ঢাকার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সোমবার (১২ জানুয়ারি) মডেল ও অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী এবং তার ভাই আলিশান চৌধুরীকে মামলায় অব্যাহতি দিয়েছেন। পারিবারিক ব্যবসার অংশীদার হিসেবে রাখার প্রলোভন দেখিয়ে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাত এবং হুমকি-ধামকির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালতের এই সিদ্ধান্ত এসেছে।
মেহজাবীনের আইনজীবী তুহিন হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের পরিচয়ের ভিত্তিতে বাদী আমিরুল ইসলাম মেহজাবীনের পারিবারিক ব্যবসায় অংশীদার হওয়ার বিনিময়ে ২৭ লাখ টাকা প্রদান করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হওয়া সত্ত্বেও ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় টাকা ফেরত চাওয়ার পর আসামিরা সময়ক্ষেপণ শুরু করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত বছরের ১৬ মার্চ হাতিরঝিলের একটি রেস্টুরেন্টে বৈঠকের জন্য ডেকে নিয়ে মেহজাবীন ও তার ভাইসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন বাদীকে গালাগালি ও হত্যার হুমকি দেন। পরে বাদী ভাটারা থানায় গেলে পুলিশ তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন।
এ ঘটনায় আমিরুল ইসলাম ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১০৭/১১৭(৩) ধারায় মামলা দায়ের করেন। আদালতে আসামিরা হাজির না হওয়ায় ১০ নভেম্বর তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে ১৬ নভেম্বর তারা আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে মামলার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়ে আসামিরা মুক্তি পান, যা পরবর্তী বিচার প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন মেহজাবীন চৌধুরী
নীরবে লিভারের ক্ষতি করছে যে ৩টি খাবার!
আমাদের লিভার শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যা রক্ত পরিশোধন, পিত্ত উৎপাদন এবং পুষ্টি বিপাকসহ অসংখ্য শারীরিক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি একটি প্রাথমিক পরিস্রাবণ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে, রক্ত থেকে বিষাক্ত পদার্থ এবং বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করে। তবে, কিছু খাবার, যা অন্যথায় ক্ষতিকারক বলে মনে হয় না, লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে এবং ফ্যাটি লিভার, সিরোসিস, ফ্যাটি লিভার ডিজিজ, অ্যাকিউট লিভার ফেইলিওর এবং ক্রনিক লিভার ডিজিজের আকারে প্রকাশ পেতে পারে। ভালো খবর হল যে আপনি আপনার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এই খাবারগুলি খাওয়া এড়িয়ে চলতে পারেন এবং এই সমস্ত অসুস্থতা প্রতিরোধ করতে পারেন। আসুন আপনার লিভারের ক্ষতি করে এমন শীর্ষ ৩টি খাবার দেখে নেওয়া যাক (সূত্র: ডাক্তার.সেঠি)
ফ্রুক্টোজ-ভারী খাবার
ফ্রুক্টোজ হল এক ধরণের চিনি যা প্রাকৃতিকভাবে ফল, মধু এবং উচ্চ-ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপের মতো কিছু মিষ্টিতে পাওয়া যায়। যদিও পুরো ফল থেকে অল্প পরিমাণে ফ্রুক্টোজ সাধারণত নিরাপদ, তবে অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ, বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং মিষ্টি পানীয় থেকে, লিভারের ক্ষতি করতে পারে।
আপনি যখন প্রচুর ফ্রুক্টোজ খান, তখন আপনার লিভার এটি ভেঙে ফেলার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে। গ্লুকোজের বিপরীতে, ফ্রুক্টোজ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লিভারে প্রক্রিয়াজাত করা হয়, যেখানে এটি দ্রুত চর্বিতে পরিণত হতে পারে।
এর ফলে লিভারের ভেতরে চর্বি জমা হতে পারে, যাকে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD) বলা হয়। সময়ের সাথে সাথে, এই চর্বি জমা প্রদাহ, দাগ এবং এমনকি লিভার ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।
উচ্চ ফ্রুক্টোজ গ্রহণ লিভারে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং প্রদাহও বাড়ায়। এটি ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা এবং রক্তচাপ বাড়াতে পারে এবং ইনসুলিন প্রতিরোধের কারণ হতে পারে, যার অর্থ আপনার শরীর ইনসুলিনের প্রতি ভালোভাবে সাড়া দেয় না। এই পরিবর্তনগুলি লিভারের রোগ এবং ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের মতো অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং পানীয়গুলিতে সমস্যাটি বিশেষভাবে গুরুতর যেখানে ফ্রুক্টোজ যুক্ত থাকে, যেমন সোডা, ক্যান্ডি এবং অনেক বেকড পণ্য। এই খাবারগুলি লিভারের নিরাপদে ফ্রুক্টোজ প্রক্রিয়াজাত করার ক্ষমতাকে অতিক্রম করতে পারে, যার ফলে লিভারের ক্ষতি হয়।
শিল্প বীজ তেল
শিল্প বীজ তেল হল সূর্যমুখী, কুসুম, তুলা বীজ, সয়াবিন এবং ভুট্টার মতো বীজ থেকে নিষ্কাশিত তেল। এই তেলগুলি অনেক প্রক্রিয়াজাত এবং ভাজা খাবারে সাধারণ। যদিও উদ্ভিদ থেকে উৎপন্ন হওয়ায় এগুলো স্বাস্থ্যকর মনে হতে পারে, তবুও এগুলো আপনার লিভার এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে।
এই তেলগুলিতে ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড বেশি থাকে, যা অল্প পরিমাণে অপরিহার্য কিন্তু অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে ক্ষতিকারক। ওমেগা-৬ ফ্যাটের বেশি গ্রহণ লিভার সহ শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। এই প্রদাহ লিভারের ক্ষতি এবং ফ্যাটি লিভারের মতো রোগে অবদান রাখতে পারে।
তাছাড়া, শিল্পজাত বীজ তেল অস্থির এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রান্নার সময় তাপ, আলো বা রাসায়নিকের সংস্পর্শে এলে সহজেই জারিত হয়। এই জারণ ট্রান্স ফ্যাট এবং লিপিড পারক্সাইডের মতো ক্ষতিকারক পদার্থ তৈরি করে। ট্রান্স ফ্যাট হৃদরোগ এবং টাইপ 2 ডায়াবেটিসের সাথে যুক্ত, অন্যদিকে লিপিড পারক্সাইড ডিএনএ এবং প্রোটিনের ক্ষতি করে লিভারের কোষগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
ভাজার মতো এই তেলগুলিকে বারবার গরম করলে এগুলি আরও বিষাক্ত হয়ে ওঠে এবং লিভারের প্রদাহ এবং ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে যে এই তেলগুলি অন্ত্রে ভালো এবং খারাপ ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে, প্রদাহ এবং লিভারের সমস্যা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা শিল্পজাত বীজ তেলের ব্যবহার সীমিত করার এবং পরিবর্তে জলপাই তেল, নারকেল তেল, চালের কুঁড়া তেল এবং ঘি এর মতো স্বাস্থ্যকর চর্বি বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এই বিকল্পগুলি আরও স্থিতিশীল এবং প্রদাহের সম্ভাবনা কম।
ফলের রস
অনেকে মনে করেন ফলের রস স্বাস্থ্যকর, কিন্তু বেশিরভাগ বাণিজ্যিকভাবে পাওয়া ফলের রসে চিনি বেশি এবং ফাইবার কম থাকে। ফলের রস তৈরি করলে প্রাকৃতিক ফাইবার সরে যায়, যার বেশিরভাগই চিনি থাকে, বিশেষ করে ফ্রুক্টোজ।
প্রচুর পরিমাণে ফলের রস পান করলে ফ্রুক্টোজ-ভারী প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার মতো একই সমস্যা হতে পারে। লিভারকে সেই সমস্ত চিনি প্রক্রিয়াজাত করতে হয়, যা লিভারের কোষে চর্বি জমা, প্রদাহ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের কারণ হতে পারে।
পুরো ফলের বিপরীতে, ফলের রস রক্তে শর্করা এবং ফ্রুক্টোজের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি করে, যা লিভারকে অতিরিক্ত চাপ দেয়। এটি ফ্যাটি লিভারের রোগকে আরও খারাপ করতে পারে এবং লিভারের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
যারা লিভারের স্বাস্থ্যের বিষয়ে উদ্বিগ্ন, তাদের জন্য ফলের রস পান করার চেয়ে পুরো ফল খাওয়া ভালো। পুরো ফলে ফাইবার থাকে যা চিনির শোষণকে ধীর করে দেয় এবং লিভারের উপর বোঝা কমায়। পাল্প ছাড়া এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত ফলের রস এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলি চিনিযুক্ত সোডার মতো লিভারের চর্বি এবং প্রদাহে অবদান রাখতে পারে।
দাম বেড়ে সোনার ভরি প্রায় দুই লাখ ২৮ হাজার টাকা
দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে ভালো মানের সোনার দাম বেড়ে দুই লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকায় উঠেছে। সম্প্রতি বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন এই দাম আগামীকাল (১১ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে। সংগঠনটি জানিয়েছে, বৈশ্বিক বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম বেড়েছে। বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ ও রুপার দামের নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে।
প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়িয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দুই লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি এক লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা দাম এক লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা। স্বর্ণের দাম বাড়লেও অপরিবর্তিত আছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৯২৫ টাকা। এ ছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৬৩৯ টাকা।
ঘুম থেকে উঠার পর ক্লান্তি লাগে? কারণ ও সমাধান জানালেন চিকিৎসক
অনেকেই বলে থাকেন―সকালে ঘুম থেকে উঠার পর শরীর যেন প্রায় ভেঙে পড়ে, ক্লান্তি শুরু হয় এবং দুপুরের আগেই চোখ ঘুমে ভারী হয়ে যায়। কারও কারও আবার মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা অনুভব হয়। দিনের শুরুতেই যদি এ ধরনের অবস্থা হয়, তাহলে দিনটাই যেন প্রায় মাটি! ফলে সারাদিন কাজের প্রতি মনোযোগ ও সক্রিয়তা কমতে থাকে। যা প্রভাব ফেলে ব্যক্তি ও কর্মজীবনে।
দিনের শুরুতে শরীরের এসব সমস্যা হলে শক্তির পরিমাণও কমে যায়। ফলে সব দিকেই সমস্যার শুরু হয়। এ ব্যাপারে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. পাল মনিক্কম। তিনি জানিয়েছেন, প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠার পর ক্লান্তি লাগার ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়ই দায়ী হচ্ছে অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস, ভুল সময় খাওয়া বা রাতে অতিরিক্ত আলো-শব্দের পরিবেশে থাকা।
ডা. পাল মনিক্কম বলেন, মাত্র কয়েকটি ছোট ছোট অভ্যাস পরিবর্তন করলে ঘুমের গুণগত মান বাড়ে এবং সকালে ঘুম ভাঙার সঙ্গে শরীরে স্বাভাবিক সক্রিয়তা ফিরে আসে। এ জন্য জরুরি হচ্ছে ফিক্সড স্লিপ সাইকেল। অর্থাৎ- প্রতিদিন একই সময় ঘুমাতে যাওয়া ও একই সময় ঘুম থেকে উঠা। যা শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম স্থিতিশীল রাখে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমানোর আগে অন্তত এক ঘণ্টা ফোন, টিভি বা স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত। কেননা, নীল আলো মেলাটোনিন কমিয়ে দেয়, এতে ঘুম গভীর হয় না। ঘুমানোর অন্তত ২০-৩০ মিনিট আগে হালকা আলো, বই পড়া বা উষ্ণ পানিতে গোসল করা- এ ধরনের রিল্যাক্সিং রুটিন শরীরকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করে।
ঘুম ভালো ও গভীর হওয়ার অন্যতম উপাদান হচ্ছে আলো নিয়ন্ত্রণ। আলো যদি বেশি তীব্র হয়, তবে সেই আলো শরীরকে ভুল সংকেত দেয় যে- দিন এখনো শেষ হয়নি। এ কারণে ঘর অন্ধকার রাখার জন্য ব্ল্যাকআউট কারটেইনস খুবই কার্যকর। এসব বাইরের গাড়ির আলো, স্ট্রিটলাইট বা ভোরের সূর্যালোক ঘরের ভেতর প্রবেশ করতে দেয় না। অন্ধকার পরিবেশে মেলাটোনিন নিঃসরণ বাড়ে এবং এতে ঘুমের গভীরতা ও সময় বেশি হয়। ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠার পর শরীর ক্লান্তিও লাগে না।
ঘুম নষ্ট হওয়ার অন্য একটি কারণ হচ্ছে রুমের তাপমাত্রা ঠিক না রাখা। ঘুমের সময় শরীর স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হয়। এ কারণে ঘরের তাপমাত্রা তুলনামূলক কম হলে দ্রুত ঘুম আসে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমের জন্য আদর্শ তাপমাত্রা হচ্ছে ১৮ থেকে ১৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। বেশি গরম ঘুমের ছন্দ ভেঙে দেয় এবং ঘুমের মাঝে বারবার জাগিয়ে তুলে। এ কারণে সকালে ক্লান্তি লাগে।
এছাড়া রাতে তাড়াতাড়ি খাওয়া উচিত। যদি দেরি করে খাবার খাওয়া হয়, তাহলে হজম হওয়ার আগে শুয়ে পড়লে অ্যাসিডিটি, অম্বল বা গ্যাসের সমস্যা তৈরি হয়। এ কারণে ঘুম ভেঙে যেতে পারে বা গভীর হয় না। রাতে যদি আগে খাবার খাওয়া হয়, এতে শরীর হজমের কাজ শেষ করে ঘুমে প্রবেশ করে। আর সকালে হালকা লাগে শরীর। পেট গরম বা ভারী হয় না।
উল্লেখিত অভ্যাসগুলো নিয়মিত পালন করা হলে সকালে ক্লান্তি তো দূর হবেই, সঙ্গে শরীরের শক্তির পরিমাণও বাড়তে থাকবে। ঘুমের মান ভালো হলে মনোযোগ, স্মরণশক্তি, হরমোন ব্যালান্স- সবই উন্নত হয়। তবে হঠাৎ কোনো রুটিন শুরুর আগে নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নেয়া উচিত।
এলপিজি আমদানি নিয়ে বড় সুখবর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক
দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন করতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে এলপিজি আমদানিতে বিশেষ আর্থিক সুবিধা মিলবে এবং একে শিল্প কাঁচামাল হিসেবে গণ্য করা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে আমদানিকারকরা আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে বাকিতে মূল্য পরিশোধের সুযোগ পাবেন।
রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে জারি করা এক সার্কুলারে জানানো হয়েছে, এলপিজি আমদানিকারকরা এখন থেকে সর্বোচ্চ ২৭০ দিন বা ৯ মাস মেয়াদে বাকিতে আমদানির ঋণ সুবিধা পাবেন। সাধারণত বাল্ক আকারে আমদানি করা এলপিজি দেশে এনে সিলিন্ডারে ভরা এবং বাজারজাত করতে দীর্ঘ সময় লাগে। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় আমদানিকারকদের নগদ অর্থের সংকট দূর করতে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আমদানিকারকরা কেবল সরবরাহকারীর কাছ থেকেই নয়, বরং বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকেও ‘বায়ার্স ক্রেডিট’ বা ক্রেতা ঋণ নিতে পারবেন। এছাড়া দেশের ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে বিল ডিসকাউন্টিং সুবিধাও গ্রহণ করা যাবে। এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর শিল্প কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে এই সুবিধা দেওয়া হলেও, এলপিজি খাতকে এর অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এখন নতুন সার্কুলার জারি করা হলো।
বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, এলপিজি আমদানির পর তা বিতরণ ও ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতে অনেক সময় ব্যয় হওয়ায় আমদানিকারকদের নগদ অর্থপ্রবাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। এই নতুন সুবিধা সেই চাপ কমিয়ে এলপিজি আমদানিতে গতি আনবে এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখবে। তবে এই সব সুবিধার ক্ষেত্রে প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা ও ঋণের সতর্কতামূলক নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের সাধারণ গ্রাহকদের জন্য রান্নার গ্যাসের সংকট দূর হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার সাথে সমন্বয় করা আমদানিকারকদের জন্য আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে না পারা সরকারের ব্যর্থতা: মির্জা ফখরুল
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এখনো অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে না পারার বিষয়টিকে সরকারে ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়িতে তার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের ব্যর্থতা নির্বাচন সামনে রেখে অস্ত্র উদ্ধার করতে পারছে না। তিস্তা–পদ্মাসহ অভিন্ন সব নদী থেকে ভারতের কাছে হিস্যা আদায় করা হবে।
মোস্তাফিজুর রহমান প্রসঙ্গে এ সময় তিনি বলেন, একজন ক্রিকেটারকে অপমান করা মানে দেশকে অপমান করা।
তিনি বলেন, আমি আগে ক্রিকেট খেলতাম ও বোর্ডের মেম্বার ও ছিলাম। এখন ক্রিকেট খেলি না, এখন রাজনীতি করি। এই ক্রিকেটের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক বিষয়ক জড়িত আছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ক্রিকেটের সাথে আমাদের দেশের সম্মান জড়িয়ে আছে। আমাদের একজন ক্রিকেটারকে অপমান করা হয়েছে। এতে আমরা মনে করি, আমাদের দেশকে অপমান করা হয়েছে।
আমরা সরকার গঠন করলে বিদেশিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকবে: জামায়াত আমির
সরকার গঠনের সুযোগ পেলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হবে—এমনই ইঙ্গিত দিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিদেশি রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সুসম্পর্ক বজায় রাখার অঙ্গীকারের পাশাপাশি তিনি নির্বাচন, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরায় দলের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত ইসলামী সরকার গঠন করলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখা হবে। তিনি জানান, নির্বাচনের পর সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে একসঙ্গে বসে দেশকে স্থিতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং আগামী পাঁচ বছরে দেশের কল্যাণে কী করা যায়, সে বিষয়ে যৌথ আলোচনা হবে।
বর্তমান নির্বাচন পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, দেশে এখনো পুরোপুরি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়নি। তবে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রায় ২০০ সদস্যের পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছে, যারা জেলা পর্যায়ে কাজ করবে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, গত ৫৪ বছরের রাজনীতিতে দেশের মানুষ হতাশ হয়ে পড়েছে। জনগণ এখন পরিবর্তন চায়, আর সেই পরিবর্তনের লক্ষ্যেই জামায়াত কাজ করছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসতে চায়, তাদেরও জনগণকে এই পরিবর্তনের আশ্বাস দেওয়া উচিত।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের দেশের স্বার্থে ওয়াচডগ হিসেবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের মূলধারার গণমাধ্যম যেন কোনো নির্দিষ্ট দলের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট না হয়ে জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে—এই বিষয়টি সব সময় মনে রাখা প্রয়োজন।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় প্রথম জামিন
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ঘিরে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোতে এবার এক নতুন নজির সৃষ্টি হলো। প্রথমবারের মতো এ ধরনের মামলায় কোনো আসামিকে জামিন দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, যা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে লক্ষ্মীপুরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামি হুমায়ুন কবিরের জামিন মঞ্জুর করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম জানান, ট্রাইব্যুনাল একাধিক কঠোর শর্ত সাপেক্ষে জামিন দিয়েছেন। শর্ত অনুযায়ী, আসামিকে তার বর্তমান বাসার ঠিকানা ট্রাইব্যুনালকে জানাতে হবে এবং গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরনের বক্তব্য প্রদান করতে পারবেন না। একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা ও ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারকে অবহিত না করে বাসা পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না। মামলার সাক্ষ্য বা প্রমাণ প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে জামিন বাতিল হবে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের একজন হুমায়ুন কবির, যিনি ঘটনার সময় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গত আগস্টে ঢাকার একটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ট্রাইব্যুনালে শাহরিয়ার কবির
২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের আলোচিত সহিংসতা ও গণহত্যা মামলায় বিচারিক প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগোল। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবিরকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এই মামলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে শাহরিয়ার কবিরসহ আসামিদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।
এ মামলায় বর্তমানে আরও চারজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক একেএম শহিদুল হক এবং পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক মোল্যা নজরুল ইসলাম।
এর আগে গত ৩০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ শাহরিয়ার কবিরকে হাজির করার নির্দেশ দেন। সেদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর তারেক আবদুল্লাহ। তিনি মামলার তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরে শাহরিয়ার কবিরের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করেন, যা ট্রাইব্যুনাল মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে অভিযোগ দাখিল করেন। হেফাজতে ইসলামের নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে এই অভিযোগ করা হয়।
এই মামলায় অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন দেশের রাজনীতি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যমের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাদের মধ্যে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক এমপি হাজী সেলিম, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি শামীম ওসমান, সাবেক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক ও বেনজীর আহমেদ, র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহমেদ, ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদ, ডিএমপির সাবেক উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ আরও অনেকে।
এ তালিকায় আরও রয়েছেন একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, কমিটির সদস্য অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ইমরান এইচ সরকার, একাত্তর টিভির সাবেক সিইও মোজাম্মেল হক বাবু, সময় টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আহমেদ জোবায়ের, এবিনিউজ২৪ ডটকমের সম্পাদক সুভাস সিংহ রায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাইমুল ইসলাম খান, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ এবং এনএসআইয়ের মো. মনজুর আহমেদ।
শাপলা চত্বরকেন্দ্রিক এই মামলাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান কার্যক্রমকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী শুনানিতে মামলার তদন্ত ও বিচারিক অগ্রগতি কোন দিকে গড়ায়, সে দিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।
ডিমের সঙ্গে ভুলেও খাবেন না যে ৫ খাবার
ডিম বাঙালির রান্নাঘরে এক অনিবার্য উপাদান। প্রাতঃরাশের ওমলেট হোক, দুপুরের পোলাও কিংবা রাতের হালকা খাবার প্রায় প্রতিদিনের মেনুতেই থাকে ডিম। প্রোটিন, ভিটামিন আর খনিজে ভরপুর এই খাদ্যকে ‘সুপারফুড’ বললে অত্যুক্তি হয় না। কিন্তু জানেন কি, কিছু সাধারণ খাবারের সঙ্গে ডিম খাওয়ার অভ্যাসই উল্টোভাবে শরীরের জন্য হয়ে উঠতে পারে মারাত্মক ক্ষতিকর?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু খাবারের সঙ্গে ডিম খেলে তার পুষ্টিগুণ হারিয়ে যায়, এমনকি হজমের গোলযোগ থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। যেমন দুধ ও আনারস।
এই দুই খাবার একসঙ্গে খেলে প্রচুর গ্যাস হয়। তেমনি করে ডিমের সঙ্গেও কিছু কিছু খাবার খেতে নেই। কোন কোন খাবার ভুলেও ডিমের সঙ্গে খাবেন না জেনে নিন।
দুধের সঙ্গে ডিম
অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন ডিম কি দুধের সঙ্গে খাওয়া উচিত? বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম কখনই দুধ এবং পনিরের সঙ্গে খাওয়া উচিত নয়। এ ছাড়া তরমুজের মতো কিছু ফল দিয়ে খাওয়া উচিত নয়।
চায়ের সঙ্গে ডিম
এটি এমন একটি সংমিশ্রণ যা অনেক মানুষই উপভোগ করেন। আসলে চায়ের সঙ্গে খেলে এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হতে পারে। যা আপনার শরীরের আরও মারাত্মক ক্ষতি করবে।
পার্সিমন
টমেটোর মতো দেখতে এই ফলটি অনেক পুষ্টির ভান্ডার। কিন্তু ডিমের পর এটি খেলে গ্যাস্ট্রিক অ্যাটাকের সম্ভাবনা বেড়ে যায় এবং শরীরে টক্সিন জমতে পারে।
সয়া মিল্কের সঙ্গে ডিম
সয়া দুধের সঙ্গে ডিম খেলে আপনার শরীরে প্রোটিন শোষণকে বাধা দিতে পারে। স্পষ্টতই, আপনি যদি প্রোটিনের জন্য ডিম খাই তবে, শরীরের জন্য খুব একটা উপযোগী হবে না।
চিনি দিয়ে ডিম নয়
আপনি যদি চিনি দিয়ে ডিম রান্না করেন, উভয় থেকে নির্গত অ্যামিনো অ্যাসিড আমাদের শরীরের জন্য বিষাক্ত। এর ফলে আপনার রক্ত জমাট পর্যন্ত বাধতে পারে।
তাই সুস্থ থাকতে ডিমের সঙ্গে কিংবা ডিম খাওয়ার আগে ও পরে এসব খাবার এড়িয়ে চলুন।


