Home Blog Page 3

যুদ্ধ শেষ করতে আলোচনা চালাচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র হরমুজে মার্কিন সামরিক ড্রোন ভূপাতিত, দুই ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দুই পক্ষের মধ্যে এই যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে কাতার। মধ্যস্থতাকারীরা চেষ্টা চালিয়ে গেলেও মাঠ পর্যায়ের কঠিন বাস্তবতায় স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর রয়টার্স ও আলজাজিরার।

কাতারের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, সংঘাত যদি এভাবেই বাড়তে থাকে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে। গতকাল মঙ্গলবার দোহার গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরামে তিনি বলেন, যে কোনো যুদ্ধবিরতি কোনো গন্তব্য নয়, বরং শান্তির দিকে পৌঁছানোর একটি দরজা মাত্র।

এদিকে আলোচনায় অচলাবস্থা নিরসনে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির তেহরান সফরে গেছেন। সফরে তিনি ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আলোচনায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছে তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আলোচনা দীর্ঘায়িত করছে তেহরান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান আলোচনা এবং কূটনীতির অচলাবস্থার পেছনে কৌশলগত হিসাবনিকাশ কাজ করছে। চারটি ইরানি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল যেন বড় ধাক্কা খায়, সে জন্য তেহরান ইচ্ছাকৃতভাবে আলোচনা দীর্ঘায়িত করছে।
আট মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ট্রাম্পের জনসমর্থন ইতোমধ্যে রেকর্ড পতন হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন নৌ অবরোধ এবং কঠোর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতিও ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে।

ইরানে আবার হামলার ইঙ্গিত নেতানিয়াহুর
ইরানে আবার হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, ইরান সরকারের পতন ঘটাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত সোমবার ইসরায়েল সফরে গিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সেখানে আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলায় দুই দেশের প্রতিরক্ষা কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।

হরমুজে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত, তেল ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ 
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা গতকাল সকালে হরমুজ প্রণালির ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংস করেছে। এ ছাড়া প্রণালিতে নৌমাইনে আঘাতের পর একটি সুপার ট্যাঙ্কারে আগুন ধরে গেছে বলেও জানিয়েছে বাহিনীটি। তাদের দাবি, জাহাজটি নেভিগেশন ও রাডার ব্যবস্থা বন্ধ করে ইরানের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিল। ট্যাঙ্কারটিতে ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল ছিল। এর আগে আরও দুটি ট্যাঙ্কারে আগুন লাগার দাবি করেছিল আইআরজিসি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এ দাবি ‘ভুল’ বলে জানিয়েছে আলজাজিরাকে।

যুদ্ধের শুরু থেকে ইরানের এই হামলা-অবরোধে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। তবে এইচএসবিসির প্রধান নির্বাহী জর্জ এলহেদারি জানিয়েছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো বিকল্প পাইপলাইন ও লজিস্টিক রুটে বড় ধরনের বিনিয়োগ শুরু করেছে। ফলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে হরমুজ প্রণালি কৌশলগতভাবে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যেতে পারে।

ইরানকে কঠোর চাপে রাখার দাবি ট্রাম্পের 
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। কানসাসের এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি বলেন, ইরানের নৌবাহিনী কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এবং দেশটির সামরিক সক্ষমতার প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের নেতৃত্ব পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমিত করতে এবং মার্কিন-ইরান আলোচনার পথ উন্মুক্ত করতে মস্কোও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ তেহরান সফর করে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইতিহাসে এই প্রথম ইরান ও রাশিয়া এত ঘনিষ্ঠভাবে একসঙ্গে কাজ করছে।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে তার প্রশাসন। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। দেশটিতে অভিবাসনবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকার মধ্যেই ভিসা বাতিলের এ তথ্য সামনে এল।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভিসা বাতিলের সংখ্যা আরও দ্রুত বেড়েছে। গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে তখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছিল।

ট্রাম্পের দাবি, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ কঠোর করা এবং অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) অভিযানের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা। তবে অধিকারকর্মীদের মতে, এসব পদক্ষেপ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও বাকস্বাধীনতার অধিকার ক্ষুণ্ণ করেছে এবং অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করেছে। বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুরা নিজেদের জাতিগত পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের শিকার হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সর্বশেষ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইতিহাসের অন্য যেকোনো প্রশাসনের তুলনায় অনেক দ্রুত বিপুলসংখ্যক ভিসা বাতিল করেছে। তিনি আরও বলেন, ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত যেসব বিদেশি নাগরিক আইন ভঙ্গ করেন, জালিয়াতি করেন অথবা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ান, তাদের বিষয়ে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ বা বিন্দুমাত্র ছাড় না দেওয়ার নীতি অনুসরণ করছে।

অধিকারকর্মীরা যেসব ভিসা বাতিলের ঘটনার সমালোচনা করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদকারী ফিলিস্তিনপন্থি বিদেশি বিক্ষোভকারীদের ভিসা বাতিল। এ ছাড়া রক্ষণশীল ভাষ্যকার চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করার কারণে বিদেশিদের ভিসা বাতিলের ঘটনাও সমালোচনার মুখে পড়েছে।

বিদেশি বিক্ষোভকারীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের উদ্যোগের পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসী ও ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করেছে। অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, সরকার জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে সমালোচকদের লক্ষ্যবস্তু করছে। এ ছাড়া জালিয়াতির বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিনেসোটায় বসবাসরত সোমালি-আমেরিকান সম্প্রদায়ের মতো বিভিন্ন অভিবাসী জনগোষ্ঠীকেও নিশানা করা হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে তার প্রশাসন বৈধ অভিবাসনের প্রক্রিয়াও কঠিন করেছে। এর উদাহরণ হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু কাজের ভিসার ক্ষেত্রে উচ্চ ফি আরোপের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

তিন বিভাগ সফর শেষে ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সফর শেষে ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটে সামরিক বিমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।

দুর্গাপূজার মহানবমীতে গতকাল রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে সকাল ৯টায় ঢাকা ছাড়েন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী পূজামণ্ডপগুলোতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তাকে কাছে পেয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এ সময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাকে শারদ প্রণাম জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সামরিক বিমানে ঢাকায় ফেরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল, বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী ও বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু প্রমুখ।

৫ বছরে দুর্যোগে ২৫৩৩ মৃত্যু ৬০ শতাংশই বজ্রপাতে

দেশে গত পাঁচ বছরে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড, বজ্রপাত, ভূমিকম্প ও পাহাড়ধসে মোট দুই হাজার ৫৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৫৩০ জনই মারা গেছেন বজ্রপাতে, যা মোট প্রাণহানির প্রায় ৬০ শতাংশ। অন্যদিকে, এসব দুর্যোগের মধ্যে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে বন্যায়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘দুর্যোগের ধরন, ক্ষয়ক্ষতি ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ছয় ধরনের দুর্যোগের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তুলে ধরে প্রতিবেদনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অগ্রাধিকার তালিকার প্রথম স্থানে রাখা হয়েছে বজ্রপাতকে। গত ৬ অক্টোবর সংসদীয় কমিটির বৈঠকে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচ বছরে বজ্রপাতে মারা গেছেন এক হাজার ৫৩০ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে অগ্নিকাণ্ডে। এ সময়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এক লাখ ২৪ হাজার ৪৮৬টি। বন্যায় মারা গেছেন ১৯৭ জন, পাহাড়ধসে ৯০ জন, ঘূর্ণিঝড়ে ৫২ জন এবং ভূমিকম্পে ১০ জন।

প্রতিবেদনে বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে স্থানীয় পর্যায়ে সতর্কবার্তা পৌঁছানো, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, পাঁচ বছরে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প ও বজ্রপাতে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ৪৩ হাজার ৮২৯ কোটি টাকার। এর মধ্যে বন্যায় ক্ষতির পরিমাণ ২৯ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা। ঘূর্ণিঝড়ে ১১ হাজার ৭৩৬ কোটি, অগ্নিকাণ্ডে দুই হাজার ২০ কোটি, ভূমিকম্পে ১০৮ কোটি এবং বজ্রপাতে ১০৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ সময়ে দেশে ৯টি বড় বন্যা হয়েছে। আর ঘূর্ণিঝড় হয়েছে ছয়টি।
বাংলাদেশে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা দীর্ঘদিনের। তবে সরকারিভাবে বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয় ২০১৬ সালে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত জাতীয় পরিকল্পনায় মোট ১৩ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের উল্লেখ রয়েছে। মাসভিত্তিক হিসাবে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে বজ্রপাতের ঘটনা তুলনামূলক কম থাকে। মার্চ থেকে তা বাড়তে শুরু করে। এপ্রিলে বজ্রপাতের তীব্রতা বাড়ে এবং মে মাসে তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। জুন ও জুলাইয়ে আবার কমতে থাকে। সেপ্টেম্বরে বজ্রপাতের প্রবণতা কিছুটা বাড়ে। দেশের সব এলাকায় বজ্রপাতের ঘটনা ঘটলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে এর প্রবণতা বেশি। উত্তরাঞ্চলেও বজ্রপাতের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তিদের বড় অংশ কৃষক। মাঠে কাজ করার সময় ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে নিরাপদ আশ্রয় না পাওয়ায় তাদের প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-বিশেষজ্ঞ গওহার নঈম ওয়ারা বলেন, মানুষের সঙ্গে কথা বলে আগে সমস্যাটা বুঝতে হবে। বজ্রপাতে মৃত্যু কমানোর কার্যকর প্রস্তুতি নেই। কারণ, বজ্রপাতে যারা মারা যান, তারা খুবই দরিদ্র। বজ্রপাতে যত মানুষ মারা যায়, তার তিন-চার গুণ গবাদি পশুর মৃত্যু হয়। সেই হিসাবও করতে হবে। বজ্রপাতে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য একটি প্রটোকল তৈরি করা প্রয়োজন।

বিজয়া দশমী আজ, বিদায়ের সুর মণ্ডপে মণ্ডপে

মণ্ডপে মণ্ডপে বিষাদের ছায়া। ঢাক-কাঁসরের বাদ্যি-বাজনা, রাত্রি উজ্জ্বল করা আরতি ও পূজারি-ভক্তদের পূজা-অর্চনায় শুধু মা দুর্গার বিদায়ের আয়োজন। আজ বুধবার শুভ বিজয়া দশমী। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হবে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। মর্ত্যলোক ছেড়ে বিদায় নেবেন মা। অশ্রুসজল চোখে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বিসর্জন দেবেন প্রতিমা। এর মাধ্যমে ভাঙবে ছয় দিনের সার্বজনীন মিলনমেলা।

উৎসবের পঞ্চম দিনে গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয় মহানবমী পূজা। এদিন সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দেবীর মহানবমী কল্পারম্ভ ও মহানবমীবিহিত পূজার আয়োজন করা হয়। পূজা শেষে হোম
ছাড়াও যথারীতি পুষ্পাঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও সন্ধ্যায় ভোগ-আরতি ছিল।

দিনটির প্রধান আকর্ষণ ছিল মণ্ডপে মণ্ডপে আরতি প্রতিযোগিতা। সন্ধ্যা ও রাতকে উজ্জ্বল করে ভক্তরা মেতে উঠেছিলেন নানা ঢঙে, আরতি নিবেদনে। সেই সঙ্গে ছিল দিনভর পুরোহিতদের চণ্ডীপাঠ। মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের কীর্তন-বন্দনা। এ উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনের পূজামণ্ডপে সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় আরতি প্রতিযোগিতা।

আজ বিজয়া দশমীতে সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দশমীবিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজা শেষে দর্পণ বিসর্জন দেওয়া হবে। এরপর সারাদেশে স্থানীয় আয়োজন ও সুবিধামতো সময়ে বিজয়ার শোভাযাত্রা সহকারে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে। সর্বত্র বিসর্জন শেষে ভক্তরা শান্তিজল গ্রহণ করবেন।

বিসর্জনের উদ্দেশ্যে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির মেলাঙ্গন থেকে কেন্দ্রীয় বিজয়া শোভাযাত্রা বের হবে বেলা ৩টায়। এর আগে রাজধানীর ২৫৮টি পূজামণ্ডপের অধিকাংশই এসে জমা হবে পলাশীর মোড়ে। সেখান থেকে সম্মিলিত বাদ্যি-বাজনা, মন্ত্রোচ্চারণ ও পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে শুরু হবে বিজয়ার শোভাযাত্রা। এরপর সদরঘাটের ওয়াইজঘাটের বুড়িগঙ্গা নদীর জলে একে একে বিসর্জন দেওয়া হবে প্রতিমা। নিরাপত্তার কারণে সরকারের পক্ষ থেকে সন্ধ্যার আগেই প্রতিমা বিসর্জনের নির্দেশনা রয়েছে।
বিজয়া দশমী উপলক্ষে আজও সরকারি ছুটি। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ স্যাটেলাইট টেলিভিশনগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করবে বিশেষ সংখ্যা ও নিবন্ধ।

শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সকালে বঙ্গভবনে হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন।

নবমীর আনন্দ
ঢাকের শব্দে মুখর চারদিক। কোথাও মণ্ডপজুড়ে আলোর ঝলকানি, কোথাও প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে প্রার্থনায় মগ্ন ভক্ত। দুর্গোৎসবের মহানবমীতে পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার মণ্ডপে আনন্দের পাশাপাশি অনুভূত হচ্ছে বিষাদের আবহ।

গতকাল নবমীর দিনে পুরান ঢাকার অলিগলিতে উৎসবের এমনই এক পরিচিত ছবি দেখা যায়। পুরোনো বাড়িঘর, পাশাপাশি দোকানপাট আর সরু রাস্তার ফাঁকে ফাঁকে সাজানো পূজামণ্ডপ। কোথাও ভক্তদের প্রার্থনা, কোথাও ঢাকের বাদ্যি। শাঁখারীবাজারের পথে এগোলে একের পর এক মণ্ডপে চোখে পড়ে প্রতিমার সাজসজ্জা। দেবীর মুখের দিকে তাকিয়ে প্রণাম করছেন ভক্তরা। অনেকে পরিবারের ছোটদের নিয়ে ঘুরছেন, কেউ আবার ছিলেন বন্ধুদের সঙ্গে প্রতিমা দর্শনে ব্যস্ত।

জনস্বাস্থ্য ডেঙ্গু সংক্রমণ ২৬ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ

বছরের প্রথম সাড়ে ৯ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা এক লাখ ১৫ হাজার ছাড়িয়েছে। ২০০০ সালে ডেঙ্গু রোগী শনাক্তের তথ্য সংরক্ষণ শুরুর পর সংক্রমণের হিসাবে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ভাইরাসজনিত এই রোগে প্রাণ গেছে ৩৫৭ জনের। মৃত্যুর দিক থেকে ২৬ বছরের মধ্যে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ।

সংক্রমণের এই হিসাব শুধু হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের। ফলে উপসর্গ নিয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নেওয়া, পরীক্ষা না করানো কিংবা হাসপাতালের বাইরে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের সংখ্যা এতে অন্তর্ভুক্ত নেই। প্রকৃত সংক্রমণ আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এর আগে ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ওই বছর প্রাণ হারান এক হাজার ৭০৫ জন। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয় ২০২৪ সালে, ৫৭৫ জনের।
এদিকে ডেঙ্গু রোগী ও মৃত্যু বাড়তে থাকলেও সরকার বলছে, এ রোগ নিয়ন্ত্রণে তাদের চেষ্টায় কোনো ঘাটতি নেই। সবাই মিলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা, বৃষ্টি ও আর্দ্রতার ধরন বদলানোর পাশাপাশি এডিস মশার বিস্তার ও আচরণেও পরিবর্তন এসেছে। এ ছাড়া অপরিকল্পিত নগরায়ণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর উদ্যোগের অভাব এবং মশক নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দুর্বলতার কারণে ডেঙ্গু পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে।

এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ ছিটানো ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চললেও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসায় প্রচলিত কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০০০ সালে দেশে পাঁচ হাজার ৫৫১ জন রোগী শনাক্ত হন, মারা যান ৯৩ জন। এর পর বিভিন্ন সময়ে সংক্রমণ বাড়লেও ২০২৩ সালে তা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। পরের বছরগুলোতেও ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনক ছিল। ২০২৪ সালে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হন, মারা যান ৫৭৫ জন। ২০২৫ সালে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল এক লাখ দুই হাজার ৮৬১, মৃত্যু হয় ৪১৩ জনের।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এক হাজার ৩৬৬ জন।

মশক নিয়ন্ত্রণে কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন
ডেঙ্গু প্রিভেনশন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের (ডিপিএফবি) সাধারণ সম্পাদক ও জাপানের ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স টোকিওর গবেষক ডা. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ খান সমকালকে বলেন, মশা নিধনের কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে লোক-দেখানো কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। শুধু ওষুধ ছিটিয়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এ জন্য মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে সেখানে কার্যকরভাবে লার্ভা ধ্বংসের উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এ কার্যক্রমে সাধারণ মানুষকেও সম্পৃক্ত করতে হবে। সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করলেও মানুষকে সচেতন করে প্রতিরোধ কার্যক্রমে যুক্ত করার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে।

ডা. আব্দুল্লাহ বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও ‘স্কুল অ্যাম্বাসাডর’ কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি পরিবার ও সমাজেও ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। তিনি আরও বলেন, মশক নিধন আর এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ এক বিষয় নয়। তাই প্রচলিত মশক নিধন কর্মসূচিতে পরিবর্তন এনে এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্তকরণ, লার্ভা ধ্বংস এবং নিয়মিত তদারকির ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু উড়ন্ত মশা মারার বদলে বংশবিস্তার বন্ধ করতে পারলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ডেঙ্গু একবার কোনো এলাকায় বিস্তার লাভ করলে তা পুরোপুরি নির্মূল করা কঠিন। তবে পরিকল্পিত মশক নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, প্রজননস্থল ধ্বংস এবং কার্যকর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

Mosa%20edis 1792553891

একসময় বর্ষাকালকে ডেঙ্গুর প্রধান মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করা হতো। সাধারণত জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সংক্রমণ বেশি দেখা যেত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বছরের অন্য সময়েও ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। ফলে শুধু বর্ষাকাল সামনে রেখে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা, বৃষ্টি ও আর্দ্রতার পরিবর্তন ঘটছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে। এর ফলে এডিস মশার বিস্তার এবং ডেঙ্গুর সংক্রমণের ধরন বদলে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের কৌশল ঢেলে সাজাতে হবে। এ ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দুটি পদ্ধতি রয়েছে—মিটিগেশন বা প্রশমন এবং অ্যাডাপটেশন বা অভিযোজন। মশক নিয়ন্ত্রণে যুক্ত সংস্থাগুলোর পক্ষে বড় পরিসরে প্রশমন কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হলেও অভিযোজনের মাধ্যমে পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। কবিরুল বাশারের মতে, পরিবেশ ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে এডিস মশার আচরণে যেসব পরিবর্তন ঘটছে, সেগুলো শনাক্ত করে সে অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

রাজধানীর বাইরেও বাড়ছে রোগীর চাপ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে দুজন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালের রোগী। বরিশাল সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় দুজন এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।

নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ১১০ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ১১৩ জন ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগের অন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪১৫ জন। এ ছাড়া বরিশালে ১৯১, চট্টগ্রামে ১০৫, খুলনায় ১৪১, ময়মনসিংহে ৮০, রাজশাহীতে ১২৮, রংপুরে ৭২ ও সিলেটে ১১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
রোগীর এই বিস্তৃত ভৌগোলিক উপস্থিতি বলছে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নজরদারি জোরদার এবং চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত সমকালকে বলেন, ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মৃত্যুর কারণ পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, মারা যাওয়া অধিকাংশ ব্যক্তি অসুস্থ হওয়ার তিন দিন বা তারও পরে হাসপাতালে এসেছেন। এ ছাড়া ডেঙ্গুর হটস্পট চিহ্নিত করে মশার লার্ভা ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনগুলোও কাজ করছে। হাসপাতালে আসা রোগীদের ঠিকানা যাচাই করে যেসব এলাকা থেকে বেশি রোগী আসছেন, সেসব এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও লার্ভিসাইড প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের চেষ্টায় কোনো ঘাটতি নেই। প্রতি সপ্তাহে মেয়র ও প্রশাসকদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ বিষয়ে বৈঠক করছেন। সবাই মিলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছেন।

তেঁতুলিয়ায় কমছে তাপমাত্রা, ভোরে দেখা মিলছে কুয়াশার

দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় কমতে শুরু করেছে তাপমাত্রা। ভোরে ঘন কুয়াশা ও হালকা শীতের অনুভূতি থাকলেও সূর্য ওঠার পর বাড়ছে গরম। এতে সকালে শীত আর দিনের বেলায় উষ্ণ আবহাওয়ার মুখোমুখি হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার সকাল ৬টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৯টায় তাপমাত্রা আরও কমে দাঁড়ায় ১৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এ সময় বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ছিল ১০০ শতাংশ। এর আগের দিন গতকাল সোমবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

স্থানীয় চা-শ্রমিক চাঁদনীয়া জানান, খুব ভোরে চা-পাতা তুলতে গেলে কুয়াশা দেখা যায়। ঠান্ডার কারণে শীতের পোশাক পরে কাজে যেতে হয়। তবে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে গরম বাড়তে শুরু করে।

পঞ্চগড় জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, গত কয়েক দিনের তুলনায় তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা কমেছে। আগের দিনগুলোতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৯ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলেও আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টায় ১৮ দশমিক ৮ এবং সকাল ৯টায় ১৮ দশমিক ৪ ডিগ্রিতে নেমে এসেছে। পর্যায়ক্রমে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

হইহুল্লোড়ে রঙিন হয়ে উঠত সেই সময়গুলো: অপু বিশ্বাস

০

শারদীয় দুর্গোৎসবে প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো সময়, শৈশবের উচ্ছ্বাস আর হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোকে ফিরে দেখার উপলক্ষ। সময় এগিয়ে যায়, জীবনের ব্যস্ততা বাড়ে, কিন্তু উৎসব ঘিরে জমে থাকা স্মৃতিগুলো থেকে যায় মনের গভীরে। ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসের কাছেও দুর্গাপূজা মানেই আনন্দ আর ফেলে আসা দিনের স্মৃতিচারণা।

সময়ের সঙ্গে উদ্‌যাপনের ধরন বদলালেও উৎসবের আনন্দ যে ফুরিয়ে যায়নি, সে কথাই জানিয়েছেন তিনি।

অপু বিশ্বাস সমকালকে বলেন, ‘পূজা মানেই আনন্দ। সময়ের সঙ্গে সেই আনন্দ-উদ্‌যাপনের ধরন কিছুটা বদলেছে, কিন্তু নিঃশেষ হয়নি। এখন দুর্গাপূজায় ষষ্ঠী থেকে দশমীর দিনগুলোয় বগুড়ার দিনগুলোর কথা মনে পড়ে। কী যে এক উচ্ছ্বাস, উল্লাসের ছিল সেই দিনগুলো—তা বলে শেষ করা যাবে না।’

730689084 1595995671896921 3966842084318671524 n 1792407771

বগুড়ায় কেটেছে অপুর শৈশব। সেখানকার পূজার দিনগুলো ছিল পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে আনন্দ করার সময়। বাবা-মা, কাকা-কাকিসহ আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতিতে তাঁদের বাড়ি হয়ে উঠত উৎসবমুখর। নতুন জামা পরে ভোরে প্রতিমা দেখতে যাওয়া, মায়ের ভোগের খাবার আর সবার সঙ্গে হইহুল্লোড়—সবকিছু মিলিয়ে রঙিন হয়ে উঠত তাঁর পূজা।

অপুর কাছে মহাষ্টমীর ভোগের স্মৃতিও বিশেষ। ভোগের থালায় খিচুড়ি, লাবড়া আর নানা পদের ভাজা ছিল তাঁর ভীষণ প্রিয়। সেই খাবারের স্বাদ আর পরিবারের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো আজও তাঁর কাছে অমূল্য।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৯ সালের ১১ অক্টোবর বগুড়ায় জন্ম অপু বিশ্বাসের। ছোটবেলা থেকেই নাচের প্রতি আগ্রহ ছিল তার। নাচ শেখার সুবাদে একসময় অভিনয়জগতে পা রাখেন তিনি। ২০০৫ সালে বরেণ্য নির্মাতা আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘কাল সকালে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার।

475777598 1198526118310547 4531797827267155945 n 1792407791

তবে পরের বছর এফ আই মানিক পরিচালিত ‘কোটি টাকার কাবিন’ সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ব্যাপক পরিচিতি পান অপু। শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন তিনি। এরপর এই জুটির একের পর এক সিনেমা বাণিজ্যিক সাফল্য পায়। ঢালিউডে শাকিব-অপু জুটি হয়ে ওঠে দর্শকের অন্যতম পছন্দ।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ‘চাচ্চু’, ‘দাদীমা’, ‘আমার জান আমার প্রাণ’, ‘তুমি স্বপ্ন তুমি সাধনা’, ‘মনে প্রাণে আছো তুমি’, ‘মায়ের হাতে বেহেশতের চাবি’, ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’, ‘নিঃশ্বাস আমার তুমি’ ও ‘কোটি টাকার প্রেম’-এর মতো বেশ কিছু আলোচিত সিনেমায় অভিনয় করেছেন অপু বিশ্বাস।

অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাতেও যুক্ত হয়েছেন এই অভিনেত্রী। ‘লাল শাড়ি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। দুই দশকের ক্যারিয়ারে নানা উত্থান-পতনের মধ্যেও ঢালিউডে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন অপু বিশ্বাস।

খুব শিগগির প্যারিস মুসলিম শহরে পরিণত হবে: ট্রাম্প

খুব শিগগিরই প্যারিস একটি মুসলিম শহরে পরিণত হবে— এমন মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও সহিংসতার জন্য অভিবাসনকে দায়ী করে তিনি ইউরোপের দেশগুলোকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ফ্রান্সে যা ঘটছে, তার সঙ্গে অভিবাসনের সম্পর্ক রয়েছে। এটি অভিবাসনের সমস্যা। আমি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে বলেছি, আপনাদের সীমান্ত বন্ধ করে দিন।

ম্যাক্রোঁর সঙ্গে নিজের কথোপকথনের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তিনি অনেক আগেই ফরাসি প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছিলেন যে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষকে ফ্রান্সে প্রবেশের সুযোগ দিয়ে দেশটি বড় ধরনের ভুল করছে। ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা বিশ্বের সবাইকে ভেতরে আসতে দিচ্ছেন। পুরো পৃথিবীই যেন ভেতরে চলে আসছে।’

তিনি আরও বলেন, ইউরোপ যদি সীমান্ত বন্ধ না করে এবং অপরাধীদের দেশ থেকে বের করে না দেয়, তাহলে মহাদেশটির সর্বনাশ হবে।

সপ্তাহান্তে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে প্যারিসসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়। পরে কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম ভয়াবহ সহিংসতা হিসেবে এসব ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল। প্রচারের সময় অবৈধ অভিবাসন নিয়ে তার বিভিন্ন বক্তব্যের কিছুতে জাতিগত ভীতি উসকে দেওয়া এবং মিথ্যা দাবি করার অভিযোগও রয়েছে।

বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ৯ মাসে নিহত ৪০ এইচআরএসএসের প্রতিবেদন

০

বছরের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর) সারাদেশে রাজনেতিক সহিংসতায় ৭৩ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬ হাজার ৪৭৩ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। এ ছাড়া সারাদেশে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণসহ নানা অভিযোগে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ৩৯৮টি ঘটনায় ১৮৭ জন নিহত এবং ৪০১ জন আহত হয়েছেন। এতে দেখা যায়, রাজনৈতিক সংঘাতের চেয়ে গণপিটুনিতে মৃত্যু আড়াই গুণ বেশি। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এসব তথ্য জানিয়েছে। ১৬টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ এবং এইচআরএসএসের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১ হাজার ১৩টি সহিংসতার ঘটনার ৯৩১টি ঘটেছে বিএনপির অন্তর্কোন্দল এবং বিএনপির সঙ্গে অন্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে। এর মধ্যে বিএনপির অন্তর্কোন্দলের ৩৪২টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪০ জন এবং আহত ২ হাজার ৬৩২ জন। বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে ৩২১টি সংঘর্ষে ১১ জন নিহত ও ২ হাজার ১৯০ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে ৯৩টি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ৯ জন, আহত হয়েছেন ৫৪৫ জন।

রাজনৈতিক পরিচয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিহত ৭৩ জনের মধ্যে বিএনপির ৪৬, জামায়াতের ৮, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৬ ও চরমপন্থি দলের সদস্য ১ জন। অন্যান্য দল বা রাজনৈতিক পরিচয় অজানা রয়েছেন ১২ জন।

এতে বলা হয়েছে, আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, সংসদ নির্বাচন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ও বিভিন্ন দলের সমাবেশকেন্দ্রিক সহিংসতা, বাড়িঘর, যানবাহন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও চাঁদাবাজিকেন্দ্রিক সহিংসতার ঘটনা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচনকেন্দ্রিক ৪০২টি সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৩ জন, আহত হয়েছেন ২ হাজার ৬২৩ জন।

রাজনৈতিক নেতাকর্মী আটক ও মামলার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সময়ে বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নামে ২৭০টির বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৫ হাজার ৮০৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৩২ হাজার ৪৩৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি সন্ত্রাস, নাশকতা, পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে নিয়মিত অভিযানে ৬৩ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
৯ মাসে ২৮৮টি ঘটনায় ৫১৮ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনায় ২০ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে।

সভা-সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯ মাসে ৫৮টি সভা-সমাবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় ৪৩৯ জন আহত ও ৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময়ে কারাগারে ৯৫ জন আসামির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ জন কয়েদি ও ৫৫ জন হাজতি। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজত, নির্যাতন, গুলি এবং কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৫৬টি হামলার ঘটনায় ৬২ জন আহত হয়েছেন। ২১টি মন্দির, ২০টি প্রতিমা ও ৪৭টি বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

Capture 1792460111

৯ মাসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ৪৩টি হামলার ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ৩৯ জন আহত হয়েছেন। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ২৪টি সহিংসতার ঘটনায় ১ জন নিহত, ৬ জন আহত, ৬ জন গুলিবিদ্ধ এবং ৮৩ জনকে আটক করা হয়েছে। শ্রমিক নির্যাতনের ৫৮২টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৪৫ জন, আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৬৩ জন। ২ হাজার ৪০৪ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

সার্বিক বিষয়ে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা, নির্বাচনী সহিংসতা, মব ও গণপিটুনি, নারী-শিশু-সাংবাদিক নির্যাতনসহ সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগের মতো ঘটনাগুলো প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। কেননা এসব বিষয় সমাধান করা না হলে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।