Home Blog Page 2

উদ্ভাবন শুঁটকি ও খাদ্য সংরক্ষণে লাগবে না রোদ

কৃষি ও মৎস্যপণ্যের উৎপাদন বাড়লেও সংগ্রহ-পরবর্তী সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ঘাটতির কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পণ্য নষ্ট হয়। বিশেষ করে মাছ, শুঁটকি, ফল ও সবজি শুকানোর ক্ষেত্রে বৃষ্টি, অতিরিক্ত আর্দ্রতা, ধুলাবালি ও পোকামাকড়ের কারণে পণ্যের মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রচলিত পদ্ধতিতে রোদে শুকাতে গিয়ে বৃষ্টি, ধুলাবালিসহ নানা সমস্যা পোহাতে হয়। এসব সমস্যা সমাধানে সৌরশক্তি, সেন্সর ও ইন্টারনেট অব থিংস প্রযুক্তির সমন্বয়ে স্মার্ট ড্রায়ার উদ্ভাবন করেছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশিং অ্যান্ড পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগ।

গতকাল শুক্রবার শেকৃবি সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তাঁর এ উদ্ভাবন সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন ওই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা। উদ্ভাবকদের দাবি, প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় এই ড্রায়ারে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে দ্রুত ও নিরাপদে মাছ, শুঁটকি, ফল, সবজি ও বিভিন্ন কৃষিপণ্য শুকানো সম্ভব।

দেশে দীর্ঘদিন ধরে মাছ ও অন্যান্য কৃষিপণ্য খোলা জায়গায় রোদ ও বাতাসের সাহায্যে শুকানো হয়। কম খরচের এই পদ্ধতিতে বৃষ্টি, ধুলাবালি ও পোকামাকড়ের সংস্পর্শে পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে শুকানোর প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে পচনও শুরু হতে পারে। শুঁটকি তৈরিতে অনিরাপদ রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে, যা খাদ্যনিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ।

এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে স্মার্ট ড্রায়ারে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা শুকানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দিনের বেলায় সৌরশক্তি ব্যবহার করে তা ব্যাটারিতে সঞ্চয় করা হয়। রাতে সেই সঞ্চিত শক্তি ব্যবহার করে ইনফ্রারেড হিটারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তাপ উৎপাদন করা যায়। ফলে বাইরে বৃষ্টি বা মেঘলা আবহাওয়া থাকলেও ড্রায়ারের ভেতরে শুকানোর কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব।

ড্রায়ারটির ভেতরে রয়েছে চারটি এক্সজস্ট ফ্যান ও আটটি রোটেটিং ফ্যান। এক্সজস্ট ফ্যান পণ্য থেকে বের হওয়া আর্দ্রতা দ্রুত বাইরে সরিয়ে ড্রায়ারের ভেতরের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। অন্যদিকে রোটেটিং ফ্যান ভেতরের তাপ সমভাবে ছড়িয়ে দেয়। ফলে বিভিন্ন স্তরে থাকা পণ্য তুলনামূলকভাবে সমান পরিবেশে শুকানোর সুযোগ পায়। প্রযুক্তিটির আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ইন্টারনেট অব থিংস ও সেন্সরভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। ড্রায়ারের ভেতরের বিভিন্ন পরিবেশগত বিষয় সেন্সরের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা যায়। পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দূর থেকেও এর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের সুযোগ রয়েছে।
উদ্ভাবকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রচলিত পদ্ধতিতে দিনে প্রায় পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা কার্যকরভাবে মাছ শুকানো যায়। বিপরীতে স্মার্ট ড্রায়ারে ২৪ ঘণ্টা শুকানোর সুযোগ থাকায় শুকানোর সময় প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এতে একই সময়ে বেশি পরিমাণ শুঁটকি উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

শুধু মাছ বা শুঁটকি নয়, এই প্রযুক্তিতে ফল, সবজি, সি-ফুড ও বিভিন্ন কৃষিপণ্য শুকিয়ে মূল্য সংযোজিত পণ্য তৈরি করা যায়। আম, বিটরুট, রোজেলা, লেমন, কাঁঠাল, কলা, করলা, কাঁচামরিচ ও ধনিয়াপাতাসহ বিভিন্ন পণ্য থেকে পাউডার, চা ও জার্কি তৈরিও সম্ভব এই ড্রায়ার ব্যবহার করে।

উদ্ভাবক ড. মাসুদ রানা বলেন, লক্ষ্য শুধু একটি শুকানোর যন্ত্র তৈরি করা নয়; বরং কৃষক ও মৎস্যজীবীদের উৎপাদিত কাঁচামাল স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজিত পণ্যে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি করা। দেশের বিভিন্ন কৃষি ও মৎস্যপ্রধান এলাকায় প্রযুক্তিটি সম্প্রসারণ করা গেলে খাদ্য অপচয় কমানো, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষকের আয় বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

এক দিন পর উৎপাদনে ফিরল বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিট

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এক দিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটে আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ৯টা ৪৩ মিনিট থেকে উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে এ ইউনিট থেকে ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বর্তমানে ১ নম্বর ইউনিট থেকে ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে হঠাৎ ১ নম্বর ইউনিটের একটি পাম্পে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পরে ইউনিটটি বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এতে ওই ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে মোট তিনটি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ৩ নম্বর ইউনিটটি চালু রয়েছে। এ ইউনিট থেকে ১৭০ থেকে ১৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিটটি ২০২০ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে।

৪২৬ রানে অলআউট বাংলাদেশ, লিড ২২৮ রানের

লাঞ্চের পর ফিরে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। জশ হ্যাজলউডের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারির ক্যাচ হন তিনি। ১৫৪ বলে ৬৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন মিরাজ।

মিরাজকে ফিরিয়ে টেস্টে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন হ্যাজলউড। একই সঙ্গে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ৩০০ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেন অস্ট্রেলিয়ার এই পেসার। অস্ট্রেলিয়ার নবম বোলার হিসেবে টেস্টে ৩০০ উইকেটের ক্লাবে ঢুকেছেন তিনি।

এরপর শেষ উইকেট হিসেবে এবাদত হোসেনকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসও গুটিয়ে দেন হ্যাজলউড। ১৩৭.৬ ওভারে শর্ট অব লেংথের বলে ব্যাট চালিয়ে অ্যালেক্স ক্যারির ক্যাচ হন এবাদত। ১৮ বলে ৭ রান করেন তিনি।

বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ৪২৬ রানে অলআউট হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের জবাবে সফরকারীদের লিড দাঁড়িয়েছে ২২৮ রান। বাংলাদেশের হয়ে ব্যাট হাতে তানজিদ হাসান তামিমের ১০১, নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ ও মিরাজের ৬৫ রানের ইনিংস ছিল উল্লেখযোগ্য। এখন দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামবে অস্ট্রেলিয়া।

২১৯ রানের লিড নিয়ে লাঞ্চে বাংলাদেশ

ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনও নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। মিরাজের অপরাজিত ফিফটির সঙ্গে তাসকিনের ব্যাটিংয়ে লাঞ্চে যাওয়ার সময় ৮ উইকেটে ৪১৭ রান করেছে সফরকারীরা। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে করা ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ২১৯ রানে।

দিনের শুরুতে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। প্রথম সেশনেই ২ উইকেট হারালেও মিরাজের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে বড় লিডের পথে এগিয়ে যায় দল। হাসান মাহমুদকে নিয়ে ৪৬ রানের জুটি গড়ার পর ৯২ বলে ১৪ রান করে ফেরেন হাসান। জশ হ্যাজলউডের ফুল ও সোজা বল তার প্যাডে আঘাত করলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। এরপর তাইজুল ইসলাম ২৩ বলে ১৭ রান করে আউট হন। হ্যাজলউডের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে গালিতে ক্যামেরন গ্রিনের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।

এরপরও এক প্রান্ত আগলে রাখেন মিরাজ। ১১৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। এর আগে দিনের শুরুতেই হ্যাজলউডের বলে এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে আউট দেওয়া হলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান এই অলরাউন্ডার। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল স্টাম্পের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল।

তৃতীয় দিনের প্রথম ঘণ্টা পেরিয়ে বাংলাদেশের লিড দুইশ ছাড়ায়। এরপর প্যাট কামিন্সের বলে চার মেরে দলকে ৪০০ রানের মাইলফলকে পৌঁছে দেন তাসকিন। পরের বলেই অবশ্য জীবন পান তিনি। স্কয়ার লেগে তার ক্যাচ নিতে পারেননি স্টিভ স্মিথ।

সেশনের শেষ দিকে ক্যামেরন গ্রিনের বাউন্সারে দারুণ এক শটে ফাইন লেগ দিয়ে ছক্কা হাঁকান মিরাজ। লাঞ্চে যাওয়ার সময় ১১৭ বলে ৬৫ রানে অপরাজিত তিনি। তার সঙ্গে ১২ রানে ব্যাট করছেন তাসকিন আহমেদ। তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে ২৩ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৬৬ রান করেছে বাংলাদেশ।

পুঁজিবাজার থেকে ১৫০০ কোটি টাকা তুলতে চায় সিটি গ্রুপ

সংকট কাটাতে পুঁজিবাজার থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দেশের অন্যতম ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক সিটি গ্রুপ। গ্রুপটি বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ যথাসময়ে পরিশোধ না করতে পেরে বর্তমানে সমস্যায় রয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের ঋণ ঋণ পুনর্গঠন সুবিধার আওতায় খেলাপি না করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ সময়ের মধ্যে গ্রুপটি কিছু সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে আংশিক ঋণ সমন্বয় করার কথা।

সিটি গ্রুপ জানিয়েছে, তহবিল সংগ্রহের জন্য ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও), প্রাইভেট ইকুইটি, প্রেফারেন্স শেয়ার, করপোরেট বন্ড, সুকুক বা অনুমোদিত অন্য যেকোনো পুঁজিবাজার উপকরণ থাকতে পারে। লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টস সব ধরনের বিধিবিধান ও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন সাপেক্ষে ইস্যু ব্যবস্থাপনা ও পুঁজিবাজার কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবে। প্রস্তাবিত লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত ব্যাংকিং সেবা ও অবকাঠামো দিতে ব্যাংকিং পার্টনার ও ব্যাংকার টু দ্য ইস্যু হিসেবে লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টের সঙ্গে কাজ করবে ওয়ান ব্যাংক।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসান, গ্রুপের উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার ও পরিচালক ফারজানা রহমান এবং শম্পা রহমান, ওয়ান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিত রহমান, লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের এমডি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এ তহবিল সংগ্রহের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো পুঁজিবাজারে প্রবেশ করছে সিটি গ্রুপ।

আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে যথাযথ আইন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং বাজার পরিস্থিতি সাপেক্ষে প্রস্তাবিত এ তহবিল সংগ্রহ প্রক্রিয়া করা হবে। অন্যান্য অর্থায়ন বিকল্পের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি ও অর্থায়নের চাহিদা মেটাতে টেকসই একটি উৎস হিসেবে পুঁজিবাজারকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
সিটি গ্রুপ পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে ব্যবসা করছে। ভোজ্যতেল, আটা-ময়দা, চিনি, ডাল, চাল, ফিডসহ অন্যান্য ভোগ্য ও শিল্প পণ্যের ব্যবসা রয়েছে। পাশাপাশি ইস্পাত, শিপিং, চা ও গণমাধ্যমে তাদের বিনিয়োগ রয়েছে। তীর, বেঙ্গল, ন্যাচারাল, জীবন, কুইক বাইট ও জেলফি সিটি গ্রুপের অন্যতম ব্র্যান্ড।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ পর্যন্ত সিটি গ্রুপের দেশি-বিদেশি মোট ৪৭ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ২৪ হাজার ৯১১ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে। ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রায় ২৩শ কোটি টাকার পাবে এইচএসবিসি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১শ কোটি টাকা পাবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ। পর্যায়ক্রমে শীর্ষ পাওনাদারের তালিকায় রয়েছে–সিটি, ইউসিবি, ইস্টার্ন, পূবালী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, প্রাইম, ব্র্যাক ও ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক। বিপুল অঙ্কের এই ঋণের মধ্যে গ্রুপটির বৈদেশিক মুদ্রার ঋণ ৩ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যস্ততায় ঋণ দেওয়া ব্যাংকগুলো একটি কমিটি গঠন করেছে। একাধিক বৈঠকও করেছে গ্রুপটি।

এসব বৈঠকে গ্রুপটির সবচেয়ে বড় ঋণের বোঝা থাকা হোসেন্দী অর্থনৈতিক অঞ্চলের ৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কয়েকটি বিক্রির বিষয়ে আলোচনা হয়। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় ১০৮ দশমিক ৫৭ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ঋণ রয়েছে। ২০২২ সালে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত হলেও গ্যাস সংযোগ না পাওয়ায় কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। বিপুল অঙ্কের অর্থ আটকে যাওয়ায় গ্রুপটির সংকটের অন্যতম কারণ। এছাড়া ২০২২ সালে বিনিময়হারে বড় পরিবর্তনের কারণেও তারা লোকসানে পড়ে। ঋণ পরিশোধ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গ্রুপটির মালিকানাধীন ১৮ হাজার ৮৭৫ একর আয়তনের ৮টি চা বাগানের আংশিক বিক্রি হতে পারে। পুরো গ্রুপের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আন্তর্জাতিক অডিট প্রতিষ্ঠান ‘আর্নেস্ট অ্যান্ড ইয়ং’কে দিয়ে একটি ব্যবসায়িক পুনর্গঠন পরিকল্পনা তৈরি করানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ নীতি সহায়তার আওতায় খেলাপি না করা, সুদের হার কমানো, ১ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন সুবিধা চেয়ে গত ৩১ মার্চ আবেদন করে সিটি গ্রুপ। এ বিষয়ে গভর্নরের সঙ্গে গ্রুপটির নীতি নির্ধারকরা বৈঠক করেন। ব্যাংকগুলোও নিজেরা বৈঠক করে একটি কমিটি গঠন করে।

অর্থাভাবে থমকে তিন মেধাবীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন

অদম্য ইচ্ছা আর কঠোর অধ্যবসায়ের কাছে হার মেনেছে দারিদ্র্য। ‘নুন আনতে পান্তা ফুরানো’ সংসারে থেকেও এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে কেশবপুরের তিন অদম্য মেধাবী ছাত্রী– সুমি খাতুন, তানিয়া নাসরিন ও হাজিরা আক্তার মিতু। তারা উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের গড়ভাংগা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। তবে এই অর্জনের আনন্দের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর বিষাদ। চরম অর্থকষ্টে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তাদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ।

২০ কিলোমিটার হেঁটে চূড়ায় সুমি
সুমি খাতুন মনিরামপুর বাঙালীপুর গ্রামের দিনমজুর আব্দুস সাত্তারের মেয়ে। পাঁচ সদস্যের সংসার আর তিন বোনের লেখাপড়ার খরচ চালাতে গিয়ে তার বাবাকে হিমশিম খেতে হয়। অর্থাভাবে স্কুলে যাতায়াতের জন্য গাড়ি ভাড়া বা সাইকেলের সংস্থান হতো না সুমির। দিনে প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ হেঁটে সে স্কুলে যাতায়াত করেছে।

সুমি জানায়, বেলকাটি গ্রামে নানা বাড়িতে থেকে সে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। কিন্তু সপ্তম শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় নানা মকছেদ গাজী মারা যান। তখন ১০ কিলোমিটার দূরের নিজ বাড়িতে ফিরতে হয় তাকে। শত কষ্টেও স্কুল ছাড়েনি সে। বিজ্ঞানে জিপিএ ৫ পেলেও সুমির দুশ্চিন্তা, কলেজে ভর্তি হওয়া নিয়ে।

অসুস্থ বাবার দুশ্চিন্তা ঠেলে তানিয়ার জয়
তানিয়া নাসরিন ও হাজিরা আক্তার মিতুর বাড়ি ব্যাসডাঙ্গা গ্রামে। তাদের এলাকা বছরের প্রায় আট মাসই জলাবদ্ধ থাকে। প্রতিদিন কাদাপানি মাড়িয়ে সাড়ে তিন কিলোমিটার হেঁটে স্কুলে যেত তারা।

তানিয়ার বাবা আবুল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ, তবু ভ্যান চালিয়ে পাঁচজনের সংসার আর দুই মেয়ের পড়ার খরচ মেটান। বড় বোনের বিয়ে হলেও মেজ বোন কলেজে পড়ে, ঘরে রয়েছেন অসুস্থ দাদিও। শত অভাবের মধ্যেও জিপিএ ৫ পেয়েছে তানিয়া। তবে অসুস্থ বাবার চোখে এখন একটাই দুশ্চিন্তা– মেয়ের স্বপ্নের পথে বাধা পেরুবেন কীভাবে?

মায়ের সঙ্গে বিলে মাছ ধরে মিতুর সংগ্রাম
মিতুর গল্পটি আরও বেশি সংগ্রামময়। দিনমজুর বাবা হোসেন আলীর সামান্য আয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার চলা দায় ছিল। বাধ্য হয়ে মিতুর মা শরীফা বেগম জলাবদ্ধ এলাকায় মাছ ধরে তা বিক্রি করে সংসারের হাল ধরেন। বন্ধের দিনগুলোতে মিতুও মায়ের সঙ্গে বিলে নেমে মাছ ধরত।

পানিতে কায়িক শ্রম দিয়ে যার কৈশোর কেটেছে, সে আজ বিজ্ঞানে জিপিএ ৫ পেয়ে চমক লাগিয়ে দিয়েছে। তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি দারিদ্র্যকে হার মানালেও উচ্চশিক্ষার খরচ জোগানো নিয়ে সে এখন শঙ্কিত। এই তিন জয়িতার সাফল্যের হাসি আজ মলিন হওয়ার পথে।

গড়ভাংগা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুপ্রভাত বসু বলেন, ‘সুমি, তানিয়া ও মিতু আমাদের প্রতিষ্ঠানের গর্ব। স্কুল থেকে সাধ্যমতো তাদের সহায়তা করা হয়েছে। কিন্তু তাদের পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল। এ কারণে আমরাও এখন তাদের উচ্চশিক্ষা নিয়ে চিন্তিত। সমাজের দানশীল ও বিত্তবান ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে এই অদম্য মেধাবীরা দেশের সম্পদ হয়ে উঠবে।’

হরমুজ প্রণালি মার্কিন ভূখণ্ড হবে ‘খুব শিগগির’: ট্রাম্প

ইরানকে পরাজিত করার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এ ঘোষণা খুব শিগগিরই দেওয়া হতে পারে। তবে কীভাবে এমন ঘোষণা বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

শুক্রবার নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটির নাসাউ কাউন্টি পুলিশ একাডেমিতে এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানকে পরাজিত করার কাজ শেষ হলে, যা এখন খুব খারাপভাবে পরাজিত হচ্ছে-খুব শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করব।’

হেসে হেসে এ কথা বলার পর ট্রাম্প বলেন, ‘এটা সত্য।’ একই দিনে ফক্স নিউজকে তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে এবং তার অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজকে সেখানে চলাচল করতে দেওয়া হবে না।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা ছিল অভিযানের অন্যতম ঘোষিত লক্ষ্য।

এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে এবং বেসামরিক জাহাজ চলাচল সীমিত করে। যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করলেও শুক্রবার সেখানে হাতেগোনা কয়েকটি জাহাজ চলাচল করেছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এই পথ বন্ধ বা সীমিত থাকায় জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধ জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প সমাবেশে বলেন, ‘আমাদের অবরোধ আছে। আমরা না চাইলে কোনো জাহাজই পার হতে পারবে না।’ তিনি এ অবরোধকে বিশ্বের জন্যও একটি ‘বড় সেবা’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ইরান তাৎক্ষণিকভাবে এর বিরোধিতা করেছে। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেছেন, হরমুজ প্রণালিকে কোনো টুইট, বিমানবাহী রণতরি, আদেশ কিংবা নির্বাচনী বক্তৃতার মাধ্যমে দখল করা যাবে না। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, ইরানের আছে এবং ইরানেরই থাকবে। তার দাবি, এই প্রণালি কখন খুলবে বা বন্ধ হবে, সে সিদ্ধান্ত ইরানই নেবে।

এদিকে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকানোর মূল্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কিছুটা বেশি জ্বালানির দাম মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, আমেরিকানদের যদি পেট্রলের জন্য ‘সামান্য একটু বেশি’ অর্থ দিতে হয়, তাহলে তাদের মনে রাখা উচিত-ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্যই এই মূল্য দিতে হচ্ছে।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে। রয়টার্সের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ০৮ ডলারে উঠেছে, যা এক বছর আগের তুলনায় ২৯ শতাংশ বেশি। যুদ্ধ শুরুর আগে গড় দাম ছিল প্রায় ২ দশমিক ৯৮ ডলার।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে। নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ডেমোক্র্যাটরা ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবকে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছে। একই সময়ে যুদ্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও বিরোধিতা বাড়ছে।

সমাবেশে ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানে হামলার জন্য তিনি কখনো ক্ষমা চাইবেন না। তার দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান শুধু আমেরিকার জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্য ‘একটি বড় সেবা’।

এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান এখনো সম্পূর্ণ বিপরীত। ওয়াশিংটন যেখানে নিজেদের অবরোধ ও সামরিক উপস্থিতির মাধ্যমে জলপথটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করছে, তেহরান সেখানে প্রণালিটির ওপর নিজেদের কর্তৃত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করছে। ফলে ট্রাম্পের সর্বশেষ ঘোষণায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সীতাকুণ্ডে এলএনজি জাহাজে বিষক্রিয়ায় ৯ শ্রমিকের মৃত্যু অনাগত সন্তানের মুখও দেখা হলো না পলাশের

মাত্র কয়েক মাসের সংসার। আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ভূমিকা রানী দাস। অনাগত সন্তানকে ঘিরে ছিল নতুন স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ হারিয়ে স্ত্রী ও অনাগত সন্তানকে রেখে না ফেরার দেশে চলে গেলেন পলাশ জলদাস।

শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ নামের একটি জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে বিষক্রিয়ায় নয় শ্রমিক নিহত হন। তাঁদের একজন পলাশ জলদাস।

দুর্ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে পলাশের বাড়ি। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে নেমে আসে শোকের ছায়া। বাড়ির আঙিনায় স্বজনদের আহাজারি। ঘরের ভেতর কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পলাশের মা। আর নির্বাক হয়ে বসে আছেন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ভূমিকা।

মাত্র নয় মাস আগে ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছিল পলাশ ও ভূমিকার। অল্প আয়ের মধ্যেই মা-বাবা, বোন, ছোট ভাই ও স্ত্রীকে নিয়ে সাজিয়েছিলেন ছোট্ট সংসার। সংসারে নতুন অতিথি আসার অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন তাঁরা।

কিন্তু শুক্রবার সকালেই সবকিছু বদলে গেল। কর্মস্থলে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারালেন পলাশ। স্বামীকে হারিয়ে ভূমিকার কপালের সিঁথি থেকে মুছে গেছে সিঁদুর। অথচ তাঁর গর্ভে বেড়ে উঠছে পলাশের সন্তান, যে সন্তান পৃথিবীর আলো দেখার আগেই হারাল বাবাকে।

পলাশের বড় বোন রত্নারানী দাস কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ভাইয়ের সুখের সংসারটা কী হলো? কে দেখবে আমার ভাইয়ের সংসার? বিয়ে করেছে মাত্র কয়েক মাস। তার মধ্যে স্ত্রী আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। মা হার্টের রোগী। প্রতি সপ্তাহে অনেক টাকার ওষুধ কিনতে হয়। এখন সংসার কীভাবে চলবে?’

বিলাপ করতে করতে পলাশের মা বলেন, ‘আমার ছেলের বদলে যদি আমাকে নিয়ে যেত, তাতেই ভালো হতো।’

পলাশের স্বজনরা জানান, পরিবারের জন্য কাজ করতেন তিনি। স্ত্রীকে নিয়ে ছিল নানা স্বপ্ন। অনাগত সন্তানকে ঘিরেও ছিল পরিবারের আনন্দ। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তেই সবকিছু শেষ করে দিল।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্ঘটনার পর ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসের কারণে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটির পর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

পলাশের পরিবার এখন শোক আর অনিশ্চয়তার মধ্যে। সামনে ভূমিকার সন্তান জন্ম নেবে। কিন্তু সেই সন্তানকে আর কোনোদিন কোলে তুলে নিতে পারবেন না পলাশ। তাঁর রেখে যাওয়া স্মৃতি আর অনাগত সন্তানটিই এখন হয়ে থাকবে পরিবারের কাছে তাঁর শেষ চিহ্ন।

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ২, সুনামি সতর্কতা

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে দেশটির ইস্ট নুসা তেনগারা প্রদেশের ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এতে বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

জাকার্তায় এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র বার্টন সুয়ার পেলিতা পাঞ্জাইতান জানান, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত একজন পুরুষ ও একজন নারী নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভূমিকম্পের পর ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া গেলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ভূমিকম্পের পর ফ্লোরেস দ্বীপের কয়েকটি এলাকায় প্রায় তিন ফুট উচ্চতার সুনামির ঢেউ আঘাত হানে। উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হলে আতঙ্কে বহু মানুষ নিরাপদ ও উঁচু এলাকায় সরে যান। পরে সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা।

গ্যাস সংকট থাকছেই, সামিটের সরবরাহ শুরু এক্সিলারেট বন্ধ

একটি টার্মিনাল চালু হয়েছে, আরেকটি বন্ধ। ফলে মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ঘিরে তৈরি হওয়া সংকট এখনও কাটেনি। গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে বন্ধ থাকা সামিট এলএনজি টার্মিনাল গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে। এর আগেই গতকাল বিকেল ৪টার দিকে কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে গেছে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল। রাত ১০টা পর্যন্ত সেটি চালু হয়নি।

সামিটের সরবরাহ ধীরে ধীরে বাড়ানোর কথা। গতকাল দিবাগত রাত ২টার দিকে তা প্রায় ৫৫ কোটি ঘনফুটে পৌঁছানোর আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে গ্যাসের ঘাটতি কিছুটা কমতে পারে। কিন্তু এক্সিলারেট কখন চালু হবে, তা নিশ্চিত নয়। ফলে সামিট চালু হওয়ার পরও গ্যাসসংকট কতটা কমবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
গত কয়েক দিনের সংকটের পেছনে শুধু বৈরী আবহাওয়াই নয়, সামিটের টার্মিনালে একটি এলএনজি কার্গো গ্রহণ না করার ঘটনাও বড় ভূমিকা রেখেছে। সৌদি আরামকোর পাঠানো ‘আলহামরা’ কার্গোটি মহেশখালীর সামিট টার্মিনালে যুক্ত করা হয়নি। টার্মিনাল কর্তৃপক্ষের দাবি, কার্গোটি পুরোনো হওয়ায় জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তরের সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি ছিল। তাই কার্গোটি গ্রহণ না করে ফেরত পাঠানো হয়।

তবে পেট্রোবাংলার একটি সূত্র বলছে, ওই জাহাজে ২০২১ সালের দিকে এলএনজি নেওয়া হয়েছিল। ফলে কিছুটা ঝুঁকি নিয়ে কার্গোটি সামিটের টার্মিনালে যুক্ত করা গেলে গত দুই-তিন দিনের গ্যাস সংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কেউ কেউ। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় টার্মিনাল কর্তৃপক্ষ সেই ঝুঁকি নেয়নি।

আরামকোর কার্গোটি ফিরে যাওয়ায় সামিটের মজুত এলএনজি দিয়েই কয়েক দিন সরবরাহ চালাতে হয়। মজুত কমে আসায় সোমবার সন্ধ্যা থেকে সরবরাহ কমানো শুরু হয়। মঙ্গলবার ২০ কোটি ঘনফুটে নামিয়ে আনা হয়। বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত দেওয়া হয় মাত্র ১০ কোটি ঘনফুট। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় সামিটের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

গতকাল ভিটল এশিয়ার একটি এলএনজিবাহী জাহাজ সামিটের টার্মিনালে যুক্ত হয়। এই কার্গো যুক্ত হলেও তা থেকে টার্মিনালে এলএনজি সরবরাহ শুরু হতে সময় লাগে। তবে গতকাল রাতের মধ্যেই এই সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা।

এদিকে কার্গো যুক্ত হওয়ার পর টার্মিনাল তার মজুত করে রাখা এলএনজি থেকে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে জাতীয় গ্রিডে অল্প অল্প করে গ্যাস দেওয়া শুরু করে সামিট।

সামিটে নতুন কার্গো যুক্ত হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ বাড়ার আশা তৈরি হয়েছে। কিন্তু একই সময়ে এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই স্বস্তি পুরোপুরি মিলছে না।

গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর ৬ আগস্ট একটি বয়লার দিয়ে সীমিত পরিসরে সরবরাহ শুরু হয়েছিল। টার্মিনালটির দুটি বয়লারের প্রতিটির সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট। ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি পুরো সক্ষমতায় চালুর আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। এজন্য পুরো টার্মিনাল প্রায় ৭২ ঘণ্টা বন্ধ রাখার প্রয়োজন হতে পারে। সেই প্রস্তুতির মধ্যেই শুক্রবার বিকেলে আবার কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। রাত ১০টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ শুরু করতে পারেনি এক্সিলারেট।

ফলে সামিটের সরবরাহ বাড়লেও জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ প্রত্যাশামতো বাড়বে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

চাহিদার তুলনায় ঘাটতি বিশাল
দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ করা হয় প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট।

সাম্প্রতিক সময়ে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছে ১৯০ থেকে ২০০ কোটি ঘনফুটের ঘরে। বৃহস্পতিবার সামিট বন্ধ হওয়ার পর সরবরাহ প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুটে নেমে যায়।

সামিট পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরলে কিছুটা ঘাটতি কমবে। অন্যদিকে এক্সিলারেট বন্ধ থাকায় সেই সুবিধার একটি অংশ আবার কমে যাবে। তাই শনিবার সামিটের সরবরাহ ৫৫ কোটি ঘনফুটে উঠলেও দেশে গ্যাসের ঘাটতি থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুটি টার্মিনাল একসঙ্গে স্বাভাবিকভাবে চালু না হওয়া পর্যন্ত স্থায়ী স্বস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা কম। তার ওপর নতুন কার্গো সময়মতো আসা এবং সমুদ্রের আবহাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিদ্যুতেও ভোগান্তি
গ্যাসের ঘাটতির প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ সচল রাখতে গ্যাস দেওয়ায় অন্যান্য খাতে জোগান কমেছে। ফলে গ্যাসের সংকটের সঙ্গে বিদ্যুতের ভোগান্তিও যুক্ত হয়েছে।

তবে শুক্রবার বৃষ্টি ও ছুটির দিনের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলক কম ছিল। ফলে আগের কয়েক দিনের তুলনায় লোডশেডিং কম হয়েছে।

পাওয়ার গ্রিডের হিসাবে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১২ হাজার ৮২০ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল ২০ মেগাওয়াট। রাত ৮টার দিকে চাহিদা বেড়ে ১৫ হাজার ৬৭৩ মেগাওয়াট হলে লোডশেডিং বেড়ে দাঁড়ায় ২১১ মেগাওয়াটে।
এর আগের দিনগুলোতে ঘাটতি ছিল অনেক বেশি। ৯ আগস্ট সর্বোচ্চ ঘাটতি ছিল তিন হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট, ১০ আগস্ট তিন হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট এবং ১১ আগস্ট তিন হাজার ৪৬৫ মেগাওয়াট। বৃহস্পতিবারও সর্বোচ্চ ঘাটতি ছিল দুই হাজার ৬৩৭ মেগাওয়াট।

নারায়ণগঞ্জে শুক্রবারও কয়েক দফা লোডশেডিং হয়েছে। সিলেটেও গত কয়েক দিনে ৩৫ থেকে ৬৮ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল। গাজীপুরে অবশ্য শুক্রবার বেশির ভাগ শিল্পকারখানা বন্ধ থাকায় বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল সামান্য।

রাজধানীতে চুলা জ্বলছে না
গ্যাস সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাসাবাড়িতে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিনের বড় সময় গ্যাসের চাপ থাকছে না। কোথাও সকাল থেকে চুলা জ্বলছে না, কোথাও রাতে অল্প সময়ের জন্য গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।

অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক চুলা, রাইস কুকার কিংবা মাটির চুলা ব্যবহার করছে। কিন্তু গ্যাসের বিকল্প হিসেবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেও স্বস্তি মিলছে না; কারণ সন্ধ্যার পর বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে।

উত্তরা, মিরপুর, আগারগাঁও, রামপুরা, মালিবাগ, মগবাজার, বাড্ডা ও পুরান ঢাকার বাসিন্দারা গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

পাম্পে দীর্ঘ লাইন
গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বেশি ভুগছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকরা। রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন দিতে হচ্ছে। কোথাও ভোররাত থেকে অপেক্ষা করেও কয়েক ঘণ্টা পর গ্যাস মিলছে। আবার অল্প পরিমাণ গ্যাস নিয়েই ফিরতে হচ্ছে চালকদের।

হাজীপাড়া এলাকায় শুক্রবার ভোরে ফিলিং স্টেশনের সামনে দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এক পাশের সারি প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছে যায়। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে কেউ ১৭৯ টাকার গ্যাস পেয়েছেন, কেউ আবার ১০০ থেকে ২০০ টাকার বেশি গ্যাসও পাননি।

সিলেটেও একই চিত্র। বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ লাইনের পাশাপাশি গ্যাস না পেয়ে চালকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও সড়কে যানবাহন আড়াআড়ি রেখে প্রতিবাদ করায় তীব্র যানজট হয়েছে, আটকে পড়েছে অ্যাম্বুলেন্সও।

চাঁদপুরে ছয়টি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে কয়েকটিতে শুক্রবার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। হাজীগঞ্জে গ্যাস না পেয়ে চালকরা সড়ক অবরোধ করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বুধবার থেকে গ্যাস সংকট তীব্র হয়েছে। আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকের পাশাপাশি পাঁচটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও ১৭টি গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানা বন্ধ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

পরিবহনেও বাড়তি ভাড়া
গ্যাসের সংকটের প্রভাব পড়েছে যাত্রী পরিবহনে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মোগরাপাড়া থেকে মদনপুরের স্বাভাবিক ভাড়া ২০ টাকা, কিন্তু এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কাঁচপুরের ৩০ টাকার ভাড়াও বেড়ে ১০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

চালকদের ভাষ্য, ফিলিং স্টেশনে তিন-চার ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত গ্যাস মিলছে না। এতে কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, অনেক গাড়ি রাস্তায় নামানোও সম্ভব হচ্ছে না।

কুমিল্লার হোমনা ও মেঘনাতেও গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে পরিবহনে। কোথাও ১০ টাকার ভাড়া ২০ টাকা এবং ৩০ টাকার ভাড়া ৬০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

সামিট-এক্সিলারেট চালু, গ্যাস সরবরাহ বেড়ে ২৪০ কোটি ঘনফুট

টানা গ্যাস সংকটের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। মহেশখালীর সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকেই এখন গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। শনিবার সকালে সামিট থেকে প্রায় ৪৬ কোটি ঘনফুট এবং এক্সিলারেট থেকে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। এতে জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। পেট্রোবাংলা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

শুক্রবার বিকেলে কারিগরি সমস্যার কারণে এক্সিলারেটের টার্মিনাল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তখন জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুটে। এর কয়েক ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে সামিট থেকে সরবরাহ শুরু হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। শুরুতে সামিট থেকে প্রায় ১১ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হলেও রাতে ধাপে ধাপে তা বাড়ানো হয়।

একই রাতে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকেও আবার সরবরাহ শুরু হয়। বর্তমানে সেখান থেকে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছে। দুই টার্মিনাল মিলে এলএনজি থেকে প্রায় ৭৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।

দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ থাকে ২৬০ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে এলএনজি থেকে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হয়। ফলে সরবরাহ বাড়লেও চাহিদার তুলনায় ঘাটতি এখনও যথেষ্ট।

সংকটের পেছনে দুই টার্মিনাল
মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা দিনে ৬০ কোটি ঘনফুট এবং সামিটের প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট।

২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে টার্মিনালটির স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হয়। পরে অক্ষত বয়লার থেকে ৬ আগস্ট সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়। তবে শুক্রবার বিকেলে কারিগরি সমস্যার কারণে সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। মেরামতের পর রাতে আবার সরবরাহ শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সামিটের টার্মিনালে নতুন এলএনজি কার্গো যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে টার্মিনালে মজুত থাকা এলএনজি দিয়ে কয়েক দিন সরবরাহ চালাতে হয়। মজুত কমে আসায় সোমবার সন্ধ্যা থেকে সরবরাহ কমানো শুরু হয়। মঙ্গলবার তা ২০ কোটি এবং বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ১০ কোটি ঘনফুটে নামিয়ে আনা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় সামিটের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে সামিট আবার গ্যাস দেওয়া শুরু করে। ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়িয়ে শনিবার সকালে তা প্রায় ৪৬ কোটি ঘনফুটে পৌঁছেছে।

এখনও অনিশ্চয়তা 
তবে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার ক্ষেত্রে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এক্সিলারেটের ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালুর আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। এ সময় টার্মিনাল থেকে টানা ৭২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হবে। ফলে ওই পরীক্ষা শুরু হলে জাতীয় গ্রিডে আবার গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে। প্রতিটির সক্ষমতা দিনে ৩০ কোটি ঘনফুট। একটি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেটি চালু হলে এক্সিলারেটের সরবরাহ আরও বাড়বে। তখন জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের ঘাটতিও কিছুটা কমার সুযোগ তৈরি হবে।

তবে দুই টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালু না হওয়া পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।