Home Blog Page 209

ফুলকপি খাবার আগে দ্বিতীয় বার ভাবুন

শীতের জনপ্রিয় সবজি ফুলকপি, বাঁধাকপি ও ব্রকলি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হলেও এগুলো সবার জন্য সমানভাবে উপকারী নয়। নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন—এমন মানুষের ক্ষেত্রে এসব সবজি খেলে উল্টো অস্বস্তি বা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে, যেমন গ্যাস, অ্যাসিডিটি, বুক জ্বালাপোড়া বা বদহজম—তাদের জন্য এসব সবজি সতর্কতার সঙ্গে খাওয়া প্রয়োজন। কারণ, ফুলকপি ও বাঁধাকপিতে আঁশ বেশি থাকায় হজম হতে সময় লাগে। বিশেষ করে কাঁচা সালাদ, বেশি তেলে ভাজা বা ডুবো তেলে তৈরি পাকোড়া খেলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি থাকলে, কিডনিতে পাথর বা দীর্ঘদিনের কিডনি রোগ থাকলে এসব সবজি সীমিত পরিমাণে খাওয়া বা প্রয়োজনে এড়িয়ে চলাই ভালো। চিকিৎসকেরা এ ধরনের সমস্যায় ভুগছেন—এমন রোগীদের ক্ষেত্রে সাধারণত সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন।

থাইরয়েডজনিত সমস্যা বা আয়োডিনের ঘাটতি থাকলে ফুলকপি, বাঁধাকপি ও ব্রকলি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে ভালোভাবে সেদ্ধ করে অল্প পরিমাণে খেলে ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।

সবজি খাওয়ার সময় ছোট টুকরা করে ভালোভাবে সেদ্ধ করে রান্না করা সবচেয়ে নিরাপদ। অল্প তেলে ভাজি, মসলা পরিমিত রাখা এবং ভাত বা রুটির সঙ্গে খাওয়াই ভালো পদ্ধতি। পোলাও বা ফ্রায়েড রাইসের মতো খাবারে তেল কম ব্যবহার করা উচিত। শীতকালে স্যুপ হিসেবে খেলে হজমেও সুবিধা হয়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও ব্রকলি পুষ্টিকর হলেও যাদের নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই সবজি খাওয়ার আগে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

আগামী বাজেটের রূপরেখা প্রণয়ন করছে সরকার

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের রূপরেখা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ব্যয় সাশ্রয়ী পদক্ষেপকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। সে কারণে বাজেটের আকার চলতি বাজেটের মতো রাখার আভাস দেওয়া হয়েছে। আবার ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রপ্তানি, রেমিটেন্স আয় ও উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ সহায়তায় ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে বাজেটের আকার বাড়াতে পারে রাজনৈতিক সরকার। ফলে বাজেটের রূপরেখা প্রস্তুতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বেশ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
সূত্রগুলো জানায়, দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি রপ্তানি আয় এখন কিছুটা চাপের মুখে রয়েছে। অন্যদিকে রেমিটেন্স আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে রিজার্ভে। ডলার সংকট নেই বললেই চলে। আবার গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে তেমন সুখবর নেই। মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্ক থেকে নেমে আসলেও স্বস্তি ফিরে আসেনি। এ অবস্থায় বাজেট প্রণয়নে কৌশলী ভূমিকা নিতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। কারণ, নতুন বাজেটের আকার ও নীতি চূড়ান্ত করবে পরবর্তী রাজনৈতিক সরকার। চলমান সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে ব্যয় সংকোচন নীতি অব্যাহত রাখার সুপারিশ করা হবে।
নতুন সরকার ব্যয় সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিলে বাজেটের আকার হতে পারে সোয়া আট লাখ কোটি টাকা। আবার রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিলে বাজেটের আকার আট লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকায় নেওয়ার সুযোগও রাখা হচ্ছে। আগামী বাজেটের এডিপির সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে আড়াই লাখ কোটি টাকা। তবে মোট বাজেটের আকার পরিবর্তন হলে এডিপিও সে হারে সমন্বয় হবে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজেট প্রস্তুতের জন্য সময় পাবে প্রায় সাড়ে তিন মাস। সেই সময় এ সম্পর্কিত চাপ কমাতে এবং নীতিগত দিক নির্দেশনা দিতে অন্তর্বর্তী সরকার আগামী অর্থবছরের সম্ভাব্য ব্যয়, রাজস্ব ও উন্নয়ন কাঠামো নিয়ে একটি খসড়া রূপরেখা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

এ রূপরেখা চূড়ান্ত বাজেট প্রস্তুত করতে নির্বাচিত সরকারের জন্য সহায়ক হবে। এ লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে সম্প্রতি বাজেট-সংক্রান্ত একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করা হয়। ওই বৈঠকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট এবং আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সেই বৈঠকে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট এবং আগামী অর্থবছরের সম্ভাব্য বাজেটের আকার নিয়ে একটি উপস্থাপনা উপস্থাপন করেন অর্থ বিভাগের সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।

পাশাপাশি দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির একটি ধারণাও তুলে ধরা হয়। সূত্র জানায়, আর্থিক খাতের দুরবস্থা, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে আরও অন্তত এক বছর ব্যয় সংকোচন নীতি অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছে অর্থবিভাগ। সরকারের সম্পদ ব্যবস্থাপনায়ও এ রকম নীতির কথাই বলা হয়েছে। সবশেষ অনুষ্ঠিত আর্থিক, মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হার সংক্রান্ত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের বৈঠকে এমন নীতি অবলম্বনের কথা বলেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। ব্যয় সংকোচন নীতি অনুসরণ করায় গত বছর (২০২৪-২৫) সরকারের পাঁচ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

২০২৩-২৪ অর্থবছর একই নীতি অবলম্বন করে সরকার সাশ্রয় করেছিল আড়াই হাজার কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি ২০২৫-২৬ বছরও উল্লেখযাগ্য অঙ্কের সাশ্রয় হবে বলে প্রত্যাশা করছে অর্থবিভাগ। এই বছর বাজেটের আকার কমিয়ে ধরা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া উন্নয়ন-অনুন্নয়ন উভয় খাতের ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরেছে। এজন্য আসছে বছরও কম ব্যয়ের বাজেট দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে অর্থবিভাগ। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে ৬ শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়।
এটি বাড়িয়ে ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন সাড়ে ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। দেশে কাঙ্খিত বিনিয়োগ না হওয়ায় জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন কমানো হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের আকার সাত লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। শুরুতে এই বাজেট কাটছাঁট করে সাত লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনার চিন্তা ছিল। তবে সুদ পরিশোধ ও ভর্তুকি খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, ব্যাংক একীভূতকরণে মূলধন সহায়তা, সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন ভাতা বাড়ানোর পাশাপাশি নানা ক্ষেত্রে সরকারের পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এখন আর বড় ধরনের কাটছাঁটের পরিকল্পনা নেই।

ইতোমধ্যে দুই হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে সাত লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে মূল বাজেটের আকার তেমন না কমলেও সংশোধিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)-এর আকার কমানো  হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়িত না হওয়ায় প্রতিবারের মতো এবারও এই কাটছাঁটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির আকার হতে পারে ২ লাখ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) নেওয়া হয়েছিল। এর মানে হলো, এবার ৩০ হাজার কোটি টাকা কমছে। চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির অর্থের মধ্যে স্থানীয় উৎস থেকে জোগান দেওয়া হয় ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। এটি কমিয়ে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা করা হচ্ছে। আর মূল এডিপিতে প্রকল্প সহায়তা হিসেবে আছে ৮৬ হাজার কোটি টাকা। এটি কমিয়ে ৭২ হাজার কোটি টাকা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া এবার স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে সর্বোচ্চ ৭৪ শতাংশ কাটছাঁট করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা, পরিবহন, ধর্ম ও কৃষিতেও বড় কাটছাঁট করা হয়েছে। তবে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে পরিবেশ, স্থানীয় সরকার ও বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে। পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত সভায় দুই লাখ কোটি টাকার সংশোধিত এডিপি চূড়ান্ত করা হয়। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ ৭২ হাজার কোটি টাকা এবং সরকারের কোষাগার থেকে বরাদ্দ ধরা হয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা। স্বাস্থ্য খাতে বড় কাটছাঁটের বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের এক সচিব বলেন, খুব বেশি কার্যকর না হওয়ায় স্বাস্থ্যের সবচেয়ে বড় কর্মসূচি সরকারের সিদ্ধান্তে বাতিল করা হয়েছে।

এখন সেটা প্রকল্প আকারে করা হচ্ছে। এ জন্য এ খাতে বরাদ্দ কমে গেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রগতি না থাকায় খরচ করতে পারবে না- এমন ঘোষণার পরই বরাদ্দ কাটছাঁট করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপি এবং সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) তুলনা করে দেখা যায়, সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ক্ষেত্রে বরাদ্দের চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এডিপির তুলনায় আরএডিপিতে কিছু খাতে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ বাড়লেও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক খাতে বড় আকারের কাটছাঁট করা হয়েছে। এডিপির তুলনায় আরএডিপিতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের। এতে বরাদ্দ বেড়েছে ২৮ শতাংশ। এর পাশাপাশি স্থানীয় সরকার বিভাগে বরাদ্দ বেড়েছে ৮ শতাংশ। এই দুই খাতেই মূলত বরাদ্দ বাড়ানোর প্রবণতা দেখা গেছে।

মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ৭৭ শতাংশ কমানো হয়েছে স্বাস্থ্য, শিক্ষা স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণে। ৭৩ শতাংশ কমানো হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমেছে ৫৫ শতাংশ। এ ছাড়া বিদ্যুতে ২৭ শতাংশ, প্রাথমিক শিক্ষায় ২৯ শতাংশ, নৌপরিবহনে ৩৬ শতাংশ, রেলপথ ও কৃষিতে ৩৬ শতাংশ কমানো হয়েছে। এ ছাড়া সেক্টরভিত্তিক বরাদ্দের তুলনায় দেখা যায়, আরএডিপিতে সবচেয়ে বড় কাটছাঁটের শিকার হয়েছে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট খাতগুলো। স্বাস্থ্য শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে ৭৪ শতাংশ, যা ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ হ্রাস। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সামাজিক সুরক্ষা খাত, ৭৩ শতাংশ। ৩৫ শতাংশ কমানো হয়েছে শিক্ষা, পরিবহন ও ধর্মে।

অবকাঠামো খাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ সড়ক পরিবহন খাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে ৩৮ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজস্ব সংকটের কারণে কিছুটা কমানো স্বাভাবিক হলেও স্বাস্থ্য ও উচ্চশিক্ষায় এত বড় কাটছাঁট মধ্য মেয়াদে মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা, চিকিৎসা অবকাঠামো ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা কমে যেতে পারে, যা দীর্ঘ মেয়াদে উৎপাদনশীলতার জন্য ক্ষতিকর।
আরএডিপি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনেক প্রকল্পে বাস্তবায়নের গতি প্রত্যাশার চেয়ে ধীর, বিদেশি সহায়তার অর্থছাড়ে বিলম্ব হচ্ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়ছে। পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকার উন্নয়ন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে বাধ্য হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, যে সময় স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ার কথা ছিল, ঠিক সেই সময়ই বরাদ্দ কমানো হতাশাজনক।

তাঁর মতে, এসব খাতে ব্যয় বাড়ালে মানবসম্পদ উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়, পরিবারগুলোর আয় বাড়ে এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছেও অতিরিক্ত সম্পদ পৌঁছায়। অর্থ বিভাগ সম্প্রতি চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের বাজেট বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, জুলাই-সেপ্টেম্বরে এক লাখ চার হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা ব্যয় করেছে সরকার। এর মধ্যে পরিচালন খাতে ৯৪ হাজার ৩৯৯ কোটি ও উন্নয়ন খাতে ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয় হয়েছিল ৯৫ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা।

এ ক্ষেত্রে পরিচালন খাতে ৮৪ হাজার ৫৮৬ কোটি ও উন্নয়ন খাতে ১০ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা ব্যয় করে সরকার। এদিকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক  বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,  মূল্যস্ফীতি বলা হয়েছে, ১২ মাসের গড় হিসাবে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ২০২৩ সালের জুনের পর গত নভেম্বরে প্রথমবারের মতো ৯ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। আশা করা যায়, সরকারের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি এবং কৃচ্ছ্রসাধনের ফলে আগামী জুন শেষে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে নেমে আসবে।

আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

দেশের অর্থনীতিতে চলমান চলাচল এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতির প্রভাব অনুযায়ী প্রতিদিন ওঠানামা করছে টাকার মান। ব্যবসায়ী, আমদানিকারক এবং বিশেষ করে প্রবাসীদের জন্য প্রতিদিনের মুদ্রা বিনিময় হার জানা এখন সময়ের চাহিদা। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংকের রেফারেন্স অনুযায়ী ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫-এর হালনাগাদ বিনিময় হার নিচে তুলে ধরা হলো।

প্রধান মুদ্রার আজকের বিনিময় হার:
ইউএস ডলার: ১২১.৩৮ টাকা
সৌদি রিয়াল: ৩২.৫১ টাকা
মালয়েশিয়ান রিংগিত: ২৮.৮৭ টাকা
ইউরো: ১৪১.০৭ টাকা
ব্রিটিশ পাউন্ড: ১৬০.১৭ টাকা
দুবাই দেরহাম: ৩৩.২০ টাকা
কুয়েতি দিনার: ৩৯৭.২৩ টাকা
সিঙ্গাপুর ডলার: ৯৪.৯৮ টাকা
ভারতীয় রুপি: ১.৩৭ টাকা
ওমানি রিয়াল: ৩১৬.৬৯ টাকা
কাতারি রিয়াল: ৩৩.৪৯ টাকা
বাহরাইন দিনার: ৩২৪.৩০ টাকা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার: ৭৮.৯৪ টাকা
কানাডিয়ান ডলার: ৮৭.০১ টাকা
জাপানি ইয়েন: ০.৮২ টাকা
ব্যাংকিং চ্যানেল এবং খোলা বাজারের (কার্ব মার্কেট) বিনিময় হারে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে। বিশেষত প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা মানি এক্সচেঞ্জ হাউজ থেকে সর্বশেষ রেট যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এই রেট অনুযায়ী ব্যবসা-বাণিজ্য ও বৈদেশিক লেনদেনে পরিকল্পনা করলে টাকার সঠিক মূল্যায়ন ও সুরক্ষিত লেনদেন নিশ্চিত করা সম্ভব।

শাকিবের সঙ্গে আবার সিনেমা করা নিয়ে যা বললেন অপু

সুযোগ এলে আবারও ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানের সঙ্গে সিনেমায় জুটি বাঁধতে চান অপু বিশ্বাস—এমনই ইঙ্গিত দিলেন অভিনেত্রী নিজেই। প্রায় দুই বছরের বিরতি কাটিয়ে বড় পর্দায় ফিরছেন তিনি, আর এই ফেরা ঘিরেই ফের আলোচনায় এসেছে জনপ্রিয় শাকিব-অপু জুটি।

সম্প্রতি নিজের নতুন সিনেমা ‘দুর্বার’ নিয়ে একটি ইভেন্টে কথা বলতে গিয়ে শাকিব খানের প্রসঙ্গ ওঠে। সেখানেই তার সঙ্গে পুনরায় কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে মুখ  খোলেন অপু বিশ্বাস।

ঢালিউডে জুটি হিসেবে অর্ধশতাধিকেরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস। ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপড়েনের পর দীর্ঘদিন পর্দায় একসঙ্গে দেখা যায়নি এই জুটিকে। ফলে ভক্তদের মনে বহুদিন ধরেই প্রশ্ন—আবার কি বড় পর্দায় ফিরবে শাকিব-অপু জুটি?

এ প্রসঙ্গে অপু বিশ্বাস বলেন, “তিনি একজন গ্লোবাল স্টার, সুপারস্টার, মেগাস্টার। তাঁকে নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই।

আমি যেহেতু বিরতি কাটিয়ে কাজে ফিরেছি এবং সবার সহযোগিতা পাচ্ছি, তাই আপনাদের এই ইচ্ছার বিষয়ে বলতে চাই—যদি কোনো হৃদয়বান প্রযোজকের কানে বিষয়টি পৌঁছায় এবং তিনি হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে আপনাদের সেই চাওয়া পূরণ হতেও পারে।”

শাকিব খানের সঙ্গে কাজের স্মৃতিচারণা করে অপু আরো বলেন, “আমি আর শাকিব মোট ৭২টি সিনেমা করেছি। প্রযোজক ও পরিচালকদের সহযোগিতার কারণেই এতগুলো কাজ করা সম্ভব হয়েছে।”

উল্লেখ্য, অপু বিশ্বাস অভিনীত নতুন সিনেমা ‘দুর্বার’ পরিচালনা করছেন কামরুল হাসান ফুয়াদ।

ছবিটিতে তার বিপরীতে অভিনয় করছেন আব্দুন নূর সজল। ২০২৬ সালের কোনো বড় উৎসবকে সামনে রেখে সিনেমাটি দেশজুড়ে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।

এবার রোজার সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুললেন তাহসান

সম্প্রতি দেশের শ্রোতাপ্রিয় গায়ক ও অভিনেতা তাহসান খানের বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে শোবিজঅঙ্গণে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে শুরু হওয়া এই গুঞ্জনের অবসান করলেন তাহসান নিজেই। এবার স্ত্রী রোজা আহমেদের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনাটি সত্য বলে জানিয়েছেন তিনি।

তাহসান ও রোজার বিচ্ছেদের গুঞ্জনের পালে জোর হাওয়া লাগে তাদের বিবাহবার্ষিকীর এক বছর পূর্তিতেও দুজনকে একসঙ্গে দেখতে না পাওয়ার পর থেকে। তখন থেকেই মূলত এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে কানাঘুষা শুরু হয়।

বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে তাহসান বলেন, ‘সত্য বলতে আমাদের বিচ্ছেদের ঘটনা সত্য। এটা নিয়ে আমি বিস্তারিত কথা বলব। তবে এখন নয়।’ কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি অনেক বড় এবং সবকিছু চূড়ান্ত হলেই তিনি বিস্তারিত জানাবেন।

কবে থেকে তারা আলাদা থাকছেন সে সম্পর্কে এই সংগীতশিল্পী বলেন, ‘গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আমি অস্ট্রেলিয়া ট্যুরে আসি। সেই ট্যুরের আগেই আমরা আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেই সময় থেকেই আমি ফেসবুক ও গান থেকে অনেকটাই দূরে রয়েছি।’ এছাড়া বর্তমানে তিনি ভ্রমণ এবং বই পড়ে সময় কাটাচ্ছেন বলেও জানান।

সবশেষে তিনি এই কঠিন সময় যেন দ্রুততার সঙ্গে পার করতে পারেন সেজন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

হাদি হত্যা ও বিচার নিয়ে জামায়াত আমিরের স্পষ্ট বার্তা

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যা ও বিচার নিয়ে ফেসবুকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, আমাদের অত্যন্ত স্নেহের সন্তান এবং রাজপথের পরীক্ষিত সহযোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির ইন্তেকাল আজও আমাদের ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ করে। একটি সম্ভাবনাময় প্রাণের এভাবে চলে যাওয়ায় যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা অপূরণীয়।

‘অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই যে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল হওয়া সত্ত্বেও এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্তরা এখনও আইনের আওতার বাইরে রয়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে আজ জনমনে সংগত কারণেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।’

জামায়াত আমির বলেন, অভিযুক্তরা দেশের অভ্যন্তরে অবস্থান করছে, নাকি সীমান্ত অতিক্রম করেছে; এ বিষয়ে অস্পষ্টতা বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের কোনো সুযোগ নেই। যদি তারা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে কিংবা অন্য কোনো দেশে অবস্থান করে থাকে, তবে বাংলাদেশ সরকারের উচিত দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আইনের মুখোমুখি করা।

আমরা মনে করি, কেবল গ্রেপ্তারই যথেষ্ট নয়; বরং এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করা জরুরি। একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য তদন্তের মাধ্যমেই কেবল প্রকৃত সত্য উদঘাটন সম্ভব। অন্যথায়, বিচারহীনতার সংস্কৃতি জনমনে রাষ্ট্র ও আইনি ব্যবস্থার প্রতি গভীর সংশয় এবং হতাশা সৃষ্টি করবে।’

শফিকুর রহমান আরও লিখেছেন, একজন শহীদের রক্তের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্ব। আমরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, শহীদ ওসমান বিন হাদির আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। আমরা আশা করি, সরকার ও প্রশাসন জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে অবিলম্বে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ নিশ্চিত করতে মাঠে নামছে এনসিপি, নিয়োগ পাচ্ছেন ২৭০ জন অ্যাম্বাসেডর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশজুড়ে ব্যাপক সংগঠিত প্রচারণায় নামছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করতে দলটি সারা দেশে ২৭০ জন ‘অ্যাম্বাসেডর’ বা প্রতিনিধি নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সম্প্রতি এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, যেসব সংসদীয় আসনে এনসিপির নিজস্ব প্রার্থী থাকবেন, সেখানে প্রার্থীর নেতৃত্বেই গণভোট ও নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালিত হবে। তবে যেসব আসনে এনসিপির প্রার্থী নেই, সেসব এলাকায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে মাঠপর্যায়ে কাজ করতে আলাদা করে এই ২৭০ জন অ্যাম্বাসেডর নিয়োগ দেওয়া হবে। পুরো কার্যক্রমের সমন্বয় ও নেতৃত্বে থাকবেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
এদিকে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি নতুন করে সাজানো হয়েছে। গত ৯ জানুয়ারি রাতে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন ৩১ সদস্যের পুনর্গঠিত এই কমিটির অনুমোদন দেন। কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং সেক্রেটারি করা হয়েছে মনিরা শারমিনকে।
চেয়ারম্যান ও সেক্রেটারির পাশাপাশি কমিটিতে আরও ২৯ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি, তানজিল মাহমুদ, অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা, অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর, আকরাম হুসাইন, আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া, লুৎফর রহমান, সাগুফতা বুশরা মিশমা, ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, তাহসীন রিয়াজ, লে. কর্নেল (অব.) মো. সাব্বির রহমান, সাদিয়া ফারজানা দিনা, ফরহাদ সোহেল, আবু সায়েদ লিয়ন, হামযা ইবনে মাহবুব, রাসেল আহমেদ, মেজবাহ উদ্দীন, মো. শওকত আলী, মাজহারুল ফকির, আবু বাকের মজুমদার, অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ, সাইফ ইবনে সারোয়ার, কৈলাশ চন্দ্র রবিদাস, নাভিদ নওরোজ শাহ্, সরদার আমিরুল ইসলাম সাগর, ইয়াসির আহমেদ ও আয়মান রাহাত।
দলীয় নেতাদের মতে, এই পরিকল্পিত কর্মসূচির মাধ্যমে গণভোটের বিষয়টি নিয়ে জনসচেতনতা বাড়বে এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে শক্ত জনমত তৈরি করা সম্ভব হবে।
এদিকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নিতে যাচ্ছে এনসিপি। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০টি আসনে সমঝোতার আলোচনা হলেও এখনো চূড়ান্ত আসন বণ্টন হয়নি। তবে এর মধ্যেই ৪৪টি আসনে এনসিপির প্রার্থীরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন। আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হলে দলীয় প্রার্থীরা সরে দাঁড়িয়ে জোট প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে কাজ করবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলসহ ৫ দাবিতে উত্তাল আন্দোলন

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগে ফের রাজপথে নেমেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। স্বচ্ছ, প্রশ্নফাঁসমুক্ত প্রক্রিয়ায় নতুন করে পরীক্ষা আয়োজনের দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর ঘেরাও করে বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন তারা।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল থেকেই অধিদফতরের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। বিক্ষোভ চলাকালে তারা বিভিন্ন স্লোগানে পরীক্ষায় জালিয়াতি, ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার এবং প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ তুলে পুরো পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানান। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তারা।
নিয়োগপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় একাধিক অনিয়ম হয়েছে। বিশেষ করে প্রশ্নফাঁস এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে অসাধু উপায়ে সুবিধা নেওয়ার ঘটনা পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এসব কারণেই তারা পাঁচ দফা দাবি সামনে রেখে আন্দোলনে নেমেছেন।
তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে দ্রুত নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া, সব ধরনের চাকরির পরীক্ষা ঢাকায় আয়োজন করা এবং প্রতিটি কেন্দ্রে ডিভাইস শনাক্তকারী যন্ত্র ও নেটওয়ার্ক জ্যামার স্থাপন করা। একই সঙ্গে স্বতন্ত্র একটি কমিটির অধীনে সব পরীক্ষা গ্রহণ, একই দিনে একই সময়ে একাধিক পরীক্ষা না নেওয়া এবং যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আগেও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ রয়েছে, তাদের কোনোভাবেই প্রশ্ন প্রণয়নের দায়িত্ব না দেওয়ার দাবি জানান তারা। এছাড়া প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি প্রশ্ন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের দাবিও তোলেন আন্দোলনকারীরা।
উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা বাদে দেশের ৬১ জেলায় একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার কয়েক দিন আগ থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু প্রশ্ন ফেসবুকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়।
পরীক্ষার্থীদের দাবি, পরীক্ষার দুই দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের কয়েকটি প্রশ্ন হুবহু মিলে গেছে। এতে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, ২৫ ডিসেম্বর জেলা পর্যায়ে প্রশ্নপত্র পাঠিয়ে দেওয়ার পর প্রায় দুই সপ্তাহ পর পরীক্ষা নেওয়ায় একটি চক্র প্রশ্নপত্রের নাগাল পেয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এবারে দুই ধাপে মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি। সে হিসাবে প্রতি পদের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৭৫ জন করে চাকরিপ্রার্থী প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১০ হাজার ২১৯টি পদের বিপরীতে আবেদন পড়ে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি। দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১টি। তবে ঠিক কতজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এবং কতজন অনুপস্থিত ছিলেন, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট তথ্য জানায়নি অধিদফতর।
পরিস্থিতি নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জুলাই ঐক্যের করা রিটে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন বাতিলে হাইকোর্টের রুল

জাতীয় পার্টি, আওয়ামিলীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ স্বৈরাচারের দোসরদের মনোনয়ন বাতিলের জন্য জুলাই ঐক্যের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে করা রিটের (৫৪/২০২৬) ওপর রুল জারি করেছেন আদালত।

রোববার বিচারপতি রাজ্জাক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের কোর্টে এই রুল জারি হয়। জুলাই ঐক্যের পক্ষে রিটের আবেদন করেন জুলাই ঐক্যের সংগঠক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (বোরহান মাহমুদ)। আইনজীবী হিসেবে ছিলেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির।

আবারো বড় পর্দায় শাকিব-অপু? জুটি বাঁধার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন অপু বিশ্বাস

ঢালিউডে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে জনপ্রিয় শাকিব–অপু জুটি। সুযোগ পেলে ফের শাকিব খানের সঙ্গে পর্দা ভাগাভাগি করতে আগ্রহী এমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। প্রায় দুই বছর পর বড় পর্দায় প্রত্যাবর্তন করতে যাচ্ছেন তিনি, আর সেই ফেরা ঘিরেই নতুন করে উসকে উঠেছে পুরোনো স্মৃতি ও ভক্তদের প্রত্যাশা।
সম্প্রতি নিজের নতুন সিনেমা ‘দুর্বার’ নিয়ে একটি আয়োজনে কথা বলতে গিয়ে শাকিব খানের প্রসঙ্গ আসে। সেখানেই শাকিবের সঙ্গে আবার কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেন অপু বিশ্বাস।
ঢালিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল জুটিগুলোর একটি শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস। একসঙ্গে অর্ধশতাধিক, এমনকি ৭০টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তারা। ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনের পর দীর্ঘ সময় এই জুটিকে একসঙ্গে বড় পর্দায় দেখা যায়নি। তাই ভক্তদের মনে বহুদিন ধরেই প্রশ্ন আবার কি ফিরবে শাকিব–অপু জুটি?
এ প্রসঙ্গে অপু বিশ্বাস বলেন, “তিনি একজন গ্লোবাল স্টার, সুপারস্টার, মেগাস্টার। তাঁকে নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। আমি যেহেতু বিরতি কাটিয়ে আবার কাজে ফিরছি এবং সবার সহযোগিতা পাচ্ছি, তাই যদি কোনো হৃদয়বান প্রযোজকের কানে এই কথাটা পৌঁছায় এবং তিনি উদ্যোগ নেন, তাহলে আপনাদের সেই চাওয়া পূরণ হতেও পারে।”
শাকিব খানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে অপু আরও বলেন, “আমি আর শাকিব একসঙ্গে ৭২টি সিনেমা করেছি। প্রযোজক ও পরিচালকদের সহযোগিতা না পেলে এতগুলো কাজ সম্ভব হতো না।”
উল্লেখ্য, অপু বিশ্বাস অভিনীত নতুন সিনেমা ‘দুর্বার’ পরিচালনা করছেন কামরুল হাসান ফুয়াদ। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করছেন অভিনেতা আব্দুন নূর সজল। নির্মাতাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের কোনো বড় উৎসবকে কেন্দ্র করে সিনেমাটি দেশজুড়ে মুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে।