Home Blog Page 214

বিতর্কিত বক্তব্যে তীব্র সমালোচনার মুখে আমির হামজার দুঃখ প্রকাশ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোকে ঘিরে দেওয়া একটি পুরোনো বক্তব্য নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন কুষ্টিয়া–৩ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুফতি আমির হামজা। ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার পর মধ্যরাতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় আমির হামজা বলেন, মরহুম আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্যটি ছিল সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত। কোনো একটি বিষয় বোঝাতে গিয়ে উদাহরণ টানতে গিয়ে তিনি ভুল করেছেন এবং সে কারণেই তখনই অনুতাপ প্রকাশ করেছিলেন। একই বক্তব্যের জন্য এখন আবারও তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছেন বলে জানান।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আলোচিত ওই মন্তব্যটি সাম্প্রতিক নয়; এটি ২০২৩ সালের একটি বক্তব্য। সে সময়ই বিষয়টি নিয়ে তিনি দুঃখ ও অনুশোচনা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু সেটিকে উপেক্ষা করে এখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বক্তব্যটি নতুন করে সামনে আনা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আমির হামজার দাবি, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে পুরোনো সেই বক্তব্যকে নির্বাচনকালীন মন্তব্য হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে গিয়ে তারা নিজ দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একজন মরহুম ব্যক্তির প্রতিও ন্যূনতম সম্মান দেখায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে প্রকৃত দায় কার, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতনভাবে ভাবার আহ্বান জানান তিনি।
পোস্টের শেষাংশে মুফতি আমির হামজা প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে দোয়া করেন, যেন তিনি তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।

২১ দিন মা-মেয়ের লাশের সঙ্গে বসবাস:হত্যাকারীর লোমহর্ষক বর্ণনা

ঢাকার কেরানীগঞ্জে ঘটেছে এক চাঞ্চল্যকর এবং রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড। মা-মেয়ে জোবাইদা রহমান (১৪) ও তার মা রোকেয়া রহমান (৩২) কে হত্যা করার পর ২১ দিন ওই দুই লাশ ফ্ল্যাটে রেখেই অভিযুক্ত নুসরাত মীম (২৪) ও তার পরিবার সাধারণ জীবনযাপন করছিলেন।
শনিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পাওয়ার পর পুলিশ কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকায় নুসরাত মীমের ফ্ল্যাট থেকে মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার করে। উদ্ধার অভিযানে নুসরাতের স্বামী হুমায়ুন মিয়া (২৮) এবং তার ১৫ ও ১১ বছর বয়সী দুই বোনকেও আটক করা হয়েছে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুসরাত ও তার ছোট বোন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। হত্যার পেছনের কারণ ছিল ঋণ ও মনোমালিন্য। নুসরাত একটি এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নেন, যার জামিনদার ছিলেন রোকেয়া রহমান। কিস্তি সময়মতো পরিশোধ না হওয়ায় তাদের মধ্যে বাক্যালাপ ও মনোমালিন্য হয়।
২৫ ডিসেম্বর বিকেলে, ফাতেমা প্রাইভেট পড়ার জন্য নুসরাতের বাসায় গেলে তার ছোট বোনের সঙ্গে বাক্যালাপের এক পর্যায়ে তাকে গলা চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। পরে রোকেয়া রহমানকে ফোনে মেয়ের অসুস্থতার কথা জানিয়ে বাসায় ডেকে আনা হয় এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
ওসি সাইফুল আলম জানান, হত্যার পর ফাতেমার লাশ শৌচাগারের ফলস সিলিংয়ের ভেতর এবং রোকেয়ার লাশ শোবার ঘরের বক্স খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। এই অবস্থায় অভিযুক্তরা ২১ দিন ফ্ল্যাটে বসবাস করেছিল।
পুলিশ বলেছে, নুসরাতের বোন নাবালিকা হওয়ায় তাকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে অন্য কেউ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।
এ ঘটনার পর স্থানীয় সমাজ ও বাসিন্দারা চরম আতঙ্কিত। পুলিশ ও আইন-প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে চেষ্টা করছে।

নতুন বেতনকাঠামোতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন কত? জানুন কার বেতন কত বাড়ছে

সরকারি চাকরিজীবীদের বহু প্রতীক্ষিত নতুন বেতনকাঠামোর প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে বেতন কমিশন। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, আগামী ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে এই বেতনকাঠামো কার্যকর হবে। আর পুরো কাঠামো বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও বেতন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২১ জানুয়ারি অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। এরপর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বিষয়টি উপস্থাপন করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সরকারের পরিচালন ব্যয় ২২ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, এটি আংশিক বাস্তবায়নের অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরির আগাম পদক্ষেপ।
বেতন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বেতনকাঠামো পুরোপুরি কার্যকর করতে সরকারের অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। নতুন কাঠামোতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নিম্নস্তরের কর্মচারীদের বেতন–ভাতা বৃদ্ধির ওপর, যাতে জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ হয়।
বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২০১৫ সালের বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন। দেশে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। বিদ্যমান কাঠামোতে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা নতুন প্রস্তাবে দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে সর্বোচ্চ ধাপে বর্তমানে নির্ধারিত ৭৮ হাজার টাকার বেতন বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করার প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের ব্যবধান ১:৮ অনুপাতে রাখার সুপারিশ করেছে কমিশন।
উল্লেখ্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে গত বছরের ২৭ জুলাই ২১ সদস্যের বেতন কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ ছিল কমিশনের প্রতি।
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এরই মধ্যে জানিয়েছেন, কমিশনের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে। সরকারি চাকরিজীবীদের দৃষ্টিতে এই কাঠামো শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপ লাঘবের একটি বড় প্রত্যাশা।

পিরিয়ডের সময় যেসব ভুল এড়িয়ে চলা জরুরি

পিরিয়ডের সময় নারীদের শরীরে হরমোনজনিত নানা পরিবর্তন ঘটে, যার প্রভাব পড়ে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ওপর। এই সময় সামান্য অসতর্কতা বা ভুল অভ্যাস থেকেও দেখা দিতে পারে সংক্রমণ, অস্বস্তি কিংবা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি। অথচ পিরিয়ডকালীন স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে এখনও অনেকের মধ্যেই রয়েছে ভুল ধারণা ও অবহেলা।

ফলে না জেনেই এমন কিছু কাজ করা হয়, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। সুস্থ থাকতে ও অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়াতে পিরিয়ডের সময় কোন ভুলগুলো থেকে দূরে থাকা জরুরি তা জানা অত্যন্ত প্রয়োজন।

নির্দিষ্ট সময় অন্তর প্যাড বা ট্যাম্পন বদলান: একই প্যাড বা ট্যাম্পন দীর্ঘক্ষণ ব্যবহার করলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া জমতে পারে। এর ফলে ইউরিন ইনফেকশন বা ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিসের মতো সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই প্রতি ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা অন্তর প্যাড বা ট্যাম্পন পরিবর্তন করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

সুগন্ধিযুক্ত প্রোডাক্ট এড়িয়ে চলুন: রক্তের গন্ধ ঢাকতে অনেকেই সুগন্ধিযুক্ত স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করেন। কিন্তু এতে থাকা ক্যামিক্যাল ত্বকে অ্যালার্জি বা জ্বালাপোড়া তৈরি করতে পারে। তাই সম্ভব হলে গন্ধহীন ও ত্বকবান্ধব প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন।

হাত ধোয়ার বিষয়ে অবহেলা নয়: প্যাড বা ট্যাম্পন বদলানোর আগে ও পরে সাবান এবং পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই অভ্যাস না থাকলে জীবাণু সহজেই শরীরে ঢুকে বিভিন্ন সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

পার্সোনাল হাইজিনে বিশেষ নজর দিন: পিরিয়ডের সময় নিয়মিত গোসল করা, গোপনাঙ্গ পরিষ্কার রাখা এবং খুব আঁটসাঁট অন্তর্বাস না পরা জরুরি। এসব বিষয়ে গাফিলতি করলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

যারা মেনস্ট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করেন, তাদের জন্য পরিচ্ছন্নতা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবার ব্যবহারের আগে ও পরে কাপ ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত করতে হবে, নইলে ইনফেকশনের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

মাসিক শুরু ও শেষ হওয়ার তারিখ লিখে রাখা বা ট্র্যাক করা প্রয়োজন। এতে সাইকেল নিয়মিত আছে কিনা, কোনো অস্বাভাবিকতা হচ্ছে কিনা সেগুলো সহজেই বোঝা যায়।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন: এই সময়ে শরীরে পানির চাহিদা বেড়ে যায়। পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীর হাইড্রেটেড থাকে এবং যোনিতে অতিরিক্ত শুষ্কতা বা অস্বস্তি হওয়ার সম্ভাবনাও কমে।

লোকসানের দোহাইয়ে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতে দুই বছরের মুনাফা বাতিল

একীভূত হওয়া পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৪ ও ২০২৫— এই দুই বছরের জন্য সঞ্চিত আমানতের বিপরীতে কোনো প্রকার মুনাফা বা লাভ দেওয়া হবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। লোকসানের যুক্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আমানতের ওপর কার্যত ‘হেয়ারকাট’ হিসেবে কার্যকর হবে।

গত বুধবার সন্ধ্যায় একীভূত পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকদের কাছে পাঠানো পৃথক চিঠিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, ব্যাংক রেজোল্যুশন স্কিমের সুষম বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসরণ করে আমানতের মুনাফা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সময়ে সব আমানতের ওপর কোনো মুনাফা বিবেচনায় নেওয়া যাবে না। আমানত হিসাবের স্থিতি পুনর্নির্ধারণ করা হবে ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর তারিখে বিদ্যমান অবস্থানের ভিত্তিতে। এই প্রক্রিয়ায় আমানতের একটি অংশ কেটে রেখে চূড়ান্ত স্থিতি নির্ধারণ করা হবে, যাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘হেয়ারকাট’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, একীভূত হওয়া সব ব্যাংকই শরিয়াহভিত্তিক হওয়ায় লাভ-লোকসান ভাগাভাগির নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। যেহেতু সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো লোকসানে রয়েছে, তাই আমানতকারীদের মুনাফা দেওয়া সম্ভব নয়।

আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক লেনদেনের ধারাবাহিকতায় প্রতিদিনই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে মুদ্রা বিনিময় হার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ও আর্থিক যোগাযোগ বাড়ার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্গে টাকার মান জানতে আগ্রহ থাকে সবারই। আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সূত্র।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী আজকের বিনিময় হারে ইউএস ডলার লেনদেন হচ্ছে ১২২ টাকা ৩৫ পয়সায়। ইউরোপীয় ইউরোর মূল্য ১৪২ টাকা ৪৭ পয়সা, আর ব্রিটিশ পাউন্ডের দর দাঁড়িয়েছে ১৬৪ টাকা ৪৭ পয়সা। অস্ট্রেলিয়ান ডলার বিক্রি হচ্ছে ৮২ টাকা ৭৭ পয়সায় এবং কানাডিয়ান ডলারের মান ৮৮ টাকা ১৬ পয়সা।
এ ছাড়া জাপানি ইয়েনের বিনিময় হার ৭৭ পয়সা, সুইডিশ ক্রোনার দর ১৩ টাকা ৩০ পয়সা এবং সিঙ্গাপুর ডলারের মূল্য ৯৫ টাকা ৪ পয়সা। চীনা ইউয়ান রেনমিনবির দর নির্ধারিত হয়েছে ১৭ টাকা ৫৫ পয়সা। ভারতীয় রুপি লেনদেন হচ্ছে ১ টাকা ৩৫ পয়সায়, আর শ্রীলঙ্কান রুপির মান ২ টাকা ৫৩ পয়সা।
অন্যদিকে গুগল সূত্রে পাওয়া তথ্যে সিঙ্গাপুর ডলারের বিনিময় হার দেখানো হয়েছে ৯৫ টাকা ২০ পয়সা। মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের দর ৩০ টাকা ২০ পয়সা, সৌদি রিয়াল ৩২ টাকা ৬৮ পয়সা এবং কুয়েতি দিনারের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৯৭ টাকা ৯০ পয়সা।
বাজার ও লেনদেনের ধরন অনুযায়ী এসব হারে সামান্য পার্থক্য হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবুও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, ভ্রমণ কিংবা প্রবাসী আয়ের হিসাব রাখতে আজকের এই বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পূজা চেরির গায়ে হলুদের ভিডিও ফাঁস

একদিন আগেই আফরান নিশোর সঙ্গে ২৪ সেকেন্ডের শূটিংয়ের একটি দৃশ্যের ভিডিও ফাঁস হয়েছে পূজা চেরির। রেদওয়ান রনির ‘দম’ সিনেমার শূটিং এটি। এবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পূজার গায়ে হলুদের ভিডিও ফাঁস হয়েছে। বেশ কয়েকটি পেজে দেখা গেছে ভিডিওটি। জানা গেছে, শূটিং সেট থেকে কে বা কারা ভিডিওটি গোপনে ধারণ করে প্রকাশ করে দিয়েছেন। ১৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি নাচে গানে ভরপুর। এরই মধ্যে ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে গায়ে হলুদের সাজে পূজার লুক তার ভক্ত-অনুরাগীদের মন ভরিয়েছে। মন্তব্যের ঘরে অভিনেত্রীকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন তারা।
ভিডিওর শুরুতেই দেখা যায়, চারদিক থেকে পূজা চেরিকে ঘিরে রেখেছেন অনেকেই। মাঝখানে হলুদ শাড়ি পরে নাচছেন নায়িকা। তারপর সাজানো বিয়ে বাড়ির দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।
জানা গেছে, পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ‘দম’ সিনেমার শূটিং চলাকালে ধারণ করা ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। সিনেমাটির নায়িকা হিসেবে পূজাকে দেখে একদিকে যেমন উচ্ছ্বসিত ভক্তরা অন্যদিকে শূটিংয়ের ভিডিও ফাঁস হওয়াকে ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্নও। শূটিং চলাকালে সেখানে উৎসুক জনতার ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ধারণ করা হচ্ছে, সেখান থেকেই কেউ ভিডিওটি ফাঁস করেছেন।
তবে সমালোচনা যাই হোক, এই ছবি নিয়ে অধীর আগ্রহে আছেন দর্শক সেটা ফাঁস হওয়া ভিডিওগুলোতে প্রতিক্রিয়া দেখেই বোঝা গেল। টানটান উত্তেজনা আর অ্যাকশনে ভরপুর এই ছবি নিয়ে আগ্রহ কেনই বা থাকবে না দর্শকের। এতে প্রথমবার একসঙ্গে দেখা যাবে দুই ডাইনামিক অভিনেতা নিশো ও চঞ্চল চৌধুরীকে। এ ছবি দিয়েই প্রথমবার বড় পর্দায় জুটি হয়ে আছেন নিশো ও পূজা।  আরও অনেক চমকের একটি হলো এ ছবি দিয়ে প্রায় ১০ বছর পর সিনেমায় কাজ করতে যাচ্ছেন ডলি জহুর। সব মিলিয়ে বিগ বাজেটের সিনেমাটি মুক্তির পর ভালো সাফল্য পাবে বলেই প্রত্যাশা সিনেমাপ্রেমীদের।

ফটিকছড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬ বসতঘর পুড়ে ছাই

উপজেলার আব্দুল্লাহপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে  ৬ টি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বৃহস্পতিবার   সকালে আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়ুয়া পাড়ায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগুনে নওজেল বড়ুয়া, বিক্রম বড়ুয়া, আদর্শ বড়ুয়া, সজল বড়ুয়া ও পিন্টু বড়ুয়ার বসতঘরসহ মোট ছয়টি ঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। ঘরগুলোতে থাকা আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ প্রায় সব মালামাল আগুনে পুড়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

বাউফল উপজেলায় বিএনপির আহ্বায়ককে শোকজ

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে  অবস্থান নেয়ার  অভিযোগে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্ববায়ক আব্দুল জব্বার মৃধাকে শোকজ করেছে।

বুধবার  রাতে  পটুয়াখালী জলা বিএনপি তাকে এ কারণ দর্শনোর নোটিশ করে। তবে  বৃহস্পতিবার রাতে এ নোটিশের কপি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে পৌঁছানো হয়।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদকের মজিবুর রহমান টোটন  যৌথ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে শোকজ করা হয় এবং আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযোগের বিষয় লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শোকজের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান টোটন। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, পটুয়াখালী-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে আব্দুল জব্বার মৃধার নেতৃত্বে একাধিক সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এসব সভায় প্রার্থীর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যা বানোয়াট বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেন আব্দুল জব্বার মৃধা।

এছাড়াও প্রকাশ্যে দলীয় অবস্থানের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাফনের কাপড় জড়িয়ে মিছিলের নেতৃত্ব দেন তিনি। তার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল  এবং এতে সংগঠনের আদর্শ ক্ষুণ্ন হয়েছে।

জেলা বিএনপি সূত্র জানায়, অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যের বিষয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাদের থেকে একাধিক লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতেই কেন তার বিরুদ্ধে  কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না—তা জানতে  চেয়ে ওই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

নোটিশে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব ও লিখিত ব্যাখ্যা দিতে না পারলে, দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে আব্দুল জব্বার মৃধাকে তার মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও  পাওয়া যায়নি।

আজকের পর আমাদের প্রার্থীরা কোনো দলের না, ১১ দলীয় ঐক্যের:নাহিদ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বড় ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াত, এনসিপিসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট। এই ঐক্যের আওতায় ৪৭টি আসন ফাঁকা রেখে ২৫৩টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন, আজকের পর থেকে জোটভুক্ত কোনো দলের আলাদা প্রার্থী থাকবে না, সবাই ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হিসেবেই মাঠে থাকবেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোটে থাকবে কি না, তা নিয়ে চলমান গুঞ্জনের মধ্যেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। দুপুরে ১০ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর জানানো হয়েছিল, সবাই ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। তবে সন্ধ্যার সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত দলটিকে ছাড়াই সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন জোট নেতারা। তারা জানান, যেসব আসনে সমঝোতা হয়েছে, সেখানে এখন থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে জোটের সব দল। একই সঙ্গে গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করব। সারা দেশের কোনো আসনেই আর আলাদা দলীয় প্রার্থী থাকবে না। আজকের পর থেকে সবাইকে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে জনগণের পক্ষে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে আমরা নির্বাচনকে একটি অর্থবহ ফলাফলের দিকে নিয়ে যেতে চাই। তিনি বলেন, এই ঐক্যের লক্ষ্য বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া।
নাহিদ আরও বলেন, সংস্কার, দেশের আজাদি, বৈষম্য ও দুর্নীতিবিরোধী রাজনীতির পক্ষে থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আজ এক প্ল্যাটফর্মে এসেছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে সম্মিলিতভাবে অংশগ্রহণের এই সিদ্ধান্তকে তিনি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং নতুন রাজনৈতিক যাত্রা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
তিনি বলেন, এটি শুধু নির্বাচনী সমঝোতা নয়, এর রাজনৈতিক গুরুত্বও অত্যন্ত গভীর। গণ-অভ্যুত্থানের পর যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা ধারণ করেই আমরা সামনে এগোতে চাই। আসন্ন নির্বাচন সেই আকাঙ্ক্ষার একটি বড় পরীক্ষা, যেখানে আমাদের সবাইকে উত্তীর্ণ হতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের জোটভুক্ত দলগুলোর আসন বণ্টনের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ১৭৯টি, এনসিপি ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, এলডিপি ৭টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি ৩টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ২টি আসনে প্রার্থী দেবে।
এছাড়া জানানো হয়, ১১ দলীয় ঐক্যে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টিও যুক্ত থাকছে। তবে তাদের জন্য এখনো আসন বণ্টন চূড়ান্ত হয়নি। বিষয়টি পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় দলটি শেষ পর্যন্ত এই জোটে থাকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আসন সংখ্যা নিয়ে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। এরই মধ্যে গুঞ্জন ওঠে, ১১ দলীয় জোট থেকে সরে যেতে পারে ইসলামী আন্দোলন।
এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার দুপুরে মগবাজারে জামায়াতের কার্যালয়ে ইসলামী আন্দোলনকে বাদ দিয়ে ১০ দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে নেতারা জানান, ১১ দলীয় ঐক্য ভাঙবে না এবং আলোচনার পথ এখনো খোলা রয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন নজর, শেষ পর্যন্ত এই ঐক্য কতটা বিস্তৃত ও টেকসই হয়, সেদিকেই।