রেণির ছাত্রী তার বাড়ির কাছে কেন্দুয়া দেওয়ানীপাড়া এলাকার মাদ্রাসা মাঠে বাৎসরিক ইসলামিক সম্মেলন ও ওয়াজ মাহফিল শোনার জন্য ইসলামিক সম্মেলন অনুষ্ঠানে যায়। সেখানে যেয়ে সে ক্ষুধার্তবোধ করায় রাত ১১টার দিকে ভাপা পিঠা খাবার কিনতে সভার বাহিরে রাস্তায় যায়।  সেই সময় মোঃ সাব্বির হোসেন আকন্দ ও মোঃ রিফাত হোসেন তাকে জোর করে কাছের মেশিন ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর ভিকটিমের মা মোছাঃ নাজমা বেগম বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
পরে শিশু আদালত-১ (জেলা ও দায়রা জজ) এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম ৯জন সাক্ষির সাক্ষ গ্রহণ এবং প্রাসঙ্গিক নথিপত্র পরীক্ষা করে তাদের দোষী সাব্যস্ত করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০(সংশোধনী/০৩) এর ৯(৩) ধারায় সশ্রম কারাদন্ড এবং প্রত্যেককে তিন লক্ষ টাকা জরিমামানার আদেশ দেন। সরকার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন, এ্যাডভোকেট মোঃ ফজলুল হক পি.পি. এবং আসামী পক্ষে ছিলেন এ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নন।

বিড়ি নিয়ে ভাইরাল বক্তব্যে ২ কোটি ভোট বেড়েছে জামায়াতের

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত-সমালোচিত বক্তব্যকে নেতিবাচক নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে লাভজনক হিসেবে দেখছেন ঝালকাঠি-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. ফয়জুল হক। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক এক বক্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া ভাইরাল আলোচনা জামায়াতের পক্ষে নতুন করে বিপুল ভোটের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর প্রধান কার্যালয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম-মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতুকে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. ফয়জুল হক বলেন, “ফেসবুক ব্যবহারে আমাদের সতর্ক থাকতে হয়। কারণ আমরা যা করি বা বলি, সবই ভাইরাল হয়ে যায়। সেদিন একটি বক্তব্য দিয়েছিলাম যা নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে; অথচ ওই বক্তব্যের কারণে জামায়াতের ভোট বেড়েছে ২ কোটি।”

তিনি দাবি করেন, চায়ের দোকান বা সাধারণ মানুষের আড্ডাস্থলে গিয়ে কর্মীদের দাওয়াতি কর্মকাণ্ডের কথা বলতে গিয়ে তাঁর বক্তব্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “আমি বলেছি আমার কর্মীরা চায়ের দোকানে গেলে চা খাওয়া অবস্থায়ও দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দেবে। কেউ যদি বিড়ি খেয়েও থাকে, সেখানেও দাওয়াত পৌঁছাবে। এতে সমস্যা কোথায়? বিড়ি খাওয়া মানুষ কি আমাদের ভোট দেবে না? দাড়ি ছাড়া মানুষ কি ভোট দেবে না?”

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষের ভুল অভ্যাস পরিবর্তনের সুযোগ আল্লাহই দেন। আল্লাহ চাইলে কাউকে ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন। জান্নাত-জাহান্নাম সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষকে সংশোধনের জন্য।

ভাইরাল হওয়াকে নেতিবাচক না দেখে ড. ফয়জুল হক এটিকে রাজনৈতিক ‘ফ্রি মার্কেটিং’ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “এতে আমাদের জন্য কোটি টাকার মার্কেটিং হয়ে গেছে। দুই মিনিটের বক্তব্যই দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া এক ধরনের উপহার।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে আত্মবিশ্বাসী সুরে তিনি বলেন, কাঁঠালিয়া ও রাজাপুর ঘুরে মানুষের আগ্রহ দেখে তিনি নিশ্চিত যে ভোটাররা পরিবর্তন চায়। ভোটাররা বলছেন—সব দেখা হয়েছে, এবার ‘দাঁড়িপাল্লা’ দেখতে চাই। বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা ঘরে ফিরবেন না বলে ঘোষণা দেন তিনি।

কোয়ালিফায়ারে দুই কিউই তারকার ঝলক

ফাইনালের টিকিট পাওয়ার ম্যাচে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের দুই কিউই তারকা- শেন উইলিয়ামসন (ডানে) ও জিমি নিশাম

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলমান আসরে রাজশাহীকে ৬ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে দলটি। বুধবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান সংগ্রহ করেছে রাজশাহী। দলের হয়ে খেলেছেন কেন উইলিয়ামসন ও জিমি নিশাম। কিউই দুই তারকা ৬৮ রানের জুটি গড়েন।

উইলিয়ামসন ৪৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। অন্যদিকে নিশাম ৪৪ রানের ইনিংস খেলেন। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২.৩ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৭ রান করেছে সিলেট। ব্যাট হাতে দারুণ শুরু করে রাজশাহীর দুই ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান ও তানজিদ হাসান তামিম। পঞ্চম ওভারে পাকিস্তানি পেসার সালমান ইরশাদের বলে আউট হয়েছেন ফারহান। সাজঘরে ফেরার আগে ২১ বল খরচায় ৪টি চার ও এক ছক্কায় ২৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। এরপর ব্যাটিংয়ে নামেন কেইন উইলিয়ামসন। প্রথমবারের মতো বিপিএলে খেলতে এসেছন এই কিইউ তারকা। নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক এদিন সকালে ঢাকায় আসেন। রাজশাহী পাওয়ারপ্লেতে ১ উইকেট হারিয়ে তুলতে পারে ৬১ রান।

প্রতিদিন করলার রস পান করলে শরীরে যা ঘটে

করলার রস এমন একটি পানীয় যা অনেকের কাছেই তেমন আকর্ষণীয় নয়। তীব্র তেতো স্বাদের কারণে এটি এড়িয়ে চলেন অনেকে, তবে দীর্ঘদিন ধরেই করলার রস ঘরোয়া স্বাস্থ্যচর্চার অংশ হিসেবে পরিচিত, বিশেষত বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিদিন করলার রস পান করার প্রবণতা বেড়েছে। যদিও এর ফলাফল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত দ্রুত পরিবর্তনের মতো নয়, তবে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সঙ্গে মিললে এটি ধীরে ধীরে উপকার এনে দেয়।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, নিয়মিত করলার রস পান করলে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন হতে পারে—

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

করলার রসের অন্যতম বড় গুণ হলো রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখা। এতে থাকা চ্যারান্টিন ও পলিপেপটাইড-পি নামের উপাদান ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে শরীর শর্করা ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারে এবং অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকি কমে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে।

হজম ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে

করলার রস হজম এনজাইম সক্রিয় করতে সাহায্য করে, যা খাবার হজমকে সহজ করে। এর তেতো স্বাদ পাচনতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে এবং পেট ফাঁপা কমাতে সহায়তা করে। ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করে। তবে খালি পেটে বা অতিরিক্ত পরিমাণে পান করলে সংবেদনশীলদের অস্বস্তি হতে পারে।

কম ক্যালোরি ও ফাইবারসমৃদ্ধ করলার রস পেট ভরার অনুভূতি দেয়, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে। এটি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ধীরে ধীরে ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। তবে একে ওজন কমানোর একমাত্র উপায় না ভেবে সহায়ক অভ্যাস হিসেবে দেখা উচিত।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস

করলায় রয়েছে ভিটামিন সি ও বিভিন্ন পলিফেনল, যা শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত করলার রস পান করলে কোষের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়ে।

হরমোন ও বিপাকীয় ভারসাম্য রক্ষা করে

প্রতিদিন করলার রস পান করলে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত হতে পারে এবং খাবারের পর রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে যারা ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এছাড়া করলার রস প্রদাহ কমাতে এবং খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাসে সহায়তা করে, যা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে পারে।