Home Blog Page 211

ভোটারের হাতে টাকা গুঁজে দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, যা বললেন ব্যারিস্টার শাহরিয়ার

০

ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে প্রচারণা চালানোর সময় ব্যারিস্টার এএসএম শাহরিয়ার কবিরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভিডিওটিতে তাকে একজন পান বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলতে এবং আলোচনার শেষে তাকে এক হাজার টাকা দিতে দেখা যায়।

এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর অনেকেই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, নির্বাচন-পূর্ব সময়ে কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষ থেকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে প্রকাশ্যে বা গোপনে কোনো প্রকার অনুদান বা চাঁদা প্রদান করা নিষিদ্ধ। এই আইনি সীমাবদ্ধতার কারণেই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

সমালোচনার মুখে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির তার ফেসবুক পেজে ‘মানবিক আবেদন’ শিরোনামে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, মিরপুর এলাকায় গণসংযোগের সময় ওই পান বিক্রেতার সারাদিন বিক্রি না হওয়ার কথা জানতে পেরে তিনি কেবল মানবিক দিক বিবেচনা করে টাকাটি দিয়েছিলেন। এছাড়া একই এলাকায় শিশুদের র‍্যাকেট কেনার জন্যও তিনি কিছু টাকা উপহার হিসেবে দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, এটি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়, বরং নিছক মানবিক সাহায্য ছিল এবং গণমাধ্যম যেন বিষয়টিকে ভিন্নভাবে প্রচার না করে।

শাহরিয়ার কবির তার পোস্টে জুলকারনাইন সায়েরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সমালোচনা করে বলেন, তার এই মানবিক কাজকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তিনি এই ঘটনায় মর্মাহত হওয়ার কথা জানান এবং মানুষ হিসেবে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

ভাইরাল ভিডিওটির সংলাপে দেখা যায়, শাহরিয়ার কবির ওই বিক্রেতার কাছে ব্যবসার অবস্থা জানতে চাইলে বিক্রেতা দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে আতঙ্কের কথা জানান। উত্তরে শাহরিয়ার কবির তাকে ধর্মীয় বিশ্বাসের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন যে, রিজিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ। এরপর চলে যাওয়ার সময় তিনি ওই ব্যক্তির হাতে এক হাজার টাকার নোটটি গুঁজে দেন।

স্বাধীনতাবিরোধী দলটি নির্বাচন নিয়েও ষড়যন্ত্র শুরু করেছে: বরকত উল্লাহ বুলু

০

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক বানিজ্য উপদেষ্টা ও নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) সংসদীয় আসন থেকে বার বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য জননেতা বরকতউল্লা বুলু বলেছেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী দলটি নির্বাচন নিয়েও নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

সোমবার শেষ বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার শেষ দিনে নোয়াখালী জেলার প্রধান বানিজ্যিক কেন্দ্র চৌমুহনী পৌর শহরের রেলগেইট উত্তরের মাঠে বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও চৌমুহনী শহর বিএনপি’র আয়োজিত স্মরণকালের বিশাল জনসমাবেশে তিনি জামায়াতকে স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ সালে জামায়াত আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে ১৭৩ দিন এই দেশে হরতাল পালন করেছে। ১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নির্বাচন করে তারা মাত্র তিনটি সিট পেয়েছে।’

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপি’র জেলা-উপজেলা ও পৌর শাখার বিভিন্নস্তরের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বেগমগঞ্জের সর্বস্তরের জনতা উন্নয়নের প্রতীক ধানের শীষকে বিজয় নিশ্চিত করবে।

নির্বাচনী জনসভা উপলক্ষে দুপুরের পর থেকেই উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন এবং চৌমুহনী পৌর শহরের সকল ওয়ার্ড থেকে খন্ড খন্ড মিছিল এসে পুরো জনসভাস্থল কানায় কানায় ভরে যায়।

তিনি আরো বলেন, ২০০১ সালে নির্বাচনের পর সাবেক দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জামায়েত ইসলামকে মন্ত্রী পরিষদেও ২টি আসন দিয়েছেন। অথচ সেই জামায়েত ইসলাম এখন বিএনপি নিয়ে চরম কটাক্ষ বক্তব্য দিচ্ছেন।

বাংলাদেশের পাশে পাকিস্তান! আইসিসিকে ৩ শর্ত

০

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় নতুন মোড় নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বা পিসিবির অবস্থান। নিরাপত্তার কারণে ভারত ভ্রমণে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়েছিল আইসিসি। এর প্রতিবাদে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচ বয়কটের যে ঘোষণা পাকিস্তান দিয়েছিল, তা থেকে সরে আসতে এখন তিনটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে তারা।

পিসিবির তিন প্রধান দাবি রোববার লাহোরে আইসিসি কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে পিসিবি স্পষ্ট করেছে যে, ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামতে হলে নিচের শর্তগুলো পূরণ করতে হবে:

বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ায় বাংলাদেশের জন্য বিশেষ আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।

টুর্নামেন্টে অংশ না নিলেও বাংলাদেশকে পূর্ণ ‘অংশগ্রহণ ফি’ প্রদান করতে হবে।

ভবিষ্যতে আইসিসির বড় কোনো ইভেন্ট আয়োজনের স্বত্ব বাংলাদেশকে দেওয়ার গ্যারান্টি দিতে হবে।

প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানালেও আইসিসি তা নাকচ করে দেয় এবং বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেয়। শুরু থেকেই পিসিবি এর তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল। যদিও আইসিসি এই বয়কটের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে, তবুও পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এখনো বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় অনড় অবস্থানে রয়েছেন।

পরবর্তী পদক্ষেপ এই জটিলতা নিরসনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আজ সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মহসিন নাকভি। সরকারের সবুজ সংকেত পেলে এবং আইসিসি দাবিগুলো মেনে নিলে তবেই ভারত-পাকিস্তান হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি মাঠে গড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হবে।

বিশ্ব ক্রিকেট রাজনীতিতে পাকিস্তানের এই সাহসী অবস্থান এবং বাংলাদেশের প্রতি তাঁদের সংহতি এখন আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি হওয়ায় রপ্তানি বাড়বে

০

জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি দেশের রপ্তানি বাণিজ্য বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ী-বিশেষজ্ঞরা চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এলডিসি উত্তরণের পরও বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি জাপানের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ কয়েকটি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হওয়ায় রপ্তানিকারকদের দীর্ঘদিনের বড় উদ্বেগ অনেকটাই দূর হয়েছে। আবার স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রাক্কালে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) সইকে ঘিরে ব্যবসায়ী ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। একদিকে চুক্তিটিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য কিছু উল্লেখযোগ্য ঝুঁকির কথাও উঠে আসছে। ব্যবসায়ী নেতারা জানান, চুক্তিতে বাণিজ্য সহজীকরণ সংক্রান্ত একটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে ব্যবসার পরিবেশকে আরও দক্ষ ও কার্যকর করতে সরকারের জন্য বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এতে দুর্নীতিবিরোধী বিষয়ে বিস্তারিত বিধানও রাখা হয়েছে। ইপিএ চুক্তির আওতায়, কোন ব্যবসায়ীর আমদানি করা পণ্যে মিস-ডিক্লারেশন বা মিথ্যা ঘোষণা প্রমাণিত হলে এর ফলে সরকারের যে পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হয়, সেই পরিমাণ জরিমানা করা যাবে। এতে ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমবে। এদিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) জানায়, এই ইপিএ বাংলাদেশের বাণিজ্য কূটনীতিতে একটি ‘ঐতিহাসিক ধাপ’। বিজিএমইএ বলেছে, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক জাপানে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার বজায় থাকবে এবং এক ধাপে উৎপাদনসহ অনুকূল রুলস অব অরিজিন কার্যকর থাকবে, যার ফলে এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও পোশাক পণ্য শুল্ক ছাড়াই জাপানের বাজারে প্রবেশ করতে পারবে।
বাণিজ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ জাপানের জন্য ব্যাপক পরিসরের পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে পোশাক, কাপড়, অ্যাকসেসরিজ, মোটর যন্ত্রাংশ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, রাসায়নিক, কাচ, ধাতু, গয়না ও ওষুধ। এ ছাড়া ১২ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে জাপানি গাড়ি আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে বাংলাদেশ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের সাবেক মহাপরিচালক ও জাপানের সঙ্গে ইপিএ আলোচনায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্য মো. হাফিজুর রহমান বলেন, চুক্তির কপি বিশ্লেষণে দেশীয় কয়েকটি খাতের জন্য সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জও চিহ্নিত হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্লাস্টিক সেক্টর যথেষ্ঠ শক্তিশালী এবং দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করলেও ইপিএ চুক্তির আওতায়, জাপানি প্লাস্টিক পণ্য শূন্য শুল্কে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবে। এ ছাড়া, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং (হালকা প্রকৌশল) পণ্য এবং সব ধরনের গ্লাস আমদানিতে জাপানকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে বাংলাদেশ।

পুরোনো স্টাইলেই নির্বাচনি রাজনীতি চলছে: আসিফ আকবর

০

বরাবরের মতোই গানের পাশাপাশি দেশের চলমান নানা ইস্যুতে সরব কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা, সংসদ নির্বাচনে জোটগত রাজনীতির প্রভাব এবং যোগ্য প্রার্থীদের নিয়ে তার প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করলেন তিনি।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এক ফেসবুক পোস্টে এসব কথা উল্লেখ করেন গায়ক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দায়িত্বরত পরিচালক আসিফ আকবর।

নির্বাচনি রাজনীতি এখনো সেই পুরোনো ধাঁচেই চলছে উল্লেখ করে এই কণ্ঠশিল্পী লেখেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগত রাজনীতির প্রভাবে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন পরীক্ষিত এবং যোগ্য প্রার্থী। গুণগত রাজনৈতিক পরিবর্তনের কোনো লক্ষণই দৃশ্যমান নয়। জুলাই বিপ্লবোত্তর তারুণ্যের রাজনীতিতেও ক্যারিশমা দেখা যায়নি। নির্বাচনি রাজনীতি চলছে সেই পুরোনো স্টাইলেই।’

তবে ঢাকা-৯ আসনে প্রার্থীদের রাজনৈতিক মূল্যবোধের সংস্কৃতি দেখে নিজের মুগ্ধতার কথাও প্রকাশ করেন আসিফ, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফসল ডাক্তার তাসনিম জারা ( ফুটবল) দলছুট হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়ছেন ঢাকা-৯ আসনে। জারার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সাবেক জনপ্রিয় সংগ্রামী ছাত্রনেতা হাবিবুর রশীদ হাবিব (ধানের শীষ)। এই দুজন নির্বাচনি কাজ পরিচালনা করতে গিয়ে কোনো কাঁদা ছোড়াছুড়ি না করে রাজনৈতিক মূল্যবোধের সর্বোচ্চ সংস্কৃতি প্রদর্শন করছেন। তাদের রাজনীতি ভবিষ্যতের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।’

এরপরও বেশ কজন যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেক মেধাবী এবং যোগ্য প্রার্থীকে নমিনেশন দেয়নি দলগুলো। একটা টেস্ট কেস হিসেবে ঝালকাঠি- ১ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার মইন ফিরোজী (হাঁস) আলোচনায় আসতে পারেন। তিনি একজন প্রথিতযশা আইনজীবী, নির্বাচন কমিশন সংস্কার কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। ব্যারিস্টার মইন একটি বড় দলের নমিনেশন চেয়ে পাননি, কারণ তিনি টিপিক্যাল রাজনীতিক নন। অথচ পার্লামেন্টে এ ধরনের আইন প্রণয়নকারী প্রয়োজন। তবুও তিনি দমে যাননি, যোগ্যদের অধিকার আদায়ের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে চান।’

সবশেষে যোগ্য প্রার্থীরা নিশ্চয়ই একদিন সফল হিসেবে উদাহরণ তৈরি করবেন এমন প্রত্যাশার কথা জানান আসিফ। নতুন দিনের আশায় গায়কের ভাষ্য, ‘বহুদিন পর একটা ফ্রি ফেয়ার ইলেকশনের অপেক্ষায় জাতি। রাতারাতি কোনো কিছুর পরিবর্তন হবে না সেটা জানি, তবে নিশ্চয়ই একদিন ব্যারিস্টার মইন, ডাক্তার জারা, রাজনীতিক হাবিবুর রশীদরা উদাহরণ হিসেবে সফল হবেন।’

এছাড়াও পোস্টের শেষে দেশপ্রেমের শপথ, রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা এবং দীর্ঘদিনের জং ধরা অচলায়তন ভেঙে দেশ নতুন দিনের অপেক্ষায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করল বাংলাদেশ ব্যাংক

০

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ ছয় মাসের (জানুয়ারি-জুন) জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এই মুদ্রানীতি প্রকাশ করেন।

নতুন এই নীতিতে বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ‘নীতি সুদের হার’ বা পলিসি রেট অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এই মুদ্রানীতির মূল লক্ষ্য বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সাধারণত নীতি সুদের হারের ওপর ভিত্তি করেই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদের হার নির্ধারিত হয়, তাই এটি অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত ব্যবসায়িক ও ব্যাংকিং খাতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

গভর্নর জানান, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার বিষয়গুলো বিবেচনা করেই এই সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যত্যয় ঘটলে মানুষ বসে থাকবে না: আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম

০

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজবাড়ী-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে আসছে এবং লক্ষ মানুষ প্রাণ দিয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা এই নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। এর কোনো ব্যত্যয় ঘটলে এই অঞ্চলের মানুষ বসে থাকবে না, এই অঞ্চলে আগুন জ্বলবে।”

সোমবার বিকেল ৫টার দিকে রাজবাড়ীর বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ খুশি রেলওয়ে ময়দানে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভা ও গণমিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই। প্রশাসনের কাছে আমাদের স্পষ্ট দাবি—একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের সহযোগিতা ও ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হবে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি মহল টাকা দিয়ে ভোট কেনার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

জনসভার আগে ‘ভোট দেব কিসে—ধানের শীষে, ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদিন—ধানের শীষে ভোট দিন’ স্লোগানে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী শহীদ খুশি রেলওয়ে ময়দানে সমবেত হন। পরে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের নেতৃত্বে একটি গণমিছিল রেলওয়ে ময়দান থেকে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়।

জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নঈম আনসারী, সাবেক সদস্য সচিব মঞ্জুরুল আলম দুলাল এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবিব। এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তে যা বললেন চরমোনাই পীর

০

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রের আশপাশে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

বিবৃতিতে চরমোনাই পীর বলেন, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত কোনো স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয় না। বরং এর মাধ্যমে তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তার মতে, এমন সিদ্ধান্তের পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য না থাকলে এই নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

তিনি আরও বলেন, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, তথ্যপ্রবাহ বন্ধ করলেই নানা অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি হয়। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময়ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সীমিত করার চেষ্টা হয়েছিল, তবে সাধারণ মানুষের হাতে থাকা মোবাইল ফোনের কারণে অনেক ঘটনা নথিভুক্ত করা সম্ভব হয়েছিল। এখন মোবাইল নিষিদ্ধ করে সেই সুযোগও বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ ও অনাস্থা তৈরি করছে। দ্রুত এই নির্দেশনা বাতিল না করলে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে আরও প্রশ্ন উঠবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। একই সঙ্গে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে, ভোটকেন্দ্রে নারী ভোটারদের ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টিও তুলে ধরেন চরমোনাই পীর। তিনি বলেন, পর্দানশীন ও নেকাব পরিহিত নারী ভোটারদের প্রয়োজনে নারী কর্মকর্তা নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই পুরুষ কর্মকর্তার সামনে তাদের নেকাব খুলতে বাধ্য করা উচিত নয়।

সংগ্রামের মাধ্যমে আদায় করা ভোটাধিকার নিয়ে ষড়যন্ত্র হলে প্রতিহত করা হবে: মির্জা আব্বাস

০

ঢাকা–৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন–সংগ্রামের মাধ্যমে ভোটাধিকার আদায় করা হয়েছে। এই ভোট কেউ ষড়যন্ত্র করে নষ্ট করার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে।

ভোটের দিন সবাইকে পোলিং সেন্টার পাহারা দিয়ে ভোটের ফল ঘরে আনার আহ্বান জানান তিনি।

সোমবার রাজধানীর পীর জঙ্গী মাজারের সামনে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি তারেক রহমান।

বক্তব্যের শুরুতে মির্জা আব্বাস তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, সারা দেশে ঘুরে ঘুরে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে গিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যানকে অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে এই স্থান থেকেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাঁর মনোনয়ন ঘোষণা করেছিলেন। একই স্থানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপস্থিতিতে আগে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের জনগণ ভোট দেওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। তবে কিছু মহল ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি আসনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ফল প্রভাবিত করার ষড়যন্ত্র করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে, সরকারি বা বেসরকারি যে-ই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, ঢাকায় এই এলাকায় গ্যাস, পানি ও জলাবদ্ধতার সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। তিনি জানান, এলাকায় খেলার মাঠ নেই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একসময় মাঠ ও কমিউনিটি সেন্টারের ব্যবস্থা করেছিলেন, কিন্তু ষড়যন্ত্রের কারণে তা টিকিয়ে রাখা যায়নি।

তিনি আরও বলেন, এলাকায় কবরস্থানের জায়গা দখল করে সরকারি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। ওই কবরস্থানের জায়গা এবং মাঠের জায়গা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি স্কুলিং এরিয়া হওয়ায় নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, যাতায়াত সুবিধা এবং পানির ব্যবস্থার অভাবের কথাও তুলে ধরেন।

বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ক্ষমতায় গেলে ইনোভেটিভ আইডিয়ার মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করা হবে—এমন প্রত্যাশা তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের কাছে করেন।

তিনি বলেন, শত ষড়যন্ত্র ও প্রতিকূলতার মধ্যেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। ইনশাল্লাহ বিএনপি ঢাকা–৮সহ সারা দেশের বেশিরভাগ আসনে জয় লাভ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।