Home Blog Page 21

শিল্প নয়, চা হোক কৃষিপণ্য

চা উৎপাদনকে ‘কৃষি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সুপারিশ করেছে সরকারের গঠিত উচ্চপর্যায়ের বিশেষ টাস্কফোর্স। একই সঙ্গে ভ্যাট ও কর কমানো, স্বল্পসুদে ঋণ, বিশেষ সহায়তা তহবিল, রপ্তানি সম্প্রসারণ, পুনঃরোপণ কর্মসূচি, শ্রমিক কল্যাণসহ একগুচ্ছ সংস্কার সুপারিশ করেছে টাস্কফোর্স।

জানা গেছে, আজ রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চাশিল্পের উন্নয়নে একটি বিশেষ বৈঠক ডেকেছেন। বৈঠকে টাস্কফোর্সের সুপারিশ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

গত জুনে দেশের চাশিল্পের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী উৎপাদন বাড়ানো, বিশ্ববাজারে নিজস্ব ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলা এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে। ন্যাশনাল টি কোম্পানির চেয়ারম্যান মামুন রশীদের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়।

টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম চা উৎপাদনকারী দেশ। ২০২৫ সালে দেশের ১৭২টি চা বাগানে ৯ কোটি ৪৯ লাখ ৩০ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। এ খাতে সরাসরি ১ লাখ ৪২ হাজার শ্রমিক কর্মরত। এ ছাড়া প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ চা বাগান এলাকায় বসবাস করেন এবং সারাদেশে লক্ষাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও চা দোকান এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল।

দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় কম দামে চা বিক্রি হওয়ায় সংকট গভীর হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন খরচের নিচে চা বিক্রি হচ্ছে। ২০২৪ সালে প্রতি কেজি চা উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে ২৬০ টাকা। অথচ নিলামে গড় বিক্রিমূল্য ছিল ২০৮ দশমিক ৮৮ টাকা। ২০০২ সালের তুলনায় দেশের চা রপ্তানি প্রায় ৭৯ শতাংশ কমে গেছে।

প্রতিবেদনে সংকটের পেছনে ছয়টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো চা খাতকে ‘কৃষি’ নয়, ‘শিল্প’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত থাকা। এর ফলে চা বাগানগুলো কৃষিখাতের স্বল্পসুদে ঋণ, ভর্তুকিযুক্ত সার ও শস্য বিমার সুবিধা পাচ্ছে না। কৃষিঋণের সুদ ৬ শতাংশ হলেও চা বাগানগুলোকে ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে হচ্ছে। কৃষির মতো ৬ শতাংশ হারে সুদে পেলে এ খাতে বছরে ৬১৭ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

এ ছাড়া ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ১ শতাংশ বিশেষ কর, ১ শতাংশ ব্রোকারেজ, গুদামজাতকরণ ব্যয় এবং সরাসরি বিক্রির ওপর অগ্রিম আয়করের চাপ ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের চায়ের ওপর আরোপিত ভ্যাট বিশ্বের প্রধান চা উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। রপ্তানি পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। বার্ষিক রপ্তানি আয় নেমে এসেছে মাত্র ২৫ থেকে ৪৫ লাখ মার্কিন ডলারে। পাকিস্তান ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো রপ্তানি বাজার নেই। পাশাপাশি বাংলাদেশের চায়ের কোনো জাতীয় ব্র্যান্ড কিংবা ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) নিবন্ধনও হয়নি।

প্রতিবেদনে উৎপাদনশীলতার ঘাটতিকেও বড় সমস্যা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশে প্রতি হেক্টরে গড় ফলন ১ হাজার ৫৫০ কেজি, যা ভারত ও শ্রীলঙ্কার তুলনায় অনেক কম। অনেক বাগানে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত গাছ অনুপস্থিত এবং মাটির জৈব উপাদানের পরিমাণও কম। এ ছাড়া চা বাগানের মোট ২ লাখ ৯৪ হাজার ১৪২ একর জমির প্রায় ৪৫ শতাংশে চা উৎপাদন হয় না। এর মধ্যে সীমিত অংশ নতুন বাগান তৈরির উপযোগী হলেও বাকি জমি পর্যটন, সৌরবিদ্যুৎ বা উচ্চমূল্যের কৃষিকাজে ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে।

সংকট কাটিয়ে উঠতে টাস্কফোর্স ৫৯টি সুপারিশের মধ্যে ১০টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চা খাতকে কৃষি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে নামানো, ২ হাজার ৫০ কোটি টাকার বিশেষ সহায়তা তহবিল গঠন এবং গুণগত মানভিত্তিক তিন স্তরের ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ। এছাড়া ১০ বছর মেয়াদি পুনঃরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন, পাকিস্তান, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও রাশিয়ার সঙ্গে সরকারিভাবে রপ্তানি চুক্তি, বিডায় ‘টি ইনভেস্টমেন্ট ডেস্ক’ স্থাপন, গ্রিন ফিন্যান্সের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ ও আধুনিক সেচে বিনিয়োগ, পঞ্চগড়ে চা বোর্ডের আঞ্চলিক অফিস স্থাপন এবং শ্রমিকদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে বাধ্যতামূলক কল্যাণ কর্মসূচির আওতায় আনা।

প্রতিবেদনে এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য ৯০ দিনের কর্মপরিকল্পনাও দেওয়া হয়েছে। প্রথম ৩০ দিনের মধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, ৬০ দিনের মধ্যে চাকে কৃষি হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করার নির্বাহী আদেশ এবং ৯০ দিনের মধ্যে রপ্তানি আলোচনা, বিডায় বিনিয়োগ ডেস্ক ও পঞ্চগড়ে আঞ্চলিক অফিস চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

মামুন রশীদের নেতৃত্বে প্রস্তুত করা এই প্রতিবেদনে চাশিল্পকে শুধু একটি অর্থনৈতিক খাত নয়, বরং লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা সংশ্লিষ্ট একটি কৌশলগত খাত হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকে খেলাপি ঋণ না কমলে মালিকানা হারাবেন পরিচালক প্রথম পর্যায়ে সুদ মওকুফের মাধ্যমে ঋণ আদায়ে জোর

খেলাপি ঋণের হারে বিশ্বে এখন শীর্ষে বাংলাদেশ। এ অবস্থায় বর্তমানের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ খেলাপি ঋণ কমিয়ে চলতি বছর শেষে ২০ শতাংশে নামানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর আগামী বছর শেষে ১০ শতাংশে নামানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

এর অংশ হিসেবে প্রথম পর্যায়ে শুরুতে সুদ মওকুফসহ নানা শিথিলতার মাধ্যমে ঋণ আদায়ে জোর দেওয়া হয়েছে। তবে ধাপে ধাপে কঠোর হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এক পর্যায়ে মূলধন ঘাটতি পূরণে ব্যর্থ ব্যাংকের পরিচালকরা মালিকানা হারাবেন। এর পর ব্যাংক রেজল্যুশনের আওতায় এনে বিক্রি, একীভূতকরণ বা অবসায়নের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে মোট ২১টি কর্মপরিকল্পনা ঠিক করা হয়েছে। এসব নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক বৈঠক করেছেন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। সিদ্ধান্ত হয়েছে, নতুন করে ঋণ পুনঃতপশিলে আর বিশেষ কোনো নীতিমালা হবে না। গত ২৯ জুন জারি করা ‘এক্সিট পলিসি’-এর আওতায় অন্তত মূল ঋণ আদায় করতে হবে। যে কারণে আয় খাতে নেওয়া সুদ এবং তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয়ও মওকুফের সুযোগ রাখা হয়েছে।

এই প্রক্রিয়ায় চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত শিথিল নিয়মে ঋণ পরিশোধ করা যাবে। আগামী বছর থেকে কঠোরতার অংশ হিসেবে দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন প্রণয়ন এবং বিদ্যমান অর্থঋণ আদালত আইন সংশোধন করে ছয় মাসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বিধান যুক্ত করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, যেসব খেলাপি গ্রহীতা নমনীয় নীতিতে ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করবেন না, তাদের নাম, ছবিসহ তালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ তালিকা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যেমন– বিমানবন্দর, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও শাখার সামনে টানিয়ে রাখা হবে।

ব্যাংকগুলোর প্রকৃত খেলাপি ঋণের আলোকে নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) ঘাটতি বের করা হবে। খেলাপি ঋণ কমানোর মাধ্যমে প্রভিশন ঘাটতি পূরণ করে প্রয়োজনীয় মূলধন সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক পরিচালনায় যুক্তদের একটি সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূলধন পূরণ করতে না পারলে পরিচালকরা মালিকানা হারাবেন। এভাবে একবার কারও মালিকানা গেলে পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য তিনি আর কোনো ব্যাংকের পরিচালক হওয়ার যোগ্য হবেন না।

কেন কঠোরতার পথে
২০২৪ সাল পর্যন্ত ১২ বছরে বিশেষ সুবিধায় চার লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকার ঋণ পুনঃতপশিল হয়। গত বছর হয়েছে আরও এক লাখ ৭০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। গত বছর পর্যন্ত পুনঃতপশিলের পর অনাদায়ী ঋণ স্থিতি রয়েছে চার লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা। এর মানে, প্রকৃতপক্ষে এসব ঋণ আদায় হয় খুব কম। এমন বাস্তবতায় খেলাপি ঋণ কমাতে কঠোরতার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কাগজে-কলমে ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ খেলাপি দেখানো হলেও গত বছর শেষে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা। মোট ঋণের যা ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। গত বছর শেষে ব্যাংক খাতের মূলধন ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমেছে। ২০টি ব্যাংকের দুই লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকার মূলধন ঘাটতির প্রভাবে পুরো খাত এই পরিস্থিতিতে পড়েছে। আবার দেশীয় ৫২টি ব্যাংকের মধ্যে গত বছর মাত্র ১৭টি ব্যাংক মুনাফা করতে পরেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সমকালকে বলেন, খেলাপি ঋণ কমানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন নীতি প্রণয়ন করছে। ঋণ আদায়ের জন্য শুরুতে নমনীয় নীতি নেওয়া হয়েছে। এতে ঋণ পরিশোধ না করলে পরবর্তী সময় খেলাপি গ্রাহককে কঠোর আইনি বাধ্যবাধকতার মুখে পড়তে হবে।

বন্ধকি সম্পত্তি বিক্রি
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, তৃতীয় ধাপে দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইনে গঠিত কোম্পানির কাছে খেলাপি গ্রহীতার বন্ধকি সম্পত্তি বিক্রি করে দেওয়া হবে। তবে এই সম্পদ বিক্রির মানে ঋণখেলাপি দায়মুক্তি পাবেন তেমন না। কেবল আদায়ের সমপরিমাণ দায়মুক্তি মিলবে।

উদাহরণস্বরূপ, সুদসহ কোনো খেলাপির কাছে ব্যাংকের পাওনা এক হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকের নিজস্ব মূল্যায়ন এবং তৃতীয় পক্ষের মূল্যায়নে হয়তো বন্ধকি সম্পত্তির মূল্য নির্ধারিত হলো ১২০ কোটি টাকা। ওই কোম্পানি সম্পদ উদ্ধার, রক্ষণাবেক্ষণ ও মুনাফা হিসাব করে তা ১০০ কোটি টাকায় কিনে নিল। এখন বাকি ৯০০ কোটি টাকার জন্য ওই ঋণ গ্রহীতা ব্যাংকের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সমকালকে বলেন, এক্সিট সুবিধা নিয়ে কেউ কেউ সমালোচনা করছে। তবে বছরের পর বছর ঋণ টেনে নেওয়ার চেয়ে নিষ্পত্তি করতে পারলে অনেক ভালো। ১০ বছর টানার পর ১০০ টাকা আদায়ের চেয়ে এখন ২০ টাকা ছাড় দিয়ে ৮০ টাকা আদায় করতে পারলে অনেক ভালো। তবে কোনোভাবে যেন এর অপব্যবহার না হয়।

মাহবুবুর রহমান বলেন, দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ কেনার বিষয়টি কতটুকু কার্যকর হবে, তা দেখার বিষয়। কেননা, এখানে ঋণের বিপরীতে বন্ধকি সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য অনেক কম। অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া জামানত বা বেশি দর দেখিয়ে ঋণ নেওয়া হয়েছে। ফলে বন্ধকি সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য আগে বের করতে হবে।

যেসব পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় এক্সিটসহ ছয়টি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে– খেলাপি ঋণের উচ্চ হারের ব্যাংকের জন্য আগাম সতর্কতা হিসেবে ২০২২ সালে প্রণীত প্রম্পট কারেকটিভ অ্যাকশন (পিসিএ) কাঠামো বাস্তবায়ন হবে। এ কাঠামোর আওতায় আওয়ামী লীগের সময়ে পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। পরবর্তী সময় ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের আওতায় অন্তর্বর্তী সরকার শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করেছে।

স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা
এর অংশ হিসেবে ব্যাংকের ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং তা আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে। এ নীতির আওতায় কোনো ঋণ খারাপ হওয়ার আগেই সম্ভাব্য ক্ষতি বিবেচনায় নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) রাখতে হবে।

ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের নিয়োগ, পুনর্নিয়োগ বা মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে শ্রেণীকৃত ঋণ, অবলোপনকৃত ঋণ আদায়সহ করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করার শর্ত দেওয়া হবে। যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের বেশি, তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি তিন মাস পর গভর্নরকে আদায় অগ্রগতি জানাতে হবে। প্রতিটি ব্যাংকার্স সভায় ব্যাংকগুলোর শীর্ষ ২০ খেলাপি গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় পরিস্থিতি আলোচনা হবে।

মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা 
এই ধাপে মোট আটটি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ঋণখেলাপিদের তালিকা প্রকাশ করা ছাড়াও রয়েছে– ভালো ঋণগ্রহীতাদের প্রণোদনার ব্যবস্থা। ব্যাংকের বন্ধকি সম্পদের প্রকৃত মূল্যমানের জন্য ব্যাংকের পাশাপাশি তালিকাভুক্ত মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ, ঋণ ঝুঁকি কমাতে আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম চালু, খেলাপি ঋণ আদায়ে উৎসাহী করতে কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা ইত্যাদি।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
তৃতীয় ধাপে অর্থঋণ আদালতে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি ছাড়াও খেলাপিরা যেন সহজে রিট করে ঋণ আদায় বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, তার জন্য রিটের বেলায় অনাদায়ী ঋণের অর্ধেক বা নির্দিষ্ট একটি অংশ জমা দেওয়ার বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ছাড়া বর্তমানে একজন ঋণগ্রহীতা একটি ব্যাংক থেকে ওই ব্যাংকের মোট মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি ঋণ নিতে পারেন না। আগামীতে আইন সংশোধন করে পুরো ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ, এক হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণের জন্য ব্যাংকের পরিবর্তে বন্ড ইস্যু করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হবে। খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর এসব ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার, অর্থঋণ আদালতের বিচারক প্যানেল বা জুরি বোর্ডে অভিজ্ঞ ব্যাংকার অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হবে।

সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি গঠনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে আইনের খসড়া প্রণয়ন করে মতামতের জন্য ওয়েবসাইটে দিয়েছে। এই আইনে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বলতে– খেলাপি, অবলোপন করা অনাদায়ী স্থিতি এবং পুনঃতপশিলের পর আদায় না হওয়া ঋণকে বোঝানো হবে। আইনের আওতায় গঠিত কোম্পানির নির্ধারিত পরিমাণ মূলধন থাকতে হবে। খেলাপি ঋণ কিনতে হবে সরাসরি নগদ অর্থের বিনিময়ে।

রংপুর বিভাগের নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে নির্দেশ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের প্রতিটি স্তরে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রংপুর বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন তারেক রহমান।
দলের চেয়ারম্যান রংপুর বিভাগের নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট জেলা এবং পরে রংপুর জেলা ও মহানগরের দলীয় নেতাদের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন। এর আগে ১৮ জুলাই রংপুর বিভাগের অন্য তিন জেলা দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় জেলার তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তিনি।

গতকালের বৈঠকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জেলার নেতাদের সঙ্গেও বিএনপি চেয়ারম্যানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।  জনপ্রিয়তাকেই প্রধান মাপকাঠি করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাইয়ে থানা-উপজেলা নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো সমস্যা হলে জেলা পর্যায়ের নেতারা সমাধানের চেষ্টা করবেন। তারা ব্যর্থ হলে বিভাগীয় নেতারা চেষ্টা করবেন। তারাও ব্যর্থ হলে কেন্দ্র থেকে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

বিএনপির রংপুর বিভাগীয় একজন নেতা বলেন, এটি মূলত একটি সাংগঠনিক আলোচনা সভা ছিল। মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন দিক ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা– এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন না এবং নির্বাচনে তাদের দলীয় কোনো প্রতীক থাকবে না। তবে স্থানীয়ভাবে নেতারা যদি একক কোনো প্রার্থী দিতে পারেন, তবে দলগতভাবে তাকেই সমর্থন দেওয়া হবে।

গত জাতীয় নির্বাচনে অর্ধশতাধিক আসনে দলের নেতারা ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হওয়ায় তৃণমূলের অনেক জায়গায় কোন্দল ও বিভক্তি দেখা দিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই এবার তারেক রহমান নেতাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দলীয় প্রতীক না থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের বিষয়ে দলের সিদ্ধান্ত যেন সামষ্টিক হয় এবং একক প্রার্থীর পক্ষে সবাই একযোগে কাজ করেন। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত ঝুলে থাকা সাংগঠনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দলে নতুন গতি সঞ্চার করা। তড়িঘড়ি করে কমিটি গঠন করতে গিয়ে যাতে কোনো বিতর্কিত বা অন্য দলের অনুপ্রবেশকারী স্থান না পায়, তা নিশ্চিত করা। মাঠ পর্যায়ে তুলনামূলক তরুণ, সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে নিয়ে আসতে দায়িত্বশীল নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।
লালমনিরহাট জেলা বিএনপির একজন নেতা বলেন, সাংগঠনিক ব্যবস্থা জোরদার করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূল থেকেই প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। এ ছাড়া সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র থেকে কোনো চাপ দেওয়া হবে না।
গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মঈনুল হাসান সাদিক সমকালকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় পর্যায়ের সব ধরনের কোন্দল ও ভেদাভেদ দূর করার নির্দেশনা দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সাদিক আরও বলেন, দল ও সরকার যাতে কোনো প্রশ্নের মুখে না পড়ে, সেজন্য এখন থেকেই কাজ করার জন্য বলেছেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, এটি একটি ধারাবাহিক বৈঠক। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী রাখতেই এ মতবিনিময় সভা করছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, সভায় প্রধানমন্ত্রী তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারের নবনিযুক্ত চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনের নবনিযুক্ত চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তারা। গতকাল রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগের ধ্বংস করা দেশ গড়ে তুলছে বিএনপি: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

বৈশ্বিক ও জাতীয় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং বৈষম্যহীন টেকসই বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে শুরু হয়েছে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) বগুড়ার ৩৬তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলন।

গতকাল শনিবার দুদিনের এই সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ধ্বংসের রাজনীতি করে আর বিএনপি করে গড়ার রাজনীতি–এটাই বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে পার্থক্য। আওয়ামী লীগ গত ১৭ বছরে দেশ ধ্বংস করেছে, লুটপাট করেছে। বিএনপি দায়িত্ব নিয়ে সেই দেশ গড়ে তুলছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়; বরং কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়ন ও কৃষিপ্রযুক্তির আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য রুখতে নতুন বাজারজাতকরণ পরিকল্পনার তাগিদ দেন।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব শওকত রশিদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদ, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক, রেজাউল করিম বাদশা এমপি, মোশারফ হোসেন এমপি, কাজী রফিকুল ইসলাম এমপি, গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এমপি ও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি সুরাইয়া জেরিন (রনি)।

সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আরডিএ বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক।

মির্জা ফখরুল বলেন, পল্লির উন্নয়ন করতে হলে শুধু রাস্তাঘাট ও ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করলেই চলবে না; আগে কৃষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে হবে। বর্তমানে দেশের প্রান্তিক চাষিরা হাড়ভাঙা খাটুনির পরও উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পাচ্ছেন না। এর ফলে কৃষিকাজের প্রতি দিন দিন মানুষের অনীহা তৈরি হচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য আশঙ্কাজনক।

বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে আবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাযজ্ঞসহ আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগে আবেদন করেছে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম (এসডিএফ) নামে একটি সংগঠন। আজ রোববার দুপুরে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ আবেদন জমা দেন ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস।

আবেদনে বলা হয়, সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে শাহবাগে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার জেরে ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে মুখোশধারী ব্যক্তিরা তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এছাড়া আন্দোলন স্থগিতের আহ্বান জানিয়ে ভিডিও বার্তা দিতে বাধ্য করা হয়। পরদিন তাকে কারওয়ান বাজার-বাংলামোটর এলাকায় ফেলে রেখে যাওয়া হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আয়াস জানান, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ, অমানবিক নির্যাতন, খুন-গুমের হুকুমদাতা হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা তদন্ত করে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব ও ভূমিকার প্রেক্ষাপটে যথাযথভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। এছাড়া ২০২৪ সালের নির্বাচন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় তার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কিনা, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করার জোর দাবি জানানো হয়।

বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবন ছেড়েছেন। শুক্রবার পদত্যাগের পর আজ রোববার বঙ্গভবন ছাড়েন তিনি। বেলা আড়াইটার কিছু আগে সপরিবারে বঙ্গভবন থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতির গাড়িবহর বের হতে দেখা যায়। রাজধানীর গুলশানের ১২৩ নম্বর সড়কে নিজ বাসায় উঠবেন মো. সাহাবুদ্দিন।

গাড়ি বহরে রাষ্ট্রপতির গাড়িসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১৮টি গাড়ি দেখা গেছে। টানা ৩ বছর ৪ মাস পর রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সপরিবারে উঠছেন তিনি। পাঁচ বছরের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ না করে ১ বছর ৮ মাস আগেই তিনি নিজের একান্ত নিবাসে ফিরে যাচ্ছেন।

বঙ্গভবন ছাড়ার খবরে দুপুর থেকেই গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে অপেক্ষা করছিলেন। উৎসুক জনতাও বঙ্গভবনের সামনের রাস্তায় জড়ো হন। দুপুর থেকেই বঙ্গভবনের সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপর থাকতে দেখা গেছে।

পদত্যাগের পর গুলশানের বাড়িটির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আজ সকাল থেকেই পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে অবস্থান করে। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে বাড়িটির পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে থাকতেন তিনি। মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবন ছাড়ার পর সেখানে এখন দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

গত শনিবার সাবেক এই রাষ্ট্রপতি ফোনে সমকালকে জানান, চিকিৎসার জন্য তিনি শিগ্‌গির সিঙ্গাপুর অথবা ব্যাংকক যাবেন। জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে এরই মধ্যে তাকে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তার স্ত্রী রেবেকা সুলতানাও অসুস্থ বলে জানালেন। চিকিৎসার জন্য স্ত্রীকেও সঙ্গে নিয়ে যাবেন তিনি।

সাবেক রাষ্ট্রপতি শারীরিক অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করে শুক্রবার স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন, তিনি হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। সম্প্রতি তার হৃদ্‌যন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হওয়ায় ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ নামক জটিল রোগেও আক্রান্ত। এর ফলে তিনি মাঝে-মধ্যে স্বল্প সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গভবন ছাড়ার প্রস্তুতি হিসেবে ক’দিন আগে থেকেই তার ব্যক্তিগত মামলাল গুলশানের বাড়িতে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। গুলশানের বাড়িটির পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কার কাজও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সর্বোচ্চ ওই বাসভবনটিতে আজ শনিবারই তার শেষদিন। গত ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।

সংবিধানের চতুর্থ ভাগের প্রথম পরিচ্ছেদের ৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি ও অসুস্থতার কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত করা হবে।

ইলিশের বাজার খুলনায় ৫ বছরের মধ্যে সরবরাহ সবচেয়ে কম

বড় ঝুড়িতে কাচের টুকরোর মতো বিছানো রয়েছে বরফ। তার ওপর সাজিয়ে রাখা ইলিশ। লাইটের তীব্র আলোয় ইলিশের মোহনীয়তা আরও বাড়ছে। ঝকঝকে ইলিশ দেখে চোখ চকচক করছিল ব্যাংক কর্মকর্তা রায়হান হাসানের। কিন্তু দাম শুনে মুখটা মিলন হয়ে গেল তাঁর।
বললেন, ‘কয়েক দিন আগে মা বলছিল, এই সিজনে তো ইলিশ কিনলি না। ভেবেছিলাম জুলাইয়ের শেষে দাম কমলে তখন কিনব। বাজারে এসে দেখি দাম আরও বাড়তি। সাড়ে তিন হাজার টাকা দিয়ে এক কেজি ইলিশ কেনার মতো সামর্থ্য নেই, তাই ফিরে যাচ্ছি।’

গত রোববার রাত ৯টার দিকে নগরীর ময়লাপোতা মোড়ের সান্ধ্য বাজারে কথা হচ্ছিল রায়হান হাসানের সঙ্গে। ইলিশের দোকানগুলোতে তখন ক্রেতাদের ভিড়। বেশির ভাগই দাম শুনে ফিরে যাচ্ছেন। ভরা মৌসুমেও চড়া দামের কারণে চোখে দেখেই সান্ত্বনা নিতে হচ্ছে মানুষকে।

খুচরা ইলিশ বিক্রেতা হাফিজুল ইসলাম জানালেন, এবার ইলিশ ধরা পড়ছে কম। সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি। দেড় কেজি ওজনের ইলিশ চার হাজার ২০০ টাকা, এক কেজি ওজনের ইলিশ তিন হাজার ৫০০ টাকা এবং জাটকা  বা ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রামের সবচেয়ে ছোট ইলিশও এক হাজার ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাঁর সাফ কথা, সরবরাহ না বাড়লে দাম কমবে না।

খুচরা বিক্রেতা হাফিজুলের তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেল পাইকারি বাজারে। মঙ্গলবার সকালে নগরীর ৫ নম্বর ঘাটের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও পাইকারি বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ইলিশ এসেছে মাত্র ১৪৮ কেজি। এর মধ্যে এক কেজি ওজনের ইলিশ পাইকারি বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ ৯৪ হাজার টাকা। প্রতি কেজি ইলিশের দাম দুই হাজার ৩৫০ টাকা। ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের পাইকারি দাম ছিল ৩০ থেকে ৩৬ হাজার টাকা পর্যন্ত।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের আওতাধীন খুলনা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই ইলিশের সরবরাহ সবচেয়ে কম। ভরা মৌসুমে ১৫ জুলাই পর্যন্ত খুলনায় এসেছে মাত্র ৫৪৪ কেজি ইলিশ। এর আগে ২০২২ সালে ৩৮ হাজার ৫৪৬ কেজি, ২০২৩ সালে ১৫ হাজার ৯৭৬ কেজি, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আট হাজার ৩৯১ কেজি এবং ২০২৫ সালে সাত হাজার ৫৩৯ কেজি ইলিশ বিক্রি হয়েছে।

পাইকারি মাছের আড়তদার মুসা হোসেন বলেন, ঝড়বৃষ্টির কারণে জেলেরা সাগরে যেতে পারছেন না। ইলিশ ধরা পড়ছে কম। তাই দাম বাড়তি। কবে কমবে বলা যাচ্ছে না।

মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক আকবার হোসাইন বলেন, শুধু খুলনায় ইলিশ কম আসছে এমন নয়, পাথরঘাটায় অবস্থিত আমাদের অন্য অবতরণ কেন্দ্রেও ইলিশের আমদানি অনেক কম। এর প্রভাব পাইকারি ও খুচরা সব জায়গায় পড়ছে।

মঙ্গলবার সকালে পাইকারি বাজারেও ইলিশের দরদাম করতে দেখা গেল কয়েকজনকে। তাদেরই একজন টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম। বললেন, ‘প্রতিবছর কয়েকজন বন্ধু মিলে পাইকারি দরে মাছ কিনে নিজেরা ভাগ করে নিই। দাম অনেক কম পড়ে। কিন্তু এবার মনে হচ্ছে, চোখে দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে, স্বাদ নেওয়া হবে না।’

ফেনী সাহেবনগর সীমান্তে ৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি

ফেনীর পরশুরামের পশ্চিম সাহেবনগর সীমান্ত দিয়ে ৮ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি। বিজিবির কড়া প্রতিবাদ ও সতর্ক অবস্থানের কারণে বিএসএফ তাদের নিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরে যায়। শনিবার ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বিএসএফ বাংলাদেশে পুশইনের উদ্দেশ্যে ৮ জনকে সীমান্তসংলগ্ন একটি বাগানে জড়ো করে। বিষয়টি বিজিবির নজরে এলে সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করে। বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের কারণে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিদের নিয়ে সীমান্ত থেকে সরে যায়।

ফেনী-৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান বলেন, বিজিবির বাধা ও প্রতিবাদের মুখে বিএসএফ পিছু হটে এবং তাদের সঙ্গে নিয়ে যায়। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে সীমান্তে বিজিবির টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।

সম্মেলনে শফিকুর রহমান জামায়াত ফেরেশতার দল নয়, ভুলত্রুটি হতে পারে

দলের বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী মো. নজরুল ইসলামের ভিডিওকাণ্ড নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও ইঙ্গিতে নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জামায়াত ফেরেশতাদের দল নয়, মানুষের সংগঠন। তাই ভুলত্রুটি হতে পারে, তবে নৈতিকতার প্রশ্নে আপস করা হবে না। কেউ ভুল করলে তাঁকে অবশ্যই সংশোধনের আওতায় আসতে হবে।

শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ঢাকা জেলা জামায়াতের ষাণ্মাসিক সদস্য (রুকন) সম্মেলনে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। জামায়াতের সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, যারা দেশকে ভালোবাসেন, জাতিকে ভালোবাসেন, অন্যায় অপরাধ দেখলে আমাদের ধরিয়ে দিন। কথা দিচ্ছি আমরা সংশোধন করব।

নেতাদের সাবধান করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, গায়ে যদি আপনার সাদা কাপড় থাকে, আপনাকে যত্নশীল হতে হবে। সাদা কাপড়ে দাগ ভাসে বেশি। সাবধান, নৈতিকতার প্রশ্নে জামায়াতে কোনো ছাড় নেই।
প্রতিবেশী দেশের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কারও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় না। অন্যদেরও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। বাংলাদেশ শান্তিতে থাকতে চায়। তবে সীমান্তে অশান্তি সৃষ্টি করা হলে তার প্রভাব উভয় দেশকেই বহন করতে হবে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে গুরুত্ব দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, নেতা ও নীতির সংশোধনের মাধ্যমেই সমাজে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

সংবিধান ও গণভোটের ফল বাস্তবায়ন প্রশ্নে সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বেশি সংবিধান কচলাবেন না। না হলে নিজেদের অস্তিত্ব আর খুঁজে পাবেন না।

ঢাকা জেলা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তৃতা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি প্রমুখ।

জুলাইয়ের চেতনা ছাড়া সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

‎জুলাই এর চেতনা ছাড়া সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। তিনি বলেন, জুলাই এর চেতনা মানে সকল ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করা ও সুশাসন প্রতিষ্টা করা। জুলাইয়ের চেতনা কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যাতে ব্যবহার না করতে পারে সেই দিকেও সতর্ক থাকতে হবে।

‎শনিবার সকালে রাজধানীর মহাখালীতে রাওয়া ক্লাবে রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া) আয়োজিত ‘ফিরে দেখা জুলাই-২০২৪’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‎প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, জুলাইয়ের শিক্ষা হচ্ছে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। জুলাইয়ের স্তম্ভ হল— বৈষম্যের অবসান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, জাতীয় সংহতি ও পুনর্মিলন।

‎তিনি আরও বলেন, আমরা বিজয়ীর বেশে থাকবো। আমরা বিজয়ী জাতি। আমরা কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করবো না। যারা গুম ও খুনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের কোনভাবে প্রমোশন দেওয়া হবে না। পাশাপাশি মেজর সিনহা হত্যার রায় দ্রুত কার্যকর করা হবে।

‎রাওয়ার চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল হকের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন আরও অনেকে।