Home Blog Page 2

টানা দুই দিন কমল সোনার দাম, আজ ভরিতে ২২১৬ টাকা

০

এক দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে সোনার দাম আবার কমানো হয়েছে। আজ সোনার দাম ভরিতে কমেছে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা। নতুন দর সকাল ১০টায় কার্যকর হয়েছে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সোনার মূল্যহ্রাসের বিষয়টি জানিয়েছে। তারা বলেছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম কমে যাওয়ায় দাম সমন্বয় করা হয়েছে। যদিও মূল বিষয় হলো, বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমে যাওয়া। একই সঙ্গে আজ রুপার দাম কমানো হয়েছে।

দাম সমন্বয়ের কারণে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি ভালো মানের সোনার দাম হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের দাম হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা; ১৮ ক্যারেটের দাম হয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা; সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা।

আজ মূল্যহ্রাসের আগপর্যন্ত সোনার দাম ছিল এ রকম: ২২ ক্যারেটের সোনার দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা। ২১ ক্যারেটের ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা; ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা; সনাতন পদ্ধতির ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকা।

এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর ভালো মানের প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমানো হয়। গতকাল সোমবার কমানো হয় ২ হাজার ১৫৮ টাকা। আজ কমল ২ হাজার ২১৬ টাকা। ফলে তিন দফায় ভালো মানের প্রতি ভরি সোনার গয়নার দাম কমল মোট ৬ হাজার ৬৫ টাকা।

সোনার পাশাপাশি আজ রুপার দামও কমেছে। প্রতি ভরিতে দাম কমেছে সর্বোচ্চ ১৭৫ টাকা। এতে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম হয়েছে ৪ হাজার ৩১৫ টাকা।

দেশের বাজারে সোনার সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি সোনার দাম দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। সেদিন সকালে একলাফে ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় দাঁড়ায়। এরপর সোনার দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার টাকার নিচে নেমে এসেছিল। তারপর আবার বেড়ে যায়। সব মিলিয়ে উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সোনার বাজার।

বিশ্ববাজারে কী পরিস্থিতি

টানা কয়েক দিন ধরে বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমছে। আজ মঙ্গলবার সোনার দাম আউন্সপ্রতি ১০ ডলার কমেছে। গোল্ড প্রাইস ডট অর্গের তথ্যানুসারে, আজ সকাল ১০টা ৪২ মিনিটে সোনার দাম ছিল আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ১২৬ ডলার। ফলে সোনার দাম সাত সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এর আগে চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি স্পট মার্কেটে সোনার দাম প্রতি আউন্সে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫৮৯ ডলারে উঠেছিল।

সামগ্রিকভাবে গত ৩০ দিনে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ২৯০ ডলার কমেছে। গত ছয় মাসে বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমেছে প্রায় ৩৯১ ডলার।

সাধারণত অনিশ্চয়তার মধ্যে সোনার দাম বেড়ে যায়, কিন্তু এবার ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সোনার দাম উল্টো কমেছে। আল–জাজিরার সংবাদে বলা হয়েছে, সোনা সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সুদের হার বাড়লে সোনার আকর্ষণ কমে যায়। কেননা তখন সুদ পাওয়া যায়—বিনিয়োগকারীরা এমন সম্পদে বিনিয়োগে বেশি আগ্রহী হন।

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডভিত্তিক পোয়েজ ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইজর্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শরিফ ওথমান আল–জাজিরাকে বলেন, ‘সাধারণ মানুষের জীবনে এর অতটা প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ার কথা নয়। তবে যাঁরা মূল্যস্ফীতি থেকে সুরক্ষা পেতে সোনায় বিনিয়োগ করেছিলেন, তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, বিশেষ করে বিদ্যমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়।’

শরিফ ওথমান আরও বলেন, ‘সোনা থেকে সুদ পাওয়া যায় না। তাই ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সোনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। এতে সোনার দামেও প্রভাব পড়ে।’

মিশিগানে মেয়েকে গাড়ী চালানো শিখাতে গিয়ে প্রাণ গেলো বাংলাদেশি বাবার

০

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ওয়ারেন শহরে ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাতে গিয়ে নিজের মেয়ের চালানো গাড়ির ধাক্কায় মোহাম্মদ আব্দুর রহিম (৬২) নামে এক বাংলাদেশির করুণ মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল চারটার দিকে ওয়ারেন শহরের ওয়ার্নার অ্যাভিনিউর ২৪ হাজার ব্লকের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ক্লিকঅনডেট্রয়েট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় মেয়েটি গাড়ি পার্ক করার অনুশীলন করছিল। একপর্যায়ে গাড়িটি অসাবধানতাবশত নিয়ন্ত্রণে হারিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাবাকে ধাক্কা দেয় এবং কিছু দূর টেনে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আব্দুর রহিমকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ওয়ারেন পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর মেয়েটি ঘটনাস্থলেই অবস্থান করে তদন্ত কর্মকর্তাদের সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে। তাঁর দেওয়া বর্ণনার সঙ্গে প্রাথমিক আলামতের মিল পাওয়া গেছে এবং এই ঘটনায় মাদক বা অ্যালকোহল ব্যবহারের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ঘটনাটি ওয়ারেন পুলিশের ট্রাফিক ক্র্যাশ রিকনস্ট্রাকশন ইউনিট তদন্ত করছে।

পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় প্রকাশ না করলেও বাংলাদেশি প্রবাসীদের সংগঠন ‘আমেরিকা বাংলা কমিউনিটি’ সূত্রে নিহত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ আব্দুর রহিম ও তাঁর বাংলাদেশি পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কমিউনিটি ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত আব্দুর রহিমের দেশের বাড়ি ঢাকার ধানমন্ডিতে। প্রায় সাত বছর আগে বড় মেয়ের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক। তাঁর ছেলে বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন।

মিশিগানের প্রবাসীদের মধ্যে আব্দুর রহিমের এই আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। বর্তমানে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

দুর্গাপূজায় মিলবে টানা ৫ দিনের ছুটি

০

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি বছর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজায় ২ দিনের ছুটি নির্ধারিত আছে। পূজার ছুটির পর একদিন অফিস খোলা থাকবে, এরপর আবার ২ দিন সাপ্তাহিক ছুটি। এসব বিবেচনায় পূজার ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে একদিনের কর্মদিবসও ছুটি ঘোষণা সরকারের বিবেচনায় আছে।

সরকার একদিন ছুটি ঘোষণা করলে পূজা উপলক্ষে টানা ৫ দিনের ছুটি পাবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

জানা যায়, ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী আগামী ২০ অক্টোবর নবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে এবং ২১ অক্টোবর দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি থাকবে। এরপর ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার অফিস খোলা। পরের দুইদিন ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র-শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিধি অনুবিভাগ) মোঃ মোস্তফা জামান সমকালকে বলেন, দুর্গাপূজায় নির্বাহী আদেশে ২২ অক্টোবর বাড়তি ছুটি দেওয়ার চিন্তা করছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তবে এই ছুটির জন্য পরবর্তীতে কোন শনিবারে অফিস খোলা রাখা হবে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে পাঠানো হবে। বৈঠকে এটি অনুমোদিত হলে একদিন ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানান তিনি।

২২ অক্টোবর ছুটি ঘোষণা হলে সরকারি চাকরিজীবীরা ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটি ভোগ করবেন।

এলপিজির দাম নিয়ে ভোগান্তি সরবরাহ কম

০

রান্নার গ্যাসের বাজারে আবারও অস্বস্তি। সরকারি দরে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। কিন্তু নগরের খুচরা বাজারে সেই সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা বেশি পর্যন্ত ।

কোথাও কোথাও দাম উঠেছে ২ হাজার ২০০ টাকায়ও। বেশি দাম দিয়েও অনেক দোকানে মিলছে না সিলিন্ডার। ফলে আবাসিক পর্যায়ে ক্রেতাদের বাড়ছে ভোগান্তি ।

আমদানিকারকদের ভাষ্য মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্তিতিতে দেশীয় পর্যায়ে আমদানি কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে কার্গো পাওয়া কঠিন হয়েছে। হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরকেন্দ্রিক নৌপথে অস্থিরতায় বেড়েছে জাহাজভাড়া ও কার্গো প্রিমিয়াম । এর সঙ্গে পাইপলাইনের গ্যাস সংকটে এলপিজির চাহিদা বাড়ায় বাজারে তৈরি হয়েছে নতুন চাপ।

 

বাড়তি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা

নগরের বাকলিয়া, কোতোয়ালি, চকবাজার, চান্দগাঁও এর বিভিন্নস্থানে ঘুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে এলপিজির সরবরাহে কিছুটা টান রয়েছে। অনেক ডিলার সরবরাহ করছে না। যার ফলে একই ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার একেক দোকানে একেক দামে বিক্রি হতে দেখা যায়। কোথাও দোকানে সিলিন্ডার আছে, কিন্তু দাম বেশি। আবার কোথাও দোকান খোলা থাকলেও বিক্রির মতো সিলিন্ডার নেই ।

বাকলিয়ার কালামিয়া বাজার এলাকার সিলিন্ডার ব্যবসায়ী মো. নাঈম উদ্দীন বলেন, ‘গত কয়েক দিনের মধ্যেই এলপিজির সরবরাহের পরিস্থিতি বদলে গেছে। ডিলারদের কাছ থেকে আগের মতো নিয়মিত সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দোকানে খালি সিলিন্ডার জমছে। যদিওবা নানা লবিংয়ে কোন কোম্পানির সরবরাহ পাওয়া যায়, আমাদেরকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সরকারের নির্ধারিত দরে ডিলাররা আমাদের এলপিজি সিলিন্ডার দিচ্ছে না। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে ক্রেতার ওপর।’

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৮০০ টাকার ওপরে বিক্রি করতে হচ্ছে। সরকারি দরে কোথাও নেই, আমরা কিভাবে বিক্রি করবো?’

একই থানাধীন চাক্তাই এলাকার মদিনা এন্টারপ্রাইজ এর মালিক মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘ওমেরা, টোটাল, বিএম, আইগ্যাস ও ফ্রেশসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দাম এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি । ব্র্যান্ডভেদে দামের পার্থক্যও রয়েছে। সরকারি দরে খুচরা বিক্রেতার কাছে পণ্য না এলে নির্ধারিত দামে বিক্রি করার সুযোগ পাচ্ছি না।’
এভাবে নগরের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডার বাড়তি দরে বিক্রি করতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিজেন্সি গ্যাস হাউসের ডিলার মো. মহসিন বলেন, ‘গত এক সপ্তাহের মতো সময় ধরে নিয়মিত সিলিন্ডার সরবরাহ হচ্ছে না । ডিলার পর্যায়ে পণ্য না আসায় খুচরা পর্যায়ে প্রভাব পড়ছে । ফলে বাজারে শুধু দাম বাড়ছে না, কোথাও কোথাও পণ্যের উপস্থিতিই কমে যাচ্ছে।’

সরকারি দর কমেছে, বাজারে বেড়েছে

সিলিন্ডারের বাজার তদারকি করে জানা যায়, সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটর কমিশন (বিইআরসি) এলপিজির দাম বাড়ায়নি। বরং কমিয়েছে। ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম আগস্টের ১ হাজার ৫৯৮ টাকা থেকে ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। প্রতি কেজি দাম ধরা হয়েছে ১৩২ টাকা ১২ পয়সা। নতুন দর চলতি মাসের ২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয় । কিন্তু সেই দরে নগরের কোথাও মিলছে না কোন সিলিন্ডার।

জানা যায়, বিইআরসি আন্তর্জাতিক বাজারের সৌদি কনট্রাক্ট প্রাইস, পরিবহন ব্যয়, ব্যবসায়ীদের প্রিমিয়াম ও ডলার বিনিময় হার বিবেচনা করে মাসিক মূল্য নির্ধারণ করে। সেপ্টেম্বরের জন্য সৌদি সিপির গড় মূল্য ছিল প্রতি টন ৬৪৭ দশমিক ৭৫ ডলার। কিন্তু সরকারি দর আর বাজারদরের মধ্যে এখন ব্যবধান ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। ফলে প্রশ্ন উঠেছে – এই অতিরিক্ত টাকা কোথায় বাড়ছে?
–
বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, সেপ্টেম্বরের বাজারে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে আমদানি করা পণ্য না পাওয়ায় সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। অক্টোবরেও পর্যাপ্ত কার্গো নিশ্চিত করা না গেলে বাজারের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

আমদানি কমেছে ২৫ শতাংশ

তবে সংকটের সবচেয়ে বড় কারণগুলোর মধ্যে আমদানি কমে যাওয়াকে দায়ী করছেন আমদানিকারকরা। আগস্টে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছিল। সেপ্টেম্বর মাসে এখন পর্যন্ত এসেছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন। অর্থাৎ গত এক মাসের তুলনায় আমদানি কমেছে প্রায় ৪০ হাজার টন বা ২৫ শতাংশ ।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যেও একই প্রবণতা দেখা গিয়েছে। সংস্থাটির তথ্যমতে আগস্টে ১৩টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার টন এলপিজি আমদানি করেছিল। সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখ পর্যন্ত আমদানিকারকের সংখ্যা ৯টিতে নেমেছে। ওই সময় পর্যন্ত আমদানি হয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার টন।

এছাড়া দেশে এলপিজি খাতে ৫২টি লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ৩২টির নিজস্ব বোতলজাতকরণ কারখানা আছে । ২৩টি প্রতিষ্ঠানের আমদানির সক্ষমতা থাকলেও নিয়মিত আমদানি করে মূলত ৮ থেকে ৯টি প্রতিষ্ঠান। ফলে কয়েকটি বড় আমদানিকারকের আমদানির ওপর বাজারের সরবরাহ অনেকটাই নির্ভরশীল।

কার্গো আছে, গ্যাস নেই

তবে সিলিন্ডারের সংকটের মূল কারণ হিসেবে একেক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের ভাষ্য একক রকম। মেঘনা ফ্রেশ এলপিজির প্রধান বিপণন কর্মকর্তা আবু সায়েদ রাজা বলেন, ‘এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কার্গো পাওয়া। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য থাকলেও সেটি বাংলাদেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় জাহাজ ও নিরাপদ রুট নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশে এলপিজি আনার ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর গুরুত্বপূর্ণ রুট। সংঘাত ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই রুটগুলোতে বাধা তৈরি হওয়ায় বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে । এতে পথ দীর্ঘ হচ্ছে, পরিবহন ব্যয় বাড়ছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ওমান, মালয়েশিয়া ও নরওয়ের মতো বিকল্প উৎস থেকে সীমিত পরিমাণে পণ্য আসছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আবু সায়েদ রাজার ভাষ্যমতে, আরেকটি বড় সমস্যা চুক্তিভিত্তিক সরবরাহ। কিছু সরবরাহকারী চুক্তিতে থাকা পুরো পরিমাণ এলপিজি দিতে পারছে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্ধারিত মাসিক পরিমাণের প্রায় ২০ শতাংশ কম সরবরাহের কথা জানানো হয়েছে। অর্থাৎ আমদানিকারক বেশি দাম দিতে রাজি থাকলেও সবসময় পণ্য নিশ্চিত করতে পারছেন না বলে জানান তিনি ।

প্রিমিয়াম ১৬০ থেকে ৪০০ ডলার

এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি, জাহাজ, বিমা, পরিবহন এবং কার্গো প্রিমিয়ামও বড় ব্যয় বেড়েছে বলে জানান এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশ (এলওএবি) এর সদস্যরা। সংগঠনটির সদস্যদের দেয়া তথ্য মতে, আগে আমদানির হিসাবের মধ্যে প্রতি টনে প্রায় ১৬০ ডলারের প্রিমিয়াম ধরা হলেও এখন বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে ২৬০ থেকে ৪০০ ডলার পর্যন্ত প্রিমিয়াম দিতে হচ্ছে।

কিছু আমদানিকারক চুক্তির তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম পণ্য পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন । বিইআরসির নির্ধারিত খুচরা মূল্য যদি আন্তর্জাতিক ব্যয়ের দ্রুত পরিবর্তনকে প্রতিফলিত না করে, তাহলে আমদানিকারকের সামনে দুটি পথ থাকে, বেশি দামে পণ্য এনে লোকসান দেওয়া, অথবা আমদানি কমিয়ে দেওয়া। আমদানি কমলে আবার বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়। সেই ঘাটতি খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ার চাপ তৈরি করে বলে জানান সংগঠনটির সদস্যরা।

বিএম এনার্জির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্যাপ্টেন মঈনুল আহসান খান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে ফ্রেইট ব্যয় বিইআরসির হিসাবের তুলনায় অনেক বেড়েছে। বেসরকারি এলপিজি আমদানিকারকদের ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ থাকলেও সরকারি পর্যায়ে এলএনজি আমদানির মতো এলপিজিতে সরাসরি ভর্তুকির সুযোগ নেই। অক্টোবরের জন্য কিছু এলপিজি সংগ্রহ করা গেলেও এতে বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে।’

ওমেরা আনল ৩০ হাজার টন

বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ওমেরা পেট্রোলিয়াম সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ৩০ হাজার টন এলপিজি আমদানি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানজীম চৌধুরী জানান, ‘উৎপাদক পর্যায় থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও বাজারে প্রয়োজনীয় পণ্য রাখার চেষ্টা করছে ওমেরা। সব প্রতিষ্ঠান একই হারে সরবরাহ সংকটে পড়েনি। কারও কাছে আমদানির পণ্য এসেছে, কারও ক্ষেত্রে চুক্তির পুরো পণ্য আসেনি। ফলে ডিলার পর্যায়ে ব্র্যান্ডভেদে সরবরাহের পার্থক্য তৈরি হয়েছে।’

গ্যাস সংকট বাড়াচ্ছে এলপিজির চাহিদা

আগস্টেও শুরু থেকে নগরে কমেছে পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহ। যার ফলে সিএনজি ফিলিং স্টেশন, কারখানা ও আবাসিক পর্যায়ে সংকটের প্রভাব দেখা গিয়েছিল। যা সরবরাহ সংকট সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহেও পুরোপুরি কেটে উঠেনি। এদিকে গ্যাসের চাপ কমলে রান্না, শিল্প ও বাণিজ্যিক কাজে বিকল্প জ্বালানির প্রয়োজন বাড়ে। এর একটি বড় অংশ পূরণ করছে এলপিজি।

তথ্যমতে, দেশে বছরে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন এলপিজি ব্যবহৃত হয়। প্রায় ১ কোটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে এই জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। মোট ব্যবহারের প্রায় ৮০ শতাংশ যায় রান্নার কাজে। ফলে সরবরাহে সংকট দেখা দিলে সরাসরি প্রভাব পড়ে।

বিইআরসি সদস্য মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘চলতি মাসে বেসরকারি উৎপাদকদের সরবরাহ প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার টনে পৌঁছেছে। আগের বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৬ হাজার টন । অর্থাৎ উৎপাদন ও সরবরাহ একেবারে কমে গেছে, এমন নয়। কিন্তু পাইপলাইনের গ্যাস সংকটের কারণে এলপিজির অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হওয়ায় বাজারে চাপ বেড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উৎপাদকদের সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে।’

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে মৃত্যু ছাড়ালো ১১০০

০

দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হামে ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০৪ জনে।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৫১৬ জন, রাজশাহীতে ২৯, সিলেটে ২০৬, চট্টগ্রামে ২৭৯, বরিশালে ১০৭, ময়মনসিংহে ৮৬, খুলনায় ৮৯ এবং রংপুরে ২৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৫৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৯৮ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।

 

ফাঁস হলো নির্বাচনের আগেই নেতানিয়াহুর গোপন সফর

০

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছেন। সফরকালে তিনি আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেন। দীর্ঘদিন গুঞ্জনের পর অবশেষে এ সফরের সত্যতা স্বীকার করেছে আবুধাবি।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে আরব আমিরাত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফরের কথা নিশ্চিত করে। মূলত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন হামলার আগে নেতানিয়াহুকে আমিরাতি প্রেসিডেন্ট আগাম সতর্ক করেছিলেন কি না–তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠার পরই এই সফরের খবর প্রকাশ্যে এল।

আমিরাতের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াম জানিয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং তা আরও জোরদার করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার ১০ দিন আগে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহুকে তৎকালীন হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের একটি হুমকির বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। সিনওয়ার নাকি একটি ‘বড় ধরনের চমক’ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমনকি ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতকেও একই বার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠে। তবে নেতানিয়াহুর কার্যালয় এসব তথ্য শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে।

আইনসভা নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে নেতানিয়াহুর এই গোপনীয় সফর ইসরায়েলি রাজনীতিতেও তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। আগামী নির্বাচনে আসন ধরে রাখার লড়াইয়ে থাকা নেতানিয়াহু বর্তমানে জনমত জরিপে পিছিয়ে রয়েছেন, যেখানে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ চুক্তির পর থেকে ইসরায়েল ও আরব আমিরাতের সম্পর্ক এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে।

অক্সফোর্ডে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাইমুরের সাফল্য

০

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউ কলেজ থেকে পদার্থবিজ্ঞানে বিএ অনার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাইমুর মুজিব রহমান। অনার্সে ৬৭ শতাংশ নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পাশাপাশি তিনি প্রফেসর স্টিফেন টাকারের তত্ত্বাবধানে বিএ প্রজেক্ট ও বিএ গ্রুপ প্রজেক্টের জন্য অক্সফোর্ড থেকে দুটি স্বতন্ত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি সেরেমনি অনুষ্ঠিত হয়।

এরই মধ্যেই লন্ডনে বৈশ্বিক ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং ও ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস প্রতিষ্ঠান Jefferies Financial Group Inc.-এ পেশাগত কর্মজীবন শুরু করেছেন সাইমুর। অক্সফোর্ডে পড়াকালীন তিনি একাধিক প্রফেশনাল ইন্টার্নশিপ করেছেন- যার মধ্যে জাপানের ওকিনাওয়া ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, স্টার্লিং টেক কোম্পানি ও জেফ্রিজ -এ একযোগে ডেটা সায়েন্স ও ইনফরমেশন সিকিউরিটি বিভাগে কাজ অন্যতম।

সাইমুর লন্ডনের ‘লন্ডন একাডেমি অব এক্সসেলেন্স’ থেকে পদার্থবিজ্ঞান, গণিত, উচ্চতর গণিত ও রসায়নে এ স্টার অর্জন করে এ লেভেল সম্পন্ন করেন। এ লেভেলে ইপিকিউতে তাঁর টপিক ছিল ‘টু হোয়াট এক্সটেন্ট ক্যান কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এফেক্ট দি ওয়ার্ল্ড, ইকোনোমিক্যালি, এনভারমেন্টালি অ্যান্ড সোস্যালি’।

নজরুল ইসলাম খান বললেন চাঁদাবাজির সঙ্গে বিএনপি জড়িত নয়

০

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, চাঁদাবাজি ও দখলদারির সঙ্গে বিএনপি জড়িত নয়। এসব নিয়ে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পূর্ববর্তী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

নজরুল ইসলাম বলেন, কোনো চাঁদাবাজির সঙ্গে আমরা জড়িত নই। প্রকৃত নেতাকর্মীরা কেউ জড়িত নয়। যে আসলে শহীদ জিয়ার কর্মী সে কখনও চাঁদাবাজ, দখলবাজ হতে পারে না। চাঁদাবাজরা বিএনপির না।

তিনি বলেন, আমরা কারও কাছে হাত পাতি না। আমরা পরিশ্রমী মানুষ। নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই জনগণের শান্তি ও সরকারের উন্নয়ন প্রয়াসকে যারা নষ্ট করছে, তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান বলেছিলেন আমি একজন শ্রমিক এবং এজন্য আমি গর্ববোধ করি। বিএনপি বরাবর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারকারী জনগণের পক্ষের দল। আমাদের নেতাকর্মীরা জেল খেটেছেন। মনে রাখতে হবে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও শান্তির জন্য ১৯৭১ সালে মানুষ রক্ত দিয়েছে। এরপরও ১৭ বছর আমাদের লড়াইয়ের ময়দানে থাকতে হয়েছে। ২৪-এ সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছেন শ্রমজীবী মানুষ।

বিক্ষোভ মিছিলে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, সোমবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) উদ্যোগে আয়োজিত এক সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ফরহাদ হালিম ডোনার বলেছেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে ভয় পাননি, তাই এখন কাউকে ভয় পাওয়ারও কারণ নেই।

তিনি বলেন, দেশ যখন উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জনগণকে চোখ-কান খোলা রেখে সতর্ক থাকতে হবে।
ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, শেখ হাসিনার থেকে তো আপনারা বেশি স্বৈরাচার হতে পারবেন না। অর্থাৎ তাকে যখন আমরা ভয় পাইনি, আপনাদের ভয় পাওয়ার কিছু নাই।

বিদ্যুৎ ও পেট্রোলের সমস্যা নিয়ে আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসব সমস্যা বিএনপি সৃষ্টি করেনি তাহলে এসব সমস্যা নিয়ে আবার লংমার্চ কেন এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

ডোনার বলেন, উনারা বলেন যে বিদ্যুতের সমস্যা, এটা পেট্রোলের সমস্যা। আবার উনাদের নেতা সংসদে দাঁড়িয়ে বলতেছেন, এই সমস্যা বিএনপির সৃষ্টি না, এই সমস্যা হয়েছে সরাসরি শেখ হাসিনার আমলের সরকারে। তিনি নিজেই যদি স্বীকার করেন, তাহলে আবার এই লংমার্চ কেন?

দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর দেশে যেসব ক্ষতি হয়েছে, সেগুলো ঠিক করাই এখন তাদের কাজ।

তিনি বলেন, আমরা ১৭ বছর আন্দোলন করছি। যেখানে যা ক্ষতি হয়েছে, সেটা আমরা ঠিক করব। এ সময় ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদাবাজদের পুনর্বাসনে ‘ভিক্ষার’ ‘দানবাক্স’ বসানোর আহ্বান হাসনাত, পাটওয়ারীর

০

চাঁদাবাজি ঠেকাতে ‘চাঁদাবাজ পুনর্বাসন দানবাক্স’ স্থাপনের জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তারা বলেছেন, এই বাক্সে যে অর্থ উঠবে, সেখান থেকে চাঁদাবাজদের ‘ভিক্ষা’ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে চাঁদাবাজদের কর্মসংস্থান হবে। তখন চাঁদাবাজরা আর সাধারণ মানুষের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা–লুটপাট করতে যাবে না।

সোমবার রাজধানীর বাংলামোটর–হাতিরপুল এলাকায় হাসনাতের উদ্যোগে এই প্রতীকী কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে তিনি এবং পাটওয়ারী ‘চাঁদাবাজ পুনর্বাসন দানবাক্স’ প্রদর্শন করেন। বাক্সের গায়ে চাঁদাবাজদের কার্যক্রমের ছবি দিয়ে লেখা ছিল ‘চাঁদাবাজদের মবতন্ত্র!’, ‘চান্দা ভাইকে চাঁদা নয়, ভিক্ষা দিন’।

হাসনাত, পাটওয়ারীর সঙ্গে এনসিপির নেতাকর্মীরা স্লোগান দেন ‘ভিক্ষা লাগলে ভিক্ষা নে, জনগণকে মুক্তি দে’, ‘বিএনপির চাঁদাবাজি, চলবে না চলবে না’, ‘চাঁদাবাজির বাংলাদেশ, ফিরবে না ফিরবে না’, ‘নো টেইক ব্যাক বাংলাদেশ, ফরওয়ার্ড বাংলাদেশ’ প্রভৃতি বলে স্লোগান দেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, চাঁদাবাজরা বাজার, হাসপাতাল, যানবাহনসহ পরিবহন খাত এবং সব শ্রেণির ব্যবসায়ীদের অতিষ্ঠ করে ফেলেছে। বিএনপি সরকার এমন পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে, চরে গরুকে ঘাস খাওয়াতে হলেও চাঁদা দিতে হয়। বাড়িঘর, মাদ্রাসা দখল হচ্ছে। ঢাকা শহরে দিনদুপুরে চাঁদাবাজরা অস্ত্র নিয়ে দখল ও লুণ্ঠন করছে।

চাঁদাবাজি থেকে মুক্তির জন্য হাসনাত গণভিক্ষার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, প্রতিটি মোড়ে চাঁদাবাজদের দানবাক্স রাখুন। ৫-১০ টাকা করে ভিক্ষা দিন। বিএনপির যেসব চাঁদাবাজ নেতা-কর্মী আছেন, তাদের চাঁদাবাজির দরকার নেই। ভিক্ষার টাকায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। আপনারা অন্তত আমাদের জানটাকে নিরাপত্তা দিন। আপনাদের ভিক্ষা দেব, তবু বাড়িঘর-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নষ্ট করার দরকার নেই, সালমান মুক্তাদিরদের স্টুডিও ভাঙার দরকার নেই। এগুলো থেকে নিস্তার চাই।

পরে প্রতীকী ভিক্ষার বাক্স নিয়ে মিছিল হয়। বাংলামোটর ও হাতিরপুল এলাকায় ব্যবসায়ীদের অনেকের সঙ্গে কথা বলেন হাসনাত–পাটওয়ারীসহ এনসিপির নেতারা। হাতিরপুলের মোতালিব প্লাজার সামনে গিয়ে মিছিল শেষ হয়।

সেখানে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সব ব্যবসায়ী ভাইদের বলব, দোকানে বাক্স রাখুন। মানুষকে বলবেন ভিক্ষা দিতে। যদি কোনো চাঁদাবাজ দোকানে আসে, তাদের ভিক্ষার বাক্স নিয়ে দেবেন।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারসহ নেতাকর্মীরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

জ্বালানির দাম বাড়িয়ে কীভাবে সংকটের অবসান হলো, বিপিসির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে কমিটি

০

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে জ্বালানি সংকট সৃষ্টির কারণ এবং সংকটকালীন ও পরবর্তী সময়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা একই থাকার পরও শুধু জ্বালানির মূল্য বাড়িয়ে কীভাবে সংকটের অবসান হয়েছে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির প্রথম বৈঠকে এ বিষয়ে বিপিসির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। কমিটির সভাপতি ও সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, মোছা. তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মো. মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান অংশ নেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন সময়ে পেট্রোলিয়াম পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ও সমন্বয়ের কারণ, মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার উপায় এবং মূল্য হ্রাস-বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল পিএলসির ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এ ছাড়া দেশের বর্তমান জ্বালানি চাহিদা, জ্বালানি সংরক্ষণের সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পর্কে পরবর্তী বৈঠকে কমিটিকে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়, মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।