Home Blog Page 2

ডিভি কর্মসূচি চালুর নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের, বাংলাদেশের সুযোগ অস্পষ্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) কর্মসূচি-২০২৭ চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির ক্যালিফোর্নিয়ার এক ফেডারেল আদালত। দীর্ঘদিন ধরে নিবন্ধন স্থগিত থাকায় কর্মসূচিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, আদালতের আদেশে তা কাটার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে নতুন করে নিবন্ধন শুরু হলেও বাংলাদেশিরা আবেদন করতে পারবেন কিনা, তা এখনও নির্ভর করছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপর।

গত ১৪ অক্টোবরের আদেশে আদালত বলেছেন, নিবন্ধনের সময়সূচি দ্রুত জানাতে হবে এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন গ্রহণ করতে হবে। ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ দিকে ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে দেয় মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, নিবন্ধনের তারিখ পরে জানানো হবে। একই সঙ্গে বলা হয়েছিল, নির্বাচিত ব্যক্তিদের ভিসার আবেদন করার সময় ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকবে। নিবন্ধন নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার পর আদালতের হস্তক্ষেপে প্রক্রিয়াটি আবার এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে প্রশাসন আপিল করলে কর্মসূচির সময়সূচি বা বাস্তবায়নে নতুন পরিবর্তন আসতে পারে।

১৯৯০ সালের মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যাক্টের মাধ্যমে ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির সূচনা হয়েছিল। এর লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক কমসংখ্যক অভিবাসী পাঠায় এমন দেশগুলোর নাগরিকদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়া। প্রতিবছর এ কর্মসূচিতে প্রায় ৫৫ হাজার ভিসা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে বরাদ্দের এই সংখ্যা শুধু লটারিতে নির্বাচিত মূল আবেদনকারীদের জন্য নয়; তাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদেরও এর আওতায় ধরা হয়।

ডিভি লটারিতে নাম উঠলেই যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পাওয়া নিশ্চিত হয় না। এটি মূলত অভিবাসনের জন্য আবেদন করার সুযোগ, সরাসরি স্থায়ী বসবাসের অনুমতি নয়। আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। প্রধান আবেদনকারীর অন্তত উচ্চ মাধ্যমিক সমমানের শিক্ষা থাকতে হয়। বিকল্প হিসেবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী কর্ম-অভিজ্ঞতাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

সাধারণভাবে আবেদন করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের চাকরির প্রস্তাব থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, অতীতে অভিবাসন আইন লঙ্ঘন এবং অন্যান্য প্রযোজ্য অযোগ্যতার বিষয় ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়।

বাংলাদেশিদের জন্য সিদ্ধান্ত এখনও অনিশ্চিত

ডিভি-২০২৭ নিয়ে আদালতের নির্দেশ এলেও বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণের প্রশ্নটির এখনও সমাধান হয়নি। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কর্মসূচির জন্য দেশভিত্তিক যোগ্যতার তালিকা প্রকাশ করেনি। ফলে বাংলাদেশ এবার আবেদন করতে পারবে কিনা, তা নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই।

ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচিতে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে অযোগ্য দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনসংক্রান্ত একটি নির্দিষ্ট নিয়ম কাজ করে। নিয়ম অনুযায়ী, আগের পাঁচ বছরে কোনো দেশ থেকে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে গেলে সেই দেশের নাগরিকরা ডিভি কর্মসূচিতে আবেদন করার যোগ্যতা হারান।

বাংলাদেশিরা সর্বশেষ ২০১২ সালের দিকে এ কর্মসূচিতে আবেদন করার সুযোগ পেয়েছিলেন। এর পর বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীর সংখ্যা নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় দেশটিকে ডিভি লটারি থেকে বাদ দেওয়া হয়।

তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল

এদিকে, ডিভি লটারির নিবন্ধন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতির কঠোর প্রয়োগের আরেকটি চিত্র সামনে এসেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁর প্রশাসন তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে বলে গত মঙ্গলবার জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত এক হালনাগাদ তথ্যে দপ্তরটি জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর তখন পর্যন্ত এক লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বাতিলের সংখ্যা আরও দ্রুত বেড়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষার অংশ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক মাধ্যম এক্সে সর্বশেষ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে বলেন, আগের যে কোনো প্রশাসনের তুলনায় ট্রাম্প প্রশাসন অনেক দ্রুত বিপুলসংখ্যক ভিসা বাতিল করেছে।

এসব পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন অধিকারকর্মীরা। তাদের মতে, ভিসা বাতিলের কিছু ঘটনা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও বাক্স্বাধীনতার অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের নীতির কারণে জাতিগত সংখ্যালঘুরা নিজেদের পরিচয়ের জন্য বৈষম্যের শিকার হতে পারেন।

বিক্ষোভে অচল ফ্রান্স, অর্থনীতি চাপে সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা আলোচনার জন্ম দিয়েছে

ফ্রান্সে বিক্ষোভ ও দাঙ্গা ঘিরে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। সহিংসতা ও ভাঙচুরের পাশাপাশি রাজনৈতিক দায়, বিক্ষোভের পেছনে কারা রয়েছে এবং সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা ইত্যাদি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাঙ্গার দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনশিল্পেও উদ্বেগ বাড়ছে। বড় বড় শহরে হোটেল বুকিং দুর্বল হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে পর্যটন আয়েও বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এই অস্থিরতার পেছনে কারা রয়েছে, তা নিয়ে ফ্রান্সে একাধিক তত্ত্ব সামনে আসছে। কেউ বামপন্থি ও নৈরাজ্যবাদী গোষ্ঠীকে দায়ী করছেন, আবার কেউ সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এসবের মধ্যেই দেশটির আর্থিক সংকট ও রাজনৈতিক বিভক্তি সরকারের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

দাঙ্গার প্রকৃত কারণ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট ইয়েল ব্রাউন-পিভে ঘটনাগুলো এবং সেগুলো কীভাবে সংগঠিত হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে সংসদীয় তদন্তের প্রস্তাব দিয়েছেন। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ শনিবারের সহিংসতার জন্য উগ্র বামপন্থিদের দায়ী করেছেন। তবে এলএফআই নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ এ অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে, শনিবার তিন হাজারের বেশি দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার বড় অংশই সুযোগসন্ধানী ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। লুট করা পণ্য অনেকে দ্রুত অনলাইনে বিক্রির চেষ্টা করে। কেউ কেউ মুখও ঢাকেনি। পুলিশ সিসিটিভি ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও পরীক্ষা করছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেছেন, সহিংসতা ও চুরির ঘটনায় দায়ী সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ
দাঙ্গার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় সহিংসতা আরও ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট দেখে কেউ কেউ সহিংসতায় যোগ দিতে আশকারা পেতে পারে– এমন ধারণার ভিত্তিতে ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল আত্তাল নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সামাজিক মাধ্যম সাময়িক বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

ফ্রান্সে দাঙ্গা দমনে সরকারের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। সিএনএনের বিশ্লেষণ বলছে, দাঙ্গার কারণ ও দায় নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি ফ্রান্সের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দেশটি এমন এক রাজস্ব সংকটের মুখোমুখি, যেখানে অতিরিক্ত ব্যয় ও ঋণের বোঝা সামলানো কঠিন হয়ে উঠেছে। ঋণ পরিশোধের সময় ঘনিয়ে আসার পাশাপাশি জ্বালানির দাম ও বন্ডের সুদের হার বাড়ায় সরকারের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে কর বাড়ানো এবং সরকারি ব্যয় কমানোর মতো পদক্ষেপ বিবেচনায় আসতে পারে। কিন্তু দুটি সিদ্ধান্তই রাজনৈতিকভাবে অজনপ্রিয়।

পর্যটনশিল্পে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা
ফ্রান্সের দাঙ্গার ছবি ও ভিডিও বিশ্বজুড়ে প্রচারিত হওয়ায় দেশটির পর্যটনশিল্পে উদ্বেগ বাড়ছে। পর্যটন খাতের প্রতিনিধিদের আশঙ্কা, সহিংসতা আবার শুরু হলে এর প্রভাব আরও গুরুতর হতে পারে।

দেশটির পর্যটন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা এডিএন ট্যুরিজমের প্রধান ক্রিস্তেল কাসানিয়ে বলেন, নিস, প্যারিস ও লিওঁর কেন্দ্রস্থলে সহিংসতার ঘটনা ‘বিপর্যয়কর’। তিনি জানান, দাঙ্গার দৃশ্য পর্যটকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন বলছে, সামাজিক মাধ্যমে অনেক ভ্রমণবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতাকে ‘প্যারিস কি নিরাপদ’– এমন প্রশ্ন তুলতে দেখা যাচ্ছে। প্যারিসে থাকা কিছু পর্যটক শহর ছাড়ার কথা ভাবছেন।

গাজীপুরে গভীর রাতে আগুনে পুড়ল মসজিদ, দোকানপাট ও গুদাম

গভীর রাতে আগুনে পুড়েছে মসজিদ, দোকানপাট ও বিভিন্ন পণ্যের গুদাম। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঝুট ও তুলার গুদাম, স্যানিটারি দোকান, মুরগির দোকানসহ একটি ভাঙারির দোকানও। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার চন্নাপাড়া গ্রামের ২ নম্বর সিঅ্যান্ডবি বাজারে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নুরুল করিম বলেন, ‘রাত ৩টা ৫৫ মিনিটের দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাই আমরা। খবর পেয়ে শ্রীপুর ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তবে আগুনের ভয়াবহতা বাড়তে থাকায় পরে শ্রীপুর ফায়ার স্টেশনের আরও একটি ইউনিট এবং রাজেন্দ্রপুর মডার্ন ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট কাজে যোগ দেয়।’

তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভোর ৫টা ৪৮ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

অগ্নিকাণ্ডে ঝুট ও তুলার গুদাম, স্যানিটারি দোকান, কয়েকটি মুরগির দোকান, ভাঙারির দোকানসহ একটি মসজিদ পুড়ে গেছে। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের পর জানা যাবে।

ভারতে মুসলিমদের বাড়িঘর উচ্ছেদের নিন্দা নাহিদ ইসলামের

০

ভারতের আসামে বাঙালি মুসলিমদের এক হাজার ১০০টির বেশি ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ায় উদ্বেগ এবং তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদের অধীনে ভারত মুসলিম, খ্রিষ্টান ও শিখসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং নিম্নবর্ণের হিন্দুদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারতের মুসলিমরা দেশটির নাগরিক। তারাও ভারতীয়। আসামে সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানে বাঙালি মুসলিমদের এক হাজার ১০০টির বেশি ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ১০টির বেশি মসজিদও ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে কয়েকটি মসজিদ ৫০ বছরেরও বেশি পুরোনো।

তিনি বলেন, সরকারি ও বনভূমি থেকে কথিত অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের যুক্তি দেখালেও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবারের ওই অঞ্চলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি ভারতের স্বাধীনতার আগেও তারা এসব এলাকায় বসবাস করে আসছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না করেই তাদের গৃহহীন করা হয়েছে। এসব পরিবারের কয়েকজনকে আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। ভারতে বাঙালি মুসলিমদের প্রতি বৈষম্য ও নিপীড়নের ধারাবাহিকতার অংশ এই উচ্ছেদ অভিযান। হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রভাবে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গত এক দশকে দেশটিতে প্রায় ১৯ হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বছরের পর বছর ভারতের বাঙালি মুসলিমরা দমন-পীড়ন, জোরপূর্বক সীমান্তের ওপারে ঠেলে দেওয়া এবং ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার মতো ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে মুসলিম সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা তাদের অধিকার ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। আসামের উচ্ছেদ অভিযানের সঙ্গে ১৯৯২ সালে ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনার তুলনা করে নাহিদ বলেন, ওই ঘটনা ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের স্থায়ী প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মুসলিমদের ওপর নিপীড়নের বিষয়টি অবিলম্বে আমলে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত হানায় ভারত সরকারকে অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। জাতি, ধর্ম বা সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচার ও সমতার নীতি বজায় রাখতে হবে।

সৈকতে পর্যটকের ঢল

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা ছুটিতে কক্সবাজার ও কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে পর্যটকের ঢল নেমেছে। সাগরের নীল জলরাশি আর ঢেউ দেখার টানে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা। বিপুল লোকসমাগম ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা।

কক্সবাজার শহরের হোটেল, গেস্টহাউস ও কটেজগুলোতে চাপ বেড়েছে। হোটেলমালিকরা বলছেন, ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর পর্যটক আসা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই শঙ্কা কেটে পর্যটকের ভিড় বেড়েছে। দুর্গাপূজা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি মিলিয়ে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ১০ দিনে কক্সবাজারে ১০ লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম হতে পারে। এ সময়ে পর্যটনসংশ্লিষ্ট খাতে ৯০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসার আশা করছেন তারা।

হোটেলমালিক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার অন্তত তিন লাখ পর্যটক সৈকত ভ্রমণ করেছেন। রোববার থেকে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাঁচ দিন সরকারি ছুটি। এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর সাপ্তাহিক এবং ২৫ অক্টোবর লক্ষ্মীপূজার ছুটি। এই দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
কক্সবাজার হোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, তারকামানের ২০টির বেশি হোটেলে প্রায় ৯৫ শতাংশ কক্ষ এবং মাঝারি আকারের হোটেল, গেস্টহাউস ও কটেজের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়েছে। অবশিষ্ট কক্ষগুলোও এক-দুই দিনের মধ্যে বুকিং হয়ে যেতে পারে। এবার কক্ষভাড়ায় কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে প্রশাসন তদারকি করছে।

গতকাল বুধবার সকালে সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে আনন্দঘন সময় কাটাচ্ছেন পর্যটকরা। কেউ সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করছেন, কেউ ছবি তুলে স্মরণীয় করে রাখছেন ভ্রমণের মুহূর্ত। অনেকে ঘোড়া, বিচবাইক ও জেটস্কিতে চড়ার পাশাপাশি সাগরে গোসল করছেন। কেউ বালুচরে ছাতা-চেয়ারে বসে সমুদ্র দেখছেন। অনেকে ঘোড়ার পিঠে বা বিচবাইকে ঘুরছেন। দক্ষিণের সুগন্ধা ও কলাতলী সৈকতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়।

সুগন্ধা পয়েন্টে কথা হয় ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার ব্যবসায়ী রাসেল চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি স্ত্রী ও এক সন্তানকে নিয়ে মঙ্গলবার রাতে কক্সবাজার আসেন। কলাতলীর একটি হোটেলে ওঠার পর সকালে সুগন্ধা সৈকতে যান। সেখানে মানুষের ভিড় দেখে পরিবার নিয়ে চলে আসেন লাবণী পয়েন্টে। রাসেল বলেন, লাবণী পয়েন্টেও হাজারো মানুষের সমাগম দেখেছেন।
তারকামানের হোটেল কক্স টুডের মহাব্যবস্থাপক আবু তালেব জানান, তাদের হোটেলের ৮৫ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে। ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত অতিথির চাপ থাকবে বলে আশা করছেন তারা।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবদুল শুক্কুর বলেন, এবারের ছুটিতে ১০ লাখ পর্যটকের সমাগম হলে হোটেল-রেস্তোরাঁসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট খাতে ৯০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হতে পারে।

পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সৈকতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। লাইফগার্ড ও নিরাপত্তাকর্মীরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন। পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ সমুদ্রস্নান নিরাপদ করতে সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছেন সি-সেইফ লাইফগার্ডের সদস্যরা।
জেলার অন্যান্য দর্শনীয় স্থানেও পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে। মেরিনড্রাইভ, হিমছড়ি ঝর্ণা, দরিয়ানগর, ইনানী, পাটুয়ারটেকসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রেও ভ্রমণপিপাসুদের উপস্থিতি নজর কেড়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের এএসপি ফাহিম ফয়সাল বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সৈকতসহ সব পর্যটন এলাকায় ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। এ ছাড়া এসআরবি, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্য নিয়োজিত রয়েছে।

ছুটি ও কার্নিভাল ঘিরে জমজমাট কুয়াকাটা
দুর্গাপূজার ছুটি ও পর্যটন কার্নিভাল ঘিরে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পর্যটক সমাগম বেড়েছে। পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে সৈকত ও আশপাশের দর্শনীয় স্থান। হোটেল-মোটেলের বুকিং, রেস্তোরাঁ এবং পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বেড়েছে ব্যস্ততা। সব মিলিয়ে কার্নিভালকে ঘিরে কুয়াকাটার পর্যটন খাতে তৈরি হয়েছে বাড়তি চাঞ্চল্য।
গতকাল কুয়াকাটা সৈকতে পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করছেন, কেউ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখছেন। আবার অনেকে সৈকতের বালুকাবেলায় ঘুরে উপভোগ করছেন প্রকৃতির সৌন্দর্য।
পর্যটকদের আগমনে আবাসিক হোটেল-মোটেলগুলোতে দেখা যাচ্ছে মিশ্র চিত্র। কোনো কোনো হোটেলে কয়েক দিনের জন্য শতভাগ কক্ষ বুকিং থাকলেও অন্য দিনগুলোতে বুকিং কমে যাওয়ার তথ্য জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

হোটেল ডি’মোরের পরিচালক জয়নুল আবেদিন জুয়েল বলেন, আমাদের মোট রুম ৫৭টি। ২১ ও ২২ অক্টোবর শতভাগ বুকিং থাকলেও ২৩ অক্টোবর ৫০ শতাংশ বুকিং রয়েছে। তবে ২৪ অক্টোবর কোনো বুকিং নেই। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টের জেনারেল ম্যানেজার এমজি মোর্শেদ খান বলেন, আমাদের মোট ৪৩টি রুম। আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সব রুমের শতভাগ বুকিং রয়েছে।
গাজীপুর থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা লায়লা শিরিন বলেন, কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাদের মুগ্ধ করেছে। সমুদ্রের ঢেউ, বিশাল সৈকত আর মনোরম পরিবেশ পরিবারের সবাইকে আনন্দ দিয়েছে। দুর্গাপূজার ছুটিতে ঘুরতে এসে কার্নিভালের আমেজও উপভোগ করতে পারছি।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফ বলেন, কুয়াকাটায় তিন শতাধিক আবাসিক হোটেল-মোটেল রয়েছে। এসব হোটেল-মোটেলে প্রায় ৪০ হাজার পর্যটকের ধারণক্ষমতা রয়েছে। বুধবার লক্ষাধিক পর্যটকের আগমন ঘটেছে।
পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও বেড়েছে কর্মচাঞ্চল্য। বিশেষ করে রাখাইন পল্লি মার্কেটসহ বিভিন্ন বিপণিবিতানে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের ইনচার্জ
নাজমুল আহসান।

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড বাংলাদেশ কনস্যুলেটের গোপনীয় নথিতে ছিল না সাজার বিষয়

জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রমকল্যাণ উইং থেকে ১৮ অক্টোবর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি গোপনীয় নথিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি পৃথক অভিযোগে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে সেই দেশের কারাগারে আটক ছিলেন।

ওই নথির তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে আগে থেকে কিছুই জানায়নি। এমনকি তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়নি।

১৪ অক্টোবর সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে দেশটির কয়েকটি গণমাধ্যমের খবর থেকে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য জানা যায় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
সূত্র জানায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন– নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সুইটি আক্তার। চিঠিতে বলা হয়, সৌদির গণমাধ্যমে প্রকাশিত দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির তথ্য অনুযায়ী, মক্কা অঞ্চলে এ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন করা।

এ দুই ব্যক্তির বিস্তারিত তথ্য সৌদি কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করেনি বলে কনস্যুলেটের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলখানায় বিভিন্ন অপরাধে আটক বাংলাদেশিদের তথ্য চেয়ে জেদ্দা কনস্যুলেট থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ করা হয়েছিল। এই অনুরোধের ভিত্তিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর তালিকা পাওয়া যায়। এই তালিকায় নজরুল ও সুইটির নাম পাওয়া যায়। তবে তালিকায় তাদের শাস্তির বিষয়ে কোনো তথ্য ছিল না। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তারা সৌদির আল মাজাল নামে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তালিকার তথ্য অনুযায়ী, নজরুলকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে আটক করা হয়। পরদিন সুইটিকে ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয়। নজরুল ছিলেন জেদ্দা সংশোধনাগারে। সুইটি ছিলেন জেদ্দা নারী কারাগারে। তালিকায় তাদের কারও সাজার বিষয়টি উল্লেখ ছিল না বলে চিঠিতে বলা হয়।

সৌদি আরবে তথ্যপ্রযুক্তি বা ব্যভিচারের অভিযোগে আগে কোনো বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির নেই বলে কনস্যুলেটের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চিঠিতে বলা হয়, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারগুলোতে বিভিন্ন ধরনের নৈতিকতা-সংক্রান্ত মামলায় ৩০৬ জন বাংলাদেশির আটক থাকার তথ্য তালিকায় আছে। তাদের মধ্যে ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ঘোষিত হয়েছে। সর্বনিম্ন সাজা এক মাসের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড।

চিঠিতে কনস্যুলেট জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির পরিবারের পক্ষ থেকে আইনগত সহায়তার জন্য কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি, কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। সৌদির কর্তৃপক্ষও এ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা এবং তা কার্যকরের বিষয়ে কিছু জানায়নি।

রায়ের কপি ও মামলার বিস্তারিত তথ্য পেতে সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি কূটনৈতিক নোট পাঠানো হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছে কনস্যুলেট। চিঠিতে বলা হয়, রায়ের কপি পাওয়ার পর বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

ঘন ও লম্বা চুলের জন্য খাদ্যতালিকায় রাখুন বায়োটিন সমৃদ্ধ ৭ খাবার

সুন্দর, ঝলমলে চুল কার না পছন্দ? কিন্তু প্রতিদিনের দূষণ, পুষ্টির অভাবে চুল পড়াসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। চুল দ্রুত বড় করতে এবং গোড়া থেকে মজবুত করতে খাদ্যতালিকায় বায়োটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি। এমন কিছু খাবার আছে যা চুলের পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। যেমন-

মটরশুঁটি, বিনস ও ডাল 

মটরশুঁটি, বিনস এবং ডালে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার ও বিভিন্ন খনিজ পাওয়া যায়। এসব উপাদান চুলের বৃদ্ধি দ্রুত করতে সাহায্য করে।
মাশরুম
মাশরুমে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পাশাপাশি সেলেনিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান থাকে। এক কাপ তাজা মাশরুম থেকে ৫.৬ মাইক্রোগ্রাম বায়োটিন পাওয়া যায়।
মিষ্টি আলু
মিষ্টি আলুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। এসব উপাদান চুলকে ভেতরে থেকে স্বাস্থ্যকর করে তোলে।
ডিম
ডিমে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিামিন বি, প্রোটিন, আয়রন এবং ফসফরাস থাকে। ডিমের কুসুমে থাকা বায়োটিন চুলের জন্য খুবই উপকারী।
স্যামন মাছ
স্যামনের মতো চর্বিযুক্ত মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা  থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। এই উপাদান ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে।
ফ্ল্যাক্স সিড 
ফ্ল্যাক্স সিডে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ভরপুর মাত্রায় থাকে। নিয়মিত এটি খেলে চুল মজবুত এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়।
কাঠবাদাম 
কাঠবাদামে বায়োটিন পাওয়া যায় । চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত এটি খেতে পারেন।

ডালিম নাকি আপেল, হার্টের জন্য কোনটি উপকারী?

ডালিম ও আপেল দুই ফলে খাদ্য আঁশ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখে। ডালিমে রয়েছে পলিফেনল, যা হার্টের জন্য উপকারী। অন্যদিকে, আপেলেও রয়েছে খাদ্যআঁশসহ বিভিন্ন ধরনের পলিফেনল। আর এ পলিফেনল হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

ডালিম খাওয়ার উপকারিতা
ডালিম রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাধ্যমে শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে ভূমিকা রাখে। এ ফল প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি হৃদযন্ত্রে রক্তপ্রবাহ উন্নত করতে ভূমিকা রাখে।

আপেল খাওয়ার উপকারিতা
আপেল মোট কোলেস্টেরল ও ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, রক্তনালির কার্যকারিতা উন্নত করতে ভূমিকা রাখে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, শরীরের প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখে। সেই সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে এ ফল। তবে এসব উপকারের মাত্রা ব্যক্তির খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক অবস্থা এবং ফল খাওয়ার পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। তবে ফল খাওয়াকে কোনো রোগের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়।

ডালিমের পুষ্টিগুণ 
আধা কাপ ডালিমের দানায় রয়েছে, ক্যালরি ৭২, প্রোটিন ১.৪৫ গ্রাম, মোট চর্বি ১ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ১৬ গ্রাম, খাদ্যআঁশ ৩.৫ গ্রাম, মোট শর্করা ১২ গ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ১০ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ২০৫ মিলিগ্রাম এবং সোডিয়াম ২.৬ মিলিগ্রাম।

আপেলের পুষ্টিগুণ 
একটি মাঝারি আকারের আপেলে রয়েছে ক্যালরি ৯৬, প্রোটিন ০.৪ গ্রাম, মোট চর্বি ০.৩ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ২৩ গ্রাম, খাদ্যআঁশ ৪ গ্রাম, মোট শর্করা ১৭ গ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ৮.৫ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৬৯ মিলিগ্রাম এবং সোডিয়াম ৩.৪ মিলিগ্রাম।

দেখা যায়, একটি মাঝারি আপেলে ডালিমের আধা কাপ দানার তুলনায় খাদ্যআঁশ বেশি। অন্যদিকে, ডালিমে প্রোটিন, ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়ামের পরিমাণ কিছুটা বেশি। আপেলে ক্যালরি, কার্বোহাইড্রেট ও মোট শর্করার পরিমাণও বেশি। অন্যদিকে, আপেলের অন্যতম প্রধান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান হলো ফেনলিক যৌগ। আপেলে রয়েছে পলিফেনল, ফ্ল্যাভোনয়েড ও ভিটামিন সি। এসব উপাদান শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দেয়।

কোন ফলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশি?
ডালিমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জৈব সক্রিয় উপাদান হলো পুনিক্যালাজিন। এটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। হৃদস্বাস্থ্যের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও গবেষণা হয়েছে। ডালিমে আরও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পলিফেনল, যেমন এলাজিট্যানিন, ট্যানিন, ফ্ল্যাভোনল, অ্যান্থোসায়ানিন ও এলাজিক অ্যাসিড। অন্যদিকে, আপেলের অন্যতম প্রধান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান হলো ফেনলিক যৌগ। আপেলে রয়েছে পলিফেনল, ফ্ল্যাভোনয়েড ও ভিটামিন সি। এসব উপাদান শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দিতে ভূমিকা রাখে। তবে শুধু অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ বিবেচনা করে কোন ফল হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। ফলের পুষ্টিগুণ, শরীরে উপাদানগুলোর কার্যকারিতা এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।

যেভাবে খাদ্যতালিকায় রাখবেন ডালিম ও আপেল
ডালিম ও আপেলের পুষ্টিগুণ পেতে প্রতিদিনের খাবারে সহজেই ফল দুটি যোগ করা যায়। যেমন ফলের রসের পরিবর্তে ডালিমের দানা ও খোসাসহ গোটা আপেল খান, সকালের ওটমিল বা চিনি ছাড়া টক দইয়ের সঙ্গে ডালিমের দানা কিংবা আপেলের টুকরা মিশিয়ে নিন। সালাদ বা শস্যজাতীয় খাবারের সঙ্গে ফল দুটি যোগ করতে পারেন। বাদাম, বীজ, বাদামের মাখন অথবা কম চর্বিযুক্ত পনিরের সঙ্গেও এ দুটি ফল খেতে পারেন।

ডব্লিউটিওর হিসাব এলডিসি থেকে উত্তরণে রপ্তানি কমতে পারে বছরে ৬৩৮ কোটি ডলার

০

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হলে কমবে কিছু বাণিজ্য সুবিধা, যার ওপর দেশের রপ্তানি অনেকটাই নির্ভরশীল। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) এক হিসাব অনুযায়ী, এলডিসি হিসেবে পাওয়া শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা উঠে গেলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ বা বছরে প্রায় ৬৩৮ কোটি ডলার কমতে পারে।

২০১৮ সালের বাণিজ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এ হিসাব করা হয়েছে। ফলে এটি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য চিত্র, বর্তমান রপ্তানি থেকে ঠিক কত আয় কমবে তার হিসাব নয়। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপানসহ কয়েকটি বড় বাজারে শুল্ক বাড়লে বিশেষ করে পোশাক রপ্তানিতে প্রতিযোগিতা কঠিন হতে পারে।

বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের (বিএফটিআই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা আবিদ খান গতকাল সোমবার রাজধানীতে এক সেমিনারে এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে উপস্থাপনায় এ তথ্য তুলে ধরেন। তাঁর উপস্থাপনায় ডব্লিউটিওর তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করা হয়েছে। বিএফটিআই ও অর্থনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

উপস্থাপনায় বলা হয়, বাজার সুবিধা হারানোর পাশাপাশি রপ্তানি প্রণোদনা, ওষুধশিল্প, আন্তর্জাতিক সংস্থায় চাঁদা ও উন্নয়ন সহায়তার ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। এ পরিস্থিতিতে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা, রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো, বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন, প্রযুক্তি, শ্রমমান ও উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোর মতো সংস্কার জরুরি।  বিএফটিআইর সুপারিশ, উত্তরণের পর বাজার সুবিধা ধরে রাখার পাশাপাশি পণ্য ও বাজার— দুই দিকেই রপ্তানি বাড়াতে হবে।

নানা ধাপ পেরিয়ে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের সময় নির্ধারিত রয়েছে। তবে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে।

কর্মসংস্থান বাড়াতে ডিজিটাল কর্মকৌশল নিল বিশ্বব্যাংক

০

কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল কর্মকৌশল উদ্বোধন করেছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ। এ কৌশলে সাশ্রয়ী ইন্টারনেট, ডিজিটাল সেবা ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের প্রস্তুতিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার ডিজিটাল কর্মকৌশলের উদ্বোধন ঘোষণা করে সংস্থাটি। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্বব্যাংক জানায়, আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ১২০ কোটি তরুণ কর্মক্ষম বয়সে পৌঁছাবে। অথচ এ সময়ে এসব দেশের অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে প্রায় ৪২ কোটি। এ ব্যবধান কমাতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে সংস্থাটি।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে। তবে এর সুফল পেতে নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট, সাশ্রয়ী ডিভাইস, ডিজিটাল দক্ষতা ও কার্যকর সেবার সমন্বয় প্রয়োজন। কৌশলের চারটি অগ্রাধিকার হলো– নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ সম্প্রসারণ, স্মার্টফোন ও ডেটার ব্যয় কমানো, ডিজিটাল সেবা ও দক্ষতা বাড়ানো এবং এআই ব্যবহারের প্রস্তুতি তৈরি করা।

নতুন কৌশলের আওতায় ইন্টারনেট অবকাঠামো সম্প্রসারণে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ, স্মার্টফোন ও ব্রডব্যান্ডের ব্যয় কমানো এবং ডিজিটাল পরিচয়, অর্থ পরিশোধ ও নিরাপদ তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে বিশ্বব্যাংক। কর্মসংস্থানসংশ্লিষ্ট ডিজিটাল প্রশিক্ষণ বাড়ানোর উদ্যোগও থাকবে। পাশাপাশি উদীয়মান বাজারের দেশগুলোতে এআই ব্যবহারের সুযোগ বাড়াতে নতুন একটি উদ্যোগ ঘোষণা করেছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ।