Home Blog Page 203

শীতকালেও সবজির বাজার ঊর্ধ্বমুখী, বাজারে ভোগান্তিতে ক্রেতারা

কয়েক দিন ধরেই চুয়াডাঙ্গায় শীতকালীন সবজির বাজার ঊর্ধ্বমুখী। বাজারে সবজির সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি। ক্রেতারা বাধ্য হয়েই বেশি দামে সবজি ক্রয় করছেন।

শনিবার সকালে চুয়াডাঙ্গা বড়বাজার পাইকারি সবজির বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

প্রায় ২ সপ্তাহ ধরে চুয়াডাঙ্গায় শীতকালীন সবজির বাজার বাড়তি। যার কারণে ক্রেতারা তাদের প্রয়োজনীয় সবজি ক্রয় করতে পারছেন না। বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১শ টাকা, উস্তে ৭০ টাকা, আলু ২২ টাকা, সিম ৩৫ টাকা, ফুলকপি ৩৫ টাকা, পাতাকপি ১৮ টাকা, মুলা ৩৫ টাকা, আদা ১৬০ টাকা, রসুন ৭০ টাকা, টমেটো ৫০ টাকা, শসা ১০০ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে এ সকল সবজি ১০ থেকে ২০ টাকা কেজিতে বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

মাংসের বাজার স্বাভাবিক রয়েছে। শীতকালে মাছ কম আমদানি হওয়ায় বাজারদর কিছুটা বাড়তি। প্রতি কেজি বয়লার মুরগি ১৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৪০ টাকা ও দেশি মুরগি ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৫০টাকা ও খাসির মাংস ১১০০ টাকা দরে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে বাজারে। মাছের আকার ভেদে ১২০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে দেশি মাছ।

চুয়াডাঙ্গা পোষ্ট অফিস পাড়ার আহসান খান জানান, বাজারে সবজির দাম অনেক বেশি। কয়েক দিনের ব্যবধানে কাঁচামরিচ কেজিতে ৬০ টাকা বেড়েছে। অন্য সবজির গায়ে হাত দেওয়া বেশ কঠিন। তাই অল্প অল্প করে সবজি কিনলাম।

চুয়াডাঙ্গা পলাশপাড়ার হারুন বলেন, এ সময় পাতাকপি-ফুলকপি বাজারে বিক্রি হয়না, কৃষকরা গরু-ছাগল দিয়ে খাওয়ায়। এখন ফুলকপি খুচরা বাজারে ৪০ টাকা কেজি ও পাতাকপি ২৫ টাকা কেজিতে নিতে হচ্ছে। বাজার করতে গিয়ে আমাদের মত অল্প আয়ের মানুষদের অবস্থা নাজেহাল।

চুয়াডাঙ্গা বড়বাজারের আড়তদার বাতেন মিয়া জানান, বাজারে সবজির চাহিদা থাকলেও আমদানি তুলনামূলক কম। যার কারণে দাম কিছুটা বাড়তি। মাঠে সবজি নেই বললেই চলে। আমদানি বাড়লে বাজার স্বাভাবিক হবে।

দেশে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড!

বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের দর বাড়ার প্রভাব দেশের বাজারেও দেখা দিয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২ হাজার ৬২৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করে। এই নতুন দাম শনিবার (১৭ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে ২২ ক্যারেটের (পিওর গোল্ড) স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম এখন ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকা। যা বুধবার ছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকা।

এছাড়া ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৭ টাকা (আগের দিন ২ লাখ ২১ হাজার ৪৯৯ টাকা), ১৮ ক্যারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৯ টাকা (আগের দিন ১ লাখ ৮৯ হাজার ৮৯০ টাকা), এবং সনাতন পদ্ধতিতে স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা (আগের দিন ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৮১ টাকা)।

বাজুস জানিয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির হার পরিবর্তিত হতে পারে।

পরবর্তী সিদ্ধান্ত না জানানো পর্যন্ত এই দাম সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে কার্যকর থাকবে।

সমুদ্রগামী ট্রলার নির্মাণে ঘাম ঝরাচ্ছেন রাঙ্গাবালীর কারিগররা

ভোরের আলো ফোটার আগেই আগুনমুখা নদীর তীরে শুরু হয় কাঠে কাঠুরের আঘাত। দূর থেকে চোখে পড়ে উঁচু মাস্তুল, কাছে আসতেই কানে বাজে টুকুর-টাকুর শব্দ। নতুন কাঠের গায়ে নিপুণ হাতে গড়ে উঠছে বঙ্গোপসাগরগামী মাছ ধরার ট্রলার। শীতের মিষ্টি রোদ মাথায় নিয়েও থেমে নেই কারিগরদের কর্মব্যস্ততা। ঘামে ভেজা শরীর, ক্লান্ত চোখ—তবুও কাজে কোনো ফাঁকি নেই। এই নদীর তীর যেন হয়ে উঠেছে শ্রম, অভিজ্ঞতা আর জীবনের ঝুঁকির এক নীরব কর্মশালা।

এখানকার ট্রলার নির্মাণ কোনো কারখানাভিত্তিক শিল্প নয়। এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে গড়ে ওঠা দেশীয় কারিগরি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ফল। প্রতি বছর মহাজনদের চাহিদা অনুযায়ী আগুনমুখা নদীর তীরে তৈরি হয় একের পর এক সমুদ্রগামী মাছ ধরার ট্রলার। আকার, নকশা, সক্ষমতা—সবই নির্ধারিত হয় মহাজনের ইচ্ছা ও সাগরের বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে।

চার দশকের বেশি সময় ধরে এই শিল্পে যুক্ত হেড মিস্ত্রি রাখাল মণ্ডল বলেন, একটি ট্রলার বানানোর আগে কাগজে নকশা আঁকতে হয়, গ্রাফ করে নিতে হয় পুরো কাঠামো। তবে অনেক কিছুই অভিজ্ঞতার কারণে মাথার ভেতরেই আঁকা থাকে। তিনি জানান, বড় আকারের একটি সমুদ্রগামী ট্রলার তৈরি করতে ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয় এবং সময় লাগে তিন থেকে সাড়ে তিন মাস। ট্রলার তৈরি শেষ হলেও দায়িত্ব শেষ হয় না। সাগরে ভাসিয়ে একদিন চালিয়ে পরীক্ষা করার পর কোনো সমস্যা না থাকলেই মিস্ত্রির কাজ সম্পন্ন হয়।

এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের জীবনও কম সংগ্রামের নয়। ট্রলার নির্মাণে কর্মরত সুজিৎ জানান, কখনো চুক্তিভিত্তিক আবার কখনো দৈনিক মজুরিতে কাজ করতে হয়। দক্ষতার ওপর নির্ভর করে দৈনিক ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি পাওয়া যায়। পারিবারিকভাবে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত না হলেও এক ওস্তাদের হাত ধরে এই কাজে আসেন তিনি। এখন এই কাজই তার জীবিকার একমাত্র ভরসা।

নির্মাণাধীন আরেকটি ট্রলারের হেড মিস্ত্রি ফারুক জানান, তার ট্রলারটির দৈর্ঘ্য ৫৪ ফুট, উচ্চতা ১০ ফুট এবং পেছনের প্রস্থ ১০ ফুট। মাস্তুলের দিকে প্রস্থ ধাপে ধাপে কমে আসে। একটি আস্ত গাছ দিয়ে তৈরি মাস্তুলের ব্যাস ন্যূনতম ১০ ফুট হতে হয়। ট্রলারের কাঠামোতে দুই থেকে পাঁচ ইঞ্চি পর্যন্ত লোহার ব্যবহার রয়েছে। নির্মাণে ব্যবহৃত হয় রেন্ট্রি, মেহগনি, কড়ই ও চাম্বল কাঠ।

তবে এই ট্রলার শুধু কাঠ আর লোহার সমাহার নয়, এটি মহাজনদের জন্য ভাগ্যের পরীক্ষাও বটে। ট্রলার মালিক মাছুম মল্লিক জানান, তার ট্রলার নির্মাণে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। সাধারণত একটি ট্রলার সর্বোচ্চ ১০ বছর ভালো থাকে। সমুদ্রে মাছ ধরার ক্ষেত্রে ভাগ্য ভালো হলে এক ট্রিপেই অর্ধকোটি টাকা লাভ করা সম্ভব, আবার খারাপ হলে এক থেকে দেড় লাখ টাকা লোকসানও গুনতে হয়। আগে এক মৌসুমেই ট্রলারের খরচ উঠে যেত, এখন তিন বছরেও তা সম্ভব হয় না। এই ব্যবসায় লাভের চেয়ে লোকসানের ঝুঁকিই বেশি—কেউ এখানে লাখপতি হন, আবার কেউ নিঃস্ব হয়ে যান।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. জহিরুন্নবী বলেন, বৈরী আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অনেক সময় হতাশ হয়ে জেলেরা সাগর থেকে তীরে ফিরে আসেন। তবুও তারা ভেঙে পড়েন না। নতুন ট্রলার নির্মাণে আবারও সাহস জোগান। এই ট্রলার নির্মাণ শিল্পে পরিকল্পিত পৃষ্ঠপোষকতা ও সহায়তা বাড়ানো গেলে জেলেরা দেশের অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। নৌপথ ভরাট হয়ে গেলেও সমুদ্রে মাছ আহরণের প্রয়োজন থাকায় এই শিল্পের চাহিদা ভবিষ্যতেও বাড়বে।

কাঠের গায়ে কাঠুরের আঘাতে যেমন তৈরি হয় একটি ট্রলার, তেমনি ঘাম, অভিজ্ঞতা আর ঝুঁকির সমন্বয়ে তৈরি হয় উপকূলের মানুষের জীবনসংগ্রামের এক শক্ত ভিত। আগুনমুখা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিটি ট্রলার তাই শুধু মাছ ধরার নৌযান নয়—এগুলো উপকূলবাসীর স্বপ্ন, সাহস আর টিকে থাকার গল্প।

সিলেটে তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভা ২২ জানুয়ারি

সিলেটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রথম নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ২২ জানুয়ারি। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে সিলেট নগরীর আলিয়া মাদ্রাসার মাঠ পরিদর্শন করেন বিএনপির কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ। এ সময় তাঁরা জনসভার মঞ্চস্থল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, জনসমাগমের সক্ষমতা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। নেতৃবৃন্দ জানান, জনসভায় লাখো মানুষের সমাগম ঘটাতে ইতোমধ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। প্রস্তুতি বৈঠক, মাঠপর্যায়ের তৎপরতা ও বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এ সময় সিলেট- ৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “২২ জানুয়ারির জনসভা হবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এগিয়ে নিচ্ছে। এই জনসভায় সিলেটের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেবে বলে আমরা আশাবাদী।”

বিতর্কিত বক্তব্যে তীব্র সমালোচনার মুখে আমির হামজার দুঃখ প্রকাশ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোকে ঘিরে দেওয়া একটি পুরোনো বক্তব্য নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন কুষ্টিয়া–৩ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুফতি আমির হামজা। ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার পর মধ্যরাতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় আমির হামজা বলেন, মরহুম আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্যটি ছিল সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত। কোনো একটি বিষয় বোঝাতে গিয়ে উদাহরণ টানতে গিয়ে তিনি ভুল করেছেন এবং সে কারণেই তখনই অনুতাপ প্রকাশ করেছিলেন। একই বক্তব্যের জন্য এখন আবারও তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছেন বলে জানান।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আলোচিত ওই মন্তব্যটি সাম্প্রতিক নয়; এটি ২০২৩ সালের একটি বক্তব্য। সে সময়ই বিষয়টি নিয়ে তিনি দুঃখ ও অনুশোচনা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু সেটিকে উপেক্ষা করে এখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বক্তব্যটি নতুন করে সামনে আনা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আমির হামজার দাবি, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে পুরোনো সেই বক্তব্যকে নির্বাচনকালীন মন্তব্য হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে গিয়ে তারা নিজ দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একজন মরহুম ব্যক্তির প্রতিও ন্যূনতম সম্মান দেখায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে প্রকৃত দায় কার, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতনভাবে ভাবার আহ্বান জানান তিনি।
পোস্টের শেষাংশে মুফতি আমির হামজা প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে দোয়া করেন, যেন তিনি তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।

২১ দিন মা-মেয়ের লাশের সঙ্গে বসবাস:হত্যাকারীর লোমহর্ষক বর্ণনা

ঢাকার কেরানীগঞ্জে ঘটেছে এক চাঞ্চল্যকর এবং রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড। মা-মেয়ে জোবাইদা রহমান (১৪) ও তার মা রোকেয়া রহমান (৩২) কে হত্যা করার পর ২১ দিন ওই দুই লাশ ফ্ল্যাটে রেখেই অভিযুক্ত নুসরাত মীম (২৪) ও তার পরিবার সাধারণ জীবনযাপন করছিলেন।
শনিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পাওয়ার পর পুলিশ কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকায় নুসরাত মীমের ফ্ল্যাট থেকে মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার করে। উদ্ধার অভিযানে নুসরাতের স্বামী হুমায়ুন মিয়া (২৮) এবং তার ১৫ ও ১১ বছর বয়সী দুই বোনকেও আটক করা হয়েছে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুসরাত ও তার ছোট বোন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। হত্যার পেছনের কারণ ছিল ঋণ ও মনোমালিন্য। নুসরাত একটি এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নেন, যার জামিনদার ছিলেন রোকেয়া রহমান। কিস্তি সময়মতো পরিশোধ না হওয়ায় তাদের মধ্যে বাক্যালাপ ও মনোমালিন্য হয়।
২৫ ডিসেম্বর বিকেলে, ফাতেমা প্রাইভেট পড়ার জন্য নুসরাতের বাসায় গেলে তার ছোট বোনের সঙ্গে বাক্যালাপের এক পর্যায়ে তাকে গলা চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। পরে রোকেয়া রহমানকে ফোনে মেয়ের অসুস্থতার কথা জানিয়ে বাসায় ডেকে আনা হয় এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
ওসি সাইফুল আলম জানান, হত্যার পর ফাতেমার লাশ শৌচাগারের ফলস সিলিংয়ের ভেতর এবং রোকেয়ার লাশ শোবার ঘরের বক্স খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। এই অবস্থায় অভিযুক্তরা ২১ দিন ফ্ল্যাটে বসবাস করেছিল।
পুলিশ বলেছে, নুসরাতের বোন নাবালিকা হওয়ায় তাকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে অন্য কেউ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।
এ ঘটনার পর স্থানীয় সমাজ ও বাসিন্দারা চরম আতঙ্কিত। পুলিশ ও আইন-প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে চেষ্টা করছে।

নতুন বেতনকাঠামোতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন কত? জানুন কার বেতন কত বাড়ছে

সরকারি চাকরিজীবীদের বহু প্রতীক্ষিত নতুন বেতনকাঠামোর প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে বেতন কমিশন। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, আগামী ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে এই বেতনকাঠামো কার্যকর হবে। আর পুরো কাঠামো বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও বেতন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২১ জানুয়ারি অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। এরপর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বিষয়টি উপস্থাপন করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সরকারের পরিচালন ব্যয় ২২ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, এটি আংশিক বাস্তবায়নের অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরির আগাম পদক্ষেপ।
বেতন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বেতনকাঠামো পুরোপুরি কার্যকর করতে সরকারের অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। নতুন কাঠামোতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নিম্নস্তরের কর্মচারীদের বেতন–ভাতা বৃদ্ধির ওপর, যাতে জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ হয়।
বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২০১৫ সালের বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন। দেশে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। বিদ্যমান কাঠামোতে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা নতুন প্রস্তাবে দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে সর্বোচ্চ ধাপে বর্তমানে নির্ধারিত ৭৮ হাজার টাকার বেতন বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করার প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের ব্যবধান ১:৮ অনুপাতে রাখার সুপারিশ করেছে কমিশন।
উল্লেখ্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে গত বছরের ২৭ জুলাই ২১ সদস্যের বেতন কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ ছিল কমিশনের প্রতি।
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এরই মধ্যে জানিয়েছেন, কমিশনের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে। সরকারি চাকরিজীবীদের দৃষ্টিতে এই কাঠামো শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপ লাঘবের একটি বড় প্রত্যাশা।

পিরিয়ডের সময় যেসব ভুল এড়িয়ে চলা জরুরি

পিরিয়ডের সময় নারীদের শরীরে হরমোনজনিত নানা পরিবর্তন ঘটে, যার প্রভাব পড়ে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ওপর। এই সময় সামান্য অসতর্কতা বা ভুল অভ্যাস থেকেও দেখা দিতে পারে সংক্রমণ, অস্বস্তি কিংবা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি। অথচ পিরিয়ডকালীন স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে এখনও অনেকের মধ্যেই রয়েছে ভুল ধারণা ও অবহেলা।

ফলে না জেনেই এমন কিছু কাজ করা হয়, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। সুস্থ থাকতে ও অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়াতে পিরিয়ডের সময় কোন ভুলগুলো থেকে দূরে থাকা জরুরি তা জানা অত্যন্ত প্রয়োজন।

নির্দিষ্ট সময় অন্তর প্যাড বা ট্যাম্পন বদলান: একই প্যাড বা ট্যাম্পন দীর্ঘক্ষণ ব্যবহার করলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া জমতে পারে। এর ফলে ইউরিন ইনফেকশন বা ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিসের মতো সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই প্রতি ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা অন্তর প্যাড বা ট্যাম্পন পরিবর্তন করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

সুগন্ধিযুক্ত প্রোডাক্ট এড়িয়ে চলুন: রক্তের গন্ধ ঢাকতে অনেকেই সুগন্ধিযুক্ত স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করেন। কিন্তু এতে থাকা ক্যামিক্যাল ত্বকে অ্যালার্জি বা জ্বালাপোড়া তৈরি করতে পারে। তাই সম্ভব হলে গন্ধহীন ও ত্বকবান্ধব প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন।

হাত ধোয়ার বিষয়ে অবহেলা নয়: প্যাড বা ট্যাম্পন বদলানোর আগে ও পরে সাবান এবং পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই অভ্যাস না থাকলে জীবাণু সহজেই শরীরে ঢুকে বিভিন্ন সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

পার্সোনাল হাইজিনে বিশেষ নজর দিন: পিরিয়ডের সময় নিয়মিত গোসল করা, গোপনাঙ্গ পরিষ্কার রাখা এবং খুব আঁটসাঁট অন্তর্বাস না পরা জরুরি। এসব বিষয়ে গাফিলতি করলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

যারা মেনস্ট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করেন, তাদের জন্য পরিচ্ছন্নতা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবার ব্যবহারের আগে ও পরে কাপ ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত করতে হবে, নইলে ইনফেকশনের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

মাসিক শুরু ও শেষ হওয়ার তারিখ লিখে রাখা বা ট্র্যাক করা প্রয়োজন। এতে সাইকেল নিয়মিত আছে কিনা, কোনো অস্বাভাবিকতা হচ্ছে কিনা সেগুলো সহজেই বোঝা যায়।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন: এই সময়ে শরীরে পানির চাহিদা বেড়ে যায়। পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীর হাইড্রেটেড থাকে এবং যোনিতে অতিরিক্ত শুষ্কতা বা অস্বস্তি হওয়ার সম্ভাবনাও কমে।

লোকসানের দোহাইয়ে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতে দুই বছরের মুনাফা বাতিল

একীভূত হওয়া পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৪ ও ২০২৫— এই দুই বছরের জন্য সঞ্চিত আমানতের বিপরীতে কোনো প্রকার মুনাফা বা লাভ দেওয়া হবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। লোকসানের যুক্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আমানতের ওপর কার্যত ‘হেয়ারকাট’ হিসেবে কার্যকর হবে।

গত বুধবার সন্ধ্যায় একীভূত পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকদের কাছে পাঠানো পৃথক চিঠিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, ব্যাংক রেজোল্যুশন স্কিমের সুষম বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসরণ করে আমানতের মুনাফা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সময়ে সব আমানতের ওপর কোনো মুনাফা বিবেচনায় নেওয়া যাবে না। আমানত হিসাবের স্থিতি পুনর্নির্ধারণ করা হবে ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর তারিখে বিদ্যমান অবস্থানের ভিত্তিতে। এই প্রক্রিয়ায় আমানতের একটি অংশ কেটে রেখে চূড়ান্ত স্থিতি নির্ধারণ করা হবে, যাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘হেয়ারকাট’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, একীভূত হওয়া সব ব্যাংকই শরিয়াহভিত্তিক হওয়ায় লাভ-লোকসান ভাগাভাগির নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। যেহেতু সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো লোকসানে রয়েছে, তাই আমানতকারীদের মুনাফা দেওয়া সম্ভব নয়।

আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক লেনদেনের ধারাবাহিকতায় প্রতিদিনই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে মুদ্রা বিনিময় হার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ও আর্থিক যোগাযোগ বাড়ার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্গে টাকার মান জানতে আগ্রহ থাকে সবারই। আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সূত্র।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী আজকের বিনিময় হারে ইউএস ডলার লেনদেন হচ্ছে ১২২ টাকা ৩৫ পয়সায়। ইউরোপীয় ইউরোর মূল্য ১৪২ টাকা ৪৭ পয়সা, আর ব্রিটিশ পাউন্ডের দর দাঁড়িয়েছে ১৬৪ টাকা ৪৭ পয়সা। অস্ট্রেলিয়ান ডলার বিক্রি হচ্ছে ৮২ টাকা ৭৭ পয়সায় এবং কানাডিয়ান ডলারের মান ৮৮ টাকা ১৬ পয়সা।
এ ছাড়া জাপানি ইয়েনের বিনিময় হার ৭৭ পয়সা, সুইডিশ ক্রোনার দর ১৩ টাকা ৩০ পয়সা এবং সিঙ্গাপুর ডলারের মূল্য ৯৫ টাকা ৪ পয়সা। চীনা ইউয়ান রেনমিনবির দর নির্ধারিত হয়েছে ১৭ টাকা ৫৫ পয়সা। ভারতীয় রুপি লেনদেন হচ্ছে ১ টাকা ৩৫ পয়সায়, আর শ্রীলঙ্কান রুপির মান ২ টাকা ৫৩ পয়সা।
অন্যদিকে গুগল সূত্রে পাওয়া তথ্যে সিঙ্গাপুর ডলারের বিনিময় হার দেখানো হয়েছে ৯৫ টাকা ২০ পয়সা। মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের দর ৩০ টাকা ২০ পয়সা, সৌদি রিয়াল ৩২ টাকা ৬৮ পয়সা এবং কুয়েতি দিনারের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৯৭ টাকা ৯০ পয়সা।
বাজার ও লেনদেনের ধরন অনুযায়ী এসব হারে সামান্য পার্থক্য হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবুও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, ভ্রমণ কিংবা প্রবাসী আয়ের হিসাব রাখতে আজকের এই বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।