সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খান এবং তার স্ত্রী রোজা আহমেদকে ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচ্ছেদের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্যে দাবি করা হয়, এই তারকা দম্পতির সম্পর্কে নাকি ভাঙন ধরেছে। তবে বাস্তবে বিষয়টি সম্পূর্ণই একটি গুজব।
ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তাহসান ও রোজার মধ্যে কোনো ধরনের বিচ্ছেদ বা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। তারা দুজনই স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবন যাপন করছেন এবং সম্পর্ক নিয়ে কোনো সংকট তৈরি হয়নি।
মূলত সামাজিক মাধ্যমে কিছু বিভ্রান্তিকর পোস্ট ও ভুল ব্যাখ্যা থেকেই এই গুজবের জন্ম হয়। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টির সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তাহসান ও রোজা দুজনই ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই সংযত থাকেন, যা অনেক সময় ভুল ধারণার সুযোগ তৈরি করে।
পরিবার ঘনিষ্ঠরা জানান, গুজব ছড়ালেও তাহসান ও রোজা তাদের দৈনন্দিন জীবন ও কাজ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ব্যস্ত রয়েছেন। বিচ্ছেদ সংক্রান্ত আলোচনা ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও মন্তব্য করেন তারা।
উল্লেখ্য, এর আগেও বিভিন্ন সময় তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়ালেও পরে সেগুলোর সত্যতা পাওয়া যায়নি। তাহসান ও রোজার ক্ষেত্রেও বিষয়টি তার ব্যতিক্রম নয়।
তাহসান–রোজার সংসার ভাঙছে? গুজব নাকি সত্য
লিভারের জন্য হলুদ সহায়ক নাকি ক্ষতিকর? গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের সতর্ক বার্তা
হলুদ, যাকে মসলা হিসেবেও ব্যবহার করা হয়, যুগ যুগ ধরে রান্না ও চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভারতীয় খাবারে প্রায় প্রতিটি কারি, চা বা স্যুপে এক চিমটি হলুদ দেওয়া হয়। এর প্রধান উপাদান কুরকুমিন শুধু খাবারে রঙ যোগ করে না, এটি প্রদাহ-রোধী, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যযুক্ত। বিশেষ করে ফ্যাটি লিভার রোগীদের মধ্যে অনেকেই হলুদ ব্যবহার করে লিভারের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে চান।
তবে সমস্যা শুরু হয় অতিরিক্ত হলুদ সাপ্লিমেন্টের সঙ্গে। হার্ভার্ড প্রশিক্ষিত মার্কিন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ড. সৌরভ শেঠি সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে এই বিষয়ে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “সাধারণভাবে কারি, চা বা গোল্ডেন মিল্কে আধা থেকে এক চামচ হলুদ সাধারণত নিরাপদ এবং লিভারের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক। কিন্তু উচ্চমাত্রার সাপ্লিমেন্ট সব সময় নিরপদ নয়। কিছু বিরল ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কুরকুমিন লিভার সমস্যার কারণ হতে পারে।”
ড. শেঠি আরও বলেন, “খাবারে হলুদ প্রতিদিন অর্ধা থেকে এক চামচ ব্যবহার করলে স্বাদ বাড়ে এবং লিভারকে ক্ষুদ্র মাত্রায় রক্ষা করতে সাহায্য করে। তবে ক্যাপসুল, ট্যাবলেট বা এক্সট্র্যাক্ট আকারে উচ্চমাত্রার হলুদ দীর্ঘমেয়াদে লিভারের ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে যদি আপনার পূর্ববর্তী লিভার সমস্যা থাকে বা নির্দিষ্ট জেনেটিক ফ্যাক্টর থাকে, যেমন HLA-B*35:01 মার্কার, তবে ঝুঁকি বেড়ে যায়।”
তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, খাবারে হলুদ উপভোগ করুন, তবে সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে ডাক্তার পরামর্শ নিন এবং লিভারের কার্যকারিতা নিয়মিত পরীক্ষা করুন। লিভারের সমস্যা থাকলে বা উচ্চমাত্রার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের সময় ক্লান্তি, হলদে চোখ বা ত্বক, বমি ভাব, পেটের ব্যথা এসব লক্ষণ খেয়াল রাখুন।
সারসংক্ষেপে, দৈনন্দিন খাবারে হলুদ নিরাপদ ও উপকারী, লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। তবে সাপ্লিমেন্টের ক্ষেত্রে সাবধানতা অপরিহার্য।
আপনি কোন মাসে জন্মেছেন? জন্ম মাসেই লুকিয়ে আছে আপনার ব্যক্তিত্ব ও সাফল্যের রহস্য
আপনার জন্ম মাস শুধু ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়, বরং আপনার ব্যক্তিত্ব, চিন্তাভাবনা ও জীবনে এগিয়ে যাওয়ার ধরনকে প্রভাবিত করতে পারে এমনটাই বলছে মনোবিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন বিশ্লেষণ। জ্যোতিষের বাইরে গিয়েও গবেষণায় দেখা গেছে, জন্মের সময় ও ঋতুর প্রভাব মানুষের আচরণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং সাফল্যের পথে এগোনোর ধরনে ছাপ ফেলে। তাহলে দেখে নেওয়া যাক, আপনার জন্ম মাস আপনার কোন শক্তিগুলোকে সামনে নিয়ে আসে।
জানুয়ারিতে জন্ম নেওয়া মানুষ সাধারণত লক্ষ্যনির্ভর ও দৃঢ়চেতা হন। যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান ধরে রাখার মানসিক শক্তি তাঁদের বড় সম্পদ। দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্বগুণের কারণে জীবনে সাফল্য তাঁদের কাছে ধরা দেয় ধীরে, কিন্তু স্থায়ীভাবে।
ফেব্রুয়ারিতে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিরা চিন্তায় স্বাধীন ও সৃজনশীল। প্রচলিত নিয়মের বাইরে ভাবার সাহস তাঁদের আলাদা করে তোলে। নতুন ধারণা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা অনেক সময় তাঁদের সাফল্যের প্রধান চাবিকাঠি হয়ে ওঠে।
মার্চে জন্মানো মানুষ আবেগপ্রবণ হলেও কল্পনাশক্তিতে সমৃদ্ধ। স্বপ্ন দেখতে জানেন বলেই সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়ার তাগিদও তাঁদের মধ্যে প্রবল। নিজের কাজে হৃদয় ঢেলে দেওয়ার মানসিকতা তাঁদের ধীরে ধীরে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে যায়।
এপ্রিলের মানুষদের মধ্যে থাকে প্রবল উদ্যম ও প্রাণচাঞ্চল্য। জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করার পাশাপাশি লক্ষ্য অর্জনে তাঁরা আপসহীন। একবার সিদ্ধান্ত নিলে তা বাস্তবায়নে শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার ক্ষমতাই তাঁদের বড় শক্তি।
মে মাসে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিরা কথাবার্তা ও আচরণে সহজেই মানুষের মন জয় করতে পারেন। যোগাযোগ দক্ষতা, ধৈর্য এবং বাস্তববোধ একসঙ্গে থাকায় তাঁরা ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে ভারসাম্য বজায় রেখে এগোতে সক্ষম হন।
জুনে জন্মানো মানুষ নতুন চিন্তার জন্ম দেন। সৃজনশীলতা ও বাস্তবতার মিশেলে তাঁরা এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, যা অন্যদের অনুপ্রাণিত করে। শুধু ভাবনায় সীমাবদ্ধ না থেকে পরিশ্রমের মাধ্যমে সেই ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়াই তাঁদের সাফল্যের ভিত্তি।
জুলাই মাসে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের জীবনদর্শন সাধারণত ইতিবাচক। পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং আশাবাদী মনোভাব তাঁদের প্রতিকূল সময়েও এগিয়ে রাখে।
আগস্টে জন্ম নেওয়া মানুষ যুক্তিবাদী ও সিদ্ধান্তে দৃঢ়। বিশ্লেষণী ক্ষমতার কারণে তাঁরা ঝুঁকি বুঝে পদক্ষেপ নেন। নিজের বিশ্বাসে অটল থাকার মানসিকতা অনেক সময় তাঁদের সফল নেতৃত্বে পরিণত করে।
সেপ্টেম্বরে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিরা নিখুঁততার দিকে ঝোঁকেন। নিজের কাজকে সেরা পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার তাগিদ এবং অন্যকে সাহায্য করার মানসিকতা তাঁদের সামাজিক ও পেশাগত জীবনে সম্মান এনে দেয়।
অক্টোবরের মানুষদের শক্তি হলো আশাবাদ। কঠিন পরিস্থিতিতেও ভালো দিক খুঁজে নেওয়ার ক্ষমতা তাঁদের মানসিকভাবে দৃঢ় রাখে। স্বাধীনচেতা মনোভাব ও সম্পর্কের প্রতি দায়িত্ববোধ তাঁদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করে।
নভেম্বরে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিরা আত্মবিশ্বাসী ও নির্ভীক। যেকোনো কাজে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উজাড় করে দেওয়ার মানসিকতা তাঁদের আলাদা করে তোলে। ভয়কে জয় করেই তাঁরা নিজের লক্ষ্যপথে এগিয়ে যান।
ডিসেম্বরে জন্ম নেওয়া মানুষদের মধ্যে থাকে অজানাকে জানার তীব্র কৌতূহল। নতুন অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ ও ভিন্ন চিন্তার প্রতি আকর্ষণ তাঁদের উদ্ভাবনী শক্তিকে বাড়িয়ে তোলে, যা দীর্ঘমেয়াদে সাফল্যের পথ প্রশস্ত করে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, জন্ম মাস আপনার জীবনের দিকনির্দেশনা ঠিক করে না, তবে আপনার ভেতরের শক্তিগুলো কোন পথে বিকশিত হতে পারে তার একটি ইঙ্গিত দেয়। সেই শক্তিকে কাজে লাগাতে পারলেই সাফল্য ধরা দেয় আপনার হাতের মুঠোয়।
চাল, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেলের দাম বাড়লেও কমেছে ডিম, মুরগির
শীতের সবজিতে সয়লাব রাজধানীর বাজারগুলো। তবে দাম কিছুটা বাড়ায় সাধারণ লোকজন কিনতে হিমশিম খাচ্ছে।
নিত্যপণ্যের বাজারে চাল, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেলের দাম বাড়লেও কমেছে ডিম, মুরগির। এছাড়া সরবরাহ বেড়ে দাম আরও কমায় সবজির বাজারে স্বস্তি বিরাজ করছে। এছাড়া চালের দাম কিছুটা বাড়লেও মাছ-মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার, ফকিরাপুল বাজার, কাপ্তান বাজার, মুগদা বড় বাজার ও খিলগাঁও রেলগেট বাজার থেকে নিত্যপণ্যের দরদামের এ সব তথ্য পাওয়া গেছে। খুচরা বাজারে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের দাম বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই দুই ধরনের চালের দাম কেজিতে বেড়েছে তিন থেকে চার টাকা।
খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বাজারে আউশ, আমন ও নাজিরশাইল ধানের চাল আসতে শুরু করেছে। আর এক সপ্তাহের মধ্যে এ সব চালের সরবরাহ বাড়বে। এ অবস্থায় বেশির ভাগ চালের দাম কমার কথা, কিন্তু উল্টো বেড়েছে। বিক্রেতারা জানান, বাজারে সব ধরনের মিনিকেট চালের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে শুক্রবার বাজারে প্রতিকেজি মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল ৮৩ থেকে ৮৪ টাকায় বিক্রি হয়েছে; এক সপ্তাহ আগে যা ছিল ৮০ টাকা। রশিদ মিনিকেটের দাম ৭২ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫ টাকা হয়েছে। নন-ব্র্যান্ডের মিনিকেটের দাম ছিল ৬৫ টাকার আশপাশে, সেটি বেড়ে হয়েছে ৭০ টাকা। আর দামি মিনিকেট মোজাম্মেলের দাম কেজিতে ১-২ টাকা বেড়ে ৮৫-৮৬ টাকা হয়েছে।
বাজারে দেশীয় ও আমদানি করা উভয় ধরনের নাজিরশাইল চাল রয়েছে। গতকাল ধরনভেদে দেশি নাজিরশাইল চাল বিক্রি হয়েছে ৭২ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে। সপ্তাহখানেক আগে যা ৩-৪ টাকা কম ছিল। আর আমদানি করা নাজিরশাইলের কেজি রাখা হচ্ছে ৭৫-৭৮ টাকা। গত সপ্তাহে এ চালের দাম ছিল কেজিতে ৭২-৭৫ টাকা। কাপ্তান বাজারের চাল বিক্রেতা নূরু মিয়া বলেন, সার্বিকভাবে বাজারে প্রায় সব ধরনের চালের দামই বাড়তি রয়েছে। বছরের এই সময়ে আউশ, আমন ও নাজিরশাইল চাল বাজারে আসে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে খুচরা দোকানে এ সব চাল বিক্রি হতে শুরু করবে। সাধারণত প্রতিবছর এ সব চাল বাজারে আসার পরে পুরানো চালের দাম কেজিতে ১-২ টাকা বাড়ে। কিন্তু এবার নতুন চাল বাজারে আসার আগেই পুরানো চালের দাম ৩-৪ টাকা বেড়েছে। ফলে, নতুন চাল আসার পরে পুরানো চালের দাম আরও বাড়তে পারে।
চালের পাশাপাশি বেড়েছে ছোট দানার মসুর ও মুগ ডালের দাম। উভয় ধরনের ডালের দাম কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা হয়েছে। তবে মোটা মসুরের দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে হয়েছে ৯০ টাকায়। বাজারে এখন নতুন মৌসুমের মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ বেশি। পাশাপাশি ভারত থেকে আমদানি করা এবং দেশি পুরানো পেঁয়াজও বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিকেজি মুড়িকাটা পেঁয়াজ ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আমদানি করা পেঁয়াজের কেজি ৬৫-৭০ টাকা। আর দেশি পুরানো পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেশি; প্রতিকেজি ৮০-৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভোক্তারা এখন শীতের সবজি কিনে স্বস্তি পাচ্ছেন। কারণ, শীত মৌসুমে সবজির সরবরাহ বেশি, দামও কম।
বেশির ভাগ সবজির দামই ৫০-৬০ টাকার মধ্যে রয়েছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, শুক্রবার প্রতিকেজি আলু ২০-২৫ টাকা, শিম ৪০-৬০ টাকা, মুলা ২৫-৩০ টাকা, শালগম ৩০-৪০ টাকা এবং বেগুন ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর টমেটোর কেজি ৮০-১০০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ প্রতিকেজি ৮০-১০০ টাকা। এ ছাড়া ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ২৫-৩০ টাকা এবং লাউয়ের দাম ৪০-৫০ টাকা রাখা হচ্ছে। এছাড়া মাছ-মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম কমে প্রতিডজন মুরগির ডিম ১১০-১১৫ এবং ব্রয়লার মুরগি ১৭০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে।
মদিনা সনদের আলোকে পৃথিবীর রাষ্ট্র সমূহকে বিনির্মাণ করতে পারলে ইসলামী উম্মাহ প্রতিষ্ঠিত হবে
মদিনা সনদের আলোকে পৃথিবীর রাষ্ট্র সমূহকে বিনির্মাণ করতে পারলে ইসলামী উম্মাহ প্রতিষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন,বিএনপির কেন্দ্রিয় নেতা সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম সরদার। গতকাল শুক্রবার রাতে ঈশ্বরদীর বাঘইল মল্লিক পাড়া জামে মসজিদ মাঠে অনুষ্ঠিত তাফসিরুল কোরআন ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মসজিদ কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম লিটনের সভাপতিত্বে জালসা বাস্তবায়ন ও মসজিদ কমিটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসময় উপস্থিত ছিলেন,বিশিষ্ট সমাজ সেবক আলহাজ্ব আকমল হোসেন,বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এম,মনসুর আলী,ঈশ্বরদী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তৌহিদ আক্তার পান্না,বিশিষ্ট ব্যবসায়ী স্বপন হোসেন।
প্রধান বক্তা হিসেবে রুপগঞ্জ বায়তুল আমান জামে মসজিদের খতিব আলহাজ্ব হাফেজ ক্বারী মাওলানা মোঃ শেখ ফরিদ উদ্দিন সিরাজী, বিশেষ বক্তা হিসেবে ঢাকার যাত্রাবাড়ি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাযেল হাফেজ মাওলানা মুফতি সুলতান মাহমুদ মাযহারী ও পাকশী বায়তুল হামদ জামে মসজিদের ঈমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি আব্দুর রউফ ওয়াজ করেন । জালসা পরিচালনা করেন আল্লাহর দর্গা মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষা সচিব মুফতি জামিল মাহমুদ। জালসায় নিকটস্থ কয়েকটি গ্রামের বিভিন্ন বয়সী নারী পুরুষ অংশ নেন এবং জালসাকে ঘিরে বিভিন্ন পসরা সাজানো দোকানও বসানো হয় মসজিদ এলাকায়।
স্বর্ণ-রূপার বাজারে বড় পতন: কার্যকর হলো নতুন দাম
দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রূপার দাম আবার নেমেছে। একবারের মধ্যে ১ হাজার ৫০ টাকা হ্রাস পেয়েছে ভরি দামের হিসাব। নতুন হিসাব অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের মূল্য এখন দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ টাকা। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) থেকে সারাদেশে এই নতুন দাম কার্যকর হবে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমার কারণে স্বর্ণের মূল্যে এই সমন্বয় করা হয়েছে।
স্বর্ণের নতুন মূল্য (প্রতি ভরি)
২২ ক্যারেট: ২,২৬,৮০৬ টাকা
২১ ক্যারেট: ২,১৬,৪৮৪ টাকা
১৮ ক্যারেট: ১,৮৫,৫৭৪ টাকা
সনাতন পদ্ধতি: ১,৫৪,৬৬৫ টাকা
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যে ৫ শতাংশ সরকার নির্ধারিত ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গয়নার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরি ভিন্ন হতে পারে।
এদিকে রূপার দামও কমেছে। নতুন হিসাব অনুযায়ী,
২২ ক্যারেট রূপা: ৫,৫৪০ টাকা
২১ ক্যারেট রূপা: ৫,৩০৭ টাকা
১৮ ক্যারেট রূপা: ৪,৫৪৯ টাকা
সনাতন পদ্ধতি: ৩,৩৮৩ টাকা
স্বর্ণ ও রূপার দাম হ্রাসের এই খবর বাজারে ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় সুবিধা হিসেবে ধরা হচ্ছে। যারা স্বর্ণ বা রূপায় বিনিয়োগ করতে চাইছেন, তাদের জন্য এখন সুযোগের সময়।
স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা, নির্বাচনে বাধা নেই
ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির সাবেক নেতা তাসনিম জারার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত শুনানিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা আপিল বিবেচনা করে এটি ঘোষিত হয়।
শুনানিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন সভাপতিত্ব করেন এবং অন্যান্য কমিশনাররাও উপস্থিত ছিলেন। তাসনিম জারা এবং তার প্রতিনিধিরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ শুনানিতে অংশ নেন।
এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তাসনিম জারা এখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে সম্পূর্ণভাবে সক্ষম। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তার মনোনয়নে আর কোনো বাধা নেই।
দেশের শীর্ষ সাংবাদিকদের সঙ্গে তারেক রহমানের শুভেচ্ছা বিনিময়
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান শনিবার রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে দেশের শীর্ষ সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। সকাল সওয়া ১১টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রধান নির্বাহী, বার্তা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা।
এ সময় তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফখরুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘ সময় নানা রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশের গণমাধ্যম সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে দলের প্রধানের সরাসরি দেখা বা শুভেচ্ছা বিনিময় সম্ভব হয়নি। সেই শূন্যতা পূরণ করতেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।”
সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করতে গিয়ে তারেক রহমান সবার সঙ্গে হাত মেলান, শুভেচ্ছা জানান এবং দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। ফখরুল আরও বলেন, “এ অনুষ্ঠান দলের পক্ষ থেকে এক মহাপ্রয়াস, যাতে গণমাধ্যমের সঙ্গে দলের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।”
যুক্তরাজ্যে প্রায় দেড় দশক নির্বাসিত থাকার পর ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিন পর ৩০ ডিসেম্বর প্রয়াত হন তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এরপর ৯ জানুয়ারি বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়।
চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরদিনই দেশের গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে তারেক রহমান একবারে দলের রাজনৈতিক জীবনে নতুন সূচনা করেছেন।
দেশে ঢুকে বিয়ে,ফের কলকাতায় হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর, ঢাকা উত্তর যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি এখনও কলকাতায় পলাতক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভারতে পালিয়ে যাওয়া বাপ্পি সম্প্রতি দেশে অনিয়মিতভাবে ঢুকে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এরপর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় ভারতে চলে গিয়ে হাদির হত্যার পুরো পরিকল্পনা পরিচালনা করেছেন।
ডিবি পুলিশের চার্জশিটে বাপ্পি ১৭ জন অভিযুক্তের মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখিত। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হাদিকে গুলি করার পর শুটার ফয়সাল ও সহযোগী আলমগীরকে নির্বিঘ্নে ভারতে পালানোর ব্যবস্থা করেছেন বাপ্পি।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তাদের মতে, বাপ্পি বর্তমানে কলকাতার রাজারহাটের ওয়েস্ট বেড়াবেড়ি মেঠোপাড়া এলাকার একটি চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে আত্মগোপনে রয়েছেন। সঙ্গে ছিলেন কয়েকজন পলাতক সহযোগী, যাদের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কয়েকজন নেতা এবং ছাত্রলীগের সাবেক নেতা রয়েছে। তবে ৬ জানুয়ারি চার্জশিট প্রকাশের পর বাপ্পি ওই ফ্ল্যাট থেকে সরে গেছেন এবং বর্তমানে তার অবস্থান অজানা।
সূত্রের বরাত দিয়ে ডিবি জানায়, বাপ্পি দীর্ঘদিন রূপনগর ও পল্লবী এলাকায় রাজনৈতিক ক্ষমতার ছত্রছায়ায় অনিয়ম, দুর্নীতি, বাড়িদখল এবং সহিংসতায় জড়িত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট রাজধানীর রূপনগরের কাউন্সিলর কার্যালয়ে শেষবার উপস্থিত হন। এরপর ৫ আগস্ট ভারতে চলে যান।
ডিবি জানায়, হাদির হত্যার ঘটনায় মামলা হয় ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায়। হাদিকে ১২ ডিসেম্বর রিকশায় থাকা অবস্থায় গুলি করা হয় এবং পরে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। চার্জশিটে ১৭ জনের নাম উল্লেখ থাকলেও, বাপ্পি ও আরও কয়েকজন পলাতক।
ডিবি কর্মকর্তারা বলছেন, ভারতে পলাতক হওয়ায় তাদের অবস্থান ও ফেরানোর বিষয়টি জটিল। তবে আদালতের অনুমতি পাওয়া গেলে ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরানোর চেষ্টা করা হবে।
ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ: নেটব্লকস
ইরানজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে অনলাইন পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস। ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই এই ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্নের ঘটনা ঘটল।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে নেটব্লকস জানায়, ইরানজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট মূলত ‘দেশটিতে চলমান বিক্ষোভ দমনে গৃহীত ডিজিটাল সেন্সরশিপ ব্যবস্থার পরিণতি। এর মাধ্যমে এক সংকটপূর্ণ মুহূর্তে জনগণের যোগাযোগের অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে’।
গত ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভে নেমেছেন সাধারণ মানুষ। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়নকে কেন্দ্র করে এই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি স্থানীয় গণমাধ্যম ও সরকারি বিবৃতি উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন।
এই অস্থিরতা মোকাবিলায় ইরানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বিক্ষোভ সামলাতে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে চলতি সপ্তাহের শুরুতে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেয়ি বলেন, দাঙ্গাকারীদের ‘যথাযথভাবে দমন’ করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের প্রধান বিচারপতিও বিক্ষোভকারীদের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘দোসর’ আখ্যা দিয়েছেন।
এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস চলতি সপ্তাহে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে প্রাণহানি রোধের ওপর জোর দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার মুখপাত্র।
গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) এক ব্রিফিংয়ে স্টিফেন দুজারিক বলেন, ‘ইরানের সরকারের প্রতি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংগঠিত হওয়ার অধিকার এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। সব ব্যক্তিকে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার এবং তাদের অভিযোগ প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে।’


