Home Blog Page 207

নতুন সরকারের শপথ পড়াবেন কে?

০

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে । দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ট দল হিসেবেই সরকার গঠন করতে যাচ্ছে দলটি।

সর্বশেষ প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে ২৯৬ আসনের মধ্যে ২১২টিতে বিএনপি জোট, ৭৬টিতে জামায়াত জোট ও স্বতন্ত্রসহ অন্যান্য প্রার্থীরা ৮টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন।

এদিকে নতুন সরকার গঠন হবে কিভাবে বা তারেক রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া কী হবে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী, এই ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া বা নতুন সরকার গঠনের শুরুটা হবে নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে। তবে এই শপথের প্রক্রিয়া নিয়েও এবার তৈরি হয়েছে কিছু অনিশ্চয়তা।

শপথ কত দিনের মধ্যে নিতে হয়?- উত্তরটা হচ্ছে, সাধারণত নিবাচনের ফল ঘোষণার তিনদিনের মধ্যে শপথ পড়ানো হয়। কিন্তু এখানে একটা কথা আছে। সাধারণভাবে নির্বাচন কমিশন থেকে যে বেসরকারি ফল যাওয়া যায় একদিন বা দুইদিনের মধ্যে, সেটা কিন্তু আনুষ্ঠানিক ফলাফল হিসেবে গণ্য হয় না। মানে সেই ফলাফল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে শপথ নিতে হবে এমনটা নয়।

সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল ‘সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত’ হতে হবে এবং এরপর ‘তিন দিনের মধ্যে’ নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণ হবে। সেক্ষেত্রে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পর প্রজ্ঞাপন হতে আরও কয়েকটা দিন বাড়তি সময় লাগতে পারে।

শপথ কে পড়াবেন এই প্রশ্ন উঠছে, কারণ নিয়ম অনুযায়ী অতীতে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়িয়েছেন মূলত জাতীয় সংসদের স্পিকার। কিন্তু চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতে সংসদ নেই, স্পিকারও নেই। এমনকি ডেপুটি স্পিকারও কারাগারে।

তাহলে উপায় কী আছে? এক্ষেত্রে আবারও যেতে হবে সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে। যেখানে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হইবার তারিখ হইতে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে এই সংবিধানের অধীন এতদুদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা তদুদ্দেশ্যে অনুরূপ ব্যক্তি কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনও ব্যক্তি যে কোনও কারণে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ পরিচালনা করিতে ব্যর্থ হইলে বা না করিলে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার উহার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে উক্ত শপথ পাঠ পরিচালনা করিবেন, যেন এই সংবিধানের অধীন তিনিই ইহার জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি।

এই অনুচ্ছেদে মূলত দুটি উপায় বলা হয়েছে। এক. রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করানোর জন্য কাউকে মনোনীতি করতে পারেন। দুই. যদি তিন দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি শপথ করাতে না পারেন তাহলে তখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথ পাঠ করাবেন।

এ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গত পাঁচই ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। সেসময় তিনি জানান, নির্বাচনের পর দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায় সরকার।

তিনি বলেন, এটা সরকারের নীতিগত পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। আমাদের সামনে দুটি অপশন আছে। একটা হচ্ছে রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করা পারেন। উদাহরণ হিসেবে হয়তো আমাদের প্রধান বিচারপতি হতে পারেন।

তিনি বলেন, আর এটা যদি না হয়, তাহলে আমাদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার আছেন, তিনিই শপথ গ্রহণ করাবেন। এ ক্ষেত্রে একটি সমস্যা আছে, তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। আমরা আসলে অপেক্ষা করতে চাই না, আমরা নির্বাচন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চাই।

রোজায় তেল, ডাল, চিনির সঙ্গে ছোলা ও খেজুর বিক্রি করবে টিসিবি

০

পবিত্র রমজান মাসে সারাদেশে ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি (ট্রাক সেল) করবে সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। রোজায় টিসিবির নিয়মিত পণ্যের পাশাপাশি ছোলা ও খেজুরও বিক্রি করা হবে। ট্রাকে পণ্য বিক্রির পাশাপাশি স্মার্ট পরিবার কার্ডের মাধ্যমেও পণ্য বিক্রি করবে টিসিবি। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে টিসিবি। এতে বলা হয়, সারাদেশে ভর্তুকি মূল্যে স্মার্ট কার্ডধারী পরিবারের কাছে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এর পাশাপাশি রমজান মাসে ট্রাক সেলের মাধ্যমে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ ভোক্তার কাছে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি করা হবে। টিসিবির এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি রোজা শুরু হতে পারে। এর আগের দিন অর্থাৎ ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে টিসিবির ট্রাক সেল কার্যক্রম শুরু হতে পারে। অন্যদিকে সারাদেশে এখন পর্যন্ত ৬৬ লাখ স্মার্ট পরিবার কার্ড সক্রিয় রয়েছে। তারাও রোজার মাসে টিসিবির পণ্য কিনতে পারবে।
যে কোনো ব্যক্তি ট্রাকের পেছনে লাইনে দাঁড়িয়ে টিসিবির ভর্তুকি মূল্যের পণ্য কিনতে পারবেন। রোজার মাসের ট্রাক সেলে পণ্য বিক্রয়ের পরিমাণ ও দাম বিক্রয় কার্যক্রম শুরুর আগে জানানো হবে। টিসিবি সূত্রে জানা যায়, প্রাপ্তবয়স্ক যে কোনো ব্যক্তি লাইনে দাঁড়িয়ে ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে পারবেন। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুই লিটার সয়াবিন তেল, দুই কেজি মসুর ডাল ও এক কেজি চিনি কিনতে পারবেন। গত বছর রোজার মাসে এই তিন পণ্যের সঙ্গে দুই কেজি ছোলা ও ৫০০ গ্রাম খেজুর বিক্রি করেছিল টিসিবি। এর ফলে দেশের সাধারণ ভোক্তাদের স্বস্তি ফিরে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিএনপি ও তারেক রহমানকে পাকিস্তানের অভিনন্দন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কথিত বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার প্রেক্ষাপটে চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগেই বিএনপি ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি ইসলামাবাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তিনি জানান, ঢাকায় নতুন সরকার গঠিত হলে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করতে পাকিস্তান আগ্রহী।

জারদারি আরও আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা দক্ষিণ এশিয়ায় পারস্পরিক সম্মান ও ভারসাম্যের ভিত্তিতে সম্পর্ক জোরদারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বিজয় মিছিল নয়, সারা দেশে দোয়া কর্মসূচি করবে বিএনপি

০

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে জয় পাওয়ার পরও কোনো ধরনের বিজয় মিছিল বা সমাবেশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এর পরিবর্তে সারা দেশে দোয়া কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত আড়াইটায় দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক আসনে নির্বাচিত হওয়ায় ঢাকাসহ দেশব্যাপী দলটির পক্ষ থেকে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানানো হয়েছে।

এ উপলক্ষে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বাদ জুমআ ঢাকাসহ সারা দেশের মসজিদে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে দোয়া কর্মসূচি পালন করা হবে। এতে ‘গণতন্ত্রের মা’ খ্যাত সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া-র বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং দেশবাসীর কল্যাণ কামনা করা হবে।

বিএনপি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নির্বাচনে বিজয়ের পর দলটির পক্ষ থেকে কোনো আনন্দ মিছিল বা সভা-সমাবেশ করা যাবে না। ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণকে মসজিদে আয়োজিত দোয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে সারা দেশের মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে স্ব স্ব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষদের সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনা করার অনুরোধও জানানো হয়েছে।

যে তিন আসনের ফল ঘোষণা স্থগিত রাখবে নির্বাচন কমিশন

০

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক ফল নির্ধারণ সম্পন্ন হলেও তিনটি আসনের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আসনগুলো হলো—শেরপুর-২, চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট তিন আসনে জয়ী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে মামলা বিচারাধীন থাকায় চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল ঘোষণা করা যাবে না। এ সংক্রান্ত পৃথক তিনটি চিঠি গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জারি করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-৪ আসনে প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী-এর বিষয়ে ইসির চিঠিতে বলা হয়, আপিল বিভাগে দায়ের করা সিপিএলএ নং ৪৪১/২০২৬ (হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ১১৭৪/২০২৬ থেকে উদ্বৃত) মামলার ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের আদেশ অনুযায়ী তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। তবে মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

একইভাবে চট্টগ্রাম-2 আসনের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর-এর ক্ষেত্রেও সিপিএলএ নং ৪৪০/২০২৬ (রিট পিটিশন নং ১০৫৩/২০২৬ থেকে উদ্বৃত) মামলার ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের আদেশের আলোকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বহাল রাখা হয়েছে। তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার নির্বাচনী ফল প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছে কমিশন।

অন্যদিকে শেরপুর-২ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী-এর বিষয়ে সিপিএলএ নং ৪৪২/২০২৬ (রিট পিটিশন নং ১১৮৬/২০২৬ থেকে উদ্বৃত) মামলার ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের আদেশ অনুসারে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন। তবে তার নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল সংশ্লিষ্ট মামলার চূড়ান্ত আদেশের ওপর নির্ভরশীল থাকবে বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

যে চারটি আসনে জিতল ’না’ ভোট

০

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একইদিনে অনুষ্ঠিত গণভোটে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী চারটি আসনে ‘না’ ভোট জয়ী হয়েছে। আসনগুলো হলো—বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম-১৩।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত ফলাফল শিট থেকে এ তথ্য জানা গেছে। কমিশন জানিয়েছে, ফলাফল হালনাগাদ হওয়ায় এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

বান্দরবান জেলায় ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৭১ হাজার ৪১৭টি এবং ‘না’ ভোট ৯০ হাজার ১৫৬টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৫ হাজার ৪২২ জন।

চট্টগ্রাম-১৩ আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৮০ হাজার ৫৮০টি। বিপরীতে ‘না’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৬২৯টি। এখানে মোট ভোটার ৩ লাখ ৯৫ হাজার ২৪৬ জন।

রাঙামাটিতে ‘হ্যাঁ’ ভোট পেয়েছে ৭১ হাজার ৬৯৯টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮০৫টি। মোট ভোটার ৫ লাখ ৯ হাজার ২৬৭ জন।

খাগড়াছড়িতে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৫৫টি। বিপরীতে ‘না’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৯৪২টি। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৪ হাজার ১১৩ জন।

ভোট এত আনন্দ ও উৎসব মুখর হবে অনেকেই ভাবতে পারেনি: মির্জা ফখরুল

ভোট যে এবার এত আনন্দ, উৎসব মুখর হবে অনেকেই ভাবতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলে তিনি।

এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ভোট যে এবা র এত আনন্দ, উৎসব মুখর হবে অনেকে ভাবতে পারেনি। বাংলাদেশের মানুষ একটা আনন্দের উৎসব পেয়েছে। মানুষের যে আগ্রহ উচ্ছ্বাস তা সারাদিন শতাধিক কেন্দ্র পরিদর্শন করে দেখলাম। আমি আশাবাদী একটা সুন্দর নির্বাচন সুন্দর রেজাল্ট আসবে।’

এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই সুন্দর নির্বাচনের জন্য আমরা ১৫ বছর সংগ্রাম করেছি। এই নির্বাচনের ফলে মানুষ একটি নির্বাচিত সরকার পাবে।’

লাইন দীর্ঘ, ভোট স্লো করা হচ্ছে’: বিএনপি প্রার্থী মিল্টনের অভিযোগ

০

ঢাকা-১৫ আসনের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন থাকলেও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে ধীরগতিতে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) দুপুর ২টা ২৫ মিনিটের দিকে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের (মূল মনিপুর বালিকা শাখা) কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ অভিযোগ তোলেন।

মিল্টন বলেন, সব কেন্দ্র এখনো ঘুরে দেখা সম্ভব হয়নি। তবে যেসব কেন্দ্রে গেছেন, সেখানে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। তার দাবি, ভোটগ্রহণে অস্বাভাবিক ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিষয়টি গণমাধ্যমকে খতিয়ে দেখার আহ্বানও জানান তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কাজীপাড়া সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে কয়েকজন জালভোট দিতে গিয়ে ধরা পড়েছেন। এ বিষয়ে তদন্ত ও প্রতিবেদন প্রকাশের আহ্বান জানান বিএনপির এই প্রার্থী।

কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটে। পরে দায়িত্বরত সেনাসদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ভোটগ্রহণে ধীরগতির পেছনে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের ভূমিকা আছে বলেও ইঙ্গিত দেন মিল্টন। তার ভাষ্য, বহু বছর পর ভোটের সুযোগ এসেছে, তাই যেন কোনো ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত না হন—সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। তবে তার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণে ভোট প্রক্রিয়া ‘ইচ্ছাকৃতভাবে ধীর’ করা হচ্ছে বলে মনে হয়েছে।

নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। মিল্টন বলেন, ঢাকা-১৫ আসনের ভোটাররা স্থানীয় প্রার্থীকেই বেছে নেবেন বলে তার বিশ্বাস। তিনি নিজেকে এই এলাকার জন্ম ও বেড়ে ওঠা প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভোটাররা ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল সমর্থন দেবেন।

উল্লেখ্য, এ আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। অতীতে তিনি বিভিন্ন নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

ভোট সুষ্ঠু হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মিল্টন বলেন, একজন প্রার্থী হিসেবে তিনি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করেন।

দুপুর ২টা পর্যন্ত সারাদেশে ৪৮৬টি বিশৃঙ্খলা, জালভোট ৫৯টি

০

চলমান জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ৪৮৬টি কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। জালভোট দেওয়া হয়েছে ৫৯টি এবং ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে ৩টি জায়গায়।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টা পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি সমন্বয় সেল থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সমন্বয় সেলের তথ্য বলছে, দুপুর ২টা পর্যন্ত দেশের সব কেন্দ্রের মধ্যে পোলিং এজেন্টদেরকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৪টি স্থানে। সারাদেশে বিভিন্ন প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ১৩৫ জায়গায়। দেশের সব কেন্দ্রের মধ্যে ৪৮৬টি ভোট কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে সারাদেশে ব্যালট বাক্স ছিনতাই হয়েছে তিনটি জায়গায়। ৬ জন প্রার্থীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। ৫৯টি জালভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

ভোট দিতে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৮টি। অগ্নিসংযোগের ঘটনা পাওয়া গেছে ৪টি স্থানে এবং নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির অবহেলার ঘটনা ঘটেছে ৩৩টি।

এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রে ঢুকে দেখলেন ভোট দেয়া হয়েছে আগেই, ৩ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

০

গাজীপুর-৩ আসনে ভোট দিতে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন এক নারী ভোটার। প্রায় ১ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রে ঢুকে তিনি জানতে পারেন, তার ভোট আগেই দেয়া হয়ে গেছে।

এ ঘটনায় সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাসহ তিনজনকে প্রত্যাহার করেছে নির্বাচন কমিশন।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১০টায় শ্রীপুর পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মহিলা ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব আহমেদ।

প্রত্যাহার হওয়া ওই তিনজন হলেন, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হারেছা খাতুন এবং দুই পোলিং কর্মকর্তা মাসুম খান ও সালমা আক্তার। তাদের মধ্যে হারেছা খাতুন গিলাশ্বর বালিকা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক এবং সালমা আক্তার দক্ষিণ ভাংনাহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। অপর পোলিং কর্মকর্তা মাসুম খানের কর্মক্ষেত্রের নাম জানা যায়নি।

ভুক্তভোগী ওই নারী ভোটারের নাম লাকী বেগম।

প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, লাকী বেগম সকালে ভোট দিতে কেন্দ্রে এসে লাইনে দাঁড়ান। প্রায় ১ ঘণ্টা অপেক্ষার পর ভোটগ্রহণ কক্ষে গিয়ে দেখেন, তার ভোট আগেই দেয়া হয়ে গেছে। এতে তিনি হতাশ হয়ে পড়েন এবং বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জানান।

ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. সেলিম হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিষয়টি কীভাবে ঘটল, তা তদন্ত করে দেখা হবে।’

নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সজীব আহমেদ বলেন, ‘একজন ভোটার অভিযোগ করেছিলেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাসহ তিনজনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরে ওই নারী ভোটারের ভোট নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা অনুযায়ী টেন্ডারভোট হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।’