Home Blog Page 2

শিশুর শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি হলে কীভাবে বুঝবেন?

বাড়ন্ত বয়সে শিশুদের পর্যাপ্ত প্রোটিন জরুরি। কারণ এটি শিশুর শারীরিক-মানসিক বিকাশ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু খাবার থেকে শিশুর শরীরে পর্যাপ্ত প্রোটিন পৌঁছোচ্ছে কি না তা অনেক সময় বোঝা যায় না। দৈনন্দিন খাবার থেকে শরীরের চাহিদামতো প্রোটিন না মিললে, শিশু অল্পেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে, শরীরের বৃদ্ধিও ব্যাহত হয়।

আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বয়স অনুযায়ী শিশুদের প্রোটিনের গড় চাহিদা বদলায়। প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১ থেকে ৩ বছরের শিশুর দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা ১.০৫ গ্রাম, ৪ থেকে ১৩ বছরের ক্ষেত্রে ০.৯৫ গ্রাম, ১৪ থেকে ১৮ বছরেরর জন্য ০.৮৫ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন। আইসিএমআর-এনআইএন-এর (ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ-ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউট্রিশন) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যদি ৫ বছর বয়সী শিশুর ওজন ২০ কেজি হয়, তবে তার প্রতিদিন প্রায় ১৯ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন।

যেসব লক্ষণে বুঝবেন শিশুর শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি হচ্ছে

ঘন ঘন ক্ষুধা: শিশু যদি বারবার বিস্কুট, চিপস বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের বায়না করে, তবে বুঝতে হবে মূল খাবার খেয়ে তার পেট ভরছে না। মূল খাবারে পুষ্টির ঘাটতি হলেও বার বার ক্ষুধা পেতে পারে। খাদ্যতালিকায় ডাল, দই, পনির, ডিম, মাছ, মাংস, ছোলা থাকলে পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে।

দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া: শিশুরা প্রাণচঞ্চল ও চনমনে হবে সেটাই স্বাভাবিক। খেলার সময় শিশু যদি দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তার খাদ্যতালিকায় নজর দেওয়া প্রয়োজন। দুধ, ছোলা ভাজা, ডিম বা পনিরের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার তালিকায় রাখা দরকার। এগুলি শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।

ওজন বৃদ্ধি না হওয়া: পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ক্যালোরির অভাবে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই শিশুর বয়স অনুযায়ী উচ্চতা ও ওজন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। বৃদ্ধি সন্তোষজনক না হলে শিশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ঘন ঘন অসুস্থ হওয়া বা সেরে উঠতে দেরি হওয়া: প্রোটিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং কোষের পুনর্গঠনে সাহায্য করে। শিশু যদি বারবার অসুস্থ হয় বা অসুখ থেকে সেরে উঠতে বেশি সময় নেয়, দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া দরকার।

পেশির দুর্বলতা: ছোটখাটো ক্ষত সহজে না শুকোনো, পেশি দুর্বল হওয়া পুষ্টির ঘাটতির সঙ্কেত। ওজন কমার সঙ্গে সঙ্গে এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসক কিংবা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে খাবার খাওয়াতে হবে।

ইরানে বৈঠকে বসছেন সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের কর্মকর্তারা, লক্ষ্য কী?

আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করতে সোমবার সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা তেহরানে যাচ্ছেন। সেখানে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাইয়ের সঙ্গে তাদের বৈঠক করার কথা আছে।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের উপসচিব আলী বাঘেরি কানি বলেন, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির ও তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন বৈঠকে অংশ নেবেন। তবে বৈঠকটি কখন অনুষ্ঠিত হবে তা জানাননি।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কানি বলেন, ‘স্থায়ী আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে এই বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে।’ বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে কানি বলেন, গত সপ্তাহে অসিম মুনিরের তেহরান সফরের সময় বৈঠকটির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

সৌদি আরব বর্তমানে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াই করছে। তুরস্ক-পাকিস্তানের সঙ্গে তারা মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। অপরদিকে ইরানে নতুন করে হামলার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এমন সময়ে রিয়াদ, আঙ্কারা, ইসলামাবাদ ও তেহরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বৈঠকে বসছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া অস্থিরতা অবসানে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। জ্বালানি পরিবহনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি বর্তমানে ইরান ও মিত্রদের নিয়ন্ত্রণে। তেহরান হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে থাকার দাবি করে আসছে। অন্যদিকে, নৌপথে পাল্টা অবরোধ আরোপ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ডি থ্রি ট্রফির নিলামে সর্বোচ্চ পয়েন্ট শরিফুলের

০

দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন সংযোজন ডি থ্রি ট্রফি। তিন সংস্করণের এই টুর্নামেন্টের প্রথম আসর সামনে রেখে সোমবার বসেছে খেলোয়াড়দের নিলাম। ‘এ’ ক্যাটাগরির নিলামে সর্বোচ্চ ২ কোটি ৩০ লাখ পয়েন্ট পেয়েছেন পেসার শরিফুল ইসলাম। তার পরেই আছেন তাসকিন আহমেদ ও তানজিদ হাসান তামিম।

রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে সকাল ১০টায় শুরু হয় নিলাম। ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে পাঁচটি দল ‘এ’ ক্যাটাগরি থেকে খেলোয়াড় দলে নিয়েছে। একমি গ্রুপ এই ক্যাটাগরি থেকে কাউকে নেয়নি।

নিলামে শরিফুলকে ২ কোটি ৩০ লাখ পয়েন্টে দলে নিয়েছে সিটিজেনস ব্যাংক। ওয়ালটন গ্রুপ তাসকিন আহমেদকে পেয়েছে ২ কোটি ১০ লাখ পয়েন্টে। ফরচুন গ্রুপ ২ কোটি পয়েন্টে নিয়েছে তানজিদ হাসান তামিমকে। তবে নিলামে ওঠা পয়েন্টের সঙ্গে খেলোয়াড়দের প্রকৃত পারিশ্রমিকের সরাসরি সম্পর্ক নেই। ‘এ’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়দের ভিত্তিমূল্য ৪০ লাখ টাকা। পারিশ্রমিক নির্ধারণে ম্যাচ খেলার সংখ্যাও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

ফরচুন গ্রুপের আইকন খেলোয়াড় তাওহীদ হৃদয়। দলটি নাজমুল হোসেন শান্তকে ১ কোটি ৫৫ লাখ, সৌম্য সরকারকে ৭৫ লাখ এবং রিশাদ হোসেনকে ৬০ লাখ পয়েন্টে দলে নিয়েছে।

এইস ব্লু স্টারের আইকন নুরুল হাসান সোহান। দলটি হাসান মাহমুদকে ১ কোটি ৯৫ লাখ, শেখ মেহেদী হাসানকে ১ কোটি ৫০ লাখ, এনামুল হক বিজয়কে ৯০ লাখ এবং নাহিদ রানাকে ৭৫ লাখ পয়েন্টে নিয়েছে।

সেভেন রিংস সিমেন্টের আইকন মুশফিকুর রহিম। তারা সাইফ হাসানকে ১ কোটি ৯৫ লাখ, খালেদ আহমেদকে ১ কোটি ৫০ লাখ, তাইজুল ইসলামকে ৮০ লাখ এবং মোস্তাফিজুর রহমানকে ৭০ লাখ পয়েন্টে দলে নিয়েছে।

সিটিজেনস ব্যাংকের আইকন নাঈম শেখ। শরিফুলের পাশাপাশি তারা জাকের আলী অনিককে ১ কোটি ৮০ লাখ পয়েন্টে কিনেছে। ওয়ালটন গ্রুপের আইকন মেহেদী হাসান মিরাজ। দলটি তাসকিনের সঙ্গে লিটন দাসকে ১ কোটি ৫০ লাখ এবং মুমিনুল হককে ৮০ লাখ পয়েন্টে দলে নিয়েছে। একমি গ্রুপের আইকন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

ডি থ্রি ট্রফিতে মোট ৪২টি ম্যাচ হবে। এর মধ্যে রয়েছে সাতটি চার দিনের ম্যাচ, ১৬টি ওয়ানডে ও ১৯টি টি-টোয়েন্টি। আগামী ১৫ ডিসেম্বর টি-টোয়েন্টি সংস্করণ দিয়ে শুরু হবে প্রতিযোগিতা। জানুয়ারিতে হবে চার দিনের ম্যাচ, আর ওয়ানডে সংস্করণ মাঠে গড়াবে ২০২৭ সালের মে মাসে।

গুলশানের কিংফিশার রেস্তোরাঁয় অভিযান, বিপুল পরিমাণ অ্যালকোহল জব্দ

০

রাজধানীর গুলশানে কিংফিশার রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে বৈধ কাগজপত্রবিহীন বিপুল পরিমাণ অ্যালকোহল ও অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় আটক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চারটি গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত দল। রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রেস্তোরাঁটিতে এ অভিযান চালানো হয়। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে এনবিআর।

এতে বলা হয়, উচ্চ শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য, বিশেষত অ্যালকোহল ও অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সংগ্রহ ও বিক্রি করা হচ্ছে— এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অবৈধ উৎস ও চোরাচালানের মাধ্যমে সংগ্রহ করা এসব পণ্যের মজুত শনাক্ত করা, স্থানীয় পর্যায়ে বিক্রির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ফাঁকি প্রতিরোধ, বিক্রয়লব্ধ অর্থ আয়কর নথিতে যথাযথভাবে দেখানো হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেনে অর্থ পাচারের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের লক্ষ্যে অভিযান চালানো হয়।

এনবিআরের নির্দেশনায় এবং কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে চারটি গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ দল অভিযানটি পরিচালনা করে। সংস্থাগুলো হলো—সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট (টিআইআইইউ) এবং মূল্য সংযোজন কর নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (ভিএআইআইডি)।

প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে বৈধ কাগজপত্রবিহীন বিপুল পরিমাণ অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলজাতীয় পানীয় আটক করা হয়। অভিযানের পুরো সময় বিশেষ সাড়া প্রদানকারী ব্যাটালিয়ন-১ (এসআরবি-১) সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করে।

আটক পণ্যের বিবরণ, প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য, সম্ভাব্য শুল্ক-কর ফাঁকির পরিমাণ এবং পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে এনবিআর।

বিএনপি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী: রিজভী

০

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, বিএনপি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তবে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, এমন সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে প্রখ্যাত সাংবাদিক, ভয়েস অব আমেরিকার সাবেক সংবাদ পাঠক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত গিয়াস কামাল চৌধুরীর স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সমিতি এ স্মরণসভার আয়োজন করে।

রিজভী বলেন, সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী ছিলেন দেবতুল্য মানুষ। তার মতো অনেকের অদম্য সাহস ও সততা ছিল বলেই ফ্যাসিস্টরা এ দেশে চিরস্থায়ী হতে পারেনি। এ সময় বিদেশে শ্রমিক হিসেবে বাংলাদেশিদের সুনামের কথাও তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) চেয়ারম্যান ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, গিয়াস কামাল চৌধুরীর মতো গুণী ও দেশপ্রেমিক মানুষকে স্মরণ করার অর্থ হলো ভালো কাজের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করা। দেশে গুণী, ভালো ও প্রয়োজনীয় মানুষদের স্মরণ করার লোকের অভাব রয়েছে। বরং প্রকৃত ভিলেনদের হিরো বানাতে নানা আয়োজন করা হয়। সে দিক থেকে গিয়াস কামাল চৌধুরীকে স্মরণ করা একটি ভালো কাজ।

গিয়াস কামাল চৌধুরীর ব্যক্তিত্বের স্মৃতিচারণা করে আবদুল হাই শিকদার বলেন, জীবনানন্দ দাশের ভাষায় বলতে ইচ্ছে করে—‘এ পৃথিবী একবার পায় তাকে, পায় না তো খোয়ার।’ গিয়াস কামাল চৌধুরীর মতো আরও সাংবাদিক আসবেন, নতুন মুখ আসবে; কিন্তু তার মতো ব্যক্তিত্ব আর কখনও পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

মরহুম আনোয়ার জাহিদ, আহমেদ হুমায়ুন, এনায়েতুল্লাহ খান, আকরাম খান ও আবুল কালাম শামসুদ্দিনের বুদ্ধিবৃত্তিক সাংবাদিকতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা ছিলেন বুদ্ধিবৃত্তিক সাংবাদিক। তবে গিয়াস কামাল ছিলেন গণমানুষের সাংবাদিক। মানুষের জন্য, দেশের জন্য তার অন্তরের দরদ আজ আর দেখা যায় না। তার মধ্যে সব সময় মওলানা ভাসানীর ছায়া দেখা যেত।

গিয়াস কামাল চৌধুরীর মানবিকতার স্মৃতিচারণা করে শিকদার বলেন, প্রেস ক্লাবের ইফতার মাহফিলের পর বেঁচে যাওয়া ফলমূল ঝোলায় ভরে নিতেন তিনি। অনেকে এতে অবাক হলেও পরে জানতে পারতেন, সেসব খাবার প্রেস ক্লাব থেকে পল্টন পর্যন্ত ফুটপাতের হকার ও ভিক্ষুকদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন গিয়াস কামাল। সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত থাকা এই সাংবাদিককে অনেকে ভুল বুঝলেও তিনি নিজের পকেটের টাকা দিয়ে মানুষের রিকশাভাড়া ও খাবারের খরচ জোগাতেন।

তিনি আরও বলেন, নতুন যমুনা সেতু চালুর ১৫ দিন পর রাজশাহীতে একটি সেমিনারে যাওয়ার পথে এক দুর্বৃত্তকে হাতুড়ি দিয়ে সেতুতে আঘাত করতে দেখে গাড়ি থামিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন গিয়াস কামাল। দেশের সামান্য ক্ষতিও তার দৃষ্টি এড়াত না।

গিয়াস কামালের জনপ্রিয়তার স্মৃতি তুলে ধরে আবদুল হাই শিকদার বলেন, চলনবিলের কাদায় গাড়ি আটকে গেলে তিনি ক্ষেতমজুরদের কাছে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন। ভয়েস অব আমেরিকার পরিচিত কণ্ঠের এই সাংবাদিককে চিনতে পেরে খেটে খাওয়া মানুষগুলো সারিবদ্ধভাবে তাকে কদমবুচি করেন। এটি তার বিপুল জনপ্রিয়তার প্রমাণ।

বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গিয়াস কামালের অটুট আস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ফেনীতে খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করায় গিয়াস কামালকে ভয়েস অব আমেরিকা থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। চাকরি ছেড়ে দিলেও তিনি খালেদা জিয়ার প্রতি আস্থার জায়গা থেকে সরে দাঁড়াননি।

আবদুল হাই শিকদার বলেন, গিয়াস কামাল মুখের ওপর সত্য কথা বলতে কখনও ভয় পেতেন না। আদর্শনিষ্ঠ ও ন্যায়নিষ্ঠ এমন বিরল দেশপ্রেমিক সাংবাদিক আজকের সমাজে অত্যন্ত দুর্লভ।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ মাসুমের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সমিতির মহাসচিব মোহাঃ শেখ সাদীসহ অন্যরা।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মারুবেনি চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির সভাপতি এবং মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি। সোমবার জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল পৌনে ৪টায় এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন জানান, সাক্ষাতে তারেক রহমান দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে মাসুমি কাকিনোকির নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখায় তাঁকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

সাক্ষাতে মাসুমি কাকিনোকি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উন্নত উৎপাদনশিল্পসহ সম্ভাবনাময় খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে এসব খাতে বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে।

কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) আধুনিকায়ন এবং দেশে দ্বিতীয় একটি সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাইয়েও জাপানের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্কার, বিনিয়োগসংক্রান্ত অনুমোদনপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদারের মাধ্যমে জাপানি ব্যবসায়ীদের জন্য বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে।

সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মারুবেনি করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসায়ুকি ওমোতোর নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, সার ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা এবং দেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়।

৯৯৯ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করলেন অভিনেতা শিমুল

০

৯৯৯ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেছেন অভিনেতা সুজাত শিমুল। শনিবার সন্ধ্যায় মিরপুরের একটি রেস্তোরাঁয় থিয়েটার ও আবৃত্তিশিল্পী জান্নাতুন নেছার সঙ্গে তাঁর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বিয়ের খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই জানিয়েছেন অভিনেতা।

সুজাত শিমুল জানান, দুই পরিবারের স্বজনদের উপস্থিতিতে ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তবে ডিসেম্বর মাসে সহকর্মী ও সতীর্থদের নিয়ে বড় পরিসরে আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।

নিজের ফেসবুক পোস্টে অভিনেতা লেখেন, ‘একান্তই পরিবারের স্বজনদের উপস্থিতিতে এই আয়োজন স্বল্প পরিসরে সম্পন্ন হয়েছে। ডিসেম্বর মাসে আপনাদের (সহকর্মী-সতীর্থ) সবাইকে নিয়ে মূল আয়োজন সম্পন্ন হবে ইনশাআল্লাহ। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যাতে আমাদের দাম্পত্য জীবন সুখের হয়।’

865049257 2308023406631794 8010408669039682233 n 1793003002

মাত্র ৯৯৯ টাকা দেনমোহরে বিয়ের সিদ্ধান্তের পেছনের ভাবনাও জানিয়েছেন সুজাত। তার ভাষায়, ‘আমরা বিয়েকে জীবনের খুব প্রয়োজনীয় একটি অংশ মনে করি। বিয়ের মধ্য দিয়ে জীবনের নতুন একটি অধ্যায় শুরু হয়, একধরনের পরিপূর্ণতা আসে। অন্যদিকে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিপদ-আপদে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করি; সেখান থেকেই ট্রিপল নাইন ধারণাটা আসে।’

দেনমোহরের অঙ্কটি বেছে নেওয়ার পেছনে আরও একটি বার্তা দিতে চেয়েছেন অভিনেতা। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় যে বার্তা দিতে চেয়েছি, আমরা বিয়েতে কাবিন করতে গিয়ে এত লাখ টাকা, এত লাখ টাকা—এর মধ্যে যেন মনে হয়, একটা বিনিময় কিংবা আস্থা-অনাস্থার বিষয় সামাজিকভাবে হয়ে আসছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে, নারী হিসেবে একটা সাহস—৯৯৯ টাকা কাবিনে বিয়ে করছে। অনেক কিছু মিলেই এই ৯৯৯ টাকার ভাবনাটা এসেছে।’

সুজাত শিমুল ও জান্নাতুন নেছার বিয়েতে দুই পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য অভিনেতা ও নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদসহ আরও অনেকে।

862349990 1111746774579551 6420825974938113391 n 1793003036

নতুন জীবনের শুরুতে দাম্পত্য সুখ ও সবার দোয়া চেয়েছেন অভিনেতা। ডিসেম্বরের বড় আয়োজন ঘিরেও এখন অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁর সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক কারখানায় আগুনে একজনের মৃত্যু

ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি প্লাস্টিকের কারখানায় আগুনে একজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নিহতের নাম জানা যায়নি।

সোমবার দুপুর ১২টার দিকে নারিকেল বাগ এলাকার আমান প্লাস্টিক কারখানায় আগুন লাগে। দুপুর ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানা গেছে।

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া বিভাগের কর্মকর্তা তালহা বীন জসিম জানিয়েছেন, ফায়ার সার্ভিসের ৮ ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে।

তিনি জানান, সোমবার দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে আগুনের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ১২টা ৩২ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা আগুন নেভাতে সেখানে পৌঁছেন।

প্রথমে ৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে আরও ৩টি এতে ইউনিট যোগ দেয়।

এছাড়া আগুনের ঘটনায় ঘটনা দগ্ধ মো. মানিক (৪৫) নামের একজনকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তার শরীরের ১০০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

ট্রাকচালক হোসেন হত্যা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিচার শুরু

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ট্রাকচালক মো. হোসেনকে গুলি করে হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।

সোমবার ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলম আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ২৫ নভেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন আদালত।

২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে এই প্রথম কোনো হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হলো। এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মোহাম্মদপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ট্রাকচালক হোসেন। এ ঘটনায় সাজ্জাদ ও শাহিন নামে আরও দুজন আহত হন।

হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় তার মা মোসাম্মৎ রীনা বেগম ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন। তদন্ত শেষে মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আকরামুজ্জামান গত বছরের ২৩ নভেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২০ জন পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গত ২৬ জানুয়ারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানসহ চারজন কারাগারে রয়েছেন। জামিনে আছেন ১০ জন।

শেখ হাসিনা ছাড়া এ মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান ও নুর মোহাম্মদ সেন্টু।

বিএসপিএ জার্নালিস্ট অ্যাওয়ার্ড: পুরস্কার জিতলেন সমকালের সঞ্জয়

০

বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসপিএ) আয়োজিত ‘ম্যাক্স-বিএসপিএ জার্নালিস্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’-এ পুরস্কার জিতলেন দৈনিক সমকালের ক্রীড়া সম্পাদক সঞ্জয় সাহা পিয়াল। শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত স্পোর্টস জার্নালিস্ট অ্যাওয়ার্ডে ফিচার (প্রিন্ট ও অনলাইন) বিভাগে (রনজিৎ বিশ্বাস ট্রফি) দ্বিতীয় রানার আপ হয়েছেন তিনি। এই বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কালের কন্ঠের শাহজাহান কবীর। প্রথম রানার আপ হয়েছেন ডেইলি স্টারের আসফাক-উল-আলম আলম।

এছাড়া বর্ষসেরা ক্রীড়া সাংবাদিকের পুরস্কার জিতেছেন দৈনিক আগামীর সময়ের রাহেনুর ইসলাম। বরাবরের মতো স্বাধীন বিচারক প্যানেলের মার্কিংয়ে সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে তওফিক আজিজ খান ট্রফি এবং ১ লক্ষ টাকার চেক জিতে নেন রাহেনুর। রানার-আপ হয়েছেন প্রথম আলো’র ক্রীড়া সম্পাদক তারেক মাহমুদ ও ঢাকা পোস্ট ডটকমের সিনিয়র রিপোর্টার আরাফাত জোবায়ের।

BSPA 1792866814

বিএসপিএ সভাপতি রেজওয়ান উজ জামান-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশনের সিনিয়র সহ- সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর। ম্যাক্স গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় বিএসপিএ টানা ১১তম বারের মতো আয়োজন করেছে ক্রীড়া সাংবাদিকদের এই স্বীকৃতি প্রদান অনুষ্ঠান।

এবারও আটটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট বিভাগে সেরা হয়ে বদি-উজ- জামান ট্রফি জিতেছেন সময় টিভির সিনিয়র রিপোর্টার এস এম ইকবাল কাউসার। রানার্স-আপ হয়েছেন তিনজন- দৈনিক প্রথম আলো’র তারেক মাহমুদ, দ্য রিয়াসাদ আজিম- এর রিয়াসাদ আজিম ও দৈনিক প্রথম আলো’র জহির উদ্দিন। ইন্টারভিউ (প্রিন্ট ও অনলাইন) বিভাগে সেরা হয়ে আতাউল হক মল্লিক ট্রফি জিতেছেন রাহেনুর ইসলাম। এই বিভাগে দুই রানার্স- আপ হয়েছেন দৈনিক প্রথম আলো’র তারেক মাহমুদ ও বাংলাট্রিবিউন ডট কম- এর তানজীম আহমেদ। ইন্টারভিউ (টিভি) বিভাগে সেরা হয়েছেন নিউজ টোয়েন্টি ফোর- এর শুভ দেবনাথ। এই বিভাগে দুই রানার্স- আপ যমুনা টেলিভিশনের মেহেদী হাসান নাঈম ও টি স্পোর্টস- এর মৌসুমী মৌ।

সিরিজ রিপোর্ট বিভাগে সেরা হয়ে আব্দুল হামিদ ট্রফি জিতে নিয়েছেন ঢাকা পোস্ট ডট কম- এর আরাফাত জোবায়ের। এই বিভাগের দুই রানার্স-আপ দৈনিক আগামীর সময়ের রাহেনুর ইসলাম ও টি স্পোর্টস- এর রুবেল রেহান। ফিচার (প্রিন্ট ও অনলাইন) বিভাগে সেরা হয়ে রণজিৎ বিশ্বাস ট্রফি জিতেছেন দৈনিক কালের কণ্ঠের শাহজাহান কবীর। এই বিভাগে দুই রানার্স-আপ দৈনিক সমকালের সঞ্জয় সাহা পিয়াল ও দ্য ডেইলি স্টার- এর আশফাক উল আলম। ডকুমেন্টরি (টিভি) বিভাগে সেরা হয়ে রণজিৎ বিশ্বাস ট্রফি জিতেছেন এখন টিভি’র এসকে শাওন। এই বিভাগে দুই রানার্স- আপ শরীফ এখন টিভি’র রওশন ও টি স্পোর্টস- এর রাহুল রায়। ফটোগ্রাফি বিভাগে সেরা হয়ে বদরুল হুদা চৌধুরী ট্রফি জিতেছেন প্রথম আলো’র শামসুল হক টেংকু। এই বিভাগে দুই রানার্স- আপ ডেইলি স্টার- এর ফিরোজ আহমেদ ও দৈনিক আগামীর সময়ের মোশারফ হোসেন।

এই অনুষ্ঠানে বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক জনাব মোস্তফা কামাল ও সিনিয়র ক্রীড়ালেখক জনাব মেজর (অব.) শাহাবউদ্দিন চাকলাদারকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।