Home Blog Page 205

আজ থেকে দীর্ঘ ছুটি শুরু হলো যাদের

মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলে আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রমজানের প্রথম দিন থেকেই ছুটি শুরু হচ্ছে। ছুটি চলবে আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত। গতকাল বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এতে বলা হয়েছে, বিগত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের স্মারক নম্বর: ৩৭.০০.০০০০.০৭১.০৪.০০২.০২ (অংশ)-৫০৭ মূলে জারীকৃত প্রজ্ঞাপন সংশোধনক্রমে সরকারি/বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের ২০২৬ (১৪৩২-১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জি নিম্নোক্তরূপে নির্ধারণ করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পবিত্র রমজান, শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব, শবেকদর (১৭ মার্চ),  জুমাতুলবিদা (২০ মার্চ), ঈদুল ফিতর (২১ মার্চ) এবং স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস (২৬ মার্চ) উপলক্ষে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত মোট ৩৬ দিন ছুটি থাকবে মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে।

জানা যায়, দীর্ঘ আলোচনার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ বার্ষিক ছুটির তালিকায় সংশোধন এনেছে। ফলে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে রমজানের প্রথম দিন থেকেই ছুটি শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়।

এদিকে পবিত্র রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছিল।

১৫ ফেব্রুয়ারি সেই রিটের শুনানি হয়। এতে পুরো রমজান মাস, অর্থাৎ ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরো রমজান সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পরে গত সোমবার পুরো রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের নেতৃত্বাধীন চেম্বার জজ আদালত স্থগিতের আদেশ দেন।

দেশকে নিরাপদ করতে চাই

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান তথা দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী, এই দেশ আমাদের সবার। প্রতিটি নাগরিকের জন্যই এই দেশকে আমরা একটি নিরাপদ ভূমিতে পরিণত করতে চাই। একটি স্বনির্ভর নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই বিএনপি সরকারের লক্ষ্য। এই সরকার আপনাদেরই সরকার। আপনারাই ভোটের মাধ্যমে এই সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। আপনারাই এই সরকারের শক্তি।’
দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণের পর বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করছে। দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলবে বিধিবদ্ধ নীতি-নিয়মে। দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি অথবা জোর জবরদস্তি নয়, আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা।
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, রমাদান আত্মশুদ্ধির মাস। আমরা যদি আত্মশুদ্ধি শব্দটির মর্মার্থ উপলব্ধি করি তাহলে এই মাসে মানুষের ভোগান্তি বাড়ার কথা নয়। যদিও আমাদের অনেকের মধ্যেই এই মাসটিকে ঘিরে ব্যবসায় অধিক মুনাফা লাভের প্রবণতা লক্ষণীয়। আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান, রামাদানের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে এই মাসটিকে আপনারা ব্যবসায় মুনাফা লাভের মাস হিসেবে পরিগণিত করবেন না।
তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য যাতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায় এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা সতর্ক থাকবেন। হাজারো প্রাণের বিনিময়ে একটি মাফিয়া সিন্ডিকেটের পতন ঘটিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়েই আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিএনপি সরকার সকল ক্ষেত্রেই অনাচার- অনিয়মের সকল সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর, ইনশাআল্লাহ।
ভাষণের শুরুতেই নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করে বলেন, শুরুতেই মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। হাজারো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পেরেছি। তাঁবেদারমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। দেশে গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই যাত্রালগ্নে আমি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা এবং আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণের কারণেই দেশে আবার মানুষের অধিকার, সম্মান এবং মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের সময়ের দুর্নীতি- দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো আর অবনতিশীল আইনশৃংখলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি, নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে আমাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। সারাদেশে জুয়া এবং মাদকের বিস্তারকেও বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ বলে চিহ্নিত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুয়া এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব রকমের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করছে। দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলবে বিধিবদ্ধ নীতি-নিয়মে। দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তি অথবা জোরজবরদস্তি নয়, আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা।
তারেক রহমান বলেন, ক্ষুদ্র, মাঝারি কিংবা ছোট-বড় সকল ব্যবসায়ীর প্রতি বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি সহজ এবং স্পষ্ট। বর্তমান সরকার ব্যবসায়ী এবং ক্রেতা সাধারণ উভয়ের স্বার্থরক্ষা করেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চায়। সুতরাং, সরকারের পক্ষ থেকে কি ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করলে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কিংবা ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থরক্ষা হবে এ ব্যাপারে আপনাদের যে কোনো ধরনের পরামর্শ কিংবা অভিযোগ শুনতে সরকার প্রস্তুত। ক্রেতা-বিক্রেতা, গ্রহীতা এই সরকার সকলেরই সরকার। এই সরকার আপনাদেরই সরকার। আপনারাই ভোটের মাধ্যমে এই সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। আপনারাই এই সরকারের শক্তি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রমাদান মাসে রোজাদারগণ বিশেষ করে ইফতার, তারাবীহ, সেহরি এই সময়গুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পেতে চান। এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছি। অপচয় রোধ করে কৃচ্ছ্রতা সাধন প্রতিটি মুসলমানের ইমানি দায়িত্ব। অফিস-আদালতে বিনা প্রয়োজনে কিংবা প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি খরচের ব্যাপারে সচেতনতা অবলম্বন করাও ইবাদাতের অংশ বলেই আমি মনে করি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জনসাধারণের প্রতি কৃচ্ছ্রতা সাধনের আহ্বান জানানোর আগে আমি সরকারের মন্ত্রী এবং বিএনপির এমপিদের দিয়েই একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছি।

বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভাতেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বিএনপি থেকে নির্বাচিত কোনো এমপি সরকারি সুবিধা নিয়ে ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আমদানি করবেন না এবং প্লট সুবিধা নেবেন না। আমি আপনাদের সামনে বলেছিলাম, রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে বিএনপি সরকার মহানবীর ‘ন্যায়পরায়নতার’ আদর্শ অনুসরণ করবে। আমি মনে করি বিএনপির সংসদীয় দলের এসব সিদ্ধান্ত ‘ন্যায়পরায়ণতার’ আদর্শেরই প্রতিফলন।’
রাজধানী ঢাকায় প্রচ- যানজটের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিভাগীয় শহরগুলোতে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় যানজট প্রায় নিয়ন্ত্রণহীন। হাটে-মাঠে-ঘাটে, অফিস-আদালতে জনগণের ভোগান্তির শেষ নেই। জনজীবনের নানা ক্ষেত্রে জনদুর্ভোগ লাঘব করা না গেলে জনমনে স্বস্তি ফিরবে না। রাজধানীতে জনসংখ্যার চাপ কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, মানুষ তার নিজ জেলায় কিংবা নিজের বাসাবাড়িতে থেকেও যাতে সহজভাবে সঠিক সময়ে অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারেন সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথমেই রেল, নৌ, সড়ক এবং সেতু মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস ও সমন্বয় করা হচ্ছে। আমরা মনে করি, সারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার সহজ-সুলভ এবং নিরাপদ করা গেলে একদিকে যেমন জনগণের শহর-নগরকেন্দ্রিক নির্ভরতা কমবে, অপরদিকে পরিবেশেরও উন্নতি হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের চারপাশে সমস্যার শেষ নেই। তবে সমস্যার পাশাপাশি সম্ভাবনাও কিন্তু কম নয়। আমাদের বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে যদি আমরা দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারি তাহলে এই জনসংখ্যাই হবে আমাদের ‘জনসম্পদ’। আমরা নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে শুধু বাংলাদেশই নয় বিশ্ববাজারও আমাদের জন্য উন্মুক্ত। তথ্য প্রযুক্তির সিঁড়ি বেয়ে বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করেছে। প্রযুক্তির এই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মান এবং সচ্ছলতার সঙ্গে টিকে থাকতে হলে আমাদের কোনো না কোনো একটি বিষয়ে বা কাজে পারদর্শী হতে হবে।
দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থী এবং তরুণ যুবশক্তিকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেধায়, জ্ঞানে-বিজ্ঞানে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য যত রকমের সহযোগিতা দেওয়া যায় সব রকমের সহযোগিতা দিতে বর্তমান সরকার প্রস্তুত। কর্মসংস্থান এবং কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার নিয়ে বর্তমান সরকার যাত্রা শুরু করেছে।
দেশবাসীর অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর দেশে ফিরে গত বছর ২৫ ডিসেম্বর আমি বলেছিলাম, দেশ এবং জনগণের জন্য ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন স্থান ঘুরে আমার ‘প্ল্যান পরিকল্পনা’র অনেক কিছুই আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি। আপনারা স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপিকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দিয়েছেন। এখন এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সকল অঙ্গীকার পূরণ করার দায়িত্ব বিএনপি সরকারের। আমরা আমাদের পরিকল্পনা এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে দিয়েছি, ইনশাআল্লাহ । অঙ্গীকার পূরণের এই যাত্রাপথে আমরা ভবিষ্যতের দিনগুলোতেও আপনাদের অব্যাহত সমর্থন প্রত্যাশা করি।
দেশবাসীকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকারপ্রধান হিসেবে আমি দেশবাসীর উদ্দেশে একটি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, নবগঠিত সরকার গঠনের সুযোগ দিতে যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন কিংবা দেননি অথবা কাউকেই ভোট দেননি, এই সরকারের প্রতি আপনাদের সবার অধিকার সমান। বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে, দলমত, ধর্মম, দর্শন যার যার, রাষ্ট্র সবার। এই দেশে, এই রাষ্ট্রে একজন বাংলাদেশি হিসেবে আপনার, আমার, আমাদের প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের অধিকার সমান।
ভাষণের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর নিরাপদ ও সুস্থ জীবন কামনা করে বলেন, আল্লাহ আমাদের সবাইকে নিরাপদ এবং সুস্থ রাখুন। আল্লাহ আমাদের সকল ইতিবাচক পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের তৌফিক দিন। পবিত্র রমাদান মাস শুরুর শুভলগ্নে আল্লাহর দরবারে এই নিবেদন রেখে আমার বক্তব্য শেষ করছি।

আজ থেকে নতুন সময়সূচিতে চলবে অফিস-আদালত

শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস। সেহেরি ও ইফতারের সময় বিবেচনা করে আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে নতুন সময়সূচি অনুযায়ী চলবে সব সরকারি, আধা-সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত অফিস।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, হিজরি ১৪৪৭ (২০২৬ খ্রিস্টাব্দ) সনের পবিত্র রমজান মাসে সেহরি ও ইফতারের সময় বিবেচনায় দেশের সব সরকারি ও আধা-সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন অফিস সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

রমজানে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অফিস চলবে। এর মধ্যে দুপুর সোয়া ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ১৫ মিনিট জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। আর শুক্র ও শনিবার থাকবে সাপ্তাহিক ছুটি।

তবে ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ডাক, রেলওয়ে, হাসপাতাল ও রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো তাদের নিজস্ব আইন ও জনস্বার্থ বিবেচনা করে নিজস্ব অফিস সময়সূচি নির্ধারণ ও অনুসরণ করবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন সময় অনুযায়ী রমজান মাসে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ব্যাংকে লেনদেন হবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। আর অফিস চলবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। আর শুক্রবার ও শনিবার থাকবে সাপ্তাহিক ছুটি।

ফলে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক পবিত্র রমজান মাসে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এর মধ্যে দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। তবে এ বিরতির সময় অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যাংকের লেনদেন অব্যাহত রাখা যাবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নতুন সময় অনুযায়ী রমজান মাসে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অফিস চলবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। আর শুক্রবার ও শনিবার থাকবে সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে দেশের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পবিত্র রমজান মাসে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এর মধ্যে দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে।

এছাড়া রমজান মাসে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম চলবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। এছাড়া অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। উভয় ক্ষেত্রে দুপুর সোয়া ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে।

একের পর এক চমক দেখাচ্ছেন তারেক রহমান

বাংলাদেশের সেনাপ্রধান, রাষ্ট্রপতি এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমান ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশের মাটিতে বীরের বেশে বাংলাদেশে ফিরে এক সংবর্ধনা সম্মেলনে বলেছেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান।’

পরবর্তীতে তিনি তার পরিকল্পনার কথা সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী সমাবেশে তুলে ধরেছেন। পরিকল্পনায় তিনি মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলার স্থিতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সকল মৌলিক বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জাতিকে জানিয়েছেন। তারেক রহমানের পরিকল্পনায় মানুষ সন্তুষ্ট হয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা উপহার দিয়েছেন। এককভাবে ২০৯ আসন লাভ করে পুরো মন্ত্রিসভা গঠন করেন তারেক রহমান।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেন গত মঙ্গলবার।

একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের পর রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে তারেক রহমান দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেখানে তিনি দেশের স্বার্থ রক্ষা করে বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার কথা ব্যক্ত করেন।

একই সঙ্গে তিনি দেশে আইনের শাসনের কথা ধীরভাবে ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, কোনো পক্ষ থেকেই কোনো রকম অন্যায়, অত্যাচার, নির্যাতনকে তিনি কখনোই প্রশ্রয় দেবেন না।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি নিজের গাড়ি, নিজের চালক ও নিজের ক্রয়কৃত জ্বালানি ব্যবহার করবেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন না। আজ দিনের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী সাভার ও শেরেবাংলা নগরে গিয়েছিলেন নিজের টয়োটা গাড়িতে চড়ে। সেখান থেকে সচিবালয়ে গিয়েছেন সেই গাড়িতেই।

বিএনপি সূত্র জানায়, যানজটের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তার গাড়িবহরের সংখ্যা কমিয়ে ফেলা হয়েছে। এতদিন প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের সংখ্যা ছিল ১৩–১৪টি। আজ সেটি কমিয়ে ৪টি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী পতাকাবিহীন গাড়ি ব্যবহার করছেন। তবে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান অথবা বিদেশি মেহমানদের সফর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে পতাকা ব্যবহৃত হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী এখন থেকে মন্ত্রিসভার বৈঠক সচিবালয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক হলে সব মন্ত্রীদের সচিবালয় থেকে যাতায়াতে জট সৃষ্টি হয়, ভিআইপি চলাচলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির মুখে পড়ে। সেসব কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে বেশিরভাগ সময়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথে সড়কের দুইধারে পোশাকধারী পুলিশের অবস্থানের যে বিধান, তা বন্ধ করার জন্যও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।

সকালে গুলশানের বাসা থেকে নিজের সাদা টয়োটা গাড়িতে চড়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এই সময়ে তার গাড়িবহরের সংখ্যা কম ছিল।

সাভার থেকে প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। দুই জায়গাতেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পুরো মন্ত্রিসভার সদস্যরা ছিলেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে যান।

এদিকে গতকাল বুধবার ছিল তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম কার্যদিবস। সচিবদের তিনি বলেছেন, জনগণ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী রায় দিয়েছেন। সুতরাং সংবিধান ও আইনবিধি অনুযায়ী ওই নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য সচিবেরা আন্তরিক হবেন—সেই আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, ‘সবাইকে আমরা বলেছি, কে কার কী অ্যাফিলিয়েশন (সম্পৃক্ততা) আছে, সেটি আমরা দেখব না। আমরা মেধার ভিত্তিতে সবাইকে যাচাই করব।’

বুধবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে নতুন সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে তিনটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য সকলকে নির্দেশ দিয়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী।

অগ্রাধিকার তিনটি হলো—দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমীর, জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রধান এবং চরমোনাই পীরের সঙ্গে দেখা করে তারেক রহমান রাজনীতির মাঠে অন্যরকম চমক দেখিয়েছেন। এসব জাতীয় নেতৃবৃন্দকে তারেক রহমান নিজের বাসায় না ডেকে, তিনি নিজেই সকলের বাসায় গিয়ে দেখা করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, তারেক রহমানের এমন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দেশের রাজনীতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। তিনি চান সকল দল-মতের মানুষকে নিয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। নির্বাসিত জীবন শেষ করে ৫৫ দিনের মাথায় তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেক ইতিবাচক ধারা প্রবর্তন করেছেন।

তারা মনে করেন, দেশের সকল রাজনীতিবিদ এবং যারা যে দায়িত্বে আছেন, তারা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে বাংলাদেশের অগ্রগতি কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. কাজী মাহাবুবুর রহমান বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এদেশের মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা পেয়েছেন। তারেক রহমান যে ধারায় রাজনীতি শুরু করেছেন এবং দেশের দায়িত্ব পালন করছেন, তাতে আমরা আশাবাদী। আমরা আশা করছি, আগামীর বাংলাদেশে ভালো কিছু হবে।

বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনও বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশের টাকার বিনিময় হার নিম্নরূপ:

ইউএস ডলার – ১২২ টাকা ৩০ পয়সা
ইউরোপীয় ইউরো – ১৪৫ টাকা ১ পয়সা
ব্রিটিশ পাউন্ড – ১৬৫ টাকা ৯৮ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার – ৮৬ টাকা ৬৮ পয়সা
জাপানি ইয়েন – ৭৯ পয়সা
কানাডিয়ান ডলার – ৮৯ টাকা ৬৯ পয়সা
সুইডিশ ক্রোনা – ১৩ টাকা ৬৫ পয়সা
সিঙ্গাপুর ডলার – ৯৬ টাকা ৮৮ পয়সা
চীনা ইউয়ান রেনমিনবি – ১৭ টাকা ৭৬ পয়সা
ভারতীয় রুপি – ১ টাকা ৩৪ পয়সা
শ্রীলঙ্কান রুপি – ২ টাকা ৫৩ পয়সা
সিঙ্গাপুর ডলার – ৯৬ টাকা ৬৬ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত – ৩১ টাকা ২৯ পয়সা
সৌদি রিয়াল – ৩২ টাকা ৫৪ পয়সা
কুয়েতি দিনার – ৩৯৮ টাকা ৩৯ পয়সা

যেকোনো সময় মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে। বিনিময় সংক্রান্ত লেনদেনে সর্বদা সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

হার্ট ভালো রাখতে ভিটামিন ডি কেন জরুরি? অনলাইন ডেস্ক

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। হার্ট অ্যাটাকজনিত মৃত্যুও ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। হৃদরোগের পেছনে কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ নানা শারীরিক সমস্যা বড় ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অনিয়মিত জীবনযাপন ও শরীরচর্চার অভাবের কারণে অল্প বয়সেও বাড়ছে হৃদরোগের ঝুঁকি।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব পরিচিত কারণের বাইরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি না থাকলে হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। সাধারণত গাঁটে ব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা ভিটামিন ডি ঘাটতির লক্ষণ হিসেবে দেখা যায়।

ভিটামিন ডি শুধু হাড়ের সুস্থতার জন্য নয়, হৃদস্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং কার্ডিওভাসকুলার কার্যক্রম উন্নত করতে ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ডি খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) কমাতে এবং ভালো কোলেস্টেরল (এইচডিএল) বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণেও এটি সহায়ক ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি থাকলে উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমতে পারে।

ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি পূরণে প্রতিদিন সকালে ১৫ থেকে ৩০ মিনিট রোদে থাকা উপকারী। এছাড়া খাদ্যতালিকায় দুধ, ডিম, মাশরুম, মুরগির মাংস ও সামুদ্রিক মাছ রাখলে উপকার পাওয়া যায়।

সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শপথগ্রহণের পরদিন আজ বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সন্ধ্যা ৭টায় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভি-তে ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে সরকারের এক তথ্যবিবরণীতে জানানো হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এরপর নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও শপথ গ্রহণ করেন। বিকেল ৪টার পর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথ পড়ান। এর মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় এবং প্রায় দুই দশক পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসে।

চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠা ইজারাদারকে কল করে যা বললেন হাসনাত

চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠা এক ইজারাদারকে কল করেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। এ ঘটনার দুই মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে উপজেলার নিউ মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভাইরাল ভিডিওতে হাসনাত আবদুল্লাহকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি ইজারা তুলবেন বাজার থেকে।

বাজারের বাইরে চাঁদা তুলতে আসবেন না। দেবিদ্বারে কোনো চাঁদাবাজি চলবে না। আপনি শুধুমাত্র কাঁচা বাজারের ইজারা নিয়েছেন। আপনি কাঁচা বাজারের এদিকে যদি আসেন, মানুষ আপনাকে ধরে পিটাইয়া পুলিশের হাতে তুলে দিলে আমাদের কিছুই করার নাই।

তিনি আরো বলেন, ‘‘চাঁদাবাজদের মানুষ ধরে পিটাবে, বুঝছেন? ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘আমাকে শোধন ডিলার পাঠাইছে’। প্রত্যুত্তরে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন- শোধন ডিলার আপনাকে পাঠাইছে, আপনি চাঁদা তোলেন। আমি যদি আপনাকে বলি আপনি এই বাড়িতে গিয়ে খুন করে আসেন, আপনি খুন করে আসবেন? কালকে থেকে যেন আপনাকে না দেখি।’’

এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্য করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘কাল থেকে যদি চাঁদার জন্য আসে আপনারা বেঁধে রাখবেন।শাহ আলমকে বেঁধে খবর দিবেন। আপনার এরিয়া হচ্ছে বাজার, বাজারের বাইরে যদি আপনি আসেন বাইন্ধা পুলিশে দেব।’

অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের আগে আওয়ামী লীগের দেবিদ্বার পৌর কমিটির সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম চেয়ারম্যান বাজারের ইজারা নিয়েছেন। ওই সময় তিনি বাজারের বাইরে দেবিদ্বার-চান্দিনা সড়কের মাথা থেকে কলেজ গেট পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে অবৈধ দোকান বসিয়ে মাসিক ও দৈনিক চাঁদা আদায় করতেন। এতে দেবিদ্বার উপজেলা সদরে যানজটসহ নানা সমস্যা সৃষ্টি হলেও তার ভয়ে স্থানীয়রা মুখ খুলতেন না।

সরকার পতনের পর আবুল কাশেম চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী দেবিদ্বার পৌর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি হাজী মো. শোধন মিয়া (শোধন ডিলার)-সহ কয়েক জন বাজার ইজারা নেন। এরপর তারাও নিউ মার্কেটসহ পৌর সভার বিভিন্ন স্থানে নিজেদের ইচ্ছেমতো দোকান বসিয়ে এককালীন, মাসিক ও দৈনিক চাঁদা উঠান ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে।

নির্বাসন থেকে ফিরেই ৫৪ দিনের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বয়স তখন মাত্র ছয় বছর। দেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে। বাবা জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। মা গৃহিণী খালেদা জিয়া দুই ছেলেকে নিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত। নিরাপত্তার খোঁজে প্রথমে চট্টগ্রামের এক আত্মীয়ের বাসায়, এরপর ঢাকার নারায়ণগঞ্জে এবং সর্বশেষ সিদ্ধেশ্বরীতে আশ্রয় নেন তাঁরা। অবশেষে ১৯৭১ সালের ২ জুলাই দুই সন্তান তারেক ও কোকোসহ গ্রেপ্তার হন বেগম খালেদা জিয়া।

নিজ দেশে থেকেও সেই শৈশবেই ফেরারি জীবন এবং পরবর্তীতে কারাবাস করতে হয়েছে তারেক রহমানকে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাঁকে অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করতে হয়েছে। সর্বশেষ ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেপ্তার হন তিনি। ১৮ মাস কারাগারে থাকাকালে তিনি অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হন, যার ফলে তাঁর মেরুদণ্ডের হাড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসার জন্য জামিন লাভ করে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে তিনি লন্ডনে পাড়ি জমান।

পরবর্তীতে শেখ হাসিনা সরকার তাঁর বিরুদ্ধে ডজনখানেক মামলা দায়ের করে এবং একটি মামলায় তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০০৮ সাল থেকেই তারেক রহমান নির্বাসিত জীবন অতিবাহিত করেন। শেখ হাসিনা সরকার তাঁকে বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনার নানা চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বীরের বেশে দেশের মাটিতে ফিরে আসেন।

সামনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থাকায় তিনি দ্রুত নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়েন। তারেক রহমানের রাষ্ট্র সংস্কারের নানা প্রতিশ্রুতিতে দেশের মানুষ মুগ্ধ হয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপিকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে। ১৭ বছরের বেশি সময় পর দেশে ফিরে মাত্র ৫৪ দিনের মাথায় অভাবনীয় সাফল্য দেখালেন তিনি। ৫০ সদস্যের পুরো মন্ত্রিসভা সাজিয়েছেন তিনি নিজেই। দলের সিদ্ধান্তে তিনি প্রধানমন্ত্রী মনোনীত হন এবং মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব নিতে শপথ গ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে তাঁকে যেমন নির্বাসিত থাকতে হয়েছে, তেমনি প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে পরিবারের ওপর রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের করুণ দৃশ্য। শেখ হাসিনার রোষানলে পড়ে বেগম খালেদা জিয়াকে দীর্ঘ সময় আদালতের বারান্দায় কাটাতে হয়েছে। ২০১৮ সালে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে জামিন পেলেও সুচিকিৎসার অভাবে খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয়েছে বলে বিএনপি মনে করে। নির্বাসন থেকে ফেরার মাত্র ৫ দিনের মাথায় মাতৃহারা হন তারেক রহমান। এর আগে ২০১৫ সালে একমাত্র অনুজ আরাফাত রহমান কোকোকেও তিনি অকালে হারিয়েছেন। এমন এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই তিনি আজ দেশের হাল ধরেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তারেক রহমান ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে প্রাথমিক পড়াশোনা শেষ করে ১৯৮০-এর দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হন। তবে ব্যবসায় মনোযোগ দেওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। ১৯৯৪ সালে তিনি প্রাক্তন নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের কন্যা ডা. জোবাইদা রহমানকে বিয়ে করেন। তাঁদের একমাত্র সন্তান ব্যারিস্টার জাইমা জারনাজ রহমান।

নির্বাসিত ১৭ বছর ছিল বিএনপির ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়। এই সময়ে দলের হাল ধরে তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে লাখো জনতার সংবর্ধনা সমাবেশে মার্টিন লুথার কিংয়ের ঐতিহাসিক উক্তির অনুকরণে তিনি বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ (আমার একটি পরিকল্পনা আছে)।’

তারেক রহমান ১৯৮৮ সালে ২২ বছর বয়সে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা বিএনপির সদস্য হওয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে আসেন। ২০০২ সালে তিনি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হন এবং ২০০৫ সালে দেশব্যাপী তৃণমূল সম্মেলনের মাধ্যমে দলকে শক্তিশালী করেন। কৃষকদের ভর্তুকি, বয়স্ক ভাতা এবং নারী শিক্ষার উন্নয়নে তাঁর নেওয়া পদক্ষেপগুলো ব্যাপক প্রশংসিত হয়।

শৈশব থেকেই প্রতিকূলতাকে জয় করে বড় হওয়া তারেক রহমান আজ বাবা ও মায়ের পর নিজেই সরকার গঠন করলেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তাঁর এই অভিষেক বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।

নতুন মন্ত্রিসভায় বাদ পড়লেন যেসব সিনিয়র নেতা

নতুন সরকার গঠন করে চমক দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী মিলিয়ে ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়নি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার। আলোচনায় থাকলেও তালিকা থেকে বাদ পড়েন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান, জমির উদ্দিন সরকার ও সেলিমা রহমান। অসুস্থতার কারণে জমির উদ্দিন সরকারকে বাদ পড়া স্বাভাবিক মনে করা হলেও অন্যদের না থাকা রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এছাড়া সাবেক মন্ত্রী আমানউল্লাহ আমান এবং সিনিয়র নেতা শামসুজ্জামান দুদু, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও আসাদুজ্জামান রিপন মনোনয়নই পাননি। টেকনোক্র্যাট কোটায় সুযোগ পাওয়ার গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের কাউকেই মন্ত্রিসভায় দেখা যায়নি।

মঙ্গলবার সংসদ সদস্যদের শপথের পর বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রীদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। প্রচলিত রীতি ভেঙে বঙ্গভবনের বদলে সংসদ প্রাঙ্গণে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন ছিল এবারের বিশেষত্ব। নতুন মন্ত্রিসভায় ৪০ জন নতুন মুখ স্থান পেয়েছেন, যাদের অনেকেই প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই সরকারের দায়িত্ব পেয়েছেন।

অন্যদিকে মন্ত্রিসভায় জায়গা না পেলেও সন্ধ্যায় পৃথক প্রজ্ঞাপনে ১০ জনকে উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়। মন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হয়েছেন মির্জা আব্বাস, রুহুল কবির রিজভী, নজরুল ইসলাম খান, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হয়েছেন হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, ডা. জাহেদুর রহমান, ড. মাহাদি আমিন ও রেহানা আসিফ আসাদ।

নতুন মন্ত্রিসভায় শরিক দল থেকেও কয়েকজন জায়গা পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক নুর এবং ববি হাজ্জাজ। তবে যুগপৎ আন্দোলনের অন্য শরিক— আন্দালিব রহমান পার্থ, মাহমুদুর রহমান মান্না, **সাইফুল হক**সহ কয়েকজন নেতার জায়গা হয়নি।

দলের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, বাদ পড়া কিছু সিনিয়র নেতাকে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। নতুন মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞদের বাদ দিয়ে নতুন মুখ আনার কৌশল রাজনৈতিক মহলে বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।