Home Blog Page 198

রান্নার আগে মুরগি ধোয়া কি আসলেই নিরাপদ? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে আমরা সাধারণত সবকিছু পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়ার পক্ষপাতী। হাত ধোয়া থেকে শুরু করে ফলমূল বা সবজি—সবকিছুতেই পানির ব্যবহার আমাদের জীবাণুমুক্ত থাকার ভরসা জোগায়।

তবে মুরগির মাংসের ক্ষেত্রে এই চিরচেনা অভ্যাসটি উপকারের চেয়ে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করছেন খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

সাধারণত আমাদের ধারণা থাকে যে, ধুয়ে নিলে মাংসের উপরিভাগের জীবাণু চলে যায়, কিন্তু বাস্তবতা এর ঠিক উল্টো। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ কিম্বারলি বেকারের মতে, কাঁচা মুরগির গায়ে থাকা সালমোনেলা বা ক্যাম্পিলোব্যাক্টারের মতো বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া পানি দিয়ে ধুলে ধ্বংস হয় না; বরং ধোয়ার সময় পানি ছিটকে সিঙ্ক, কাটিং বোর্ড, ছুরি এবং অন্যান্য বাসনকোসনে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে।

সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) তথ্যমতে, বাজার থেকে কেনা মুরগির প্রতি ২৫টি প্যাকেটের অন্তত একটিতে ক্ষতিকর সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া থাকার সম্ভাবনা থাকে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মুরগি ধোয়ার পর সিঙ্ক পরিষ্কার করলেও অনেক সময় জীবাণু থেকে যায়, যা পরবর্তীতে অন্য খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে আমাদের অসুস্থ করে তুলতে পারে। তাই সহজ কথায় বলতে গেলে, রান্নার আগে মুরগি ধোয়া মানে পুরো রান্নাঘরে জীবাণু ছড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেওয়া।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুরগি পরিষ্কার করার জন্য পানি ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ আগুনের তাপেই এই জীবাণুগুলো ধ্বংস হয়।

তবে মুরগির চামড়া বা উপরিভাগের বাড়তি আর্দ্রতা দূর করতে চাইলে কিছু নিরাপদ পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। রান্নার আগে কিচেন টাওয়েল বা টিস্যুপেপার দিয়ে মুরগির গা আলতো করে মুছে নেওয়া যেতে পারে, যাতে বাইরের ভেজাভাব না থাকে। কাজ শেষে ব্যবহৃত টিস্যুটি দ্রুত ফেলে দিতে হবে এবং অবশ্যই হাত সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।

এছাড়া রান্নাঘরে মুরগি নিয়ে কাজ করার সময় কিছু বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। মুরগি ধরার আগে ও পরে হাত ধোয়া, প্লাস্টিকের কাটিং বোর্ড ব্যবহার করা এবং রান্নার পর ব্যবহৃত ছুরি ও বোর্ড ভালোভাবে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

সবশেষে মনে রাখা প্রয়োজন, মুরগির মাংসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় হলো সঠিক তাপমাত্রায় এটি রান্না করা। মাংসের ভেতরের তাপমাত্রা অন্তত ১৬৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট হলে তা জীবাণুমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই রান্নার আগে পানি দিয়ে ধুয়ে ঝুঁকি না বাড়িয়ে বরং সঠিকভাবে সেদ্ধ বা রান্না করাই পরিবারের সুস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

একটু সচেতনতা আর সঠিক নিয়ম জানলে সুস্বাদু খাবারের পাশাপাশি পরিবারের সবার সুস্থতাও নিশ্চিত করা সম্ভব।

কৃষিপণ্যের দামে অস্থিরতার নেপথ্যে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য: বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশে চাল, আলু, পেঁয়াজ, ব্রয়লার মুরগি ও ডিম—নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পাঁচ কৃষিপণ্যের দামে অস্বাভাবিক ওঠানামার প্রধান কারণ হিসেবে মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট, দুর্বল সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও অদক্ষ বাজার ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা বিভাগের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘ভ্যালু চেইন ইফিসিয়েন্সি অব এগ্রিকালচারাল প্রডাক্টস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ পাঠ করেন গবেষণা দলের প্রধান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা বিভাগের পরিচালক সেলিম আল মামুন।
দুই ধাপে গবেষণা, ১৮ জেলার মাঠতথ্য
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, গবেষণাটি দুই ধাপে পরিচালিত হয়। প্রথম ধাপ ২০২৫ সালের ৫ থেকে ১৬ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় ধাপ ১৫ জুন থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত। এ সময় ১৮টি জেলার ৬১টি উপজেলায় ‘পারপাসিভ র‍্যান্ডম স্যাম্পলিং’ পদ্ধতিতে ৪২৬ জন উত্তরদাতার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। আগস্ট মাসে গবেষণা প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত করা হয়।
চালের বাজার মিলারনির্ভর
গবেষণায় দেখা গেছে, বোরো মৌসুমে প্রতি মণ ধান উৎপাদনে কৃষকের গড় খরচ ৮৭২ টাকা হলেও কৃষকরা ধান বিক্রি করেছেন ১ হাজার ১২৫ থেকে ১ হাজার ৪৫০ টাকায়। কৃষক পর্যায়ে কিছু মুনাফা থাকলেও চালের বাজার পুরোপুরি মিলারনির্ভর হয়ে পড়েছে।
কৃষক পর্যায়ে প্রতি কেজি চালের দাম ৫০ টাকা হলেও খুচরা পর্যায়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৮ দশমিক ৫০ টাকায়। মিলাররা চালের পাশাপাশি তুষ ও কুঁড়া বিক্রি করে প্রতি মণে অতিরিক্ত গড়ে ১০৬ টাকা আয় করছেন, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
আলুর দামে সবচেয়ে বড় ধাক্কা হিমাগারে
আলুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় মূল্যবৃদ্ধি ঘটে কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার পর্যায়ে। কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ ১০ দশমিক ৬৩ টাকা হলেও কৃষক বিক্রি করেন ১৮ দশমিক ৪৪ টাকায়। হিমাগার থেকে বের হওয়ার সময় দাম দাঁড়ায় ২৮ দশমিক ৮০ টাকা এবং খুচরা বাজারে তা বেড়ে হয় ৪৫ দশমিক ৮০ টাকা।
গবেষণায় বলা হয়, হিমাগার গেট থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত মধ্যস্বত্বভোগীদের উচ্চ মুনাফাই আলুর দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি কেজিপ্রতি ৬ দশমিক ৭৫ টাকা হিমাগার ভাড়া কমানোর সুযোগ রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পেঁয়াজে সংকটের কারণ সংরক্ষণ দুর্বলতা:
পেঁয়াজের দামের ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও ওজন হ্রাসের বিষয়টি। কৃষক পর্যায়ে কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ ১৯ দশমিক ২৪ টাকা, বিক্রয়মূল্য ৪৬ দশমিক ৯৪ টাকা এবং খুচরা বাজারে দাম দাঁড়ায় ৮০ দশমিক ৭৫ টাকা।
দীর্ঘ সময় বাড়িতে সংরক্ষণে প্রতি মণ পেঁয়াজে প্রায় ১২ কেজি পর্যন্ত ওজন কমে যায়। ফলে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সময়ে সরবরাহ সংকট তৈরি হয় এবং দাম কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ১০০ টাকায় ওঠার আশঙ্কা থাকে। তবে গবেষণায় পেঁয়াজের বাজারে কোনো সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকটের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ব্রয়লার মুরগি ও ডিমে খামারিদের চাপ
ব্রয়লার মুরগির ক্ষেত্রে খামারিরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকি নিলেও মুনাফা খুবই সীমিত। কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ ১৬৩ দশমিক ৫৩ টাকা, খামারির বিক্রয়মূল্য ১৭২ দশমিক ১৮ টাকা এবং খুচরা বাজারে দাম ১৯৫ দশমিক ৩৩ টাকা। মোট ব্যয়ের প্রায় ৭৫ শতাংশই যায় খাবারের পেছনে। জরিপ চলাকালে অনেক খামারি কেজিপ্রতি ১২ টাকা পর্যন্ত লোকসান করেছেন।
ডিম উৎপাদনেও একই চিত্র দেখা গেছে। একটি ডিমের উৎপাদন খরচ ৯ দশমিক ৪৭ টাকা, খামারি বিক্রি করেন ১০ দশমিক ২৬ টাকায় এবং খুচরা বাজারে দাম দাঁড়ায় ১১ দশমিক ৭৭ টাকা। ডিম উৎপাদনের মোট খরচের প্রায় ৮৫ শতাংশই ফিডের জন্য ব্যয় হয়। অফ-সিজনে ছোট খামারিরা লোকসানে পড়লেও বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকে।
বাজার স্থিতিশীল রাখতে যেসব সুপারিশ
কৃষিপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—আলু ও পেঁয়াজের জন্য উন্নত ও বিকল্প সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, কৃষকদের জন্য নগদ সহায়তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, পশুখাদ্যের দাম নিয়মিত মনিটরিং এবং ক্ষুদ্র খামারিদের জন্য কন্ট্রাক্ট ফার্মিং মডেল চালু করা।

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা পাচ্ছেন মুনাফা

সমালোচনা ও আমানতকারীদের বিক্ষোভের মুখে আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে একীভূত করা পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের মুনাফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকদের চিঠির মাধ্যমে নতুন এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জনকণ্ঠকে বলেন,
“২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবছরের জন্য একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা মুনাফা পাবেন। আগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে পরিবর্তন আনা হয়েছে।”
তিনি জানান, দুই বছরের জন্য আমানতের ওপর ৪ শতাংশ হারে মুনাফা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, লোকসানের কারণে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সে সিদ্ধান্তকে ‘হেয়ারকাট’ হিসেবে উল্লেখ করে ব্যাংকগুলোর কাছে পাঠানো চিঠিতে বলেছিল, আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নীতি ও শরিয়াহ বিধান অনুযায়ী লোকসান হলে আমানতকারীদের মুনাফা দেওয়া যায় না।
আর্থিক সংকটে পড়া শরিয়াহভিত্তিক এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—এই পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ ডিসেম্বর “সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক” নামে নতুন একটি ব্যাংকের চূড়ান্ত লাইসেন্স দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রায়ত্ত এই নতুন ব্যাংকের ৩৫ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনের মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা।
এর আগে মুনাফা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছিল, রেজোল্যুশন স্কিমের সুষম বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চিঠিতে আরও উল্লেখ ছিল, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের আমানত স্থিতির ভিত্তিতে হিসাব পুনর্নির্ধারণ করা হবে এবং ১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সময়ের জন্য কোনো মুনাফা বিবেচনায় নেওয়া হবে না।
এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমানতের ওপর ‘হেয়ারকাট’ প্রযোজ্য হওয়ার কথা থাকায় শাখা পর্যায়ে আমানতকারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন শাখায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ শুরু হয়। এমনকি পরিস্থিতির চাপে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের টঙ্গী ও কুমিল্লার ধোরকারা বাজার শাখা সাময়িকভাবে বন্ধ করে শাখা ব্যবস্থাপকরা প্রধান কার্যালয়ে চিঠি দেন।
এই প্রেক্ষাপটে এক সপ্তাহের মাথায় আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে আমানতকারীদের মুনাফা দেওয়ার ঘোষণা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

স্বাধীনতাবিরোধীরা নতুন করে বলতে শুরু করেছে বাংলাদেশকে তৈরি করবে

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজ একটি দল কুৎসা রটাচ্ছে। এরা মানুষের ভোট পাবে না। এরা স্বাধীনতাবিরোধী। এরা নতুন করে বলতে শুরু করেছে বাংলাদেশকে তৈরি করবে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির প্রথম নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, একটি রাজনৈতিক কি ভোট পাবে, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করেনি। এরা নতুন করে বলতে শুরু করেছে বাংলাদেশকে তৈরি করবে। যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায় তাদের থেকে আমাদের সাবধান থাকতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের লড়াইয়ে জয় লাভ করতে হবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের সামনে গিয়ে যেতে হবে। তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক সুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিএনপি উদারপন্থি গণতান্ত্রিক দল, আমরা পিছনের দিকে তাকাই না। আমরা মাথা নত করি না।

ফখরুল বলেন, ‘দীর্ঘ ১৫ বছর গণতন্ত্রের জন্য মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, গুম হয়েছেন। কিন্তু মাথা নত করেনি। তারেক রহমানের আজকের যাত্রা নতুন বাংলাদেশের যাত্রা।’

যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায় তাদের থেকে আমাদের সাবধান থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব।

বৃহস্পতিবার থেকেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়। যে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে একাধিকবার নির্বাচনি জনসভা করেছিলেন খালেদা জিয়া, সেই মাঠ থেকেই এবার ভাষণ দেন তারেক রহমান।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শেখ ফরিদ

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে নতুন যে বার্তা দিল জাতিসংঘ

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একইদিন আবার জুলাই সনদের ওপর অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। এরই মধ্যে দেশজুড়ে বিরাজ করছে নির্বাচনি আমেজ; আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেছে প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারণা। বাংলাদেশের এই সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘ।

তবে, সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, নির্বাচনের জন্য এমন একটি অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যেখানে দেশের সব নাগরিক নির্ভয়ে ও শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারেন এবং কোনো বাধা ছাড়াই নিজের মত প্রকাশ করতে পারেন।

গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উপমুখপাত্র ফারহান হক এ কথা বলেন।

ব্রিফিংয়ে একজন সাংবাদিক বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তাকে প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশ এখন নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। আপনি জানেন, অন্তর্বর্তী সরকার ১২ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব এই নির্বাচনে এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রাখার বিষয়ে কোনো পরামর্শ দেবেন কি না?

জবাবে ফারহান হক বলেন, অবশ্যই, আমরা নির্বাচন আয়োজনকে উৎসাহিত করি। জাতিসংঘের পুরো ব্যবস্থায় আমরা এটি স্পষ্ট করে দিয়েছি যে নির্বাচনে এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে সব ব্যক্তি নির্ভয়ে ও শান্তিপূর্ণভাবে প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারেন এবং স্বাধীনভাবে ভিন্নমত প্রকাশ করতে পারেন।

এদিকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি পর্যবেক্ষক দল পাঠাতে যাচ্ছে কমনওয়েলথ। এই পর্যবেক্ষক দলের নেতৃত্ব দেবেন ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচ ই নানা আকুফো-আদো। তার সঙ্গে কমনওয়েলথভুক্ত বিভিন্ন দেশের রাজনীতি, আইন, গণমাধ্যম, জেন্ডার ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা যোগ দেবেন। পর্যবেক্ষক দলকে সহায়তা করবে কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট -এর একটি  দল, যার নেতৃত্বে থাকবেন ইলেক্টোরাল সাপোর্ট সেকশনের প্রধান ও উপদেষ্টা লিনফোর্ড অ্যান্ড্রুজ।

কমনওয়েলথের এই পর্যবেক্ষক দলের ম্যান্ডেট হলো নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা এবং নির্বাচন ও গণভোট বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে কি না—সে বিষয়ে একটি স্বাধীন মূল্যায়ন প্রদান করা। দলটি বাংলাদেশের জাতীয় আইনসহ যেসব মানদণ্ডে বাংলাদেশ নিজেকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করেছে, তার আলোকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরিচালনা সম্পর্কে প্রতিবেদন দেবে।

মিশন সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যবেক্ষক দল তাদের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশসম্বলিত একটি প্রতিবেদন কমনওয়েলথ মহাসচিবের কাছে জমা দেবে। পরবর্তীতে এই প্রতিবেদন বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দলসমূহ, সকল কমনওয়েলথ সরকার এবং সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হবে।

ক্ষমতায় গেলে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেবে বিএনপি: তারেক রহমান

ক্ষমতায় গেলে দেশের চার কোটি পরিবারকে ফ্যামেলি কার্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরিবারের প্রধান নারী সদস্য এই কার্ড পাবেন।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে সিলেটের একটি পাঁচ তারকা হোটেলের কনফারেন্স রুমে ‘দ্যা প্ল্যান, ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় তরুণদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, সত্যিকারের ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারলে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখতে পারে নাগরিকরা। শহরের উন্নয়ন বা পরিচ্ছন্ন রাখার জন্যও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রয়োজন।

বিএনপির চেয়ারম্যান জানান, বিদেশ গমনেচ্ছুদের জন্য বহুমাত্রিক দক্ষতা বাড়াতে কারিগরি শিক্ষা আধুনিকায়ন করবে বিএনপি। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা বলেন তারেক রহমান।

দেশের আনাচে কানাচে ঘুরে এবং গত ১৭ বছর সময় জুড়ে দেশকে নিয়ে ভাবনা থেকেই এসব পরিকল্পনার কথা ভেবেছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানসহ সিলেট বিএনপির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ: তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের স্বার্থই তাঁর রাজনীতির একমাত্র অগ্রাধিকার। অন্য কোনো দেশের নয়—সবার আগে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত নিজের প্রথম নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

জনসভায় তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ বছর ধরে দেশকে ভিন্ন রাষ্ট্রের স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। সেই বাস্তবতা থেকেই তিনি স্পষ্ট করে বলছেন—দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, কিংবা অন্য কোনো দেশ নয়; সবার আগে বাংলাদেশ। তাঁর অভিযোগ, উন্নয়নের নামে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে এবং সেই অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে দেশকে বের করে আনার লক্ষ্যেই বিএনপি পরিবর্তনের কথা বলছে।

তিনি আরও বলেন, বিগত বছরগুলোতে জনগণের ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও সংকুচিত ছিল। দীর্ঘ এই সময়ে ব্যালট ছিনতাই, ডামি প্রার্থী ও রাতের আঁধারে নির্বাচন—এমন অনিয়মের ঘটনা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তারেক রহমানের বক্তব্যে গুম-খুন ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিষয়টিও উঠে আসে। তিনি বলেন, যারা বাকস্বাধীনতা ও ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তারাই অসংখ্য মানুষকে নির্যাতনের শিকার করেছে। ইলিয়াস আলীর মতো বহু মানুষ নিখোঁজ ও হত্যার শিকার হয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালে লাখ লাখ মানুষের আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি হয়েছে। তাঁর ভাষায়, একাত্তরের স্বাধীনতাকে যেমন রক্ষা করা হয়েছিল, তেমনি ২০২৪ সালের গণতান্ত্রিক আন্দোলন স্বাধীনতার চেতনাকে আবারও শক্তিশালী করেছে।

তারেক রহমান সতর্ক করে বলেন, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র এখনো থেমে নেই। তবে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার কাজ অর্ধেক শেষ হয়েছে। এখন গণতন্ত্রের পথে পূর্ণাঙ্গ যাত্রা শুরু হবে বিএনপিকে বিজয়ী করার মধ্য দিয়ে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে ন্যায়বিচার ও সাম্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকারও করেন তিনি।

নারীদের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, অতীতে বিএনপি বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিল। ভবিষ্যতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে মা-বোনদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনাও রয়েছে দলের।

দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে জনসভার মঞ্চে ওঠেন তারেক রহমান। তাঁকে ঘিরে মুহূর্তেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে মাঠে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মঞ্চে ওঠার সময় তিনি হাত নেড়ে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান, আর উপস্থিত জনতাও একইভাবে তাকে স্বাগত জানায়।

এর আগে সকাল পৌনে ১১টায় কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। জনসভাকে ঘিরে কয়েক দিন ধরেই সিলেট নগরী ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বুধবার রাত থেকেই বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সভাস্থলে জড়ো হন। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় মাঠ।

তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে সিলেট নগরীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতায় জনসভাস্থল ও আশপাশের এলাকা কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে রাখা হয়েছে।

দেব-শুভশ্রীর বিয়ে হলে মন্দ হতো না: রাজ চক্রবর্তী

এক সময় টালিউডের সবচেয়ে আলোচিত জুটিগুলোর মধ্যে দেব ও শুভশ্রী ছিলেন অন্যতম। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের সম্পর্ক ভেঙে গেলেও, পর্দার জুটি হিসেবে তাদের জনপ্রিয়তা আজও অটুট। এখন দেব অবিবাহিত থাকলেও, শুভশ্রী সংসার বেঁধে দুটি সন্তানের মা; তার স্বামী পরিচালক রাজ চক্রবর্তী।
দূরদৃষ্টি বলছে, দেব–শুভশ্রী সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল পরিচালক রাজের ছবিতে কাজের সময়। সেই রাজকেই পরবর্তীতে জীবনের সঙ্গী হিসেবে বেছে নেন শুভশ্রী। বিয়ে ও পরিবারিক জীবনের মধ্যেও রাজ–শুভশ্রী জুটি টালিউডে সমানভাবে আলোচনায় রয়েছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাজ চক্রবর্তী অকপটভাবে বলেন, তিনি দেব–শুভশ্রীর প্রেমের সময়কাল কাছ থেকে দেখেছেন। সেই অভিজ্ঞতা স্মরণ করে রাজ বলেন, “এক সময় মনে হয়েছিল, দেব ও শুভশ্রীর বিয়ে হলে হয়তো ভালোই হতো। তবে জীবনের বাস্তবতা অন্যভাবে সাজানো ছিল।” রাজ আরও যোগ করেন, শুভশ্রী যেমন তার জীবনে এসেছে, ঠিক তেমনই তিনি ছিলেন শুভশ্রীর জীবনের জন্য নির্ধারিত।
রাজ নিজের দাম্পত্য জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং দেবকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। নেটিজেনরা প্রশংসা করেছেন রাজের পরিণত ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য, যা স্ত্রী ও অতীত সম্পর্কের প্রতি সচেতন ও পরিপক্ক মনোভাবের প্রতিফলন।
এদিকে, দেব ও শুভশ্রী আবারও পর্দায় জুটি বাঁধতে যাচ্ছেন। ‘ধূমকেতু’ ছবির সাফল্যের পর, তারা দেবের ৫১তম চলচ্চিত্র ‘দেশু ৭’-এ একসঙ্গে কাজ করবেন। সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে নিজেদের মুখেই এই খবর নিশ্চিত করেছেন তারা।
রাজের মন্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভশ্রী-রাজ দম্পতিকে ঘিরে প্রশংসার বন্যা বইছে। অনেকে মনে করছেন, তাদের দাম্পত্য জীবনের স্থিতিশীলতা ও গভীর বিশ্বাস রাজের কথায় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। শুভশ্রীও বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন, রাজের সঙ্গেই তিনি জীবনের কাঙ্ক্ষিত নিশ্চয়তা ও শান্তি খুঁজে পেয়েছেন।

ইলিয়াস কাঞ্চনের সবশেষ অবস্থা নিয়ে যা জানা গেল

একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা ও নিরাপদ সড়ক চাই’-এর প্রতিষ্ঠাতা চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বেশ কিছুদিন ধরে ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য লন্ডনে আছেন। দ্বিতীয় দফায় তার কেমোথেরাপি চলছে। এ থেরাপি চলবে আগামী মে মাস পর্যন্ত। এরপর জার্মানিতে নিয়ে গিয়ে একটি ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।

এরপর যদি তার শরীর অনেকটা ঠিকঠাক হয়ে যায় তবেই দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানালেন নিরপদ সড়ক চাইয়ের ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদ।

এদিকে ইলিয়াস কাঞ্চনের সহশিল্পীরাও আশায় বুক বেঁধে আছেন যে, চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে তিনি দেশে ফিরবেন। চিত্রনায়িকা চম্পা বলেন, ‘কাঞ্চন ভাইয়ের সঙ্গে বহু সিনেমায় অভিনয় করেছি। আল্লাহর কাছে দোয়া করি তিনি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠে তার পরিবারের কাছে ফিরতে পারেন।’

চিত্রনায়িকা শাবনাজ বলেন, ‘কাঞ্চন ভাই আমাদের চলচ্চিত্রের গর্ব। পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক চাই নিয়ে তিনি যুগের পর যুগ যে আন্দোলন করে গেছেন তা প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে দৃষ্টান্ত হয়েই থাকবে। আমি তার পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা কামনা করছি।’

চিত্রনায়িকা পপি বলেন, ‘কাঞ্চন ভাইয়ের সঙ্গে অনেক সিনেমায় অভিনয় করেছি। তিনি আমাকে খুব স্নেহ করতেন। নানা সময়ে তার কাছ থেকে নানা পরামর্শ নিয়েছি। নিঃসন্দেহে তিনি ভালো মনের একজন মানুষ। এমন একজন মানুষ আজ জীবন নিয়ে যুদ্ধ করছেন। তার এ যুদ্ধ যেন দ্রুত শেষ হয়ে যায় এ দোয়াই করছি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সুস্থ রাখুন- এমনটাই চাওয়া।’

মিশা সওদাগর বলেন, ‘কাঞ্চন ভাই সুস্থ হয়ে দ্রুত আমাদের মাঝে ফিরে আসুন এটাই আমাদের প্রত্যাশা। তিনি ভীষণ ভালো মনের একজন মানুষ এবং একজন গুণী অভিনেতা। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তার অনেক অবদান রয়েছে।’

১৯ দিনে প্রবাসী আয় ২৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকা

চলতি জানুয়ারির প্রথম ১৯ দিনে দেশে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে ২১২ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি টাকায় ২৫ হাজার ৯০০ কোটি ৬০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে)। এর মধ্যে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) প্রবাসী আয় এসেছে এক হাজার ২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

আরিফ হোসেন খান বলেন, গত বছরের জানুয়ারির প্রথম ১৯ দিনে প্রবাসী আয় এসেছিল ১৩৬ কোটি ১০ লাখ ডলার। এ সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫৬ শতাংশ। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয় এসেছে এক হাজার ৮৩৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রবাসী আয় এসেছিল এক হাজার ৫১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার।